তাহমিমা আনামের ‘গার্মেন্টস’ প্রসঙ্গে

পূরবী বসু | ১৮ জুন ২০১৭ ১০:০৮ অপরাহ্ন

tahmima_anamতাহমিমা আনাম সম্প্রতি ইংরেজিতে লিখিত তাঁর গল্প ‘গার্মেন্টস’-এর জন্যে ‘ও’ হেনরী’ সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। সংবাদটা প্রকাশিত হবার পর থেকে তাহমিমা আনাম, তাঁর লেখা, বিশেষ করে এই গল্প ও তার সাহিত্যমূল্য, তাহমিমার বংশ পরিচয় (তাঁর বিখ্যাত পিতার প্রসঙ্গ), বাস্তবতার নিরীখে গল্পের অসঙ্গতি এবং এই গল্পের কাহিনীর মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি খোয়া যাওয়ার আশংকা ইত্যাদি বহু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন দেশের সমালোচকগণ। তাহমিমার লেখার দূর্বলতা, অবাস্তবতা, গার্মেন্টস মেয়েদের সংগ্রামী জীবনের কথার বদলে তাদের যৌনতা নিয়ে সুড়্সুড়ি দেওয়া, কাজীর অফিসে গিয়ে এক পুরুষের সঙ্গে তিন গার্মেন্টস কন্য্যার বিয়ের মতো ‘আজগুবি’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ‘গার্মেন্টস’ গল্পটিকে ত্তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ (সংখ্যায় কম) প্রশংসাও করেছেন। এইসব মতামত বা আলোচনা যা এই পর্যন্ত চোখে পড়েছে ( প্রধানত ফেসবুকে), তার অধিকাংশ-ই নেতিবাচক, কিছু ইতিবাচক, যার বিস্তারিত ও স্বতন্ত্র আলোচনা এ লেখায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। এইসব মন্তব্য ছাড়াও আমার চোখ পড়েছে বিভিন্ন কাগজে প্রকাশিত কয়েকটি লেখা যে লেখাগুলো ‘গার্মেন্টস’ গল্পকে বিশ্লেষন করার চেষ্টা করেছে। এইসব আলোচকদের ভেতর দুজন নারী, তসলিমা নাসরীন ও তানিয়া মোর্শেদ যাঁরা উভয়েই গল্পটির প্রশংসা করেছেন, এবং তাঁরা বাস্তবতার সাথে গল্পের কাহিনীর অসঙ্গতি খুঁজে পান নি। বাকি দু’জন পুরুষ। একজন মোজাফফর হোসেন যিনি গল্পটির বাংলা তর্জমাও করেছেন। মোজাফফর সার্বিকভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। গল্পটিকে আহামরি মানের মনে না করলেও তুচ্ছ জ্ঞাণ করেননি তিনি। তাঁর যুক্তিপূর্ন আলোচনা তাহমিমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের যথার্থতা নির্ণয়ের প্রয়াস। ওদিকে তুহিন দাস সংক্ষিপ্ত এক কলামে তাহমিমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, গল্পটি সার্থকভাবে পুরুষতন্ত্র ও পুরুষতান্ত্রিক মুল্যবোধে আঘাত দিতে সমর্থ হয়েছে বলে। এঁরা ছাড়াও আরো অনেকেই হয়তো বিভিন্ন কাগজে লিখেছেন, যা পড়ার সুযোগ আমার হয়নি। আমি তাঁদের কাছে ক্ষমাপ্রার্ত্থী এজন্যে যে আমার চোখে না পড়ায় এবং পঠিত না হওয়ায় সেসব সম্পর্কে ভিন্ন করে কিছু বলতে পারলাম না।

আমি গল্পটি পড়েছি। বাংলা অনুবাদ-ও। এটা সত্যি এই গল্পে ভাষার তেমন কারুকাজ নেই। গল্পের উপস্থাপনা বা নির্মাণেও নেই দারুণ চমক। অত্যন্ত সাবলিল ভাষায় ঘটমান কালে লিখিত গল্পটি সরাসরি বর্ণিত হয়েছে মুলত জেসমিন নামের গার্মেন্টস কন্যাটির বয়ানে। ইংরেজিতে লেখা গল্প বেশির ভাগ সময়েই অতীত কাল ব্যবহারে লিখিত হলেও (বর্তমান কাল যে একেবারে ব্যবহার হয় না, তা নয়) তাহমিমার গল্পে present indefinite tense-এর ব্যবহার গল্পটিতে বাংলা গল্পের মেজাজ এনে দেয়; বিষয়টিকেও চিরায়ত করে।
যদিও গল্পের শুরুতে এইরকম অভিনব ও উদ্ভট বিয়ের প্রস্তাবক হিসেবে দুলালের পূর্ব-পরিচিতা আরেক গার্মেন্টস কন্যা মালাকেই প্রধান চরিত্র ভাবা গিয়েছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয় জেসমিন-ই কেন্দ্রীয় চরিত্র। জেসমিনের একটি বেদনাদায়ক, অবমাননাকর অতীত রয়েছে। গ্রাম ছেড়ে, বাড়ি ছেড়ে শহরে এসে জেসমিন সেই অতীত পেরিয়ে জীবনে সোজা স্বাবলম্বী হয়ে দাঁড়াতে চায়। মালা ও জেসমিন উভয়েই তাদের নিজ নিজ ভাইকে অসময়ে হারিয়েছে অস্বাভাবিকভাবে – মালার ভাই মারা পড়ে রাণা প্লাজার দুর্ঘটনায় (যেখানে মালা নিজেও আহত হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সেড়ে ওঠেনি), আর জেসমিনের ভাই মরেছে সাপের কামড়ে।
গল্পটি অতি সহজ সরল ভাষায় সরাসরি লিখিত বলেই এর তেমন সাহিত্যমূল্য নেই একথা বলা যাবে না । বলা যাবে না এজন্যে যে এই গল্পে বেশ কিছু সূক্ষ্ম চিত্রকল্প ও নির্মাণকৌশল লক্ষ্য করা যায়। পুনঃ পুনঃ নাকে ভেসে আসা সেই পরিচিত বিস্কুটের সুগন্ধ এবং বিদেশী নারীর ব্যবহার্য্য প্যাডেড প্যান্টির প্রসঙ্গ উথাপণ, এবং এই প্যান্টি ব্যবহারে উচ্চকিত শারীরিক আবেদনের রহস্য উন্মোচনের প্রতীকি ব্যঞ্জনা রয়েছে। স্বল্প পরিসরে- অতি কম কথায়, নির্দিষ্ট বিরতিতে উল্লম্ফনের মধ্য দিয়ে একের পর এক নাটকীয় পরিস্থিতি তুলে ধরার মাঝে মাঝে জেসমিনের অতীত রোমন্থনের বর্ণনায় মুন্সিয়ানা চোখে পড়ে।
সাধারণ দৈনন্দিন কথাবার্তার মতো, – ডাল দিয়ে ভাত খাওয়ার গল্প করার মতোই অতি সহজে অকপটে মালা তার হবু বরের সঙ্গে তার বিয়ের এক-ই আসরে জেসমিনের-ও তার বরের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব করে। এই পরিপূর্ন দৃশ্যটাই আপাত দৃষ্টিতে কিছুটা উদ্ভট, বেমানান, অবাস্তব এবং অস্বস্তিকর বলেই এটা চোখে এবং মনে গেঁথে যায়। আমরা আগ্রহী হয়ে উঠি, কৌতূহল বাড়ে আরো ভেতরে ঢুকে যাবার জন্যে। শ্রমিক মেয়ে মালার ভাবী বর তাকে ছাড়াও আরো দু’টি মেয়েকে এক-ই সঙ্গে বিয়ে করবে, এই ঘটনা বা বিদঘুটে ব্যবস্থাটি তিনজনের একজনকেও হিংসায়, ঘৃণায়, রাগে, দুশ্চিন্তায় বিপন্ন বা বিষন্ন করে তোলে না, যেসব প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল। জীবনযুদ্ধে জয়ী হবার বাসনায় এই পোশাক শিল্পের মেয়েরা তাদের ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে নেমে হাল ছেড়ে না দিয়ে কতো দূর পর্যন্ত যেতে পারে এই কাহিনী তার-ই চূড়ান্ত ইঙ্গিত দেয়। মেয়েদের, বিশেষ করে নিম্নবিত্তের মেয়েদের বিয়ে হলে বাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে আরো বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে এ যেন বিয়ে নয় – বেঁচে থাকার আরেকটি রণকৌশল, জীবনযুদ্ধে জয়ী হবার জন্যে দাবার গুটিতে আরেকটি বর চাল। এ কারণেই মালা তার স্বামী দুলালের সঙ্গে প্রথম রাত্রিবাসের অভিজ্ঞতার পরেও স্বামীর যৌন অক্ষমতার বিষয়ে কোন অনুযোগ-ই করে না – প্রিয় সহকর্মী ও সতীন জেসমিনের কাছে পর্যন্ত নয়। পুরুষাঙ্গের উত্থাণজনিত অক্ষমতা নিয়ে দুলালের মতো পুরুষের একসঙ্গে তিনটি মেয়ের সঙ্গে বিয়ের ব্যাপারটির মতো উদ্ভট, অস্বাভাবিক, বিজাতীয় এক ঘটনার অবতারনা করে তাহমিমা তার গল্পকে, তার বক্তব্যকে আরো জোরালো করেছেন। এই অস্বাভাবিক বিবাহ-প্রকল্পে প্রথমে অগ্রণী হয়ে জেসমিনকে রিক্রুট করে মালা। এরপর মালা ও জেসমিন মিলে আশেপাশে সেলাই মেশিনে কর্মরত শ্রমিক নারীদের মধ্য থেকে তাদের ভাবী বরের জন্যে তৃতীয় বউ খুঁজে বেড়াতে থাকে। তাদের এ যৌথ অনুসন্ধানের বর্ণনাটিও খুব কৌতুকময় ও চমকপ্রদ। কৌতুহলোদ্দীপক-তো বটেই। দুলালের সঙ্গে মালা, জেসমিন ও রুবীর এই সম্মিলিত বিয়ের গোটা বিষয়টি ও তার আয়োজন এবং পরবর্তিকালে জেসমিনের স্বামীর যৌন অক্ষমতা আবিষ্কার তাহমিমার বাংলাদেশের সমাজের সঙ্গে অপরিচিতির কারণে লিখিত হয়নি, বরং অতি পরিচিতির জন্যেই সম্ভব হয়েছে। কেননা তাহমিমা ভালো করেই জানেন বাঙালি নারীরা, বেশিরভাগই, অন্তত বিয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে স্বামীর শারিরীক বৈকল্যের কথা, এই গোপন সমস্যার কথা, একান্ত নিজের সমস্যা ও লজ্জা বলেই লুকোতে চেষ্টা করে। এই সমাজের নাড়িনক্ষত্র তাহমিমা ভালো করে জানেন বলেই পোষাকশ্রমিক মেয়েদের কঠিন জীবনসংগ্রামের গল্প নির্মাণ করতে গিয়ে গল্পের চরিত্রদের ও আনুষঙ্গিক ঘটনা নিয়ে তিনি বলতে গেলে এক রকম প্রহসন, ভাঙাগড়া, টানাহ্যাঁচড়া, বাঁকানো, প্যাঁচানো করতে পেরেছেন। আমরা জানি কখনো কখনো গল্পে বা চলচ্চিত্রে কোন একটা বিষয়কে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে ঘটনা বা চরিত্রকে দিয়ে বাড়াবাড়ি বা অতিরঞ্জিত কিছু করানো বা দেখানো হয়। এটাও গল্প লেখার বা অন্যান্য শিল্পকলার একটি কৌশল। উদাহরণ, টম হ্যাঙ্ক অভিনিত আমেরিকার বিখ্যাত ছবি ফরেস্ট গাম্প। গার্মেন্টস নারীর নিরন্তর সংগ্রামী জীবন বর্ণনায় এই সামান্য কৌতুহলোদ্দীপক হাস্যরস যেন মুহূর্তের জন্যে তাদের বদ্ধ, সেঁৎসেঁতে ঘরে অথবা মেঘাচ্ছন্ন জীবনে একটুখানি রোদ- একটুখানি হাঁপ ছাড়ার অবকাশ যোগায়। আপাতদৃষ্টিতে, নির্মাণ কারিগরিতে এই ধরণের লেখা বা শিল্পকে ঠিক ম্যাজিকেল রিয়েলিজম হিসেবে আখ্যায়িত করা না গেলেও তাকে আংশিক কমিক বা ফ্যানটাসি বলা যেতে পারে। এটা যেন একটানা বিষন্ন, নির্বাক ও হিমশীতল এক পরিবেশকে হালকা করার অভিপ্রায়ে এক ধরণের কৌতুক পরিবেশনের প্রয়াস।
আর যদি গল্পের কৌশলের কথা বাদ দিয়ে কাহিনীটির দিকেই সরাসরি চোখ ফেরাই, তাহলেও এটাকে পুরোপুরি অবাস্তব মনে হয় না। শহরাঞ্চলে তেমন একটা দেখা না গেলেও গ্রামাঞ্চলে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত লোকজনের ভেতর বহুবিবাহ ও তাৎক্ষণিক বিবাহ এবং লঘু কারণে তালাক আজো যথেষ্ট পরিমাণে চালু রয়েছে। বস্ত্রশিল্পের নারী শ্রমিক ও এসি দোকানের কর্মচারী বহুবিবাহে আগ্রহী যুবক যার ঢাকা শহরে দৃশ্যত-ই কোন নির্দিষ্ট বাসস্থান নেই, এই গ্রামীন সংস্কৃতিরই প্রতিভূ যদিও বর্তমানে তারা রাজধানী শহরে বাস করার তথা টিকে থাকার প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।
গল্পের একেবারে শেষে এসে একা ঘরে প্যান্টি পরিহিত জেসমিনের মেঝের জলে প্রতিফলিত নিজের প্রতিবিম্ব অবলোকনে যে বোধোদয় ও আত্ম-আবিষ্কার ঘটে তা অসাধারণ। অল্প লেখাপড়া জানা এই গার্মেন্টস কন্যাটি তার বাস্তব বুদ্ধি ও সাধারণ প্রযুক্তির বলে স্বাবলম্বী ও আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে উঠে দাঁড়াবার ইঙ্গিত দেয়। মানুষের বহিরাঙ্গ ঢেকে রাখা ‘গার্মেন্টস’–ও সেই বিচারে হয়তো একটি প্রতীকি শিরোনাম-ই।
কিছু সমালোচক খুব মনোক্ষুন্ন হয়েছেন তাহমিমা আনামের গল্পে মেয়েদের বিশেষ করে গার্মেন্টস কন্যাদের যৌনতাবোধের উপস্থিতি দেখে, এবং এজন্যে তাহমিমাকে তাঁরা নিন্দা করেছেন। তাহমিমা গার্মেন্টস মেয়েদের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নাকি তাদের যৌনতার আখ্যাণ গেয়েছেন। শহুরে এইসব শিক্ষিত বুদ্ধিজীবীগণ গার্মেন্টস কন্যাদের যৌন অনুভূতির কথা শুনতে চান না বলে জানিয়েছেন। তবে তাঁরা জানতে চান বা না চান এই মানুষগুলোর ভেতরেও এই বিশেষ অনুভূতি যে সক্রিয় সেটা সত্য। আমাদের বুদ্ধিজীবীরা কেবল জানতে চান –এইসব খেটে খাওয়া নারীদের জীবনসংগ্রামের গল্প। কিন্তু আমি বলি, যৌনতা কি জীবনের বাইরের কোন বস্তু? নাকি বেঁচে থাকার সংগ্রামের সঙ্গে যৌনতার এমন কোন বিরোধ রয়েছে যে একটি থাকলে আরেকটির সহাবস্থান সম্ভব নয় সেখানে? অর্থাৎ এই দু’টি কি মিউচুয়েলি এক্সক্লুসিভ?। অনেকেই যারা যৌনতার উপস্থিতিকে নিন্দার্থে উল্লেখ করেছেন, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, কেন এই নিন্দা? তাহমিমা আনাম একজন নারী বিশেষত বাঙালি নারী বলে? গল্পের পোষাক শিল্পের শ্রমিক নারীর যৌনঅনুভূতির কথা, (তাদের জীবনের অন্য অনেক কিছুর মধ্যে), লেখা হয়েছে বলে? এই মহা অপরাধ থেকে মুক্তি দেবে কে তাহমিমা আনামকে যেখানে লেখক নিজেই একজন নারী!
তসলিমা নাসরিন যে প্রশ্ন করেছেন, আমিও করি, এই এক-ই গল্প যদি কোন পুরু্ষ লেখকের হাত থেকে বেরুতো তাকে কি কেউ গালমন্দ করতো যৌনতা নিয়ে লেখার অপরাধে? আমার আরো প্রশ্ন, যৌনতার অনুভূতি বা সে সম্পর্কে সচেতনতা কি কেবল পুরুষ কিংবা বড়জোর উচ্চবিত্তের নারীপুরুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? জীবনসংগ্রামে ক্ষতবিক্ষত গার্মেন্টস শ্রমিক কন্যার সেসবে মতিগতি থাকা কি অপ্রত্যাশিত? অথচ এই সমালোচকরাই মানিক বন্দোপাধ্যায় (প্রাগৈতিহাসিক), হাসান আজিজুল হক (ঘরগেরস্তি) বা জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের (হিমজীবন) গল্পের প্রধান চরিত্রকে দারিদ্র্যের বা ক্ষুধার অসীম থাবার ভেতরে থেকেও যৌনতাড়িত হতে বা সেই কঠিন প্রতিকূল অবস্থাতেও তাদের ভেতর যৌন আকাঙ্ক্ষা জাগতে দেখে অবাক হন না। বরং তাঁদের গল্পের বলিষ্ঠ এই প্রকাশের প্রশংসা করেন। কালজয়ী গল্প রচনার জন্যে সার্টিফিকেট পান বিখ্যাত লেখকেরা। বলাবাহুল্য, আমি এই প্রসঙ্গ উত্থাপণ করে এই তিন প্রতিষ্ঠিত লেখকের গল্পের সঙ্গে তাহমিমা আনামের গল্পের তুলনা করছি না মোটেই। কেবল দারিদ্র্য ও যৌনতাবোধের যুগ্ম উপস্থিতির স্বাভাবিকত্ব ও জীবনধারনের অংশ হিসেবে সংগ্রাম ও যৌনঅনুভূতি উভয়ের সহঅবস্থানের নির্মম সত্য উচ্চারণের জন্যে ঐ বরেণ্য লেখকদের গল্পের প্রসঙ্গ টেনেছি। আার তাই ঐ সব গল্পের জন্যে লেখকদের সাহস ও স্পর্ধার প্রশংসা যেমন করি, তাহমিমাকেও ধন্যবাদ জানাই সেই বাস্তবতাটা তুলে ধরার জন্যে। এতে নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রামকে কোনমতেই খাটো করে দেখানো হয়নি।
কিন্তু মুস্কিল হলো আমাদের পুরুষতান্ত্রিক পাঠক সমাজ উল্লেখিত তিন লেখককে সাধুবাদ জানাবে সত্যকথনের জন্যে কারণ তারা স্বীকার করেন জীবনে এমন হয়। কিন্তু এই যে সমর্থন সেটা কি পুরুষ লেখক রচিত পুরুষের যৌনতা সম্পর্কিত বোধ বলে? নারীর যৌনতা, যেমন তসলিমা বলেছেন, লজ্জার বিষয়, লুকিয়ে রাখার জিনিস। সে জন্যেই কি? একে নারী, তার উপর গার্মেন্টসের মেয়ে। তাদের আবার যৌনতা কী? কোথা থেকে আসতে পারে এই বোধ, জীবন যেখানে এতো সংগ্রামময়? আর যদি আসেও, সেটা কি কোন লেখার বিষয় হতে পারে? কিন্তু হাটে হাড়ি ভেঙে দেবার মতো করে সেই গর্হিত কাজটি করে ফেলেন আরেক নারী, লেখক তাহমিমা আনাম! কেমন করে তা মানা যায়?

জ্যোতির্ময়ী দেবী (১৮৯৪-১৯৮৮) ঠিক-ই বুঝেছিলেন ঊনিশ ও বিশ শতকে মেয়েদের সামাজিকীকরণের মূল কথা ছিল নৈঃশব্দ বা মৌণতা অবলম্বণ। মেয়েদের অস্তিত্বের অংশ-ই ছিল তখন নীরবতাপালন। তারা তাদের কোনো চিন্তা বা অনুভূতি যেমন, কোন বিষয়ে মতামত, দৃষ্টিভঙ্গি, অথবা মানবিক কোন বোধ যেমন দুঃখ, বিষাদ, বিরাগ, সুখ, প্রেম, বিরহ ইত্যাদি কোন উপলব্ধিই প্রকাশ করতে পারতেন না। প্রাত্যহিক জীবনে নয় – আত্মজীবনী লেখাতে নয় – কোথাও নয়। তাই তিনি বলেছিলেন, “আমরা সত্য বলি না। মেয়েরা সতী হয়, কিন্তু সত্যশীলা, সত্যভাষিনী, সত্যবতী নন। হতে পারেন না। “ আজ একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের শেষ প্রান্তে এসেও মেয়েদের কাছে যদি সেই নৈঃশব্দ বা মৌণতাই প্রত্যাশা করা হয়, তাকে দুঃখজনক ছাড়া আর কী বলতে পারি? ভাগ্যিস নারী লেখকরা সেই নিষেধ ও বাধা অতিক্রম করে নিজেদের বোধ ও বিশ্বাসের কথা পরিষ্কারভাবে বলার জন্যে এগিয়ে আসছেন।
যারা বাড়িভাড়া পাবার প্রত্যাশায় বা প্রতিবেশীর কাছে গ্রহনীয় হয়ে ওঠার আগ্রহে এক পুরুষের সঙ্গে একত্রে তিন গার্মেন্টস নারীর বিবাহকে অবাস্তব আখ্যা দেন, তাদের কাছে আমি আরো দু’টি বাস্তব ঘটনার বর্ণনা দেবো যা নিয়ে গল্প রচনা করবো বলে এই কথা নিয়ে এতোদিন কিছু লিখিনি। আজো আশা করছি সেই গল্প লেখার সুযোগ আমি পাবো, ভবিষ্যতে।
১) প্রথম ঘটনাটি এরকম। শুনেছি এক নারী আইনজীবীর মুখে। বেশ কিছু বছর আগের কথা। গভীর রাত্রিত্রে কাজ শেষে ঘরে যাবার পথে এক গার্মেন্টস কন্যা রাজধানীর অভিজাত এলাকাবাসী এক ধনী তনয় দ্বারা ধর্ষিত হয়। কিন্তু অপরাধ চলাকালে স্থানীয় লোকজনের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় অপরাধী। স্থানীয় জনগন প্রথমে ধর্ষককে থানায় নিয়ে গিয়ে কেইস ফাইল করে। তারপর সবাই মিলে ধর্ষণকারীর সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দিয়ে দেয় (মেয়েটির মতামতের তোয়াক্কা না করেই)। অতঃপর পাড়ার লোকজন সেই রাত্রেই নববধুসহ ধনী তনয়কে নিয়ে তার পিতামাতার সেই অভিজাত অঞ্চলের বাড়িতে তুলে দেয়। জীবন সংগ্রামে বেঁচে থাকার দুর্বার আকাঙ্ক্ষায় সেই মেয়ে সব মেনে নিয়ে স্বশুর শাশুড়ি স্বামীর সঙ্গে তখন (যখন আমি ঘটনাটা শুনি) পর্যন্ত এক-ই বাড়িতে বাস করছে – সংসার করছে। কিন্তু বাড়ির সকলের শত অনু্রোধ বা পরামর্শেও সে থানা থেকে স্বামীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ধর্ষন মামলা প্রত্যাহার করে নেয় না। মাসের পর মাস তারিখ পেছায় মামলার উকিলের মাধ্যমে। তার ভয়, যে মুহূর্তে সে মামলা তুলে নেবে, সঙ্গে সঙ্গে তাকে তালাক দিয়ে দেয়া হবে। কী কঠিন, কী করুণ, কী হৃদয়বিদারক এই জীবন – বেঁচে থাকার এই সংগ্রাম। ভাবা যায়?
২) সম্প্রতি এক জরীপে দেখা গেছে বাংলাদেশের ৮০% বিবাহিতা নারীই শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার। এরকম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার এক সামান্য লেখাপড়া জানা শহুরে বিবাহিতা নারীকে নিয়ে এই কাহিনী। ঊনিশ বছরের এক সুন্দরী কন্যার জননী সে। পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে নিজেও খুব আকর্ষণীয়া তখনো। এতো অত্যাচার সয়েও স্বামীর ঘর করছে সে। বন্ধুরা যখন তাকে জিজ্ঞাসা করে, কেন সে এতো সয়েও পড়ে আছে, সে বলে, এখন তো মাত্র একজনের নির্যাতন সইতে হচ্ছে তাকে। যুবতী কন্যাকে নিয়ে একা যখন স্বামীর ঘর ছেড়ে পথে নামবে সে, বহু নখ, দাঁতওয়ালা পাশবিক মানুষের খপ্পড়ে পড়তে হবে যারা তাকে-তার কন্যাকে ছিড়েবিড়ে খেয়ে নেবে। অন্তত মেয়েটির নিরাপত্তার কথা ভেবে সে এই অসহনীয় বিবাহিত জীবন চালিয়ে যাচ্ছে।
ওপরে বর্ণিত দু’টো ঘটনাই সত্যি। কিন্তু প্রকাশ করলে, কী গল্পে, কী প্রবন্ধে, এই ঘটনাও আমাদের ভাবমূর্তি হয়তো উচ্চাসনে নিয়ে বসাবে না – উজ্জ্বলও করবে না। নিষ্ঠুর এই সত্য ঘটনাগুলো ব্যক্তিগতভাবে তাদের বিচলিত না করলেও জনসম্মুখে এই সবের প্রকাশে ও প্রচারে আমাদের দেশের ভদ্দ্রলোকেরা বড়-ই কুন্ঠিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে অন্যদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যাবার ভয়ে। কিন্তু তবু তো সত্য কথা বলে যেতেই হবে।
এই রকমই কঠিন জীবনসংগ্রামের এক গল্প লিখে তাহমিমা আনাম কতো নিন্দা, কতো গালিমন্দ-ই খেলেন দেশবাসীর কাছে। এই অবাস্তব গল্প নাকি দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করেছে। তাঁরা বলেন এই গল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তবতার কোন মিল নেই। কিন্তু তসলিমা নাসরিন বাংলা ট্রিবিউনে যেমন বলেছেন, আমরাও বলি, ‘গার্মেন্টস’ কোনো গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ নয়।। এটি একটি গল্প। গল্পে কল্পনা মেশানো যায়, প্রবন্ধে নয়।
সমালোচকরা হয়তো ভুলে যান ‘গার্মেন্টস’ তাহমিমার কল্পনাপ্রসূত একটি ছোটগল্প। এটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন নয় বা পাদটিকাসহ কোন প্রবন্ধ নয়। লেখকের স্বাধীনতা আছে কোন একটি বিষয় বা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে ঘটনা, কাহিনী বা চরিত্রকে কিছুটা অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করার। উদাহরণস্বরূপ, মহাভারত মহাকাব্যের অতি পরিচিত ঘটনা ও চরিত্রকে বহু লেখক, শিল্পী নবরূপায়ণ করেছেন – আজো করছেন। মূল কাহিনী বা চরিত্রকে ভেঙেচূড়ে পুনর্নির্মাণ করেছেন। তাতে মহাভারতের কিছু আসে যায়নি। কিন্তু কিছু কিছু ল্লেখকের কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতার স্ফুরণ ঘটেছে।
তাহমিমার গল্প পড়ে দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অতি স্পর্শকাতর যারা চিৎকার করছেন, বিড়ম্বিত হচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশে তানিয়া মোর্শেদ সুপ্রীতি ধরের “Women’s Chapter” –এ লিখেছেন, “গার্মেন্টস নারী, প্রবাসী শ্রমিক, দেশের শ্রমিক-কৃষক, নির্যাতিত অমুসলমান যে কেউ, পাহাড়ের বা সমতলের আদিবাসী, এবং অবহেলিত যে কোন মানুষের জীবনের সত্যিকারের চিত্র যদি আপনাদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়, তাহলে আপনি সেই ক্ষুন্ন হও্য়া ভাবমুর্তি ধুয়ে পানি পান করুন।”
তাহমিমা ইংরেজিতে লেখেন, ছাপান বিদেশী ম্যাগাজিনে বা বিদেশী প্রকাশনা সংস্থা থেকে। তাঁকে পুরস্কার দিচ্ছে বিদেশী প্রতিষ্ঠান। ফলে তাঁর সাফল্য বা অর্জনকে লঘু করে দেখার প্রয়াসে যাঁরা তাঁর বাংলাদেশের বিখ্যাত পিতার প্রতিপত্তিকে টেনে আনেন, তারা সত্যিকার অর্থেই পরশ্রীকাতর। নিজ দেশের একটি মেয়ের সাফল্যে যদি আমরা খুশি না হই, তৃপ্তি পেতে না পারি, আমাদের আনন্দের উৎসের অভাব হবে বৈকি! সবশেষে, তাঁর জীবনমুখী গল্প ‘গার্মেন্টস’-এর জন্যে ‘ও’ হেনরী’ সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্তিতে তাহমিমা আনামকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

পুনঃ লেখাটা ছাপাতে পাঠাবার ঠিক পূর্বমুহূর্তে ‘উইমেন্স চাপ্টার’- জাহিদ হোসেনের সংক্ষিপ্ত ও সুলিখিত কলামটি চোখে পড়ল। আমার বক্তব্যের সঙ্গে যথেষ্ট মিল থাকায় তাঁর লেখাটি আগে প্রকাশিত হলে আমার এই লেখার তেমন প্রয়োজন হয়তো হতো না।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (8) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পপি চৌধুরী — জুন ১৮, ২০১৭ @ ১১:০৯ অপরাহ্ন

      তাহমিমা আনাম-এর ইংরেজিতে লিখিত গল্প ‘গার্মেন্টস’-এর জন্যে ‘ও’ হেনরী’ সাহিত্য পুরস্কার অর্জন নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনার প্রসঙ্গে চমৎকার লিখেছেন লেখক পূরবী বসু। আসলে কোন নারীর সাফল্যে আমরা তার প্রশংসা না করে কেবল ত্রুটি খুঁজতে থাকি কিভাবে তার অযোগ্যতা প্রমাণ করবো সেই প্রচষ্টায়। আমাদের এই মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। লেখক পূরবী বসুকে এমন সময়োপযোগী এবং তথ্যপূর্ণ লেখাটির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। “নিজ দেশের একটি মেয়ের সাফল্যে যদি আমরা খুশি না হই, তৃপ্তি পেতে না পারি, আমাদের আনন্দের উৎসের অভাব হবে বৈকি! সবশেষে, তাঁর জীবনমুখী গল্প ‘গার্মেন্টস’-এর জন্যে ‘ও’ হেনরী’ সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্তিতে তাহমিমা আনামকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই” -লেখক পূরবী বসু’র এই বক্তব্যের সাথে সহমত হয়ে আমরাও বলছি, “অভিনন্দন তাহমিমা আনাম আপনাকে, ধন্যবাদ বাস্তবধর্মী লেখার জন্য।”

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আল-আমিন — জুন ১৮, ২০১৭ @ ১১:১১ অপরাহ্ন

      আসলে আমরা পুরুষ জাতি হচ্ছি বিশ্বাসঘাতক। এক তরকারীই খেতে পারিনা,তবুও আরেক তরকারী চাকতে চাই।
      পারি বা না পারি অন্যের অধিকার হরণ করা আমাদের নেশা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাদিকুল ইসলাম — জুন ১৯, ২০১৭ @ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

      গল্পটি খুবই অসামঞ্জস্য, অবাস্তব কথায় ভরপুর। সময় নষ্ট করা ছাড়া কিছুই হয়নি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন falgoon — জুন ২০, ২০১৭ @ ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

      বিশেষ করে মর্মান্তিক রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় হাজারের উপর মানুষের মৃত্যুর পর আমাদের গার্মেন্টস শিল্প এমনিতেই ইমেজ ক্রাইসিসে ভুগছে। এমতাবস্থায় এই ধরণের গল্প আরো নেতিবাচক ভাবনা ছড়িয়ে দিবে।

      আমাদের শিল্পী সাহিত্যিকদের একটা প্রবণতা হচ্ছে শিল্পের অজুহাতে খ্যাতি আর অর্থের লোভে সামাজিক, নাগরিক ইত্যাদি দায়বদ্ধতাকে অস্বীকার করার। তাহমিমা কেন গার্মেন্টস নিয়ে এরকম অবাস্তব এবং নেতিবাচক গল্প লিখতে গেলেন? কারণ দুইটি : ১। বাংলাদেশের গার্মেন্টস এখন হটকেক, ফলে প্রচার বেশি পাওয়া যাবে ২। নেতিবাচক জিনিসের প্রচার বেশি, ফলে খ্যাতি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

      আরেকটা বিরক্তিকর ব্যাপার হচ্ছে, নারীবাদীরা মনে করেন নারীর যেকোনো সমালোচনা পুরুষ করে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে এবং ফলে তারা পুরুষের তীব্র সমালোচনায় মুখর হয় । এভাবে তারা পুরুষের মতামত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে। কিছু পুরুষ হয়তো আসলেই তাহমিমার সমালোচনা করছেন পুরুষ তান্ত্রিক মানসিকতা থেকে, কিন্তু নিশ্চয়ই সকলে নন।

      এইসব রেডিকেল নারীবাদীর এইরকম আচরণ নাৎসিদের সাথে তুলনীয়। তারা ভুলে যায় এদের আচরণ আর যেসব পুরুষ পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে সমালোচনা করছেন এদের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাকসুদ — জুন ২০, ২০১৭ @ ১:৩৫ পূর্বাহ্ন

      জেনে ভালো লাগলো।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Farid Zerin — জুন ২১, ২০১৭ @ ৩:৫৯ অপরাহ্ন

      Dear T.Anam,
      Your story ‘Garments’(Bangla vesion) just read on literary page of Prothom Alo(dated 9th June 2017).Nice story no doubt about it. The garments worker girls though they are earning and they have money but still vulnerable. Society does not have respect or sympathy towards them as it appears from the attitude of the landlord who denied to take them as tenant. A girl without husband is not welcomed as tenant. So three girls decide to have a husband in order to survive in this society. You are excellent in creating a convincing atmosphere.
      Just two points need to discuss. While you talking about three girls got married with a man on Qazi Office at a time, surprisingly it is far from the reality. According to law of the land there is no scope for a man to marry three girls same day at a time in front of a Qazi. Another situation: you describe about a personal jail of the village leader to locked out some one as he pleased, or someone who did something wrong according to the social custom(not according to law). Is this a real situation? How many village leaders you know who maintain this type of jail to torture vulnerable.
      While you writing for international readers about your social reality pl. do some research or collect information which is correct and then elaborate it with imagination.
      From this story world will come learn that in Bangladesh a marriage register(Qazi) easily can register a marriage between one man and three women, that means a man can marry three women at a time. This is very much wrong and sad.

      Regards

      Zerin

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Riya khan — জুন ২৫, ২০১৭ @ ১০:৫৫ অপরাহ্ন

      এটা একটা গল্প হলো? অতি বাজে, অবাস্তব, বানিয়ে বানিয়ে লেখা কৃত্রিম , এটা আবার পুরস্কারও পেয়েছে!

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com