জেমস জয়েসের গল্প: ঈভলিন

শাকিলা পারভীন বীথি | ২৫ জুন ২০১৭ ১:০৬ অপরাহ্ন

James-Joyceজেমস জয়েস ( ১৮৮২-১৯৪১ ) একজন আইরিশ উপন্যাসিক, গল্পকার এবং কবি। তাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী সাহিত্যিক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তার বিখ্যাত গ্রন্থ Ulysses( (১৯২২)’, A Portrait of an Artist as a Young Man ( ১৯১৬ ), Dubliners ( ১৯১৪ ) । ‘ঈভলিন’ ছোটগল্পটি Dubliners গল্পগ্রন্থের একটি গল্প যেখানে ডাবলিন শহর ও শহরবাসীদের জীবন যাত্রা ফুটে উঠেছে। লেখক বিশ্বাস করতেন ডাবলিনের আছে এক চিরায়ত বৈশ্বিক হৃদয়। ইংরেজি থেকে গল্পটি অনুবাদ করেছেন শাকিলা পারভীন বীথি। বি.স.

জানালায় বসে গলির কোলে আছড়ে পড়া সন্ধ্যা দেখছিল সে। জানালার পর্দায় এলিয়ে পড়েছে তাঁর মাথা, তার নাকে ধুলিময় স্যাঁতস্যাঁতে পর্দার গন্ধ । তখন ক্লান্ত সে ।

লোকজন ঘরে ফিরছে । গলির শেষ মাথার বাড়িটার লোকটাও ফিরে এলো । তার জানালার পাশের কংক্রিটের পথ ধরে লোকটা খট খট আওয়াজ তুলে যেতে যেতে এবার পা মেলে ধরল কয়লা বিছানো পথে । লোকটার পায়ের জুতার মচমচ শব্দ শুনতে পেল সে ।শব্দটির শেষ গন্তব্য গলির মাথার শেষ লাল বাড়িটায় । ওখানে এককালে বাড়ি ছিল না । একসময় বেলফাস্ট থেকে এলো এক ধনীর দুলাল, মাঠটি কিনে নিয়ে বাড়ি বানাল । —- না, তাদের বাদামি কুঁড়েঘরের মত বাড়ি নয় । লোকটা গড়ল ঝকঝকে ইটের – গড়া চকচকে ছাদের বাড়ি । গলির কত বাচ্চারা যে ওখানে খেলত ; ডিভাইন পরিবারের , ওয়াটার পরিবারের বাচ্চারা, খোঁড়া পা নিয়ে খেলতে আসতো ছোট্ট কেঁউ, আর খেলত সে ও তার ভাই -বোনেরা । তাদের বাবা প্রায়ই হাতে বেতের লাঠিটা নিয়ে তাদের খুঁজতে সেই মাঠে চলে যেত । যেহেতু ছোট্ট কেঁউ সাধারণত বসেই থাকতো, ওদের বাবাকে দেখা মাত্র সে সতর্ক করে দিত ।এত কিছুর পরেও তখন তারা সুখীই ছিল । বাবাকে এতটা খারাপ মনে হতো না ।তাছাড়া তার মা তখন জীবিত ছিল । এরপর কত কত দিন চলে গেল ; সে ও তার ভাই –বোনেরা বেড়ে উঠল ; তার মা মারা গেল । টীজি ড্যানও মারা গেল , ওয়াটার্স পরিবার চলে গেল ইংল্যান্ডে । সবকিছুই বদলে যায় । সেও এখন প্রহর গুনছে প্রস্থানের ; অন্যদের মতোই উদ্যত হয়েছে সে পিছে ফেলে যেতে তার আপন বাড়ি–ঘর ।

বাড়ি ! সে তার ঘরের প্রতিটি কোণ চেয়ে দেখে, দেখে নেয় সকল বস্তু প্রখর মায়াবী দৃষ্টিতে । সপ্তাহে একদিন হলেও ঘরটাকে ঝকঝকে করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হত সে আর এই ভাবতে ভাবতে অবাক হত যে এত ধুলা পৃথিবীর কোথা থেকে এসেছে ! হয়তো কোনদিন সে আর এই পরিচিত গৃহকোণে ফিরতে পারবে না । অথচ সে স্বপ্নেও এই ঘর থেকে বিছিন্ন হবার কথা ভাবতে পারেনি । আবার আজন্ম এ ঘরে থেকেও সে কোনদিন জানতে পারেনি সেই চেনামুখ যাজকটির নাম যার ছবিটি ভাঙ্গা হারমনিয়ামের উপরের দেয়ালে দিনের পর দিন ঝুলতে ঝুলতে গেয়ে যাচ্ছে বিবর্ণ হবার গান । যাজকটির ছবির পাশেই ঝুলছে মহীয়সী মার্গারেটা ম্যারি অ্যালাকক প্রদত্ত ভবিষ্যৎ সুখের আশ্বাসময় বাণী । যাজকটি তার বাবার স্কুলের বন্ধু ছিল । যখনই বাবা ছবিটি কোন এক অতিথিকে দেখাতেন, তিনি একটা কথা কখনই বলতে ভুলতেন না –

‘ ও এখন মেলবোর্নে ’ ।

ঈভলিন দূরে যেতে রাজি হয়েছে , রাজি হয়েছে ছেড়ে যেতে এই গৃহকোণ । কাজটা কি ঠিক হল? – নানাভাবে এই প্রশ্নের নানা উত্তর ভেবে সে দেখেছে । এই গৃহ এতগুলো বছরধরে তাকে আশ্রয় দিয়েছে , দিয়েছে তাকে খাদ্য । এখানে তারাই আছে যাদের সাথে তার পরিচয়ের সময়কাল অনেক দীর্ঘ । অবশ্য এখানে ঘরের ও বাইরের কাজে তাকে অনেক শ্রম দিতে হয় । যে দোকানে সে কাজ করে সেখানকার লোকগুলোই বা কি ভাববে যখন তারা আবিস্কার করবে কোন এক পুরুষের হাত ধরে ঈভলিন পালিয়ে গেছে? হয়তো বলবে মেয়েটি বোকা ছিল আর তার শূন্যস্থান পূরণের আয়োজন হবে নতুন বিজ্ঞাপনে । মিস গিভান খুব খুশি হবে । সে তো বরাবরই তার প্রতি বিরক্ত ছিল । আশেপাশে আগ্রহী শ্রোতা দেখলে সে তা প্রকাশ করতে ভুলতো না ।

“ মিস হিল , দেখতে পাচ্ছ না এই ভদ্রমহিলারা অপেক্ষা করে আছে !”

“ অনুগ্রহ করে মুখটা পেঁচার মত করে রেখ না”

ওদের ছেড়ে যেতে খুব বেশি মন কাঁদবেনা তার । কিন্তু যেখানে বাঁধবে সে নীড়, সেই দূরবর্তী অচেনা দেশে নিশ্চয়ই এমনটা ঘটবে না । তখন তাঁর পরিচয় হবে এক বিবাহিত নারীর – সে ঈভলিন । লোকজন তাকে সম্মান -ই করবে । যদিও তার বয়স এখন ঊনিশ , তবু তার বাবার অত্যাচার তাকে সয়ে যেতে হয় । সে কি জানে না বুকের এই ধড়ফড়ানির উৎস এটা ছাড়া অন্য কিছু নয়! অবশ্য তাদের বেড়ে ওঠার কালে হ্যারি কিংবা আর্নেস্ট এর মতো বাপের চোখ রাঙ্গানি সয়ে যেতে হতো না তাকে , কারণ সে মেয়ে । কিন্তু দিনে দিনে পিতৃ – হুমকিতে বিপর্যস্ত হল তার জীবন । তার মৃত মায়ের কথা ভেবেই যে তাকে করুণা করা হত একথা বলতেও ভুলতোনা তার বাবা । আর্নেস্ট মারা গেছে আর হ্যারি তার চার্চ ডেকোরেশনের ব্যবসা নিয়ে ঘুরে বেড়ায় দেশজুড়ে ।

এখনো শনিবার রাতের তুচ্ছ পয়সা নিয়ে নিত্য ঝগড়া তাকে অবর্নাতীত ক্লান্তি এনে দেয় । সে তার পুরো বেতন বাবার হাতে তুলে দেয় – সাত শিলিং ! হ্যারিও দেয় যা দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব । কিন্তু তার বাবার কাছ থেকে টাকা আদায় করাই দুস্কর । বাবার ধারণা ঈভলিনের পয়সা উড়ানো স্বভাব , আর মাথায় বুদ্ধি বলতে কিছু নেই । তিনি তো আর তার কষ্টের টাকা মেয়েকে রাস্তায় ছিটানোর জন্য দিতে পারেন না ! তাছাড়া শনিবার রাতে তার শরীরটাও ভাল থাকে না । তবে বাহানার পথ সীমাহীন নয় । একসময় বাবা তাকে টাকা দেয় এবং এও মনে করাতে ভোলে না যে রবিবারের খাবার কেনার আদৌ কোন ইচ্ছে তার আছে কিনা ! তখন তাকে প্রায় দৌড়ে বাজারে যেতে হয় । হাতে থাকে শক্ত করে ধরে রাখা কালো চামড়ার পার্সটি যেহেতু দুহাত বাকিয়ে ধরে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে অনেক রাত করে তাঁকে ঘরে ফিরতে হয় । বাড়িময় একটা বাড়ির আবহ বজায় রাখতে তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় । খেয়াল রাখতে হয় তার হাতে অর্পিত বাচ্চাদুটো ঠিকমতো স্কুলে যাচ্ছে কিনা , ঠিকমতো খাবার খাচ্ছে কিনা । এই জীবন ছিল কর্মব্যস্ততার জীবন – কঠিন জীবন । তবু এই জীবন ছেড়ে চলে যাবার প্রাক্কালে কেন জানি তার মনে হচ্ছে না যে এই জীবন ছিল অবাঞ্ছিত তার ।

ফ্রাঙ্ককে সঙ্গী করে নতুন জীবন আবিস্কারের দ্বারপ্রান্তে এখন সে । ফ্রাঙ্ক খুব দয়ালু , পুরুষোচিত, দিলখোলা মানুষ । বুয়েন্স আয়ারসে একটি গৃহ তাদের জন্য অপেক্ষায় আছে । ফ্রাঙ্কের সাথে রাতের জাহাজে যাত্রার মাধ্যমে যাত্রা করবে তার নতুন জীবন । সেই জীবনে সে হবে ফ্রাঙ্কের জীবন -সঙ্গী । ফ্রাঙ্কের সাথে প্রথম দেখা হওয়ার দিনটি তার খুব ভালো করেই মনে আছে । বড় রাস্তাটির পাশেই একটা বাড়িতে সে ভাড়া থাকতো । এ যেন কয়েক সপ্তাহ আগের ঘটনা । সে বাড়িটির প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল । তার জীর্ণ ক্যাপটি ছিল মাথার পিছনের দিকে মুখ ফিরিয়ে । ব্রোঞ্জের মুখের উপর ছড়িয়ে পড়েছে তার চুল । অবশেষে একে – অপরকে তারা জানতে শুরু করল । নিত্য জীবন যাপনের যে পথ সে পথের বাইরেও তাদের দেখা হতে লাগলো বিকেলের পথ ধরে । অভিসারের শেষ সীমানায় গিয়ে পড়তো ঈভলীনের বাড়ি । ফ্রাঙ্ক তাকে ‘বোহেমিয়ান গার্ল’ সিনেমাটি দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল । একটু আড়ালে বসে সিনেমাটি দেখতে পেরেছিল বলে তার খুব ভাল লেগেছিল । ফ্রাঙ্ক খুব গান ভালবাসে , মাঝে মাঝে সে গেয়ে উঠতো গান । সবাই বুঝত তারা প্রেম করছে যখন সে গেয়ে উঠত সেই বালিকার গান যার প্রণয় চলছিল এক নাবিকের সাথে । বুকের ভিতরে তখন অচেনা কাঁপুনি , ঈভলীনের মনে উঁকি দিত এক সুখকর বিভ্রান্তি । ফ্রাঙ্ক তাঁকে মজা করে পপেন্স ডাকতো । আসলে একজন মনের মানুষ পাওয়া ঈভলীনের জন্য খুব উত্তেজনার ছিল । একটু একটু করে ফ্রাঙ্কে তার ভালো লেগে গিয়েছিল । ফ্রাঙ্কের ঠোঁটে ছিল দূরবর্তী শহরের গল্প । আলান লাইন নামের কানাডাগামী জাহাজে সে মাসে এক পাউন্ড বেতনে ডেক বয়ের কাজ করতো । ফ্রাঙ্ক শুনিয়েছে তাকে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার গল্প । ঈভলীন জেনেছে কত কত জাহাজ আর কাজের নাম ! ফ্রাঙ্কের যাত্রা শুরু হয়েছিল ম্যাগেলান নদীর ধারা থেকে । ভয়ঙ্কর পোটাগোনিয়াদের গল্পও বলেছে সে ঈভলীন কে । অনেক ঘুরে অবশেষে সে থিতু হয়েছে বুয়েন্স আয়ারসে । সে ঈভলীন কে বলেছে , শুধু ছুটি কাটাতে সে মাতৃভূমিতে এসেছে ।

অবশ্যই তাদের প্রণয়কাহিনী ঈভলিনের বাবার অগোচরে নেই । তিনি নিষেধ করে দিয়েছেন ফ্রাঙ্ককে বলার মতো কোন কথা যেন তার না থাকে । “ আমি এসব নাবিকদের খুব ভাল করেই চিনি ।” – খুব ক্ষোভ নিয়ে বলেছিল তার বাবা । একদিন তো তার বাবা ফ্রাঙ্কের সাথে ঝগড়াই বাঁধিয়ে দিল । এবং এর পর থেকেই অতি গোপনে চলতে থাকলো তাদের অভিসার ।

গলিতে ঘন হয়ে আসছে সন্ধ্যা । কোলের উপর রাখা চিঠি দুটি যেন বোবা হয়ে পড়ে আছে সামর্থ্যহীনতায় । একটি চিঠি হ্যারি আর একটি চিঠি তার বাবাকে লেখা । আরনেস্ট তার খুব প্রিয় ছিল, তবে হ্যারিকেও ভালোলাগতো তার । সে খেয়াল করেছে বাবা এখন বার্ধ্যক্যে বাড়িয়েছে পা । বাবা নিশ্চয়ই তার অভাব বোধ করবে । কখনো কখনো সে কত ভাল আচরণই না করত তাদের সাথে ! সেও তো খুব বেশি আগের কথা নয় । ছোটবেলার যেসব দিন তাকে বাবার কাছে রাখা হত, বাবা তাকে ভূতের গল্প পড়ে শোনাতেন । আর আগুনের তাপ সহ্য করে টোস্ট বানাতেন । মা যখন বেঁচে ছিল তখন তারা বনভোজন করেছিলো হাঊথ পাহাড়ে । মনে পড়ে, মায়ের হ্যাট পড়ে বাবা সবাইকে হাসিয়েছিল ।

ধাবমান সময় নিঃশেষ করে চলেছে তার অবস্থান কাল । তবু সে জানালার পর্দায় মাথা এলিয়ে দিয়ে বসে আছে । নিশ্বাস ভরে নিচ্ছে ধুলিময় পুরনো পর্দার গন্ধ । গলির মোড়ে আজও বেজে চলেছে মাউথ অর্গান । গলির এ হাওয়া তার চেনা । তার মনে পড়ে তার মায়ের মৃত্যুর আগের রাত টি । খাবার ঘরের সামনের বদ্ধ , অন্ধকার ঘরটিতে সে সেদিনও ছিল । বাইরে তখন বইছিল ইতালির বিষণ্ণ হাওয়া । বাবা সেদিন ছয় পয়সা দিয়ে ইতালিয়ান অর্গান বাদককে দূরে যেতে বলেছিল । সেদিন অর্গান বাদককে তাড়িয়ে দিয়ে সদর্পে রুগীর রুমে ঢুকতে ঢুকতে বলেছিল :

“শালা ইতালিয়ান ! এইখানে এসেছে !”

সে খুব তন্ময় হয়ে ভাবে তাদের মায়ের বেদনার্ত জীবনের কথা । কি ভীষণ এক জাদুমন্ত্রে তা নিক্ষিপ্ত হয়েছিল গোলক ধাঁধায়! মায়ের নিত্যদিনের স্বার্থের বলিদান সবাইকে বিহবল করে দিয়ে পরিসমাপ্তি টানল বাতিকগ্রস্ততায় । সে কেঁপে ওঠে, যেন এখনই হাওয়ায় ভেসে এলো তাদের মায়ের অসঙ্গত , অবিরাম , অস্থির উচ্চারণ :

“ ডেরেভাউন ছেরাউন ! ডেরেভাউন ছেরাউন । ’’ –

হঠাৎ আতঙ্কের প্ররোচনায় দাঁড়িয়ে পড়ল সে । পালাতে হবে ! তাকে অবশ্যই পালাতে হবে ! ফ্রাঙ্ক তাকে আগলে রাখবে । সে তাকে নতুন জীবন দিবে , হয়তো ভালবাসাও । ঈভলীন বাঁচতে চায় , কেন সে দুঃখকে জীবন সঙ্গী বানাবে তার ? সুখের অধিকার তারও আছে । ফ্রাঙ্কের বাহুতে সমর্পিত হবে তার জীবন , যে বাহু তাকে জড়িয়ে রাখবে, রক্ষা করবে আজীবন ।

চলমান জনতার ভীড়ে সে দাঁড়িয়ে আছে নর্থ ওয়ালের একটি স্টেশনে। ফ্রাংক তার হাত ধরে আছে। ঈভলিন জানে ফ্রাঙ্ক তার সাথে কথা বলছে, বারেবারে কি সব যেন বলে যাচ্ছে তাদের যাত্রা নিয়ে। খাকি পোষাক আর মালপত্রসহ সৈনিকদের পদচারনায় স্টেশন মুখর। ঝুপড়িগুলোর প্রশস্ত দরোজা দিয়ে ঈভলিন দেখল জেটির পাশে নোঙ্গর করা জাহাজের কালো শরীর আর আলোকিত প্রবেশদ্বার। সে কোন কথাই বলছিলো না। সে অনুভব করছিল তার চিবুক অসহায়ত্ব আর বিহবলতায় ফ্যাকাশে আর শীতল হয়ে যাচ্ছে যেন। সে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করছিল কোন এক মুক্তিপথের আশায় , যেন সে বুঝতে পারে কি করণীয়। কুয়াশান্নচ্ছন্ন রাতের বুক চিরে জাহাজের করুণ হুইসেল বেজে উঠলো । যদি সে যায় কাল সে থাকবে ফ্রাঙ্কের সঙ্গী হয়ে, বাষ্পীয় জাহাজের সওয়ারি হয়ে বুয়েন্স আয়ান্সের পথে । তাদের যাত্রার অগ্রিম টিকেট কেনাই আছে । ফ্রাঙ্ক তার জন্য যা কিছু করেছে এর পরেও কি সে পিছুটানে আটকা পড়ে থাকতে পারবে ? এ মানসিক বিপর্যয় তাঁকে বিমূঢ় করে তুললো। অবিরাম অস্ফুট স্বর তার ঠোঁটে এনে দিয়েছে যেন প্রার্থনার নতুন তাল ও ছন্দ । হঠাৎ একটি ঘন্টার শব্দ তার হৃদয় যেন পালটে দিল। সে অনুভব করল ফ্রাঙ্ক তার হাত ধরে টানছে,

‘চল’ ……. আহ! সমগ্র পৃথিবীর সকল সমুদ্রের জলরাশি যেন আছড়ে পড়ল হৃদয়ে তার । ফ্রাঙ্ক যেন তাঁকে নিমজ্জিত করবে সেই জলরাশিতে। সে প্রাণপণে দুহাতে আকড়ে ধরল লোহার রেলিং।

চল …..

না না না ! অসম্ভব!

আতংকগ্রস্থ ঈভলিন অস্বাভাবিক ক্ষিপ্রতায় দুহাতে লোহার রেলিং আকড়ে ধরল।

ঈভলিন! ঈভভভভলিইইইননননন… ।।

সে তীব্রবেগে এগিয়ে গেল ঈভলিনকে অনুসরণ করতে করতে । সে চিৎকার করে ডাকছিল বারবার , বলছিল দেয়াল টপকে যেতে । চেষ্টা করতে বলছিল বারবার, ক্রমাগত ডেকে যাচ্ছিল তার সঙ্গী হতে । অথচ ঈভলিন নির্বাক। জান্তব অসহায়ত্ব যেন নির্বাক করে দিয়েছে তাকে । তার ফ্যাকাশে করুণ মুখের পরে নিষ্পলক দুটি দুটি চোখ, যেখানে লুপ্ত হয়ে গেছে ভালবাসা- বিদায়- অথবা স্বীকৃতির চিহ্নসকল |
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (1) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Austrik Aarzu — জুন ৩০, ২০১৭ @ ১১:৪৪ অপরাহ্ন

      স্বচ্ছন্দ অনুবাদ। ভাল লাগল।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com