সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ‘স্তন’ ও ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনী’

লীনা দিলরুবা | ১৩ জুন ২০১৭ ১২:০৮ অপরাহ্ন

border=0সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির শিল্পী। তাঁর লেখার আবেদন গভীর এবং বহুমূখী। আমাদের স্মরণের ভেতর তাঁর মত লেখক হাতেগোনা। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র আবির্ভাব `কল্লোল যুগে’ ঘটলেও আধুনিকতায় তিনি সময়ের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে ছিলেন; এবং সবসময়ই আমাদের অগ্রজদের সামনে অবস্থান করেছেন– যখন সাহিত্যচর্চা শুরু করেছিলেন তখন- আর সময়-কাল ঘুরে অাজকের বাস্তবতায়ও ওয়ালীউল্লাহ সবার চেয়ে এগিয়েই অাছেন। তাঁর গল্প-উপন্যাস বহুমাত্রিকতায় অনন্য। বর্তমান আলোচনায় সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ’র লেখা দুটি গল্প নিয়ে লিখতে বসে পলে পলে অনুভব করেছি, সমস্ত কিছুর ওপর তাঁর দখলদারিত্বের দিকটি। গভীর আবেদনময় দুটি গল্প নিয়ে এই আলোচনা। একটির নাম ‘স্তন’, এবং অন্যটি ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনী।’

[এক]

“স্তন’ গল্পটি গভীর অর্ন্তভেদী। মানুষের সম্পর্কের ব্যক্তিস্বার্থ’র তুলনায় মানবতার সম্পর্ক কতখানি মহৎ এবং গভীর সেই বাতার্টি এই রূপকধর্মী গল্পের মধ্যে নিহিত আছে।

জনৈক আবু তালেব সালাউদ্দিন সাহেব আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাতের বিষয়টি সারেন খুবই আয়োজনের মধ্য দিয়ে। তিনি সচরাচর যার বাড়ি যান, তাকে আগাম খবর দিয়েই সেখানে গমন করেন। কার- কার বাড়ি যাবেন সেটিও ছকে আঁকা। একদিন আত্মীয়স্বজনের সেই নির্ধারিত ছঁকের বাইরের একজনের বাড়ী, তা-ও বিনা খবরে যাবার উপলক্ষ্য তৈরি হয় একটি দুঃখজনক ঘটনায়। তাঁর দূর-সম্পর্কের আত্মীয় কাদের-এর স্ত্রী মাজেদা ষষ্ঠ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মৃত সন্তান প্রসব করেন, অন্যদিকে সেই সময়েই সালাউদ্দিন সাহেবের কন্যা খালেদা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যায়। মা’ মরে গেলেও শিশুটি বেঁচে থাকে। তাঁর সদ্যপ্রসূত নাতি মা’ মরে যাবার কারণে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, আর এদিকে কাদেরের স্ত্রী মৃত সন্তান প্রসব করেছে। সালাউদ্দিন সাহেবের কন্যা খালেদার পুত্রটির প্রয়োজন দুধ আর এদিকে সন্তান মারা গেলেও কাদেরের স্ত্রীর স্তনে দুধ সঞ্চরণ থাকবে ধরে নিয়ে সালাউদ্দিন চান তাঁর মৃতা কন্যার সদ্যজাত নবজাতকটি কাদেরের স্ত্রীর স্তনের দুধ পান করে বেঁচে থাকুক। এই গূঢ় ইচ্ছে বাস্তবায়নে তিনি কাদেরের বাড়ি আসেন, প্রস্তাবটি জারি করলে কাদের মুখে রা না করলেও একধরণের সম্মতি প্রদান করেন, এতে সালাউদ্দিনের স্বস্তি আসে। কিন্তু একটু অস্বস্তি তৈরি হয় কাদেরের বাড়ির ভেতর-বাহির পরিবেশের দরিদ্র অবস্থা আর নোংরা-ময়লা দেখে। কাদের নেহায়েত দরিদ্র মানুষ, তাঁর বাড়ির বর্ণনা সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ এভাবে দিয়েছেন-

স্বল্পবেতনের কেরানিমানুষ কাদেরের বাড়িতে সর্বত্র দারিদ্রের ছায়া। ঘরে আসবাব বলতে নড়বড়ে চেয়ারটি এবং চৌকিটি ছাড়া আর কিছু নেই। ছাতা-পড়া দেওয়ালে শোভার খাতিরে একটি ক্যালেন্ডার টাঙানো। তাতে নদীর বুকে রক্তিম সূর্যাস্তের ছবি। তাতে সেটি দু-বছরের পুরনো। অপরাহ্নের সূর্যের তির্যক আলোয় তাতে জমে-থাকা ধুলা নজরে পড়ে। ওপাশে, ভেতরের দরজার কাছে মাটিতে বসে একটি বছর-চারেকের মেয়ে বাটি থেকে মুড়ি খাওয়ায় রত। মুড়ি মুখে যতটা না পায় ততটা ছড়িয়ে পড়ে তার চারপাশে। গায়ে তার একটি অপরিচ্ছন্ন ফ্রক। মুখেও সর্বত্র ময়লার স্পর্শ।

দায় সালউদ্দিনেরই সুতরাং কিছুটা বিরুদ্ধ পরিবেশ হলেও প্রস্তাবটি তাঁকে আদায় করতেই হবে। কাদেরের স্ত্রীকে তিনি কখনো দেখেন নি, কিন্তু তিনি ধারণা করেন নবজাতক শিশুটিকে দুগ্ধ পান করাবার মত পর্যাপ্ত দুধ কাদেরের স্ত্রীর স্তনে সঞ্চরমাণ হবে, কারণ তিনি শুনেছেন মেয়েটি স্বাস্থ্যবতি এবং তেমন কোনো অসুখে কখনো ভোগে নি, মেয়েটি দয়ালু বলেও তিনি শুনেছেন। সুতরাং তার নাতিটি এই মেয়েটির কাছ থেকে কাঙিক্ষত দুধ পাবে নিশ্চিত জেনেই তিনি প্রস্তাবটি দেন। সঙ্গে এ-ও জানিয়ে রাখেন, বাচ্চাটির সঙ্গে কাদেরের বাড়িতে একজন দাই-ও আসবে। তিনি ধনী মানুষ, গরিব কাদেরের কাছে নাতিকে দুগ্ধ পান করাবার প্রস্তাব দেবার সঙ্গে তিনি যে কাদেরের স্ত্রীকে ওষুধ-পথ্যও দিতে চান সে কথাও জানান। ধনীরা জানেন দরিদ্র মানুষকে যে কোনো প্রস্তাবে ধনীর প্রতি নমনীয় করা যায় কারণ অর্থই জগতের সব কিছুর সমাধান নির্ণয়কারী। মাতৃদুগ্ধ পান করাবার মত স্পর্শকাতর প্রস্তাবের সঙ্গে ওষুধ-পথ্য কিনে দেবার কথা বলার পর সালাউদ্দিন অনুভব করে তার এক রকমের তৃপ্তিবোধ হচ্ছে। লেখক লেখেন-

তাঁর কণ্ঠে গভীর তৃপ্তির আভাস। এত গভীর শোকের মধ্যেও একটা সার্থকভাবে, একটু আনন্দের, একটু সুর্কীতিজাত সন্তোষের অবকাশ আছে। সব খোদারই অসীম মেহেরবাণি, তিনি ভাবেন।”

তিন দিন আগে মাজেদার সন্তান মারা গেছে, সন্তানের মৃত্যুজনিত শোক তাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। কাদেরের বাড়িতে সেই নবজাতকের আগমণ ঘটে। বাচ্চাটিকে দেখে মাজেদা তার স্তনের অগ্রভাগে বিন্দু-বিন্দু তরলের আভাস পায়।

লেখক লেখেন- কার জন্য তার স্তন এমন ভারি হয়ে উঠেছে? তার গর্ভের সন্তানটি তো আর বেঁচে নেই। প্রকৃতি কি এতই অন্ধ? সে কি কিছুই দেখতে পায় না? শুধু তাই নয়, প্রকৃতি যেন শোকাপ্লুত মায়ের প্রতি বিদ্রুপ করছে। এক সময় তার মনে হয়, এ অন্যায়, অতি নিষ্ঠুর। মনে হয় সে তার দুধভারে স্ফীত স্তন যেন সহ্য করতে পারবে না। তারপর সালাহউদ্দিন সাহেব প্রস্তাবটি নিয়ে এলে সে সহসা তার ভারি স্ফীত স্তনের মধ্যে একটি গুপ্ত নির্দেশ দেখতে পায়। না, প্রকৃতি খোদার সৃষ্ট বলে তার সহস্র চোখ : মানুষ যা দেখে না বোঝে না তাও সে দেখে, বোঝে।

মাজেদা স্থির করে শিশুটিকে সে তার স্ফীত স্তনের দুগ্ধ খেতে দেবে কিন্তু ‘বাস্তবতা হচ্ছে, সেই দুগ্ধ যেন জমাট বেধে আছে, কিছুতেই সেটি নির্গত হয় না। শিশুটি এক ফোঁটা দুধও খেতে পায় না। এই বিষয়টি দাই কাউকে বলে না, মাজেদাও নয়। সালাউদ্দিনও অন্ধকারে থাকেন। তিনি এবার কাদেরকে প্রস্তাব দেন- তার ধান-ফসলের জমি থেকে কিছু অংশ তিনি কাদেরের স্ত্রীকে দান করতে চান। এবার যেন আরও পরোক্ষ চাপ তৈরি হয়, কিন্তু বাচ্চাটি তখনো দুধও পায় না। একসময় বিষয়টি পরিষ্কার করতে হয়, যে বাচ্চাটি দুধ পাচ্ছে না। মাজেদাকে ডাক্তার দেখানো হয় এবং ডাক্তার জানান তার স্তনে দুধ তৈরি হয় নি। হয়ত আকস্মিক শোক তার দুধের প্রবাহকে থামিয়ে দিয়েছে। মাজেদার কাছে ওষুধ-পথ্যের লোভ, ফসলের জমির লোভ কোনোটি মূল্যবান নয়, বরং বাচ্চাটি যে দুধ পায় নি, সে যে ফিরে চলে যাবে এই ঘটনাটিকে বেদনাবহ মনে হয়। কিন্তু দুধ কেন আসবে না! আসতেই হবে। মাজেদা দৃঢ় হয়, সংকল্প করে- সে তার স্তনে দুধ এনে ছাড়বে। স্তন তো স্ফীত-ভারি হয়েছে, তবে কেন নয়? সে দীর্ঘ সরু কাঁটা তুলে নেয়। তার ভারি স্তনের আগায় সেই কাঁটা দিয়ে তীব্র ভাবে ঘাঁই মারে, ঘাঁই মেরে দুধ সঞ্চরণ করতে যায়, স্তন থেকে দুধ বেরিয়ে আসতে থাকে।

লেখক লেখেন-

বাইরে সালাউদ্দিন সাহেবের গাড়ির আওয়াজ শোনা যায়। মাজেদা সে আওয়াজে এবার আতঙ্ক বোধ করে না। তার স্তন থেকে যখন দুধ ঝরতে শুরু করেছে তখন আতঙ্কের আর অবকাশ নেই। তার স্তন থেকে দুধ ঝরে। তবে সে-দুধের বর্ণ সাদা নয়, লাল।
এখানেই গল্পটি শেষ হয়ে যায়। স্তন গল্পটি মানবতার বিপর্যয়ের গল্প। ওয়ালিউল্লাহ যেন বলতে চেয়েছেন- মাতৃদুগ্ধ কোনো কিছুর বিনিময় প্রত্যাশা করে না। মাজেদার স্তনের দুধ খালেদার সন্তানের জন্য কোনো সম্পদের বিনিময়ে বিকিয়ে দেবার মতো বস্তু ছিল না। যখন সেটিই মানুষ চরিতার্থ করতে চেয়েছে তখনই প্রকৃতি বাধ সেধেছে। গল্পটি আমাদের যেন সতর্ক করছে এই বলে- সম্পর্ক সবক্ষেত্রে বিনিময় প্রত্যাশী নয়, কিছু কিছু সম্পর্ক সমস্ত স্বার্থবোধের উর্দ্ধে উঠে অন্যলোকে অবস্থান করে। শিশুর সঙ্গে মায়ের দুধের সম্পর্ক এরকমই একটি।

[দুই]

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা ‘একটি তুলসীগাছের কাহিনী’ দেশবিভাগের পর একটি পরিত্যক্ত হিন্দু বাড়িকে কয়েকজন মুসলমান যুবকের দ্বারা দখলকৃত হবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। এই যুবকরা আগে যেখানে-সেখানে মেস বাড়িতে আর নোংরা পরিবেশে থাকতো। হিন্দুরা চলে গেছে। একটা বাড়ি এভাবে খালি পড়ে আছে, তারা ঝোপ বুঝে কোপ মারার মত করে বাড়িটা দখল করে নেয়। বাড়িটা কেমন? ওয়ালীউল্লাহ লিখেছেন, ‘ধনুকের মতো বাঁকা কংক্রিটের পুলটির পরেই বাড়িটা। দোতলা, উঁচু এবং প্রকাণ্ড বাড়ি। তবে রাস্তা থেকেই সরাসরি দণ্ডায়মান। এদেশে ফুটপাত নাই বলে বাড়িটারও একটু জমি ছাড়ার ভদ্রতার বালাই নাই।’ আবার এ-ও বলেছেন-‘ তবে সেটা বাইরের চেহারা। কারণ, পেছনে অনেক জায়গা…।’

বাড়িটা যারা দখল করেছে তাদের মধ্যে একজন, সংবেদনশীল মনের তরুণ মতিন, দখলপরবর্তী দিনে বাড়ির আশেপাশে পড়ে থাকা খালি জমি দেখে বাগান করার কথা ভাবে। তার বাগানের বড় শখ। দখলদারবন্ধুদের বাকীদের সম্পর্কেও সে ভাবে। বাগান করে সেখানে পেতে রাখা যেত বেতের চেয়ার, চেয়ারে বসে বন্ধু আমজাদ টানতো হুঁকো, বাগানের মর্যাদার কথা ভেবে সেই হুঁকো হত মানানসই নলওয়ালা। কাদের গল্পপ্রেমিক। সে হয় গল্প করতো, না-হয় চুপই থাকতো। সুন্দর পরিবেশে গল্প না করলেই-বা কি এসে যায়!

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী লেখক ছিলেন। একটা বাড়ি দখল হবার পর দখলকারীর মনস্তত্ব কীভাবে কাজ করে তার দারুণ পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন। এই সূক্ষ্মদর্শন শেষে এসে ঠেকে হিন্দু-মুসলমানে। বাড়িটি হিন্দুদের ছিল। আগত সব পুরুষ মুসলমান। তারা এ বাড়িতে একদিন হঠাৎ একটি তুলসী গাছ আবিষ্কার করে। অাবিষ্কার করে তারা প্রায় সকলেই উত্তেজিত হয়ে যায়। উত্তেজিত হয়ে তাদের কেউ কেউ তুলসী গাছটি কেটে ফেলতে চায়। এই ধর্মান্ধ তরুণদের মধ্যে একজন, মতিন ছিল ব্যতিক্রম। সে ভাবে-
‘যে গৃহকর্ত্রী বছরের-পর-বছর-এ তুলসীগাছের তলে প্রদীপ দিয়েছে সে আজ কোথায়? মতিন একসময়ে রেলওয়েতে কাজ করত। অকারণে তার চোখের সামনে বিভিন্ন রেলওয়ে-পট্টির ছবি ভেসে ওঠে। ভাবে ; হয়তো আসানসোল, বৈদ্যবাটি, লিলুয়া বা হাওড়ায় রেলওয়ে-পট্টিতে সে-মহিলা কোনো আত্মীয়ের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। বিশাল ইয়ার্ডের পাশে রোদে শুকোতে-থাকা লালপাড়ের একটি মসৃণ কালো শাড়ি সে যেন দেখতে পায়। হয়তো সে-শাড়িটি গৃহকর্ত্রীরই। কেমন বিষণ্নভাবে সে-শাড়িটি দোলে স্বল্প হাওয়ায়। অথবা মহিলাটি কোনো চলতি ট্রেনের জানালার পাশে যেন বসে। তার দৃষ্টি বাইরের দিকে। সে-দৃষ্টি খোঁজে কিছু দূরে, দিগন্তের ওপারে। হয়তো তার যাত্রা এখনো শেষ হয় নাই। কিন্তু যেখানেই থাকুক এবং তার যাত্রা এখনো শেষ হয়েছে কি হয় নাই, আকাশে যখন দিনান্তের ছায়া ঘনিয়ে ওঠে তখন প্রতিদিন এ তুলসীপাতার কথা মনে হয় বলে তার চোখ হয়তো ছলছল করে ওঠে।’

যুবকদের এ বাড়িতে বেশিদিন টিকে থাকা সম্ভব হয় নি। পুলিশ এসে নোটিস দিলে দখলের দশম দিনে তারা বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু ওয়ালীউল্লাহ এ-অবস্থায় মানুষের আচরণ কীভাবে নানান প্রেক্ষাপটে কখনো সহিংস হয়ে, কখনো পরাজিতের মতো কুঁকড়ে, কখনো সাম্প্রদায়িক হয়ে, কখনো শক্তিশালী পক্ষে অবস্থানজনিত কারণে রূপ বদলায় তার অনেক নমুনাই গল্পে নিয়ে আসেন। সেসব পংক্তি পড়তে গেলে বার বার স্মরণ করতে হবে, কেন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ-কে বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিমান কথাসাহিত্যিক বলা হয়।

যুবকরা চলে গেছে। বাড়ি খালি হয়ে গেছে।

গল্পের শেষটা এমন।

“উঠানের শেষে তুলসীগাছটা আবার শুকিয়ে উঠেছে। তার পাতায় পাতায় খয়েরি রং। সেদিন পুলিশ আসার পর থেকে কেউ তার গোড়ায় পানি দেয়নি। সেদিন থেকে গৃহকর্ত্রীর ছলছল চোখের কথাও আর কারো মনে পড়েনি।
কেন পড়েনি সে-কথা তুলসীগাছের জানবার কথা নয়, মানুষেরই জানবার কথা।”

তুলসী গাছটায়-যে মতিনই এ কয়দিন পানি দিয়েছিল সেটি গল্পের কোথাও লেখা নেই। সম্ভবত গল্পের টুইস্ট কেমন হতে পারে তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ সাহিত্যে রেখে যাবেন বলে সৈয়দ ওয়ালীউল্ল্যাহ এমন একটি প্যারা দিয়ে গল্পটা শেষ করলেন।
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (6) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন offbd.com — জুন ১৩, ২০১৭ @ ১:৪৯ অপরাহ্ন

      সন্তানের সথে মায়ের দুধের সম্পর্ক এমনি। সন্তানের খিদা লাগলে
      মায়ের বুকে দুধ আপনাআপনি চলে আসে।সন্তান নাই মায়ের বুকে দুধও নাই। গল্প কি এখানেই শেষ? আরও থাকলে ভাল লাগত। ছোটগল্প নিয়ে নিয়মিত লিখবেন Please…..

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইউছুফ — জুন ১৪, ২০১৭ @ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

      সম্পর্ক সবক্ষেত্রে বিনিময় প্রত্যাশী নয়, কিছু কিছু সম্পর্ক সমস্ত স্বার্থবোধের উর্দ্ধে উঠে অন্যলোকে অবস্থান করে। শিশুর সঙ্গে মায়ের দুধের সম্পর্ক এরকমই একটি।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com