মিলটন রহমানের পাঁচটি কবিতা

মিলটন রহমান | ৫ জুন ২০১৭ ৯:৫০ অপরাহ্ন

Monirul Islamবালির শহর

যে ধূলোর শহরে তোমাকে রেখে এসেছিলাম

তার আর কোন খবর নেইনি কখনো

তুমি হয়ে গেলে নানান রঙের প্রজাপতি

আর আমি ডানা সদৃশ ভূপালী এক প্রাণী

কেবল সুরের জিকির তুলি নিয়নের আলোয়

পাথর কেটে কেটে তৈরী করি টিউনিক পথ

বিশ্বাসের বিভ্রমে গড়ে তুলি পাললিক শহর

এখানে সেখানে নদী-বিল আর ছায়া রাখি

আরতিসম আহবানে কাঠ চিরে দুঃখ রাখি

আমার এসব জঙ্গনামার বিবরণ শুনে,

পরমা সুন্দরী প্রজাপতিগুলো প্রচ্ছন্ন দাঁড়ায়

ডানা থেকে টুপটাপ রঙে অন্ধ প্রদীপ আঁকে

তবুও আমি পাথরের শহরে ছেড়ে

যেতে পারি না বালির শহরে

রোদের এভেন্যুতে দাঁড়িয়ে হাহাকার করি

কতদূর বালির শহর?

কবিতা

(ঋণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

তোমার রূপের কৌলিন্য প্রকাশে

অনুভাবের সওয়ার হলাম

রাগের মেজাজে কথার পরে কথা রেখে

সুরকে দিলাম মুক্ত করে

তুমি ফুটে উঠলে ঠিক তোমার মতো

আমি সুধাকার, আমি কবি

কোন অর্থবোধক বাক্যের কারিগর নই

কেবলই কবি, বিমূর্ত অনুভাবের কারিগর

তোমাকে আড়াল থেকে টেনে আনতে নেই

তুমি আড়ালের রহস্য

তোমাকে খুলে দিলে কবিতা হয় কি করে?

তুমি অনুভাবে প্রকাশিত হও

তুমি রাগের সাথে ভাবের প্রকাশ

তুমি অনুভাব ও অনুরাগ।

দৃশ্য

প্রযত্নে বইয়ের পাতায় তুমি পাঠিয়েছিলে দু‘টো পাপড়ি

বহু বছর আগলে রেখেছি সেই বই ও পাপড়ির সৌরভ

চীনা খয়েরি কাগজে ঢালবাঁধা বইয়ে যত্নেই ছিলো এতোদিন

আজ এতোদিন পর কি যে হলো, সেই কাঁচা পাপড়ির সৌরভ

ঘ্রাণ হয়ে মিশে যাচ্ছিলো করোটির ভিতর

মাতাল করে ডেকে আন ছিলো সেই সময়

বাষ্প হয়ে ঘরময় তোমার নিঃশ্বাস উড়ছিলো

বইয়ের পাতা উল্টাতে গিয়ে তোমার গোলাবি আঙুল দেখছিলাম

ঠিক তুমি যেভাবে ছুঁয়ে দিতে আমার গোপন গভীর

সেভাবে আর কেউ পারেনি কখনো

বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে পাল্টে নিচ্ছি দৃশ্য

শেষ পাতায় এসে তোমাকে পূর্ণাঙ্গ পাই

এখান থেকেই তুমি ভেঙ্গে পড়েছিলে

সেই পাপড়ি দু‘টোও শেষ প্রাতে শুকনো সৌরভে ভরে তুলছে

আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছে ফুরিয়ে যাওয়ার কথা

আবারো তৈরী করিয়ে দিচ্ছে তোমাকে দেখার শুন্যতা

অক্ষমতার মাত্রাবিয়োগ

ওই যে ঘোড়ার খুরের মত দিনগুলো

চলে গেছে একে একে

কেটে নিয়ে গেছে সোনালী ধুলোর পথ

চোখ কেটে নিয়ে গেছে স্বপ্নালো প্রহর

সহিসের হার না মানা ক্রোধ, আর

পথিকের বিরামহীন পথ

কিছুই নেই, কিছুই ফিরে আসবে না আর

আমরা ক্রমশ: বর্র হয়ে উঠছি

আমরা ক্রমশ: পোশাকে ঢেকে ফেলছি সব

এমনকি বিচারের প্রাগৈতিকহাসিক স্মারক

সবই এখন অন্ধকারের গান হয়ে উঠছে

পিতা যে দীক্ষায় আমাদের উপনীত করেছিলেন

সেখান থেকে নামতে নামতে এখন আমরা

নিম্নতার নীচু স্থানে ভঙ্গুর পড়ে আছি

তারপরও ক্ষমতা বলে কথা

ধর্মকল হাতে নাড়িয়ে দিলেই ক্ষতি কি!

বিক্রি

তুমি আমাকে নিয়ে যেতে পারো পণ্য হিসেবে

রেখে দিতে পারো যেখানে কারো দৃষ্টি যায় নি কখনো

বাজারের মেয়েলী অন্তর্বাসগুলো যখন বিক্রি হয়ে চলে যায়

আমি খুব ঈর্ষাকাতর হয়ে উঠি

হাওয়া বদলের কালে যে পাতাগুলো বৃক্ষ থেকে গড়িয়ে

চালান হয়ে গেছে উর্বর বক্ষদেশে

তাকে আমি কেনোইবা ঈর্ষা করবো না

আমার প্রতিক্ষিত দৃষ্টি ও প্রত্যঙ্গগুলো যে প্রার্থনায়

পিছনে ঠেলেছে নিযুত সময়

তারকি কোনই সুরম্য নাম নেই!

বরং সেই ভালো তুমি আমাকে পণ্য করে

রেখে দাও গোপন আস্তানায়।

প্রয়োজনে তোমার দেহে সেঁটে যাবো নির্দিষ্ট মাপে

সময় ফুরিয়ে গেলে ছুড়ে ফেলে দিও ভাগাড়ে

সেখানেও ফুলের উদ্যান হয়ে জেগে উঠবো

তুমি যে সৌরভ আমায় দিয়েছিলে

তার সবই উগড়ে দিবো পরাগায়ন প্রক্রিয়ায়।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (1) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আশরাফুল কবীর — জুন ৯, ২০১৭ @ ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন

      সবচেয়ে ভাল লেগেছে প্রথম কবিতাটি, শুরুটা দারুন করে হয়েছে, তবে শেষটি কিছুটা ম্রিয়মান মনে হয়েছে। কবিকে শুভেচ্ছা।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com