মিশেল ফুকোর

শৃঙ্খলা ও শাস্তি: জেলখানার জন্ম (কিস্তি ৮)

অদিতি ফাল্গুনী | ২১ মার্চ ২০০৮ ১:৫১ অপরাহ্ন

—————————————————————–
সাধারণীকৃত শাস্তি
—————————————————————–
কিস্তি:

অনুবাদ: অদিতি ফাল্গুনী

খণ্ড ২ : শাস্তি

১ম অধ্যায়: সাধারণীকৃত শাস্তি

(গত সংখ্যার পর)

অপরাধের পুনরাবৃত্তি এড়াতে যথার্থ ভাবে শাস্তি প্রদান করতে হবে। উদাহরণের কৃৎকৌশলে এভাবেই পালাবদল আসে। যে শাস্তি অপরাধীর জন্য প্রকাশ্যে নির্যাতন এবং মৃত্যুদণ্ড প্রদান অনুমোদন করে, সেখানে শাস্তির দৃষ্টান্তই যেন অপরাধের যোগ্য জবাব। শাস্তির এই দৃষ্টান্তমূলকতার ছিল এক foucaultbuffalo1971.jpg……
মিশেল ফুকো (১৯২৬-১৯৮৪)
…….
ধরনের যমজ প্রকাশভঙ্গি। একইসাথে তা যেন অপরাধ এবং অপরাধের দণ্ডদাতা সার্বভৌম সম্রাটকে তার নিষ্ঠুর চেহারাটি দেখাচ্ছে। যদিও দণ্ডদাতা সম্রাট নিজেই শাস্তিপ্রদান ক্ষমতার মালিক। যেহেতু অপরাধের শাস্তি এক ধরনের হিসাব করে দেওয়া হয় যে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ও প্রকরণের শাস্তিতে একটি নির্দিষ্ট ফলাফল পাওয়া যেতে পারে, শাস্তির দৃষ্টান্ত অবশ্যই উল্লেখ করবে যে ঠিক কোন ধরনের অপরাধের প্রেক্ষিতে এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে শাস্তি প্রদান ক্ষমতার ব্যবহার হতে হবে সম্ভাব্য সবচেয়ে গোপনীয় পন্থায় এবং সবচেয়ে বেশি পরিমিতি বোধের সাথে। আদর্শগত ভাবেও, শাস্তির দৃষ্টান্তমূলকতার উচিত অপরাধ এবং অপরাধের দণ্ডদাতা সম্রাট, এই উভয়েরই পুনরাবির্ভাবকে ঠেকানো। শাস্তির উদাহরণ কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয় যা নিজেকে প্রকাশ করে। বরং উদাহরণ প্রতিবন্ধকতার চিহ্ন হয়ে দাঁড়ায়। দণ্ডমূলক চিহ্নগুলোর এই কৃৎকৌশলের মাধ্যমে দণ্ডমূলক কাজের সাময়িক ক্ষেত্রটি পুরোপুরি উল্টে যাবার একটি প্রবণতা দেখা দেয়। আইনী সংস্কারকরা ভেবেছিলেন যে তারা শাস্তিপ্রদান ক্ষমতাকে একটি মিতব্যয়ী এবং দক্ষ যন্ত্রোপকরণ প্রদান করেছেন যা সমগ্র সমাজদেহের মাধ্যমে সাধারণ্যে প্রবাহিত হবে। এই যন্ত্রোপকরণ সমাজদেহের যাবতীয় আচরণকে বিধিবদ্ধ করতে সক্ষম হবে। এবং এই বিধিবদ্ধকরণের ফলাফল হিসেবেই বেআইনী কার্যক্রমের এলোমেলো পরিসরকে হ্রাস করতে সক্ষম হবে। যে প্রতীকী-কৌশলের (semio technique) সাহায্যে দণ্ডপ্রদান ক্ষমতাকে বলবান করার চেষ্টা করা হয়েছে, সেই প্রতীকী কৌশল মোটামুটি পাঁচ/ছ’টি প্রধান নিয়মের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত:

ন্যূনতম পরিমানের নিয়ম : এই মতানুযায়ী, একটি অপরাধ মূলতঃ সঙ্ঘটিত হয়ে থাকে কিছু সুযোগ-সুবিধার জন্য। অপরাধ সঙ্ঘটনের চিন্তা করার সময় কারো মনে যদি অপরাধের ফলে পাওয়া যেতে পারে এমন কিছু সুযোগ সুবিধার চেয়ে অসুবিধার চিন্তাটি বড় হয়ে দাঁড়াতো, তাহলে কিন্তু অপরাধটি কখনোই সঙ্ঘটিত হতো না। ‘শাস্তিকে সেই মাত্রার হতে হবে, যাতে করে শাস্তির ফলে অপরাধী যে কষ্ট পাবে, সেই কষ্টের মাত্রা অপরাধ করার পর সে যে আরাম বা সুবিধা পেয়েছে, তার থেকে বেশি হয়।’ (বেক্কারিয়া, ৮৯)। নতুন যুগের সংস্কারে শাস্তি ও অপরাধের ভেতর যদিও একনধরনের নৈকট্যকে মেনে নেওয়া হয় তবু পুরনো কালের মত নিয়ম আর রয় না। যে পুরনো নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডকে অপরাধের তীব্রতার সমানুপাতিক হতে হতো। শাস্তির উদ্বৃত্ত সার্বভৌম সম্রাটের ‘উদ্বৃত্ত শক্তি’-কে চিহ্নিত করতো সম্রাটের বৈধ প্রতিহিংসার বাহক হিসেবে। স্বার্থের মাত্রায় এটি কিছু মাত্রায় সমতা অর্জন: অপরাধের ঝুঁকি নেবার চেয়ে শাস্তি এড়ানোতেই যেখানে বেশি আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

পর্যাপ্ত আদর্শের নিয়ম: অপরাধের উদ্দেশ্য যদি হয়ে থাকে প্রত্যাশিত কিছু সুবিধা, তবে শাস্তির কার্যকারিতা হলো শাস্তি হতে প্রত্যাশিত কিছু অসুবিধা। এর অর্থ হলো শাস্তির হৃৎপিণ্ডে অপরাধীকে ‘কষ্ট’ দেবার যে মৌল ভাব লুকিয়ে থাকে, তা’ কিšত্ত ‘কষ্ট’-এর প্রকৃত অনুভূতি নয়। বরং ‘কষ্ট’ প্রদানের ভাবনা ও সংশ্লিষ্ট অসুখ ও অস্বস্তির চিন্তাও বৈকি। শরীরকে ব্যবহারের প্রয়োজন শাস্তির নেই। বরং ‘প্রতিনিধিত্বে’র প্রশ্নটি এর সাথে জড়িত। অথবা, যদি বা শরীরকে সে ব্যবহার করেও, তা যতটা না ‘কষ্ট’ প্রদানের কর্তা, তারও চেয়ে বেশি ‘প্রতিনিধিত্বের’ কর্ম। বধ্যমঞ্চের নিষ্ঠুর স্মৃতির মতোই শাস্তিতে পাওয়া যন্ত্রণাকে অবশ্যই অপরাধের পুনরাবৃত্তি এড়াতে হবে। সে বধ্যমঞ্চ যতই কৃত্রিম হোক না কেন। দৈহিক শাস্তির পরিমাণ এমন হওয়া প্রয়োজন যা অপরাধের বিস্তারকে ঠেকাবে। তবে, ব্যথাই শাস্তির কৃৎকৌশলের একমাত্র যন্ত্রোপকরণ নয়। সুতরাং, শুধুমাত্র যেসব ক্ষেত্রে কার্যকরী প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন হয় সেসব ক্ষেত্র ছাড়া যতটা সম্ভব বধ্যমঞ্চের জমকালো সজ্জায় আশ্রয় গ্রহণ এড়ানো উচিত। শাস্তির বিষয় হিসেবে শরীরের এক ধরনেণর বিলুপ্তি আছে বৈকি। তবে সে বিলুপ্তি বধ্যমঞ্চের আবশ্যকীয় উপকরণ হিসেবে অবস্থান করে না। তত্ত্বের প্রান্তসীমায় প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড প্রদানকে প্রত্যাখ্যান করাটা এক গীতল প্রকাশভঙ্গির বেশি কিছু নয়। পরে এ প্রত্যাখ্যান একটি যৌক্তিক উচ্চারণের সম্ভাব্যতা প্রাপ্ত হয়। শাস্তির দৈহিক বাস্তবতা নয়, বরং তার প্রতিনিধিত্বকেই সর্বোচ্চ ভাবে ব্যবহার করতে হবে।

পার্শ্বীয় প্রভাবের নীতি : সেই সব মানুষদের উপর শাস্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে হবে, যারা কোন অপরাধ করে নি। যাতে করে শাস্তির পক্ষের যুক্তিকে তার শেষ সীমা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদের যদি কোনোক্রমে বিশ্বাস করানো যায় যে অপরাধী শাস্তি পেয়েছে শুধুমাত্র তখনি সে নিশ্চিত হবে যে অপরাধী আর অপরাধের পুনরাবৃত্তি করবে না। অবশ্য শাস্তির এই প্রভাবের একটি কেন্দ্রাতিগ ঘনীভূতকরণ প্রক্রিয়া রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সেই স্ববিরোধিতার দিকে আমাদের নিয়ে যায় যেখানে শাস্তি সংক্রান্ত যাবতীয় হিসাব-নিকাশে সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলো অপরাধী (যতক্ষণ না অবধি সে অপরাধের পুনরাবৃত্তি করে)। বেক্কারিয়া এই স্ববিরোধিতার উদাহরণ টানতে গিয়ে মৃত্যুদণ্ডের বদলে যে শাস্তি তিনি প্রস্তাব করেছিলেন, সেই শাস্তির কথা বলেন। মৃত্যুদণ্ডের বদলে তিনি চিরস্থায়ী ক্রিতদাসত্বের শাস্তি প্রস্তাব করেন। কিন্তু, চিরস্থায়ী ক্রিতদাসত্ব কি মৃত্যুর চেয়েও কঠিন শাস্তি নয়? মোটেই না, বেক্কারিয়া জানান। কারণ, অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্য ক্রিতদাসত্বের যন্ত্রণা ঠিক ততগুলো ভাগে বিভক্ত যতগুলো মুহূর্ত তার বাঁচার জন্য রয়েছে। এ যেন এক অনন্ত বিভাজ্য শাস্তি। এক অনুপ্রেরণাত্মক শাস্তি, যা প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড হতে মাত্র এক হাত দূরে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, যারা এই ক্রিতদাসদের দেখে অথবা নিজেদের তাদের কাছে বিচারালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরে, তাদের কাছে ক্রিতদাসদের এই যন্ত্রণা একটি মাত্র ধারণা হিসেবে দেখা দেয়। দাসত্বের সকল মুহূর্ত তখন প্রতিনিধিত্বে সঙ্কুচিত হয়ে আসে। এহেন চিন্তা এমনকি মৃত্যুর ধারণার থেকেও ভয়াবহ। অর্থনৈতিক বিচারে এটিই আদর্শ শাস্তি। এই শাস্তিটি যাকে দেওয়া হয় তার জন্য ন্যূনতম শাস্তি (যেহেতু ক্রিতদাসত্বে আবদ্ধ ব্যক্তি আর অপরাধ করতে পারে না) এবং যে সাধারণ মানুষ নিজেকে অপরাধীর জায়গায় কল্পনা করে ঐ শাস্তি পাবার ভয়ে ভীত হবে, তার জন্যও এটি সর্বোচ্চ শাস্তি। ‘শাস্তি সমূহের ভেতর এবং অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির প্রয়োগের ক্ষেত্রে, একজনকে অবশ্যই বেছে নিতে হবে শাস্তির সেই সব প্রকরণ যা সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে অথচ অপরাধীর দেহে সেটা সবচেয়ে কম নিষ্ঠুর আঘাত হানবে।’ (বেক্কারিয়া, ৮৭)।

নিখুঁত নিশ্চয়তার নীতি : প্রতিটি অপরাধ এবং অপরাধটির ফলে প্রাপ্তব্য যাবতীয় সুযোগ-সুবিধার সাথে সাথে সেই অপরাধের জন্য একটি নির্দিষ্ট শাস্তির ধারণাও থাকবে। সেই সাথে এই নির্দিষ্ট শাস্তি হতে উদ্ভূত যাবতীয় অস্বস্তি বা অসুবিধাও থাকবে। একটির সাথে অপরটির সম্পর্ক অবশ্যই প্রয়োজনীয় এবং অচ্ছেদ্য হিসেবে গণ্য হতে হবে। নিশ্চয়তার এই সাধারণ উপকরণ যা শাস্তি ব্যবস্থাকে কার্যকারিতা প্রদান করবে, তা কিছু পরিমিত পন্থাকে আনুষঙ্গিক ভাবে যুক্ত করে। যেসব আইন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করে এবং শাস্তি সমূহ নির্দেশ করে, সেগুলো নিশ্চিত ভাবেই পরিষ্কার হতে হবে ‘যেন সমাজের প্রতিটি সদস্য অপরাধমূলক কাজগুলোকে ভাল কাজ হতে আলাদা করতে পারে।’ (ব্রিসোট ২৪)। এই আইনগুলো প্রকাশিত হওয়া জরুরি যাতে করে সবার এই আইনগুলোতে অভিগম্যতা থাকতে পারে। যা প্রয়োজন তা কিন্তু কোনো মৌখিক ঐতিহ্য বা সংস্কার নয়। বরং প্রয়োজন হলো একটি লিখিত আইন যা ‘সামাজিক চুক্তির স্থায়ী সৌধ হতে পারে।’ এই লিখিত আইন সবার হাতের নাগালের ভেতর পাওয়া যেতে পারে এমন ভাবে মুদ্রিত হতে হবে। ‘একমাত্র মুদ্রণই অল্প কিছু সংখ্যক মানুষের হাতে আইনকে না রেখে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারে।’ (বেক্কারিয়া, ২৬)। সম্রাট অবশ্যই তার ক্ষমা করার অধিকার পরিত্যাগ করবেন যাতে করে শাস্তির শক্তি সম্রাটের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে (অর্থাৎ, অপরাধীকে ক্ষমা করার মাধ্যমে– অনুবাদক) লঘু না হয়ে যায়। ‘কেউ যদি মানুষকে অনুমতি দেয় যে অপরাধকে ক্ষমা করা হোক এবং শাস্তি এর কোনো আবশ্যকীয় প্রতিক্রিয়া নয় বলে মতামত প্রদান করে তখন অপরাধী তার ভেতরে শাস্তি না পাবার একটা আশা বহন করে…আইনকে অবশ্যই নির্মম হতে হবে। এবং যারা আইন প্রয়োগ করেন, তাদের অত্যন্ত কঠোর হতে হবে।’ ১২ সর্বোপরি, যে কোন সঙ্ঘটিত অপরাধকেই বিচার বণ্টনের কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের চোখ এড়িয়ে যেতে হবে। অপরাধীর শাস্তি ভোগ না করার বিষয়টি আইনী যন্ত্রকে যতটুকু দুর্বল করে, তত দুর্বল আর কিছুতেই হয় না। কীভাবে কেউ জনতার মনে অপরাধ ও শাস্তির ভেতরের কঠোর আন্তঃসম্পর্কের ধারণা সৃষ্টিতে সক্ষম হবে যদি অপরাধের জন্য শাস্তি না হবার সম্ভাবনা থেকে যায়? শাস্তিকে তার অনিশ্চয়তায় যতটা ভীতিকর লাগে, তারও চেয়ে সন্ত্রাসে তাকে (শাস্তিকে) বেশি ভীতিকর করে তোলাটা কি প্রয়োজনীয় নয়? বরং এভাবেই পুরনো পন্থা অনুসরণ করে চলো এবং ‘আরো কঠোর হও, হও আরো সতর্ক।’ ১৩ মূলতঃ এসব কারণেই এই ধারণার উদ্ভব যে বিচার যন্ত্র অবশ্যই কঠোর প্রহরার ব্যবস্থা দ্বারা হুবহু প্রতিরূপকৃত বা নকল হতে হবে। প্রহরার এই ব্যবস্থা বিচার যন্ত্রের পাশে থেকে কাজ করে চলবে। এবং এই প্রহরা ব্যবস্থা হয় অপরাধ নিরোধ সম্ভব করে তুলবে অথবা যদি অপরাধটি সঙ্ঘটিত হয়, তবে অপরাধকারীকে গ্রেফতার করার ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ বাহিনী এবং বিচার যন্ত্র একই প্রক্রিয়ার দুটো সহায়ক কর্মকাণ্ড হিসেবে কাজ করবে–পুলিশ নিশ্চিত করবে ‘প্রতিটি ব্যক্তির উপর সমাজের কর্মোদ্যোগ’ এবং বিচার নিশ্চিত করবে ‘সমাজের বিপরীতে ব্যক্তির অধিকার’ (দ্যুপোর্ট, আর্কাইভস্ পার্লেমেন্তেয়রস্, ২১, ৪৫)। এভাবে প্রতিটি অপরাধই দিনের আলোয় আসবে এবং নিশ্চিতভাবে বিচার হবে। তবে, সেই সাথে এটাও জরুরি যে আইনী প্রক্রিয়া গোপন থাকা উচিত নয়। এবং একারণেই কেন একটি মামলার বিবাদী পক্ষ আদালত কর্তৃক অভিযুক্ত হয় বা খালাস পায় তা সবার জানা উচিত। এবং শাস্তির কারণগুলো প্রত্যেক ব্যক্তির পক্ষেই শণাক্ত করতে পারা উচিত: ‘ম্যাজিস্ট্রেটকে সজোরে তার মতামত বলতে দাও। তাকে তার মামলার রায় পড়ে শোনাতে দাও যেখানে আইনের পূর্ণ বিবরণ আছে। যে আইন বিবাদীকে অভিযুক্ত হিসেবে বর্ণনা করে…মামলার যেসব প্রক্রিয়া দাপ্তরিক নথিপত্রের অন্ধকারে রহস্যজনক ভাবে সমাধিস্থ, সেসব নথিপত্র যেন অভিযুক্তের ভাগ্যের সাথে জড়িত সকল নাগরিক জানতে পারে।’ (মেবলি, ৩৮৪)।

সাধারণ সত্যের নীতি: এই আপাতঃ সাধারণ নীতির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। আইনী প্রমানের পুরনো ব্যবস্থা, নির্যাতনের ব্যবহার, স্বীকারোক্তি আদায়, প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার, সত্য পুনরুৎপাদনের জন্য শরীর এবং বধ্যমঞ্চ দীর্ঘদিন ধরে শাস্তির অনুশীলনকে প্রদর্শনের সাধারণ আঙ্গিকগুলো হতে আলাদা করে রেখেছে। অর্ধ-প্রমাণ উৎপাদন করেছে অর্ধ-সত্য এবং অর্ধ-অপরাধী ব্যক্তিদের। অপরাধীকে শারিরীক ব্যথা দিয়ে যে সব কথা আদায় করা হতো, সেসব কথার বৃহত্তর বৈধতা থাকতো। অপরাধের অনুমান মাত্র একটি নির্দিষ্ট মাত্রার শাস্তির ব্যবস্থা থাকতো। প্রমাণের সাধারণ ব্যবস্থার সাথে শাস্তি ব্যবস্থার এই সমধর্মীতা বাস্তবিকই গঠন করেছে এক কলঙ্ক যখন শাস্তিপ্রদান ক্ষমতা তার নিজস্ব অর্থনীতির জন্যই চেয়েছে অনস্বীকার্য নিশ্চয়তার বাতাবরণ। কীভাবে কেউ মানব মনে অপরাধ ও শাস্তির ধারণা নিরঙ্কুশ ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হবে যদি শাস্তির বাস্তবতা, সব ক্ষেত্রেই, অপরাধের বাস্তবতাকে অনুসরণ করতে সক্ষম না হয়? এমতাবস্থায় যাবতীয় সাক্ষ্য সাপেক্ষে এবং সবার কাছে বৈধ হিসেবে স্বীকৃত পন্থায় অপরাধকে প্রতিষ্ঠা করাটা প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে দাঁড়ায়। অপরাধের সত্যতা যাচাই প্রক্রিয়াকে অবশ্যই সকল সত্যের সাধারণ মানদণ্ডকে মেনে চলতে হবে। যেসব যুক্তি এই প্রক্রিয়া তুলে ধরে, যে সব প্রমাণ এই প্রক্রিয়া যোগান দেয়, সেসবের নিরিখে আইনী বিচারকে সামগ্রিক ভাবে শাশ্বত বিচারের সাথে সমধর্মী হতে হবে। একারণেই আইনী প্রমাণ পরিত্যাগ, নির্যাতন প্রত্যাখ্যান, সত্যের একটি পরিপূর্ণ মহড়ার প্রয়োজনীয়তা, সন্দেহের মাত্রা ও শাস্তির মাত্রার ভেতর যাবতীয় আন্তঃসম্পর্ক মুছে ফেলার প্রয়োজন দেখা দেয়। গাণিতিক সত্যের মতোই অপরাধের সত্যতা একমাত্র তখনি প্রমাণিত হবে যখন তা পুরোপুরি প্রমাণিত হবে। এর অর্থ হলো অপরাধের চূড়ান্ত প্রদর্শন না হওয়া অবধি বিবাদীকে নির্দোষ গণ্য করতে হবে। এবং এই প্রদর্শনী সম্পন্ন করবার জন্য বিচারক অবশ্যই কোনো আনুষ্ঠানিক আঙ্গিক ব্যবহার করবেন না। বরং তিনি ব্যবহার করবেন কিছু সাধারণ যন্ত্রোপকরণ। তিনি ব্যবহার করবেন যুক্তি যা সবার আছে। ব্যবহার করবেন দার্শনিক এবং বৈজ্ঞানিক যুক্তিও: ‘তত্ত্বীয় ক্ষেত্রে, ম্যাজিস্ট্রেটকে আমি দার্শনিক হিসেবে সম্মান করি যিনি একটি চমকপ্রদ সত্য আবিষ্কার করতে মনস্থ করেন…তাঁর কাণ্ডজ্ঞানই তাকে সাহায্য করবে বিদ্যমান যাবতীয় পরিস্থিতি এবং সব ধরনের সম্পর্ক বিষয়ে আন্দাজ করতে। সাহায্য করবে যাবতীয় পরিস্থিতি এবং সম্পর্ক বিষয়ে অনুমান করতে। সাহায্য করবে একটি সুস্থ বিচারের রায়ে উপনীত হবার জন্য যা কিছু একত্র করা বা বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন, সেসব কিছুই একত্র বা বিচ্ছিন্ন করতেও।’ (সেইনো দ্যু করেভঁ, ৪৯)। পুরনো অনুসন্ধানমূলক মডেলের পাশাপাশি তদন্ত, সাধারণ যুক্তির চর্চাও থেকে থাকে। এই তদন্ত ও সাধারণ যুক্তির চর্চা অবশ্য পুরনো মডেলের পাশাপাশি অভিজ্ঞতাবাদী গবেষণার নতুন ও সূক্ষ্ম মডেল গ্রহণ করে। অভিজ্ঞতাবাদী গবেষণার নতুন মডেল আবার বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান কর্তৃক দু’গুণ বৈধতা প্রাপ্ত হয়ে থাকে। ‘বিচারক পাথর সমূহের ভেতর গাড়ি চালাবেন’: ‘আমি বা কেউই এখন পর্যন্ত এটা সাধারণ ভাবে নির্ণয় করার সাহস এখনো অর্জন করিনি যে কোন্ সব প্রমাণাদি বা যোগসূত্র পর্যাপ্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। যেহেতু চারপাশের পরিস্থিতি অসীম ভিন্নতার অধীন, যেহেতু প্রমাণ এবং যোগসূত্র সমূহকে অবশ্যই চারপাশের পরিস্থিতি হতে আলাদা হতে হবে। স্বচ্ছতম যোগসূত্র এবং প্রমাণগুলোকেও অবশ্যই অনুপাতের দিক হতে পৃথক হতে হবে।’ (রিসি, ৫৩)। সেহেতু, দণ্ডমূলক অনুশীলন সত্যের সাধারণ নিয়মের অধীনস্থ ছিল। অথবা, অধীনস্থ ছিল কোনো জটিল নিয়মের যেখানে বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনীর বিপরীতধর্মী উপকরণগুলো বিদ্যমান ছিল। যেখানে ইন্দ্রিয়ের সাক্ষ্য এবং সাধারণ প্রজ্ঞা মিলে বিচারকের ‘গভীর-প্রোথিত প্রত্যয়’ গঠন করে। দণ্ডমূলক বিচার-ব্যবস্থা মূলতঃ সেইসব আঙ্গিক সংরক্ষণ করে, যেসব আঙ্গিক এই ব্যবস্থার ন্যায়পরতা নিশ্চিত করে। তবে, এখন এ ব্যবস্থা সত্যের যাবতীয় আচরণের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে। শর্ত এই যে আঙ্গিকগুলো সহজবোধ্য, সুগঠিত এবং সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য। আইনী আনুষ্ঠানিকতা কোনোক্রমেই আর বিভক্ত সত্য উৎপন্ন করে না। সাধারণ প্রমাণের তথ্যনির্দেশনামূলক ক্ষেত্রে এটি অবস্থিত। বৈজ্ঞানিক তর্ক-বিতর্কের বহুত্বের সাথে সাথে একটি অনন্ত বন্ধুর সম্পর্ক জালিয়াতিমূলক ভাবে সৃষ্টি হয় যা দণ্ডমূলক শাস্তি ব্যবস্থা আজো নিয়ন্ত্রণে অক্ষম। বিচারের কর্তা আজ আর সত্যের কর্তা নন।

সর্বোচ্চ বিশেষায়নের নীতি : শাস্তিমূলক প্রতীকবিদ্যার পক্ষে বেআইনী কার্যক্রমের গোটা ক্ষেত্রটি আলোচনা করার জন্য সব ধরনের দুষ্কর্মের সংজ্ঞায়ন প্রয়োজন। যদিও বেআইনী কার্যক্রমের ক্ষেত্রটি যে কেউ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করতে চাইবেন। একই সাথে যাবতীয় দুষ্কর্ম শ্রেণীকরণের আওতাভুক্ত হওয়া এবং বিভিন্ন শ্রেণীর আওতায় সঙ্কলিত হওয়াও প্রয়োজন যা কেউ এড়াতে পারবে না। এ কারণেই একটি আইন সংহিতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। যে আইন সংহিতায় সব ধরনের দুষ্কর্ম ঠিকঠাক মতো এবং পরিষ্কার ভাবে উল্লিখিত থাকবে। আইনের নৈঃশব্দ্য কখনোই যেন দণ্ড মুক্তির আশা জাগিয়ে না তোলে। একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও পরিপূর্ণভাবে প্রকাশিত আইন সংহিতার প্রয়োজন এ কারণেই যে সেই সংহিতা অপরাধের সংজ্ঞা দেবে এবং শাস্তি নির্দেশ করবে (এই বিষয়ে আরো দেখুন, অন্যান্য সবের ভেতরে, লিঙ্গুয়েত, ৮)। কিন্তু সব ধরনের সম্ভাব্য অপরাধের ভেতর সামগ্রিক যুগপৎ সঙ্ঘটনের জন্য এই একই অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন কাজ করে এবং শাস্তির প্রভাব-চিহ্নাদিকে সামনে আরো অগ্রসর হবার জন্য জোর করে। একই শাস্তির ধারণা সবার উপর একই প্রভাব ফেলে না। ধনবান ব্যক্তি জরিমানাকে ভয় পায় না। কুখ্যাত অপরাধীর নেই নতুন করে কোনো কলঙ্কের কোনো ভয়। আবার, একটি অপরাধের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়-ক্ষতি এবং এর উদাহরণ মূল্যও নির্ধারিত হয় অপরাধীর সামাজিক মর্যাদা অনুসারে। একজন নিম্নবর্গের মানুষের চেয়ে একজন অভিজাত ব্যক্তি কোনো অপরাধ সঙ্ঘটন করলে সমাজের অধিকতর ক্ষতি হয়ে থাকে (লাক্রাতেল্লে, ১৪৪)। শেষতঃ যেহেতু শাস্তি নিশ্চিতভাবেই রোধ করবে একটি নির্দিষ্ট অপরাধের পুনরাবৃত্তি, অপরাধীর গভীর প্রবৃত্তির বিষয়টি তাকে হিসাবে রাখতে হবে। আরো হিসাবে নিতে হবে অপরাধীর মন্দত্বের পরিমাণ এবং তার ইচ্ছাশক্তির অন্তর্নিহিত গুণ: ‘দু’জন চোরই হয়তো একই কাজ করেছেন। অর্থাৎ, চুরি করেছেন। কিন্তু, তাদের ভেতর কে কম অপরাধী? যে নিতান্ত অভাবের দায়ে পড়ে চুরি করেছে নাকি যে আরাম-আয়েশ সত্ত্বেও চুরি করে? দু’জন মিথ্যা সাক্ষ্য দানকারীর ভেতর কে বেশি অপরাধী? যে শৈশব হতে সম্মান বোধ তৈরির শিক্ষা পেয়েছে নাকি যে কখনো কোনো শিক্ষার সুযোগ পায় নি?’ (মারাত, ৩৪)। অপরাধ ও শাস্তির সমান্তরাল শ্রেণীবিচারের প্রয়োজনীয়তার উদ্ভব ঠিক সেই সময়েই হয় যখন প্রত্যেক অপরাধীর বিশেষ চারিত্র্য অনুযায়ী বিচারের রায়ের ব্যক্তিকীকরণেরও উদ্ভব হয়। আধুনিক দণ্ড আইনের ইতিহাসের কাঁধে এই ব্যক্তিকীকরণের দায় বেশ ভারি হয়েই চেপে বসবার কথা। আধুনিক দণ্ড আইনেই এই ব্যক্তিকীকরণের শেকড় ছড়ানো। আইনের তত্ত্ব এবং প্রতিদিনের অনুশীলনের শর্তানুসারে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে আইনের বিধিবদ্ধকরণের বিরুদ্ধে বৈপ্লবিক বিরোধিতা রয়েছে। তবে, দণ্ডপ্রদান ক্ষমতার অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি হতে বিবেচনা করলে এ কথা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে অপরাধের বিধিবদ্ধকরণ, দণ্ড ব্যবস্থা এবং অপরাধী-শাস্তি দ্বৈততার সংশোধন পাশাপাশি চলে। উভয়েরই উভয়কে দরকার হয়। ক্ষমতার অর্থনীতির এ দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষ ভাবে পরিস্ফূট হয় যখন নির্দিষ্ট কিছু কৃৎকৌশল অনুসারে কেউ সমাজদেহের মাধ্যমে শাস্তির সংশোধিত চিহ্নসমূহ প্রচার করতে চায়। একটি পরিমিত ভাবে অভিযোজিত আইন সংহিতার চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে ব্যক্তিকীকরণ আবির্ভূত হয়।

তবে, পুরনো আইনশাস্ত্রে খুঁজে পাওয়া শাস্তিগুলোর সংশোধনের প্রকৃতি হতে এই ব্যক্তিকীকরণ একদমই পৃথক। শাস্তির পুরনো পন্থা শাস্তিকে খাপ খাওয়ানো বা অভিযোজনের জন্য দু’টি শ্রেণীর (series) নিয়ামক (variables) ব্যবহার করতো। এই পুরনো পন্থা অবশ্য খ্রিষ্টীয় দণ্ডমূলক অনুশীলন অনুসরণ করে চলতো। এই দুই ছিল ‘পরিস্থিতি’ এবং ‘উদ্দেশ্য’-এর সেসব উপকরণ যা সমগ্র কাজটিকে যোগ্যতা প্রমাণে সাহায্য করতো। বৃহত্তর প্রেক্ষিত হতে দেখলে শাস্তির পরিমার্জ্জনা ‘কার্যকারণ তত্ত্বে’র স্বত্বাধীন (কার্যকারণ তত্ত্বের অ-ব্যক্তিকীকৃত চারিত্র্য বিষয়ে দেখুন কারিয়ু)। তবে, এখন যা উন্মেষ হচ্ছিল তা হলো শাস্তির সেই পরিমার্জ্জনা যা বিবাদীর কাজের উদ্দেশ্য বা ইচ্ছাকে নির্দেশ করার বদলে খোদ বিবাদী, তার স্বভাব ও জীবনপ্রণালী, তার মানসিক অভিমুখ, তার অতীত এবং ‘গুণাগুণ’কে নির্দেশ করে। আজো অপূর্ণ কোনো স্থান হিসেবে বিবাদী দেখতে পাবেন সেই সঠিক স্থান যেখানে দণ্ড সংক্রান্ত অনুশীলনে, মনস্তাত্ত্বিক জ্ঞান কারণ সংক্রান্ত আইনশাস্ত্রের ভূমিকার উপর স্থান লাভ করবে। নিঃসন্দেহে অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে সেই মুহূর্তটি তখনো খুব কাছে নয়। সে যুগের বৈজ্ঞানিক নমুনাগুলোয় সংহিতা-ব্যক্তিকীকরণ সূত্র (code-individualization link) খোঁজা হয়েছিল। নিঃসন্দেহে প্রাকৃতিক ইতিহাস সবচেয়ে পর্যাপ্ত রূপরেখার উদাহরণ দিয়েছে। আর তা’ হলো একটি অব্যাহত ক্রমবিন্যাসের সাথে সঙ্গতি রেখে জাতিসমূহের শ্রেণীকরণের সূত্রাবলী (taxonomy of species) প্রস্তুত করা। অপরাধ ও শাস্তির একটি রেখাচিত্র খাড়া করার কথা কেউ কেউ ভেবেছে। যাতে করে প্রতিটি বিশেষ অপরাধ এবং প্রত্যেক শাস্তিযোগ্য ব্যক্তি একটি সাধারণ আইনের নিয়ম কানুনের আওতায় আসতে পারেন। কোনো ধরনের কোনো অযৌক্তিক কাজের ন্যূনতম ঝুঁকি ছাড়াই। ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সম্পন্ন নানা ধরনের অপরাধের একটি তালিকা অবশ্যই আঁকতে হবে। অপরাধের বর্ণনা অনুযায়ী, অপরাধের বিভিন্ন প্রকৃতির ভেতর একটি পার্থক্যের সীমারেখা অবশ্যই টানতে হবে। এই বিভাজনের সেরা নীতি হলো, আমার মতে, উদ্দেশ্য অনুযায়ী অপরাধগুলোকে পৃথক করা। এই বিভাজনকে অবশ্যই এমন হতে হবে যে অপরাধের প্রতিটি প্রকৃতি একটি আর একটির থেকে বেশ আলাদা যেন হয়। এবং প্রতিটি বিশেষ শ্রেণীর অপরাধ, তার যাবতীয় সম্পর্কের বিচার অনুসারেই, স্থাপন করা যেতে পারে এমন ভাবে যে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী অপরাধ, কঠোরতম শ্রেণীকরণের নিয়ম মেনে পর পর স্থাপিত হয়। শেষতঃ এই তালিকাটি এমন হতে হবে যেন এটি শাস্তির জন্য প্রণীত অপর কোনো তালিকার সাথে সহজেই তুলনীয় হতে পারে। এই তুলনা এমনভাবে হতে হবে যেন একটি তালিকা অপারটির সাথে চমৎকার ভাবে যোগাযোগ করতে পারে।’ (লাক্রেতেল্লে, ৩৫১-৩৫২)। তত্ত্বে অথবা এমনকি স্বপ্নেও, শাস্তি ও অপরাধসমূহের দ্বিগুণ শ্রেণীকরণ সূত্র সমস্যাগুলোর নিরসন ঘটাবে। কিšত্ত কীভাবে সুদৃঢ় আইনগুলো কেউ বিশেষ কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করবে?

এই অনুমানমূলক নমুনা হতে বহুদূরে সরিয়ে নিয়ে, নৃতাত্ত্বিক ব্যক্তিকীকরণের (anthropological individualization) আঙ্গিকগুলো একই সময়ে গঠিত হচ্ছিল খুবই রুক্ষ ও তড়িঘড়ি প্রক্রিয়ায়। প্রথমতঃ আমাদের অপরাধের পুনরাবৃত্তি বিষয়ক অনুমানটি গ্রহণ করতে দাও। এমনো নয় যে পুরনো অপরাধ বিষয়ক আইনগুলোর কাছে এই অনুমান অপরিচিত ছিল।১৪ তবে, গোটা বিষয়টিই তেমন এক বিবরণের চেহারা ধারণ করবার প্রবণতা দেখাচ্ছিল যে বিবরণ অনুযায়ী বিবাদী নিজেই নিজের শাস্তির রায় বদলাতে সক্ষম। ১৭৯১ সালের আইন অনুযায়ী অসংশোধনযোগ্য অপরাধীরা প্রায় সব ক্ষেত্রেই দ্বিগুণ শাস্তি পাবার জন্য দণ্ডিত হয়ে উঠছিলেন। দশম ফ্লোরিয়্যাল বর্ষের (Floreal Year X) আইন অনুযায়ী, এই অপরাধীদের R অক্ষর দিয়ে দাগা দিতে হবে। ১৮১০ সালের দণ্ডবিধি আইন অপরাধীদের উপর হয় সাধারণ শাস্তির সর্বোচ্চ সম্ভাব্য শাস্তি আরোপ করেছে; অথবা তা সম্ভাব্য সর্বোচ্চ শাস্তিরও মাত্রা ছাড়িয়েছে। এখন, অপরাধের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে, আইনী কাজের কর্তা নয়, বরং অপরাধী প্রজাকে লক্ষ্য করেই সমালোচনা বর্ষিত হয়। যেহেতু অপরাধ প্রমাণ করে একটি নিশ্চিত ইচ্ছা যা অপরাধীর অন্তর্নিহিত চারিত্র্যকেও প্রকাশ করে বৈকি। ধীরে ধীরে যেভাবে অপরাধ প্রবণতা, অপরাধের চেয়েও, দণ্ডমূলক হস্তক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে, জীবনে প্রথমবারের মতো অপরাধ করা ব্যক্তি এবং অসংশোধনযোগ্য অপরাধীর ভেতরকার বিরোধ আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার প্রবণতা দেখা দেয়। এবং এই বিরোধের ভিত্তিতেই, এই বিরোধকে কয়েকটি বিন্দুতে বলবৎ করার মাধ্যমে, একই সময়কালে যে কেউ দেখতে পাবেন ‘ক্রাইম পাসিওনেল’ নাম্নী দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ। ক্রাইম পাসিওনেল হলো একটি অস্বেচ্ছাসেবী, অপূর্বপরিকল্পিত অপরাধ যা অস্বাভাবিক নানা পরিস্থিতির সাথে জড়িত। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি পাগলামি বা মানসিক অসুস্থতার মতো অজুহাত প্রদর্শন না করেও ক্রাইম পাসিওনেল-কে সাধারণ অপরাধ হিসেবে গণ্য করার হাত হতে বাঁচায়। ১৭৯১ সাল নাগাদ লো পেলেতিয়েহ (Le Peletier) মন্তব্য করেন যে শাস্তির যে সূক্ষ্ম ক্রমবিন্যাস তিনি সংসদে জমা দিয়েছেন তা অপরাধীকে অপরাধ সঙ্ঘটন হতে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে। যে অপরাধী কিনা ‘ঠাণ্ডা রক্তে একটি মন্দ কাজের খসড়া করে’ এবং শাস্তির কথা ভেবে এই মন্দ কাজ করা হতে বিরত থাকতে পারে। অন্যদিকে, শাস্তি কোনো কাজেই আসে না ‘যখন ভয়ানক আবেগের বশে প্রতিক্রিয়ার কথা চিন্তা না করে কেউ অপরাধ করে।’ তবে, তীব্র আবেগের বশে অপরাধ সঙ্ঘটন করাটা এক দিক থেকে দেখলে অগুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু এসব অপরাধে অপরাধ কর্তার ভেতর কোনো ‘যুক্তিশীল মন্দত্বে’র খোঁজ পাওয়া যায় না। ১৫

শাস্তির মানবিকতার পেছনে একজন যা খুঁজে পান তা হলো সেইসব নিয়ম কানুন যা দণ্ডপ্রদান ক্ষমতার পরিমাপকৃত অর্থনীতি হিসেবে দাবি করে যে শাস্তি ‘কোমল’ হবে। এই মানবতাবাদীরা ক্ষমতার প্রয়োগে একটি বাঁকবদলও উস্কে দেয়। ক্ষমতার এই বাঁকবদলের ফলে অত্যধিক যন্ত্রণাদায়ী শাস্তির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনীতে ব্যথাপ্রাপ্ত মানব শরীর বা প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের অনুষ্ঠানে বিশেষ ভাবে কলঙ্ক চিহ্ন প্রদান আর লক্ষ্য নয়। নতুন লক্ষ্য হলো মানব মন অথবা প্রতিনিধিত্বের একটি নাটক। কিম্বা, সেইসব চিহ্ন যা সুকৌশলে এবং জরুরি ও প্রকাশ্যভাবে সবার মনে সঞ্চালিত হয়। এটা আর কোনোক্রমেই শরীর নয়, বরং আত্মার বিষয়, মেবলি বলেন। এবং মেবলি এ কথার মাধ্যমে যা পরিষ্কারভাবে বোঝাতে চেয়েছেন তা হলো ক্ষমতা কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণতা। শাস্তির পুরনো যত ‘অঙ্গ ব্যবচ্ছেদ বিদ্যা’ এখন পরিত্যক্ত। কিšত্ত, আমরা কি সত্যি সত্যি অ-দৈহিক শাস্তির যুগে প্রবেশ করেছি?

বিচ্ছেদের মুহূর্তে, যে কেউ বেআইনী কার্যক্রমের শেকড় ওপড়ানো, শাস্তিমূলক কার্যক্রমকে সাধারণীকৃত করা এবং সীমায়িত করার রাজনৈতিক প্রকল্পটি হাতে নিতে পারেন। এতে করে দণ্ডপ্রদান ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবপর হবে। এই অবস্থা হতে অপরাধ এবং অপরাধীর নিরপেক্ষকরণের দুটো ধারা উদ্ভূত হয়। এক দিক হতে বিচার করলে, সবার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত অপরাধীকে জনস্বার্থে খুঁজে বের করা উচিত। সে যেন সামাজিক চুক্তির বহির্ভূত একজন মানুষ। নিজে সে নাগরিক হিসেবে অযোগ্য এবং নিজের ভেতরেই আপন বন্য প্রকৃতির গন্ধে সে আবির্ভূত হয় একজন খলনায়ক, দানব, উন্মাদ, অসুস্থ এবং সর্বোপরি ‘অস্বাভাবিক’ এক মানব হিসেবে। এটা এমন এক পরিস্থিতি যে একদিন সে কোনো বৈজ্ঞানিক নিরপেক্ষকরণের বিষয়ে পরিণত হবে এবং একই সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ‘চিকিৎসা’র অধীনস্থ হবে। অন্যদিকে, ভেতর হতেই পরিমাপের চাহিদা, সকল অপরাধীর উপর দণ্ডপ্রদান ক্ষমতা হস্তক্ষেপের যে বাস্তব বা সম্ভাবনাময় কৌশলগুলো চর্চা করে, স্বার্থের গণনা, প্রতিনিধিত্ব এবং চিহ্নের সঞ্চালন, নিশ্চয়তার দিগন্তের গঠন এবং প্রমাণাদি, সূক্ষ্মতর নানা নিয়ামকের সাথে শাস্তির অভিযোজন…এ সবকিছুই অপরাধী ও অপরাধের নিরপেক্ষকরণ প্রক্রিয়ার প্রতি ধাবিত করে। যে কোনো ক্ষেত্রেই একজন দেখতে পাবেন যে শাস্তির চর্চার নিচে যে ক্ষমতা সম্পর্ক বিদ্যমান, তা বস্তু সম্পর্ক দ্বারা প্রতিরূপকৃত বা নকল হওয়া শুরু করে। এই বস্তু সম্পর্কের অধীনে এবং সাধারণ প্রথার আওতায় অপরাধকে যে শুধুমাত্র ঘটনা হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরি তা কিন্তু নয়। বরং বিশেষ শর্তানুযায়ী, অপরাধীকেও ব্যক্তি হিসেবে জানা প্রয়োজন। যে কেউ এটিও দেখতে পাবেন যে এই বস্তু সম্পর্ক শাস্তিমূলক অনুশীলনের ক্ষেত্রে নিছকই বাইরে হতে চাপিয়ে দেওয়া নয়। বরং ইন্দ্রিয়ের সীমাবদ্ধতা দ্বারা প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে জনতার ক্রোধের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষীয় যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, অথবা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিষয়ে কোনো যৌক্তিক কি ‘বৈজ্ঞানিক’ তদন্ত অনেক বেশি বাইরে হতে চাপিয়ে দেওয়া বিষয়। ক্ষমতার নির্দিষ্ট কৌশলে এবং তার চর্চার ব্যবস্থায় নিরপেক্ষকরণ প্রক্রিয়া উৎপন্ন হয়।

যাহোক, দণ্ড সংস্কারের প্রকল্পের সাথে যে দু’ধরনের নিরপেক্ষকরণের কাজ জড়িত থাকে, তা একে অপরের কাছ হতে প্রায়ই পৃথক থাকে। তারা পৃথক থাকে তাদের সময়পঞ্জি এবং প্রভাবগত দিক হতে। আইনের আওতার বাইরে স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে অপরাধীর নিরপেক্ষকরণ এখনো অবধি শুধুই একটি সম্ভাবনাময় এবং বিলুপ্তপ্রায় চিহ্ন। বিলুপ্তপ্রায় এ চিহ্নে রাজনৈতিক সমালোচনা এবং কল্পনার মূর্তিগুলো জড়িত। জ্ঞান ক্ষেত্রে হোমো ক্রিমিন্যালিস বা অপরাধীকে উদ্দিষ্ট বস্তু হবার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়। উল্টোদিক হতে, দণ্ডপ্রদান ক্ষমতার পুনর্গঠনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত অন্যপক্ষের ছিল অনেক বেশি দ্রুত এবং সিদ্ধান্তগ্রহণকারী কিছু প্রভাব। এই প্রভাবগুলো হলো বিধিবদ্ধকরণ, অপরাধের সংজ্ঞা, শাস্তির দাঁড়িপাল্লা স্থিরকরণ, ফৌজদারি প্রক্রিয়ার নিয়মাবলী, ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকার সংজ্ঞা ইত্যাদি। এছাড়াও ইদিওলোগ (Ideologues) কর্তৃক ইতোমধ্যে গঠিত তত্ত্বের ব্যবহারও সম্পন্ন হয়েছে। প্রভাবগত ভাবে এই বিতর্ক স্বার্থের তত্ত্বের মাধ্যমে, প্রতিনিধিত্ব এবং চিহ্নের মাধ্যমে, পুনর্গঠিত শ্রেণী এবং সূচনার মাধ্যমে, মানবের ওপর ক্ষমতা চর্চার একটি সাধারণ নির্দেশ প্রণালী গঠন করেছে। প্রতীককে চিহ্ন হিসেবে এবং মানব মনকে ক্ষমতা খোদাইকরণের উপরতল হিসেবে এই গঠন সম্ভবপর হয়েছে। ভাবনার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শরীরের সমর্পন, নির্যাতন এবং মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের নৈমিত্তিক অঙ্গ ব্যবচ্ছেদ বিদ্যা পরিবর্তে অনেক বেশি কার্যকরী শরীরের রাজনীতির নীতিতে প্রতিনিধিত্বের বিশ্লেষন। ইদিওলোগের ভাবনা শুধুই ব্যক্তি ও সমাজের একটি তত্ত্ব মাত্র ছিল না। এটি সূক্ষ্ম ও কার্যকরী অর্থনৈতিক ক্ষমতার এক কৃৎকৌশল হিসেবে বিকাশ লাভ করেছে। সার্বভৌম সম্রাটের ক্ষমতার মহার্ঘ ব্যয়ের বিপরীতে এই বিকাশমানতার অবস্থান। আমাদের আর একবার শুনতে দাও সার্ভানের (Servan) সেই বাণী: ‘একে অন্যকে কোনো ব্যত্যয় ব্যতীতই অনুসরণ করুন…যখন আপনারা এভাবেই আপনাদের নাগরিকদের মস্তিষ্কে নানা ভাবনার শৃঙ্খল গড়ে তুলেছেন, আপনি তখন তাদের পরিচালনা করতে এবং তাদের উপর কর্তৃত্ব করতে গৌরব বোধ করবেন। একজন নির্বোধ স্বৈরাচারী তার ক্রিতদাসদের লোহার শেকল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু, একজন সত্যিকারের রাজনীতিক জনতাকে তার ভাবনার শেকল দিয়ে আরো বেশি শক্ত করে বাঁধতে পারেন। যুক্তির সেই স্থির বিন্দুতে রাজনীতিক শেকলের শেষ বিন্দুর বাঁধন পর্যন্ত নিশ্চিত করেন। এই সংযোগ শেকল ঠিক ততটাই শক্ত যতটা আমরা অজ্ঞ এই শেকলের গঠনকারী উপাদান বিষয়ে এবং আমরা তাকে বিশ্বাস করি আমাদের নিজের কাজ হিসেবে। হতাশা এবং মহাকাল এই লৌহশেকলের লোহা ও ইস্পাতের বাঁধুনি খেয়ে ফ্যালে। কিন্তু্ত, হতাশা এবং মহাকাল ভাবনার স্বাভাবিক মিলনের চিন্তার বিরুদ্ধে অক্ষম। তারা শুধু এই চিন্তাকে আরো শক্ত করতে পারে। মস্তিষ্কের কোমল তন্তুর উপর স্থিরতম সাম্রাজ্যের অচঞ্চল ভিত্তি গঠিত।’ (সার্ভান , ৩৫)।

এ হলো শাস্তির সেই প্রতীকী-কৃৎকৌশল, সেই ‘আদর্শিক ক্ষমতা’ যা অন্ততঃ আংশিক হলেও সংশয়ে থেকে যাবে এবং এক নতুন রাজনৈতিক অঙ্গ ব্যবচ্ছেদবিদ্যা দ্বারা ছাপিয়ে যাবে। এই নতুন অঙ্গ ব্যবচ্ছেদ বিদ্যায় শরীর একটি নতুন আঙ্গিক হিসেবে প্রধান চরিত্র গ্রহণ করবে। এবং এই নতুন রাজনৈতিক অঙ্গ ব্যবচ্ছেদ বিদ্যা নিরপেক্ষকরণের দুটো বিপরীত রেখার পরস্পরচ্ছেদকে অনুমতি দেবে। আঠারো শতকেই এমন অনুমতি প্রদানের উদ্ভব, যা অপরাধীকে ‘অন্যদিক হতে’ প্রত্যাখ্যান করে–প্রকৃতির বিপরীতে প্রকৃতি হতে প্রত্যাখ্যান। যা শাস্তির হিসাবকৃত অর্থনীতির মাধ্যমে অপরাধকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। শাস্তির নয়া শিল্পে একবার চোখ বুলালেই শরীরের নতুন রাজনীতির মাধ্যমে শাস্তিমূলক প্রতীকী-কৌশলের অপসারণের বিষয়টিকে চাতুর্যের সাথে মূর্ত হয়ে ওঠার দিকটি অনুধাবন করা যায়।

(খণ্ড ২-এর প্রথম অধ্যায় সমাপ্ত)

চলবে

কিস্তি ৯

তথ্যনির্দেশ


১৩. বেক্কারিয়া, ২৬। আরো দেখুন ব্রিসোট: ‘ক্ষমা যদি ন্যায়পর বিষয় হয়ে থাকে, তবে আইন হলো মন্দ। আইন যখন উত্তম, তখন ক্ষমা হলো আইনের বিরুদ্ধে সঙ্ঘটিত অপরাধ (ব্রিসোট, ২০০)।

১৪. মেবলি, ৩২৭। আরো দেখুন ভাত্তেল: ‘এটা যতটা না শাস্তির নিষ্ঠুরতা তারও চেয়ে বেশি হলো শাস্তি আদায়ের কঠোরতা যার মাধ্যমে এটা নিশ্চিত করা হয় যে প্রত্যেক ব্যক্তি তার দায়িত্ব পালন করবে।’

১৫. কার্নোট, হেলি অথবা শোবোর মতের বিপরীতে, প্রাচীন যুগে অসংখ্য আইনের আওতায় অপরাধের অসংশোধনযোগ্যতাকে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে শাস্তি দেওয়া হতো। ১৫৪৯ সালের আইন ঘোষণা করেছে যে অপরাধী যে তার কৃত অপরাধ পুনরাবৃত্তি করে, সে হলো ‘খুব জঘন্য, কলঙ্কজনক এক ব্যক্তি এবং সাধারণের ভালত্বের জন্য তীব্রভাবে ক্ষতিকর।’ ঈশ্বরনিন্দা, চুরি, ভবঘুরেপনা প্রভৃতির জন্য অপরাধীর অসংশোধনযোগ্যতা কিছু বিশেষ শাস্তির আওতাভুক্ত হয়েছিল।

a_falgun@yahoo.com

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (0) »

এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com