কবি ফরিদ কবিরের ‘আমার গল্প’: মুখোশোন্মোচনের ইতিবৃত্ত

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ১৮ মে ২০১৭ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

একজীবনে ক’জনকে যায় চেনা!
মুখোশ আঁটে মানুষ মুখে
লুকোতে ধারদেনা

পাঁজর খুলে দিলেও বলো
মানুষ কী যায় চেনা?

মানুষের মতো রহস্যময় প্রাণি আর নাই। বুকের পাঁজর খুলে দিলেও, সারাজীবন পাশে থেকেও মানুষ, সহযাত্রিনীকে একটুও না চিনে জীবন কাটিয়ে দিতে পারে। মানুষ নিজেকে চিনতে না দিতে পারে। মানুষ নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে পারে, নাই করে দিতে পারে তার একান্ত আবেগ, অনুভূতি, অভিমান।

কিন্তু এসব মানুষ কেনো করে! তার জীবনের উদ্দেশ্য কী? বিশ্বসাহিত্য জুড়েই এসব প্রাথমিক প্রশ্ন নিয়ে মোটা মোটা গ্রন্থ রচিত হয়েছে। সত্যি কথাটা হলো, বড় গলায় ‘নিজেকে জানো’ বলা মানুষ নিজেকে চিনতে পারে কী না তা নিয়ে এক অসীম দ্বিধা বুকে পুষে রেখে জীবন কাটিয়ে ফেলে।

border=0যারা সেটা চায় না, তাদেরও একটি প্রজাতি এই পৃথিবীতে আছে। যুগে যুগে তারা নিজেদের হৃদয়ের কথা শুনেছে। নিজেকে ফাঁকি দেয়নি। কবি ফরিদ কবির সেই দুর্লভ মানুষদের একজন, যিনি নিজের কাছে এমনকী, তাকে নিজেদের মনে করা পাঠকদের কাছে স্বীকার করতে পারেন নিজের একান্ত গোপন অনুভূতিও। ‘পাঠকে ফাঁকি দিতে চান না’— এর চেয়ে আমার এই ক্ষেত্রে এই লেখক নিজেকেই ফাঁকি দিতে চান, তা আমার বেশি করে মনে হয়।
আসুন পড়া যাক, তার আমার গল্পের একটা অংশ থেকে—

আমার মনে হচ্ছিলো, আমি আবারও জড়িয়ে যাচ্ছি ক্রমশ নতুন এক ভালোবাসার জালে। মানুষের মনের চাইতে অদ্ভুত আর কিছু নাই! ছাব্বিশ বছর বয়সে আমি বিশাখার দুর্মর প্রেমে যেমনটা উন্মাদ হয়েছিলাম, অনেকটা তেমনই আবারও উন্মাদ হয়ে উঠলাম। তাকে নতুনভাবে অনুভব করতে শুরু করেছিলাম। এমন না যে আমি ঝর্নাকে ভালোবাসি না। এমনও না যে ঝর্নার সঙ্গে আমার কোনো দূরত্ব আদৌ তৈরি হয়েছে। ঝর্না মানুষ হিসেবে যেমন, বউ হিসেবেও এতোটাই তুলনাহীন যে তাকে উপেক্ষা করাই অসম্ভব। পুরুষরা একটা নারীর মধ্যে যা কিছু পেতে চায়, তার সবকিছুই আছে ওর মধ্যে। তাহলে আমি কেন বিশাখার সান্নিধ্য, বিশাখার প্রেম কামনা করছি? এ প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়া আসলেই কঠিন। আমার অনেক বন্ধুকেই বিবাহিত জীবনে অন্য নারীর প্রতি আসক্ত হতে দেখেছি। অনেকে বলেন স্ত্রীর সঙ্গে যেসব স্বামীর সম্পর্ক বিভিন্ন কারণে চিড় ধরেছে তারাই অন্য নারীর প্রতি আসক্ত হয়। কিংবা উল্টোটা। স্বামীর অবহেলা পেয়েও অনেক নারী আসক্ত হয় অন্য পুরুষের প্রতি। কিন্তু আমার অবস্থাটা তো তেমন না! ঝর্নার সঙ্গে আমার চমৎকার একটা সম্পর্ক। বোঝাপড়াটা বেজায় ভালো। তবে, আমি কেন ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়ছি বিশাখার প্রতি? এর কোনো সদুত্তর সত্যি আমার জানা নাই।

একদিকে যতোই আমি বিশাখার দিকে ঝুঁকে পড়ছি, অন্যদিকে ততোই মনে হচ্ছে, ঝর্নার প্রতি অবিচার করে চলেছি। এর জন্য একটা অপরাধবোধ ও গ্লানিও আমাকে আস্তে আস্তে গ্রাস করতে লাগলো। বিশাখার সঙ্গে আমার সম্পর্ক যে আবার স্থাপিত হয়েছে এ বিষয়টা ঝর্নার কাছে অজানাই থেকে যাচ্ছিলো। বিষয়টা এমন যে আমি ঝর্নাকে এ বিষয়ে জানাতেই পারছিলাম না। কারোর পক্ষেই তার স্ত্রীকে আরেক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ করা সম্ভব না। কিন্তু এ রকম একটা ভয়াবহ সত্যকে লুকিয়ে রাখতেও প্রচণ্ড গ্লানি হচ্ছিলো আমার।
তবে, এর মধ্যেই আরেকটা ঘটনা ঘটলো।
আমি আর ঝর্না সেদিন রাপা প্লাজাতে শপিং করছি, হঠাৎ দেখি বিশাখা! আগের চাইতে বেশ কিছুটা মোটা হয়েছে! সঙ্গে ছিলেন ওর মা। বিশাখাও মনে হয় আমাদের দেখতে পেয়েছিলো। ও এগিয়ে আসছিলো আমাদের দিকেই। তার মানে বিশাখা ঢাকায় এসেছে! আমি তখন একটা ব্যাগের দোকানের দরোজার কাছে দাঁড়িয়ে আছি। আর ঝর্না ভেতরে ব্যাগ দেখছে। ওর দুটি ব্যাগ সমান পছন্দ হয়েছে। কোনটা নেবে সেটা ও স্থির করতে পারছিলো না! জামা-কাপড় কিনতে গেলেও ঝর্না প্রায়ই এ রকম করে। দাম পরিশোধ করে প্যাকেটে ঢুকিয়ে ফেলার পরেও অনেক সময় সিদ্ধান্ত বদলে ফেলে। সেদিনও তাই হলো। ও দুবার প্যাকেট খুলে একবার এই ব্যাগ ঢোকায় তো পর মুহূর্তেই বলে, ভাই, এটা না, ওই ব্যাগটাই দেন। এমন অবস্থা দেখে আমি দুটো ব্যাগই ওকে কিনে দিলাম। সেলসম্যান ব্যাগদুটো প্যাকেট করছিলো।
আমার ধারণা ছিলো বিশাখা আমাদের ফেলে সামনে এগিয়ে যাবে। কিন্তু ও তা করলো না। আমার সামনে এসেই দাঁড়িয়ে গেলো। তারপর বললো, চিনতে পারছিস?
আমি বললাম, হুম, হাজার বছর পরে দেখা হলেও তোকে আমার চিনতে অসুবিধে হবার কথা না।
বিশাখা হাসলো, ওর মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো, আম্মাকে চিনতে পারছিস?
আমি ওর মাকে সালাম দিয়ে বললাম, কেমন আছেন খালাম্মা? চিনতে পারছেন?
তিনি আমার দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন তারপর বললেন, ফরিদ কবির না? কেমন আছো, বাবা?
আমি একটু অবাকই হলাম! আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম পাশ থেকে বিশাখাই বললো, দ্যাখ, তোকে আম্মাও চিনতে পেরেছে।
আমি বললাম, আমাকে তো ভুলে যাওয়া কঠিন।
ঠিক সে মুহূর্তেই ঝর্নাও পাশে দাঁড়ালো! ওরাও নিজেদের মধ্যে কুশল বিনিময় করলো। এমনভাবে যেন তারা বহুদিনের পরিচিত। কারোরর মধ্যে কোনো জড়তা নাই!
ঝর্না একবার শুধু আমার মুখের দিকে তাকালো। মনে হয় দেখে নিলো, বিশাখাকে এতোদিন পর দেখার পর আমার প্রতিক্রিয়া কেমন!
আমাদের আলাপ বেশি এগোলো না। বিশাখা বললো, আমি কিছুদিন আগেই ঢাকায় এসেছি। আছি কিছুদিন। তারপর ঝর্নার দিকে ফিরে বললো, ঝর্না তোমার ফোন নম্বরটা আমাকে দিতে পারো।
ঝর্না বললো, তোমার নম্বরটা বলো, আমি সেভ করে তোমাকে মিসড কল দিচ্ছি। বিশাখা ওর নম্বরটা বললে আমি নিজেও ঝর্নার সঙ্গে সঙ্গে সেই নম্বরটা সেভ করে নিলাম।
বিশাখা বললো, আজ যাই, আমি ফোন করবো।
ঝর্না বললো, একদিন বাসায় আসো।
বিশাখা বললো, দেখি। আজ গেলাম। বিশাখা সামনে এগিয়ে গেলো।
পরের দিন বিশাখাকে ফোন দিলাম আমিই। আবেগপ্রবণ কথাই হলো বেশি। বললাম, একদিন আয় আমাদের বাসায়।
বিশাখা বললো, ঝর্না কিছু মনে করবে না?
আমি বললাম, কী মনে করবে? কিছুই মনে করবে না। ওর আত্মা অনেক বড়।
বিশাখা বললো, দেখি। চেষ্টা করবো।

(পৃষ্ঠা ৩৭২, ৩৭৩, ৩৭৪/ আমার গল্প/ ফরিদ কবির)

Farid Kabir with His wife Jharna Yasminউদ্ধৃত এই অংশের আগে আরো অনেক ঘনসংঘবদ্ধ প্রেমের আলাপ। পরেও। বিবাহিত স্ত্রী-কন্যা সমেত সংসারী একজন কবি নিজের প্রেম ও এর দ্বন্দ্ব সমূহ নিয়ে এমন বর্ণনা বাংলাদেশে বসে দিতে পারেন, প্রচণ্ড অবদমন আর রক্ষণশীল সমাজ কাঠামোয় তাকে এক আশ্চর্যই বলা যায়, এখানেই লেখককে এই সাহসী জায়গাটি দিতে পারার জন্য, সৎ সাহসের অধিকারী করে তুলবার জন্য তার ভালোবাসার স্ত্রীকে আমার সত্যিকারের মহানায়িকা মনে হয়। তিনি ঘর থেকে এই স্পষ্টবাদিতা শুরু করেছেন বলেই না ঘরে-বাইরে সমস্ত জায়গায় মুক্তিচিন্তার বুদ্ধিদীপ্ত এক ভালোবাসার জীবন কবি ফরিদ কবির কাটাতে পেরেছেন। তাঁর এই মহিয়সীর প্রতি নতমস্তক থাকা উচিত, সমস্ত ভালোবাসা নিয়ে, আর ফরিদ কবির সহধর্মিনী ঝর্না ইয়াসমিনের কাছে এ জাতির নারীরা শিখতে পারে, কিভাবে প্রয়োজনীয় স্পেসটি দিয়ে বশে, ভালোবাসায় বন্দি রাখা যায়, প্রেমদেবকে!

আজকের পৃথিবীতে যেখানে গণমাধ্যমে, ভোগবাদী ক্রিয়াকর্মে যৌনতা-বিষয়ক নানা অনুষঙ্গ জড়িয়ে আছে, সেখানে যৌনতা-বিষয়ে মুক্ত মনের বুদ্ধিদীপ্ত আলোচনা ছাড়া আমরা বাঁচবো কীভাবে আর সমাজের তালিবানি শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে লড়বই বা কীভাবে? শিক্ষিত মুসলমান বাঙালির সংকীর্ণ মানসিকতা বদলের ইতিহাসে একটা বড় রোলপ্লে করবে এই আত্মজীবনী।

বাঙালির চরিত্র নিয়ে সাহিত্যে ব্যঙ্গের শেষ নাই। আমার মনে পড়ছে সমরেশ মজুমদারের রসরচনা ‘বাঙালির নষ্টামি’র কথা— যেখানে লেখক বাঙালি জাতির স্বভাব চরিত্র নিয়ে একের পর এক রম্যরচনা করে অভিনব রস সৃষ্টি করেছেন। সে রচনাগুলির মতোন ফরিদ কবিরের আমার গল্প এর বৈশিষ্ট্যও সরল ভাষা ও সোজা সাপটা লেখনীর মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার চেষ্টা।

একজন কবির প্রথম যোগ্যতা তাকে ভালোবাসতে জানতে হবে, ফরিদ কবিরের আত্মজীবনী প্রমাণ করে সারাটা জীবন ভালোবাসা গৃধ্নু হয়ে, ভালোবাসা চেয়ে ও দিয়ে, ভালোবাসার কাছে আত্মসমর্পণ করে তিনি কাটিয়েছেন। সেই ভালোবাসায় কামনা আছে, বঞ্চনা আছে, বিদ্রোহ ও পরাজয় আছে, কিন্তু সবচেয়ে বড় করে যা আছে, তা হলো একজন মানুষের কবিতার কাছে সমর্পণ করা জীবন।

পড়ার পর সন্তুষ্টচিত্তে একটা ভালো বই নিয়ে লেখা খুবই কঠিন কাজ। ভালো বই সবসময় আপনাকে বিহ্বল করে দেবে, সেই বিহ্বলদশা কাটিয়ে উঠে যখন আপনি লিখতে বসবেন, তখন মনে পড়বে, এমন কী কী কাজ বিশ্বসাহিত্যে হয়েছে আসলে! বা বাংলা সাহিত্যে?

আসল ঝামেলায় পড়বেন তখন। দেখা যাবে আপনাকে পড়ে ফেলতে হচ্ছে আরো গাঁদা গাঁদা বই, প্রথম বইটি নিয়ে কথা বলতে হলে, লেগে যাবে প্রচুর সময়, পাঠের যে মুগ্ধ প্রতিক্রিয়া তা ক্রমশ ধূসর হতে শুরু করবে। সুতরাং প্রিয় হয়ে ওঠা কবি ও লেখকের বইটি আবার পড়তে হবে আপনাকে, ভালোবাসার ও ভালোবাসিত হবার দায় মেটাতে আপনাকে ফেলিয়া সকল, আরাধ্যের দিকেই যেতে হবে ছুটে।

কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ, কবি নির্মলেন্দু গুণ ও তর্কউগারী লেখিকা তসলিমা নাসরিন এর আত্মজীবনী পঠিতই ছিলো। কমলা ভাসিন এর মাই স্টোরি পড়ে শেষ করেই লিখতে বসলাম আশির কবি, ফরিদ কবিরের আত্মজীবনী আমার গল্প নিয়ে(নামটা নিয়ে ফরিদ ভাই আরেকটু ভাবতে পারতেন, কত সুন্দর সুন্দর নাম হয় আত্মজীবনীর। কমলা ভাসিনের মাই স্টোরি আর ফরিদ কবিরের আমার গল্প, কাছাকাছি হয়ে গেলো না হে পাঠক!)। লিখতে বসে দেখা গেলো, বইটার বিভিন্ন গল্পগুলি বিচ্ছিন্নভাবে মনে পড়ছে, মানে বিচ্ছিন্নভাবে বিশেষ বিশেষ কিছু গল্প মনে দাগ কেটে গিয়েছিলো পড়বার সময়। এমনো হলো, মনে পড়ছে না কিছু ঐকতান, চিন্তাসূত্র ও লেখকের ফুলের বৃন্তে মালাটি গাঁথবার দাগ। সুতরাং পড়তে হলো আবার।

আত্মজীবনী বরাবরই আমার খুব প্রিয় সাহিত্য প্রকরণ। আমাদের চারপাশে যত গল্প, তার বেশিরভাগই কিন্তু ওরাল ফর্মে আত্মকথন। ফলে আত্মজীবনী বা আত্মকথন এর সাহিত্যসম্ভাবনা দিগন্তবিস্তারী মনে হয় আমার কাছে।

আমিও ফেইসবুকবাসী অনেকের মতো বইটি মলাটবন্দি হবার অনেক আগে থেকেই উন্মুখ ছিলাম পড়ার জন্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তাৎক্ষণিক মনোযোগ আরো অনেকের মতো আমারটিও কেড়ে নিয়েছিলেন ফরিদ কবির, তার চমক-গিমিকময় স্বাদুলেখনীর শক্তিতে। এটা বললে অত্যুক্তি হবে না, তখন থেকেই বইটির প্রতি একধরনের প্রবল আকর্ষণবোধ করেছিলাম।

আমার গল্প
মূলত একের ভেতর অনেক। শৈশবের স্মৃতি, নিজের যাপিত জীবনের বড় ঘটনাবলী, সাম্প্রতিক প্রায় চল্লিশ বছরের ঢাকা তথাপি বাংলাদেশের শিল্প সাহিত্য গণমাধ্যম অঙ্গনের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য, কবির আত্মকথা বলে ফরিদ কবিরের কাব্যবোধ কিভাবে তৈরি হলো তারও একেবারে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে এই বই থেকে। কবিতাযাপন ও তা নিয়ে কত যে কারবার! আহা!

ব্যক্তি ফরিদ কবির তার পূর্বপুরুষের বর্ণনা থেকে শুরু করে,ধীরে ধীরে সাকিনহীন এক বালকের বেড়ে ওঠার জগতের যে বর্ণনা দিয়েছেন, নিস্তরঙ্গ জীবন থেকে এসে যে উথালপাথাল সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছেন তার গল্প চেতন মানুষের স্নায়ুকে বিবশ করে দেবে, তার বর্ণনায়, সত্যে, চমৎকারিত্বে। পুরনো ঢাকায় বড় হয়েছেন বলে, একেবারে টাইমলাইন ধরেন সেই সময়ের নানা ক্ষত ও সম্ভাবনা তিনি তুলে এনেছেন তার আত্মকথনে। শৈশবে দেখা মুক্তিযুদ্ধ, নানা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি নানা ঘটনা, নাটকীয় উদ্বাস্তু হওয়ার গল্প থেকে পিতাকে হারানো, মাঝখানে ভালোবাসা প্রেম, হুট করে বিয়ে— পরতে পরতে মুগ্ধ হবেন পাঠক, তার স্বাদু আকর্ষনীয় গদ্যে যেমন, তেমনি বিষয়ের নিবিড়তায় মুছবেন চোখের জল।

ফরিদ কবিরের চোখের প্রশংসা উত্তরপর্বের লেখককে করতেই হবে। কারণ তিনি তার যুগপৎ দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃষ্টির চমৎকারিত্বে যে কোন লেখকের জন্যই এই বাংলায় অন্তত আত্মজীবনী লেখা কঠিন করে তুলেছেন আমার গল্প দিয়ে।

আমার গল্পর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক আমার কাছে মনে হয়েছে, লেখক সবগুলো খণ্ড খণ্ড গল্প মিলিয়ে যেভাবে সামগ্রিক এক জীবনের গল্প বলেছেন, তা। ওয়ে অফ হিস টেলিং স্টোরিস, পুরোপুরি জলবৎ তরলং। অসামান্য, প্রতিটি ফুলই মালায় গেঁথে গেছে দারুণভাবে, যেনো অনায়াসে বলে যাচ্ছেন চাদোকানে বসে গল্পের পর গল্প। লেখকের বস্তু বা ব্যক্তি-নির্লিপ্তি তার স্বতঃস্ফূর্ততার সৌন্দর্য্যে ব্যাঘাত ঘটায়নি।

লেখকের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনার অনেকগুলিই ঐতিহাসিকভাবে আমাদের যে কোন বাঙালির জীবনকে স্পর্শ করেছে, ফলে এসব জায়গা থেকে এ বই হয়ে ওঠে অবশ্যপাঠ্য।

একটি অনামা পত্রিকার কূটনীতিক প্রতিবেদক কেমন সব ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে সেসময় দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিকের সম্পাদক হয়ে বসেন, তার রাজনীতির মধ্য দিয়ে কিভাবে দূষিত কলুষিত হয় শিল্প সংস্কৃতির এক বিশাল অঙ্গন, তার অকপট বয়ান সাহসের সাথে দিয়েছেন, ঘটনাগুলোর চাক্ষুস সাক্ষী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সাংবাদিক ফরিদ কবির। ভোরের কাগজ, প্রথম আলোর এসময়ের সব সাংবাদিকদেরই এসব তথ্য জানা থাকা প্রয়োজন মনে হয়েছে আমার। এই ক্লেদগুলি আমাদের সাংবাদিকতা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারলে, নিশ্চিতভাবেই আরো অনেক গুণেমানে এগিয়ে যেতো সাংবাদিকতা।

ফরিদ কবিরের বয়ানকে বইটি বেরিয়ে যাবার তিনমাসের মধ্যেও যেহেতু কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি, আমি কিন্তু ধরে নিচ্ছি, ফরিদ কবির পুরোপুরি সত্য বলেছেন (ইনফ্যাক্ট তার মিথ্যা বলার বা হারানোর কিছু তো নাই)। এই সত্যের সামনে দাঁড়ানোর সাহস কিংবা চ্যালেঞ্জ মতিউর রহমান বা, এমনকী লেখকের অনুজ সাজ্জাদ শরিফেরও নাই। থাকলে, বইমেলার প্রচণ্ড আলোচিত বইটি নিয়ে টু শব্দটিও না করার স্ট্যাটেজি নিতো না দৈনিক প্রথম আলো। পত্রিকাটির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক লেখকের অনুজের বেড়ে ওঠার অনেক গল্পও আছে ফরিদ কবিরের আমার গল্পে। পারিবারিক নানা সংকট ও তা সমাধানের গল্প ফরিদ কবির অকপটে বলেছেন এই বইয়ে।

ফরিদ কবির অনুজ সাজ্জাদ কী নিতে পারেননি সেসব? নাকি গনি মিঞা বা সাদুল্লাহ মিঞার অতীত তাড়া করে ফিরতে পারে এই সমাজের মর্যাদা শ্রেণিতে অতীত অস্বীকার করে আরোহন করা কাউকে! জীবনের বিয়োগান্তক গল্প এই, মানুষ অতীত বদলে নিতে পারে না। দুই ভাইয়ের শৈশবের গল্পগুলি বড় মায়াজাগানিয়া, চোখে জল এনে দেয়া।

আমার খুব খারাপ লেগেছে ভেবে যে, একজন ফরিদ কবিরের সাংবাদিকতায় যে সততা ও নিষ্ঠা দেবার সামর্থ্য ছিলো তা তিনি হয়তো দিতে পারলেন না, জীবনের চাপে, সাহিত্যের চাপে, প্রতারণার শিকার হয়ে, জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে পরবর্তী সময়ে কাজ করে। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার উজ্জ্বলতম অংশের প্রকৃত ইতিহাসের এই সৈনিক আবারও ‘মেধাভিত্তিক’ চাটুকারিতাহীন সাংবাদিকতায় ফিরে এসময়ে কাজ করা অনেক সাংবাদিকের পথপ্রদর্শক হবেন, সাহস হবেন এমন প্রত্যাশা থাকবে এ পেশার একজন মানুষ হিসেবে।

খান শতেক মুদ্রণপ্রমাদ চোখে পড়লো বইটিতে, সম্ভবত বইমেলার ডেডলাইনের তাড়াহুড়ায়। ছাপা ভাল, বাঁধাইও। তবু বড় সাইজের বই বলে আশঙ্কা থেকে যায় বহু-ব্যবহারে আক্রান্ত হওয়ার। পরের সংস্করণে এসব দিক খেয়াল রাখতে হবে লেখক-প্রকাশককে।

Not all Truths need to be Voiced—এই মণিষিআপ্তবাক্য যে ফরিদ কবির পাত্তা দেন নাই, সেজন্য তাকে স্যালুট। পাত্তা দিলে এ বইটা আর লেখা হতো না।
এই বইটির ভূমিকায় কবি ফরিদ কবির নিজের ঢোলটি ভালো বাজিয়েছেন। তার ঢাক্কুরাকুর আমাকে মুগ্ধ করেছেন। এই অংশটুকু পাঠকের আগ্রহ উসকে দিতেই উদ্ধৃত করছি–
আমাদের দেশের কবি-লেখকদের যেসব আত্মজীবনী পড়েছি, তাতে তাদের সময়টাকে মোটামুটি বুঝতে পারা গেলেও এক-দুজন ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ কবি-লেখকের আত্মজীবনীতেই আমি তাদের মানুষ-সত্তাকে ঠিক জানতে পারিনি। মানুষের জীবনে ভালো দিক যেমন থাকে, তেমনি থাকে মন্দ দিকও। জীবনে আলো যেমন থাকে, তেমনি থাকে কিছুটা অন্ধকারও। মানুষের মধ্যে ভালবাসা যেমন থাকে, তেমনি তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ঈর্ষা-ঘৃণা-লোভ-লালসা আর অপমানও। কিন্তু আমাদের দেশে কারো লেখাতেই এসব কিছু পাওয়া যায় না। সবার ব্যক্তিগত জীবনই ভরা সাফল্য আর কীর্তিতে। ফলে, তা সর্বাংশে রূপ নেয় মহান আর অসাধারণ এক মানুষের আত্মকথনে!
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বুঝি, অসাধারণ হয়ে ওঠা বেশ কঠিন। ফলে যিনি নিজেকে অসাধারণ ভাবেন তাকে তার ব্যক্তিগত ক্ষুদ্রতা ও কালো দিকগুলিকে এড়িয়ে চলতে হয়। হয়তো তার ধারণা হয়, জীবনের অন্ধকারদিকগুলি প্রকাশ পেলে তিনি নেমে আসতে পারেন সাধারণ মানুষের কাতারে। কিংবা এমনও হতে পারে, তিনি নিজের সকল কালো দিকগুলি লুকিয়ে রেখে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চান একজন অসাধারণ মানুষ হিসেবেই। এর ফলে একজন লেখক যে পরিচয়টি তুলে ধরেন তাতে সত্যের অর্ধেকটাই প্রকাশিত হয়। আর, কে না জানেন, অর্ধসত্য মিথ্যার চাইতেও ভয়ংকর!
আমাদের পরিবারের কেউ কখনো লেখালেখি করেননি! আবার বাবা এ শহরে এসেছিলেন একজন ছিন্নমূল মানুষ হিসেবেই। ফলে এ শহরে তিনি ছিলেন আদতে নিঃসঙ্গ ও স্বজনহীন, এমনকি তার তিনটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও।
আমার মায়ের পরিবারের সদস্যদের অনেকেই পুরান ঢাকার সাধারণ ব্যবসায়ী, ব্যবসার জন্য খুব বেশি লেখাপড়া দরকার পড়ে না বলেই মনে করেন তারা। যে কারণে সেখানে শিক্ষার আলো খুব কমই পৌঁছতে পেরেছে! আমাদের, কিংবা আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বই তো দূরে থাক, কোনো পত্রিকা বা সাময়িকীও আমি দেখতে পাইনি! স্কুলজীবনে আকস্মিকভাবে দুটি বই আমাদের বাড়িতে প্রথম কীভাবে যেন ঢুকে পড়ে! কে এ দুটি বই আমাদের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন, তা জানা যায়নি। কিন্তু সে দুটি বই-ই আমাকে প্রথমে পাঠক এবং পরবর্তীকালে কবি বা লেখক হয়ে ওঠার জন্য প্রণোদনা জোগায়।
শুধু সে বই দুটিই নয়, পরে এমন কিছু মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় ও সম্পর্ক হয় যাদের সংস্পর্শ আমাকে ধীরে ধীরে বদলে দিতে থাকে। আমি জানি, যা আমি ছিলাম, আর এখন যা আমি হয়ে উঠেছি তার মাঝখানে দুস্তর ব্যবধান। নানা পর্যায়ে নানা মানুষ আমাকে প্রভাবিত করেছেন। তাতে সাধারণ মানুষ যেমন আছেন, তেমনি আছেন কিছু অসামান্য মানুষও; যাদের সংস্রব আমার অনেক কালো দিকই ধুয়েমুছে দিয়েছে। আমি আজ যা হয়ে উঠেছি তাতে আমার কাকা কায়কোবাদ মিয়া, আমার প্রতিবেশিনী সাহিদা আপার যেমন ভূমিকা আছে, তেমনি ভূমিকা আছে সেইসব তরুণীদের; একদা যাদের প্রেমে আমি পড়েছিলাম! কারণ আমাকে তারাও নানাভাবে প্রভাবিত করেছেন। আমার সহপাঠী বিশেষ করে, মোজাহেদুল ইসলাম স্বপন, সুজিত মোস্তফা, দেলোয়ার হোসেন দুলু, শিরিন সুলতানা, সুস্মিতা গণি ছায়া, জাকিয়া ইসলাম, নাসরীন আক্তার রেবার কথা উল্লেখ করতে হয়, যারা জীবনের নানা পর্যায়ে আমার পাশে থেকেছে।
আর, কবি-লেখকদের মধ্যে যাদের সাহচর্য আমাকে নানাভাবে প্রভাবিত ও সমৃদ্ধ করেছে, তাদের মধ্যে কবি শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, তুষার দাশ, সিদ্ধার্থ হক, মঈনুল আহসান সাবের, আশরাফ আহমদ, নাসরীন জাহান, মৃদুল দাশগুপ্ত, গৌতম চৌধুরী, কালীকৃষ্ণ গুহ’র কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়। আমার বিভিন্ন সময়ের সহকর্মী বিশেষ করে, নাঈমুল ইসলাম খান, অধ্যাপক লিয়াকত আলি ও বিশ্বজিৎ মজুমদারের কথাও আজ উল্লেখ করতে হয় যারা পেশাগত জীবনে আমাকে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। তাদের কথা এ বইয়ে হয়তো খুব যৎসামান্য আছে, কারোর কথা হয়তো নেই, কিন্তু তারা আমার জীবনে না এলে আমি এই ‘আমি’ কখনোই হতে পারতাম না। আরেকজনের কথা আমাকে আলাদাভাবেই উল্লেখ করতে হবে, তিনি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান। এ দেশে যাদের বড় দেখা যায়, তাদের অনেককে বড়র মতো দেখায় বটে, কিন্তু তারা সবাই ততোটা বড় নন। কেননা, তাদের নানা ক্ষুদ্রতা, লোভ ও ঈর্ষা আমি নানা সময়ে বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছি। আমার চারপাশে বামনদেরই যেখানে আধিক্য সেখানে তাঁর মতো সদা কর্মঠ ও লোভহীন একজন প্রকৃত মানুষের ছায়া আমাকে বরাবরই নতুন স্বপ্ন দেখতে প্রাণিত করেছে। আলোর সংসর্গে থাকলে কিছু অন্ধকার দূর হতে বাধ্য। আমার পরম সৌভাগ্য তাঁর সাহচর্যে থেকে আমি সর্বদা ঋদ্ধ হয়েছি। পেশাগত জীবনে আমি কোথাও তেমন স্থির হতে পারিনি। কিন্তু তাঁর স্নেহ আমাকে এমনভাবে আটকে ফেলেছে যে তাঁকে ছেড়ে যাওয়ার কথা আমি কখনো ভাবতেই পারিনি।
এ বইটি লিখতে নানাভাবে আমাকে যারা উৎসাহিত করেছেন সেই সব বন্ধু ও পাঠকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এ কথাও স্পষ্ট করে বলতে হয়, আমার জীবন যাদের কারণে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তাদের প্রতি আমার কোনোই ক্ষোভ নেই, কারণ তারা প্রকারান্তরে আমাকে এ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন, যেখানে আমি আজ দাঁড়িয়ে আছি। আমি জীবনে কারোর কোনো ক্ষতি করিনি। ক্ষতির চেষ্টাও করিনি। হয়তো অনেক সময় অপ্রিয় সত্য বলে অনেকের বিরাগভাজন হয়েছি। তা কারণেই হোক বা অকারণে, আমার শত্রু ও আমার সমালোচকরা প্রকারান্তরে আমাকে নানাভাবে সমৃদ্ধই করে চলেছেন। সে কারণে তাদের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আজ অভিজ্ঞতা থেকে বুঝি, কেবল জ্ঞান কাউকে প্রকৃত মানুষ বানাতে পারে না। তার জন্য চাই একই সঙ্গে ভালবাসা ও ঘৃণাও।
জীবনে আমি অজস্র মানুষের ভালবাসা ও সহায়তা পেয়েছি, তাদের সেই ঋণ শোধ করার সাধ্য আমার নেই। সেই ঋণ শোধের চেষ্টাও আমি করতে চাই না। আমার বন্ধু ও শত্রুসহ জীবনে যতো মানুষের সাহচর্য আমি পেয়েছি, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালবাসাই আজ জানাতে চাই।
শেষে একটা কথাই বলতে চাই, আমি ভালবাসা পেতে আর বিলাতেই এসেছি। কাউকে ঘৃণা বা ঈর্ষা করার সাধ্য আমার নেই।

(ভূমিকা/ আমার গল্প/ ফরিদ কবির)

ফরিদ কবিরের অসামান্য পেনড্রয়িং পোট্রেইট দিয়ে দারুণ প্রচ্ছদ করেছেন এসএম সাইফুল ইসলাম। এই্ সমালোচনা যারা পাঠ করছেন তাদের জন্য ফ্ল্যাপের একটা অংশ—‘আমার গল্প’ শুধুই কবি-প্রাবন্ধিক ফরিদ কবিরের নিজের গল্প নয়, এ গল্প তার আশেপাশের পরিচিত চরিত্রসূহেরও। শুধু তাই নয়, এ গল্পে বিবৃত হয়েছে মানুষের জীবনের অন্ধকার ও অপ্রিয় সত্যগুলিও যা বাঙালি লেখকদের আত্মকথনে কদাচিৎ মেলে। এটি তাই কোনো মহৎ লোকের অর্ধসত্য কাহিনি নয়, এ গল্প হয়ে উঠেছে চরম সত্য আর, আলো-অন্ধকারময় জীবনেরই অনুপম আখ্যান।
উদ্ধৃতিযোগ্য প্রায় পুরো বইটিই। উদ্ধৃতি দিতে চাইলে আমার মুগ্ধতা প্রতিক্রিয়া আরো ভারানত হবে। উদ্ধৃতি এখানে না দিয়ে, সকলকে বইটি পড়ে ফরিদ কবিরের মতো গত চল্লিশ বছরের সাক্ষী হতে অনুরোধ করছি, অনুরোধ করছি, তার মতো প্রেমিক হয়ে উঠতে।

।।আমার গল্প।। ফরিদ কবির।। আগামী প্রকাশনী।। পৃষ্ঠা: ৪৩২।। মূল্য: ৮০০ টাকা।।
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (6) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লীনা দিলরুবা — মে ১৮, ২০১৭ @ ১২:৫৮ অপরাহ্ন

      লেখাটি চমৎকার। তবে- যে অংশে মুদ্রণ প্রমাদের ত্রুটির কথা বলা হচ্ছে সেখানেই “তারাহুড়ায়” এর মত বানান ভুল চোখে লাগছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সোলায়মান শুভ্র — মে ১৮, ২০১৭ @ ২:৪৪ অপরাহ্ন

      আনন্দদায়ক লেখা। মনে হচ্ছে ফরিদ কবির অনেক ট্যাবু ভেঙেছেন। বইটা অবশ্যই পড়ে ফেলতে হবে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তনিমা আহমেদ — মে ১৮, ২০১৭ @ ২:৫৪ অপরাহ্ন

      অসাধারণ লাগলো। বইটাও খুব ভালো লেগেছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হৃদয় পাল — মে ১৮, ২০১৭ @ ২:৫৯ অপরাহ্ন

      দারুন বিশ্লেষন। বইটি কি রাজশাহীতে পাওয়া যায়?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আনজাম আনোয়ার — মে ১৯, ২০১৭ @ ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

      একটা প্রথাভাঙা বই নিয়ে প্রথাভাঙা লেখার জন্য শিমুল সালাহউদ্দিনকে অভিনন্দন। ফরিদ কবিরের কবিতাও খুব ভাল লাগে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিপ্লব রহমান — মে ১৯, ২০১৭ @ ১২:৪০ অপরাহ্ন

      আটের দশক থেকেই ফরিদ কবিরের শক্তিশালী পদ্যের সঙ্গে পরিচিত। তখন লিটল ম্যাগ ঘিরে পিজির সিনোরিটা-সিলভানার আড্ডা হয়ে আজিজ মার্কেটে বইয়ের দোকান উঁকি দিতে শুরু করেছে। …

      এতো বছর পর জানলাম, তিনি গদ্যেও বেশ শক্তিশালী। প্রেমের সুলুক সন্ধান ছাড়াও ফরিদ কবির পাঠের লোভেই বইটি পড়ায় আগ্রহ জেগেছে।

      সত্যিই তো, “একজীবনে ক’জনকে যায় চেনা!”

      ভাবনাটিকে জাগ্রত করায় লেখক শিমুল সালাহ্উদ্দিনকে অনেক ধন্যবাদ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com