আলোর ক্যানভাসে জলছবি আঁকি

ফারহানা রহমান | ৬ মে ২০১৭ ৬:১৩ অপরাহ্ন

Monirul Islam১.
পেঁয়াজের খোসার পরতে পরতে অপেক্ষার জলবায়ু জমে থাকে। আমি আলোর ক্যানভাসে স্বপ্নছবি আঁকবো বলেই একটি অবলুপ্ত গল্পে নিজেকে জড়িয়েছি। পুরনো সুরের জেব্রাক্রসিং টানা হয়েছে আমাদের জীবনরেখায়। দুজনেই জানি খুব ঝুঁকিতে আছি তবু সে রেখার ক্যানভাসে আঁকি দিশাহারা এক বৃষ্টির ছবি। মাটির কোলের রঙ চড়িয়েছি তাতে। তুমি বারবার বলেছিলে নীল নক্সার বিহঙ্গ হতে। অথচ আমি জানতাম আমার চোখের পাতায় গজিয়েছে ধুলোর মরুগাছ। ধূসর সাগরের গহীনে এর বিস্তৃত শিকড়। সুযোগ বুঝে লং ডিস্টেন্সে গড়ে ওঠছে কুয়াশার এক প্রাচীন প্রাচীর। আমাদের ক্রমাগত অস্থিরতার জলোচ্ছ্বাসে বিপদসীমার উপর দিয়ে বয়ে চলেছে নীরব মনের মানচিত্র! এভাবেই গড়ে ওঠে নির্জীব পৃথিবী।

২.
তুমি চোখ বুজে থাকো স্মৃতিভ্রষ্টের মতো। তবু চিতার কাঠে হয় মৌনতার পতন। অন্ধকারে ফিসফিস করে বাজে যে করুণ সুর তাতেই এপিটাফের বাণী গলে হচ্ছে জাফরান-নদী । আমি এখন শুধুই ছায়ানৃত্য দেখি প্রান্তিক কুয়াশায়। দেখতে কি পাচ্ছো কত কত ছায়ামূর্তিতে ভরে উঠছে তোমার ছবিঘর? আর উপত্যকার বালু খুব জমেছে দামী ক্যামেরার লেন্সে । যতবারই স্ন্যাপ নিতে চাই, নিঃশব্দে পাসে এসে বসে ভয়ানক সব স্মৃতির কঙ্কাল।

৩.
পিচঢালা পথে হ্রেষার শিস তুলেছিল যে বসন্তের বাতাস সময় নামক নভেল লিখে গেছি তার বুকে। সেই নভেলের পাতা থেকে একের পর এক নানা ঘটনা গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে জীবন নামক অরণ্যের উপর। প্রখর উত্তাপ যেমন করে পিচ গলিয়ে দেয় সেভাবেই জীবনের উত্তাপে মুখর হয় মাঝে মাঝে চলমান দিনগুলো। তবু কেউ কি কখনো মনে রাখতে পারে যাপিত জীবনের প্রতিটি বিকেল? প্রতিটি ভোরের নেশাধরা আলো? মাটির বুকের উপর দিয়ে কত মানুষ যুগ যুগ ধরে হেঁটে চলেছে! কতো বৃষ্টি ঝরিয়েছে ঐ নীল আকাশ। কতো পাখী সুদূর আকাশে উড়ে গেছে। কে কাকে আলাদা করে মনের গোপন কুঠুরিতে রেখে দিয়েছে? হয়তোবা বসন্ত বাতাস! শুধু বাতাসই সবার গায়ে ময়াম হয়ে লেগে থাকে। আর থাকে সময়! জীবনের শরীরে গুটিসুটি মেরে জড়িয়ে থাকে আনন্দ-বেদনা,মায়া-মমতা, আশা-স্নেহ-স্মৃতি। মানুষ আসে মানুষ যায়! সেই সাথে ধোঁয়ায় মিশে যায় ভেসে যাওয়া অনন্ত সময়!

৪.
হে মায়াজাল! যতই স্রোতস্বিনীর মতো ভেসে থাকো মমতার আঁচলে, নুনের স্পর্শ এড়িয়ে কেউ কি সাঁতার কেটেছে সমুদ্রজলে! সবুজ বোতলে জমতে দিয়েছো বহুযুগের অস্তিত্ব। তবু তোমার চোখের আড়ালেই বয়ে যায় সাদা পরিখার সরোবর। একটি বিষণ্ণ সঙ্কেত খুঁজে পায় কোথাও পৃথিবীর রাত্রি। আর পদ্মফুলের ঝাড়ে এসে জমা হয় অজস্র মন্দিরার রিনিরিনি।

৫.
কিছুটা রোদের গ্রাফেটি এঁকেছি স্বপ্নদেয়ালিয়াকায়। পাথরের স্বচ্ছ ছায়ার ফ্রেমে বন্দি করেছি আলোর দৃশ্যায়ন। পথের সাথে পথ জড়ানো ছিল যে কল্পনার অলিগলিতে, তাতে গড়িয়ে পড়লো গোলাপি একটি সঙ্কেত, কিছুটা অস্তিত্ব। নিশি পাওয়া রাতের মতো মেঘে মেঘে ভাসে মধ্যযুগীয় পিরামিড, এই আমার দেবদারু বনে। সেখানেই হারিয়েছি তোমার রৌদ্রনাম। বিস্তৃত সাদা জলের মর্মর সঙ্গীত। সৌরসময় মিশে গেছে পাতাঝরানো বৃক্ষছায়ায়। স্মৃতির সাইরেন বাজে প্রুশিয়ান নীলে। চোখ মেলে দেখি আলোকিত চারপাশ তাই স্রোতস্বিনী হয়েছি এই মহারাতে।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাসুদুজ্জামান — মে ৭, ২০১৭ @ ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

      খুব ভালো লেগেছে কবিতাগুলি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম — মে ৭, ২০১৭ @ ৬:২৭ অপরাহ্ন

      শেষেরটি খুব ভাল লেগেছে ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com