সময়ের নাম রাজলক্ষ্মী দাশ

স্বদেশ রায় | ৪ মে ২০১৭ ৭:৪৭ অপরাহ্ন

Anondoরাজলক্ষী দাশ, সে এক আকস্মিক আবিস্কার
কলেজের প্রথম দিনে, প্রথম ক্লাস- তরুণ উত্তেজনা ঠাসা
শিক্ষার্থীদের পরিচয় পর্ব, ভালো ফল করে আসার গর্ব
সব মিলে ছিলো মেঘলা দিনে সূর্যের উজ্জল আভা।
এ সময়ে দুয়ারে হঠ্যাৎ আর্বিভাব, কিছুটা মরালের গলা
উঁচু তার ভঙ্গী, শরীরে ভরা ভাদরের নদীর তরুণী আভা।
তার সাথে মিলে যায় কিশোরী এক, যে করেছিলো খেলা
পারুলের মত,সবুজ বনের পাশে বয়ে যাওয়া নদীর ধারে–
যেখানে নদীর কুলের বাধ পাহাড়ের মত মাথা উঁচু করে থাকে।
সেই কিশোরীর মুখ নিয়ে ভরা তরুণী নদী, অস্ফুট গলায়
মধু ঝরিয়ে বলে, মে আই কামিং স্যার? শুনতে পায় না কেউ,
মনে হয় ডেকে বলি,“স্যার, দুয়ারে অনুমতি চায়,”
সলাজ ঠোঁট কেপে ওঠে, শুধু বলে,“ স্যার-”
শিক্ষক হেসে তাকান, তারপরে দুয়ারে দাঁড়িয়ে রেখে
প্রশ্ন, কী নাম, এত দেরী হলো যার- মরাল গ্রীবা
নীচু হয়, সুমিষ্ট স্বর ঝরে পড়ে, “রাজলক্ষ্মী দাশ”।

রাজলক্ষ্মী ! অতি পরিচিত এ নাম। শরৎ বাবু
পরিচিতি দিয়ে গেছে তার বাঙালির ঘরে ঘরে। সুন্দরী
বাঈজী এক, কোন ছোটবেলায় দিয়ে ছিলো তার দেবতাকে
বইচির মালা গেথে। তার চেয়ে একি সুন্দরী না সুন্দর
ভরা জোয়ারের মাতাল নদীর চেয়েও। এ তো শরৎ বাবুর
বাঈজী নয়, হবে না কোনদিন, সহপাঠী সে আমার।
বন্ধু হবে, হয়ে গেছে হয়তো বা, চোখ তার পড়েছিলো
প্রথম হয়তো দেবতার দেয়া এ চোখে।
তারপরে কাটে দিন, কাটে রাত্রি, হোস্টেলের টেবিলে
ফিজিক্সের খাতায়, কবিতা ওঠে ভরে, জোয়ার ভরে ওঠে
কলেজের পাশের বিলে, পুলের নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালে।
রাজলক্ষ্মীর ট্রেন চলে যায়, কোনদিন স্বদম্ভে কাপিয়ে শহর।
কোনদিন রাজলক্ষ্মী হেটে যায়, পাশাপাশি চলে যাওয়া
রেলপথের একপাশ ধরে, আরেক পাশ শূন্য পড়ে থাকে।
কে সে শূনত্যা ভরাবে জানেনা বিকেলের রোদের ছায়াও।
রাজলক্ষ্মীর ডেরার খুব কাছে হঠ্যাৎ আবিস্কার হয়,
বড় কিছু নতুন দীঘির, ছোট ছোট নারিকেল গাছ
ছায়া বিছানো সবুজ পাতা নিয়ে ঘিরে আছে চারপাশ।
সবচেয়ে সুন্দর স্থান হয়ে ওঠে দুই বন্ধুর- শান্ত শহরে
কল্পিত কোলাহল ছেড়ে, নির্জনে কাটাবার বেলা।
এর পরে তরুণ শীতের কচি হেমন্ত; বেজে ওঠে
জগদ্ধাত্রী পূজার ঢাক, নরম বাতাস আর শান্ত শহর
জুড়ে। ভেঙ্গে পড়ে শহর সেখানে। রাজলক্ষ্মীর আসা যাওয়া
প্রতিদিন। অভ্যর্থনা কমিটি থেকে পায় সে বার বার
নানান সেবা, লজ্জা পায় বান্ধবীদের কাছে, কেন এত সব
তার জন্যে, আরো আছে হাজারটি মানুষ, সে তো এক নয়
এ পূজা মন্ডপে। জগদ্ধাত্রী চলে যায়, নিয়মের চাকায়
আবার আসে পরের বছর একই আড়ম্বরে, দেবতা সে ,সুবিধা
তার আছে- নিয়মে বাধা সময়ে চলে তার জীবন। মানুষের সেই
ভাগ্য নেই, কোন ভবিষ্যত কখনো স্থির করেনি কেউ মানুষের ,
অজানা এক নতুন মুহূর্তই নিয়তি হয়ে তাড়ায় ফেরে মানুষকে।
তাই জগদ্ধাত্রী আসে পরের বছর মানুষের ভাগ্যের ডালি
নিয়ে। নিয়তি দেয় তরুনের মাথায় আইনের হুলিয়া তুলে,
পলাতক জীবন, ঘোরে তখন এখানে ওখানে, কষ্টকে সঙ্গী করে।
শিকেয় ওঠে কলেজের পড়া, কেবল বেড়ে যায় পড়া, পাঠ্য নয় যত
বই- সেই সব। এর মাঝে কোথা দিয়ে কোন পথে, রাজলক্ষ্মী দাশ
গিয়েছে চলে, কার ঠোঁেট পড়েছে তার চুমু, জানা হয়নি শুধু পলাতকের,
জানেনি সে, মরাল গ্রীবায় কে রেখেছে প্রথম হাত। রাজলক্ষ্মীও জানেনি
কোনদিন হুলিয়া মাথায় ফিরেছে কেউ শহরে ও গ্রামে। হয়তো ভেবেছে
পড়ার পাঠ চুকিয়ে গিয়েছে কোথাও বাউন্ডুলে হয়ে। হয়তো ভাবেনি কিছুই।
কত মরা নদীতে বান ডাকে, আর এ তো কেবলই নরম এক কিশোর,
লতার মত বেড়ে ছিলো শুধু, শান্ত চোখে চেয়েছিলো জলভরা বিলের পাশে!
জীবনের প্রথম ঝড়ের দিনগুলিতে এমন শান্ত নদী কত কেঁপে ওঠে
সে খোঁজ সব রাখে কি কেউ আপন আঁচলে বেধে। তারপরে
একদিন শুধু রাজলক্ষ্মী নয়, রাজপাট, সূর্যপাট সবই হেলে
পড়ে পশ্চিম দিগন্তে। তখন আবার আষাঢ় নামে নতুন পুবের হাওয়া
মাথায় নিয়ে, সে সময়ে কোন খাজাঞ্চী বলো হিসেব নেবে
কত আষাঢ়ের বর্ষা সাক্ষী, কোন চৈত্রের দূপুর সাক্ষ্মী
রোদে পুড়ে, জলে ভিজে কোন একটি বছরের এক টুকরো
উচ্ছল সময় জড়ো হয়েছিলো ছায়া ঘেরা এক শহরে
যে সময়ের নাম- মরাল গ্রীবার রাজলক্ষ্মী দাশ।

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Sayed Chowdhury — মে ৬, ২০১৭ @ ২:৫২ পূর্বাহ্ন

      What did she say?:

      “মে আই কামিং স্যার?”
      or
      May I come in Sir?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন করবী মালাকার — মে ৭, ২০১৭ @ ৫:০৮ অপরাহ্ন

      ভীষণ ভাল লাগল।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com