মারিয়া বাররেরা আগারওয়াল: আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে বাঙালিদের কাছ থেকে

সামিন সাবাবা | ১৬ এপ্রিল ২০১৭ ১:৩৯ অপরাহ্ন

17887233_1475700202475455_1890454691_oইস্পানোআমেরিকার তরুণ প্রজন্মের লেখকদের মধ্যে অগ্রগন্য মারিয়া এলেনা বাররেরা-আগারওয়ালের জন্ম একুয়াদরে। পড়াশুনা করেছেন একুয়াদর, ফ্রান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। পেশায় আইনজীবী হলেও তার মূল আগ্রহ সাহিত্য। লাতিন আমেরিকার হাতেগোনা যে দুই একজন লেখক-প্রাবন্ধিক দক্ষিণ এশীয় সাহিত্য নিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় লেখালেখি করেন মারিয়া এলেনা তাদের মধ্যে অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, গালিব, মহাদেবী বর্মা, ভৈকম মুহাম্মদ বশীর এবং কুররাতুলাইন হায়দারের রচনাকর্ম নিয়ে বহু প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন। এদের মধ্য থেকে বেশ কিছু প্রবন্ধ পরবর্তীকালে তার গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১৪ সালে তার অনুবাদে প্রথমবারের মতো স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশিত হয় নজরুলের কবিতা ও প্রবন্ধের তর্জমা। নিউ ইর্য়কে বসবাসকারী মারিয়ার প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হচ্ছে:

La Flama y el Eco (Ediciones Sarasvati, 2009), Jornadas y Talentos (UESS, 2010), Merton y Ecuador, la busqueda del pais secreto (PUCE, 2010). Nazrul: Prosa y poemas selectos ( Nazrul Institute, 2014),Leon Americano (Sureditores, 2013) ইত্যাদি।
২০১০ সালে তিনি একুয়াদরের জাতীয় পুস্কার Aurelio Espinosa Polit-এ ভূষিত হন সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য। মারিয়ার এ সাক্ষাৎকারটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর কার্যালয়ে ইংরেজিতে গ্রহণ করেছিলেন সামিন সাবাবা ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখে। সাক্ষাৎকারটি বাংলায় তর্জমা করেছেন রেশমী নন্দী

সামিন: শুরু করতে চাই এ প্রশ্ন দিয়ে যে আপনি কোত্থেকে এসেছেন আর সাহিত্য জগতে আপনি কিভাবে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেবেন?
মারিয়া: অনেক ধন্যবাদ। আজকের এই আয়োজনটা সত্যিই অন্যরকম। আমি এসেছি দক্ষিণ আমেরিকার একুয়াদর থেকে, সাহিত্যের সাথে আমার পারিবারিক বন্ধনও বেশ অনন্য। আমার দাদু ছিলেন একজন কবি। আমার বাবা মায়েরও বেশ আগ্রহ ছিল সাহিত্যের প্রতি। আর স্প্যানিশ বাতাবরণে আমিও সাহিত্যের জন্য প্রগাঢ় ভালবাসা নিয়েই বেড়ে উঠেছি। পরে একজন ভারতীয়কে আমি বিয়ে করি। তাঁর মাধ্যমেই, সেই সাথে জীবনের নানা ঘটনার সূত্রে, আমার এই উপমহাদেশের সাহিত্য, বিশেষ করে বাংলা সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ জন্মে।

সামিন: দক্ষিণ এশিয়ার এই সাহিত্য বলয়টা তো বিশাল এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ। এই যে ভাষার তারতম্যগত প্রতিবন্ধকতা, এ বাধা অতিক্রম করাটা কঠিন ছিল কি? বোঝার ব্যাপারটা খুব কঠিন ছিল কি আপনার কাছে?

মারিয়া: শুরুতে বেশ কঠিন ছিল এটা। কেবলমাত্র এর বৈচিত্র্যের জন্য, আপনি যেমনটা বললেন। আমার মনে হলো যে আমরা, স্প্যানিষভাষীরা প্রায় কিছুই জানিনা। তো, সে কারণে যে দিকেই আমি আগ্রহী হই না কেন, সবটাই আমার কাছে নতুন। আমি এই নতুন বিষয়গুলো নিয়ে অনেক কিছুই করতে পারি। ইয়োরপীয় সাহিত্যের মতো এগুলো না, যেগুলো সম্পর্কে এর মধ্যে অনেক কথাই বলা হয়েছে। আসলেই … এটা একদম নতুন আমার কাছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো যে আমি ইউরোপের নজরদারী এড়াতে পেরেছি আর এ উপমহাদেশের সাহিত্যের মতো সম্পূর্ণ নতুন এক বাস্তবতা আবিষ্কারের সুযোগ পেয়েছি। এটা অনেকটা ছাকনি দিয়ে ছেকে ফেলার মতো (sieve effect)। সমস্যাটা হলো যে আমরা সবসময় আশা করি বড় লেখক বা দার্শনিকরা ইউরোপ আমেরিকার অনুমোদনপ্রাপ্ত হবে। এর প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসা জরুরী, আমি সে চেষ্টাই করে যাচ্ছি।

সামিন: আপনি একে ফাঁদ (‘The pitfall’) বলছেন কারণ আপনার ধারণা সেদিকে আপনাকে ঠেলে দেয়া হচ্ছিল?
মারিয়া: সরাসরি যোগাযোগটা প্রয়োজন। আমরা অনুমোদনের অপেক্ষা করা বাদ দিতে পারি, কারণ আপনাদের সাহিত্য অনেকটা আমাদের কাছাকাছি যদিও আমরা তা জানি না।

সামিন: আপনি কি বিশ্বাস করেন যে, কাজী নজরুল ইসলাম নিয়ে যেমনটা বলা হয় যে, তিনি সার্বজনীন?

মারিয়া: তিনি পুরোমাত্রায় সার্বজনীন। আমি বিশ্বাস করি যে সার্বজনীনতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ তিনি। তিনি নিজেই একবার উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি কেবল বাঙ্গালিদের জন্য লেখেন না, বরং লেখেন সারা বিশ্বের জন্য এবং সেটা চমৎকারভাবে তাঁর সুরে, কথায় ফুটে ওঠে।
maria-1
সামিন: নজরুলকে নিয়ে আপনার লেখাটি অনুবাদ করার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার- যদি আমাদের জানান যে তাঁকে নিয়ে লেখার অনুপ্রেরণা কোথায় পেলেন, কোন বিষয়বস্তুকে আপনি আপনার লেখার উপজীব্য করেছেন এবং সেই সাথে তাঁকে প্রথম চেনার গল্পটাও যদি বলেন।
মারিয়া: আমি নিউইয়র্কে আমার বরের সাথে ক্যাবে ছিলাম। ক্যাবের ড্রাইভার- আমার স্পষ্ট মনে আছে- কোন একটা গান শুনছিলেন। কি যে বাজছিলো, আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না কিন্তু সে গানের সৌন্দর্য্য, ভাষার সৌন্দর্য্য আমাকে মোহিত করেছিল। বরের কাছে জানতে চাইলাম, ” কি এটা? হিন্দি? এটা কোন ভাষা?” পরে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ” ইনি নজরুল ইসলাম, আমাদের জাতীয় কবি। বাংলাদেশের জাতীয় কবি” তারপর গানের কথা আমাদের অনুবাদ করে শোনালেন। কি বিস্ময়কর আবিষ্কার!

সামিন: সেটা কী গান ছিল বলতে পারেন?
মারিয়া: আমার ঠিক মনে নেই। খুব ভালো হতো যদি গানটা মনে থাকতো আর যদি সেই ড্রাইভার ভদ্রলোকের সাথে আরেকবার দেখা হতো, কারণ তিনিই বাংলা সাহিত্যের এ নতুন ভুবন আমার কাছে উন্মোচিত করেছেন।

সামিন: আমি জানি যে বেশিরভাগ মানুষ যারা বিদেশে থাকেন তারা দেশের জন্য টান অনুভব করেন। যেখানে আছেন সেখানকার চাইতেও বেশি করে মাতৃভূমির প্রতি আবেগতাড়িত থাকেন। তো সেজন্যেই আমার মনে হয় তিনি নজরুলকে আপনার কাছে তুলে ধরতে ব্যাগ্র ছিলেন। আপনি কি মনে করতে পারেন যে তিনি কি বলে কাজী নজরুল ইসলামকে আপনার কাছে উপস্থাপন করেছিলেন?
মারিয়া: তিনি বলেছিলেন যে তিনি অনন্যসাধারণ একজন কবি । বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয়। বলেছিলেন তাঁর খুব কষ্টের জীবন ছিল … এক ছেলেকে হারিয়েছিলেন আর জীবনে নানা ঘাত প্রতিঘাতের মুখোমুখি হয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিভা উজাড় করে দিয়ে তিনি তাঁর অনুভূতি আর দর্শন মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, “বাংলাদেশের মানুষ এখনো তাঁকে এমনভাবে ভালবাসেন যেন মনে হয় এই সেদিনের ঘটনা”। সেই ভ্রমণের কথা আমার মনে আছে আর অন্য যে কোন কিছুর চাইতে অনেক বেশি করে মনে আছে সেই ভদ্রলোকের কথাগুলো বলতে বলতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠা মুখ। আমি এরপরেও অনেক বাংলাদেশী প্রবাসীদের সাথে কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কথা বলেছি… সবসময়ই সেই একই রকম অনুভূতি। যখন আমি তাঁর সম্পর্কে আমার আগ্রহের কথা বলি, সবসময় তাঁরা গর্ববোধ করেন। বিষয়টা চমৎকার।

সামিন: এটা অসাধারণ কারণ আমরা এমন এক সম্প্রদায়ের মানুষ যারা মনে করি আমাদের সাহিত্য কেবল আমাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু উন্মোচনের কথা ধরলে আপনি আমাদের জন্য অনেক করেছেন।
মারিয়া: আমার অনুভূতি হলো যে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে, বাঙালীদের কাছ থেকে।

সামিন: “আমরা” বলতে কাদের বোঝাচ্ছেন?
মারিয়া: আমি বলতে চাইছি ল্যাটিন আমেরিকার মানুষদের কথা। আমি পুরোপুরি হকচকিয়ে গেছি এটা জেনে যে একমাস ব্যাপী একটা বইমেলা হওয়া সম্ভব এবং এটা কোন ছোটখাট মেলা নয়-এর চারপাশে যা কিছু ঘটছে, এটাই তো সাহিত্যের শক্তি …
maria-2
সামিন: আমরা সারা বছর এর জন্য অপেক্ষা করে থাকি। এ মাসটা আমাদের। আমার মনে আছে ছোট থেকে বেড়ে ওঠার সময় বাংলাদেশী হিসেবে নানাভাবে উদযাপন করা হতো একে। স্মরণে, শ্রদ্ধায়। আর একুশে বইমেলায় আমরা বরাবর দেখে এসেছি এমন ঘটনা। আপনি আমাকে এই বইমেলা সম্পর্কে বলুন, এখানকার লোকজন, যাদের সাথে আপনার মতবিনিময় হয়েছে।
মারিয়া: বিষয়টা হলো যে এখানে সবধরনের মানুষ, তাঁদের সামাজিক মর্যাদা কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার উর্ধ্বে উঠে বইয়ের ব্যাপারে অনেক বেশি আগ্রহী। আপনি সেখানে যেতে পারেন আর সবার সাথে মিলতে পারেন- এই আবিষ্কারের বোধটাই আপনি সবার মধ্যে পাবেন। বইকে ঘিরে একটা উদযাপন। আর বাংলাদেশ এমন তীব্র শোককে স্মরণযোগ্য করতে এটা বেছে নিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের মতো একটা চেতনা আর ভাষাশহীদদের জন্য এই স্মরণ। এটা সারা বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয়।

সামিন: অনেক জাতির কাছে হয়তো এসব ধরে রাখাটা ঠিক মনে হয় না… এই যে আমরা আমাদের ইতিহাসকে এমন সজোরে আঁকড়ে ধরে রেখেছি – আমাদের জন্য এসব খুব সাম্প্রতিক ইতিহাস- এ বিশেষ দিনগুলি… আপনি পৃথিবীর আরো নানা জায়গা ঘুরেছেন, অন্য কোথাও কি এমন কিছু আপনার নজরে আসে নি?
মারিয়া: ইউরোপ আমেরিকায় মানুষ তাদের আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সংযমী। কিন্তু বিশেষ বিবেচনায় আনলেও আমি বই নিয়ে এমন আগ্রহ আর উদযাপন কোথাও দেখি নি, যেমনটা দেখেছি বাংলাদেশে।

সামিন: নজরুল ইসলাম আর তাঁর জীবনযুদ্ধের প্রসঙ্গে ফিরে আসি; আপনি কি মানুষের না পাওয়ার বিষয়টা নিয়ে ভাবেন, সে প্রেক্ষিতেই কি ল্যাটিন আমেরিকার সাথে আমাদের অবস্থার যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন?
মারিয়া: আমার তাই মনে হয়। আমার মনে হয় বঞ্চনা আর আত্মত্যাগের ধারণা পৃথিবীর অন্য যেকোন দেশের চাইতে ল্যাটিন আমেরিকা আর বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে বেশি বোঝা সম্ভব। জীবন কতটা অমূল্য সে ধারণা আমাদের আছে …বস্তুগত বিবেচনায় ধনী অনেক দেশের চাইতে অনেক তীব্রভাবেই এটা আমরা বুঝি। এবং আমি মনে করি এ সচেতনতা নিজে থেকে জীবনের উচ্চতর প্রয়োজন, যেমন সাহিত্যের, প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। এ এক গভীর অনুভূতি, এক জ্ঞান, যে সাহিত্য কি কি করতে পারে।

সামিন: আপনি এখানে নজরুলের সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটকীয় ভিন্নতা নিয়ে কথা বলেছেন। এ তুলনা আপনি কেন বেছে নিলেন আর রবীন্দ্রনাথের মতো আরেকজন মহৎ সাহিত্যিকের সাথে কিভাবে আপনার পরিচয় ঘটলো?
মারিয়া: কবিগুরু ল্যাটিন আমেরিকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। আমি ছোটবেলা থেকে উনাকে পড়তে পড়তে বড় হয়েছি।
maria-3
সামিন: আপনাদের পাঠ্য বইয়ে কি তাঁর লেখা ছিল?
মারিয়া: পাঠ্যবইয়েও তাঁর লেখা ছিল। স্পেনের বিখ্যাত কবি হুয়ান রামোন হিমেনেস এবং তাঁর স্ত্রী সেনোবিয়া কামপ্রুবি তাঁর লেখা অনুবাদ করেছিলেন। আর ১৯২০ থেকে কবিগুরু সেখানে যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, তাতে কখনো ভাটা পরেনি। আমরা তাঁকে ভালবাসি যদিও তাঁকে আমরা খুব ভালোভাবে জানি না, কারণ অনুবাদে অনেক ক্ষেত্রেই স্প্যানিশ আত্মিকরণ হয়েছে যার ফলে তাঁকে পুরোপুরি তুলে ধরা গেছে অনেক কম। যেমন আমরা দেশপ্রেমিক কবিগুরুকে জানি না। তাঁর সম্পর্কে এরকম অনেক কিছুই আমরা জানিনা, আমাদের কাছে এগুলো পৌঁছায়নি। যে রবীন্দ্রনাথকে আমরা জানি তিনি অনেকটাই আধ্যাত্মিক।

সামিন: “আধ্যাত্মিক” আমার ধারণা এ অর্থে যে, জীবনের সব পরিস্থিতি মোকাবেলার দাওয়াই আছে তাঁর কাছে।
মারিয়া: তিনি জীবন সম্পর্কে গভীর ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করেন এবং আমি জানি না কিভাবে, তবে তিনি আপনার হৃদয়ে তীব্র আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেবেন আবার একই সাথে একে বোঝার সুযোগও করে দেবেন। এটা খুবই বিশেষ রকম কিছু আর বিদ্রোহী কবির তুলনায় অনেকটাই অন্যরকম। তিনি বয়সে বড়ও ছিলেন। আপনাদের একই সাথে একজন বিদ্রোহী আর একজন প্রশান্তির কবি আছেন।

সামিন: যিনি প্রশান্ত তিনি সবকিছু স্বীকার করে নেন, সবকিছুকে গ্রহণ করেন।
মারিয়া: গ্রহণ করেন এবং এগিয়ে যান, অন্যদিকে আরেকজন…
সামিন: …খুব রাগী (হাসি)
মারিয়া: বিদ্রোহী কবির মতো একজন রাগী যুবক, আসলেই অনেক পার্থক্য এবং আমি হতচকিত হয়ে গিয়েছিলাম যখন আমি এ বিপুল পার্থক্য অনুধাবন করতে পারি।

সামিন: আপনি আপনার প্রবন্ধে লিখেছেন, আমি জানি যে এ সাক্ষাৎকার যখন প্রকাশিত হবে, মানুষ অবশ্যই এ প্রবন্ধ পড়তে চাইবে কারণ এতে নজরুল সম্পর্কে আপনার জানা, কিভাবে আপনি সেই ক্যাব থেকে সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে, পরে পাবলিক লাইব্রেরিতে গিয়ে তাঁকে আবিষ্কার করেছেন, সে বিষয়গুলো আছে। সে অভিজ্ঞতার কথা আমাদের বলুন …. আপনি মাত্র তাঁর সুরে মোহিত হয়েছেন আর তা সম্পূর্ণ নতুন এক জগতে আপনাকে এটা নিয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কে তখনই কি প্রথম জানলেন? নিশ্চিতভাবেই না, কারণ আপনি রবীন্দ্রনাথকে আগে থেকে জানেন। তো, নজরুলকে জানার আগে দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্য সম্পর্কে আপনার ধারণা কেমন ছিল আর লাইব্রেরীতে গিয়ে তাঁকে আবিষ্কারের পরে কি বদলেছে?
মারিয়া: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখার সাথে আমি পরিচিত ছিলাম, আরো কয়েকজন যেমন মির্জা গালিব, কমালা দাশের মতো দুএকজনের লেখার সাথে পরিচিত ছিলাম। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের মূল শিকড়ের সাথে আমার পরিচয় ছিল না। যখন আমি লাইব্রেরীতে গেলাম আর কাজী নজরুলের ইংরেজীতে অনুদিত কবিতাগুলো পড়লাম, বিশেষ করে ‘বিদ্রোহী’…
maria-4
সামিন: উনার কোন কবিতাটা প্রথম পড়েছেন?
মারিয়া: ‘বিদ্রোহী’… সরাসরি ‘বিদ্রোহী’ দিয়েই শুরু করেছিলাম…যতটুকু মনে পড়ে এটা সেই বইয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় কবিতা ছিল। তার আগে, আমি জানার চেষ্টা করেছিলাম উনার সম্পর্কে আর সবাই বলেছিলো ওটা তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতা …এটা আমাকে প্রচন্ডভাবে মুগ্ধ করেছিল।

সামিন: এটা এমন একটা কবিতা যেটা আপনি বারবার পড়েন আর নিজের জীবনে প্রয়োগ করেন …
মারিয়া: একদম। এর অর্থ, অলংকার, গভীরতা, পুরো কবিতা জুড়ে অপরিসীম ভাবনার খোরাক এবং অন্যান্য আরো অনেক কিছু–সবমিলিয়ে অসাধারণ। আমার মনে হয় না সেই অনুভূতি থেকে আমি কখনো বেরিয়ে আসতে পেরেছি। কখনো পারবোও না।

সামিন: আপনি আপনার দেশের সাহিত্য, ল্যাটিন আমেরিকার সাহিত্যের সাথে কিভাবে তুলনা করবেন… মিল খুঁজে পেয়েছেন? মিল খুঁজতে চেষ্টা করেছেন? অবশ্যই অনেকভাবে ভিন্নতা রয়েছে, তবু আপনি কি মনে করেন ঔপনিবেশিক শাসনের অভিজ্ঞতা, দারিদ্র এবং এরকম আরো অনেককিছু আমাদের একইরকম রয়েছে?
মারিয়া: মিল আছে …এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। ইউরোপ আমেরিকার সাহিত্যের তুলনায় এ উপমহাদেশের সাহিত্য কর্মের সাথে অনেক বেশি মিল আছে, এ নিয়ে সন্দেহ নেই। আমাদের কবি যেমন (সেসার) ভাইয়েহো, (পাবলো) নেরুদা, (গাব্রিয়েলা) মিস্ত্রাল এরকম আরো অনেকেই রবীন্দ্রনাথের স্প্যানিশ অনুবাদের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। যদিও অনুবাদ একেবারে যথার্থ বলা যাবে না।

সামিন: বোর্হেস তো রবীন্দ্রনাথকে অপছন্দ করতেন …
মারিয়া: (হাসি) আসলেই, বোর্হেস পছন্দ করতেন না। তবে, সেটা আশ্চর্যের কিছু নয়। বোর্হেস ল্যাটিন আমেরিকার সাহিত্য পছন্দ করতেন না, তিনি পছন্দ করতেন ইউরোপীয় সাহিত্য। এটা তিনি অনেক জায়গায় বলেছেন, ঘটনা হলো … আসলে ল্যাটিন আমেরিকার সাহিত্য … একে আপনার একটা সুযোগ দিতে হবে … সেজন্যেই আমি খুব অবাক হইনি যে তিনি রবীন্দ্রনাথকে পছন্দ করেন না। এটাকে মেনে নিতেই হবে, তাছাড়া আমরা জানিনা যে তিনি কোন রবীন্দ্রনাথকে চিনেছিলেন।
maria-5
সামিন: আমি আসলে এটা জিজ্ঞেস করতে পেরে খুব খুশি কারণ যখন মার্কেজ বা অন্যান্যদের আমি পড়ি, একধরনের অভিন্নতা খুঁজে পাই… আমি কারো কাছ থেকে জানতে চাইছিলাম আসলেই তা কিনা। সেজন্যেই আপনি আমাকে নজরুলের প্রকাশ নিয়ে কিছু বলুন, তাঁর রচনাশৈলীর কোন অংশটা আপনাকে সবচেয়ে বেশি টানে… আমি অবশ্য এ বিষয়ে কথা বলার মতো বিশেষজ্ঞ কেউ নই … কিন্তু আপনার নিজের মতো করে বলুন যে তাঁকে কিভাবে ব্যাখ্যা করেন বিশ্বসাহিত্যের প্রেক্ষাপটে।
মারিয়া: আমি কালকের উৎসবে ( একুশে বইমেলা, ২০১৫) এ বিষয়ে কথা বলবো যে কাজী নজরুল ইসলাম এমন একজন অনন্যসাধারণ কবি যার ক্ষেত্রে উত্তর-উপনিবেশাবাদী সাহিত্যের তত্ত্ব খাটে না। কারণ তিনি সেই স্বল্পসংখ্যক লেখকদের একজন- বিশ্বের ইতিহাসে, বিশ্ব সাহিত্যের ইতিহাসে- যাঁর মন ছিল ঔপনিবেশিক দাসত্বমুক্ত (decolonized), এমন একটা সময়ে যখন এ পরিভাষার উৎপত্তি পর্যন্ত হয়নি।

সামিন: তাহলে আপনি বলতে চাইছেন তার মধ্যে দাসত্বের (colonization) অস্তিত্ব ছিল না?
মারিয়া: ছিল না এবং এটা জানা খুব অসাধারণ একটা ব্যাপার যে বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটা ছোট ছেলে নিজের মনকে ঔপনিবেশিক শাসনের যে কোন প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে পেরেছে, মুখের উপর কথা বলতে পারতো, শাসনকর্তাদের মুখোমুখি… ক্ষমতাসীন প্রতিনিধিদের মুখোমুখি … কোনরকম বশ্যতা ছাড়া … মুখোমুখি … সমানে সমান হয়ে এবং তার চেয়েও বড় কথা, তিনি একটা পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতেন যেখানে … তিনি বলেছেন, যদি ঘটনাটা অন্যরকম হতো, ব্রিটেন পরাধীন দেশ হতো আর ভারত একে দমিয়ে রাখতো, তাহলে ব্রিটেনেরও এই ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যথাযথ হতো। এভাবে চিন্তা করতে পারা, ব্রিটিশদের অবস্থান বিবেচনায় এনে, ঐরকম পরিস্থিতিতে, এর জন্যে এমন একটা মন প্রয়োজন যা সবধরনের বাধা, হোক সেটা ঔপনিবেশিক বা অন্য কিছু, ভেঙ্গে ফেলেছে। তিনি এককথায় অসাধারণ।

সামিন: আপনি কি সাহিত্যের ক্ষেত্রে এমন অন্য কাউকে খুঁজে পেয়েছেন যিনি উঠে এসেছেন ঔপনিবেশিক যাতাকল থেকে, আরো ব্যাখ্যা করে বললে, নিষ্পেশনের নিগড় থেকে? নাকি এটা দক্ষিণ এশিয়া বা বাংলার একেবারে সহজাত?
মারিয়া: আমার ধারণা সম্ভবত এটা বাঙালির সহজাত। আমার মনে হয় না, হয়তো ষাট না সত্তরের দশকে, হয়তো রোকে ডালটন (Roque Dalton) … কিন্তু তাঁর সময়ে, বিশশতকের শুরুর দিকে, যখন কেউ কল্পনাও করতে পারতো না ভারতের ভাগ্যে কি আছে, এই উপমহাদেশের কি হবে, ব্রিটেনের কি হবে … বাংলার একটা ছোট ছেলে, ক্ষমতাধরদের তুলনায় বাড়তি কোন শক্তি না থাকার পরও এমনভাবে কথা বলতে, এমনভাবে ভাবতে পেরেছে-এটা সত্যিই একটা বিপ্লব, এ বিপ্লবের জন্ম মনের রহস্যজনক কোন স্থান থেকে।
maria-6
সামিন: এবং এই পরিস্থিতিই তাঁকে তৈরি করেছে। তাঁর বঞ্চনা, যে পরিস্থিতিতে তিনি ছিলেন … তখনকার কঠিন সময়, সম্ভবত সেখান থেকেই তাঁর এ অবাধ্যতার জন্ম। বেশ লাগলো আপনি যখন বললেন এটা বাঙালি অস্তিত্বের অংশ। ভারত সম্পর্কে আপনার যে জানা, আপনি কিভাবে … আমি বলতে চাইছি, সব বাঙালি তো আর নজরুল নয়, এটা তো সত্যি… তো আপনি কি মনে করেন যে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্যদের লেখা থেকে বাঙালিদের গদ্য পদ্য আলাদা ধরনের? কোন বৈশিষ্ট্যের কথা বলবেন?
মারিয়া: নজরুলের ক্ষেত্রে, যেটা অন্যান্য ক্ষেত্রেও পুনারবৃত্তি হয়েছে বলে আমি মনে করি, বাংলায় বহু-সংষ্কৃতির প্রভাব রয়েছে …বহু ধর্ম, সংষ্কৃতি, সমাজ …সবধরনের। তিনি সবকিছু থেকে গ্রহণ করেছেন, সবকিছুকে ব্যবহার করেছেন এবং আমি জানি না তাঁর সমসাময়িক কালে বিশ্বের কোন দেশের আর কেউ এতটা সৌভাগ্যবান ছিলেন কিনা এবং একই সাথে একটা সৃষ্টিকর্মের জন্মের সাথে এত কিছুর এমন জোরালো প্রভাব ছিল কিনা।

সামিন: এটা তাঁর জন্ম ও কাজকে একসাথে বেঁধেছে, আলাদা করা যায় না।
মারিয়া: ঠিক, একেবারেই না। তিনি একেবারেই সহজ ছিলেন রূপকল্প বইয়ের ক্ষেত্রে, হিন্দুত্ববাদের ক্ষেত্রে এবং তাঁর যে ইসলামী ঐতিহ্য …

সামিন: এবং তাঁকে পড়তে মজাও লাগে!
মারিয়া: হ্যাঁ! এ সবকিছুই তাঁকে একেবারে অনন্য করে তুলেছে এবং আমার মনে হয় না বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে আর কারো কাজে এমনটা খুঁজে পাওয়া যাবে।

সামিন: আপনি বাংলাদেশের অন্য লেখকদের, যারা এখনো লিখছেন, তাঁদের লেখা পড়েছেন কি?
মারিয়া: হ্যাঁ অবশ্যই। এদের মধ্যে অনেকের সাথেই এ উৎসবে এসে দেখাও হয়েছে। আর এর আগে কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ হয়েছিল, তার মধ্যে মুহম্মদ নূরুল হুদা একজন। আমি তরুণ, বর্তমানে যারা লিখছেন এমন বাংলাদেশী কবিদের সাথেও যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছি।

সামিন: আপনার কি আরো গবেষণা করার ইচ্ছা আছে? কিভাবে সেটা করবেন ভেবেছেন?
মারিয়া: নজরুল আসলে বিষয় হিসেবে অনিঃশেষ। কাজেই তাঁকে নিয়ে আমি আরো অনেক ব্যস্ত থাকতে পারবো। এর সাথে, বিভিন্ন সময়ের অন্যান্য বাঙালি কবিদেরও আমি জানতে চাই।

সামিন: আপনি নিশ্চয় জানেন তাঁর উত্তরাধীকারীরা আছেন, যারা সংষ্কৃতিচর্চার সাথেও সরাসরি যুক্ত এবং তাঁরা এক অর্থে তাঁকে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
মারিয়া: কোন এক সময় তাঁদের সাথে দেখা হওয়ার আশা রাখি আর সেটা আমার জন্য খুশির আর সম্মানের বিষয় হবে।
maria-7
সামিন: তো, আপনি তাহলে ফিরে আসছেন।
মারিয়া: এতো বিরাট সম্মানের বিষয় আমার জন্য। বাংলাদেশে আসতে পারা আমার জন্য গৌরবের।

সামিন: আপনি আমাদের যেভাবে জেনেছেন, সেই ঔপনিবেশ পরাশক্তি তারপর আরো অনেক অনেক কিছু আমাদের অনেক বদলে দিয়েছে … আমাদের অভিজ্ঞতা … তাঁর লেখা, তিনি আমাদের যা দিয়েছেন তা আমাদের মুক্তিসংগ্রামকেও জোরদার করেছে। তিনি আমাদের আত্মশক্তি আর নিজ বলে বলীয়ান হতে শিখিয়েছেন।

মারিয়া: আপনাদের জন্য তিনি অনেক কিছু করেছেন কিন্তু সবার জানা উচিৎ যে ইতিহাসে এমন দেশ খুঁজে পাওয়া দুস্কর, এমন জাতি যাদের এই কৃতজ্ঞতাবোধ আছে। বাংলাদেশ সরকার যখন কাজী নজরুল ইসলামের অবস্থা জানলেন, জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনলেন, তাঁকে বাসস্থান দিলেন, জীবনের শেষ সময়টুকু শান্তিতে কাটানোর ব্যবস্থা করলেন। সত্যিটা হচ্ছে তাঁরা তাঁকে সবকিছু দিয়ে সম্মানিত করলেন …বাংলাদেশের এই দিকটি খুবই অসাধারণ। আমি জানি দেশ বদলায়, আমি জানি দেশের নানা রূপ থাকে। কিন্তু মানুষের উচিৎ এর আদর্শগত চরিত্রের দিকে নজর দেয়া, নয়তো অনেক খারাপ বিষয় চেপে বসবে। বাংলাদেশের এই রূপ আমার খুব প্রিয় এবং আমার বিশ্বাস এটা তখনো ছিল, এখনো আছে।

সামিন: আপনি কি কিছু বলতে চান? আপনার যা ইচ্ছে, কারণ আমি আপনাকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করে ফেলেছি, অনেক তুলনা, কিভাবে দেখলেন কিন্তু আপনার নিজের যদি কিছু বলার থাকে।
মারিয়া: এ সুযোগে আমি বাংলা একাডেমীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ধন্যবাদ জানাতে চাই নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশের মানুষদের, রাজু আলাউদ্দিন, মুহম্মদ নূরুল হুদাসহ আমার এখানকার সব বন্ধুদের। বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছানোর এ সুযোগ পেয়ে আমার খুবই ভালো লাগছে। বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমকেও ধন্যবাদ। ধন্যবাদ সবাইকে।

আর্টস-এ প্রকাশিত মারিয়া এলেনা বাররেরা-আগারওয়ালর প্রবন্ধ:

সর্বজনীন কবি নজরুল

Poet for the World: The Universality of Kazi Nazrul Islam.

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (6) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন afsan chowdhury — এপ্রিল ১৬, ২০১৭ @ ২:৩০ অপরাহ্ন

      Excellent. The bit about extra-colonial identity of Nazrul and few other poets struck me very much as an original understanding of the era in general. Could major poets survive outside the gravy station and if they survive or not.

      We are very uncomfortable in dealing without the production of much of Bengali art and literature as its a by-product of the colonial project. Tagore falls into that but as the middle class relied in its nationalism project against Pakistan and rely so much on him for political and cultural construction now, denial of this aspect is inevitable.

      Borges is of course more European than “Latin” but then GGM’s autobio also shows how deeply rooted was this Eurocentricity in constructing “the Latino culture which was of course not indigenous Latin but Spanish Latin of the colonizers.

      Tagore is a direct product of colonial collaboration. They lived off colonial institutions but Borges didn’t. hence the difference in expression and taste in my opinion.

      Loved forgetting the song in the taxi. Beautiful anecdote. Great interview, great pleasure. Cheers

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সরকার আমিন — এপ্রিল ১৬, ২০১৭ @ ৩:০৬ অপরাহ্ন

      সুন্দর।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন R. Masud — এপ্রিল ১৭, ২০১৭ @ ১:০৬ অপরাহ্ন

      বিদ্রোহী কবিকে নিয়ে মারিয়ার বিশ্লেষণ পড়ে খুবই ভালো লাগলো। বিশেষ করে মনটা ছুঁয়ে গেছে এই অংশটা পড়ে – “গ্রামে জন্মানো একটি ছেলে কিভাবে পরাধীনতার প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে অমন জ্বালাময়ী “বিদ্রোহী” রচনা করতে পারেন”। এই অংশটা খাঁটি।

      কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়, শেষ জীবনে এসে বিদ্রোহী কবি যেইভাবে গতানুগতিক একজন সাধারণ মুসলমান হয়ে গেলেন তা দেখে ব্যাথা পাই। যৌবনে একজন বাঙালি মুসলমান যেমন ভাবে টগবগিয়ে জীবনের গান গেয়ে কাটায়, তাকেই আবার দেখি, ধর্মের প্রভাবে, পঞ্চাশ পেরুলেই “সরাবন তহুরা আর হুরের প্রেমে মজে গিয়ে এই ধরার (জীবনের ) সব কিছুকে তুচ্ছতাচ্ছিল্লো শুরু করে”। কখনো হয়তোবা দল বেধে রাস্তায় নেমে (এখনো) টগবগ করা সবুজ জীবনগুলোকে কুপিয়ে তাদের ধড় রাস্তায় নামিয়ে দেয় – হয়তো সরাসরি নয় পরোক্ষভাবে। বাংলাদেশ তথা মুসলিম সব দেশেই এই রোগ রন্দ্রে রন্দ্রে ছড়িয়ে আছে। তাদের মতোই বিদ্রোহী কবিও শেষ জীবনে ধর্মের প্রভাব কাটাতে না পেরে, তার রচনাগুলোতে সরাবন তহুরা আর হুরের জন্য পাগল হয়ে সুরের বন্যায় চারপাশ ভাসিয়ে দিয়ে গেলেন — যেমন – “মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিয়ো ভাই —-”
      “বিদ্রোহী” কবিতার পাশে “মসজিদেরই পাশে…” যদি বাজতে থাকে তাহলে বড় বেসুরো ঠেকতো জনাবা মারিয়ার কাছে হলফ করে বলা যায়।
      মারিয়া বিদ্রোহী কবির শেষ জীবনের রচনাগুলোর সাথে পরিচিত নন, নাহলে মনটা দুমড়িয়ে যাবার মত ব্যাথাও পেতেন…। !!! ভাগ্য ভালো তা তার চোখ এড়িয়ে গেছে —

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Rashidul Islam — এপ্রিল ১৮, ২০১৭ @ ৬:২৭ পূর্বাহ্ন

      Nazrul lost his literary activity due to illness in his early 40s and after suffering for more than 30 years he died at the age of 77. He didn’t have an active “sesh jibon”, Mr. R Masud! Whatever he wrote was written in his youth. Hence, his attachment with Islam does not exemplify your “theory on the religiosity of the Bengali Muslims”! Your comment reveals not only a poor understanding of people’s religiosity in this part of the world, but also shocking ignorance about our beloved National Poet!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Muhammad Samad — এপ্রিল ১৮, ২০১৭ @ ১০:৪১ পূর্বাহ্ন

      It’s really excellent and amazing!
      Thank you so much Maria, Samin and Reshmi.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন R. Masud — এপ্রিল ১৯, ২০১৭ @ ১:১০ অপরাহ্ন

      Hello Mr. Genius the Rashidul Islam,
      I’m 100% agree with your comment about me- “Your comment reveals not only a poor understanding of people’s religiosity” part.
      It would had more correct if you wrote “”feelings of my(R. Islam) religiosity””.
      Unfortunately, I strongly denied the later part of your comment, i.e., “ignorance about our beloved National Poet”. — Because I love & respect our National Poet more than any otherone else.
      I did/feel so (he is our perfect national poet) because of his works on rebellious expositions and this overwhelmingly made him internationally famous. Ms. Maria also got attracted for those(works on rebellious expositions) only. Also, Kazi Nazrul Islam became the national poet for these works only not for the works on religious themes. If you don’t agree Mr. Genius — very sad.

      For your understanding please go through the below stanza, it may helped you to understand what this poor fellow wanted to mean–
      “” By loosing his mother and two sons in a relatively sorter period, Nazrul remained shaken and aggrieved for a long time. His works changed significantly from rebellious expositions of society to deeper examination of religious themes. His works in these years led to Islamic devotional songs only.”””

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com