রিমঝিম আহমেদের কবিতা

রিমঝিম আহমেদ | ১৮ এপ্রিল ২০১৭ ৮:৩৫ অপরাহ্ন

মাগরিব

কিছু রজঃস্বলা দিন আলুনী দইয়ের সাথে লীন হয়ে থাকে দাদীর ন্যুব্জ দেহ, দাওয়ায় যত্নে রাখা প্রার্থনার জল, দখিণের কবরখানা থেকে ভেসে আসে অপ্রাকৃত ফুলের ঘ্রাণ, এসব প্রাচীনতম মৃত ফসিলের সারি, গতজীবনের ফিসফাস চুইয়ে হাওয়ায় ভেসে আসে ‘মাগরিব’।
পাখিদের কোলাহল থেমে গেলে, পাতায় সন্ধে মেখে থির দাঁড়িয়ে থাকে সমবেত গাছ- যার প্রতিচ্ছবি ভাসে পুকুরের আলো-আঁধারি জলে, সমস্ত নিথরতা থামিয়ে দিয়ে দরুদের কোরাসস্বরে ঘন হয় রাত, ঘন হয়ে আসে কি নিগূঢ়তম হাহাকার! বাদুরের ডানায় কার লেগে থাকে বিচ্ছেদকাতরতা! পাখিচেনা দিনে মা-ও শিখিয়েছিল পেঁচার সবুজ অন্ধতা– ভাঙা আয়নায় প্রতিবিম্ব লেপ্টে থাকে পেঁচাদের ভেংচি নিয়ে আমাদের শিশুত্ব!

হায় মাগরিব!
ঘনায়মান ব্যথাতুর রাত!

আত্মাধীন জেগে আছে পুড়িয়ে দেয়া ইচ্ছের ইতিবৃত্ত–আঙুলের কড়ে গুনে টেনে আনি নিঃসঙ্গতা, বেঁধে রাখা বইয়ের মলাট খুলে জাগিয়ে তুলি দীর্ঘশ্বাস, মসজিদ হতে যে সুর ভেসে আসে, তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেগে রয় প্রিয়হারা চর। দাদীও জানে, সেসব মাগরিব জড়ো করলে একটা সাহারা পাওয়া যেত!
এখনো বাছুরের পিঠে চড়ে দূর হতে সন্ধে আসে, আবারো বোধের শার্সি গলে ঢুকে পড়ে ‘মাগরিব’

ইস্রাফিলের শিঙা এই বুঝি বেজে ওঠে
এই বুঝি পৃথিবীটা পাখি হয়ে যায়-

কালবেলা

কালবেলা কেটে গেলে আকাশটা ঝাড়ু দিয়ে ফেলে দেব মেঘ
পাতাদের গায়ে গায়ে বেঁধে দেব উদাসী বাতাস ফুরফুরে
কালবেলা কেটে গেলে আবার নতুন করে জীবন গোছাব
কলাপাতা সুখে মোড়া শীতকাল মেখে দেব রোদ্দুরের গায়ে
ভুলেভরা,অভিমানে যে কটা রাত্তির কেটে গেল; অযাচিত
কমলা বিকেলে তার সবটুকু ফুলগন্ধ আনব কুড়িয়ে
আমাদের পাছে পাছে ছায়া ঘোরে; দূর-প্রান্তরের হাতছানি
মন্থর শৈশব যেন কাছে ডাকে পুনরায় বিছিয়ে বিষাদ
সাপের পেছনে হেঁটে বহুকাল যে নদীর নাম খরস্রোতা
তার পাড়ে রুয়ে আসি নিজ হাতে অসুখের চারা, সবুজাভ
মেঘের পালক খসে বৃষ্টি নেমে এলে কোনদিন মধ্যরাতে
জেনেছি থাকবে জেগে ভুল করে ডাকে যদি প্রতীক্ষার রঙিন চড়ুই
লুপ্তপ্রায় প্রণয়ের হাত থেকে যে আঙুল খসে গেসে রাতে
তুমিও কুড়াও জানি সে আঙুল অপ্রকাশ্যে, আমারই তফাতে

বাসনা

টপকে যাচ্ছি এক-একটা দেয়াল
শেষ দেয়ালটা টপকানো হলেই একটা
বিশুদ্ধ জীবন পাবো—
–একদিন
আগ্নেয়াস্ত্র সব জমে গেছে শীতে
যুদ্ধের ময়দানে ফুটে আছে বিস্তৃত গ্লাডিওলাস
আত্মহত্যা বিষয়ক প্রতিশব্দগুলি প্রতিদিন
ডোরবেল বাজিয়ে চলে যাবে এমন হয় না !
প্রিয় গানের স্বরলিপিগুলি উদরা থেকে তারার
দিকে যেতে যেতে জন্মান্তরের বৃষ্টিতে
মুছে যাবে এমন হয় না !
শেষ দেয়ালটা টপকে গেলেই
পাখিরা ডেকে উঠবে–“বাসনা বাসনা” ব’লে
কোন শিশুর ভালোবেসে দেওয়া গন্ধরাজ বুকে
নিয়ে ঘুমাব একরাত্তির
আসন্ন প্রত্যুষে ছুঁয়ে দেব কোন নিঃসঙ্গ বাসনার

প্রভু

প্রভু
চোখ গলে গেল রোদে
দেখি না কিছুই আর
নির্লিপ্ত বিস্তারে- তুমি কোন বক্ররেখা
এঁকে যাও পাতার শিরায় !
অদেখা বাতাস সে’তো
মাটিতেও পদচিহ্ন আঁকে
দৃশ্যমান
প্রভু, আয়ু খুঁড়ে খুঁড়ে চোখ মেলে বনস্পতি
ছড়ি হাতে হেঁটে যাই
দুর্ভেদ্য সময়ে, একা-
এমন
তেজস্বী
রোদে
চোখ গলে গেল, প্রভু!

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন golam ali — এপ্রিল ১৯, ২০১৭ @ ৭:৫৮ অপরাহ্ন

      Rim Jhim Ahmed er kobita bhalo laglo. Kichuta Jibonanandio gondho boho

      A G Ershad, London

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল — এপ্রিল ১৯, ২০১৭ @ ৮:৫৩ অপরাহ্ন

      পাখিচেনা দিনে মা-ও শিখিয়েছিল পেঁচার সবুজ অন্ধতা– ভাঙা আয়নায় প্রতিবিম্ব লেপ্টে থাকে পেঁচাদের ভেংচি নিয়ে আমাদের শিশুত্ব!
      ———————–
      ভালো পংক্তি!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাহেদ মোতালেব — এপ্রিল ১৯, ২০১৭ @ ১০:৫৭ অপরাহ্ন

      এই বুঝি পৃথিবীটা পাখি হয়ে যায়-
      চমৎকার। ধন্যবাদ রিমঝিম।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com