সাহিত্য মানুষকে পোকা হওয়া থেকে রক্ষা করতে চায়

রাজু আলাউদ্দিন | ১১ মার্চ ২০১৭ ১:০৪ পূর্বাহ্ন

‘জীবন, সমাজ ও সাহিত্য’–এই শিরোনামে আহমদ শরীফের একটি প্রবন্ধ পাঠ্য ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। প্রবন্ধটি ছাত্ররা বাধ্য হয়ে একসময় হয়তো পাস করার তাগিদে পড়তেন, কিন্তু এর সাথে জীবন ও সমাজের সম্পর্ক তাতে কতটা উপলব্ধি করতে পারতো তারা সে ব্যাপারে নিশ্চিত নই। শিরোনামের এই ভিন্ন অর্থের পরস্পর-বিচ্ছিন্ন তিনটি শব্দের মধ্যে কোন বাস্তব সম্পর্ক আছে কিনা, এ নিয়ে লেখক শিল্পী ছাড়া–অন্যদের ঘোরতর না হোক, অন্তত কিছুটা সন্দেহতো আছেই। আছে যে তার একটা উদাহরণ আমরা এখনকার সাধারণ ‘জীবন’ ও ‘সমাজ’ থেকে দেয়ার চেষ্টা করতে পারি।

সারা পৃথিবীতেই শিল্প ও সাহিত্যের কদর এতটাই কমে গেছে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানবিক শাখায়, বিশেষ করে সাহিত্য বিভাগের তুলনায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ব্যবসা বাণিজ্য শাখায় ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেহারা এই অর্থে আরও করুণ। আমাদের এখানে সবচেয়ে ‘খারাপ’(!) ছাত্রছাত্রীরা সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হতে বাধ্য হন আজকের জীবনে সাফল্যদায়ী অন্য বিভাগে ভর্তি হতে না পেরে। বাবা-মায়েরা এমন সব বিষয়ে সন্তানদেরকে পড়তে এবং ভর্তি হতে উৎসাহ দেন যা তাদেরকে দ্রুত আর্থিক সাফল্য ও নিশ্চয়তা দেবে। সাহিত্য যে জীবনে এবং সমাজে প্রয়োজন সে সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা তো নেই-ই, এমনকি থাকলেও, যেহেতু সাহিত্যে পাস করে কোন মোটা অংকের চাকরী পাওয়া যাবে না, অতএব এই বিষয়ে তাদের আস্থাও নেই। সুতরাং সাহিত্য সম্পর্কে প্রায় লোক-দেখানো একটা শ্রদ্ধা থাকলেও জীবনে এর প্রবেশকে মোটামুটি রুদ্ধ করে রেখেছেন এই ভয়ে যে সাহিত্য জীবনকে কোন কিছু দিতে তো পারেই না, বরং জীবনকে নিঃস্ব করে দেয়। এ রকম বিশ্বাসের বহু মানুষ মিলে যে-সমাজটি আমাদের দেশে বিরাজ করছে তার চেহারা এবং মর্মটা আমরা আন্দাজ করে নিতে পারি সহজেই। যেহেতু সমাজ একটা বিমূর্ত জিনিস তাই অনুমান করা ছাড়া আর উপায় কি। তবে এই অনুমান বিমূর্ত হলেও অবাস্তব নয়।
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, মহামান্য মুজতবা আলীর পর্যবেক্ষণ ও ভাষ্যে জানা যাচ্ছে, “First World War-এর আগ কোন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারকে ইউরোপের কোন ভদ্রলোকের ড্রইং রুমে ঢুকতে দেওয়া হতো না। বুঝলে, আমার নাতি-নাতনীদের মধ্যে যারা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে তাদেরকে আমার রুমে সাধারণতঃ ঢুকতে দেই না। কারণ ওরা তো অর্ধশিক্ষিত। ওদের সাথে আলাপ করার মতো কিছু নেই। ৫০ বছর বয়স হওয়ার আগে কোন ডাক্তার নিজেকে ভদ্রলোক বলে দাবি করতে পারে না। কারণ ডাক্তারী পাস করার পর ২০/২৫ বছর আমাদের মতো Humanities-এ পড়া লোকজনদের সাথে মেলামেশা না করলে তাঁরা ভদ্রলোক হতে পারে না। অবশ্য ভদ্রলোক হওয়া খুবই কষ্টকর ব্যাপার।” (সৈয়দ মুজতবা আলী: প্রসঙ্গ অপ্রসঙ্গ, গোলাম মোস্তাকীম, স্টুডেন্ট ওয়েজ, তৃতীয় প্রকাশ: বৈশাখ ১৪১৫ বঙ্গাব্দ, পৃ ৪০-৪১)
ইউরোপ নিজেই বস্তুগত বৈভব ও উন্মাদ মুনাফার লোভে রাতারাতি ডিগবাজি খেয়ে এখন সে Humanities-এর তোয়াক্কা করে না। ভদ্র হওয়া মানে মানবিক শাখার শিল্প, সাহিত্য, দর্শন ও ইতিহাসে নিজের মনকে আলোকদীপ্ত করে তোলা। তার এখন অার আলো দরকার নেই, তাই সে ভদ্রতার আভিজাত্য ত্যাগ করে এখন সে রাশি রাশি টাকা চায়। এই আকাঙ্ক্ষা এখন তার সংস্কৃতির সর্বস্তরে প্রতিফলিত।

পশ্চিমের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করে সাহিত্য-সমালোচক ও দার্শনিক জর্জ স্টেইনারের একটা পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করে ঔপন্যাসিক মারিও বার্গাস যোসা তার এক প্রবন্ধে লিখেছিলেন যে,The humanities now only attract mediocrities and the dregs of the university, while talented Young People flock to study the sciences. And the Proof of this is that the entrance requirements, for humanities departments in the best academic centers of England and United States have dropped to unseemly levels. (Mario Vargas Llosa, The language of passion, Picador. 2003, P-114).

উপরোক্ত এই উদ্ধৃতিতে যে চিত্রটি আমরা পশ্চিমের শিক্ষাজগত সম্পর্কে দেখতে পাচ্ছি তা কিন্তু আমাদের এখানকার শিক্ষাজগত থেকে ভিন্ন কিছু নয়। বিশ্বব্যাপী পুঁজির বাণিজ্যমুখী প্রবণতা মানুষের মনজগতে যে গভীর প্রভাব ফেলেছে তারই এক চিত্র আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। নগদ ও দ্রুত মুনাফার আকাঙ্ক্ষা মানুষের জীবনে এতটাই তীব্র হয়ে উঠেছে যে এখন মানবিক শাখার সব রকম প্রয়োজন হয়ে পড়েছে গুরুত্বহীন। এর ভয়াবহ ফলাফল হচ্ছে মানুষের মধ্যে মানবিক অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার তীব্র সংকট। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি উদাসীনতা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক শাখার গতি তাই এতটাই কম যে তা আজ প্রায় চোখেই পড়ে না।

শিল্প ও সাহিত্য মানবিক শাখারই একটি অংশ। যদি শিল্প ও সাহিত্যের চোখ দিয়ে আমরা আজকের এই অবস্থার দিকে তাকাই তাহলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই একমুখী অন্ধ গতি আসলে মানুষের সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্নে এক ধরনের স্থবিরতা ছাড়া আর কিছু নয়। স্থবিরতা, কারণ সে ‘জলের মতো ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়’, একই জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু সে একা, তার সঙ্গে মানবিক শাখার অন্তর্ভুক্ত দর্শন, শিল্প ও সাহিত্যের কোনো সম্পর্ক নেই। সাহিত্য আমাদের বর্তমানের অন্তর্নিহিত সংকট ও ভবিষ্যতের বিপর্যয়গুলো সম্পর্কে সর্তক করে দেয় তার সংবেদনশীল মনের অনঘ এ্যান্টেনায় প্রতিফলিত দৃশ্যের মাধ্যমে।

bugকাফফার বিচার উপন্যাসের জোসেফ কে’ চরিত্রটির কথাই ধরা যাক যাকে গ্রেফতার করা হয় কিন্তু সে জানে না কোন অপরাধে তাকে গ্রেফতার করা হলো। কিংবা তার রূপান্তর নামক বড় গল্পটিতেও আমরা দেখবো যে গ্রেগর সামসা এক সকালে ঘুম থেকে উঠতে গিয়ে দেখে সে এক বিরাট আরশোলায় রূপান্তরিত হয়ে আছে। এই উদাহরণগুলোকে আমরা নিছক গল্প হিসেবে পড়ে নিশ্চয়ই বিপুল আনন্দ পাই। কিন্তু এই গল্পগুলো মানুষের ও সমাজের গভীর সমস্যাগুলোর ইঙ্গিত ধারন করে আছে। আমরা সাহিত্য বা শিল্পকে যখন নিছকই বিনোদনের উপায় হিসেবে দেখি তখন এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যটিকে এড়িয়ে যাই। কী বুঝাতে চেয়েছিলেন কাফকা আমাদেরকে তার মেটামরফসিস নামক ছোট্ট লেখাটিতে? আমরা লক্ষ্য করলে দেখতে পাই গল্পের নায়ক কিভাবে যথাসময়ে অফিসে যাবে এটাই তার একমাত্র চিন্তার বিষয়। অফিসের নিয়ম শৃঙ্খলা এবং অফিসের প্রতি কর্মনিষ্ঠা ছাড়া তার মাথায় আর কিছুই নেই। কাফকার অন্যান্য চরিত্রের মত এই সামসাও একজন কর্মচারী ছাড়া নিজেকে আর কিছুই ভাবতে পারছে না। এই আমলাতান্ত্রিক কর্মচারীর জগতে কোন উদ্ভাবনার অবকাশ নেই, কোন স্বাধীন চিন্তা বা কর্মকান্ড নেই; কেবল নিয়মের শৃঙ্খল আর শৃঙ্খলের নিয়ম ছাড়া। এটাই হচ্ছে কর্মচারীর আনুগত্যের জগত। এই জগতে কর্মচারী হচ্ছে বিশাল প্রশাসনিক কর্মকান্ডের একটি ছোট্ট অংশ যার লক্ষ্য এবং ব্যাপ্তি সে জানে না। কাফকার দেখা এই জগৎ এমনই অদ্ভূত যেখানে সবকিছুই যান্ত্রিক হয়ে ওঠে এবং এই জগতের বাসিন্দারা যা করছে তার অর্থ তাদের জানা নেই। অথচ সচেতনভাবে কেউ-ই যান্ত্রিক হতে চায় না, কিন্তু রাষ্ট্রব্যবস্থাই এমন যে তাকে তা-ই হয়ে উঠতে হয় । মানুষ যেহেতু কল্পনা-প্রবণ এবং উদ্ভাবন-প্রিয় জীব তাই সাহিত্যের কাজ হয়ে দাড়ায় তাকে সেই প্রবণতা সম্পর্কে সতেচন করে দেয়া, তাকে দাসত্বের জগত থেকে মুক্ত করা।

সাহিত্যের, বিশেষ করে কবিতার প্রবল পৃষ্ঠপোষক জার্মান দার্শনিক মার্টিন হাইডেগার মানুষের জীবনে ও সমাজে কবিতার প্রয়োজনের কথা বলেছিলেন খুব গুরুত্বের সঙ্গে। আমরা সাহিত্যচর্চাকে যতই উদ্দেশ্যহীন কর্ম বলে মনে করি না কেন আসলে তো তা নয়। হাইডেগারের ভাষায় Poetry, however, is not an aimless imagining of whimsicalities and not a flight of mare notions and fancies into the realm of the unreal (Martin Heidegger. Poetry, Language, thought, Harper perennial, 2001-p-70)

ভাবা হয়ে থাকে যে সাহিত্য বা শিল্প এক ধরনের কর্ম যার কোন সামাজিক মূল্য নেই। কারণ সে সমাজের প্রত্যক্ষ কোন প্রয়োজনকে মেটায় না। সাহিত্য সম্পর্কে একেবারেই ভাসা ভাসা ধারণার কারণে আমাদের মধ্যে এসব ভূল বিশ্বাসগুলো গভীর হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞান ও বাণিজ্যিক শাখাগুলোর কারবার যেহেতু বস্তুভিত্তিক প্রয়োজনকে ঘিরে, তাই মানুষের আত্মিক সংকট ও বিপর্যয়গুলো সম্পর্কে লেখকরা আমাদেরকে সতর্ক ও সজাগ করে দেন তাদের সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে। সাহিত্যের কাজ মানুষের সংবেদনশীলতাকে তীব্র করে তোলা, অনুভুতিকে প্রবল করে তোলা এবং নতুন নতুন সংবেদ ও মূল্যবোধকে সামনে নিয়ে আসা। স্বজ্ঞা ও কল্পনার মাধ্যমে লেখক এই কাজগুলো এমনভাবে করেন যাকে কখনো কখনো পাগলামি বলে ভ্রম হয়; যার তাৎক্ষণিক মূল্য নেই সমাজে ও জীবনে। কিন্তু মজার ব্যাপার এই যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্য যে কোন শাখার চেয়ে সাহিত্যই সবচেয়ে বেশি সমাজ ও জীবন থেকে উৎসারিত। সমাজ ও জীবন সম্পর্কে সে-ই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। আর পরিহাসটা এই যে সাহিত্যই বেশি উপেক্ষিত মানুষের কাছে।

বহু আগে সাহিত্যের পন্ডিত ও গবেষক প্রয়াত আহমদ শরীফ তাঁর ‘জীবন, সমাজ ও সাহিত্য’ শীর্ষক প্রবন্ধটিতে এই কথাগুলো বিস্তারিত বলেছিলেন। শিল্প বা সাহিত্য যে জন্মলগ্ন থেকেই মানুষের, সমাজের প্রয়োজন মেটানোর তাগিদে ব্যবহৃত হয়ে আসছে তা তিনি বলতে ভোলেন নি। শিল্পকলা চিরকালই জীবন ও স্বপ্নের রূপায়ন ঘটিয়েছে, জীবনের প্রয়োজনই মিটিয়েছে।

সাহিত্য যে মানুষের প্রয়োজনের বাইরে অবস্থান করে না তাও আহমদ শরীফ সংবেদনশীল মন দিয়ে বুঝেছিলেন। তিনি একই প্রবন্ধে আমাদেরকে সে কথা জানাচ্ছেন এইভাবে:

“কেননা মানুষের কোন কর্ম বা আচরণ প্রয়োজন নিরপেক্ষ হতে পারে না। এ প্রয়োজন অবশ্যই মানস অথবা ব্যবহারিক হবে। এ প্রয়োজন নিয়ম-নীতি-নিয়ন্ত্রণ মানে না।”

তার মানে সাহিত্য ‘নিয়ম-নীতি-নিয়ন্ত্রণ’পূর্ণ একটি সমাজ থেকে সৃষ্টি হওয়া এমন এক জিনিস যা উৎসের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে যায়। যদি তা না ঘটতো তাহলে সাহিত্যের কোনো প্রয়োজন হতো না সমাজের। একটা সমাজ যখন নিয়ম-নীতির দাসত্বে অন্ধ অনুকরণ হয়ে পড়ে তখন তার মধ্যে জন্ম নেয় কাফকার গ্রেগর সামসা। সামসা কেবল বিশাল আকারের এক পোকাতেই রূপান্তরিত হয়নি, এমন কি সে পোকায় পরিণত হওয়ার পরও তার যে অফিসে যাওয়া প্রয়োজন তাও সে ভুলতে পারে না। লক্ষ্য করবার মতো আরও একটা বিষয় হলো এই যে মানুষটি যে পোকায় পরিণত হয়েছে সেটা নিয়ে তার কোন মাথাব্যথা নেই, এমনকি অারও ভয়ংকর এটা লক্ষ্য করা যে সে জানেও না সে পোকায় পরিণত হয়েছে। কাফকা এই সামসার মধ্য দিয়ে আমাদের এমন এক জীবন ও সমাজের ছবি এঁকেছিলেন যেখানে অদৃশ্য এক যাদুবলে আমরা পোকা ও চিন্তাভাবনাহীন এক প্রাণীতে পরিণত হয়েছি। সাহিত্য মানুষকে পোকা হয়ে ওঠা থেকে রক্ষা করতে চায়। সমাজকে সে নিপীড়ক এক অদৃশ্য যন্ত্র হওয়া থেকেও বিরত রাখতে চায়। এই কারণে সাহিত্য সবসময় আমাদের জন্য দরকারী । আহমদ শরীফ সাহিত্যের এই প্রয়োজন এবং জীবন ও সমাজের সাথে তার গভীর সম্পর্কটি খুব পরিষ্কারভাবে বুঝেছিলেন। এই কারণে তাঁর প্রবন্ধটি আমাদের কাছে আজও প্রাসঙ্গিক।

আর্টস-এ প্রকাশিত রাজু আলাউদ্দিনের অন্যান্য প্রবন্ধ:
বোর্হেস সাহেব

অনুবাদ, আদর্শ ও অবহেলা

“একজন তৃতীয় সারির কবি”: রবীন্দ্রকবিতার বোর্হেসকৃত মূল্যায়ন

রক্তমাংসের রবীন্দ্রনাথ

কার্লোস ফুয়েন্তেসের মৃত্যু:
সমাহিত দর্পন?

মান্নান সৈয়দ: আমি যার কাননের পাখি

বাংলাদেশ ও শেখ মুজিব প্রসঙ্গে আঁদ্রে মালরো

স্পানঞল জগতে রবীন্দ্র প্রসারে হোসে বাসকোনসেলোস

অক্তাবিও পাসের চোখে বু্দ্ধ ও বুদ্ধবাদ:
‘তিনি হলেন সেই লোক যিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবি করেননি ’

কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে আমার কয়েক টুকরো স্মৃতি

বনলতা সেনের ‘চোখ’-এ নজরুলের ‘আঁখি’

ন্যানো সাহিত্যতত্ত্ব: একটি ইশতেহার

যোগ্য সম্পাদনা ও প্রকাশনা সৌষ্ঠবে পূর্ণ বুদ্ধাবতার

দিয়েগো রিবেরার রবীন্দ্রনাথ: প্রতিপক্ষের প্রতিকৃতি

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: তাহলে গানের কথাই বলি

অজ্ঞতার একাকীত্ব ও আমাদের মার্কেস-পাঠ

আবেল আলার্কন: স্পানঞল ভাষায় গীতাঞ্জলির প্রথম অনুবাদক

জামান ভাই, আমাদের ব্যস্ততা, উপেক্ষা ও কদরহীনতাকে ক্ষমা করবেন

এদুয়ার্দো গালেয়ানোর ‘দর্পন’-এ বাংলাদেশ ও অন্যান্য

প্রথমার প্রতারণা ও অনুবাদকের জালিয়াতি

আবুল ফজলের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

আবু ইসহাকের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

কুদরত-উল ইসলামের ‘গন্ধলেবুর বাগানে’

মহীউদ্দীনের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

বোর্হেস নিয়ে মান্নান সৈয়দের একটি অপ্রকাশিত লেখা

অকথিত বোর্হেস: একটি তারার তিমির

ধর্মাশ্রয়ী কোপ

রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা সম্পর্কে অক্তাবিও পাস

লাতিন আমেরিকার সাথে বাংলার বন্ধন

উপেক্ষিত কাভাফির অর্জুন ও আমরা

পাবলো নেরুদার প্রাচ্যবাসের অভিজ্ঞতা ও দুটি কবিতা

রবি ঠাকুরের নিখিল জগৎ

শিল্পী মুর্তজা বশীরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

ফুকোর হাসি, একটি গ্রন্থের জন্ম এবং বোর্হেস

নিরবতার দোভাষী সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

গার্সিয়া মার্কেসের প্রবন্ধ: এন্থনি কুইনের বোকামি

‘কুইজদাতা’ শওকত ওসমানের দুটি উপহার

নগ্নপদ ইলিয়াড ও আসুয়েলার বিপ্লব

ভাষার বিকৃতি: হীনম্মন্যতায় ভোগা এক মানসিক ব্যাধি?
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (7) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইকবাল করিম হাসনু — মার্চ ১১, ২০১৭ @ ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

      সুহৃদ রাজু,

      বেশ সহজে গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গটি তোলার জন্য আপনাকে কুর্নিশ জানাই। আপনার আকুতি যদি সমাজের বৃহদংশে কিছুটাও আলোড়ন তোলে তাহলে কাজ হবে। এখানে প্রসঙ্গত সরকারি বা সর্বজনীয় সম্প্রচার মাধ্যমের ভূমিকা পালনের অবকাশ আছে। বেশ ক’বছর ধরে কানাডায় কানাডা রিডস্ নামে (প্রতি বছরের সেরা বই যা সকলের পড়া উচিত) একটা অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে এ-দেশের সর্বজনীয় (পাবলিক ব্রডকাস্টিং) সম্প্রচার মাধ্যম সিবিসি-র উদ্যোগে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত তালিকার বইগুলোর ওপর দেশের বিভিন্ন শাখায় সমাজে ব্যাপকভাবে পরিচিতদের মধ্য থেকে নির্বাচিত কয়েকজন ( যাঁরা লেখক নন, ভিন্ন পেশার কিন্তু পাঠাভ্যাস আছে) নিজেদের পছন্দের বইয়ের পক্ষে অন্যদের সঙ্গে বিতর্কে নামেন এবং নক আউট পদ্ধতিতে শেষ পর্যন্ত লড়ে যান। বিতর্কে শ্রোতাদের ভোটে যে- বইটি শীর্ষে থেকে পুরস্কৃত হয় সেটি বইয়ের দোকানগুলোতে বিক্রি তালিকায়ও রাতারাতি ওপরে উঠে আসে। তালিকার অন্য বইগুলোর ব্যাপারেও পাঠকমহলে আগ্রহ বাড়ে। নিছক বাণিজ্যের পাশাপাশি সমাজে যে ইতিবাচক ঘটনাটা ঘটে সেটা হচ্ছে নতুন নতুন পাঠক তৈরি হওয়া এবং সংবেদনশীলতার পরিসরটা আরও বড় হওয়া । আমাদের দেশেও অনুরূপ কোনো উদ্যোগের সম্ভাবনা কি নেই?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ — মার্চ ১১, ২০১৭ @ ১২:০৫ অপরাহ্ন

      আমরা সাহিত্য বা শিল্পকে যখন নিছকই বিনোদনের উপায় হিসেবে দেখি তখন এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যটিকে এড়িয়ে যাই। একমত লেখকের সঙ্গে। দুর্দান্ত একটি লেখা এবং প্রয়োজনীয়। দেশের নীতিনির্ধারকদের অবশ্যপাঠ্য একটি লেখা।

      স্যালুট রাজু ভাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন — মার্চ ১১, ২০১৭ @ ১২:০৮ অপরাহ্ন

      ঈর্ষনীয়, দুর্দান্ত লেখা। নীতিনির্ধারকদের চোখে পড়ুক এই লেখা। তারা সাহিত্যের মূল্য দিতে শিখুক। অভিনন্দন রাজু ভাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল — মার্চ ১১, ২০১৭ @ ১:৫৩ অপরাহ্ন

      খুব ভালো লিখেছেন রাজু।
      শুভেচ্ছা!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কাদের আল হাসান — মার্চ ১৩, ২০১৭ @ ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

      আজেবাজে ছাত্রেরাই আর্টস( হিউম্যানিটীজ পড়ে), ঢাকা ইউনিভার্সিটির কলা ভবনে পরীক্ষার খাতায় কালি ছিটায়া দিলেও সেকেন্ড ক্লাশ নিশ্চিত। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে অনেক পড়াশোনা, অনেক মেধা, অনেক পরিশ্রম দরকার। কলা ভবনের সামনে বইসা মেয়েদের সাথে ফষ্টিনষ্টি, রঙ্গ রস, টিপাটিপি কইরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়া অসম্ভব।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Muhammad Samad — মার্চ ১৪, ২০১৭ @ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

      I congratulate for this significant article. Thank you so much.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mostafa Tofayel — মার্চ ১৮, ২০১৭ @ ১২:০৪ অপরাহ্ন

      Razu Alauddin deserves thanks for touching on an important crack in our society. It concerns cultural values which is in the face of significant threat here in our society. In his essay I am happy to learn about Kafka and his Metamorphosis. Metamorphosis is mostly about Sartrean Existentialism, which is, as described in this very article of Razu, as good a philosophy of necessity in our present question of cultural survival as Kafka thought of.

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com