ভাষার বিকৃতি: হীনম্মন্যতায় ভোগা এক মানসিক ব্যাধি?

রাজু আলাউদ্দিন | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:১২ পূর্বাহ্ন

The corruption of man is followed by the corruption of language–Ralph Waldo Emerson

বাংলা ভাষা নিয়ে আমাদের গর্বের কোন শেষ নেই, আবার নিজের ভাষাকে অপমানেও আমাদের কোনো জুড়ি নেই। যে ভাষার জন্য আমরা শহীদ হয়েছি সেই ভাষাই যথেচ্ছ ব্যবহারের দায়িত্বহীনতার মাধ্যমে তার ঘাতক হয়ে উঠেছি। পুরো বিষয়টি জাতীয়তাবাদের দ্বৈতরূপ সম্পর্কে হোর্হে লুইস বোর্হেসের উক্তিরই সমধর্মী হয়ে উঠেছে: “যিনি শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত তিনি জল্লাদও হতে পারেন এবং তোর্কেমাদা(স্পেনে ইনকুইজিশনের যুগে অত্যাচারী যাজক–লেখক) খ্রিষ্টের অন্য রূপ ছাড়া আর কিছু নন।” আর এই জল্লাদের ভূমিকায় এখন জনগন ও রাষ্ট্র একই কাতারে সামিল হয়েছে।

একটি সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত অভিব্যক্তিপূর্ণ ভাষা গড়ে উঠতে হাজার হাজার বছর লাগে। আর একটি ভাষার গড়ে ওঠার পেছনে থাকে শত সহস্র মানুষের অবদান যারা শব্দ ও শব্দার্থের জন্ম দিয়ে ভাষাকে সমৃদ্ধ করে। আর লেখকরা এসে এই শব্দ ও শব্দার্থের সীমা বাড়িয়ে দেন বা নতুন নতুন অর্থের ব্যঞ্জনায় দীপিত করে তোলেন ভাষাকে।

কিন্তু আমাদের অজ্ঞতা, অবহেলা, স্বেচ্ছাচার ও দায়িত্বহীনতার কারণে এই সম্মিলিত অর্জনকে আমরা বিকৃত করছি প্রতিনিয়ত।

অনেকেই বলেন ভাষা কোন স্থির বিষয় নয়, নদীর মতো পরিবর্তিত হতে বাধ্য। অবশ্যই তা পরিবর্তিত হবে, কিন্তু বিকৃত নয়। আমরা স্বেচ্ছাচার ও অবহেলার মাধ্যমে একে বিকৃতও করে তুলতে পারি, প্রবহবান নদীতে রাসায়নিক বর্জ ও জঞ্জাল ফেলে একে দুষিতও করতে পারি, যেভাবে বুড়িগঙ্গা নদীকে আমরা করেছি।
ভাষা স্থির কোন বিষয় নয় বলেই তা প্রতিনিয়ত বদলায়। আর বদলায় বলেই শব্দে ও অর্থে বৈচিত্র ও বিস্তার লাভ করে। কিন্তু ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে পরিবর্তন এক জিনিস আর দায়িত্বহীনতার কারণে বিকৃতি ঘটানো আরেক জিনিস।

ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে একেবারে অর্থনৈতিক প্রয়োজনে বা প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যে যোগাযোগ তৈরির জন্য সৃষ্টি হয়েছে পিজিন (Pidgin) ভাষা। এটা সৃষ্টি হয়েছে সাধারণত বিদেশি বণিক বা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে বিদেশি ভাষায় অক্ষম স্থানীয় জনগোষ্ঠির ভাববিনিময়ের কারণে। পিজিন হচ্ছে প্রতিপক্ষের ভাষা না বুঝবার অক্ষমতা থেকে উভয় ভাষার মিশ্র রূপ যা ব্যকরণসম্মত কোনো বিধির তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠেছিল ১৮ ও ১৯ শতকে। গড়ে উঠতে হয়েছিল বাণিজ্যিক বিনিময়ের স্বার্থে। আজ সে বাস্তবতা নেই। নেই সে প্রয়োজনও। কিন্তু আজ সক্ষম ও সম্পন্ন ভাষার একই জনগোষ্ঠি যখন অপ্রয়োজনে ইংরেজি বাংলা মিশিয়ে কথা বলেন তখন তার ব্যাখ্যা আমি খুঁজে পাই না। কেউ যেন মনে না করে বসেন যে আমি বাংলায় বিদেশি শব্দ প্রবেশের বিপক্ষে। মোটেই তা নয় আমি বরং ভাষার বিস্তার ও সমৃদ্ধির স্বার্থে অবশ্যই বিদেশি শব্দ প্রবেশের পক্ষে। তাছাড়া আমি পক্ষে বা বিপক্ষে না থাকলেও নানান বাস্তবতার কারণে তা প্রবেশ করবেই। অতএব পক্ষে বিপক্ষে থাকা না থাকা দিয়ে তাকে রোধ করা যাবে না, রোধ করার প্রশ্নই ওঠেনা। আমি এ ব্যাপারটা জেনেই ভাষায় বিকৃতির প্রশ্নটা এখানে তুলছি। দুতিনটি উদাহরণ দিয়েই এখন বলতে চাই আমি কাকে বিকৃতি বলে অভিহিত করতে চাইছি।

আজকাল প্রধানত শহরে, গ্রামেও তার অভিঘাত অল্পমাত্রায় হলেও পৌঁছেছে বাংলার সাথে ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলার খাসলত। কাচা হাতে তৈরি টেলিভিশনের বস্তাপচা নাটকগুলোতে তো আছেই, আছে উৎকট ও উদ্ভট রূপে রেডিওগুলোতে। সিনেমাও এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই। আছে টক শোগুলোতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে। “তুমি ওনাকে inform করলে ভালো হয়।” কিংবা “আমার planটা একটু different।” অথবা “তোমার কিন্তু ব্যাপারটা Avoid করা উচিৎ।”

উপরের এই তিনটি বাক্য সাধারণ নমুনা হিসেবে তুলে ধরা হলো। প্রথম বাক্যটিতে inform শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে বক্তা ‘জানানো’ অর্থ বুঝাতে চাচ্ছে। দ্বিতীয় বাক্যটিতে ‘plan’-এর মাধ্যমে ‘পরিকল্পনা’ বুঝাতে চাচ্ছে আর এই বাক্যে ব্যবহৃত আরেকটি ইংরেজি শব্দ different-এর মাধ্যমে ‘ভিন্ন’ কিছু বুঝাতে চাইছে। ইংরেজির পরিবর্তে যদি বাংলা শব্দগুলো ব্যবহৃত হতো তাহলে বাক্যগুলোর অর্থ বুঝতে আমাদের কোনো অসুবিধা হতো কি? মোটেই না। কখনো কখনো কোনো বক্তার পাঁচ ছয়টি বাক্যের মধ্যে হয়তো একটি গোটা বাক্যই বক্তা ইংরেজিতে বলছেন। কার সাথে বলছেন? বলছেন বাংলাভাষী অপর পক্ষের সাথে–আলাপে আলোচনায়। এই প্রবণতা তথাকথিত শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যেই বেশি। বাংলার সাথে ইংরেজি শব্দ বা বাক্য মিশিয়ে বলার পেছনে কী ধরনের মনস্তত্ত্ব কাজ করে তা বুঝতে পারলেই ইংরেজি শব্দ বা বাক্য প্রয়োগের কারণগুলো আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এক. একটু হুশিয়ার হলেই আমরা লক্ষ্য করবো যে ইংরেজি শব্দ বা বাক্য প্রয়োগের মাধ্যমে চেতনে বা অবচেতনে বক্তা তার শ্রেণিস্তরের জানান দিচ্ছেন। দুই. বাংলা ভাষার তুলনায় ইংরেজিতে তিনি পারদর্শী বা কম পারদর্শী নন–তার জানান দেওয়া। তিন. নিজের ভাষার প্রতি অবজ্ঞা ও অবহেলা। চার. যেহেতু তার শ্রেণির অন্যরাও এভাবেই কথা বলে, ফলে তা শুনে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে অন্ধ অনুকরন থেকেও সে এটা করতে পারে। কোনো রকম প্রয়োজন (পিজিন ভাষার ক্ষেত্রে যে প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে।) ছাড়াই ভাষাকে এভাবে বিকৃত করার প্রবণতা অন্য কোনো জাতির মধ্যে আছে কিনা সন্দেহ।
যদি একটু অনুসন্ধান করা যায় তাহলে দেখা যাবে এই নতুন প্রজন্ম ভাষার এই বিকৃতিকরণের প্রবণতাটি সে পেয়েছে বাবা-মার প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষ উৎসাহে, কারণ বাবা-মা সন্তানকে বাংলায় ততটা নয়, যতটা ইংরেজি শিক্ষায় পারদর্শী দেখতে চান। বাবা-মার এমনটা চাওয়ার কারণ, বাংলা ভাষাটি সুন্দর ও নির্ভুলভাবে শিখলে এর কোনো আর্থিক ভবিষ্যত নেই। অতএব ইংরেজি ছাঁচে সন্তানকে তৈরি করা তাদের জন্য অবশ্যকর্তব্য হয়ে দাড়ায়।

বাবা-মা এখন আর সন্তানদেরকে বাংলা ভাষায় কোন কিছু পাঠে খুব একটা উৎসাহিত করতে চান না। চান না তার সন্তান বাংলা সাহিত্য দর্শন ইতিহাস ইত্যাদি পড়ুক। না-চাইবার কারণ এসব বিষয়ে পাস করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরুনোর পর মোটা অংকের কোন চাকরী তো দূরের কথা, আদৌ কোন চাকুরী পাবে কিনা তারই কোন নিশ্চয়তা নেই। রাষ্ট্রের শাসকবর্গ ও নেতারা ভাষা ও জাতির সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব করেন এবং গর্ব করতে সবাই উপদেশও বিতরণ করেন, কিন্তু রাষ্ট্র নামক চাষের ক্ষেত্রটিকে কথিত বিষয়ের বীজতলা না বানিয়ে সেখানে বুনে যান ইংরেজি ভাষার সাথে সম্পর্কিত বাণিজ্যিক বিষয়গুলো। বাংলাদেশে এখন অসংখ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সেগুলোতে বাণিজ্যিক বিষয়গুলো জিরাফের মতো উচু হয়ে আছে। বাংলাভাষা ও বাংলা সাহিত্য বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্লজ্জভাবে অবহেলিত। রাষ্ট্র নিজেই এই অবহেলার সুযোগ করে দিয়েছে এতে কোন সন্তেহ নেই। রাষ্ট্র এমন একটি সমাজ তৈরি করে দিয়েছে যেখানে ইংরেজি জানা ও আরবী জানা লোকেরা মর্যাদায় আসীন, কারণ এদুটো ভাষারই রয়েছে প্রায়োগিক মূল্য; একটি উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে, আর অন্য ভাষাটির মূল্য ও মর্যাদা রয়েছে মধ্যবিত্তের লেজের অংশ থেকে শুরু করে নিম্নবিত্তের বিশাল পরিধি জুড়ে। ধর্মানুভূতির সুযোগে আরবী গরীব লোকদের মাঝে জায়গা জুড়ে নিয়েছে, আর ইংরেজি উচ্চ ও মধ্যবিত্তের মধ্যে জায়গা জুড়ে আছে উপার্জনের বিরাট প্রলোভন হিসেবে। বাংলা ভাষার অস্তিত্ব এ দুয়ের মাঝখানে জেরবার।

উনিশ শতকে কোলকাতায় ইংরেজির মোহে যখন বাবু সমাজ আচ্ছন্ন তখন ইংরেজি শিক্ষা ও জ্ঞান বিজ্ঞানে সুশিক্ষিত ঔপন্যাসিক “বঙ্কিমচন্দ্র ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন বাংলা ভাষায় জ্ঞান চর্চার দরজা খুলে দেবার জন্য। কারণ তিনি জানতেন দেশের উচ্চ আর নিম্নশ্রেণির মধ্যে যদি ভাষাগত ভেদ থাকে তাহলে দুই শ্রেণিতে সহৃদয়তা জন্মাবে না। সেই কারণে তিনি জানিয়েছিলেন, we ought to disanglicise ourself. ইংরেজি জানা আর না-জানা মানুষের মধ্যে ভেদকেই রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় জাতিভেদ। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীও অনুরূপ ভাবনার অংশিদার ছিলেন। অথচ উদারীকরণ, ভুবনায়নের দৌলতে আমাদের দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য ভীষনভাবে বেড়ে চলেছে। সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে চলেছে ইংরেজি জানা আর না জানা মানুষের মধ্যে দূরত্ব। ইংরেজি ফরফরিয়ে বলতে না পারা মানুষ আজ হীনম্মন্যতার ব্যর্থতাবোধে ভোগে।” (অশ্রুকুমার শিকদার, হাসান আজিজুল হক সম্পাদিত বঙ্গ বাংলা বাংলাদেশ, সমর প্রকাশন, ফেব্রয়ারি বইমেলা ২০১২ পৃ:৯০)

আজকে স্বভাষীদের সাথে বাঙালির ফরফরিয়ে ইংরেজি বলা বা বাংলার সাথে ইংরেজি মিশিয়ে বিকৃত ভাষায় কথা বলা কি হীনম্মন্যতায় ভোগা এক মানসিক ব্যাধি?

আর্টস-এ প্রকাশিত রাজু আলাউদ্দিনের অন্যান্য প্রবন্ধ:
বোর্হেস সাহেব

অনুবাদ, আদর্শ ও অবহেলা

“একজন তৃতীয় সারির কবি”: রবীন্দ্রকবিতার বোর্হেসকৃত মূল্যায়ন

রক্তমাংসের রবীন্দ্রনাথ

কার্লোস ফুয়েন্তেসের মৃত্যু:
সমাহিত দর্পন?

মান্নান সৈয়দ: আমি যার কাননের পাখি

বাংলাদেশ ও শেখ মুজিব প্রসঙ্গে আঁদ্রে মালরো

স্পানঞল জগতে রবীন্দ্র প্রসারে হোসে বাসকোনসেলোস

অক্তাবিও পাসের চোখে বু্দ্ধ ও বুদ্ধবাদ:
‘তিনি হলেন সেই লোক যিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবি করেননি ’

কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে আমার কয়েক টুকরো স্মৃতি

বনলতা সেনের ‘চোখ’-এ নজরুলের ‘আঁখি’

ন্যানো সাহিত্যতত্ত্ব: একটি ইশতেহার

যোগ্য সম্পাদনা ও প্রকাশনা সৌষ্ঠবে পূর্ণ বুদ্ধাবতার

দিয়েগো রিবেরার রবীন্দ্রনাথ: প্রতিপক্ষের প্রতিকৃতি

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: তাহলে গানের কথাই বলি

অজ্ঞতার একাকীত্ব ও আমাদের মার্কেস-পাঠ

আবেল আলার্কন: স্পানঞল ভাষায় গীতাঞ্জলির প্রথম অনুবাদক

জামান ভাই, আমাদের ব্যস্ততা, উপেক্ষা ও কদরহীনতাকে ক্ষমা করবেন

এদুয়ার্দো গালেয়ানোর ‘দর্পন’-এ বাংলাদেশ ও অন্যান্য

প্রথমার প্রতারণা ও অনুবাদকের জালিয়াতি

আবুল ফজলের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

আবু ইসহাকের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

কুদরত-উল ইসলামের ‘গন্ধলেবুর বাগানে’

মহীউদ্দীনের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

বোর্হেস নিয়ে মান্নান সৈয়দের একটি অপ্রকাশিত লেখা

অকথিত বোর্হেস: একটি তারার তিমির

ধর্মাশ্রয়ী কোপ

রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা সম্পর্কে অক্তাবিও পাস

লাতিন আমেরিকার সাথে বাংলার বন্ধন

উপেক্ষিত কাভাফির অর্জুন ও আমরা

পাবলো নেরুদার প্রাচ্যবাসের অভিজ্ঞতা ও দুটি কবিতা

রবি ঠাকুরের নিখিল জগৎ

শিল্পী মুর্তজা বশীরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

ফুকোর হাসি, একটি গ্রন্থের জন্ম এবং বোর্হেস

নিরবতার দোভাষী সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

গার্সিয়া মার্কেসের প্রবন্ধ: এন্থনি কুইনের বোকামি

‘কুইজদাতা’ শওকত ওসমানের দুটি উপহার

নগ্নপদ ইলিয়াড ও আসুয়েলার বিপ্লব

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (13) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজীব চক্রবর্তী — ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৭ @ ১২:০২ অপরাহ্ন

      বাংলা ভাষা নিয়ে আপনার এই ভাবনার সহযাত্রী আমিও। এখানেই একটা ব্যাপারে আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করি–ভাষা নিয়ে এই লেখায় বানান ভুলের ব্যাপারটা যথাসম্ভব এড়ানো গেলে ভালো লাগত।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Farooque Chowdhury — ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৭ @ ১২:২২ অপরাহ্ন

      এ লেখায় বলা হয়: “জনগন ও রাষ্ট্র একই কাতারে সামিল”।
      জনগন ও রাষ্ট্র একই কাতারে সামিলের উপায় নেই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন shams hoque — ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৭ @ ১২:৪৩ অপরাহ্ন

      What a coincidence! I was just discussing this issue of our language use with a colleague at my work, specially, by many in the middle and upper strata of our society in Bangladesh and the well thought out timely article of my very respected writer, poet, journalist, Raju Alauddin appeared before me on my computer screen. However, I wouldn’t go into the debate whether the odd mixture of Bengali with bits of English here and there in Bangladesh should be considered a pidgin language but would absolutely agree with the author’s stand about the abominable attitudinal degradation of our middle/upper class Bengali society in regard to their conscious effort of creating a “hybrid language” some times referred to as “Benglish” (not pidigin, as the conditions of emergence of a pidgin language do not exist in this case). I agree with Rajubhai that it’s not at all difficult to maintain 100% Bangla in the string of utterances/sentences that we need to use in our daily life. The conscious and snobbishly intentional efforts of bringing in foreign words/phrases/expressions ( some times wrongly) by some “meddlers”, the so-called elite of our country deserve to be seriously discouraged by the powerful agencies like the relevant sections of the government, the print or electronic media, institutions dealing with teaching-learning and promoting Bangla in any form, shape or manner they deem appropriate. In fact, refined skills of Bengali language should be considered mandatory in higher education and in the areas of employment, publication and media activities in the whole of Bnagladesh. The important benefit that will follow this measure is our English will automatically be better and more effective.
      Many congratulations to Raju Alauddin and arts.bdnews24.com for putting up this timely article on the last day of February.
      Shams Hoque

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওমর শামস — ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৭ @ ১:২৩ অপরাহ্ন

      বাংলার পাছাটা হিন্দি মারতেছে। ইংরেজিটা সমস্যা না ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাইফ বরকতুল্লাহ — ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৭ @ ২:১৬ অপরাহ্ন

      ভালো লাগল।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লালন — মার্চ ১, ২০১৭ @ ১০:০৯ পূর্বাহ্ন

      কেউ কেউ বাঙলার সাথে ইংরেজী মিশিয়ে কথা বলেন যা আমি একদম ‘লাইক’ করি না। :-)

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাকশুম — মার্চ ১, ২০১৭ @ ১১:২৫ পূর্বাহ্ন

      ইংরেজি বলার প্রবণতায় কোন সমস্যা আছে মনে করি না। তবে বাংলিশ এর ব্যবহার শ্রুতিকটু। আমরা না পারি বাংলা শুদ্ধ বলতে, না পারি ইংরেজি। বেশীরভাগ সময়ই দেখি এই বাংলিশ ব্যবহারকারীরা ইংরেজিতে আসলে সম্পূর্ণ একটি বাক্য বলতে পারেন না কিন্ত আবার জারী রাখতে চান যে, তিনিও কিন্ত নিম্নবর্গের না।

      এখানে আরও বেশ কয়েকটা বিষয় আলোচনায় আসতে পারত। যেমন – সম্ভাষণ। বছর পাঁচ থেকে দশ এর ভেতর আমাদের সম্ভাষণ এ আরবি শব্দের ভয়ঙ্কর রকম ভাবে আধিপত্য বেড়েছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌, সুবহানাল্লাহ, ইনশাল্লাহ ইত্যাদির বিভিন্ন সম্ভাষণকে অনেক সুন্দর বাংলা শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব সত্ত্বেও মধ্যবিত্ত হতে উচ্চবিত্তের মধ্যে এই শব্দগুলো মহামারী আকারে বিস্তার হচ্ছে। এর জন্য ধর্মীয় মেরুকরণ সহ সমসাময়িক বিশ্বের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি অনেক কিছুই জড়িত।

      শিশুর নাম আরেকটি সমস্যা। বাংলায় সুন্দর, মননশীল শব্দের কোন অভাব না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ধর্মীয় বিবেচনায় আরবি নাম বেছে নেয়ার রীতি বেশ অনেকদিন ধরেই চলে আসছে। আমার নিজের সন্তানদের নামই আরবিতে কারণ যখন তাদের নাম রাখা হয়েছে তখন এই বিষয়গুলো গভীরভাবে চিন্তা করিনি।

      অনিবাসি বাঙালি হতে শুরু করে নিবাসী নতুন প্রজন্মের মধ্যে আরেক ভয়াবহ সমস্যা হিন্দির আগ্রাসন। এরও কারণ বহুবিধ। প্রতিটি কারণ নিয়েই দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে।

      সব ছাপিয়ে অন্যতম বিষয়টি হল, বাংলা ভাষা, আচার, সংস্কৃতি, ও চেতনা, এ সবকিছুই ধীরে ধীরে মুছে দেয়ার জন্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো বহুদিন ধরেই পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভাষার মুসলমানিকরনই হোক বা বাংলিশ বা হিন্দির আগ্রাসনই হোক, যে কোন বিকৃতিই ওদের জন্য আনন্দের কারণ সেটা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তাই করে। নব্বই শতাংশের রোষানলে পড়ার ভয় থেকে বেশিরভাগই আমরা সাধারণত এদের প্রতিবাদে নিজেকে জড়াই না। বরং ধীরে ধীরে ওদের পাতা ফাঁদেই পা দেই।

      পরিশেষে বলব, বহতা নদী দূষণের উৎস বহুবিধ। সবগুলো বন্ধেই সোচ্চার হওয়া উচিৎ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Amit — মার্চ ১, ২০১৭ @ ২:২৯ অপরাহ্ন

      Raju bhai.lekhata valo laglo

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আফসান চৌধুরী — মার্চ ১, ২০১৭ @ ২:৫৯ অপরাহ্ন

      আপনার ভাবনার মধ্যে ধর্ম চর্চার ক্ষেত্রে বিদেশি ভাষা ব্যবহার কি গ্রহণযোগ্য? নাহলে বা হলে কেনো? ধন্যবাদ

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন shams hoque — মার্চ ১, ২০১৭ @ ৭:১৪ অপরাহ্ন

      “বাংলার ……… হিন্দি মারতেছে!!!” I think it’s unthinkable for a man of culture like Omar Shams to put such language in public domain. In every way, vulgar use surely damages the aesthetic quality of a language. Sorry, Omar Shams.
      Shams Hoque

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রুখসানা কাজল — মার্চ ১, ২০১৭ @ ৮:০৮ অপরাহ্ন

      লেখাটি মূল্যবান। যদিও আমরা বাংলার সাথে ইংরেজি মিশিয়ে যে বাংলিশ বলি তা থেকে বেরুতে পারবো কিনা অনিশ্চিত। লেখকের জন্যে শুভেচ্ছা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন razualauddin — মার্চ ১, ২০১৭ @ ৯:০৭ অপরাহ্ন

      শ্রদ্ধেয় আফসান ভাই,
      আচার অনুষ্ঠানের ভাষা ব্যবহার নিয়ে এখানে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। যদি আলাদা করে জানতে চান তাহলে বলবো এসব ক্ষেত্রে আরবি, সংস্কৃত, ল্যাটিন, পালি ইত্যাদি ভাষা ব্যবহারের পক্ষে আমি। তবে নামাজ রোজা বাংলা ভাষায়ও করা যেতে পারে যদি কেউ করতে চান। আপনাকেও ধন্যবাদ আফসান ভাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Shamsul Alam — মার্চ ২, ২০১৭ @ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

      Dear Editor,

      Why you are not doing your job? Why you are allowing vulgar and unedited comments to publish in public domain such as this one? I am very frustrated and disappointed?

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com