বাংলা ভাষার শত্রু কারা?

চঞ্চল আশরাফ | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৫৮ অপরাহ্ন

যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।
দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে ন জুরায়।
নিজ দেশ ত্যাজি কেন বিদেশে ন যায়।।

সতেরো শতকে এই কবিতা রচিত হওয়া মানে, তার বেশ আগে থেকেই এ দেশে বাংলা ভাষার শত্রু ছিল। তখন বাংলা ছিল বিপুল গরিষ্ঠ নিপীড়িতের ভাষা। তাহলে এর শত্রু ছিল কারা? আমরা জানি, এই ভূখণ্ডকে বেশির ভাগ সময় শাসন করেছে বহিরাগতরা, তারা এখানকার ভাষার মিত্র হবে, এমন চিন্তা স্বাভাবিক নয়। কিন্তু এই দেশে জন্ম নেয়া ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত এবং তাদের খুদকুড়ায় তুষ্ট লোকজন, যারা বাংলা ভাষাকে অচ্ছুৎ জ্ঞান করে এসেছে, তারাই বাংলা ভাষার বড় শত্রু। আব্দুল হাকিম যখন উদ্ধৃত কবিতাটি রচনা করেন, তখন ব্রাহ্মণদের দাপট, তারা বাংলার ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল সংস্কৃতকে; এমন প্রচারও চালিয়েছিল যে, বাংলায় কথা বললে নরকে যেতে হবে।

বাংলাদেশে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে শাসক শ্রেণির সহিংস আচরণের সর্বশেষ নমুনা হলো ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রজনতার ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণ । তা ছিল বস্তুত বাংলা ভাষার ওপরই আক্রমণ। এতেই বোঝা যায়, বাংলা শাসকদের প্রতিপক্ষ হয়েই ছিল দীর্ঘকাল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলেও, জনমানুষের এই ভাষার শত্রু যে অপসৃত হয়েছে, এমন নয়। বরং নানা মাত্রায় নব্য শত্রুশ্রেণির উত্থান ও বিকাশ ঘটে চলেছে, বাংলা ভাষার জন্য তারা নিশ্চিতভাবেই বড় হুমকি।

দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান নামের একটা অদ্ভুত রাষ্ট্র সৃষ্টির পর বাঙালি মুসলমানরা যে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের দ্বিধা ও সঙ্কটের মধ্যে পড়েছিল, তা এখনও কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় নি। ১৯৪৭ সালের আগে ও পরের শিক্ষিত ও শহুরে বাঙালির একটা অংশ বাংলা ভাষাকে অচ্ছুৎ বলেই গণ্য করতো, এই অংশটি আগের চেয়ে শতগুণ বড় হয়েছে। তারা ইংরেজি উচ্চারণে বাংলা বলে, এমনকি বিকৃত উচ্চারণে রবীন্দ্রসঙ্গীতও গায়। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ বা সে ধরনের সচেতনতা লক্ষ করা যায় না। বরং গণমাধ্যমগুলোর বেশির ভাগই এই প্রবণতাকে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে। বিশেষত এফএম রেডিওগুলোর বাংলা উচ্চারণ ভয়াবহ।

পাকিস্তান আমলে এক দল সাহিত্যিকের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল, যারা ক্ষমতাপুষ্টদের তুষ্ট করতে গিয়ে উর্দু শব্দের প্লাবন বইয়ে দিয়েছে তাদের রচনায়, আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের কাহিনি, চরিত্র ও অনুষঙ্গের আমদানি ঘটিয়েছে ইসলামি চেতনার পুনর্জাগরণের নামে। তাদের প্রতিরোধ করেছিলেন রফিক আজাদের মতো কবিরা, কবিতায় আরবি-ফার্সি শব্দ বর্জন করে দেশি, এমনকি সংস্কৃত শব্দানুষঙ্গ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে। আজ দেখা যায়, একদল মান ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, আরেকদল বাংলার মধ্যে সুযোগ পেলেই আরবি শব্দ জুড়ে দিচ্ছে, অন্য একদল বাংলা-ইংরেজি মেশানো অদ্ভুত এক ভাষা ব্যবহার করছে। অথচ যে ভাষাভিত্তিক ও অসাম্প্রদায়িক জাতিরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছিল, তাতে বাংলা ভাষার যথাযথ প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের পুরোপুরি সুযোগ ছিল। রাজনীতি তা হতে দেয় নি। বাঙালির অসচেতনতা, ধর্মকাতরতা ও ভাষিক মূল্যবোধের অভাবে এটি সম্ভব হয়েছে। ১৯৭৫ এর হত্যাকাণ্ডের পর থেকে, বাঙালি আর সব কিছুর মতো নিজের সংস্কৃতিও হারিয়ে চলেছে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের ভাষাব্যবহারের মধ্যে ঢুকে পড়েছে অপরাজনীতি। একটা উদাহরণ দিলে এই সত্য সম্ভবত স্পষ্ট হবে। আজকাল যে বিদায়মুহূর্তে ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলা হয়, এটা দুই যুগ আগেও ছিল না। ১৯৯১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর ‘দেখা হবে, ভালো থেকো’ কিংবা ‘খোদা হাফেজ’-এর জায়গায় ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলার সংস্কৃতি চালু হলো। কারণ, ‘খোদা’র চেয়ে ‘আল্লাহ’ বেশি ইসলামিক। বাঙালি মুসলমান পাকিস্তান আমলে যতটা মুসলমান হতে চেয়েছিল, এখন চায় তার চেয়েও বেশি মুসলমান হতে। এর প্রভাব ভাষাতেও পড়েছে। কিন্তু এর মোকাবেলা কিভাবে সম্ভব?

বাংলা ভাষার শত্রু কালে কালে বদলেছে, অর্থাৎ এটি এক শত্রু থেকে আরেক শত্রুর রোষানলে পড়েছে। এখন বাংলা ভাষার অনেক রকম শত্রু এবং এরা থাকলে বায়ান্নোর মতো সহিংসতার আর প্রয়োজন নেই। ধর্মানুভূতিকে ব্যবহার করে, গ্লোবাল কিংবা কর্পোরেট সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে, মান ভাষার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে, কথ্য ভাষাকে লেখ্য ভাষায় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে, বানানরীতি ও শব্দ ব্যবহারে নৈরাজ্য ঘটিয়ে– একযোগে এত বিচিত্রভাবে শত্রুর সক্রিয়তা থাকলে পৃথিবীর যে কোনো ভাষার বিপর্যয় ঘটানো কঠিন কিছু নয়। সেই আলামত তো এখন দেখা যাচ্ছে।

ভাষার বিরুদ্ধে আজকাল সরাসরি সহিংসতার প্রয়োজন পড়ে না, ভাষা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারলেই মূল কাজটি হয়ে যায়। এইসব শত্রুতামূলক তৎপরতার ফলে ভাষা ব্যবহারকারী মাত্রই বিভ্রান্ত হয় এই প্রশ্নে যে, তার আসল ভাষা কোনটি? কোন বাংলায় সে কথা বলবে, কোনটায় সে লিখবে, দাপ্তরিক কাজের জন্য কোনটি বেছে নেবে? ভাষা সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করার জন্য জরুরি হলো একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ, মীমাংসিত ও আপাত প্রশ্নোর্ধ্ব ব্যাকরণ, যা ভাষার ব্যাপারে মানুষকে নির্ভরতা দেয়। সত্য যে, বাংলা ভাষার তেমন ব্যাকরণ আজও রচিত হয় নি। যে নৈরাজ্য চলছে বাংলা ভাষায়, তা মূলত এ-শূন্যতার কারণেই।

শুধু কি বাংলাদেশে বাংলা ভাষার শত্রুরা সক্রিয়? পশ্চিমবঙ্গে, আসামে, ত্রিপুরায়– সর্বত্র এই ভাষা বিপন্নতার মুখে পড়েছে। ভারতে ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দিও লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা; এই দুইয়ের চাপে বাংলার আজ ত্রাহি দশা। ভাগ্য ভালো যে, এই ভাষাকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী বিপুল জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি সাহিত্যিকদেরও অবদান রয়েছে। মধুসূদন-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-জীবনানন্দ না জন্মালে এই ভাষার যে কী হাল হতো, তা অনুমান করা কঠিন নয়। অন্যদিকে এই ভাষার জন্য যারা কাজ করেছেন, যেমন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, দীনেশচন্দ্র সেন, প্রমথ চৌধুরী, বুদ্ধদেব বসু, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, হুমায়ুন আজাদ প্রমুখের জন্ম এই ভাষাকে একটা ভিত্তি দিয়েছে। উল্লেখ বাহুল্য নয় আজ, এঁরাই বাংলা ভাষার পরীক্ষিত মিত্র।

আব্দুল হাকিমের কবিতার একটা অংশ দিয়ে লেখাটি শুরু হয়েছিল। আজও এটি তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক। এতে বলা হয়েছিল, এদেশে জন্ম নিয়ে যে বাংলা ভাষাকে হিংসা করে, তার জন্মের ঠিক নেই, মানে সে জারজ; এখানকার ভাষায় শিক্ষা নিয়ে যার মন জুড়ায় না, সে এই দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাক। অর্থাৎ বাংলাদেশে থাকার অধিকার তার নেই। এক কথায় বললে, যে বাঙালি নিজের ভাষাকে গ্রহণ করতে পারে না, সে জারজ; নিজের ভাষায় যে শিক্ষাগ্রহণে অপারগ, তার বিদেশে চলে যাওয়া উচিত। বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে যারা বাংলা ভাষার শত্রু, তাদের প্রতি কবির এই উচ্চারণ আজও প্রযোজ্য।

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (9) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন sakim serniabet — ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৭ @ ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন

      আজকাল বাঙলা নাটকগুলির অাজব অাজব ভাষা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গীতা দাস — ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৭ @ ১১:২৯ অপরাহ্ন

      চঞ্চল আশরাফের নাম দেখে ভেবেছিলাম— লেখাটি বেশ তথ্যবহুল ও বিশ্লেষণধর্মী হবে। লেখাটির বিষয় বিবেচনায় পরিসর এত ছোট হবে ভাবিনি। “ধর্মানুভূতিকে ব্যবহার করে, গ্লোবাল কিংবা কর্পোরেট সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে, মান-ভাষার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে, কথ্য ভাষাকে লেখ্য ভাষায় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে, বানানরীতি ও শব্দ ব্যবহারে নৈরাজ্য ঘটিয়ে” —- এসবের উদাহরণ দেয়া যেত।
      প্রত্যাশা পূরণ হয়নি লেখাটি পড়ে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কালাম রেজা — ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৭ @ ১:৫১ পূর্বাহ্ন

      বাংলা ভাষাকে ধংস করছে ব্রাত্য রাইসু।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চঞ্চল আশরাফ — ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৭ @ ১১:৩৫ অপরাহ্ন

      গীতা দাস, লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আসলে আমার উদ্দেশ্য ছিল সংক্ষেপে এটা বলা যে, বাংলা ভাষার শত্রু কারা, কিভাবে এই ভাষার বিরুদ্ধে তারা সক্রিয়। ঠিকই বলেছেন, লেখাটি বিশ্লেষণধর্মী নয়; আপনি যা চেয়েছেন, তা এত অল্পে সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে এই লেখার বিশ্লেষণমূলক সম্প্রসারণ ঘটানোর ইচ্ছা আছে। শুভেচ্ছা জানবেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ধন মিয়া — ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭ @ ৫:২৫ পূর্বাহ্ন

      নিম্নমানের লেখা, হতাশা ব্যাঞ্জক, এসব বাজে, আলতু ফালতু লেখা কিভাবে যে ছাপা হয় কে জানে? কিছুই নেই একেবারে অন্তঃসারশুন্য!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চঞ্চল আশরাফ — ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭ @ ১:৫১ অপরাহ্ন

      ধন মিয়া, লেখাটি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না, আপনার মতো যারা বাংলা ভাষার শত্রু। আসলে এই লেখা পড়ে এবং এর প্রতি অন্যদের সমর্থন দেখে আপনারা হতাশ। সেটাই স্বাভাবিক। আরেকটা কথা, ধন মিয়া, ছদ্মপরিচয়ের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে কথা বলুন, যদি সাহস থাকে। আরেকটি কথা, ধন মিয়ার তো বাংলা ভাষায়
      লেখারই অধিকার নেই, কারণ তিনি ভাষাটি আয়ত্ত করতে পারেন নি। তার লেখা দু’টি বাক্যে দুটি ভুল দেখা যাচ্ছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ধন মিয়া — ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৭ @ ৮:১১ পূর্বাহ্ন

      এসব চঞ্চল আশরাফ, আতরাফ নামের ফাতরা লোকজন বাংলা ভাষাকে নিয়ে হাবিজাবি একটা কিছু লিখেই জ্ঞানগম্যি ফলাতে আসে! তোমাদের মত আউল ফাউল পাতি ছাতি কবি নামধারীদের বাংলা ভাষা শেখানোর ক্ষমতা রাখে ধন মিয়া। কবিতা, প্রবন্ধ এসব লিখতে মেধা প্রতিভা লাগে মিঃ চঞ্চল আশরাফ। এত বাজে, নিম্নমানের লেখা কিভাবে আর্টস বিডি নিউজে ছাপা হয় তা এক রহস্য বটে!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চঞ্চল আশরাফ — ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৭ @ ৩:৩২ অপরাহ্ন

      আপনার ভাষাতেই স্পষ্ট, আপনি পুরোপুরি মানুষ হতে পারেন নি। প্রাক-মানুষ বলা যেতে পারে আপনাকে, হে ধন মিয়া। আগে মানুষ হন, তারপর ভাষা নিয়ে, অন্যের লেখা নিয়ে বলেন।
      মানুষ প্রাক-মানুষকে শুভকামনা জানাতেই পারে। আপনাকেও জানালাম।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওবাইদুল ইসলাম — ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৭ @ ১১:২০ অপরাহ্ন

      বাংলা ভাষার একমাত্র শত্রু নব্য ধনীক শ্রেণী । এরা সকলেই নিজেদের পিছনে ফেলা আসা তিক্ত অতীতকে ভুলে থাকতে ও অস্বীকার করতে অন্যান্য বাঙ্গালীদের চেয়ে সেরা প্রমাণ করার জন্য ময়ুরপুচ্ছ গুঁজতে ভাল বাসেন ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com