চিন্ময় গুহ: ভারতবর্ষে ইন্ডিয়ান রাইটিং ইন ইংলিশ আসার পর থেকে চটজলদি সফলতার দিকে লোকে চলে যাচ্ছে

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৫২ অপরাহ্ন

Chinmoy Guhaবাংলা একাডেমির আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, ফরাসিবিদ ও অনুবাদক চিন্ময় গুহ, অতিথি হয়েছেন কালি ও কলম তরুণ লেখক পুরস্কার অনুষ্ঠানে, বক্তৃতা করেছেন জাতীয় কবিতা উৎসবের প্রথম পর্বে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যাপক, কয়েকবছর পড়িয়েছেন বাংলা বিভাগেও। দায়িত্ব পালন করেছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যেরও।

ছিলেন নতুন দিল্লির ফরাসি দূতাবাসে প্রকাশনা উপদেষ্টা। ‘দেশ’ পত্রিকার গ্রন্থসমালোচনা বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন এক দশক। লিখেছেন চিলেকোঠার উন্মাদিনী, গাঢ় শঙ্খের খোঁজে, আয়না ভাঙতে ভাঙতে, লা রোশফুকোর ম্যাক্সিম, আহাম্মকের অভিধান, অপু ট্রিলজি, ভিক্তর য়্যুগো, দাঁতঁ— এলিয়টকে নিয়ে Where the Dreams Cross: T S Eliot and French poetry এবং The Tower and the Sea এর মতোন পাঠকনন্দিত বই।
নিজের সাহিত্যকর্মের জন্য দুবার পেয়েছেন ফরাসী সরকারের নাইট-এর সম্মান, ২০১০ ও ২০১৩ সালে। বিশিষ্ট এই অনুবাদক ও প্রাবন্ধিকের সাথে ঢাকা ক্লাবের লবিতে আলাপ করেছেন কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিন, সঙ্গে ছিলেন কবি জাহানারা পারভীনও।


শিমুল সালাহউদ্দিন
: চিন্ময়দা, আপনাকে অভিনন্দন! গতকাল একটা অসাধারণ বক্তৃতা করেছেন আপনি, তরুণ লেখক পুরস্কারের যে আয়োজন, সেখানে; এবং আপনার বক্তৃতা নিশ্চিতভাবেই পুরো অনুষ্ঠানটাকে একটা ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। আপনার বিবিধরকম কর্মকাণ্ডের সাথে আমরা পরিচিত। সেটা লিখিত ফরম্যাটে যে রকম আছে, ভিডিও ফরম্যাটেও কিছু কাজ আমরা পেয়েছি, এর সাথে আপনার লেখালেখি অধ্যাপনা— এগুলো তো আছেই। তো আমরা আজকে যে ছোট্ট সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করছি, এর মধ্যে আসলে আমরা বাংলাদেশে বসে একজন সাধক মানুষ, অধ্যাপক চিন্ময় গুহকে বুঝতে চাই, চিনতে চাই।

আলাপ শুরুর আগে আমি ছোট্ট করে জানতে চাই— পরপর দুবার নাইটহুড পাওয়ার পর আপনাকে কি আমাদের স্যার বলে সম্বোধন করা উচিত?
চিন্ময় গুহ: ফরাসী দেশে ব্যাপারটা একেবারে আলাদা, একদম আলাদা। ইংরেজী কলোনিয়াল যে ডিসকোর্স তার থেকে একেবারে আলাদা। তবে, ১৮০৮ সালে নেপোলিয়ন, ভাবা যায় বলুন, তিনি ঠিক করলেন দেশ জয় করার পরেই যেটা সবচে বেশি দরকার সেটা হচ্ছে একজন একাডেমিশিয়ানকে সম্মান করতে হবে। মাথায় পাম গাছের পাতা দিয়ে সম্মান করা হবে। ওটা ১৮০৮ সালে শুরু হয়। সেটা মিনিস্ট্রি অফ এডুকেশন থেকে দেয়া হয়। তারপরে সেটা ২০১০ সালে দেয়া হয়েছিলো, ১৩ তে আমি আবার পাই। কিন্তু স্যার নয় এটাকে নাইট বলা যায়, শোভেলিয়্যে—
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আমি একটা ব্যাপার খেয়াল করেছি, সেটা হল আপনার বাংলা উচ্চারণ, ইংরেজি উচ্চারণ— যেহেতু আপনার কিছু বক্তৃতা আমি সরাসরি শুনেছি— দুর্দান্ত, খুবই সুন্দর। আপনি যদি আমাদেরকে ছোট্ট করে বলেন যে, আপনার শৈশব এবং আপনার পড়াশোনার ক্ষেত্রটা কেমন ছিলো, শুরু হয়েছিল কোথায়?
চিন্ময় গুহ: আমি তো ষাটের দশকে ছোট ছিলাম, আমার জন্ম পঞ্চাশের দশকের শেষে। আর সে সময়টা মানুষের বড় হওয়ার পক্ষে খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়, আমার মনে হয় দুই বাংলাতেই। তখন তৈরি হচ্ছে ভাষা, এখানে যেমন বাংলাভাষাকে ভালোবেসে তৈরি হচ্ছে একটা ডিসকোর্স, ওখানেও (কলকাতায়) স্বাধীনতা খুব তো পুরনো তখনো হয়নি, তখনো কিছু স্বপ্ন ছিল মানুষের। তখন, কিছু ক্ষোভ ছিল তো বটেই সমাজে। ক্ষোভ বাড়ছে, নশালকবাড়ি আন্দোলন আসছে; কিন্তু সেই সঙ্গে স্বপ্ন ছিল। আর আমাদের বাড়িতে, যেমন আপনাদের অনেকেরই বাড়িতে, খবর নেবেন, সেই সময় সেই প্রজন্মের আগের প্রজন্ম প্রচুর পড়াশোনা করতেন। আমার বাবা সারাদিন কাজ করে এসে খালি গায়ে লুঙ্গি পরে উনি শোপেনহাওয়ার পড়ছেন বা নীটশে পড়ছেন।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: মানে, এগুলো দেখতে দেখতে আপনি বড় হয়েছেন?
চিন্ময় গুহ: হ্যাঁ, দেখছি রবার্ট গ্রেইভস এর গ্রীক মিথস পড়ছেন, কোরান পড়ছেন, একদম নাস্তিক ছিলেন, উপনিষদ পড়ছেন, বোঝার চেষ্টা করছেন। এতে আমাদের খুব সাহায্য হয়েছে। আমার বাবার নাস্তিকতা আমাদের শিখিয়েছে যে প্রশ্ন করো, প্রশ্ন করার মধ্যে বড় হয়েছি। তারপরে ওখানে ছাত্র আন্দোলন হল। এটা কিন্তু ভীষণভাবে প্রভাবিত করল নতুন প্রজন্মকে। আমরা তার থেকে যেন, আগুনের মধ্য থেকে ফিনিক্সের মতো করে পুনর্জন্ম গ্রহণ করলাম। তারপরে আমি কলেজে গেছি। আমি বাংলা ভালো লিখতাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম আমি ইংরেজি পড়ব।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এই ঠিক করাটা কি একান্তই আপনার সিদ্ধান্ত নাকি পরিবারের কোন রকম ভূমিকা ছিল?
চিন্ময় গুহ: না, ওঁরা চাইছিলেন ডাক্তার হই আমার ঠাকুরদার মতো। আমি পদার্থ বিজ্ঞানে প্রথম হয়েছিলাম কিন্তু আমি ইংরেজি সাহিত্য পড়ার কথা ভাবি সেইন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। পড়তে পড়তে একদিন ক্লাশে অধ্যাপক পুরুষোত্তম লাল
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: পি. লাল?

চিন্ময় গুহ: হ্যাঁ পি. লাল, আপনি শুনেছেন তার কথা! আমি মনে করি যে আমার কানে শোনা ওরকম ইংরেজি ভূ-ভারতে শুনিনি কখনো। এতো মেলোডিয়াস, এতো সুরেলা তার কথা— ক্লাশে উনি মন্ত্রমুগ্ধ করে দিতেন আমাদের। দীর্ঘকায় পি.লাল। তো পি. লাল একদিন শেক্সপিয়রের হেনরি দ্য ফিফথ নাটক পড়াচ্ছিলেন, সেখানে একটি দৃশ্য আছে যেখানে ফরাসিতে কথা বলে চরিত্ররা। শেক্সপিয়রের নাটকে। তাতে ফরাসি ভাষার ধ্বনিময়তা, তার সৌকর্য্য আমাকে এমনভাবে আন্দোলিত করল যে, আমার মনে হল ফরাসী ভাষা শেখা উচিত। তারপরে আমি কবি অরুণ মিত্রের, আমি তো ছোটবেলা থেকে বাংলায় কবিতা লিখতাম। এখন আর বিশেষ কেউ জানে না।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এবং বলেনও না!
চিন্ময় গুহ: বলি না। কিন্তু আমার মনে হয় যে সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক। কারণ কবিতার ইনসাইডার পৃথিবীকে একটু অন্যভাবে দেখতে চায়, দেখতে পারে। দেখার একটা দৃষ্টি তৈরি হয়। জীবনানন্দ দাশ, সবাই পড়ে, আপনারাও পড়েন, সকলে ভালোবাসেন। আমি সক্কলের কবিতা পড়েছি। বিশেষ করে যাদের ভালোবেসেছি। অরুণ মিত্রকে আমি বিশেষভাবে ভালোবাসতাম, কারণ, মনে হয়েছিল যে ইংরেজি ধাঁচের বাইরে একটা অন্য রকম একটা বিকল্প ভাষ্য উনি দিচ্ছেন। যেটা আমি বিষ্ণু দে, সুধীন দত্তের ধারায় পাইনি। বা বুদ্ধদেব বসুর ধারায় পাইনি। একটা শ্রুতময় মগ্নতা। একটা মগ্ন স্রোত। একটা লাভা। একটা অভ্রময়তা। যেটা উন্মুক্ত, টানা গদ্যে লিখছেন। আমি মুগ্ধ হই, ওঁর প্রতি আকৃষ্ট হই, ওঁর কাছে যাই। এবং উনি তো বিখ্যাত ফরাসিবিদ ছিলেন। ওঁর মতো ফরাসি আমার মনে হয় উপমহাদেশে আর কেউই জানেন না। আমি আজও ওঁর কাছাকাছি আসি না। তো উনি আমাকে প্রভাবিত করতে থাকেন। আমি যখন ফরাসি ভাষা শিখি, দেখি নতুন এক জগৎ আমার চোখের সামনে খুলে যাচ্ছে। একটার পর একটা হাজার দুয়ার খুলে যাচ্ছে। এই যে আমি ইংরেজি পড়াচ্ছি কিন্তু ফরাসি ভাষার জগতটা যেটা প্রচণ্ড জীবন্ত, যেখানে সাহিত্য কখনো মিউজিয়াম পিস হয়ে থাকেনি, যেখানে সাহিত্য এবং দৈনন্দিন বাঁচা একটা বানবেঁধার বিন্দুতে এসে মিশেছে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: ওয়াহ!
চিন্ময় গুহ: সেখানে বাঁচাই আসল প্রশ্ন। কিভাবে বাঁচব! এবং সেই বাঁচাটাকে তার রক্ত-মাংস, আমাদের স্নায়ু-শিরা— সমস্ত কিছু উদঘাটিত হচ্ছে কবিতার মধ্যে। হ্যাঁ, সেটা বোদলেয়ার থেকে যেমন হয়েছে। সেটা প্রবাহিত হয়েছে জীবনের চওড়া মোহনায়। আমার মনে হল যে এটা নতুন পথ পেলাম। পড়ানোটা, পাঠটাকে আমি বিস্তৃত করতে পারছি, সংযুক্ত করতে পারছি পৃথিবীর সঙ্গে। এবং যেটা আমার মনে হয় রেনেসাঁসের একটা ধারা ছিল, বঙ্কিমরা এবং তাদের সমকালীন সকলেই, সকলেই পৃথিবীর খবর রাখতেন। এবং দেশকে বোঝার চেষ্টা করতেন। তো আমার মনে হয়েছিল যে, আমার অত্যন্ত, সাধারণ, সীমিত গণ্ডির মধ্যে এই চেষ্টাটা করি না কেন! আর কিছু না, যাতে পড়ানোটা আরো বেশি সজীব হয়। আমার বেঁচে থাকাটা আরো সুন্দর হয়। তাই আমি সবকটা ভাষা নিয়ে একসাথে বাস করছি। সহাবস্থান।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: হা হা হা। তার মানে আপনি কয়টা ভাষায় কমিউনিকেট করতে পারেন মানুষের সাথে? বাংলা, ইংরেজি, ফরাসি?
চিন্ময় গুহ: আমি ইতালীয় কিছু বলতে পারি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: ইটালি। এবং ভারতীয় ভাষা তো নিশ্চয়…
চিন্ময় গুহ: হ্যাঁ, আমাকে তো হিন্দি বলতেই হচ্ছে। আবার কিছুদিন আমি গুজরাটে ছিলাম। কাজেই আমার মনে হয় এটা ভালো একটা জিনিস। একটা মানুষ অনেক কটা জানালা নিয়ে হাঁটতে পারে। আমার পড়ানোটায় সুবিধা হয়েছে। ক্লাশে আমি একেবারেই পরীক্ষার জন্য পড়াই না। কিন্তু আমি দেখেছি ২৫০ জন ছাত্রের মধ্যে ২৪৮ জন উপস্থিত থাকে। আজকের যুগে বলা হয় নতুন প্রজন্মের ছাত্ররা পরীক্ষার জন্য তৈরি হচ্ছে বা নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু তারা কেন আসে তাহলে! এবং ক্লাশ না হলে তারা, আমি এমনও দেখেছি, যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে আমি রবীন্দ্রভারতীতে চলে গেলাম উপাচার্য হয়ে, তখন দেখেছি সবাই চিৎকার করে কাঁদছে, দেয়ালে মাথা ঠুকছে— চলে যাচ্ছেন কেন! তখন আমি বুঝতে পারছিলাম, আর কিছু নয়, আমি হয়ত দুএকটা প্রদীপ জ্বালাতে পেরেছি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অসাধারণ!
চিন্ময় গুহ: এবং কনফুশিয়াসের একটা কথা আমার খুব ভালো লাগে যে, অন্ধকারকে অভিশাপ না দিয়ে একটি প্রদীপ জ্বালাও। তো আমি একটা দীপমালা জ্বালাতে চেষ্টা করেছি। যখন লিখি, আমি দেখি যে, শঙ্খ ঘোষের কবিতাটা আমি অনেক সময় বলি যে, ভয়ে আমাদের কান বধির হয়ে আছে পৃথিবীর অবস্থা দেখে। অন্ধ হয়ে আছে চোখ। যেন হলুদ হতে থাকা শ্বেত করোটির সামনে দাঁড়িয়ে আছি একা। যখন আমার মনে হয় শব্দেরা মরে যাচ্ছে, শ্বেতস্রাব হচ্ছে শব্দ থেকে, মরা পাখির মতো পড়ে আছে; তখন তাতে একটা নতুন প্রাণ সঞ্চার করে তার মধ্যে একটা অন্তর্নিহিত গীতিময়তাকে অন্তর্ভূক্ত করে আমি একটা নতুন পরিসর খোঁজার চেষ্টা করছি, আমার মতো করে। সেটা আমি গদ্যটাকে নতুনভাবে লেখার চেষ্টা করছি। আমি অনুবাদ করেছি অন্য রকমের কবিদের। আমি বোদলেয়ার মালার্মে না করে আমি করেছি ইউজেন ইলিভিট।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অফকোর্স! আমি এটাই বলতে চাচ্ছিলাম যে মানবেন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় সম্ভবত আপনারা কয়েকজন মিলে কাজ করেছিলেন। ভারতীয় অন্যভাষার কবিতাগুলো আপনার অনুবাদ করেছিলেন। সেখানে বোধহয় আপনিও সংশ্লিষ্ট ছিলেন—
Forashi Night Nicchen Chinmoy Guhaচিন্ময় গুহ: না, আমার কবিতা ছিল না তাতে। আমি কাজ শুরু করার আগেই মানবদা ওটার কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু আমি ফরাসি একশ বছরের শ্রেষ্ঠ কবিতা অনুবাদের চেষ্টা করেছি, আমি জ্যাক প্রেভেয়ার করেছি। আমি সতেরো শতকের একটি ফরাসি গ্রন্থ, যা শোপেনহাওয়ার, নীৎশে, ভলত্যের, আঁদ্রে জিদ, এবং টি এস এলিয়টের মতে মানব জীবন সম্পর্কে গভীরতম অন্তর্দৃষ্টি দেয়া গ্রন্থগুলির একটি। লা রুশফোকোর ম্যাক্সিম অনুবাদ করেছিলাম।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: ম্যাক্সিম? ওই ছোট ছোট কবিতাগুলি নিয়ে? এক লাইনের মতো?
চিন্ময় গুহ: না, কবিতা নয়, জীবন সম্পর্কে একটি করে বাক্য যা একটু আগেই বললাম নীৎশে বলেছেন, ‘আধুনিকতম’। এবং সেটা দিয়ে আমি বোঝার চেষ্টা করছি, ইতিহাসের সাথে নিজেকে কানেক্ট করার চেষ্টা করেছি। আমি কালকেও ওখানে অনুষ্ঠানে বলেছিলাম— একটা মানুষ তো একা হাঁটে না। এলিয়ট যেমন বলেছেন, অতীতের অতীততা নয়, অতীতের প্রবহমানতা। অতীত আমার সঙ্গে হাঁটছে। তাই আমি লা রোশফুকো, ফ্লবেয়ার এদের নিয়ে আছি। আঁদ্রে জিদের একটি উপন্যাস আছে, লা পর্ত এত্রোয়াত, এটা অন্ধকারে মোমবাতিতে পড়া উচিত। পড়তে পড়তে মনে হয় হাতে যেন রক্ত লাগছে। রক্তাক্ত প্রেমকাহিনি। এই সবকিছু আমাকে সব সময় সজীব করে রাখে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনি তো একাডেমির মানুষ। আপনি যখন শিক্ষার্থী ছিলেন, স্টুডেন্ট ছিলেন— একাডেমি আপনাকে যা কিছু শিখিয়েছে তারচে কতবেশি আসলে আপনাকে শিখিয়েছে ওয়ার্ল্ড লিটারেচার?
চিন্ময় গুহ: অনেক বেশি শিখিয়েছে। কোন সন্দেহ নেই। কারণ, শিক্ষাব্যবস্থা আপনি তো জানেন, বিশেষ করে আমাদের দেশে ক্রমশ…. যে জিনিশের অভাব সেটা হল ইমাজিনেশন— কল্পনা। আমাদের ছোটবেলায় তবু ভালো কিছু র‌্যাপিড রিডার ছিল, সেই সময় স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর বই থাকত, যাতে আমরা জানতে পারি ইতিহাসকে। অনেক ছোটগল্প ছিল যে ছোটগল্পগুলো এখন আর পড়ানো হয় না। তারাশঙ্করের ছিল বিভূতিভূষণের ছিল, কেদারনাথের ছিল। এস ওয়াজেদ আলীর একটি ভারতবর্ষ নামে অসাধারণ প্রবন্ধ ছিল। এগুলো আস্তে আস্তে এখন মুছে যাচ্ছে। তখনকার পাঠকরা আমার মনে হয় এখনকার চেয়ে অনেক বেশি সচেতন ছিল। তাও তাই দিয়ে তো একটা মানুষ গড়া যায় না। মাইন্ডসেট তৈরি করার জন্য বাইরের ফিডব্যাক, সিগনালগুলোকে ধরতে হয় একটা এ্যান্টেনা দিয়ে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আমাদের দেশের এ্যান্টেনাগুলোর উচ্চতা কি যথেষ্ট? আমাদের বলতে আমি পশ্চিমবঙ্গের কথা যেমন বলছি, বাংলাদেশের কথাও বলছি।
চিন্ময় গুহ: আমার মনে হয় বাংলাদেশে আপনারা এই বুদ্ধিবৃত্তিক এ্যান্টেনাকে অনেক বেশি সজাগ রেখেছেন। কারণ আমি মনে করছি যে বাংলাভাষার প্রতি ভালোবাসা, মুক্তিযুদ্ধ, তারপর মাঝখানে কিছু সঙ্কট গেছে— এখন আবিষ্কার করার একটা চেষ্টা আমি চারদিকে দেখি। অনুবাদের চেষ্টা এখানে হচ্ছে পুরনো মহান লেখকদের। নিজেকে নতুন করে পুনর্নির্মাণের একটা চেষ্টা—পশ্চিমবঙ্গে আমার মনে হয় এটা বেশ কিছুটা কমেছে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: শঙ্খদার একটা কবিতার অনুষ্ঠান আমি ইউটিউবে দেখেছিলাম, যেটা আপনি উপস্থাপনা করছিলেন। বাংলা কবিতার বড় কবিদের আমরা হারাচ্ছি একে একে। সৈয়দ শামসুল হককে হারালাম এ বছর। আমরা বড় কবিদেরকে হারাচ্ছি একে একে। এখন যে অবস্থা বাংলা কবিতার, তা নিয়ে আপনার মতামত কী?
চিন্ময় গুহ: আসলে কী হয়েছে, সেটা হচ্ছে যে সত্যি বড় বড় কবিরা.. সৈয়দ শামসুল হক, শামসুর রাহমান আর নেই। আমাদের ওখানে সুভাষ মুখোপাধ্যায়, অরুণ মিত্র, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, উৎপলকুমার বসু…। সম্প্রতি আলোক সরকার মারা গেলেন। প্রধান কবিদের সকলেরই বয়স হয়েছে। অনেকেই নেই। নতুনেরা নতুন একটা ভাষা পুনর্নির্মাণের জন্য যে অভিনিবেশ দরকার, তা আমি খুব দেখছি না। হয়ত আরো বেশি করে ইন্টারঅ্যাক্ট করা উচিত সারা পৃথিবীর আবিষ্কারমালার সঙ্গে। এতোকিছু হচ্ছে সারা পৃথিবীতে, যেমন ফেডি জুডার কবিতা, গত ঢাকা লিট ফেস্টে আমি শুনলাম, প্যালেস্টেয়িান কবি— মনে হল একেবারে অন্য রকম। মাখনের মধ্যে ছুরি ঢুকিয়ে উনি কাজ করছেন। ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছেন পুরনো ভাষাজাল। এগুলো সম্পর্কে উৎসাহ আরো বেশি দরকার। আমার মনে হয় অনুবাদটা খুব বেশি দরকার। পাঠ করা দরকার আরো অনেক কিছু। আমার মনে হচ্ছে যে একটা যন্ত্রণাক্ত সময়ের ভেতর আমরা আছি, হয়ত আমাদের আরো বেশি চেষ্টা করতে হবে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: চিন্ময়দা, আপনি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন, আপনি একটু আগেই আমাদেরকে বললেন যে আপনার শিক্ষার্থীরা কাঁদছিল, যখন আপনি অন্য একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। তো আপনার কোন কাজগুলোকে আপনি সবচে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন? আপনি তো সবার আগে নিজেই নিজের পাঠক। আপনার কাজকর্মের সর্বপ্রথম দ্রষ্টা তো আপনি। আপনি যদি আপনার জীবনের দিকে তাকান, আপনার কোন কাজগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়?
চিন্ময় গুহ: আসলে যেটা আমি প্রথমে বলেছি, আমার কয়েকটা ভাষা জানা আছে। বিশেষ করে বাংলা, ইংরেজি, ফরাসি— আমি রসিকতা করে বলি যে আমি পড়ি ফরাসি, পড়াই ইংরেজি আর লিখি বাংলা। এই তিনটাকে সেতারার মতো একটা তানপুরার তারের মতো তরঙ্গদৈর্ঘ্যে, ওয়েভলেংথে মেলাতে চেষ্টা করেছি। এটাই মনে হয় আমার জীবনের প্রধান কেন্দ্রীয় অবস্থান। এটা আমার পড়ানোটাকে প্রভাবিত করেছে, আমার লেখালেখিকে প্রভাবিত করেছে। আমি ক্লাশে যখন পড়াই, আমি সব সময় জীবনের সাথে কানেক্ট করার চেষ্টা করি সারা পৃথিবীর সঙ্গে, আমার সীমিত ক্ষমতায়। আমার চাইতে আরো অনেকেই অনেক বেশি পেরেছেন আমি শিওর, এখানেও অনেকেই কাজ করেন, আমি এখানকার অনেককে অনেক বেশি শ্রদ্ধা করি একাডেমিক লোকেদের মধ্যে। কিন্তু আমি আমার সীমিত ক্ষমতায় সেই চেষ্টা করেছি এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি যে কানেক্ট করতে। হাওয়ার্ড এন্ড বলে একটা উপন্যাস আছে ই এম ফস্র্টারের, তাতে একটা এপিগ্রাফ আছে, যেটাকে আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। ওটার প্রথম লাইনটা হচ্ছে অনলি কানেক্ট। সংযুক্ত থাকো। সংযুক্ত না থাকলে, দুঃখরক্তসঞ্জাত না হলে, মাটি থেকে উত্থিত না হলে তার কোন অর্থ হয় না। কাজেই আমি চেষ্টা করছি অনুবাদ করার সময়, ক্লাশে পড়ানোর সময়, কখনো লেখার সময় বা বলার সময় আমি নানান তথ্যচিত্র করেছি, অরুণ মিত্রের উপর করেছি ইংরেজিতে, যাতে অন্য লোকেরা জানতে পারেন। বিভূতিভূষণের উপর, কালিপ্রসন্নের উপর এবং প্যারীচাঁদ মিত্রের উপর— যাতে আমি আমার ইতিহাসকে অন্যদের সাথে ভাগ করে নিতে পারি এবং নিজেও শিখতে পারি। আমি কৃত্তিবাসের রামায়ণ-এর উপর ডকুমেন্টারি করেছি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: দাদা, পুরুষোত্তম লালের কথা বলছিলেন। আমি যেটুকু পড়েছি, উনার অসাধারণ অবদান আছে এই সময়ের পশ্চিমবঙ্গের যে বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান তার উন্নয়নে উৎসারণে, বিশেষত ইংরেজি ভাষায় লেখা বিষয়ে এবং আপনি যেটাকে বললেন অনলি কানেক্ট, পৃথিবীর সাথে পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যিকদের যোগাযোগসেতুটা হবে সেটা তৈরি করায়। উনার সান্নিধ্যের অভিজ্ঞতাটা যদি আমাদেরকে বলেন। এবং উনার সবচে বড় অবদান কী সেটাও যদি বলেন..।
চিন্ময় গুহ: হ্যাঁ, দুটো বলি একসঙ্গে। সেটা হল পি. লালের আগে যেটা বলা দরকার সেটা হল আমার আগে ইংরেজির যে ছাত্ররা ছিলেন, খুব প্রভাব তাদের, বড় বড় নাম। যেমন: বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী, বিষ্ণু দে— এরা সকলেই কিন্তু ইংরেজির ছাত্র। কিন্তু এরা বাংলাকে সমৃদ্ধ করেছেন। এই গাছের চারায় জল দিয়েছেন। যেটা এখন কমে যাচ্ছে। বহির্মুখী হয়ে যাচ্ছে। ইংরেজি ভাষার প্রতি একটা আকর্ষণ। পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ করে ভারতবর্ষে ইন্ডিয়ান রাইটিং ইন ইংলিশ আসার পর থেকে চটজলদি সফলতার দিকে লোকে চলে যাচ্ছে।
আমি সেই বহির্মূখী না হয়ে অন্তর্মুখী হতে চেয়েছি। পি. লাল যেটা করেছিলেন সেটা খুব ইম্পর্টেন্ট একটা ব্যাপার, আজকের ইন্ডিয়া রাইটিং এন্ড ইংলিশের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তিনি কখনো বাণিজ্যিক হতে চাননি। তিনি কখনো চাননি সারা পৃথিবীতে সকলের চোখ ধাঁধিয়ে দিতে। তিনি চেয়েছিলেন রাইটার্স ওয়ার্কসপ, একটি প্রায় কুটীর শিল্পের মতো সংস্থা— যারা উড়িষ্যার কোটকি শাড়ি দিয়ে বাঁধিয়ে কবিতার বই করে, কম দামে। এবং উনি কাদের লেখা ছেপেছিলেন ইংরেজিতে? প্রীতিশ নন্দীর লেখা। উনি বিক্রম শেঠের লেখা প্রথম ছাপেন। সুতরাং প্রথম যারা জানলা খুলে দিলো গত শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে, বিশ্বের জন্যে, তাতে আপনি ঠিকই বলেছেন, পি. লাল তাদের সর্বাগ্রগণ্য। কিন্তু পরে যখন দেখলেন যে এরা নিজেকে ভুলে নিজের শিকড় ভুলে বিশ্বে প্রসারিত হতে চাইল, তখন, সেটাকে উনি সমর্থন করছেন না কিক্ত। উনি চাইছেন আরো কিছু। উনি চাইছেন নিজের মধ্যে স্থির হয়ে আত্মখননের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়া একটি বিদেশি ভাষা চর্চাকে। এটা আমার মনে হয়েছে পি. লালের অসাধারণত্ব। কিন্তু আমরা কথা রাখতে পারিনি। অন্যেরা সেটা করতে পারেনি। কিন্তু উনি নিশ্চয় হি ওয়ার্কস লাইক এ গার্ডেনার— বাগানের মালির মতো চারাগুলোয় জল দিয়েছিলেন।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: দাদা, বাংলাদেশে তো আপনি অনেকবার এসেছেন, তো এই দুই দেশের যে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, এটাকে আমরা বলতে পারি ইন্টেলেকচুয়াল হাইট— এটাকে আপনি কিভাবে দেখেন? কোন পার্থক্য কি আপনি দেখতে পান? আপনাকে বলা যাচ্ছে না যে মোটাদাগের পার্থক্য দেখেন কিনা! কারণ, আপনি সূক্ষ্মচিন্তার মানুষ।
চিন্ময় গুহ: আমার যেটা মনে হয় বাংলাদেশের সাথে ভারতবর্ষের কিছু প্রকৃতিগত তফাত আছে। কারণ, বাংলাভাষা পশ্চিমবঙ্গে অনেক ভাষার একটি। কাজেই সেই গুরুত্ব পাওয়া সম্ভব নয় নানা কারণে। কিন্তু এখানে যে ভালোবাসা এবং সঙ্কট আমি বুঝি নানা সমস্যা তো আছেই কিন্তু তার মাঝখানে ভাষাকে নিয়ে এবং আবিষ্কারের সঙ্গে সেটাকে যেভাবে যুক্ত করা হয়েছে এবং চেষ্টা চলছে ওটা আমরা ওখানে ততটা পারিনি। সাম্প্রতিককালে আমার মনে হয় কোথায় যেন সুর কেটে গেছে। হয়ত রাজনৈতিক অবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থা, উদ্দেশ্যহহীনতা, ইংরেজির প্রতি আকর্ষণ। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান অত্যন্ত ঠিক বলেছেন, যে পশ্চিবঙ্গে কিছুদিন পরেই, তুলনা করা উচিত না বাংলাদেশের সঙ্গে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে ইংরেজির প্রতি মনোযোগী হতে হয়। না হলে সে কম্পিটিশনের বাজারে হেরে যাবে। সে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সুতরাং ততটা অভিনিবেশ ওখানে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। যারা আমরা পুরনো প্রজন্মের মানুষ আছি তারা চেষ্টা করে চলেছি, গৌতম ভদ্রের মতো মানুষ আছেন, সৌরীণ ভট্টাচার্য, শক্তিনাথ ঝা, সুধীর চক্রবর্তীর মতো আশীষ নন্দীর মতো, সব্যসাচী ভট্টাচার্যের মানুষ আছেন। এখনো চেষ্টা একটা চলছে আত্মআবিষ্কারের। কিন্তু সামনে সঙ্কট আসছে। কাজেই একটা কানাগলির দিকে আমরা যাচ্ছি। কিন্তু এখানে আমার মনে হয়েছে, আমার মনে হয় আমি ভুল বলছি না, প্রোগ্রেসিভ ফোর্সেস, ধর্মীয় কারণে, নানা কারণে একটা প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে। এটার মধ্যে একটা ভীষণ সদর্থক দিক আছে সেটার দিকে আমি চেয়ে আছি। এখানে যখন আসি মুগ্ধ হই। তরুণ-তরুণীদের মধ্যে একটা সদর্থক দিক আজকে আমি দেখেছি। অত্যন্ত উন্মূক্ত তাদের মন। ওখানে যে নেই তা নয়। নিশ্চয় আছে। এখনো লোক কাজ করে। অসম্ভব গভীর গবেষণা চলছে ওখানেও কিছু কিছু। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে যে বুদ্ধিজীবীদের পতনের মুহূর্ত এসেছে পশ্চিমবঙ্গে। সেটা একেবারেই ভালো কথা নয়। একটা বিপদের লাল সংকেত দেখতে পাচ্ছি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এই বিপদ থেকে উদ্ধারের উপায় কী?
চিন্ময় গুহ: আমার মনে হয় একটু আগে যেটা আমি বলেছিলাম— আত্মখনন, ইতিহাসের সাথে সংযুক্ত হওয়া এবং নিজের দেখার দৃষ্টি… কথাটা খুব সুন্দর, শঙ্খ ঘোষ একটা বক্তৃতায় এই শব্দদুটো ব্যবহার করেছেন— দেখার দৃষ্টি। তো দেখার দৃষ্টিকে নতুন করে চিনে নেয়ার চেষ্টা চলুক এটাই উদ্ধারের পথ আপাতত।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: দাদা আপনি বিশ্বসাহিত্যের খুবই মনোযোগী পাঠক। যেহেতু নিজে অনুবাদ করেন বা করছেন। বিশ্বসাহিত্যে যে বড় কাজগুলো রয়েছে, আপনি গত ত্রিশ বছরে, আমি জাস্ট ত্রিশ বছরের কথা বলছি, এটা ২০১৭, আপনি কি ১৯৭৬ পর থেকে বাংলাসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কাজগুলোর কথা বলবেন? বিশ্বসাহিত্যের সাথে যেটার তুলনা হতে পারে? সেটা গদ্যে হতে পারে। পদ্যে হতে পারে। উপন্যাসে হতে পারে।
চিন্ময় গুহ: আপনি যে কালটা চিহ্নিত করলেন, ছিয়াত্তর, সেটা খুবই কৌতূহল উদ্দীপক। কারণ, লক্ষ করবেন, দুই বাংলারই এখনকার শ্রেষ্ঠ লেখকরা তাদের প্রধান কাজগুলি তার আগে করেছেন।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: হ্যাঁ, এ জন্যই আমি ছিয়াত্তর বলেছি।
চিন্ময় গুহ: হ্যাঁ তারপর কি একটা ডিক্লাইন এসেছে? আমরা কি একটা খাঁদে পড়েছি? আমরা কি একটা অন্ধকার কানাগলির দিকে যাচ্ছি? সত্যিই কি এখন একজন জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে আসবেন? কিন্তু যখন আমি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস পড়ি, হাসান আজিজুল হক পড়ি, আমার মনে হয়, এই তো এটার জন্য বসে ছিলাম।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: ওটাও আগে লেখা।
চিন্ময় গুহ: হ্যাঁ, কাজেই একটা ডিক্লাইন আসছে। আমরা প্রতিরোধ করব। সার্ত্রের একটা সুন্দর কথা আছে, মৃত্যুর কয়েকদিন আগে ১৯৮০ সালে সার্ত্র, যিনি আমার আদর্শ, রোমা রোঁলা এবং সার্ত্র….
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: রম্যাঁ রলাঁ তো অসাধারণ। বিশেষ করে ইন্ডিয়ার সাথে তার যে সম্পর্ক সে কারণে, রবীন্দ্রনাথের সাথে সম্পর্কের কারণে।
চিন্ময় গুহ: হ্যাঁ হ্যাঁ। এবং যে রোলা ভারতবর্ষের সাথে সংযুক্ত ছিল সে ভারতবর্ষ তো আপনাদেরও ভারতবর্ষ। সেটা আপনাদেরও ইতিহাস, ১৯৪৭।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: সে তো বটেই।
চিন্ময় গুহ: রম্যাঁ রলাঁর বিখ্যাত উপন্যাস জ্যাঁ ক্রিস্তোফ-এর, দশ খণ্ডের, তার শেষ হচ্ছে—“নু ভোয়াসি আরিভে। আহ, আমরা পৌঁছেছি। লাঁফাঁ, কম ত্যু এ লুর, খোকা, তুই কি ভারী রে! তুই কে! কে তুই! জাঁ ক্রিস্তফ-এর শেষ লাইন হচ্ছেঃ ‘জ্য স্যুই ল্য জুর কি ভা নেৎর’, আমি সেই দিন যার জন্ম হচ্ছে। রম্যাঁ রলাঁ বলেছেন— (ফরাসীতে বলছেন) আমি নতুন করে জন্ম নেব নতুন যুদ্ধের জন্যে। আর জাঁ পল সার্ত্র আবার অন্য আদর্শ, ১৯৮০ সালের এপ্রিল মাসে, ১৫ এপ্রিল মৃত্যুর আগে উনার শেষ কথা হচ্ছে, (ফরাসী) আমার মনে হচ্ছে এই পৃথিবী কুৎসিত, ভয়ঙ্কর এবং আশাহীন। (ফরাসী) কিন্তু আমি প্রতিরোধ করছি। আমরা মনে হয় সকলেই বিশ্বের যে সঙ্কট চলেছে তার মাঝখানে আমরা শপথ নিচ্ছি প্রতিদিন। আপনি নিচ্ছেন আমি নিচ্ছি, অন্তত যারা সচেতন মানুষ আছেন।
Gayatri Chakravarti Spivak Er sathe CHinmoyশিমুল সালাহ্উদ্দিন: সাহিত্যে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন? আমি জানি যে আপনি একটা গণমাধ্যমে উপদেষ্টার কাজ করেন। তো গণমাধ্যমের যে ভূমিকা সাহিত্যে, তাকে আপনি কিভাবে দেখেন? ধরেন একজনকে বড় করা একজনকে ছোট করা— এই চাবিকাঠি যখন কারো হাতে থাকে, এই যে ব্যাপারটা, একটা পত্রিকার ভূমিকা, কোলকাতা বা ঢাকায়, কিংবা একটা চ্যানেলের ভূমিকা….
চিন্ময় গুহ: এরা নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে!
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এই ব্যাপারটাকে আপনি কিভাবে দেখেন?
চিন্ময় গুহ: এগুলো থাকবেই। এগুলো অনেক বেড়ে গেছে এখন। এখন আশিটা একশটা চ্যানেল দেখছে লোকেরা। প্রভাবিত হচ্ছে।
chinmoy Guha-1শিমুল সালাহ্উদ্দিন: এবং মজার বিষয় হল, ধরেন আশিটা চ্যানেলের ভেতর দশটা চ্যানেল দশজন লেখককে বড় লেখক বলছে। ফলে যিনি পাঠক উনি কিন্তু বিভ্রান্ত।
চিন্ময় গুহ: উনি বিভ্রান্ত। কাজেই একটাই পথ সেটা হচ্ছে ফিরে যাওয়া সেই জাদু-লণ্ঠনের কাছে। সেই জাদু আয়তক্ষেত্রটির কাছে, যার নাম বই। সেই বই, বইয়ের দুটি পাতা ডানা মেলে আমাদের উড়িয়ে দিতে পারে আবার মহাশূন্যে। আত্মআবিষ্কারের ওই জাদু-লণ্ঠনই হল পথ, বই। কাজেই পুনঃপঠন ছাড়া কোন পথ নেই। আমরা একেবারেই প্রভাবিত যাতে না হই, আমরা সকলকেই বলব, আমি নিজেকেও বলি প্রতিদিন যেন আমি বিভ্রান্ত না হই। আমি যেন আমার ভোকেশন থেকে বিচ্যুত না হই। আমি যেন এই আশ্চর্য ম্যাজিক-লণ্ঠন, জাদু-লণ্ঠনটি যার নাম বই তার প্রতি মনোযোগী হতে পারি। যাতে তা খুলে দিতে পারে নতুন দিগন্ত।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অসাধারণ বলেছেন। আমি আপনার সাথে খুবই একমত। এইবার যে ঢাকায় এলেন এবারের অভিজ্ঞতা কেমন?
চিন্ময় গুহ: এতো কম সময়ের জন্য আসি, বেড়ানোর সুযোগ হয় না। এর আর কোন কারণ নেই। প্রধান কারণ হচ্ছে আমি নিজেকে নিয়ে এতো ব্যস্ত থাকি, নিজের বিষয়ে আমাকে মন দিতে হয়। ছাত্রদের জন্য সব সময় আমি চিন্তিত থাকি। মধ্যরাতে আমি ভাবি ওই ছাত্রটির কী হবে! সুতরাং আমি আমার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে বেরোতে পারি না। এটা একটা সীমাবদ্ধতা আমার ক্ষেত্রে। পরে আমি অনেক সময় ভেবেছি অনেকে তো তা করে না। তারা ঘুরে বেড়ান। বিদেশে যান। আমি গেছি, যাই, কিন্তু যতটা যেতে পারতাম, যতটা সময় কাটানো উচিত ছিল সেটা পারিনি। আর এখানে এসে সব সময় ভীষণভাবে উদ্ভাসিত হই। একই ভাষার মানুষ তারা অন্যভাবে বাঁচছেন, অন্যভাবে স্বপ্ন দেখছেন, অন্যভাবে সংগ্রাম করছেন, অন্যভাবে রক্তাক্ত হচ্ছেন— তার সঙ্গে সংযুক্ত হলে আমি নিজেই সমৃদ্ধ হব। কিন্তু সেটা যতটা হওয়ার দরকার ছিল আমি সেটা পারিনি। এটা আমার ব্যর্থতা বলব। সময় খুঁজে না পাওয়া। যে আবিষ্কার আমি করতে পারতাম এতো কম সময়ের মধ্যে সেটা পেরে উঠিনি। কিন্তু আমি বুঝি, বহু লোককে আমি শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ আমার প্রিয় লেখক। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তো বটেই। অসংখ্য মানুষ এখানে দেখেছি যারা বাঁচার নতুন রসদ দিতে পারে আমাকে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অসাধারণ বলেছেন! বাংলাদেশ নিয়ে আপনার ধারণা আমরা একটু আগে শুনেছি, যেটা ছোট্ট করে জানতে চাই, এই দেশের কবিতা আপনার কাছে কি ভিন্ন স্বাদের মনে হয়? কলকাতায় এখন যে ধরণের কবিতা চর্চিত হচ্ছে তার চেয়ে?
চিন্ময় গুহ: ধরন কিছুটা আলাদা। এটা মানতেই হবে। চরিত্রটা বোঝা যায়। যেহেতু বিদেশি সাহিত্য পড়াই, আমার সব সময় দূর থেকে দেখতে ভালো লাগে। একটা ডিসটেন্স কিন্তু কাজে লাগে সব সময়। যেমন একটা জিনিসকে যদি খুব কাছ থেকে দেখি আমি দেখতে পাব না। একটু দূর থেকে যদি দেখি, একটা নিরপেক্ষ বিচার সম্ভব। তো আমার মনে হয়েছে কোথায় একটা তফাৎ আছে। কিন্তু এ বিষয়ে তো সন্দেহ নেই, যা মহৎ তার ভেতর একটা সুর ও সমন্বয় থাকে। কাজেই এখানকার শ্রেষ্ঠ লেখা ওখানকার শ্রেষ্ঠ লেখার মধ্যে একটা অন্তর্নিহিত সাযুজ্য তো আছেই।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনি তো একজন শিক্ষক এবং ভালো শিক্ষক— আপনার প্রিয় শিক্ষক কারা?
চিন্ময় গুহ: পি. লালের কথা বললাম। আমার প্রিয় শিক্ষক ছিলেন আমার মাস্টার মশাই জ্যোতিভূষণ চাকী। স্কুলে। ভাষাবিদ। বহু ভাষাবিদ। কখনো কখনো কাঁদতে কাঁদতে ঢুকতেন ক্লাশে। কাঁদতে কাঁদতে ঢুকছেন, টেবিলের উপর কাঁদতে কাঁদতে মাথা রেখে বসে আছেন। সারারাত্তির তিনি মঙ্গলকাব্যের একটা লেখা পড়ে আনন্দে কাঁদছেন। এবং সে কান্না আমাদের মধ্যে অনেক সময় ভাগ করে নিচ্ছেন। এই রকম অভিজ্ঞতা আমাকে নতুন করে বাঁচার সুযোগ দিয়েছে, আকাঙ্ক্ষা দিয়েছে। আর আমি শুনতাম প্রেসিডেন্সি কলেজের বিখ্যাত অধ্যাপক তারকনাথ সেন তিনি অনেক রাত্রি অবধি পড়াতেন, বিরাট সিঁড়ির নিচে ছোট্ট একটা ঘরে, কিংবদন্তি অধ্যাপক তারকনাথ, তিনি নাকি বলতেন, প্রত্যেকটি গাছের পাতার পড়ার শব্দ আলাদা। সে রকম প্রত্যেকটি কবিতার প্রত্যেকটি অক্ষর আলো, প্রবাল রঙের আলো।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনার শিক্ষকতা জীবনের সবচাইতে বড় অর্জন আমাদেরকে জানান। যেটা ভাবলে আপনার চোখে জল আসে।
চিন্ময় গুহ: আমি যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাচ্ছি তখন দু’শ পঞ্চাশ জন ছাত্রছাত্রী- তারা হয়ত কেউ প্রেসিডেন্সি, সেন্ট জেভিয়ার্স,নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্চ মিশন ব্রেবোন, বেথুন, … থেকে এসেছে আবার কেউ হয়ত হাওয়াই চটি পরা গরীব, রানাঘাট থেকে এসেছে— তারা সকলে মিলে কাঁদছে একসাথে দাঁড়িয়ে, এটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য রূপকথার মতো মনে হয়েছে। মনে হয়েছে সত্যি কি আমি পেরেছি! সত্যি কি আমি এর যোগ্য! অশ্রুর চেয়ে বড় শ্রদ্ধার্ঘ্য আর কী আছে!
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আমাদের দেশের সকল শ্রেণির শিক্ষকদের জন্য আপনি কী বলবেন? একটা টিপস যদি দেন! শিক্ষকরা কিভাবে ভালো শিক্ষক হবেন!
চিন্ময় গুহ: একটা কথা সঙ্গোপনে বলি, আমার মনে হয়েছে যে শিক্ষাব্যবস্থার অবনমন অন্তত পশ্চিমবঙ্গে, এবং আমার এখানকার বন্ধুরা বলে, হয়ত এখানকারও, ঘুণ ধরে গেছে। আমার সবচে বেশি খারাপ লাগে, একথাটা বলতে আমার সঙ্কোচই হচ্ছে— সহকর্মীদের ভেতর কোথাও একটা আন্তরিকতার অভাব। ক্লাশ যে যথেষ্ট স্বার্থক হচ্ছে না তার মূলে কিন্তু ছাত্রদের চেয়ে অধ্যাপকদের আমি দায়ী করব। একটু আগে যে বললাম অনলি কানেক্ট, তারা সংযুক্ত নয়। সংযুক্ত নয় বলে তাদের পাঠ এবং পাঠদান অর্থময় হয়ে ওঠে না। কাজেই আমি বলব সংযুক্ত থাকুন। রক্তাক্ত হোন এবং সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের পাঠদান প্রায় জাদুদণ্ডে বদলে যাবে।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার অনেক সময় নিয়েছি আমরা। আরো অনেক কথা জানবার ছিল, অনেক আড্ডা দেওয়ার আছে। কিন্তু উপায় নেই আপনার তো যেতে হবে। সবশেষে বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা এবং সালাম নিন।
চিন্ময় গুহ: আমি তো এখানকারই মানুষ।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: হ্যাঁ দাদা, ভালো কথা, আপনার জন্ম কোথায়!
চিন্ময় গুহ: আমার জন্ম কলকাতায় কিন্তু আমার পূর্বপুরুষেরা এসছিলেন বরিশাল থেকে। আমার স্ত্রী বরিশাল এবং আমিও বরিশাল। আমার মা পাবনা। বাবা বরিশাল। সুতরাং বুঝতেই পারছেন….
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আরে আপনি তো আমাদের লোক! কলকাতা কলকাতা ওসব বলে কি লাভ আছে! আপনি আমাদের।
চিন্ময় গুহ: হ্যাঁ সেটাই। আমার উৎস এখানেই। কাজেই আমি আপনাদের আপনজন।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যে আমাদের এতো সময় দেবার জন্য।
চিন্ময় গুহ: আপনার সাথে কথা বলে খুব আনন্দ পেলাম, অনেক ধন্যবাদ আপনাকেও।

শ্রুতিলিখন সহায়তা: তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ
Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (7) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন bulu mukhopadhyay — ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৭ @ ১:২৯ অপরাহ্ন

      The title of the novel mentioned here , written by E M Forster is Howard’s End. A well arranged interview with one of the leading academic person of present time

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Nuray Alam Raympu — ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৭ @ ৩:২৪ অপরাহ্ন

      পুরো সাক্ষাতকারটি পড়ে , খুব ভাল লেগেছে।
      বেশি ভাল লেগেছে তিনি আমাদেরই উৎসের লোক কিন্তু আত্মখননি পায়রা, বহুধা ভাষা ও বিশ্বসম্ভারে পূর্ণতা দেখে।

      সুমিষ্টতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার এক অমোঘ সংযোগ থাকে , সাক্ষাতকারটি পড়ে আমি যেন সেই সংযোগটি পেয়েছি ।

      যেকোনো সাক্ষাতকার পড়ার সময় আমি, সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর প্রশ্নগুলিতে খুব মনোযোগ দিয়ে থাকি, কারণ উত্তরদাতা সেটিই বলেন, যা বলার প্রশ্ন তিনি পান।
      এ ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন আমাকে উদ্দীপ্ত করেছে।

      একজন মানুষ অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা, সংগ্রাম ও অধ্যয়নপথের হাজার মাইল কণ্টক পথ পাড়ি দিয়ে আসেন ।

      কিন্তু একটি সাক্ষাতকার সে পথের সঞ্চিত মধু।

      এই মধুতে আমি খুব হৃদ্য ও তৃপ্ত হয়েছি।

      শঙ্কা ও ধ্বস যে, শিক্ষকদের শিক্ষক হয়ে উঠা নিয়ে। আমাদের দেশের মতোই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক হয়ে উঠার ঘাটতি এই সাক্ষাতকারে লক্ষণীয় বিষয় হিসেবে মূর্ত হয়ে উঠেছে।
      ঠিক এই কারণেই একটি প্রশ্নের খুব দৃঢ়তা পাই ‘ আমাদের দেশের এন্টেনাগুলোর উচ্চতা কি যথেষ্ট? ‘

      অনেক ধন্যবাদ,
      সময়োপযোগী সাক্ষাতকারটি নেয়া এবং দেয়া দু’জনের জন্যই ।

      এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর সকলকেও ধন্যবাদ জানাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লোকমান হেকিম — ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৭ @ ৪:৪৯ অপরাহ্ন

      ” মনে হয় সকলেই বিশ্বের যে সঙ্কট চলেছে তার মাঝখানে আমরা শপথ নিচ্ছি প্রতিদিন।”

      বহুদিন পর একটি চমৎকার সাক্ষাৎকার পড়লাম। একটানে। তবে তার সাক্ষাৎকারে তার সমসাময়িক বা আয়না ভাঙতে ভাঙতে বইতে যাদের বর্ণনা করেছেন চিন্ময়, তাদের প্রসঙ্গ আরেকটু বেশি করে আসতে পারত।

      অসাধারন এই সাক্ষাৎকারটির জন্য শিমুল সালাউদ্দিনকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিপ্লব মজুমদার — ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭ @ ১২:০৩ অপরাহ্ন

      সকালটা রাঙিয়ে দিলেন শিমুল। অনেক ধন্যবাদ এত প্রাঞ্জল ও স্বতস্ফূর্ত সাক্ষাৎকারটার জন্য। আপনার শুধু সাক্ষাৎকারই নেয়া উচিত, অনেক দিন ধরে আপনার নেয়া সাক্ষাৎকার আছে আমার ভাললাগার তালিকায়।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আহমেদ কামাল — ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭ @ ১২:১০ অপরাহ্ন

      আফসোস লাগে, অধ্যাপক পি.লালের মত আমাদের পূর্ববঙ্গে কেউ নাই। একটা রাইটার্স ওয়ার্কশপ খুব জরুরি এদেশে। কিন্তু করাবে কে? আমার অনেক টাকা থাকলে অবশ্য আমি শিমুলকে দায়িত্ব দিতাম। এই লোকটার পড়াশোনার সাথে সাথে সাংগঠনিক তৎপরতায় আমি মুগ্ধ। রাষ্ট্রের উচিত শিল্প-সংস্কৃতির উন্নয়নে এই লোকটাকে কাজে লাগানো। যথারীতি, এটাও একটা ভাল ইন্টারভিউ হয়েছে, একটানে পড়া গেল।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাহিদ সুমন — ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭ @ ১২:২৬ অপরাহ্ন

      চমৎকার কাব্যিক আলাপচারিতা শিমুল। অভিনন্দন তোমাকে। বেশ ভালো করেই জানা হলো চিন্ময় গুহকে। এবার তাকে পাঠ করার পালা।

      সাহিদ সুমন
      দর্শন বিভাগ, জাবি

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com