অতঃপর, তিনি এলেন ছুটির নিমন্ত্রণে

অলভী সরকার | ৩১ জুলাই ২০১৭ ১২:৩১ অপরাহ্ন

Shilpaguru Safiuddin ahmedবেশ ভোরে আমার ঘুম ভেঙে গেল।

ঘর থেকে বেরিয়ে, লম্বা করিডোর ধরে এগোই, একেবারে শেষ মাথায় গ্রিল দেয়া বারান্দা। এখান থেকে তাকালে হলের মূল দরজা দেখা যায়। গার্ড মামা গেইট খোলেন নি এখনো। অত তাড়াও নেই, দরজা খোলার। গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনেকেই বাড়ি গিয়েছে। আমরা অল্প কজন থেকে গিয়েছি হলে। ছুটি শেষ হলেই মাস্টার্স পরীক্ষা।

সারারাত বৃষ্টি হয়েছে। কেমন শীতের মতো ঠাণ্ডা। গাছের নরম পাতাগুলো ঝকঝক করছে। কামিনী, মধুমঞ্জরী, হাসনাহেনা- চারপাশে বিচিত্র সুঘ্রাণ। দক্ষিণদিকের এই বারান্দায় দাঁড়িয়ে বামে তাকালে পাশাপাশি দুটি নিমগাছ। পাঁচ বছর আগে, যখন হলে প্রথম সিট পাই, তখনও বর্ষাকাল। হল-সুপারকে বলে দুটো দেশি নিমের চারা বুনেছিলাম। ওঁরা অবশ্য বেশ খুশিই হয়েছিলেন। বসতির পুব দিকে নিম গাছ থাকা খুব ভাল এমন কথাও জানলাম সেদিন।
বিশ্বাস-অবিশ্বাস বা অভিজ্ঞতানির্ভর জ্ঞান- এত কিছু ভেবে অবশ্য কিছু করিনি আমি। নেহাত, ইচ্ছে হয়েছিল তাই। এখন গাছ দুটো তিনতলার চেয়েও উঁচু। আমার হাতে লাগানো গাছ, আমার চেয়ে বড় হয়ে গেল!
এমন হয় অবশ্য।
গাছেরও হয়; এমনকী মানুষেরও…

এইসব কল্পনাবিলাসের সময় এখন নেই। (সম্পূর্ণ…)

যেভাবে নিজের অপরাধবোধকে গল্পে রূপান্তরিত করেছেন রুডইয়ার্ড কিপলিং

সোহরাব সুমন | ২৯ জুলাই ২০১৭ ৮:২১ অপরাহ্ন

Rudyard-Kiplingঠিক কোন জিনিসটি ফিকশন লেখকদের ফিকশনের কাছে টেনে আনে? প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, সাংবাদিকতা– গদ্যের এমন অনেক কাঠামোয় রয়েছে অকাট্য সব সুযোগের হাতছানি। তবে, আগে থেকে প্রস্তুত রক্তমাংসের কিছু চরিত্র নিয়ে বড় ধরনের বাজি ধরবার শিহরণ এসবের মাঝে নেই। বাস্তবে এমন সুনির্দিষ্ট কিছু ঘটনা সত্যিই ঘটেছে কী-না তা জানবার শিহরণ। কী-করে এই অবাস্তব বাছ-বিচারহীন আবিষ্কারের অব্যবহারিক দক্ষতাটিকে বুঝে ওঠা যেতে পারে? কেমন করে পাওয়া যাবে মিথের অজানা জলরাশির সন্ধানে নিশ্চিত বাস্তব জীবন থেকে প্রস্থান করবার প্রেরণাটুকুকে?
সম্প্রতি কথাসাহিত্যের এমন সব জটিল বিষয় নিয়ে দ্য আটলান্টিক ডেইলি’র প্রতিবেদক জো ফাসলা কথা বলেন ঔপন্যাসিক স্কট স্পেন্সার-এর সঙ্গে। এই কথোপকথনে স্পেন্সার সাহিত্য আবেদনের কাঁচামাল তৈরী সম্পর্কে তার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এসময় তিনি রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর মনোমুগ্ধকর ছোট গল্প “দ্য গার্ডেনার”কে পথনির্দেশ হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি দেখাতে চেয়েছেন, ফিকশন কী-করে জীবনের দ্বান্দ্বিক ও অপমানজনক, একই সঙ্গে জটিল সব ঘটনা প্রবাহ আঁকড়ে থাকতে আমাদেরকে সহয়তা করে আসছে। লেখক কীভাবে তার চরিত্রসমূহ কল্পনা করেন। কীভাবে তিনি একের পর এক দৃশ্যাবলীর বুনট বাছাই করেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য চরম দক্ষতায় অবতারের মতো নিজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার থেকে উপাদান মেলে ধরেন– এমন আরো অনেক বিষয় নিয়েও তিনি আলোচনা করেছেন। (সম্পূর্ণ…)

হুমায়ুন আজাদ-এর কবিতা

ওমর শামস | ২৭ জুলাই ২০১৭ ১১:৪০ অপরাহ্ন

humayun_azadহুমায়ূন আজাদ-এর কবিতা লেখার শুরু ষাটের দশকের শেষের দিক থেকে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ, অলৌকিক ইস্টিমার -এর প্রকাশ ১৯৭৩ সনে। প্রথম বইতেই তাঁর পাকা হাতের স্বাক্ষর এবং এই রচনাগুলোতেই তাঁর কবিতার ভাবনার প্রধান স্রোত এবং টেকনিক, যা পরে আরও কিছু বিস্তৃত হয়েছিলো, তার সবই আছে। সেই জন্য এই গ্রন্থের কবিতাগুলোকে মনোযোগ দিয়ে পড়া দরকার। প্রথম কবিতা, ‘স্নানের জন্য’-এ তাঁর উক্তি : “আমি কি ক’রে ভাসাই নৌকো জলে নামি স্নান করি …… পেছনে স্বভাব কবির কন্ঠনিঃসৃত পদ্যের মতোন ধুঁয়ো ওঠে কারখানার চিমনি চিরে …বড্ডো ময়লা জমে গেছে এ-শরীরে স্নান তাই অতি আবশ্যক… “। স্নান প্রতীকী । প্রচলিত কবিতার প্রতি তাঁর কটুক্তি এবং তিনি যে কিছু করতে চান সে উদ্যাোগ বর্তমান।
১. অলৌকিক ইস্টিমার-এ আজাদ এই সব বিষয়ে, আবহে, টেকনিকে কবিতা লিখেছেন :
• স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের জীবনের মধ্যে দিয়ে সামাজিক সমস্যা, অনিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ সংকট। / [ ‘জল দাও বাতাস –জননী,আমার সন্তান’, ‘আমার কন্যার জন্য প্রার্থনা’ ]
স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের জীবনের মধ্যে দিয়ে সামাজিক সমস্যা, অনিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ সংকট – এ ক্ষেত্রটি খুব সাহসের, অন্তত বলার দিক থেকে। আজাদ ছাড়া অন্য সমসাময়িক কেউ এ-ধরণের কবিতা লেখেন নি। ‘জল দাও, বাতাস’-এর তিনটি কবিতা – ‘জননী’, ‘আমার সন্তান’, ‘আমার কন্যার জন্য প্রার্থনা’ – এই আশংকা, সামাজিক অধঃপতনের আভাষ। ‘জননী’ পাকা অক্ষরবৃত্তে সনেট, বাকি দুটো গদ্য-কবিতা। দ্বিতীয় কবিতার শুরু, “আমার সন্তান যাবে অধঃপাতে, চন্দ্রলোকে নীল বন তাকে মোহিত করবে না। কেবল হোঁচট খাবে রাস্তায় সিঁড়িতে ড্রয়িং রুমে সমভূমি মনে হবে বন্ধুর পাহাড় …”। আরও অধঃপতনের বিস্তারের পরে সব শেষে জিজ্ঞাসা, “ তুমি কি আসবে ওগো স্নিগ্ধ দিব্য প্রসন্ন সন্তান পতনকে লক্ষ্য ক’রে …”। (সম্পূর্ণ…)

সালমা বাণীর প্রতিক্রিয়া: তিনি লিঙ্গ দোষে দুষ্ট এবং সনাতনী মানসিকতার রক্ষণশীল লেখক

সালমা বাণী | ২৬ জুলাই ২০১৭ ৫:৩৫ পূর্বাহ্ন

Hasan-4দেবেশদার সাথে কথা বলে আজ আমি নিশ্চিত হয়েছি, তিনি কখনো হাসান আজিজুল হককে ‘ইমিগ্রেশন’ উপন্যাস নিয়ে আলোচনার অনুরোধ করেননি। দেবেশদা হোয়াটস এ্যাপ-এর মাধ্যমে আমাকে এসএসএম করে লিখেছেন- ‘আমি ওনাকে তোমাকে নিয়ে কখনো লিখতে বলিনি। তুমি আমার স্নেহভাজন কী না এমন ব্যক্তিগত কথা বলার মতো সম্পর্ক ওনার সঙ্গে আমার কখনোই নয়। অত্যন্ত আপত্তিকর।’
এবং হাসান ভাই আপনি আমার কোন উপন্যাস নিয়ে আজ পর্যন্ত কোথাও কোন আলোচনা লেখেননি। অন্তত আমার দৃষ্টি গোচর হয়নি। একজন অগ্রজ সাহিত্যিকের নিকট থেকে এই ধরনের ভুল মনগড়া মন্তব্য মূলত দুঃখজনক।
“তুমি মেয়ে, তোমার হাতে সেক্স অঙ্গের এমন খোলা বর্ণনা তুমি যে করছো, তুমি কি মনে কর, এতে তোমার সাহিত্যের কোন উন্নতি হচ্ছে?”
ওপরের এই উদ্ধৃতিটি আমার শ্রদ্ধেয় কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক-এর।
আমি সালমা বাণী একজন মেয়ে মানুষ, সেক্সের বর্ণনা এমন করে কেন দেবো? সাহিত্যে যদি সেক্সের বর্ণনা দিতে হয় সেটা দেবে পুরুষ লেখকেরা। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ওটা তাদের জন্য নির্ধারিত, ওটাতে পুরুষ সাহিত্যিকদের অবাধ স্বাধীনতা ও অধিকার। দর্শন শাস্ত্রের অধ্যাপক, বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের রাজকুমার বলে খ্যাত আমাদের শ্রদ্ধার ও প্রিয় হাসান আজিজুল হক তিনি সাহিত্যের ক্ষেত্রে এভাবে লিঙ্গ বিভাজন করেন? সাহিত্য রচয়িতা নারী না পুরুষ এই লিঙ্গ ভেদটা মনে হয় হাসান আজিজুল হকের নিকট একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার বক্তব্যে নারী সাহিত্যিক হলেও সে মেয়েমানুষ! সমাজের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নারীর যেমন কোনো অধিকার নেই তেমনি সাহিত্যের ক্ষেত্রেও একই রকম বৈষম্যমূলক মনোভাব প্রকাশ করলেন গল্পকার হাসান আজিজুল হক। চরিত্রের প্রয়োজনে সেক্সের খোলা বর্ণনা দিতে হলে সে যে কোনো সাহিত্যিক নারী অথবা পুরুষ অথবা তৃতীয় লিঙ্গের হউন এটা তাঁরা সবাই সমমর্যাদায় সমঅধিকারের ভিত্তিতে করতে পারেন। এই ধরণের মুক্ত চিন্তা চেতনার মানুষ বলে আজ আর হাসান আজিজুল হককে মনে হলো না। যদিও আমরা অনুজরা হাসান ভাইকে প্রগতিশীল চিন্তা চেতনার, বাম রাজনীতিতে বিশ্বাসী লিঙ্গ ও শ্রেণীবৈষম্য-বিরোধী বলে অনুমান করতাম। হাসান ভাই নিজেই তার রক্ষণশীল বক্তব্যে প্রমাণ কর দিলেন তিনি আদতে তা নন, মানসিকভাবে রক্ষণশীল। যদিও ‘সাবিত্রী উপাখ্যান’-এ ধর্ষণের বর্ণনা এসেছে অযাচিতভাবে। (সম্পূর্ণ…)

আমাদের বেবী আপা

আনিসুর রহমান | ২৫ জুলাই ২০১৭ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

baby.gifবদরুদ্দোজা মোঃ ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম ভাইর সঙ্গে রিক্সায় করে সেগুনবাগিচায় একটি ছোট ছিমছাম দালানের দোতলা বাসায় আমরা গিয়ে হাজির। বেবী আপা বাসায় নেই। বাসায় আছেন বুয়া, বেবী আপার ছোট ছেলে পুটু, সম্ভবত বুয়ার ছেলে আনোয়ারও ছিল। পুটু মানে কি বেবী আপার পরিচিত সকলেই তার মামা। আমাদের দেখেই পুটুর উৎফুল্ল কথার ঝুড়ি- মামা আসেন, বসেন। আম্মুতো বাসায় নাই। কিন্তু এসে যাবেন শীঘ্রই। খানিকক্ষণ পর বেবী আপা আসলেন। বাসায় ঢুকার আগেই পুটুর মাধ্যমে খবর পেয়ে গেলেন- আমরা এসেছি। বেবী আপা বাসায় ঢুকলেন পরিচয় পর্বের পরে বললেন চা টা কিছু খাও। আজ তো রাত হয়ে গেছে। তুমি বরং ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে এসো। ওখানে বঙ্গবন্ধু যাদুঘরে আমার খোঁজ করো; দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ শেষ করে এসো। ক্লাশ মিস করো না।
পরের দিন যথারীতি আমি যাদুঘরে গিয়ে হাজির। পাশের বাড়ির একতলা একটা ভবনে বেবী আপার সঙ্গে আমিও গেলাম। ভবনের একটা কক্ষে একটা টেবিল আর গোটা কয়েক চেয়ার। তিনি আমার খোঁজ খবর জানলেন। তারপর বললেন-
বন্ধ হয়ে যাওয়া সাপ্তাহিক বিচিত্রা আমরা নতুন ব্যবস্থাপনায় বের করব। তার প্রস্তুতি হিসেবে আসন্ন জাতীয় শোক দিবসে ১৫ আগস্টে ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’ নামে একটা স্মরণিকা প্রকাশ করব। আমার সঙ্গে তেমন কেউ নাই; কম্পিউটার কম্পোজের জন্যে আছে চম্পক। পুরো কাজটা আমি আর তুমি মিলে করব। আসলাম সানীও আমাদের সঙ্গে থাকতে পারে। তোমার কাজ হবে জুতো সেলাই থেকে চন্ডিপাঠ। শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং বিচিত্রা দুটোরই সম্পাদক থাকবেন শেখ রেহানা। আমি বিনয়ের সঙ্গে বললাম, আপা শ্রদ্ধাঞ্জলির কাজের সঙ্গে আমি থাকব। কিন্তু বিচিত্রার কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া আমার জন্যে কঠিন হবে। সে দেখা যাবেনি। ও নিয়ে ভেবো না। (সম্পূর্ণ…)

ফারুক মঈনউদ্দিনের গল্প: শারীরবৃত্তীয়

ফারুক মঈনউদ্দীন | ২৪ জুলাই ২০১৭ ৭:২২ পূর্বাহ্ন

Shakil-story
গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের মতো লম্বা টানা ভাড়া ঘরগুলোর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কালো ময়লা জলের নালাটা লাফ দিয়ে পার হওয়ার মুহূর্তে চারপাশের ছাড়া ছাড়া টিম টিম করে জ্বলতে থাকা হলদেটে আলোর বাতিগুলো নিভে যায়। আলকাতরার মতো কালো কাদায় পড়তে পড়তে নিজেকে সামলে নেয় রাজিয়া। কিছুক্ষণ আগে মাগরেবের আজান পড়ে গেছে, এ সময়টাতে চারপাশের সবকিছু কেমন যেন অদ্ভুত নিস্তব্ধ হয়ে যায়। কেবল আশপাশের ঝোপঝাড় থেকে পতঙ্গের ডাক করাতের মতো শব্দ করে আধো অন্ধকারের ভেতর গেঁথে যেতে থাকে। দিনের আলো নিভে যাওয়ার পর পচা পানির নালা এবং ময়লার ডাঁই থেকে নিশাচর দুর্গন্ধ চোরের মতো চুপি চুপি বাতাসের সঙ্গে মিশে ছড়িয়ে ময়লা ভেজা কাপড়ের মতো ভারি হয়ে ঝুলে থাকে যেন। বিভিন্ন ফ্যাক্টরি থেকে উগড়ে দেওয়া মেয়েদের ক্লান্ত অবসন্ন মিছিল থেকে কিছু কিছু অংশ খসে পড়তে পড়তে এ দিকটায় পৌছে মিছিলটা মরা নদীর মতো মিলিয়ে যায়। রাজিয়াদের সঙ্গে একই বস্তিতে থাকা কয়েকটা মেয়ে স্যান্ডেল ঘষটাতে ঘষটাতে ওকে ছাড়িয়ে চলে গেলে চলার গতি বাড়িয়ে দেয় ও। একটা কুনো ব্যাঙ এ সময় ওর পায়ের পাতায় পেচ্ছাব করে দিয়ে লাফিয়ে সরে যায়। এসব উপেক্ষা করে দ্রুত ঘরে ফেরার তাগিদ অনুভব করলেও পা দুটো আর চলতে চায় না যেন। (সম্পূর্ণ…)

সর হুয়ানা ইনেস দে লা ক্রুস-এর একগুচ্ছ কবিতা

জয়া চৌধুরী | ২২ জুলাই ২০১৭ ৯:২৬ পূর্বাহ্ন

sorjuana
সরা হুয়ানা ইনেস দে লা ক্রুস কিংবা শুধুই সর হুয়ানা রামিরেস হিসেবে খ্যাত এই কবি মেক্সিকোয় জন্ম নিয়েছিলেন আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে। স্পেনের সাহিত্যের ‘স্বর্ণ যুগ’-এর অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে তাঁকে গণ্য করা হয়। কেননা সেরভান্তেস ও শেক্সপিয়রের উত্তরসূরি এই মহিলা কবি যখন মেক্সিকোয় জন্মান তখন সেটি স্পেন এর অধীনে ছিল। সন্নাসিনী এই কবি সাহসী সময়ের চেয়ে তাঁর অনেক এগিয়ে থাকা মতাদর্শের জন্য জীবদ্দশাতেই বহু নিন্দার সম্মুখীন হন। নারীবাদী সাহিত্য বলে যে ধারাটি প্রচলিত তাঁর প্রবক্তা তিনিই। আজও তাঁর কবিতা সমান প্রাসঙ্গিক। এইভাবেই তিনি দেশ কাল-এর গন্ডী ছাড়িয়ে কালজয়ী হয়ে আছেন। কবিতাগুলো স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছে অনুবাদক জয়া চৌধুরী। বি. স.

অদৃষ্টকে গাল পাড়া

আমার পশ্চাৎ ধাবনে, পৃথিবী, তোমার আগ্রহ কীসের?
তোমার কোনখানে আঘাত দিয়েছি আমি? যখন আমি স্রেফ
আমার বোধগম্যতায় সৌন্দর্য লেপন করতে চাইছি
আমার সৌন্দর্যকে বোধগম্যতায় নয়? (সম্পূর্ণ…)

স্প্যানিশ আখরে নজরুল-পাঠ

মারিয়া এলেনা বাররেরা-আগারওয়াল | ২০ জুলাই ২০১৭ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

স্প্যানিশ ভাষায় নজরুল-সাহিত্যের প্রথম অনুবাদক একুয়াদরের প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক মারিয়া এলেনা বাররেরা আগারওয়াল নজরুল-অনুবাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্প্রতি ইংরেজি পত্রিকা ঢাকা ট্রিবিউনে একটি প্রবন্ধ লেখেন। এতে তিনি নজরুলের বিশ্বজনীন আবেদন ও অনুবাদের সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও অভিমত জানিয়েছেন তা বাংলাভাষার লেখক/পাঠকের কাছে তাৎপর্যময় বলে বিবেচিত হতে পারে ভেবে তর্জমা করা হলো। প্রবন্ধটি অনুবাদ করেছেন শাকিলা পারভীন বীথি। বি. স.
প্রাক -কথন
Nazrul-2 আমার বেড়ে ওঠার কালে রবীদ্র-সাহিত্যের স্প্যানিশ অনুবাদ গ্রন্থ ছিল অন্যতম অনুষঙ্গ । আমার ব্যাক্তিগত লাইব্রেরিতে সেনোবিয়া কাম্প্রুবি ও হুয়ান র‌ামন হিমেনেস-এর যুগ্ম অনুবাদ গ্রন্থ ছিল । গ্রন্থগুলো আর্জেন্টিনার লোসাদা প্রকাশনী কর্তৃক সম্পাদিত । রবি ঠাকুর ছিলেন আমাদের ঘরে এক সুপরিচিত নাম । আমার নানা , যিনি নিজেও কিনা কবি , তাকে ভীষণ পছন্দ করতেন । আমার মায়ের স্মৃতিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল তার বহু কবিতা । মা প্রায়শই রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করতেন । ঘরের বাইরে উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ক্যারিকুলামের সৌজন্যে বেশ গুরুত্বের সাথেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পাঠের সুযোগ আমার হয়েছিল । কে না জানতো তিনি লাতিন আমেরিকার সেই ত্রয়ী নোবেল বিজয়ী পাবলো নেরুদা , গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল ও অক্তাভিও পাসকে কতখানি প্রভাবিত করেছিলেন !

ইউরোপ এবং আমেরিকায় গিয়ে আমার ঠিক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা হল । দেখলাম সেখানকার মানুষজন রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না । তাঁর প্রসংগ তুললে ওরা এমন ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে তাকাতো ! বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছিল । আমার ধারণা ছিল লাতিন আমেরিকার মতো ইউরোপ – আমেরিকাতেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হবেন পরিচিত এক নাম । তখন আমার মনে হল তাঁর সাহিত্যকর্মের স্প্যানিশ অনুবাদের পশ্চাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে হয়তো নোবেল জয় । তবে এইরূপ বৈপরীত্য সত্যি আমাকে হতবিহ্বল করার জন্য যথেষ্ট ছিল । ঠিক কাছাকাছি সময়েই আমার সৌভাগ্য হয় ভারতীয় উপমহাদেশীয় কিছু মানুষের সংস্পর্শে আসার । তাদের মাধ্যমেই জানলাম নিজ উপমহাদেশীয় পরিমন্ডলে কতখানি সুউচ্চে তার আসন। (সম্পূর্ণ…)

উপেক্ষিত সমুদ্রের টানে

আনিসুর রহমান | ১৯ জুলাই ২০১৭ ৯:৫৯ পূর্বাহ্ন


somudra gupta
কবি সমুদ্র গুপ্তের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল ১৯৯৭ সালের দিকে। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র; কবিযশপ্রার্থী। পরিচয়ের শুরুতেই তিনি এমনভাবে কথা বলছিলেন তিনি যেন কত আপন আত্মীয় আমার।
একদিন তিনি হঠাৎ করে বললেন – সমুদ্র গুপ্ত আমার লেখক নাম। আমার ভালো নাম কি বল তো?
-জানি না।
আবদুল মান্নান বাদশা।
জন্ম তাঁর সিরাজগঞ্জে। আমার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে। যমুনার দুই ধারের দুই প্রজন্মের দুই জন আমরা। একদিন তিনি বললেন- তুমি তো আমার এলাকার পোলা।
কেমনে?
অই অইলো, নদীর এইপার আর অইপার।
তাঁর ব্যক্তিগত আলাপচারিতা এমনই আপন করে নেয়ার তাগিদ-ভরা ছিল।
এরপর যতবার কথা হয়েছে, দেখা হয়েছে, সিরাজগঞ্জ-টাঙ্গাইলের মেশানো আঞ্চলিক টানে কথা বলতেন।
কবিতা উৎসবের অনেক ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি ছোটবড় অনেক কবির কাঙালপনা আমাকে পীড়া দেয়। এই পীড়ায় সমুদ্রদাও পীড়িত ছিলেন। এসব আবার তিনি শিশুর মত করে বলতেন।
দেখলে তো? (সম্পূর্ণ…)

কোঁচ ও একটি নিপুণ শেষ-শিকার

সেজান মাহমুদ | ১৭ জুলাই ২০১৭ ৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

হুড়াসাগর নদীর শুকনা, মরা-ঢোঁড়া-সাপের-মতন চেহারাখানা দেখলে নইমুদ্দির ছোটবেলায়-দেখা নাজির চাচার বুড়া বয়সের জিনিসপত্তরের কথা মনে পড়ে। কেন মনে পড়ে তা বুঝে উঠতে পারে না নইমুদ্দি। নাজির চাচা বেহুদার মতো লুঙ্গি কাছা মেরে ন্যাটা দিয়ে বসে থাকতেন আর কখন যে বেখায়ালে জিনিসপত্তর বের হতো তা হুশ করতেন না। ফাজিল পোলাপান গলা খাঁকারি দিয়ে জানান দিতো ‘চাচা, লুঙ্গি সামলায়া বইসেন।’ আর তখন পাছার ধুলা ময়লা ঝেড়ে নাজির চাচা লাফিয়ে উঠতেন, ভাবখানা যেন পোলাপানের বলাটা মহা দোষ হয়ে গেছে। বুড়া বয়সের ঝুলে-পড়া জিনিসপত্তর যেমন কোন কামের না, হুড়া সাগরের দশাও অনেকটা সেইরকম; কোন বান আসে না নদিতে, কোন কামের না। শুকনা চরগুলো মানুষজন যে যার ক্ষমতা দিয়ে দখল করে নিয়েছে। এখন নানান ফসলের চাষবাস আর গরু চড়ানো। কেউ কেউ আরেক ধাপ সরেস; এরা নদীর জমির মধ্যেই বাড়িঘর বানিয়ে সংসার পেতে বসেছে। কিন্তু ছোটবেলায় দেখা হুড়াসাগরের উথালি পাথালি রূপ মন থেকে সরাতে পারে না নইমুদ্দি।
Sezan

নইমুদ্দি এতোটুকু চিন্তা একসঙ্গে করতে পেরে খুব আমোদিত হয়। ফুরফুরে মন নিয়ে হাটখোলার দিকে এগিয়ে যায়। আজ হাটবার। আশেপাশের গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ আসা শুরু হয়েছে। হাটখোলার লাগোয়া মাঠের মধ্যে ঘাসের ওপরে পাটের ব্যাপারীরা চৌকশ গলায় সহজ-সরল কৃষকের কাছে থেকে পাট কিনতে নানান ফন্দিফিকিরের কাহিনি বলতে থাকে-
–‘কয়দিন হইলো মহাজনেরা পাটকল বন্ধ-থাকায় নদিতে আটকা পইড়া আছে জানো? দাম দিমু কি নিজের প্যাটে নাত্তি মাইরা?” (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়ের কবিতা : রেখা

স্বদেশ রায় | ১৬ জুলাই ২০১৭ ২:১৩ পূর্বাহ্ন

Fakir
বিকেলের আকাশ জুড়ে উড়ছিলো ছোট পাখিগুলো
ওরা যতই ওপরে উঠে যায় ততই ওদেরকে পতঙ্গ মনে হয়;
ওরা এক সময়ে চোখের সীমানা থেকে হারিয়ে যায়।
দৃষ্টিশক্তি আসলে কতদূর যেতে পারে? সূর্য কাছে নেমে
আসে তাই তো আলোর দেখা। পাখিগুলো দূর আকাশ
থেকে ফিরে এলে দেখা দেয় উজ্জল পাখনার পালক। (সম্পূর্ণ…)

শিমুল সালাহ্উদ্দিনের ১৭টি কবিতা

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ১৪ জুলাই ২০১৭ ১২:৪২ পূর্বাহ্ন

Aminul Islam

কবি

আমি সেই অন্ধ পাঠক
চোখ রেখে খুলে, ঠক ঠক
তীব্র শীতে, কাঁপছি ভেতরে–

কবিতা নিয়ে যাচ্ছি সাথে,
কবিকে বধ করে।

পরিত্রাণ

বিষণ্ণ মাল্লার গান
বুক ভরে কুয়াশায়
চুইয়ে পড়ছে জল
চোখ জ্বালা করে আর
বাতাসে তুলোর বীজ
এবং অস্থির গাছ
অস্থির অস্থির গাছ

পরিত্রাণ ভালোবাসি

আহ্বান

অলস মদির চোখে
কাঁটা মেহেদির
রঙ জমে উঠলে
তখনো মোমের হাতে

তোমরা আমায় ডাকো (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com