দীপিত আশার বঙ্গীয় বদ্বীপ

রুখসানা কাজল | ২৯ জুন ২০১৭ ১০:০৭ অপরাহ্ন

border=0একটা সময় ছিল বাংলাদেশ ডুবে যাবে মহাসমুদ্রের কোলে এটা ভাবলেই প্রচন্ড ভয় পেতাম। আর যাই হোক নাকেমুখে খাবি খেতে খেতে পানিতে ডুবে মরা খুব একটা ভালো মানের মৃত্যু নয়। আমি প্রবাহিত নদীপারের মেয়ে। নদীর নানা রকম মনখেয়ালের সাথে বেশ ভালো জানাশোনা আছে আমার। নদী যে মানুষের কতটা আপন আবার কত বৈরি হয়ে উঠতে পারে তার সাক্ষী নদীপারের এই আমরা। একেক সময় দেখতাম আমাদের চেনা ছোট নদীটাই কেমন অচেনা রাক্ষুসীর মত গিলে গিলে খাচ্ছে পরিচিত নদীপাড়, জমি, ফসলের মাঠ, এমনকি ঘরবাড়ি, সখের বাগান। আবার কখনো কখনো দেখেছি নদীর জলে পূজোর ফুলের সাথে ভেসে আসা অপার সৌন্দর্যকে। শান্ত স্নিগ্ধ প্রিয় বন্ধুর মত। আবার কখনোবা উত্তাল নদীর খর স্রোতধারার সাথে ভেসে আসত মানুষ, গরু, ছাগলের লাশ। সব লাশের পেট থাকত ঢোলের মত ফোলা আর ঊর্ধ্বমুখী। তাতে কাক শকুনের হল্লা। এই তো বছর কয়েক আগে দেখতে গিয়েছিলাম ফরিদপুরের কিছু গ্রাম। পদ্মার ভাঙনে দিন রাতের যে কোনো সময়ে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামগুলো। কয়েকদিন আগেও যেখানে ছিল মুখর জনপদ, জীবনের শত সহস্র কলরব, সেখানে এখন অজস্র ফণা তুলে মহা আনন্দে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জলদানবের উর্মি ও স্রোতধারা। সেই সময়, পদ্মার ভাঙনে ডুবে যাওয়া একটি নারকেল গাছ দেখেছি, হিজল পানির নীচে সবুজ হাত পা ছড়িয়ে সটান দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ, পরমূহূর্তেই দুলে দুলে অদৃশ্য হয়ে গেলো গভীর থেকে মহাজলের গভীরে। এমন নদীর জলে পা ধুতেও কেঁপে ওঠে প্রাণ। অথচ নদী এক মহানির্মাতাও বটে। সহস্র পলি সঞ্চিত করে নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ নামের এই বদ্বীপটাকে। আর আশ্চর্য এই তথ্যটি জানতে পেরেছি লেখক দীপেন ভট্টাচার্যের বিজ্ঞান ভিত্তিক বই বঙ্গীয় বদ্বীপের অতীত ও ভবিষ্যৎ পড়ে। (সম্পূর্ণ…)

মার্থা ভিয়ানুয়েভা: পুরুষতন্ত্রের তোমরা যারা

আজফার হোসেন | ২৮ জুন ২০১৭ ৯:১৮ অপরাহ্ন

লাতিন আমেরিকার নারীবাদী কবি। কবিতাটি তর্জমা করেছেন অধ্যাপক ও অনুবাদক আজফার হোসেন।

ভীষণ উপুর-করা দুপুর খাঁ খাঁ, আমার দেহ ঝলসে যায়
আর আমার চামড়ার ওপর তোমাদের স্পর্শরা তাঁবু গাড়ে।
রঙমহলের অবিরত উৎসবে আপাদমস্তক ঝলসে যায়,
ঝলসে ঝলসে ঝলসে যায়; ঝলসে ঝলসে ঝলসে যায়।
হা হা হাহাকারে মরু হাওয়ায় ভেসে যাওয়া ধবনি সব আর্তনাদ করে,
তাদের গতরে গতরে মাটির আদিম গন্ধ, ঢেউ-তোলা কারুকাজে
শ্রমের গন্ধ, শিশুর নাড়িতে তারই অন্তরের ধুকপুক ধুকপুক ধুকপুক,
সেও ঝাঁ ঝাঁ ঝলসানো দুপুরে; এরপরও বলো, তাদের ইতিহাস কই?
তারপরও নৈঃশব্দকে করাত দিয়ে চিরে চিরে তারাই তো দেখায় ইতিহাস।
তেপান্নটি অলিগলি মাড়িয়ে সবাই যখন ভরাট রাতের মুখোমুখি
তোমাদের দিনে দিনে বেড়ে ওঠা সাজানো-গোছানো অন্ধকারে
ভিক্ষা শেখানো শিক্ষায় কেবলি তর্জনি নির্দেশ, কেবলি রক্তচক্ষু
কিংবা শুধুই সূর্য ঢেকে দেয়া রক্তপাত বা বন্দুক-বুলেট-বেয়োনেট।
তোমাদের শিক্ষা শেখায় ভিক্ষা
তোমাদের শিক্ষা শেখায় ভিক্ষা
তোমাদের শিক্ষা শেখায় ভিক্ষা
পুঁজি শেখায় ভিক্ষা
উপনিবেশ শেখায় ভিক্ষা
বিশ্বব্যাংক শেখায় ভিক্ষা
পুরুষালি আইন শেখায় ভিক্ষা (সম্পূর্ণ…)

ঈদুল ফিৎর উপলক্ষ্যে নবীন প্রবীণদের একগুচ্ছ কবিতা

| ২৬ জুন ২০১৭ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন


তোমার মায়ার ছায়া

মুহম্মদ নূরুল হুদা

তোমার মায়ার ছায়া
কায়া হয়ে জাগে
অনন্তের
অন্ধ অনুরাগে;
মায়াসভ্যতার আগে
আমি তার পেয়েছি পরশ;
অঙ্গ লাগি অঙ্গ কাঁদে
ব্রহ্মান্ডের রূপ-গন্ধ-রস।

সহর্ষ পরশ নিয়ে
জেগে আছি
কালে কালাতীতে;
সতৃষ্ণ সঙ্গম-লগ্ন
ত্রিভুবনে
বর্তমানে
ভবিষ্যতে
অথবা
অতীতে। (সম্পূর্ণ…)

জেমস জয়েসের গল্প: ঈভলিন

শাকিলা পারভীন বীথি | ২৫ জুন ২০১৭ ১:০৬ অপরাহ্ন

James-Joyceজেমস জয়েস ( ১৮৮২-১৯৪১ ) একজন আইরিশ উপন্যাসিক, গল্পকার এবং কবি। তাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী সাহিত্যিক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তার বিখ্যাত গ্রন্থ Ulysses( (১৯২২)’, A Portrait of an Artist as a Young Man ( ১৯১৬ ), Dubliners ( ১৯১৪ ) । ‘ঈভলিন’ ছোটগল্পটি Dubliners গল্পগ্রন্থের একটি গল্প যেখানে ডাবলিন শহর ও শহরবাসীদের জীবন যাত্রা ফুটে উঠেছে। লেখক বিশ্বাস করতেন ডাবলিনের আছে এক চিরায়ত বৈশ্বিক হৃদয়। ইংরেজি থেকে গল্পটি অনুবাদ করেছেন শাকিলা পারভীন বীথি। বি.স.

জানালায় বসে গলির কোলে আছড়ে পড়া সন্ধ্যা দেখছিল সে। জানালার পর্দায় এলিয়ে পড়েছে তাঁর মাথা, তার নাকে ধুলিময় স্যাঁতস্যাঁতে পর্দার গন্ধ । তখন ক্লান্ত সে ।

লোকজন ঘরে ফিরছে । গলির শেষ মাথার বাড়িটার লোকটাও ফিরে এলো । তার জানালার পাশের কংক্রিটের পথ ধরে লোকটা খট খট আওয়াজ তুলে যেতে যেতে এবার পা মেলে ধরল কয়লা বিছানো পথে । লোকটার পায়ের জুতার মচমচ শব্দ শুনতে পেল সে ।শব্দটির শেষ গন্তব্য গলির মাথার শেষ লাল বাড়িটায় । ওখানে এককালে বাড়ি ছিল না । একসময় বেলফাস্ট থেকে এলো এক ধনীর দুলাল, মাঠটি কিনে নিয়ে বাড়ি বানাল । —- না, তাদের বাদামি কুঁড়েঘরের মত বাড়ি নয় । লোকটা গড়ল ঝকঝকে ইটের – গড়া চকচকে ছাদের বাড়ি । গলির কত বাচ্চারা যে ওখানে খেলত ; ডিভাইন পরিবারের , ওয়াটার পরিবারের বাচ্চারা, খোঁড়া পা নিয়ে খেলতে আসতো ছোট্ট কেঁউ, আর খেলত সে ও তার ভাই -বোনেরা । তাদের বাবা প্রায়ই হাতে বেতের লাঠিটা নিয়ে তাদের খুঁজতে সেই মাঠে চলে যেত । যেহেতু ছোট্ট কেঁউ সাধারণত বসেই থাকতো, ওদের বাবাকে দেখা মাত্র সে সতর্ক করে দিত ।এত কিছুর পরেও তখন তারা সুখীই ছিল । বাবাকে এতটা খারাপ মনে হতো না ।তাছাড়া তার মা তখন জীবিত ছিল । এরপর কত কত দিন চলে গেল ; সে ও তার ভাই –বোনেরা বেড়ে উঠল ; তার মা মারা গেল । টীজি ড্যানও মারা গেল , ওয়াটার্স পরিবার চলে গেল ইংল্যান্ডে । সবকিছুই বদলে যায় । সেও এখন প্রহর গুনছে প্রস্থানের ; অন্যদের মতোই উদ্যত হয়েছে সে পিছে ফেলে যেতে তার আপন বাড়ি–ঘর । (সম্পূর্ণ…)

যে আছে বিস্মরণে, লোহার সূতায় বাঁধা, থাক

সরকার মাসুদ | ২৪ জুন ২০১৭ ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

Kizi-1টিউমার

মাংস দিয়ে তৈরি এক চমৎকার বাড়ি
ক্যান্সার খুব নিরাপদে থাকে এমন বাসস্থান!

ক্যন্সারের জীবাণু মরার কথা ভুলে থাকে
তাকে নিরাপত্তা দিয়ে চলে ঐ বাড়ি
ক্যান্সারের জীবাণু এক জীবনবাদী, ভোগী ফুরফুরে মানুষ!

ক্যান্সার প্রথমে আক্রান্তকে শেষ করে দেয় ধীরে ধীরে;
তারপর একদিন সে নিজেই শেষ হয়ে যায়
শেষ হতে বাধ্য হয়
কেননা মাংস দিয়ে তৈরি ঐ বাড়ি
বাসযোগ্য থাকে না তখন। (সম্পূর্ণ…)

বেবী মওদুদ: কেমন করে ভুলি সেই মুখ!

মাজহার সরকার | ২৩ জুন ২০১৭ ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

baby.gifঘুম যখন ভাঙলো তখন চারটা দশ বাজে। বিছানায় শুয়েই মুঠোফোন হাতে নিয়ে দেখি পাঁচটা মিসড কল। একটা ম্যাসেজ ঝুলে আছে, খুলে দেখি- ‘অ্যাট প্রেস ক্লাব, হোয়ের আর ইউ?’। লাফিয়ে উঠে বসলাম বিছানার ওপর।

টলটলে পায়ে এক হাতে চোখ কচলাতে কচলাতে দরজা খুলে বেসিনের গিয়ে মুখ ধুলাম। রুমে এসে চেয়ারের পিঠ থেকে শার্টটা গায়ে দিয়ে দ্রুত বের হলাম রুম থেকে। ২০১২ সালের জুলাইয়ের কোন একটা দিন। তখন আমি থাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ২০৭ নাম্বার রুমে। হল গেটে এসে রিকশা করে রওয়ানা দিলাম প্রেস ক্লাবের উদ্দেশ্যে।

খুব সুন্দর একটা বিকেল। রোদের গা বেয়ে বাতাস বইছে। বৃষ্টিতে ভিজে ক্যাম্পাসের গাছগুলো সবুজ হয়ে আছে। কালো পিচের ওপর ছোপছোপ রোদ আর ছায়া। এর ভেতর দিয়ে রিকশাটা দুলতে দুলতে যাচ্ছে। আর আমার মনের ভেতরটা খচখচ করছে। কাজটা কি ঠিক হলো? মানুষটা আমাকে যেতে বলেছিলো চারটায়। একজন সংসদ সদস্য একা দাঁড়িয়ে আছেন আমার অপেক্ষায়, অথচ আমি দুপুরে ভাত খেয়ে কখন ঘুমিয়ে গেছি!

রিকশা দোয়েল চত্বর পেরিয়ে হাই কোর্টে আসতেই একটু সাহস পেলাম। পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে কল দিয়ে বললেম, ‘আপা, ভুল হয়ে গেছে। ঘুমিয়ে গেছিলাম। আমি এসে গেছি, এই যে হাই কোর্টের সামনে।’ ওপাশ থেকে কোন রাগ বা আভিমান শুনতে পেলাম না। রিকশা শিক্ষা ভবনের পাশে আসতেই উল্টো পথ পার হওয়ার ভাবনায় তাড়াতাড়ি ভাড়া মিটিয়ে নেমে হাঁটা শুরু করলাম। (সম্পূর্ণ…)

৭৩-এ কবি নির্মলেন্দু গুণ

ইজাজ আহমেদ মিলন | ২১ জুন ২০১৭ ৫:১২ অপরাহ্ন

goon pictur‘জন্মের সময় আমি খুব কেঁদেছিলাম,এখন আমার সব কিছুতেই হাসি পায়/ আমি জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয়েছিলাম,এখন মৃত্যুর প্রয়োজনে বড় হচ্ছি ।’ আধুনিক কাব্য সাহিত্যের দিকপাল কবি নির্মলেন্দু গুণ জন্ম এবং মৃত্যু সম্পর্কে এভাবেই বলেছেন তার স্ববিরোধী কবিতার শেষাংশে। সত্য ও সুন্দরের উপাসক কবি গুণ তার কবিতায় যথার্থই বলেছেন। প্রত্যেকটা মানুষই জন্মের প্রয়োজনে ছোট থাকে। আর মৃত্যুর প্রয়োজনেই বড় হন। বড় হতে হতে যখন আর বড় হওয়ার জায়গা থাকে না তখনই তিনি অনিবার্য ঠিকানায় চলে যান। আর এ সব দেখে কবির বড্ড হাসি পায় যেমনটা কান্না পেয়েছিল জন্মের সময়।
আজ ২১ জুন। ছয় ফুট দীর্ঘ, উন্নত নাসিকা, রবীন্দ্রনাথের মতো শশ্রুমণ্ডিত, তীব্র-তীক্ষ্ন চোখ আজীবন ঢোলা পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত কবি নির্মলেন্দু গুণ ৭৩’এ- পা রাখলেন। এ কথা অস্বীকার করার কোনো জো নেই যে, কবি নির্মলেন্দু গুণই বাংলাদেশে জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পাঠকনন্দিত কবি। কবিতার পেছনেই তিনি লেখক জীবনের প্রায় পুরো অংশই নিয়োগ করেছেন। এই কবিতাই তার ধ্যান জ্ঞান সাধনা। কবিতা গুণদাকে সব দিয়েছে। ঢেলে দিয়েছে। তিনি সফলতার শীর্ষে আরোহন করেছেন যৌবন শুরু হওয়ার বেশ আগেই। ১৯৬৮ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণ তার বোন সোনালীকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন ‘আমার কাছে আমার কবিতা আমার চোখের মতো। আমার কাছে আমার কবিতা আমার আত্মার মতো। আমার কাছে আমার কবিতা আমার রক্তের মতো প্রিয়। আর কবিতাও আমাকে ভালোবাসে বলেই হয়তো ষাট দশকের যেসব কবি পূর্ববঙ্গে জন্ম নিয়েছে তাদের মধ্যে যদি পাঁচজনেরও নাম করতে হয় – তবে আমার নাম অপরিহার্য।’ গুণদা সারাটা জীবনই তার লেখনীতে সত্য আর সুন্দরের উপাসনা করেছেন। যদি তাকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হয় কিংবা জিহবা কেটে দেওয়া হয় তবুও তিনি কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না। নেননি কখনো। প্রবল আত্মবিশ্বাসী এ কবি চরম সত্য কথাকে যে কোনো ভর-মজলিশে অকপটে বলে যেতে পারেন। নিজের বিপক্ষে গেছে অথচ অকপটে লিখেছেনও এমন নানা সত্য কথা। যেমন – হোটেলে খেয়ে টাকা না থাকার জন্য দৌড়ে পালিয়েছেন, কলেজে হোস্টেল ম্যানেজার নির্বাচিত হয়ে টাকা চুরি করেছেন, সে টাকা দিয়ে জুয়া খেলেছেন। (সম্পূর্ণ…)

`লেখার সময় মদ্য পান নয়’–উইলিয়াম ডালরিম্পল

মুহিত হাসান | ১৯ জুন ২০১৭ ১১:২৯ অপরাহ্ন

Dalrimple-1একাধিক আখ্যানধর্মী ইতিহাস ও ভ্রমণকাহিনিমূলক গ্রন্থ লিখে ইতিমধ্যেই বিশ্বজোড়া পরিচিত নাম উইলিয়াম ডালরিম্পল। এই স্কটিশ সন্তানের লেখালেখির জগতের পুরোটা জুড়েই রয়েছে প্রাচ্যের মানুষ ও তাঁদের সমাজ-ইতিহাস-রাজনীতি। প্রথম প্রথম তিনি শুধু ভ্রমণকাহিনি ও রাজনৈতিক কলামই লিখতেন। সুখপাঠ্য লেখনীর কারণে সেসব বেশ জনপ্রিয়ও হয়। কিন্তু তিনি পরে বিশিষ্ট হয়ে ওঠেন ঔপনিবেশিক ভারতের ইতিহাস বিষয়ে একাধিক বইয়ের রচয়িতা হিসেবে। বিরাটাকৃতির ‘হোয়াইট মোগলস’ ও ‘দ্য লাস্ট মোগল’ গ্রন্থদ্বয় তাঁকে খ্যাতি ও পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে তুলে দেয়। এরপর ভারতবর্ষের বিচিত্র নয় চরিত্র নিয়ে লেখা তাঁর বই ‘নাইন লাইভস’ ও প্রথম ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ নিয়ে লেখা বই ‘রিটার্ন অফ আ কিং’-ও বেশ সমাদর পেয়েছে। সমালোচকদের কাছ থেকেও গবেষণার গুণের জন্য প্রশংসা লাভ করেছেন তিনি।
তো কী করে উইলিয়াম ডালরিম্পল তাঁর এইসব বৃহদাকৃতির অথচ সুপাঠ্য পুস্তকসমূহ লিখে থাকেন? তাঁর অনুরাগী পাঠকদের মনে এমন প্রশ্ন জাগা অসম্ভব নয়। সম্ভবত এমন সব প্রশ্নের মুখোমুখি তাঁকে প্রায়ই হতে হয় দেখে সম্প্রতি তাঁর লেখালিখির নৈমিত্তিক রুটিন নিয়ে একটি কৌতুহলোদ্দীপক প্রবন্ধ লিখেছেন ডালরিম্পল। সেখানে তিনি জানাচ্ছেন, তাঁর লেখার রুটিন মূলত দুটো। কখন কোনটা বেছে নেবেন, তা নির্ভর করছে “কাগজে কলম বসাচ্ছি কি বসাচ্ছি না তার ওপর”। প্রতি চার বা পাঁচ বছরের সময়সীমায় তিনি মাত্র একটা বইই লেখেন। সেই একটা বই লিখতে সময় লাগে এক বছর। ‘নাইন লাইভস’ লিখতে তাঁর সবচেয়ে কম সময় লেগেছিল, মাত্র নয় মাস। আর সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছিল(সবচেয়ে বেশি খাটনিও হয়েছিল) ‘ফ্রম দ্য হলি মাউন্টেন’ শীর্ষক ভ্রমণকাহিনিমূলক বইটা লিখতে, আঠারো মাস। (সম্পূর্ণ…)

তাহমিমা আনামের ‘গার্মেন্টস’ প্রসঙ্গে

পূরবী বসু | ১৮ জুন ২০১৭ ১০:০৮ অপরাহ্ন

tahmima_anamতাহমিমা আনাম সম্প্রতি ইংরেজিতে লিখিত তাঁর গল্প ‘গার্মেন্টস’-এর জন্যে ‘ও’ হেনরী’ সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। সংবাদটা প্রকাশিত হবার পর থেকে তাহমিমা আনাম, তাঁর লেখা, বিশেষ করে এই গল্প ও তার সাহিত্যমূল্য, তাহমিমার বংশ পরিচয় (তাঁর বিখ্যাত পিতার প্রসঙ্গ), বাস্তবতার নিরীখে গল্পের অসঙ্গতি এবং এই গল্পের কাহিনীর মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি খোয়া যাওয়ার আশংকা ইত্যাদি বহু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন দেশের সমালোচকগণ। তাহমিমার লেখার দূর্বলতা, অবাস্তবতা, গার্মেন্টস মেয়েদের সংগ্রামী জীবনের কথার বদলে তাদের যৌনতা নিয়ে সুড়্সুড়ি দেওয়া, কাজীর অফিসে গিয়ে এক পুরুষের সঙ্গে তিন গার্মেন্টস কন্য্যার বিয়ের মতো ‘আজগুবি’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ‘গার্মেন্টস’ গল্পটিকে ত্তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ (সংখ্যায় কম) প্রশংসাও করেছেন। এইসব মতামত বা আলোচনা যা এই পর্যন্ত চোখে পড়েছে ( প্রধানত ফেসবুকে), তার অধিকাংশ-ই নেতিবাচক, কিছু ইতিবাচক, যার বিস্তারিত ও স্বতন্ত্র আলোচনা এ লেখায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। এইসব মন্তব্য ছাড়াও আমার চোখ পড়েছে বিভিন্ন কাগজে প্রকাশিত কয়েকটি লেখা যে লেখাগুলো ‘গার্মেন্টস’ গল্পকে বিশ্লেষন করার চেষ্টা করেছে। এইসব আলোচকদের ভেতর দুজন নারী, তসলিমা নাসরীন ও তানিয়া মোর্শেদ যাঁরা উভয়েই গল্পটির প্রশংসা করেছেন, এবং তাঁরা বাস্তবতার সাথে গল্পের কাহিনীর অসঙ্গতি খুঁজে পান নি। বাকি দু’জন পুরুষ। একজন মোজাফফর হোসেন যিনি গল্পটির বাংলা তর্জমাও করেছেন। মোজাফফর সার্বিকভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। গল্পটিকে আহামরি মানের মনে না করলেও তুচ্ছ জ্ঞাণ করেননি তিনি। তাঁর যুক্তিপূর্ন আলোচনা তাহমিমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের যথার্থতা নির্ণয়ের প্রয়াস। ওদিকে তুহিন দাস সংক্ষিপ্ত এক কলামে তাহমিমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, গল্পটি সার্থকভাবে পুরুষতন্ত্র ও পুরুষতান্ত্রিক মুল্যবোধে আঘাত দিতে সমর্থ হয়েছে বলে। এঁরা ছাড়াও আরো অনেকেই হয়তো বিভিন্ন কাগজে লিখেছেন, যা পড়ার সুযোগ আমার হয়নি। আমি তাঁদের কাছে ক্ষমাপ্রার্ত্থী এজন্যে যে আমার চোখে না পড়ায় এবং পঠিত না হওয়ায় সেসব সম্পর্কে ভিন্ন করে কিছু বলতে পারলাম না। (সম্পূর্ণ…)

পাহাড়িয়া বাড়ি

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৭ জুন ২০১৭ ২:০৯ অপরাহ্ন

পাহাড়ে জন্মেছি আমি পাহাড়েই ঘর
পাহাড়ে সংসার গড়ি, পাহাড়ে কবর।
সবুজ পাহাড়ে বুনি সবুজের মন;
সবুজ অবুঝ ভাষা : বনের বচন।

পাখি-প্রাণি ঝর্ণা-ঝিরি মাচাং কাচারি
আমার রাজারবাড়ি হাজারদুয়ারি।
আদিম বনের বংশ স্বাধীন স্বভাবী;
বনে আছি বনে বাঁচি, কে বলে অভাবী?

হাজার বছর ধরে এ বাড়ি অনড়;
বাড়িতে বাঁশের বেড়া, চালে পাতা-খড়।
জোছনাপশর রাতে রোদ-ধোয়া দিনে
যুগল জুমিয়া চাষে সুখ নেই কিনে।

পাহাড়ির নেই কোনো বাড়তি চাহিদা
পাহাড়ির দেহে মনে পাহাড়ি অকিদা।
পড়শি বাঘিনী-বাঘ, সিংহ-নাদ শুনি;
আমরা ছিলাম বেশ, সুখে দিন গুণি’। (সম্পূর্ণ…)

‘রাজনীতি’ উপন্যাস: পুরস্কারটা প্রাপ্য ছিল মাজহার সরকারের

হাবিব ইমরান | ১৭ জুন ২০১৭ ৩:২৫ পূর্বাহ্ন

Majhar-Book-cover (1)নি:সন্দেহে মাজহার সরকারের ‘রাজনীতি’ বইটির ‘দেহ’টা উপন্যাসের, কিন্তু প্রাণ ‘কবিতা’র। পড়তে পড়তে মনে হয়েছে আধুনিক কবিতার ঢংয়ে লেখা একটি ‘উপন্যাস’, ‘কাব্য উপন্যাস’ বললে মোটেও বাড়িয়ে বলা হয় না।
সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে লেখা উপন্যাস পড়তে খুব একটা আগ্রহ জাগার কথা নয়। কিন্তু মাজহার সরকারের কাব্যিক উপস্থাপন শুরুতেই আগ্রহ তৈরি করে!
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রাজনীতি’ বলতে যে ধরনের চিত্র- খুন, জখম, চাঁদাবাজি, গণরুম, বেঁচে থাকা ও টিকে থাকার লড়াই ভেসে ওঠে, এ উপন্যাসের উপজীব্য সেটাই। তবে গল্প বলার কাব্যিক ভঙ্গি তৈরি করেছে বৈচিত্র্য। মনে হয়েছে ছোটো ছোটো কবিতা জোড়া লাগানো হয়েছে।
‘রাজনীতি’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, যার বর্ণনা এমনভাবে দেওয়া হয়েছে, পাঠকের মনে হবে আসলে সে একটি গ্রাম দেখতে পাচ্ছে। লেখক উপন্যাসের চরিত্রগুলো এমনভাবে বেছে নিয়েছেন যাদের নিয়ে আসলে পুরো একটা তরুণ সমাজের চিত্র আঁকা সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এল’ শেইপের একটি আবাসিক হল দিয়ে উপন্যাসটি শুরু। ওই হলের ক্ষমতায় থাকা ছাত্র সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন। সে হলের প্রেসিডেন্ট, কিন্তু মাজহার সরকার তার চরিত্রটি এমনভাবে এঁকেছেন, যেন তিনি একটা দেশের প্রেসিডেন্ট, এমনকি দুনিয়ার। ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্তরা জানেন, আসলে হলের প্রেসিডেন্টের এমন চরিত্র আঁকার ব্যাপারটি মোটেও অতিরঞ্জিত নয়, বরং প্রতীকি।
হুমায়ুনের জন্মদিন দিয়ে উপন্যাসের শুরু। মাজহার লিখেছেন- “জন্মদিন উপলক্ষ্যে আজ হলের পুকুর থেকে বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছে। এটাই তার একমাত্র শখ।…. (সম্পূর্ণ…)

শরীরের চেম্বার মিউজিক

কুমার চক্রবর্তী | ১৬ জুন ২০১৭ ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

paintingহোটেল চেলসিয়ায় তুমি খুলে ফেলেছিলে পোশাক
আর তখনই বুঝলাম, পোশাকের নীচেই থাকে নগ্নতা,
তোমার ঐশ্বর্য।
দেখছিলাম তোমাকে, তোমার ঠাসবুনোটময় মন্দাক্রান্তা,
আর আবিষ্কার করতে চাইলাম তার অর্ধস্বর ও অভিপ্রায়।
আয়নাতে প্রতিফলিত তুমি, শরীর যেখানে জন্ম দিয়ে চলেছে
অসংখ্য গঙ্গা-যমুনার,
আমি দেখি তোমার রূপ আর প্রতিরূপ
ভাবি, দেহই প্রেম, এক শিল্পিত তরবারি।
স্পর্শ করলাম তোমাকে, হে সেমেলে, আমি জুপিটার,
কেউ যেন ফুঁ দিল শিঙায়, ধ্বংস কি হবে ব্রহ্মান্ড!
নদীগুলো উঠে যাবে আকাশে, পর্বতেরা নেমে যাবে সমুদ্রে
আর সৃষ্টি হবে এক সুস্বাদু যন্ত্রণার। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com