গুপ্তচর ছিলেন হেমিংওয়ে?

মুহিত হাসান | ৩১ মে ২০১৭ ২:১৯ অপরাহ্ন

Hemingwayমার্কিন কথাসাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন একসময়, আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চূড়ান্ত ক্ষণে কাজ করেছেন মার্কিন প্রশাসনের হয়ে–এমন তথ্য তাঁর পাঁড় ভক্ত কোনো ব্যক্তিও কখনো জানতেন বলে দাবি করবেন না। অথচ, বিষয়টি একদিকে অতিরিক্ত রকমের অবিশ্বাস্য হলেও, অপরদিকে বিকটরকমের সত্যও বৈকি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর প্রাক্তন কর্মকর্তা ও সিআইএ জাদুঘরের কিউরেটর নিকোলাস রেনলন্ডস সম্প্রতি হেমিংওয়ের গুপ্তচর-জীবন নিয়েই আস্ত একটি বই লিখেছেন। যার শিরোনাম : Writer, Sailor, Soldier, Spy: Ernest Hemingway’s Secret Adventures, 1935-1961 –এই বইটিই হেমিংওয়ের জীবনের আজতক অব্দি অজানা এই পর্বের ইতিবৃত্ত প্রথমবারে মতো পাঠকদের সামনে উন্মোচিত করেছে।
মার্কিন প্রশাসনের হয়ে হেমিংওয়ের কাজ করা নিয়ে তথ্য সাবেক ঝানু গোয়েন্দা কর্মকর্তা রেনল্ডসের হাতের নাগালেই ছিল। তবে সোভিয়েত-সংযোগের মতো এমন বিস্ফোরক ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন একদম কাকতালীয়ভাবেই। তিনি জানিয়েছেন, কর্মসূত্রে মস্কো থেকে পাচার হয়ে আসা গুরুত্বপূর্ণ সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা ‘এনকেভিডি’-র(১৯৩৪ থেকে ১৯৪৬ অব্দি এই সংস্থা চালু ছিল, কেজিবির পূর্বসূরি বলা চলে) একটি গোপনীয় ফাইল হাতে পেয়েছিলেন। সেই গোপন ফাইলের নথিপত্র থেকেই জানা যায়, ১৯৪০ সালে ‘এনকেভিডি’ কর্তৃপক্ষ হেমিংওয়েকে গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। এর নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন ‘এনকেভিডি’-র এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জ্যাকব গোলোস, যিনি গুপ্তচরবৃত্তির স্বার্থে থাকতেন নিউ ইয়র্ক শহরে। ওই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের অতি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থাটি হেমিংওয়ের একটি সাংকেতিক ছদ্মনামও নির্ধারণ করেছিল, ‘আর্গো’। “তবে তিনি আমাদের কোনো রাজনৈতিক তথ্য পাঠাননি”–ফাইলটিতে এও লেখা রয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

নিঃসঙ্গতাকে পঞ্চাশতম জন্মদিনের শুভেচ্ছা

অরুন্ধতী ভট্টাচার্য | ৩০ মে ২০১৭ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

marquez-1.jpgআঠারো মাস গর্ভে থাকার পর আজকের দিনে জন্ম হয়েছিল নিঃসঙ্গতার। সে পঞ্চাশ বছর আগের কথা। জন্মের সময় তার বয়স ছিল একশো বছর। অবশ্য পরাগ মিলন ঘটেছিল আরো অনেক আগে, সৃষ্টিকর্তার বয়স তখন সবে আঠারো, একটা “বাড়ি”-র (La casa) অঙ্কুরোদগমের সম্ভাবনা দিয়ে তার শুরু। বিরাট বড়, বহু পুরোনো একটা বাড়ি, ক্যারিবিয়ার উপকূলে জুঁইফুলের গন্ধমাখা সে বাড়ির আনাচে কানাচে ফিসফিস করে কথা বলে প্রেতের দল, সন্ধের অন্ধকারে দিদিমা নাতিকে নিয়ে যায় অলৌকিক গল্পের এক অন্যতর সত্যের জগতে, এক মাসি বুনে যায় নিজের শবাচ্ছাদন, দাদামশাই, বাড়ির একমাত্র পুরুষ অভিভাবক, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল, আমৃত্যু যাঁর অস্তিত্ব যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি, নাতিকে দেখান বেদেদের খেলা। আরাকাতাকায় এই নিবাস বাস্তবে মাত্র আট বছরের। কিন্তু তার স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে স্রষ্টা পথ হেঁটেছেন বাররানকিয়া, কার্তাহেনা, বোগোতা, মেহিকোর পথে, “ঝরাপাতা”, “দুঃসময়”, “কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখে না” উপন্যাস ও কিছু ছোটগল্পের পাতা এবং এভাবেই একদিন “বাড়ি”-র বহিরাবয়ব থেকে পৌঁছে গেলেন “নিঃসঙ্গতা”-র অন্তর্জগতে আর ঘটে গেল এক অভাবনীয় বিস্ফোরণ: ১৯৬৭ সালের বুয়েনোস আইরেসের সুদামেরিকা প্রকাশনা থেকে আত্মপ্রকাশ করল একশো বছরের নিঃসঙ্গতা (Cien años de soledad)। বইটি পড়েই কার্লোস ফুয়েন্তেসের স্বতঃস্ফূর্ত মন্তব্যঃ “লাতিন আমেরিকার দোন কিহোতে পড়লাম”, যার প্রতিধ্বনি শোনা গেল পাবলো নেরুদার কথায়ঃ “স্প্যানিশ সাহিত্যের জগতে দোন কিহোতের পরে সম্ভবত সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি”। আর বই প্রকাশের পনের দিনের মধ্যে প্রথম সংস্করণ বিক্রি হয়ে যায় শুধুমাত্র একটি শহরে, বুয়েনোস আইরেসে। এখনও পর্যন্ত বিশ্বের ৪৪টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, দোন কিহোতের পরেই এই পরিসংখানের স্থান এবং মোট বই বিক্রির সংখ্যা আনুমানিক ৫ কোটি। (সম্পূর্ণ…)

মাহী ফ্লোরার কবিতা: মরিয়ম সিরিজ-২

মাহী ফ্লোরা | ২৮ মে ২০১৭ ১১:৪৪ অপরাহ্ন

Anondo১১.
এই পৃথিবীতে আমার নিজের সন্তান ছাড়া আর কেউ নেই। মরিয়ম যেদিন পথের ভেতর ডেকে এনেছিল সামসাম মাছকে, সেদিনই নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মরে গেছে মা-বাপ আর পাখিদের বিপরীত সম্পর্ক।সন্ধ্যের মুখে একটি ব্যর্থ ট্যাটু এঁকে আমিও আমার সন্তান রেখে ঘুমিয়ে পড়ব কসম।

১২.
পাহাড়, স্থির, সময়। চার্চ, অপেক্ষা,ঘুঙুরধ্বনি।বৃক্ষ, সবুজ, এলোমেলো। আলো,আঁধার, কুয়াশা,মুখ,অসুখ। ধোঁয়া, ধুসর, অতীত। কথা, গল্প, অস্থিরতা,তুমি । তুমি নিতান্তই এক অস্থিরতম শিশু।

মরিয়ম, যেন আমাদের ঘিরে আছে প্রাচীন মেন্দাসিয়াম!

১৩.
আমার মরিয়মকে কেউ ধরে নিয়ে গেছে।সীমান্ত পেরোলেই লকেটের দাম বেড়ে যায়, চুল উড়তে থাকলে ভূগোল পেরিয়ে মনে হয়, প্রেম নেই। কুশর খেতের ভেতর একটা নির্জিব দেহকে কতকাল আর আগলে রাখা যায়!

১৪.
একমুঠো বারুদকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো মরিয়ম। লেটস সেলিব্রেট আ রাফ জার্নি। রোড টু রোড…
ব্যাক্সপেটরায় কোনো ব্যাকস্পেস নেই। নইলে দেখতে কত ভুল জীবন আমি বহন করার শর্তে মুছিনি। চোখের সামনে শরৎ ঘুমিয়ে যায়, বসন্ত কাতর থাকে। শুধু ঘুমের জন্য কিছু মৃত্যু পিছিয়ে যায়। (সম্পূর্ণ…)

জুননু রাইনের শিরোনামহীন কবিতা

জুননু রাইন | ২৮ মে ২০১৭ ১২:২৫ অপরাহ্ন

Fakirশিরোনামহীন-(এক)

সত্যি সত্যি তুমি খুব মিথ্যেবাদী। যা বিশ্বাস করো, সবকিছু সত্য ভাবো। কোনো কিছুই কোনো কিছুতে থাকে না, যদি তুমি না রাখো দেবী।

তুমি কি হাত ধরতে চেয়েছিলে? সেও তো সত্য ছিলো! তাই না?
যে আকাশের নিচে তুমি হাঁটো, সেখানে আমিও আছি। জানালা খুলে যে বাতাসে নিজেকে এলিয়ে দাও, প্রতি গতরাতে তোমাকে নিবেদিত আমার সব ভালোবাসা ধুয়ে মুছে সে’ই নিয়ে যায়। সত্য-মিথ্যের শাপলুডুতে আপাতত আগ্রহ নেই।
ভালোবাসার চোখে নিজেকে রোপন করে করে যাই। এ আমার গতি, আমারই নির্মিত নিয়তি।

নারায়ণকে অনেকটা সময় বুকে চেপে ধরে রেখেছিলাম, সে তোমাকে ছোঁবে বলে। তোমার হাত তাকে স্পর্শ করবে। হয়তো বিছানায় তোমার পাশে শোবে। বুকে নেবে কিনা জানি না! বালিশের নিচেও হতে পারে তার ক্ষণিক আশ্রয়। সে তোমাকে বুঝলে অথবা তুমি তাকে; আমাদের কিছুটা কি হবে না ভাবনার বিনিময়!
পৃথিবীটা অনেক বড়। মানুষ তার চেয়েও বড়। জীবনের কোনো সীমানা নেই,
হয়তো তুমিও জানো, ভালোবাসা ছাড়া কি আছে পাবার? ভালোবাসা ছাড়া কিছু নেই হারাবার (সম্পূর্ণ…)

ব্রোঞ্জের মা, কেঁদো না কেঁদো না

তারিক সুজাত | ২৭ মে ২০১৭ ৭:৩৬ অপরাহ্ন

SC-Sculpture-Removal-02সরে যাচ্ছে মননের ভূমি
সরে যাচ্ছে, সরে যাচ্ছে
‘স্মৃতি, সত্তা, ভবিষ্যত’
বিসর্জন অবধারিত ছিল না
তবু তার ঠাঁই হলো না বঙ্গীয়-বদ্বীপে
শিল্পের সীমানা নেই,
তাই সীমা ভেঙে এসেছিলে পোড়া এই দেশে;
চোখ বাঁধা ব্রোঞ্জের মা
ন্যায়ের প্রতীক হয়ে এসেছিলে,
তলোয়ার হাতে তোমাকে দেখে
কেঁপে ওঠে প্রেতাত্মা বখতিয়ারের,
লক্ষণ সেনও এ মাটির সন্তান ছিলো
বিনা-দোষে তাঁকেও তো কাপুরুষের তকমা দিয়েছি
‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে’ (সম্পূর্ণ…)

সবকিছু খালাস হয়ে গেল না

আনিসুর রহমান | ২৭ মে ২০১৭ ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন

nazrul-1চলো বদলে যাই বলেই তো সবকিছু খালাস হয়ে গেল না . . .
চলো বদলে দেই বললেই তো পকেটমারকে চুমুটুমু দেব না!
কে পারে আকাশকে সাাগর্ ছুড়ে? আর সমুদ্রকে উপরে পাহাড়ে
ঠেলতে পারে? যদি পারে তবে তা প্রলয়, সকলি সর্বনাশের ধারে !

যে হাত গুরুর পায়ের ধুলি নিয়েছে, সে হাত কবে কোন বেয়াদব …
গুরুর গালে মেখেছে? কে সে টিটকারি মেরেছে আর জোরে জোরে
বলেছে, ‘অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ’! বলি, ‘গুরু ভক্তি বীরের লক্ষণ’
লেঠেলকে দিও না মোনাজাতের ভার,একাল পরকাল সকলি অন্ধকার!

কি সব বোবাকাণ্ড চারিদিকে কানাগলি, ইমামের হাতে ইয়াবার থলি!
আলোর মশাল বিলানো মানুষটি কে, শীতলক্ষার পারে বদ্ধ কারাগারে?
একই দিনে কবি এক কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে শতবর্ষ পরে
কি উদযাপনে জাতি; কে জন্ম পরিচয় ভুলে, সকল কুষ্ঠি ছিকেয় তুলে? (সম্পূর্ণ…)

টি এম আহমেদ কায়সারের তিনটি কবিতা

টি এম আহমেদ কায়সার | ২৭ মে ২০১৭ ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

ঘুমবিক্রেতা​​
উত্তর গোলার্ধে এক ঘুমবিক্রেতা খায় দায় ঘুমায় আর
রাত্রি গভীর হলেই বায়ুতে মিশিয়ে দেয় নাইট্রাস অক্সাইড

ছোপ ছোপ রক্ত ভুলে, দহন ভুলে, যামিনীর মর্মপীড়া ভুলে
শুধু হাসতে হাসতে, হাসতে হাসতে,
চোখে জল-আসা হাসিতে গড়িয়ে পড়তে পড়তে
আর একরত্তিও ঘূমাতে পারি না!

ও ঘুমবিক্রেতা, একটু একটু মৃত্যুও মিশিয়ে দিও মাঝে মাঝে!
তাতে ঘুমের বিক্রি যেমন বাড়বে
তুমিও থাকবে ধরাছোঁয়ার একেবারেই অগোচরে! (সম্পূর্ণ…)

নজরুলের নারী ও ‘নারী’ কবিতার ব্যক্তিগত ভিন্নপাঠ

ঝর্না রহমান | ২৫ মে ২০১৭ ৫:২৬ অপরাহ্ন

Nazrul-2কাজী নজরুল ইসলাম নামটির সাথে ‘বিদ্রোহী কবি’ অভিধাটি এমনভাবে এঁটে বসেছে, যে এ অভিধা ছাড়া তাঁর নাম লেখা বা উচ্চারণ করাটাই এখন কবিকে প্রায় খণ্ডিত করার শামিল হয়ে পড়েছে। কিন্তু নজরুল যে ছিলেন অতিশয় রোমান্টিক কবি, প্রেমিক কবি, বিরহী কবি, তাঁর সেই আত্মার আবেগধ্বনি যেন তাঁর দ্রোহের উচ্চারণের ঢালতরোয়ালের ঝনঝনানির কলরোলে অনেক সময়ই চাপা পড়ে যায়। অবশ্য অতি ব্যবহারে ক্লিশে একটি উদাহরণ দিয়ে নজরুলকে প্রেম ও দ্রোহের সব্যসাচী বানিয়ে আলোচনার রণাঙ্গণে নামিয়ে দেওয়া হয়, সেটি হলো, ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সেই বিখ্যাত চরণ “ মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাশরী আর হাতে রণ তূর্য।” বাঁকা বাঁশের বাঁশিটি তাঁর ত্রিভঙ্গমূরারি শ্যামকালিয়ার বংশি, এইখানে কবি প্রেমিক কৃষ্ণ, রাধা তাঁর আরাধিকা। আর রণতূর্য তো যুদ্ধের দামামা বটেই এবং বিদ্রোহ যেখানে যুদ্ধ আছে সেখানে।
দ্রোহ আর যুদ্ধ অনেক ক্ষেত্রেই সমার্থক, রূপকার্থেও দ্রোহই যুদ্ধ বা যুদ্ধই দ্রোহ। কিন্তু কবির দ্রোহের কবিতা Ñ শুধু কবিতা নয় এমন কি ‘আমি সৈনিক’, ‘দুর্দিনের যাত্রী’ বা ‘যৌবনের গান’ ইত্যাদি অবশ্যপাঠ্য প্রবন্ধের মধ্যে তাঁর যে সৈনিকচেতনাভাস্বর দ্রোহাকাক্সক্ষা অথবা দ্রোহাকাক্সক্ষাচালিত যৌবনচেতনার জয়ধ্বজা উড্ডীন হয়েছে তারও মূলে আছে প্রেম। আছে প্রেমের রোমাঞ্চ ও বেদনা। তাঁর দ্রোহভাষ্যের কালজয়ী কবিতা ‘বিদ্রোহী’তে তাই দেখি কবির দুরন্ত দুর্মদ বেপরোয়া চিত্ত ‘বন্ধনহারা কুমারীর বেণী’র ছোবলে, ‘গোপন প্রিয়ার চকিত চাহনি’র লক্ষভেদী মধুর আঘাতে, ‘চপল মেয়ের’ কাঁকন চুড়ির ঠিনিঠিনি ঝংকারে আর ‘যৌবনভীতু পল্লীবালার আঁচর কাঁচলি নিচোর’-এর তীব্র নরম স্পর্শে জেগে ওঠে, শক্তিমত্ত হয়ে ওঠে। বলতে পারি, দ্রোহের আড়ালের এই প্রেম দেশের জন্য, জাতির জন্য, মানুষের জন্য, স্বাধীনতা-মুক্তি-সাম্য-মৈত্রীর জন্য দুর্মর আকাক্সক্ষায় অভিষিক্ত, আর তার অন্তঃস্তলে প্রেরণার উৎসরূপে অধিষ্ঠিত আছে নারী। (সম্পূর্ণ…)

এ-যুগে নজরুলকাব্যের প্রাসঙ্গিকতা

বিনয় বর্মন | ২৫ মে ২০১৭ ৫:১৬ অপরাহ্ন

nazrul-1যুগদ্রষ্টা কবি নজরুল তাঁর উন্মাতাল সৃষ্টিশীলতায় সমসাময়িক সাহিত্যমানসে কেটেছিলেন তীব্র আঁচড়। বাংলা কবিতা ও গানে তিনি অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর কাব্যপ্রতিভা যুগের দাবি মিটিয়েছে এবং এ কালেও তাঁর প্রাসঙ্গিকতা বিন্দুমাত্র হ্রাস পায়নি। তিনি আমাদের জাতীয় সাহিত্য পরিচয়ের বড় আধার, আমাদের স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্রের উজ্জ্বল আকরচিহ্ন। তাঁকে ছাড়া বাঙালি ও বাংলাদেশ দিশা পায় না, বাংলা সাহিত্য গতি পায় না। তাঁর কবিতার মেঘগর্জন বাংলা সাহিত্যে যেমন আধুনিকতার অংকুর উদগম করেছিল, তেমনি জাতিগত বিভেদের মধ্যে মিলনের পথ প্রশস্ত করেছিল। তাঁর কবিতার উত্তাল তরঙ্গ মানসকূল প্লাবিত করে, দুর্বার অভিঘাতে পাঠকসমাজকে আবেগাকুল করে। কাব্যে তাঁর রুদ্ররস, প্রেমরস ও ভক্তিরস যে-কোন পাঠককে স্পর্শ করে, বিমোহিত করে, শুভাদর্শে উদ্বুদ্ধ করে। তাঁর ঝংকৃত, সুধাময়, সুখপাঠ্য কবিতা গৌরবতরণীতে বিংশ শতাব্দী পাড়ি দিয়ে একবিংশ শতকে এসে পাঠকের কাছে হয়েছে আরো আদরণীয়। (সম্পূর্ণ…)

প্রসঙ্গ নজরুল সঙ্গীত : ভূমিকা

ওমর শামস | ২৫ মে ২০১৭ ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

Nzrulকাজী নজরুল ইসলাম-এর বিধিদত্ত সঙ্গীত প্রতিভা ছিলো। ছোটবেলার থেকেই তিনি পুঁথিপাঠ, আজান জানতেন, তার সঙ্গে ছিলো লেটোর গান, যাত্রা, ঝুমুর। সে আমলের গ্রামীণ গানে কিছু ধুন, রাগের মিশ্রণ ছিলো। কাফি, ঝিন্‌ঝোটি, বিলাঅল, ভৈরবী, লুম – এ-সব পাওয়া যেতো। ঘারানাদার উস্তাদের কাছে না পৌঁছতেও, কাজী নজরুল-এর বেশ পাকা তালিম এ-সব গান থেকেই হয়েছিলো। কৈশোরে গলা কেমন ছিলো, কি গাইতেন তা অবশ্য আমরা জানতে পারবো না। যৌবনে তিনি যখন নৌশেরা এবং করাচিতে ছিলেন তখন এক ফার্‌সি-জানা উস্তাদের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। কোনো সঙ্গীত চর্চা করেছিলেন কি সেখানে? আমরা জানি না। তবে সম্ভবত তিনি গানের চর্চা বজায় রেখেছিলেন। নজরুল-এর সাহিত্য এবং কবিতা সাধনা যখন তিনি করাচিতে তখন থেকেই শুরু। তাঁর প্রথম প্রকাশিত সাহিত্যকর্ম, ‘বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী’ গল্পটি সওগাত-এ ১৯১৯ সনে বেরোয়। একই বছরে ‘মুক্তি’, তাঁর প্রথম কবিতা, বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাঁর নাম ছাপা হয়, কাজী নজরুল ইসলাম, হাবিলদার, বঙ্গবাহিনী, করাচি। এই প্রকাশনার পর তিনি সম্পাদককে একটি চিঠি লেখেন যাতে তাঁর ঠিকানা এইভাবে লেখা ছিলোঃ From QUAZI NAZRUL ISLAM / Battalion Quartermaster Havilder / 49th Bengalis / Cantonment, Karachi / Dated, The 19th August, 1919 /

১৯২০-তে বঙ্গপল্টন ভেঙ্গে গেলে নজরুল কোলকাতায় ফেরত আসেন এবং বন্ধু শৈলজানন্দদের বোর্ডিং হাউসে ক-দিন থাকেন। যখন “বোর্ডিং হাউসের চাকর জানতে পারে যে, সে মুসলমান সে তার এঁটো বাসন ধুতে অস্বীকার করে।” অতঃপর তিনি ৩২ কলেজ স্ট্রীটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকার অফিসে আশ্রয় নেন। তাঁর পোশাক পরিচ্ছদ সমেত কবিতার খাতা, গল্পের খাতা, পুঁথি-পুস্তক, মাসিক পত্রিকা, রবীন্দ্রনাথ-এর গানের স্বরলিপি ছিলো। “পুস্তকগুলির মধ্যে ছিলো ইরানের মহাকবি হাফিজ-এর দিওয়ানের একখানা খুব বড় সংস্করণ।” এর সঙ্গে “ব্যথার দান”-এর উৎসর্গে উল্লিখিত “খোপার কাঁটা”-টিও ছিলো। “কাজী নজরুল ইসলাম যে-দিন প্রথম ৩২ কলেজ স্ট্রীটে থাকতে এসেছিলো সে-দিন রাত্রেই তাকে দিয়ে আমরা গান গাইয়ে নিয়েছিলাম। গানের ব্যবস্থা হয়েছিল আফজালুল হক সাহেবের ঘরে। আমাদের ঘরখানা শীলদের বাড়ির উঠোনের উপরে ছিলো। তাঁদের বাড়ির ভিতরে যাতে কোন আওয়াজ না পেরোয় সে বিষয়ে আমি সতর্ক ছিলেম। তখনকার দিনে নজরুল সাধারণত রবীন্দ্রনাথের গানই গাইত, কিন্তু সে-দিন সে গেয়েছিলো ‘পিয়া বিনা মোর জিয়া না মানে, বদরী ছায়ী রে’।” (সম্পূর্ণ…)

অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ্ খালিদের সাথে একদিন

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২৩ মে ২০১৭ ৯:০৫ পূর্বাহ্ন

1. সৈয়দ আবদুল্লাহ্ খালিদ ও শিমুল সালাহ্উদ্দিন
চিত্র: সৈয়দ আবদুল্লাহ্ খালিদ ও শিমুল সালাহ্উদ্দিন
অপরাজেয় বাংলায় ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদের প্রয়াণে শোকাচ্ছন্ন শিল্পজগৎ। খালিদের চলে যাওয়ার বেদনা ছুঁয়েছে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও। ইতিহাসের এমন অগ্নিপুরুষকে হারিয়ে ভারাক্রান্ত সর্বস্তরের মানুষ। শোকে স্তব্ধ। শ্রদ্ধায় অবনত। চেতনার শৈল্পিক নির্মাতা আব্দুল্লাহ খালিদের জন্য শুধুই হাহাকার। অঙ্কুর, ডলফিন, অঙ্গীকার, মা ও শিশুসহ আরো অনেক ভাস্কর্যের স্রষ্টা আব্দুল্লাহ খালিদ। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে ঘুরে-ফিরে আসছে অপরাজেয় বাংলার নাম।

দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন এই ভাস্কর। ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ৭৫ বছর বয়সে ২০শে মে ২০১৭, অর্থাৎ গত শনিবার রাত ১১.৪৫ মিনিটে মারা গেছেন এই শিল্পী, এমন তথ্য আমাকে প্রথম জানায় শিল্পীর পুত্র সৈয়দ আবদুল্লাহ্ জহীর। প্রথমে চারুকলা অনুষদে ও পরে অপরাজেয় বাংলার সামনে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদকে রবিবার বিকেলে দাফন করা হয়েছে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যের প্রতীক (পড়ুন আইকন) অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ্ খালিদের জন্ম পহেলা সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ সালে সিলেটের কাজী ইলিয়াস মহল্লার সৈয়দ বাড়িতে। পিতা সৈয়দ আহমেদ মুজতবা ছিলেন বিদ্যানুরাগী, জ্ঞাপপিপাসু, সংস্কৃতিমনা। আবদুল্লাহ খালিদের চারুকলায় পড়ার ব্যাপারে পরিবারের আর সবার মত না থাকলেও, ছিলো পিতার উৎসাহ।

পিতার সম্মান রাখতেই বুঝি কঠোর পড়াশোনা আর নিজের মেধার ব্যবহারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ থেকে ১৯৭৪ সালে বেরিয়েছিলেন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে। অথচ এই খালিদই পাকিস্তান আমলে, সেসময়ের ইস্ট পাকিস্তান কলেজ অব আর্টস এন্ড ক্রাফটস, বর্তমানে যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, সেখান থেকে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়ে, কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, পড়তেন অঙ্কন ও চিত্রাঙ্কন বিভাগে, কিন্তু সারাদিন ভাবতেন ভাস্কর্য নিয়ে। চট্টগ্রামে গিয়ে উপযুক্ত ক্ষেত্র পেয়েছিলেন ভাস্কর্য চর্চার, ফলত এই উত্তম ফলাফল। (সম্পূর্ণ…)

অপ্রকাশিত পত্রগুচ্ছে সিলভিয়া প্লাথের তিক্ত দাম্পত্যজীবন

মুহিত হাসান | ২২ মে ২০১৭ ১০:১৯ পূর্বাহ্ন

2কবিদম্পতি সিলভিয়া প্লাথ ও টেড হিউসের বিবাহিত জীবন কখনোই খুব মধুর ছিল না, তা ওয়াকিবহাল ব্যক্তিমাত্রেই জানেন। কিন্তু সাংসারিক রাগ-বিরাগের সীমা ছাড়িয়ে টেড হিউস স্বয়ং, সিলভিয়া প্লাথকে রীতিমতো শারীরিক অত্যাচার করেছিলেন– এমন তথ্য যে কাউকে চমকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান সিলভিয়ার গর্ভে ‘মিসক্যারিজ’ হওয়ার দুদিন আগে তাঁকে আঘাত করেছিলেন টেড হিউস ও পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুকামনা করেছিলেন–এমন তথ্য পেলে কি যে কারও গা শিউরে উঠবে না? সম্প্রতি সিলভিয়ার অপ্রকাশিত একগুচ্ছ পত্র জনসম্মুখে আসায় বিষয়টি জানা গিয়েছে।
চিঠিগুলো(সংখ্যায় মোট চৌদ্দটি) লেখা হয়েছিল ১৯৬০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৬৩-র ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে, সিলভিয়া প্লাথ আত্মহত্যা করার সপ্তাহখানেক আগে শেষতম চিঠিটি লেখা হয়। চিঠিগুলো সিলভিয়ার জীবনের এমন একটা অধ্যায় মেলে ধরেছে, যা কিনা পাঠক ও গবেষকদের মধ্যে ধোঁয়াশাপূর্ণই রয়ে গিয়েছিল এতদিন। এমনিতে ইংল্যান্ডে তখন বসবাসকারী এই মার্কিনি কবি ছিলেন একজন দুঁদে পত্রলেখক, উপরন্তু এগারো বছর বয়স থেকে সবিস্তার দিনলিপি লেখার অভ্যাসও তাঁর ছিল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর টেড হিউস দাবী করে বসলেন, মৃত্যুর পরই সিলভিয়ার সব দিনলিপির খাতা খোয়া গিয়েছে। আর শেষতম দিনলিপির খাতাটি তিনি নিজেই নষ্ট করে ফেলেছেন, তাঁদের দুই সন্তান ফ্রিডা ও নিকোলাসকে ‘রক্ষার স্বার্থে’। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com