কার্লোস দ্রুমেন দি আন্দ্রাদে’র কবিতা

মাজুল হাসান | ৩১ মার্চ ২০১৭ ১:১৬ পূর্বাহ্ন

carlos-drummond-de-andradeব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। জীবদ্দশাতেই তিনি পরিণত হয়েছিলেন ব্রাজিলের সাংস্কৃতিক আইকনে। জন্ম ১৯০২ সালের ৩১ অক্টোবার ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মাইনাস গেরাইস-এর ইটাবিরা গ্রামে, যেটি খনির জন্য প্রসিদ্ধ। পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত বাবা-মা’র সন্তান কার্লোস দ্রমেনের পড়াশোনা ফার্মেসিতে। কিন্তু কখনোই সেই পেশা ভালো লাগেনি তাঁর। ফলে সরকারি চাকরি করেই কাটিয়েছেন বাকি জীবন। ছিলেন ন্যাশনাল হিস্টোরিকাল আন্ড আর্টিস্টিক হেরিটেজ সার্ভিস অফ ব্রাজিলের চেয়ারম্যান।

১৯৩০ সালে প্রকাশ পায় প্রথম কবিতার বই আলগুমা পোয়েসিয়া। সবশেষ কবিতার বই হিস্তোরিয়া দি দোয়েস আমোরেস প্রকাশ পায় ১৯৮৫ সালে। ১৯৮৭’র ১৭ আগস্ট মারা যান তিনি। এর পরেও ১৯৮৮তে ও পিনতিনহো এবং ২০০৯ সালে বের হয় ক্যারোল ই জিনা। কবিতার পাশাপাশি লিখেছিলেন দেড় ডজনেরও বেশি গদ্যের বই, যেগুলো শিল্প-সাহিত্য-রাজনীতি বিবিধ বিষয়ে লেখা।

মারিও দি আন্দ্রেদে ও ওসওয়াল্ড দি আন্দ্রদেদের কাব্যধারা প্রবাবিত দ্রুমেন ছিলেন মনেপ্রাণে আধুনিক। তাই আধুনিক কাব্যকৌশল যেমন: ফ্রি-ভার্সের প্রতি পক্ষপাত, বিষয়বস্তু হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ না থাকা ইত্যাদি বিষয়গুলো তাঁর লেখায় প্রতীয়মান হয়। ধীরে ধীরে অন্যের প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে নিজের কাব্যভাষা ও ধারা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। আলফ্রেদো বোসি বলছেন, লজিস্টিক ফ্রিডম ও ফ্রি-ভার্সের মধ্যে থেকেও তার কবিতা পাঠককে অন্য এক ভুবনে নিয়ে যায়। রোমানো ডি সেইন্ট আন্না তাঁর কাব্যচর্চাকে মোটা দাগে ৩টি পর্ব চিহ্নিত করেছেন।
১. greater than the world – marked by ironic poetry
২. lower than the world – marked by social poetry
৩. equal to the world – covers the metaphysical poetry

১৯৮০’র শেষ দিকে কার্লোস দ্রুমেনের কবিতা খানিক ইরোটিক হয়ে ওঠে। মার্কিন কবিমহলেও সমান পরিচিত ছিলেন তিনি। মার্ক স্ট্রান্ড ও লয়েড স্কোয়ার্দজ তার কবিতা ইংরেজিতে ভাষান্তর করেছেন। এলিজাবেথ বিশপের সাথে পত্রালাপও ছিল তাঁর, যিনি তাঁর প্রথম ইংরেজি অনুবাদকও। কবিতাগুলো ইংরেজি অনুবাদের ভিত্তিতে থেকে বাংলায় তর্জমা করা হলো।–অনুবাদক (সম্পূর্ণ…)

জীবন্ত মানুষ এবং আটপৌরে ঘ্রাণের আখ্যান

অলভী সরকার | ২৯ মার্চ ২০১৭ ৮:০৭ পূর্বাহ্ন

ঠাকুমা মারা গেছেন!!!
যার শরীর জুড়ে ‘রতন’ জর্দার মাতাল করা ঘ্রাণ, সেই ঠাকুমা মারা গেছেন।

দিব্যি সুস্থ মানুষ। লোকে বলে, অকারণে ছটফট করে, অবশেষে ততোধিক শান্ত হয়ে মারা গেছেন। সকালবেলা খালি পেটে খুব করে রতন জর্দা দিয়ে পান খেয়েছিলেন। যাতে প্রেম, তাতেই মৃত্যু। যে, মানুষের সবচেয়ে আপনজন, তারই তো সুযোগ থাকে ঘাতক হবার!

ঠাকুমা কেন ‘রতন’ জর্দা খেতেন, আমি ঠিক জানি না; এখন জানার কোনো উপায়ও নেই। অবশ্য নৃ-তাত্ত্বিক গবেষণার পথ বেছে নিলে ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু, গবেষণায় সবসময় সত্যিকারের তথ্য পাওয়া যায় কি? সে যাই হোক, শুধু মনে পড়ে, গ্রামের বাড়িতে গেলে খুব ঘটা করে বাবা ‘রতন জর্দা’ কিনতেন। কোনো ব্র্যান্ডিং- এর ব্যাপারস্যাপার ছিল বোধহয়; এখনকার আরো অনেক কিছুর মতোই। মানুষ ভোগ্যদ্রব্যের দাসত্ব কত আগে থেকেই করতো, কে জানে!

old-womanপূর্বপুরুষের ভূমি থেকে আড়াইশো কিলোমিটার দূরে, যে জায়গাটিতে আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে, তাকে আমি বলি স্বয়ংসম্পূর্ণ জেলখানা। এর উঁচু প্রাচীরের ঘের দেয়া আওতার ভেতর সব ছিল- স্কুল, কলেজ, কিন্ডারগার্টেন, হাসপাতাল, বাজার, আবর্জনা, নর্দমা- সবকিছু। যা ছিল না, তা হল,বাইরে যাবার সুযোগ এবং মানসিকতা। আর, প্রয়োজনই বা কী? মানুষ স্বভাবতই আরামপ্রিয়। ‘কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে?’- বস্তুত, হৃদয়-শরীর- কোনোটা খুঁড়েই মানুষ বেদনা জাগাতে চায় না। আমার কৈশোরও সীমাবদ্ধ ছিল কিছু নির্দিষ্ট মানুষের চেনা চাহনি, হাসি, কথা, খেলাধুলা, হাঁটার ভেতর।

নিজের একটা জগৎ তৈরি করেছিলাম আমি। স্কুল থেকে ঠিকঠাকমতো হেঁটে এলে বাসায় পৌঁছতে সময় লাগতো পাঁচ মিনিট। আমি রাস্তার বাম-ডান এবং ডান-বামে কোনাকোনি হেঁটে আসতাম, যাতে সময় বেশি লাগে। চেনা মানুষের গণ্ডির বাইরেও দু’একটি মানুষ আমার জীবনে জায়গা করে নিল। ওরা আসতো আশে পাশের গ্রাম থেকে- কেউ ভিক্ষা করতে, কেউ দুধ বিক্রি করতো, ছিল ছাই-বিক্রেতা, এলাকার শাক নিয়ে আসতে অনেকে। (সম্পূর্ণ…)

একজন জঙ্গির কাছে তার মায়ের চিঠি

মাজহার সরকার | ২৮ মার্চ ২০১৭ ১:৫৭ পূর্বাহ্ন


terrorist
খোকা,
তুই কেমন আছিস? আমি ভালো নেই।
তোর বাবাও আর চোখে দেখে না
পত্রিকার পাতা দেখে না, নয়তো এই সংবাদ পড়তে হতো!
তোর বোনটাও অপেক্ষা করে করে ফিরে গেছে শ্বশুরবাড়ি
গত রাতে স্বপ্নে দেখলাম আমার চোখের পাতা ছেড়ে
একটা দৈত্যের মতো, ক্রমাগত আমার কাছ থেকে পালাচ্ছে
আমার শরীরের মধ্যে দিয়ে তার ছায়া তোর বাবার মুখে
সীমাছাড়া তার মত্ততা দেখে
বহ্নিমান হিংস্রতা নখে নিয়ে মাটি খামচাচ্ছে, তারপর
পুকুরের জলের উপর শব্দ করে হেঁটে গিয়ে
লণ্ডভণ্ড করে দিলো ক্ষেতের ফসল
দূরে যেতেই বুঝি এটা ছিলি তুই!
আট বছর বয়সে যে তুই বরইগাছ থেকে পড়ে পা ভেঙেছিলি
আমার নাকফুলটা বিক্রি করে তোর চিকিৎসা করিয়েছিলাম
কতো দিন কতো রাত পাশে না ঘুমিয়ে, না খেয়ে,
অস্ত্রের আঙুলে এইসব আজ তোর মনে নেই
আমার বুকের ভেতর আমি শুনতে পাই বাংলাদেশের হাহাকার
বাংলাদেশের বুকের ভেতর নিরীহ মানুষের কান্না
আর তুই হাতে বোমা তুলে অস্বীকার করে গেলি
তোর জন্মের চেয়ে অপেক্ষমাণ শান্তির দেশকে
আজ তোর রক্ত থেকে আমার রক্ত ছাড়িয়ে নিলাম
এখন পুরো বাংলাদেশটাই আমার সন্তান।

ইতি-
তোর মা

Flag Counter

স্বাধীনতার সত্যকথা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৬ মার্চ ২০১৭ ৩:৫৯ অপরাহ্ন

গণহত্যা থেকে স্বাধীনতা
বাংলা ও বাঙালির যুদ্ধকথা।
গণহ্ত্যা থেকে স্বাধীনতা
বাংলা ও বাঙালির জয়কথা।

বাঙালিও মানুষ; অতএব
বাঙালিত্ব মানে মানবতা।
মানবতা মানে মানবসমতা।
মানবসমতা নয়
অন্য কারুর পরাধীনতা।

আত্মদান থেকে স্বাধীনতা,
বাঙালি মানেনি কারো অধীনতা।
আত্মদান থেকে স্বাধীনতা,
বাঙালি মানে না কারো অধীনতা। (সম্পূর্ণ…)

পরাধীন রাত্রির কবি

আনিসুর রহমান | ২৬ মার্চ ২০১৭ ৩:৫৬ অপরাহ্ন

mainorকে কোথায়? কে নিদ্রায়? কে কবি রাত্রির পাহারায়?
কেমন চাওয়া, ভুলে যেতে পারলে সব কত মধুর হয়?
একটু ভুলে অবসাদে ঢলে কি এমন? রাত গভীর হয়;
মাথাটা আমার গেছে, রাতভর ছুটি ঘুমের পিছে পিছে !

কোন সে কবি গেল বলে, বড় প্রেম শুধু কাছে টানে না,
দূরেও ঠেলে; কথাটা কেমন করে গেল ফলে? সে চাঁদ
এখন কোন ঘরে পূর্নিমা হলে, এই ঘরে অন্ধকার ঢেলে? (সম্পূর্ণ…)

একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ: ওরা কারা

রুখসানা কাজল | ২৬ মার্চ ২০১৭ ১০:০১ পূর্বাহ্ন

তালিয়া
গার্লস ইশকুলের রাস্তা দিয়ে যতবার গাড়ি যায়, তালিয়া ততবার ইশকুলের গেটটা দেখে শিউরে ওঠে। পাশে বসা সহকর্মী বা অন্য কাউকে অবশ্য বুঝতে দেয় না। এমনিতে পাথরের মত মুখ করে থাকে। দরকারের বাইরে বাড়তি কথা খরচ করে না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত হাসে না। স্থানীয় কেউ কথা বলতে গেলে দূরত্বের কঠিন গন্ধ পায়। ফলে স্থানীয় কারো সাথেই কাজের বাইরে কোন সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি তালিয়ার। স্বামী রায়হান ইউএনডিবির চাকুরে। আজ এদেশ কাল ওদেশ। একমাত্র ছেলে স্বাগত সিডনি। কম্যুনিকেশন এবং জার্ণালিজমে পড়াশুনা করছে। ছেলের খুব ইচ্ছে এদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে পরিবর্তনশীল সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে লেখালেখি এবং ফিল্ম বানানোর।
মুক্তিযুদ্ধে রায়হানের বাবাকে মেরে ফেলেছে স্থানীয় রাজাকাররা। রায়হান বাবাকে পেয়েছিল মাত্র আট মাস। বাবার সাথে কিছু ছবি ছাড়া আর কোনো স্মৃতি নেই ওর। মামারা অল্পবয়সি মাকে বেশিদিন একা থাকতে দেয়নি। দ্বিতীয় বিয়ের ফলে মা হয়ে যায় প্রবাসি। একলা পড়ে যায় রায়হান। একবার দাদাবাড়ি একবার মামাবাড়ি। শেষ পর্যন্ত ক্যাডেট ইশকুল এন্ড কলেজ পেরিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং। কি যে নেশা রায়হানের যেখানেই একাত্তরের কিছু হয় ও পাগলের মত ছুটে যায়। ছেলে স্বাগতের তখনো কথা ফোটেনি ভাল করে সেও বাবার সাথে মাথা দোলায়, আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসিইইইই –
রায়হান কতবার ডেকেছে, হাত ধরে টেনে নিয়েছে, তালিয়া একবার গলা মেলাও, প্লিজ! ছেলে চোখে, মুখে, চিবুকে চুমু খেয়ে বলেছে, গাও মা গাও—তালিয়া কখনো গায় নি। ওর মা জেলা শহরের গার্লস ইশকুলের হেডমিস্ট্রেস ছিল। মার কাছে গল্প শুনেছে সদ্যস্বাধীন দেশে নাকি নিয়ম করে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হত। এসেম্বলীতে সব ধর্মের ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে ধর্মপাঠও করানো হত। এমনকি এক ধর্মের ছাত্রি অন্য ধর্মের আয়াত, শ্লোক, বাণী পাঠ করলেও কেউ কিছু মনে করত না। সম্প্রীতির সহবস্থান ছিল, মায়া মমতা ছিল, ভালোবাসা ছিল। তালিয়ার সময় এগুলো আর হয়নি। এসেম্বলিই হত না নিয়মিত। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার সাথে সাথে সম্প্রীতি, সদ্ভাব উবে গিয়ে দেখা গেলো নিজস্ব সংস্কৃতি ভুলে বাঙালীরা দ্রুত খাঁটি মুসলিম হতে উঠে পড়ে লেগে গেছে। এমনকি কেউ কেউ বলেও ফেলেছে, হিন্দুর লেখা গান কেনো বাঙালি মুসলিমদের জাতীয় সংগীত হবে?
three-girlsমা ছিল জয়বাংলার কট্টর সমর্থক। বাবা নামের লোকটা যুদ্ধের পর পর পালিয়ে চলে যায় ইংল্যান্ড। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর একবার এসেছিল। পাকিস্তানের সমর্থনে আর বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ছেলেমেয়েদের আজেবাজে কথা শেখানোর পাশে পাক সার জমিন নামে একটা গানও শেখাতে শুরু করে। মা প্রচুর আপত্তি করে। আপত্তি থেকে ঝগড়া আর ঝগড়া থেকে ছেলেকে নিয়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিলে মা কি সব কাগজপত্র বের করে বলে, এক্ষুণি বেরিয়ে না গেলে পুলিশের কাছে যাবে। আর আসেনি লোকটা। শুনেছে পাকিস্তানী কোন মহিলাকে বিয়ে করে ইংল্যান্ডে ভালই আছে। বাবা চলে যাওয়ায় মা বা ওরা কেউ দুঃখ পায়নি। বরং যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিল। তালিয়া বেশি খুশি হয়েছিল কারণ বাবাটা সুযোগ পেলেই তালিয়ার পিঠ খামচে দিয়ে বলত, তোর জন্যে পাক সার জমিন। তু তো হাফ পাকিস্তানি হ্যায়। (সম্পূর্ণ…)

মুহাম্মদ সামাদের কবিতা: পঁচিশে মার্চ

মুহাম্মদ সামাদ | ২৫ মার্চ ২০১৭ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

BangladeshGenocideএ রাতে হঠাৎ নামে ঝাঁকে ঝাঁকে কনভয়
ঘুমন্ত মানুষ কাঁপে চোখে মুখে তার ভয়।
খুনের নেশায় যমদূতের হিংস্র কড়া নাড়া।
নবজাতকের কান্নায় চিৎকার করে পাড়া।
লেলিহান শিখায় শহর বস্তি ছাত্রাবাস পোড়ে।
আকাশে বাতাসে গগনবিদারী আর্তনাদ ওড়ে।
পথে ঘাটে পড়ে গুলিতে ঝাঁঝরা লাশ।
চারিদিকে শুধু হত্যা আর হত্যার উল্লাস!

আমার বোনকে হায়েনা খুবলে খায়
ভাইয়ের মস্তক গুলিতে উড়ে যায়
পিতা ছিন্নভিন্ন বেয়োনেটের খোঁচায়
রক্তাক্ত মেজেতে মা আমার লুটায়
ভয় বাড়ে স্তব্ধ নীরবতায়!

এ কেমন ভয় নামে, ভয়!
আমার সবুজ দেশে
হলোকাস্ট বা ভিয়েতনাম আজ
গণহত্যার উপমা হয়! (সম্পূর্ণ…)

‘সমুদ্রস্তন দ্বীপের মতো সে আছে ঘুমিয়ে’ : ডেরেক ওয়ালকটের প্রস্থান

কুমার চক্রবর্তী | ২৪ মার্চ ২০১৭ ১১:০৭ অপরাহ্ন

Walcott১.
শীতল কাচ ছায়াময় হয়ে ওঠে। এলিজাবেথ একবার লিখেছিল—
আমরা কাচকে আমাদের ব্যথার চিত্রকল্প বানিয়ে ফেলি।

২.
কাছে এসো ফিরে
আমার ভাষা।

ওয়ালকট, তাঁর নিজের ভাষায়, প্রথমত এক ক্যারিবীয় লেখক যিনি মানবগোষ্ঠীর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে সবকিছু দেখেছেন আর বলেছেন, পরিপক্বতা হলো প্রত্যেক পূর্বসূরির বৈশিষ্ট্যের সাঙ্গীকরণ। তাঁর একীকরণের বিষয় ছিল ল্যাঙ্গুয়েজ কনটিনাম আর কালচারাল স্ট্রেটাম। ১৯৯২ সালে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত, সেন্ট লুসিয়ার ক্যাস্টিসে ১৯৩০-এর ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী ডেরেক ওয়ালকট মনে করতেন যে, অধিকাংশ কৃষ্ণাঙ্গ লেখকই তাঁদের আত্মবিচ্ছিন্নতা দ্বারা নিজেদের পঙ্গু করে ফেলেন, কবি হিসেবে মানবতার বিভাজনে বিশ্বাস অনুচিত। তাঁর স্টার-আপেল কিংডম কাব্যের ‘দ্য স্কুনার ফ্লাইট’ কবিতায় এই চেতনার স্যাবাইন বলছে এমন কথা যা থেকে তাঁর প্রাতিস্বিকতার পরিচয় ধরা পড়ে:
আমি হলাম সোজাসাপটা একজন লাল নিগার যে সমুদ্রপ্রেমিক,
আমার রয়েছে ঠিকঠাক ঔপনিবেশিক শিক্ষা,
আমি একাধারে ডাচ, কৃষ্ণাঙ্গ এবং ইংরেজ
আর হয় আমি কেউ নই নতুবা
আমি এক জাতি।

তাঁর ভেতর ইউরোপীয় ইতিহাস, শিল্পসাহিত্য আর সেন্ট লুসিয়ার আফ্রিকানির্ভর সংস্কৃতির সার্থক মিলন ঘটেছে। তিনি ছিলেন না ইউরোপীয় গোছের, আবার সেন্ট লুসিয়ার কৃষ্ণাঙ্গদের মতো কালোও ছিলেন না, ছিলেন কিছুটা সাদাটে। ফলে বিভিন্ন ঐতিহ্য থেকে গ্রহণের ক্ষমতা তাঁকে দিয়েছে সময়ের এক অতলান্ত কৌলিনত্ব। তিনি বলেছিলেন: ‘আামি এক বিচ্ছিন্ন লেখক: আমার মধ্যে রয়েছে এমন-এক ঐতিহ্য যা একদিকে গ্রহণ করে যায়, আর আছে অন্য এক ঐতিহ্য যা অন্যদিকে বিস্তারিত হয়। একদিকে অনুকরণশীল, বর্ণনাত্মক ও নৃতাত্ত্বিক উপাদান অন্যদিকে তা আবার সাহিত্য ও ধ্রুপদি ঐতিহ্যে শক্তিশালী।’ (সম্পূর্ণ…)

ক্যারিবিয় হোমারের মহাপ্রয়াণ

কামরুল হাসান | ২৪ মার্চ ২০১৭ ৫:৩৫ অপরাহ্ন

D.W.অতিসম্প্রতি প্রয়াত হলেন ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের নোবেল বিজয়ী কবি ডেরেক ওয়ালকট। উল্লেখ্য যে তিনিই পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের প্রথম নোবেল বিজয়ী কবি নন, যদিও কবিতাবিশ্বে তিনিই বেশি আলোচিত। তাঁর আগে ১৯৬০ সালে সাঁ ঝ পের্স সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ওয়ালকটের নোবেল প্রাপ্তি তার ৩২ বছর পরে, ১৯৯২ সালে। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেন্ট লুসিয়ায় ১৯৩০ সালে। প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা সেন্ট লুসিয়াতেই। তাঁর স্কুল শিক্ষিকা মা কবিতা ভালোবাসতেন, ঘরে উচ্চস্বরে কবিতা আবৃত্তি করতেন। শৈশবে শোনা সেসব কবিতা শিশু ও বালক ওয়ালকটের অবচেতনে প্রভাব ফেলে থাকতে পারে। তবে তিনি হতে চেয়েছিলেন তার বাবার মতো চিত্রশিল্পী। চিত্রকলায় দীক্ষাও নিয়েছিলেন হ্যারল্ড সিমন্সের কাছে। কবিতা নয়, তার প্রাথমিক হাতেখড়ি চিত্র অাঁকায়। দুর্ভাগ্য বাবার মুখ তিনি দেখতে পাননি। মাত্র ৩১ বছর বয়সে তার বাবা যখন মারা যান, তখন ডেরেক ও তার জমজ ভাই রবার্ট মাতৃগর্ভে ছিলেন।

কিছুদিন ছবি আঁকার পরেই তিনি ইংরেজি ভাষার প্রেমে পড়ে যান, যা থেকে জন্ম নেয় সাহিত্যপ্রীতি। টি এস এলিয়ট ও এজরা পাউন্ডের কবিতাপাঠ তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে এবং সাহিত্যকেই ধ্যানজ্ঞান করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মায়ের কাছ থেকে ২০০ ডলার সাহায্য নিয়ে তিনি দু’টি কাব্যগ্রন্থ্ নিজেই প্রকাশ করেন। বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে বই বিক্রি করে মায়ের কষ্টে অর্জিত অর্থ ফেরৎও দিয়েছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

পার্থ চট্টোপাধ্যায়: বাংলাতে হিন্দু নেতারাই চাইলেন যে, ভারতবর্ষ ভাগ হলে বাংলাকেও ভাগ করতে হবে

সাব্বির আজম | ২২ মার্চ ২০১৭ ২:৩৮ অপরাহ্ন

Partha Chatterjeeপার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই সাক্ষাৎকারটা নিয়েছিলাম ২০১৫ সালের ৬ই অগাস্ট । সেদিনই তার সাথে সরাসরি প্রথম দেখা । এর আগে ই-মেইলে যোগাযোগ হয় । ই-মেইলে যখন বললাম কলকাতা এসে তার সাক্ষাৎকার নিতে চাই তখন তার স্বভাবগত আন্তরিকতায় দিনক্ষণ ঠিক করলেন । সাক্ষাৎকারের স্থান সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস, কলকাতা ( সিএসএসআর) । বহু বছর ধরে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়ান । কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানই তার ধ্যান ও জ্ঞান । জাতীয়তাবাদ, দেশভাগ, পাকিস্তান থেইকা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম, বাঙালি জাতীয়তাবাদের বড়াই ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গে আলাপ হয়। আমি ট্রান্সক্রাইব করার পরে তিনি লিখিত রূপটি চূড়ান্ত করে পাঠান। – সাব্বির আজম

সাব্বির আজম: আপনার লেখালেখিতে জাতীয়তাবাদ যেহেতু প্রধান বিষয়, জাতীয়তাবাদ দিয়েই আলাপ শুরু করতে চাই। যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের আবির্ভাব এবং পরবর্তীতে জাতিরাষ্ট্র হিশেবে ভারতের পত্তন, সেই প্রেক্ষাপটে এর প্রধান চারিত্র্য কী?

পার্থ চট্টোপাধ্যায়
: জাতীয়তাবাদ বলতে আমি রাজনৈতিক বিরোধিতা অর্থাৎ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক ধরনের বিরোধিতাকে বুঝি যার পেছনে আধুনিক জাতিরাষ্ট্র তৈরি করার একটা ইচ্ছা ছিল। এইটাকেই আমি জাতীয়তাবাদ ধরছি। একারণে, যেমন ধর ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ নিশ্চয়ই ব্রিটিশবিরোধী, তাতে ভারতবর্ষের বিশেষ করে উত্তর অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সমর্থনও ছিল। কিন্তু আমার মতে, একে জাতীয়তাবাদ বলা উচিত না। কারণ সেটার পেছনে ইংরেজকে সরিয়ে ফের মুঘল সম্রাটকে সামনে রেখে,বিশেষ করে রাজা-রাজড়ারা অনেক বেশি ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকবে–এরকম একটা ধারণা ছিল। একটা নতুন জাতিরাষ্ট্র বলতে আমরা এখন যা বুঝি সেরকম ধারণা এই বিদ্রোহে ছিল না। সুতরাং আমার মতে, মোটামুটি ১৮৭০-৮০-র আগে ঠিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদ বলতে যা বোঝায় সেটা ছিল না। কিন্তু ১৮৭০-৮০ থেকে কী ধরনের জাতীয়তাবাদ এল এবং এর উদ্ভব হওয়ার কারণগুলো কী এবং এর মধ্যে কী কী বিশেষ চরিত্র আছে? (সম্পূর্ণ…)

সাগুফতা শারমীন তানিয়ার গল্প: অপ্রাপনীয়া

সাগুফতা শারমীন তানিয়া | ২০ মার্চ ২০১৭ ৬:০৬ অপরাহ্ন

-“জানো তো, ‘অন্যায় অবিচার’ সিনেমায় আমার এক রাঙাদাদা মিঠুন চক্রবর্তীর স্যাঙাতদের একজন হয়ে নেচেছিল।”
পোড়া হাতরুটির ফোস্কা ফুটো করে তাতে মিষ্টিকুমড়োর ঘ্যাঁট মাখিয়ে খেতে খেতে বলি আমি। হঠাৎ করেই। যেন এমন দাদার ছোটভাইকে এ’রকম পোড়া রুটি আর ঘ্যাঁট খেতে দিতে নেই। যাকে উদ্দেশ্য করে বলা, কাচা চাদরটা তারে মেলে দিতে দিতে সেই কাজরীর খোঁপায় লতিয়ে থাকা গামছাটা খুলে এলো। পেছন থেকে তার গলা-বুক-মুখের শ্বেতীর সামান্য ছোপগুলি দেখা যায় না আর তাকে টনটনে সুন্দর দেখায়। কাজের ঝি লতিকা জলে এক ছিপি কেরোসিন মিশিয়ে সেটা দিয়ে মুছে চকচকে করে দিয়ে গেছে পেটেন্ট স্টোনের মেঝে, সারা ঘরে মাথা ধরানো কেরোসিনের গন্ধ আর একটা চটচটে আর্দ্রতা বাতাসে। কাজরী আমার কথা গ্রাহ্যই করলো না, ওকে দেখলে মনে হবে ও এমনকি কোনো মানুষ কথা বলছে এমনটিও কানে শুনতে পায়নি। ক’দিন ধরে খুব বাড়িঘর সাফ করছে কাজরী, সব পুরনো ড্রয়ার, সিন্দুক নাড়াচাড়া দিয়ে- জিনিসপত্র বের করে বাড়িটা গোডাউন বানিয়ে ফেলেছে। বালতির বাকি কাপড় শুকোতে দিয়ে সে চটি ফটাফট করে চলে গেল আর আমার মনে হলো- কতদিন ‘হ্যাপিনেস’ শব্দটা কোথাও লেখাও দেখি না। কতদিন ধরে পোড়া হাতরুটির ফোসকা ফুটো করে মিষ্টিকুমড়োর ঘ্যাঁট মাখিয়ে খেতে খেতে আমি এই শেতলতলা, কচ্ছপখোলা- বারাসাতের একটা একতলা বাড়ির সামনের পানাপুকুর পাহারা দিয়ে যাচ্ছি। পুকুরটার জলে একরকমের শাদা শাদা ফুল হয়, তার বাংলা নাম ‘চাঁদমালা’।
tania-painting
ইটের রাস্তার ওপারে কলাবতীর ঝাড়ের পাশে কলতলায় ঝপঝপ শব্দে স্নান সারছে মেনকা সোরেন। দূরদর্শনের সকালের অনুষ্ঠানে কে ঝুমুর গাইছে ‘মন দে যৈবন দে, দুইঠো ডানাই লাগাই দে’। সাধ কত! স্নানের শব্দে আমার মনে পড়ে গেল শোভনের নানাজান গুনগুন করতে করতে ঝপঝপিয়ে তোলা জলে স্নান করতেন- ‘যাব নূতন শ্বশুরবাড়ি/ আহ্লাদে যাই গড়াগড়ি/ সাবান মেখে ফর্সা হবো/ কাটবো মাথায় লম্বা টেরি…’, মরচে লাল সিমেন্টের মেঝে স্নানের ঘরে- শোলমাছরঙা লোহার বালতি আর মগ। বের হবেন যতক্ষণে- ততক্ষণে বুক আর পিঠ গামছার লালে নাকি রগড়ানিতে গোলাপি লাল। অম্লানবদনে বলে ফেলতেন- “ওরে আমরা জোলার জাত। কাজীবাড়ির ধার দিয়া হাঁটতে দিত না আমাদের, অথচ ভক্ত কবীররে দত্তক নিছিল এক জোলা। কাজীবাড়ির কেহ ভক্ত কবীরের নাম জানে না অবশ্যি।” (আমার ওঁর মতো করে বলতে ইচ্ছে করে, মেনকা সোরেনের বাড়ির কেহ একলব্যের নাম জানে না অবশ্যি।)আমরা শোভনদের গ্রামের বাড়িতে থেকেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের সময়। আমার দাদা মেঘালয়েপাহাড়ঘেরা জাওয়াই উপত্যকার ‘ইকো-১’ নামের একটা ট্রেনিং সেন্টারে চলে গেছিল, পরে ফিরে এসে খুব যুদ্ধ করেছিল দাদা- আমরা ভেবেছিলাম দাদাকে ‘বীরপ্রতীক’ উপাধি দেয়া হবে। আর কাজরী কি না আমাকে কালো রুটি আর ডেলাপাকানো ঘ্যাঁট খাওয়াচ্ছে। (সম্পূর্ণ…)

দাঁড়াও পথিক

আকতার হোসেন | ২০ মার্চ ২০১৭ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

ভ্রূণের মধ্যে আটকে আছি শত বছর ধরে। জঠর থেকে জঠরে হস্তান্তরিত হয়েছি, পেয়েছি শত মায়ের আদর। ভাবছি এবার গ্রিন সিগনাল দেব। বেরিয়ে আসবো অন্ধকার থেকে। পাশে দাঁড়াবো আতঙ্কগ্রস্থ পিতার। হাত ধরবো প্রিয়ভাষিণীর। ভয়ানক অশান্ত হতে যাচ্ছে তোমাদের শহর বন্দর গ্রাম। আমি প্রস্তুত। খুলে দাও কপিকল। সীমান্ত সীমানায় তাঁর হুকুমের অপেক্ষায় আমি।

Afsanপ্রথমে যাবো টুঙ্গিপাড়া করবো সেলাম গেমাডাঙ্গা স্কুল। মধুমতীতে সাঁতার কেটে খুঁজবো শেখ মুজিবের গাঁয়ের গন্ধ। তারপর শিলাইদহ কুঠি বাড়ি থেকে সরাসরি যাব সীতাকুণ্ড। অমিত পুরুষ নুরালদীনের রংপুরে রাখবো পা। সেন্ট মার্টিনের পানি থেকে নামাবো বিষ। খাঁচায় পুষে রাখা অচিন পাখীর কণ্ঠ শুনে আসবো। বাংলাদেশ না হলে অন্য কোথাও নামবো না, অন্য গ্রহ নক্ষত্র করবো না স্পর্শ।
ফিরে আসবো সেই বাংলাদেশ থেকে যতদিন দেখতে পারি দেখব তাল বেল সুপারির দেশ। রহিমুদ্দিনের ছোট্ট বাড়ি যাব মুড়কি খেতে। পড়ে থাকা রাইফেল তুলে নিয়ে ট্রিগারে টিপ দিব। মরুক শালার আশি বছরের শত্রু -তাতে কি। বয়স মানে না শত্রু মিত্র খেলা। শুধু ভালোবাসার বয়স নির্ধারিত। আজন্ম তার সীমানা। বাকি সব সুতোয় বাঁধা গুটি গুটি তসবি চিহ্ন।

জন্ম নিয়েই সেই স্কুল পড়ুয়া কিশোর হব। তারপর সুপ্রিমকোর্টের ভাস্কর্য নিয়ে বিভ্রান্তি মেটাবো। মুছে দিব সংখ্যালঘু শব্দটি। হেলতে দুলতে থাকা চব্বিশ হাজার নত শিরকে ইস্পাতসম কঠিন করে তুলবো। ওরাও হবে বাংলাদেশের অংশ। ফিরে এলে ফিরিয়ে নেব, না হলে কচুকাটা করবো আগাছার মত। ফাঁসি দিলে বলবো রশি বদলাও। ক্ষুদিরামের দড়িতে পিচ্ছিল মোম লাগাও সেই দড়িতে মরবো। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com