একজন জঙ্গির কাছে তার মায়ের চিঠি

মাজহার সরকার | ২৮ মার্চ ২০১৭ ১:৫৭ পূর্বাহ্ন


terroristখোকা,
তুই কেমন আছিস? আমি ভালো নেই।
তোমার বাবাও আর চোখে দেখে না
পত্রিকার পাতা দেখে না, নয়তো এই সংবাদ পড়তে হতো!
তোর বোনটাও অপেক্ষা করে করে ফিরে গেছে শ্বশুরবাড়ি
গত রাতে স্বপ্নে দেখলাম আমার চোখের পাতা ছেড়ে
একটা দৈত্যের মতো, ক্রমাগত আমার কাছ থেকে পালাচ্ছে
আমার শরীরের মধ্যে দিয়ে তার ছায়া তোর বাবার মুখে
সীমাছাড়া তার মত্ততা দেখে
বহ্নিমান হিংস্রতা নখে নিয়ে মাটি খামচাচ্ছে, তারপর
পুকুরের জলের উপর শব্দ করে হেঁটে গিয়ে
লণ্ডভণ্ড করে দিলো ক্ষেতের ফসল
দূরে যেতেই বুঝি এটা ছিলি তুই! (সম্পূর্ণ…)

স্বাধীনতার সত্যকথা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৬ মার্চ ২০১৭ ৩:৫৯ অপরাহ্ন

গণহত্যা থেকে স্বাধীনতা
বাংলা ও বাঙালির যুদ্ধকথা।
গণহ্ত্যা থেকে স্বাধীনতা
বাংলা ও বাঙালির জয়কথা।

বাঙালিও মানুষ; অতএব
বাঙালিত্ব মানে মানবতা।
মানবতা মানে মানবসমতা।
মানবসমতা নয়
অন্য কারুর পরাধীনতা।

আত্মদান থেকে স্বাধীনতা,
বাঙালি মানেনি কারো অধীনতা।
আত্মদান থেকে স্বাধীনতা,
বাঙালি মানে না কারো অধীনতা। (সম্পূর্ণ…)

পরাধীন রাত্রির কবি

আনিসুর রহমান | ২৬ মার্চ ২০১৭ ৩:৫৬ অপরাহ্ন

mainorকে কোথায়? কে নিদ্রায়? কে কবি রাত্রির পাহারায়?
কেমন চাওয়া, ভুলে যেতে পারলে সব কত মধুর হয়?
একটু ভুলে অবসাদে ঢলে কি এমন? রাত গভীর হয়;
মাথাটা আমার গেছে, রাতভর ছুটি ঘুমের পিছে পিছে !

কোন সে কবি গেল বলে, বড় প্রেম শুধু কাছে টানে না,
দূরেও ঠেলে; কথাটা কেমন করে গেল ফলে? সে চাঁদ
এখন কোন ঘরে পূর্নিমা হলে, এই ঘরে অন্ধকার ঢেলে? (সম্পূর্ণ…)

একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ: ওরা কারা

রুখসানা কাজল | ২৬ মার্চ ২০১৭ ১০:০১ পূর্বাহ্ন

তালিয়া
গার্লস ইশকুলের রাস্তা দিয়ে যতবার গাড়ি যায়, তালিয়া ততবার ইশকুলের গেটটা দেখে শিউরে ওঠে। পাশে বসা সহকর্মী বা অন্য কাউকে অবশ্য বুঝতে দেয় না। এমনিতে পাথরের মত মুখ করে থাকে। দরকারের বাইরে বাড়তি কথা খরচ করে না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত হাসে না। স্থানীয় কেউ কথা বলতে গেলে দূরত্বের কঠিন গন্ধ পায়। ফলে স্থানীয় কারো সাথেই কাজের বাইরে কোন সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি তালিয়ার। স্বামী রায়হান ইউএনডিবির চাকুরে। আজ এদেশ কাল ওদেশ। একমাত্র ছেলে স্বাগত সিডনি। কম্যুনিকেশন এবং জার্ণালিজমে পড়াশুনা করছে। ছেলের খুব ইচ্ছে এদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে পরিবর্তনশীল সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে লেখালেখি এবং ফিল্ম বানানোর।
মুক্তিযুদ্ধে রায়হানের বাবাকে মেরে ফেলেছে স্থানীয় রাজাকাররা। রায়হান বাবাকে পেয়েছিল মাত্র আট মাস। বাবার সাথে কিছু ছবি ছাড়া আর কোনো স্মৃতি নেই ওর। মামারা অল্পবয়সি মাকে বেশিদিন একা থাকতে দেয়নি। দ্বিতীয় বিয়ের ফলে মা হয়ে যায় প্রবাসি। একলা পড়ে যায় রায়হান। একবার দাদাবাড়ি একবার মামাবাড়ি। শেষ পর্যন্ত ক্যাডেট ইশকুল এন্ড কলেজ পেরিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং। কি যে নেশা রায়হানের যেখানেই একাত্তরের কিছু হয় ও পাগলের মত ছুটে যায়। ছেলে স্বাগতের তখনো কথা ফোটেনি ভাল করে সেও বাবার সাথে মাথা দোলায়, আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসিইইইই –
রায়হান কতবার ডেকেছে, হাত ধরে টেনে নিয়েছে, তালিয়া একবার গলা মেলাও, প্লিজ! ছেলে চোখে, মুখে, চিবুকে চুমু খেয়ে বলেছে, গাও মা গাও—তালিয়া কখনো গায় নি। ওর মা জেলা শহরের গার্লস ইশকুলের হেডমিস্ট্রেস ছিল। মার কাছে গল্প শুনেছে সদ্যস্বাধীন দেশে নাকি নিয়ম করে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হত। এসেম্বলীতে সব ধর্মের ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে ধর্মপাঠও করানো হত। এমনকি এক ধর্মের ছাত্রি অন্য ধর্মের আয়াত, শ্লোক, বাণী পাঠ করলেও কেউ কিছু মনে করত না। সম্প্রীতির সহবস্থান ছিল, মায়া মমতা ছিল, ভালোবাসা ছিল। তালিয়ার সময় এগুলো আর হয়নি। এসেম্বলিই হত না নিয়মিত। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার সাথে সাথে সম্প্রীতি, সদ্ভাব উবে গিয়ে দেখা গেলো নিজস্ব সংস্কৃতি ভুলে বাঙালীরা দ্রুত খাঁটি মুসলিম হতে উঠে পড়ে লেগে গেছে। এমনকি কেউ কেউ বলেও ফেলেছে, হিন্দুর লেখা গান কেনো বাঙালি মুসলিমদের জাতীয় সংগীত হবে?
three-girlsমা ছিল জয়বাংলার কট্টর সমর্থক। বাবা নামের লোকটা যুদ্ধের পর পর পালিয়ে চলে যায় ইংল্যান্ড। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর একবার এসেছিল। পাকিস্তানের সমর্থনে আর বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ছেলেমেয়েদের আজেবাজে কথা শেখানোর পাশে পাক সার জমিন নামে একটা গানও শেখাতে শুরু করে। মা প্রচুর আপত্তি করে। আপত্তি থেকে ঝগড়া আর ঝগড়া থেকে ছেলেকে নিয়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিলে মা কি সব কাগজপত্র বের করে বলে, এক্ষুণি বেরিয়ে না গেলে পুলিশের কাছে যাবে। আর আসেনি লোকটা। শুনেছে পাকিস্তানী কোন মহিলাকে বিয়ে করে ইংল্যান্ডে ভালই আছে। বাবা চলে যাওয়ায় মা বা ওরা কেউ দুঃখ পায়নি। বরং যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিল। তালিয়া বেশি খুশি হয়েছিল কারণ বাবাটা সুযোগ পেলেই তালিয়ার পিঠ খামচে দিয়ে বলত, তোর জন্যে পাক সার জমিন। তু তো হাফ পাকিস্তানি হ্যায়। (সম্পূর্ণ…)

মুহাম্মদ সামাদের কবিতা: পঁচিশে মার্চ

মুহাম্মদ সামাদ | ২৫ মার্চ ২০১৭ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

BangladeshGenocideএ রাতে হঠাৎ নামে ঝাঁকে ঝাঁকে কনভয়
ঘুমন্ত মানুষ কাঁপে চোখে মুখে তার ভয়।
খুনের নেশায় যমদূতের হিংস্র কড়া নাড়া।
নবজাতকের কান্নায় চিৎকার করে পাড়া।
লেলিহান শিখায় শহর বস্তি ছাত্রাবাস পোড়ে।
আকাশে বাতাসে গগনবিদারী আর্তনাদ ওড়ে।
পথে ঘাটে পড়ে গুলিতে ঝাঁঝরা লাশ।
চারিদিকে শুধু হত্যা আর হত্যার উল্লাস!

আমার বোনকে হায়েনা খুবলে খায়
ভাইয়ের মস্তক গুলিতে উড়ে যায়
পিতা ছিন্নভিন্ন বেয়োনেটের খোঁচায়
রক্তাক্ত মেজেতে মা আমার লুটায়
ভয় বাড়ে স্তব্ধ নীরবতায়!

এ কেমন ভয় নামে, ভয়!
আমার সবুজ দেশে
হলোকাস্ট বা ভিয়েতনাম আজ
গণহত্যার উপমা হয়! (সম্পূর্ণ…)

‘সমুদ্রস্তন দ্বীপের মতো সে আছে ঘুমিয়ে’ : ডেরেক ওয়ালকটের প্রস্থান

কুমার চক্রবর্তী | ২৪ মার্চ ২০১৭ ১১:০৭ অপরাহ্ন

Walcott১.
শীতল কাচ ছায়াময় হয়ে ওঠে। এলিজাবেথ একবার লিখেছিল—
আমরা কাচকে আমাদের ব্যথার চিত্রকল্প বানিয়ে ফেলি।

২.
কাছে এসো ফিরে
আমার ভাষা।

ওয়ালকট, তাঁর নিজের ভাষায়, প্রথমত এক ক্যারিবীয় লেখক যিনি মানবগোষ্ঠীর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে সবকিছু দেখেছেন আর বলেছেন, পরিপক্বতা হলো প্রত্যেক পূর্বসূরির বৈশিষ্ট্যের সাঙ্গীকরণ। তাঁর একীকরণের বিষয় ছিল ল্যাঙ্গুয়েজ কনটিনাম আর কালচারাল স্ট্রেটাম। ১৯৯২ সালে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত, সেন্ট লুসিয়ার ক্যাস্টিসে ১৯৩০-এর ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী ডেরেক ওয়ালকট মনে করতেন যে, অধিকাংশ কৃষ্ণাঙ্গ লেখকই তাঁদের আত্মবিচ্ছিন্নতা দ্বারা নিজেদের পঙ্গু করে ফেলেন, কবি হিসেবে মানবতার বিভাজনে বিশ্বাস অনুচিত। তাঁর স্টার-আপেল কিংডম কাব্যের ‘দ্য স্কুনার ফ্লাইট’ কবিতায় এই চেতনার স্যাবাইন বলছে এমন কথা যা থেকে তাঁর প্রাতিস্বিকতার পরিচয় ধরা পড়ে:
আমি হলাম সোজাসাপটা একজন লাল নিগার যে সমুদ্রপ্রেমিক,
আমার রয়েছে ঠিকঠাক ঔপনিবেশিক শিক্ষা,
আমি একাধারে ডাচ, কৃষ্ণাঙ্গ এবং ইংরেজ
আর হয় আমি কেউ নই নতুবা
আমি এক জাতি।

তাঁর ভেতর ইউরোপীয় ইতিহাস, শিল্পসাহিত্য আর সেন্ট লুসিয়ার আফ্রিকানির্ভর সংস্কৃতির সার্থক মিলন ঘটেছে। তিনি ছিলেন না ইউরোপীয় গোছের, আবার সেন্ট লুসিয়ার কৃষ্ণাঙ্গদের মতো কালোও ছিলেন না, ছিলেন কিছুটা সাদাটে। ফলে বিভিন্ন ঐতিহ্য থেকে গ্রহণের ক্ষমতা তাঁকে দিয়েছে সময়ের এক অতলান্ত কৌলিনত্ব। তিনি বলেছিলেন: ‘আামি এক বিচ্ছিন্ন লেখক: আমার মধ্যে রয়েছে এমন-এক ঐতিহ্য যা একদিকে গ্রহণ করে যায়, আর আছে অন্য এক ঐতিহ্য যা অন্যদিকে বিস্তারিত হয়। একদিকে অনুকরণশীল, বর্ণনাত্মক ও নৃতাত্ত্বিক উপাদান অন্যদিকে তা আবার সাহিত্য ও ধ্রুপদি ঐতিহ্যে শক্তিশালী।’ (সম্পূর্ণ…)

ক্যারিবিয় হোমারের মহাপ্রয়াণ

কামরুল হাসান | ২৪ মার্চ ২০১৭ ৫:৩৫ অপরাহ্ন

D.W.অতিসম্প্রতি প্রয়াত হলেন ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের নোবেল বিজয়ী কবি ডেরেক ওয়ালকট। উল্লেখ্য যে তিনিই পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের প্রথম নোবেল বিজয়ী কবি নন, যদিও কবিতাবিশ্বে তিনিই বেশি আলোচিত। তাঁর আগে ১৯৬০ সালে সাঁ ঝ পের্স সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ওয়ালকটের নোবেল প্রাপ্তি তার ৩২ বছর পরে, ১৯৯২ সালে। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেন্ট লুসিয়ায় ১৯৩০ সালে। প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা সেন্ট লুসিয়াতেই। তাঁর স্কুল শিক্ষিকা মা কবিতা ভালোবাসতেন, ঘরে উচ্চস্বরে কবিতা আবৃত্তি করতেন। শৈশবে শোনা সেসব কবিতা শিশু ও বালক ওয়ালকটের অবচেতনে প্রভাব ফেলে থাকতে পারে। তবে তিনি হতে চেয়েছিলেন তার বাবার মতো চিত্রশিল্পী। চিত্রকলায় দীক্ষাও নিয়েছিলেন হ্যারল্ড সিমন্সের কাছে। কবিতা নয়, তার প্রাথমিক হাতেখড়ি চিত্র অাঁকায়। দুর্ভাগ্য বাবার মুখ তিনি দেখতে পাননি। মাত্র ৩১ বছর বয়সে তার বাবা যখন মারা যান, তখন ডেরেক ও তার জমজ ভাই রবার্ট মাতৃগর্ভে ছিলেন।

কিছুদিন ছবি আঁকার পরেই তিনি ইংরেজি ভাষার প্রেমে পড়ে যান, যা থেকে জন্ম নেয় সাহিত্যপ্রীতি। টি এস এলিয়ট ও এজরা পাউন্ডের কবিতাপাঠ তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে এবং সাহিত্যকেই ধ্যানজ্ঞান করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মায়ের কাছ থেকে ২০০ ডলার সাহায্য নিয়ে তিনি দু’টি কাব্যগ্রন্থ্ নিজেই প্রকাশ করেন। বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে বই বিক্রি করে মায়ের কষ্টে অর্জিত অর্থ ফেরৎও দিয়েছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

পার্থ চট্টোপাধ্যায়: বাংলাতে হিন্দু নেতারাই চাইলেন যে, ভারতবর্ষ ভাগ হলে বাংলাকেও ভাগ করতে হবে

সাব্বির আজম | ২২ মার্চ ২০১৭ ২:৩৮ অপরাহ্ন

Partha Chatterjeeপার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই সাক্ষাৎকারটা নিয়েছিলাম ২০১৫ সালের ৬ই অগাস্ট । সেদিনই তার সাথে সরাসরি প্রথম দেখা । এর আগে ই-মেইলে যোগাযোগ হয় । ই-মেইলে যখন বললাম কলকাতা এসে তার সাক্ষাৎকার নিতে চাই তখন তার স্বভাবগত আন্তরিকতায় দিনক্ষণ ঠিক করলেন । সাক্ষাৎকারের স্থান সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস, কলকাতা ( সিএসএসআর) । বহু বছর ধরে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়ান । কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানই তার ধ্যান ও জ্ঞান । জাতীয়তাবাদ, দেশভাগ, পাকিস্তান থেইকা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম, বাঙালি জাতীয়তাবাদের বড়াই ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গে আলাপ হয়। আমি ট্রান্সক্রাইব করার পরে তিনি লিখিত রূপটি চূড়ান্ত করে পাঠান। – সাব্বির আজম

সাব্বির আজম: আপনার লেখালেখিতে জাতীয়তাবাদ যেহেতু প্রধান বিষয়, জাতীয়তাবাদ দিয়েই আলাপ শুরু করতে চাই। যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের আবির্ভাব এবং পরবর্তীতে জাতিরাষ্ট্র হিশেবে ভারতের পত্তন, সেই প্রেক্ষাপটে এর প্রধান চারিত্র্য কী?

পার্থ চট্টোপাধ্যায়
: জাতীয়তাবাদ বলতে আমি রাজনৈতিক বিরোধিতা অর্থাৎ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক ধরনের বিরোধিতাকে বুঝি যার পেছনে আধুনিক জাতিরাষ্ট্র তৈরি করার একটা ইচ্ছা ছিল। এইটাকেই আমি জাতীয়তাবাদ ধরছি। একারণে, যেমন ধর ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ নিশ্চয়ই ব্রিটিশবিরোধী, তাতে ভারতবর্ষের বিশেষ করে উত্তর অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সমর্থনও ছিল। কিন্তু আমার মতে, একে জাতীয়তাবাদ বলা উচিত না। কারণ সেটার পেছনে ইংরেজকে সরিয়ে ফের মুঘল সম্রাটকে সামনে রেখে,বিশেষ করে রাজা-রাজড়ারা অনেক বেশি ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকবে–এরকম একটা ধারণা ছিল। একটা নতুন জাতিরাষ্ট্র বলতে আমরা এখন যা বুঝি সেরকম ধারণা এই বিদ্রোহে ছিল না। সুতরাং আমার মতে, মোটামুটি ১৮৭০-৮০-র আগে ঠিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদ বলতে যা বোঝায় সেটা ছিল না। কিন্তু ১৮৭০-৮০ থেকে কী ধরনের জাতীয়তাবাদ এল এবং এর উদ্ভব হওয়ার কারণগুলো কী এবং এর মধ্যে কী কী বিশেষ চরিত্র আছে? (সম্পূর্ণ…)

সাগুফতা শারমীন তানিয়ার গল্প: অপ্রাপনীয়া

সাগুফতা শারমীন তানিয়া | ২০ মার্চ ২০১৭ ৬:০৬ অপরাহ্ন

-“জানো তো, ‘অন্যায় অবিচার’ সিনেমায় আমার এক রাঙাদাদা মিঠুন চক্রবর্তীর স্যাঙাতদের একজন হয়ে নেচেছিল।”
পোড়া হাতরুটির ফোস্কা ফুটো করে তাতে মিষ্টিকুমড়োর ঘ্যাঁট মাখিয়ে খেতে খেতে বলি আমি। হঠাৎ করেই। যেন এমন দাদার ছোটভাইকে এ’রকম পোড়া রুটি আর ঘ্যাঁট খেতে দিতে নেই। যাকে উদ্দেশ্য করে বলা, কাচা চাদরটা তারে মেলে দিতে দিতে সেই কাজরীর খোঁপায় লতিয়ে থাকা গামছাটা খুলে এলো। পেছন থেকে তার গলা-বুক-মুখের শ্বেতীর সামান্য ছোপগুলি দেখা যায় না আর তাকে টনটনে সুন্দর দেখায়। কাজের ঝি লতিকা জলে এক ছিপি কেরোসিন মিশিয়ে সেটা দিয়ে মুছে চকচকে করে দিয়ে গেছে পেটেন্ট স্টোনের মেঝে, সারা ঘরে মাথা ধরানো কেরোসিনের গন্ধ আর একটা চটচটে আর্দ্রতা বাতাসে। কাজরী আমার কথা গ্রাহ্যই করলো না, ওকে দেখলে মনে হবে ও এমনকি কোনো মানুষ কথা বলছে এমনটিও কানে শুনতে পায়নি। ক’দিন ধরে খুব বাড়িঘর সাফ করছে কাজরী, সব পুরনো ড্রয়ার, সিন্দুক নাড়াচাড়া দিয়ে- জিনিসপত্র বের করে বাড়িটা গোডাউন বানিয়ে ফেলেছে। বালতির বাকি কাপড় শুকোতে দিয়ে সে চটি ফটাফট করে চলে গেল আর আমার মনে হলো- কতদিন ‘হ্যাপিনেস’ শব্দটা কোথাও লেখাও দেখি না। কতদিন ধরে পোড়া হাতরুটির ফোসকা ফুটো করে মিষ্টিকুমড়োর ঘ্যাঁট মাখিয়ে খেতে খেতে আমি এই শেতলতলা, কচ্ছপখোলা- বারাসাতের একটা একতলা বাড়ির সামনের পানাপুকুর পাহারা দিয়ে যাচ্ছি। পুকুরটার জলে একরকমের শাদা শাদা ফুল হয়, তার বাংলা নাম ‘চাঁদমালা’।
tania-painting
ইটের রাস্তার ওপারে কলাবতীর ঝাড়ের পাশে কলতলায় ঝপঝপ শব্দে স্নান সারছে মেনকা সোরেন। দূরদর্শনের সকালের অনুষ্ঠানে কে ঝুমুর গাইছে ‘মন দে যৈবন দে, দুইঠো ডানাই লাগাই দে’। সাধ কত! স্নানের শব্দে আমার মনে পড়ে গেল শোভনের নানাজান গুনগুন করতে করতে ঝপঝপিয়ে তোলা জলে স্নান করতেন- ‘যাব নূতন শ্বশুরবাড়ি/ আহ্লাদে যাই গড়াগড়ি/ সাবান মেখে ফর্সা হবো/ কাটবো মাথায় লম্বা টেরি…’, মরচে লাল সিমেন্টের মেঝে স্নানের ঘরে- শোলমাছরঙা লোহার বালতি আর মগ। বের হবেন যতক্ষণে- ততক্ষণে বুক আর পিঠ গামছার লালে নাকি রগড়ানিতে গোলাপি লাল। অম্লানবদনে বলে ফেলতেন- “ওরে আমরা জোলার জাত। কাজীবাড়ির ধার দিয়া হাঁটতে দিত না আমাদের, অথচ ভক্ত কবীররে দত্তক নিছিল এক জোলা। কাজীবাড়ির কেহ ভক্ত কবীরের নাম জানে না অবশ্যি।” (আমার ওঁর মতো করে বলতে ইচ্ছে করে, মেনকা সোরেনের বাড়ির কেহ একলব্যের নাম জানে না অবশ্যি।)আমরা শোভনদের গ্রামের বাড়িতে থেকেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের সময়। আমার দাদা মেঘালয়েপাহাড়ঘেরা জাওয়াই উপত্যকার ‘ইকো-১’ নামের একটা ট্রেনিং সেন্টারে চলে গেছিল, পরে ফিরে এসে খুব যুদ্ধ করেছিল দাদা- আমরা ভেবেছিলাম দাদাকে ‘বীরপ্রতীক’ উপাধি দেয়া হবে। আর কাজরী কি না আমাকে কালো রুটি আর ডেলাপাকানো ঘ্যাঁট খাওয়াচ্ছে। (সম্পূর্ণ…)

দাঁড়াও পথিক

আকতার হোসেন | ২০ মার্চ ২০১৭ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

ভ্রূণের মধ্যে আটকে আছি শত বছর ধরে। জঠর থেকে জঠরে হস্তান্তরিত হয়েছি, পেয়েছি শত মায়ের আদর। ভাবছি এবার গ্রিন সিগনাল দেব। বেরিয়ে আসবো অন্ধকার থেকে। পাশে দাঁড়াবো আতঙ্কগ্রস্থ পিতার। হাত ধরবো প্রিয়ভাষিণীর। ভয়ানক অশান্ত হতে যাচ্ছে তোমাদের শহর বন্দর গ্রাম। আমি প্রস্তুত। খুলে দাও কপিকল। সীমান্ত সীমানায় তাঁর হুকুমের অপেক্ষায় আমি।

Afsanপ্রথমে যাবো টুঙ্গিপাড়া করবো সেলাম গেমাডাঙ্গা স্কুল। মধুমতীতে সাঁতার কেটে খুঁজবো শেখ মুজিবের গাঁয়ের গন্ধ। তারপর শিলাইদহ কুঠি বাড়ি থেকে সরাসরি যাব সীতাকুণ্ড। অমিত পুরুষ নুরালদীনের রংপুরে রাখবো পা। সেন্ট মার্টিনের পানি থেকে নামাবো বিষ। খাঁচায় পুষে রাখা অচিন পাখীর কণ্ঠ শুনে আসবো। বাংলাদেশ না হলে অন্য কোথাও নামবো না, অন্য গ্রহ নক্ষত্র করবো না স্পর্শ।
ফিরে আসবো সেই বাংলাদেশ থেকে যতদিন দেখতে পারি দেখব তাল বেল সুপারির দেশ। রহিমুদ্দিনের ছোট্ট বাড়ি যাব মুড়কি খেতে। পড়ে থাকা রাইফেল তুলে নিয়ে ট্রিগারে টিপ দিব। মরুক শালার আশি বছরের শত্রু -তাতে কি। বয়স মানে না শত্রু মিত্র খেলা। শুধু ভালোবাসার বয়স নির্ধারিত। আজন্ম তার সীমানা। বাকি সব সুতোয় বাঁধা গুটি গুটি তসবি চিহ্ন।

জন্ম নিয়েই সেই স্কুল পড়ুয়া কিশোর হব। তারপর সুপ্রিমকোর্টের ভাস্কর্য নিয়ে বিভ্রান্তি মেটাবো। মুছে দিব সংখ্যালঘু শব্দটি। হেলতে দুলতে থাকা চব্বিশ হাজার নত শিরকে ইস্পাতসম কঠিন করে তুলবো। ওরাও হবে বাংলাদেশের অংশ। ফিরে এলে ফিরিয়ে নেব, না হলে কচুকাটা করবো আগাছার মত। ফাঁসি দিলে বলবো রশি বদলাও। ক্ষুদিরামের দড়িতে পিচ্ছিল মোম লাগাও সেই দড়িতে মরবো। (সম্পূর্ণ…)

মারুফ কবিরের কবিতা: হারানোর বদল

মারুফ কবির | ১৯ মার্চ ২০১৭ ৯:০৬ পূর্বাহ্ন

হারানোর বদল
images
বহুদিন পর তোমার সাথে দেখা হবে আবার,
হয়তো গলিত জীবনের শেষে বিধ্বস্ত যুদ্ধক্ষেত্রের প্রান্তসীমায়;
হাসপাতালের করিডোরে কিংবা লাশকাটা ঘরে।
আমি চেয়েছিলাম তোমাকে নিয়ে হারিয়ে যেতে-
ভাটি অঞ্চল ছাড়িয়ে, পাথুরে খরস্রোতা তিস্তা পেরিয়ে (সম্পূর্ণ…)

হুট করে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা…

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ১৮ মার্চ ২০১৭ ৯:২৮ পূর্বাহ্ন

bangabandhuতোমার সাথে এভাবে কথা বলতে হবে তা কখনো ভাবিনি আমি— শোনো হে বালক, হে একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, হে আমার সন্তানেরা— আজ বড়ো বেদনাভারাতুর হৃদয় ও ধ্বসে যাওয়া কণ্ঠ নিয়ে দাঁড়িয়েছি এই মাইক্রোফোনের সামনে— যখন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কবিতা পড়ছি ধরা গলায় এক কবির দেহে অবতীর্ণ হয়ে, তখন তারই এক সতীর্থ কবি সরকারী বাহিনীর হয়রানী সহ্য করছে গরাদের ভেতর নিরপরাধে, কবির বুকের সেই কষ্ট বাজছে কবিতা পড়তে গিয়ে আমারও বুকে।

এখানে আসবার আগে এ কবি তার বন্ধুর হাতে কড়া বাঁধা ছবি দেখে এসেছে ভাসছে নিউজফিডে— কবির সাথে কথা বলে জানলাম— যে দেশের জাতির পিতা আমি সে দেশের দশভাগের একভাগ মানুষ আক্ষরিক অর্থেই বন্যার জলে ভাসছে, হাবুডুবু খাচ্ছে, প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্র যাদের মুক্তিযুদ্ধের পরপরই আমি সাহায্যকারী সেনাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করেছিলাম, তারা অসময়ে আমাদের জলের হিস্যা বুঝিয়ে দিতে তোরজোড় করছে, জানলাম বন্ধুরাষ্ট্রের কাছে পরারাষ্ট্রনীতিতে ধরা খেয়ে বসে আছি আমরা— জানলাম হাবুডুবু খাচ্ছে নাকি আমার সুন্দরবন ও একদল রাবিন্দ্রীক দেশপ্রেমিক মানুষের মন—
শোনো হে বাংলাদেশ, শোনো বালক, তোমার পিতা, এই আমি, এই কবির আত্মায় যে ভর করেছি, তিনি বেঁচে থাকলে এতো এতিম, করুণমুখ, দুর্দশাচোখ দেখা যেতো না এই দেশের— তোমাদের বলছি, যারা আমাকে জাতির পিতা মনে করো, দাঁড়াও বালক, আজ তোমার পিতা হবার দিন, বড় হও, পিতা হয়ে ওঠো— শিখে নাও সেই সহি পদ্ধতি, কিভাবে পিতার দিকে তাকাতে হবে তোমাকে— (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com