মাহবুব আজীজের পাঁচটি কবিতা

মাহবুব আজীজ | ১৬ জানুয়ারি ২০১৭ ৬:২৭ অপরাহ্ন

আরও একটি ট্রেন

farzanaআরও একটি ট্রেন চলে গেল
ধীরে ধীরে প্লাটফর্ম ছেড়ে এগোল।
ঝমঝম শব্দ চারপাশ দুলিয়ে কাঁপিয়ে,
যেন বিশাল এক অজগর যাচ্ছে চলে হেলেদুলে;
আকষ্মিক গতি এলো তার শরীরে, প্রচন্ড, উড়ে যাবে মুহূর্তে!

তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলুম একটানা
না। ট্রেনে উঠতে ইচ্ছে হলো না এবারও;
আমারই চোখের সমুখে ক্রমশ প্রাণবান হয়ে
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেন গতিময় হয়ে উঠল।
যাক না; যার ইচ্ছে, যখন-খুশি
আমি আরও একটু দাঁড়িয়ে থাকি। (সম্পূর্ণ…)

সৈয়দ হকের কথাসাহিত্য: নক্ষত্রের কারুকাজ

মণিকা চক্রবর্তী | ১৪ জানুয়ারি ২০১৭ ১০:৪২ অপরাহ্ন

Syed+Shamsul+Haq_26092016_0001‘আমাদের অনেক দুপুর ছিল কিন্তু আমরা পৌঁছতে পারিনি সন্ধ্যার কাছে।
আমাদের অনেক রাত ছিল কিন্তু আমরা পৌঁছতে পারিনি নক্ষত্রের কাছে।’
সৈয়দ শামসুল হক আমাদের কালের এক শ্রেষ্ঠ লেখক। সাহিত্যের সকল শাখায় তাঁর বিচরণ। তাঁকে চিনতে পারা,তাঁর খুব কাছে যাওয়ার পথটি খুবই কঠিন। তাঁকে যেটুকু জেনেছি তাঁর লেখার মধ্যে দিয়ে। তাঁর ব্যক্তিত্ব,বাচন মনোমুগ্ধকর। যতবার কাছ থেকে দেখেছি ততবারই আলোড়িত হয়েছি। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে সৈয়দ হকের বিচরণ নেই। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, গান,অনুবাদ সকল শাখাতেই তিনি দ্যুতিময়। স্বকীয় এক ভাষা নির্মানে তিনি সার্থক। নতুন নতুন ভাবনায় সমৃদ্ধ তাঁর লেখার আবেগ,আকুতি,জীবন যন্ত্রণা, দেশপ্রেম।
স্কুল জীবনে সংবাদ পত্রিকাটির সাথে আমার একটি আত্মিক সর্ম্পক গড়ে ওঠে। তার একটি অন্যতম কারণ ছিল তাঁর লেখা শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক কলাম ‘হৃৎকলমের টানে’। খুবই জনপ্রিয় ছিল এই কলামটি। এই কলামের নানা প্রসঙ্গ ঘিরে চিঠি লিখেছি কখনও মনে মনে,কখনও প্রকাশ্যে। সমাজজীবনের নানা সংকট অতি দক্ষতার সাথে খুব তীব্র আর তীক্ষ্ণভাবে প্রতিফলিত হত এই কলামটিতে। নতুন নতুন ভাবনায় ভিতরে ভিতরে চমকে উঠেছি এসব লেখা পড়ে। নিজের ভিতরে নানা রকম বোধের বিকাশ সেসময় টের পেতে থাকি। সংবাদ পত্রিকাকে ঘিরেই তার উপন্যাস ‘বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ’ ধারাবাহিকভাবে পড়তে থাকি। তখন আমার বয়স অল্প। তাঁর লেখা আমাকে মুগ্ধতার ঘোরে ভরিয়ে রাখত। (সম্পূর্ণ…)

দুই বাগানের ফুল

ওমর শামস | ১২ জানুয়ারি ২০১৭ ১১:১৭ পূর্বাহ্ন


১. ভূমিকা

:
border=0অক্তাবিও পাজ, মেক্সিকোর কবি-নৃতাত্ত্বিক-ডিপ্লোম্যাট, ১৯৫১ সনে এক সরকারি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সফরে ভারতে গিয়েছিলেন। শুধু ছ-মাস ছিলেন। ১৯৬২ তে তিনি মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত হয়ে আবার দিল্লী পৌঁছান। এবার ছ-বছর অবস্থান করেছিলেন, শুধু ভারতের নয় আফগানিস্তান,পাকিস্থান, সিংহলের রাষ্ট্রদূত হিশাবেও। তিনি সারা ভারতবর্ষ, আফগানিস্তান প্রভূত ঘুরেছিলেন, বিশেষ করে ঐতিহাসিক নিদর্শন, ভারতীয় ইতিহাস-সংস্কৃতি, হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্ম পড়েছিলেন। এসব নিয়ে স্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছিলেন। অবশেষে বই লিখছিলেন : Conjunctions and Disjunctions, The Monkey Grammarian, In Light of India।Alternating Currents বইতেও বৌদ্ধচিন্তা নিয়ে প্রবন্ধ আছে। A Tale of Two Gardens, তাঁর ভারতবর্ষে থাকাকালীন রচিত কবিতার সংগ্রহ। “দুই বাগানের গল্প” গ্রন্থের কবিতাগুলোর নাম : মথুরা, আমীর খুসরো-র সমাধি, হুমায়ুন-এর সমাধি, লোদি উদ্যান, উদয়পুরে একদিন, মাইসোর-এর রাস্তায়, উটকামুন্ড, মাদুরাই, কোচিন, হিরাটে সুখ, থাঙ্গিগারু গিরিপথ, বৃন্দাবন, শূন্যতা, মৈথুন, এলিফান্টার দ্বীপে রবিবার । বৌদ্ধ, হিন্দু দর্শন সংক্রান্ত বিষয় অথবা ভূগোল, ঐতিহাসিক স্থান, ঘটনার মধ্যে দিয়ে ভারতবর্ষীয় চিন্তাকে বোঝা ও প্রকাশ করা। তিনি আমীর খুসরোকে, সূফিবাদ, তাঁর কবিতা এবং নিজামুদ্দীন আউলিয়া-র সঙ্গে সম্পর্ককে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। আমীর খুসরো (১২৫৩-১৩২৫) ভারতে জন্মগ্রহণ করা তুর্কি বংশীয় পণ্ডিত, সূফি, ঐতিহাসিক, কবি এবং রাজসভাসদ-মন্ত্রী ( আলাউদ্দীন খিলজী এবং অন্যন্য বাদশা-র)। দুই ভূগোলের, দুই যুগের দুই কবির কয়েকটি কবিতা অনুদিত হলো। দুজনের কবিতার মেজাজ, গঠন অবশ্যই আলাদা – তাঁরা দুই বাগানের ফুল। (সম্পূর্ণ…)

হেমন্তের পুষ্পরাজ্যে ভ্রমণ

মোকারম হোসেন | ১১ জানুয়ারি ২০১৭ ১২:৪৩ অপরাহ্ন

Stholpodmoবাংলার ঋতুবৈচিত্র উপভোগ করতে হলে গ্রামই উত্তম। সেখানে প্রকৃতির রূপ রস গন্ধ আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হয়। আমরা অনুভব করি পরিবর্তিত বাতাসের ছোঁয়া। দেখি বদলে যাওয়া রূপ। কিন্তু তাই বলে কি নগর প্রকৃতি আমাদের শূণ্য হাতে ফিরিয়ে দিবে? না, মনের চোখ দিয়ে দেখলে আমরা শহরেও ঋতুর পালাবদল অনুভব করতে পারি। যদিও এখানে হেমন্তের নবান্ন আয়োজনকে একান্তে পাওয়া যাবে না, তাতে কি, এখানে আছে কার্তিক-অগ্রহায়ণের অনন্য পুষ্পসম্ভার।
ক্যালেন্ডারের পাতায় শরত বিদায় নিলেই যে, কাশ-শিউলির স্নিগ্ধতা হারিয়ে যাবে, এমনটা নয়। শরতের পুষ্পবৈচিত্র হেমন্ত অবধি ছড়িয়ে থাকে। এরই মধ্যে দুএকটি করে হেমন্তের ফুল ফুটতে শুরু করে। হেমন্তের সবচেয়ে দূরবাহী ও তীব্র গন্ধের ফুল ছাতিম। হেমন্তে রাতের নিস্তব্ধতায় নরম বাতাসের সঙ্গী হয়ে ছাতিমের গন্ধ ভেসে বেড়ায়। ঢাকায় বেশ কিছু ছাতিম দেখা যায়। আবদুল গণি রোড, সিরডাপ মিলনায়তন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদউদ্যান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক ও তেজগাঁও চ্যানেল আই প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন পথপাশে দেখা যাবে ছাতিমের উচ্ছ্বাস। (সম্পূর্ণ…)

মাৎসুও বাশোর গল্প: বৃদ্ধা মা

সোহরাব সুমন | ৯ জানুয়ারি ২০১৭ ৭:৫২ অপরাহ্ন

গল্পটি ইংরেজিতে দ্য স্টোরি অব দি এজড মাদার নামেও পরিচিত, জাপানি এই লোককাহিনিটিতে অজানা এক শাসকের গল্প বলা হয়েছে যিনি তার দেশের সব বৃদ্ধকে পরিত্যাগ করে মৃত্যু বরণ করতে দেয়াসহ আরো সব নিষ্ঠুর আদেশ জারি করতেন। এখানে বাশো একজন মা এবং তার ছেলের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে করুণ একটি গল্প লিখেছেন। গল্পটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন সোহরাব সুমন। বি. স.

Aged-motherঅনেক অনেক দিন আগে পাহাড়ের পাদদেশে এক দরিদ্র কৃষক এবং তার বিধবা মা বসবাস করত। তাদের একখন্ড জমি ছিল, সেখান থেকে তাদের খাবার-দাবার আসতো। তারা ছিল খুবই বিনয়ী, শান্তিকামী, এবং সুখী।
এক অসীম ক্ষমতাধর নেতা সে সময় শাইনিং শাসন করছিলেন। একজন যোদ্ধা হবার পরও স্বাস্থ্য আর শক্তিহানির যে কোন ঘটনার প্রতি তার ছিল প্রচণ্ড ধরনের কাপুরুষোচিত এক সঙ্কোচ। এধরনের ধ্যান-ধারণা থেকে সে নিষ্ঠুর এক আদেশ জারি করতে প্রোরোচিত হয়। সমস্ত প্রদেশ জুড়ে সত্বর সব বৃদ্ধ লোকেদের মেরে ফেলার কঠোর আদেশ জারি করা হয়। বর্বরতম সেই যুগে, মরবার জন্য বৃদ্ধদের দূরে কোথাও ফেলে আসার রীতি খুব অস্বভাবিক কোন ঘটনা ছিল না। দরিদ্র কৃষক খুব ভক্তি আর শ্রদ্ধা সহকারে তার বৃদ্ধা মাকে ভালোবাসতো আর তাই এমন আদেশ শুনে তার মন গভীর দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু শাসকের আদেশ অমান্য করবার কথা কেউই দুবার চিন্তা করতে পারতো না, তাই প্রচণ্ড হতাশায় বারবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে, সেই যুবক তার মায়ের জন্য সে সময়কার প্রচলিত সবচেয়ে সদয় মৃত্যু নিশ্চিত করবার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। (সম্পূর্ণ…)

মাহী ফ্লোরার একগুচ্ছ কবিতা

মাহী ফ্লোরা | ৭ জানুয়ারি ২০১৭ ৩:২২ অপরাহ্ন

১.
কয়েক মাইল শূন্যতার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে আমার মাঝবয়সী ভুল।
এই স্বপ্নের সাথে সেই স্বপ্নের মিল নেই! জীবনের কথা ভাবতে ভাবতে
আমিও সেই পাহাড়ি স্কুলে গিয়ে চাকরি চাইব। আর গোল একুরিয়ামে
চাষ হতে থাকবে কিছু ঔষধি মাছ!

ভাল লাগছেনা আমার, এভাবে কত আর পিছু টানবে হে বৈশাখ?

২.
পথ থেমে আছে, শূন্য আর শূন্যের মাঝে
হলুদ সংবাদ ধারন করেছে
গোঁজামিলের চিবুক।

হেঁটে হেঁটে আমার ক্লান্তি আসে, নতুন
বৃক্ষের নিচে কয়েকটি মুখ, আমিও নেব
প্রতিশোধ, হব ব্যস্ত কাঁচপোকা!

এই নামজন্মের শেষে দেখি আমার পা
উল্টে গেছে, আমি এখন কোন মুখে
জুতো পরব! (সম্পূর্ণ…)

সন্দীপন চক্রবর্তীর গুঁড়ো গুঁড়ো কবিতা

সন্দীপন চক্রবর্তী | ৬ জানুয়ারি ২০১৭ ২:১৭ অপরাহ্ন

১.
অনন্ত কোথায় থাকে? ওপাড়ার ফ্ল্যাটে?
আমাকে তো একদিন চোখ মেরেছিলো
#
ইশারা বুঝিনি, তাকে অসতী ভেবেছি —
এ লেখায় সেই পাপ তোমাতে অর্শালো

২.
বাজে কথার ভিড়ে আমার জীবন শুধু খরচ হয়ে যায়
যেসব কথা লিখবো ভাবি, সেসব কিছু লেখা হয় না আর
#
কে কার আগে মাংসখণ্ড দখল করে নেবে
তা নিয়ে শুধু ঈর্ষা চলে, কামড়াকামড়ি চলে
#
না-লেখা সব শব্দগুলোর দিকে রোজ ঝুঁকে পড়ে
আমাদের এই ঢাউস নিষ্ফলতা (সম্পূর্ণ…)

৮৭তম দিনে তারা এবং আমি

রুবাইয়াৎ সিমিন | ৫ জানুয়ারি ২০১৭ ১২:৫৬ অপরাহ্ন

monish.jpgমুহূর্তের পর মুহূর্ত বেদনার্ত মনে বসে থেকে সে বেরিয়ে আসে মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য। তারপর আবার বাষ্পযুক্ত শ্বাস ফেলে ঢুকে যায় খোলা স্নানাগারে।
নিষ্পলক কয়েকটি মুহূর্ত মাত্র অপেক্ষা তার, ৮৭তম দিন আজ।
ইশ, ওর আসবার দিনও সব ঠিক ছিল! দু’দিন অন্তর বদলেছে পানি, জেট যুক্ত করে তার মাঝে আবার কখনো পরম মমতায় কিংবা খুব তাড়াহুড়োয় বদলেছে ডুবে থাকার জায়গাটা । কাউকে বলে আসলে বোঝানো যায় না অনেক কিছুই যেমন এখন বোঝানো যাচ্ছে না নিজেকেই। এমনটা কি করে হল! অসাবধনতা, পুরো ব্যাপারটাই ঘটে গেছে তার অসাবধানতায়।
সেবার যেবার পাহাড়ে গেল সবাই মিলে সেবারও কি কম কাণ্ড হলো?
সবার সাথের সব কিছু যেমনটি নিয়ে গিয়েছিল তেমনটিই ফেরত আসলো, আসলো না শুধু ওগুলোই। পরে ড্রাইভার, গাইড কতজনকে ফোন করে খুঁজে পেতে আনা গেলো তবুও।

মনে আছে, খুব মনে আছে বৃষ্টিভেজা দিনে অনেক ছবি তোলা হল, আনন্দ আড্ডা হল। তারপর এসে পরম মমতায় ভিজিয়ে দিল ফেনিল; জেট পাউডারে তৈরী ফেনিল বুদবুদে। কয়েকটি গোল গোল হাওয়াভর্তি বড় আকারের বুদবুদ হাতের উপর দিয়ে ভেসে গেল রংধনুর ন্যায় বর্ণচ্ছটা তৈরী করে। ইশারা! কত রকমের ইশারা চলে জগতে। এই ভেসে ভেসে যাওয়া ব্যাপারটাই বা কম কি? ক’টা বুদবুদে ক’টা রংধনু তৈরী করেছিল, কোনরূপ কি কোন ঈঙ্গিতমূলক ব্যাপার ছিল! অথচ প্রায় দু’ কি তিনদিন অন্তর ও বদলেছে পানি, নতুন পানি, নতুন করে বানানো জেট পাউডারের গোলা; তার মধ্যে পরম মমতায় অপেক্ষা, উপযুক্ত সময়ের না পর্যাপ্ত সময়ের অপেক্ষা! (সম্পূর্ণ…)

পলাতক জীবনের বাঁকে বাঁকে ( শেষ পর্ব)

মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ | ৩ জানুয়ারি ২০১৭ ১১:৩৪ অপরাহ্ন

Takiulllaপাঁচবছর জেলে থাকার পর ১৯৫৫ সালে ছাড়া পেলাম। খাঁচার পাখির গান শেষ হলো। কিন্তু খাঁচা তো ভাঙতে পারিনি। মেহনতি মানুষের মুক্তির সূর্য উঠতে আরও অনেক দেরি। জেল থেকে ছাড়া পাবার পর আবার কমিউনিস্ট পার্টির কাজে জড়িয়ে পড়লাম। আমার মূল কাজ ছিল আগের মতোই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, কলে কারখানায় শ্রমিক ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সহায়তা করা। ১৯৫৬-৫৮ সালে আমি যুবলীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলাম।

১৯৫৬ সালে পার্টির কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায়। আমি এর আগেই পশ্চিমবঙ্গে গেলাম। বশিরহাটের পেয়ারায় আমাদের গ্রামের বাড়িতে। এই বাড়ির সঙ্গে আমার শৈশবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এ আমার বাপদাদার ভিটা। এর প্রতি অন্যরকম এক ভালোবাসা অবশ্যই ছিল। তবে আমি সবসময় ঢাকাকেই আমার জন্মভূমি বলে মনে করতাম। দেশবিভাগের কারণে আমার মা তার গ্রামের বাড়িতে আর ফিরতে পারেননি। বিশেষ করে পাসপোর্ট হওয়ার পর। কারণ পাসপোর্টে ছবি থাকবে। সেই ছবি পরপুরুষ দেখবে। আমার মা কঠোরভাবে পর্দা মেনে চলতেন। যদিও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ তার মধ্যে একেবারেই ছিল না। পঞ্চাশের দাঙ্গার সময় বহু হিন্দু পরিবারকে বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন বাবু ও মা।
যা হোক বশিরহাটে থাকার সময় মায়ের কথা খুব মনে পড়তো। আমি ভাবতাম দুই বাংলা বিচ্ছিন্ন হওয়া ঠিক হয়নি। দুই বাংলা একত্রে যদি কনফেডারেশন অফ বেঙ্গল গড়ে তোলা যেত তাহলে বাঙালি জাতি একটি বৃহত্তর দেশের অধিবাসী হয়ে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতো। দুই বাংলা মিলে কনফেডারেশন গড়ে তোলার স্বপ্ন কিন্তু আমার আজও যায়নি। হয়তো ভবিষ্যতে কোনোদিন তা সম্ভব হবে।

১৯৫৬ সালে অগাস্টে কলকাতায় পার্টির কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হলো। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি হলো তের জনকে নিয়ে। কমিটিতে ছিলেন নেপাল নাগ, খোকা রায়, মণি সিংহ, সরদার ফজলুল করিম, অনিল মুখার্জি, মোহাম্মদ তোয়াহা, বারীন দত্ত, শহীদুল্লাহ কায়সার এবং অন্যরা।
পশ্চিমবঙ্গে থাকার সময় ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কমরেড মুজাফফর আহমেদ বা কাকাবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ হয়। কাকাবাবু একসময় আমার বাবার বেশ বন্ধু ছিলেন। সেই বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার সময় থেকেই তাদের বন্ধুত্ব। সেসময় কবি নজরুল, কমরেড মোজাফফর ও শহীদুল্লাহ ছিলেন ঘনিষ্ট বন্ধু। সাহিত্য পত্রিকার অফিসে একই ভবনে থাকতেন শহীদুল্লাহ ও নজরুল।
এবার কলকাতায় আসার সময় বাবা আমার হাতে কাকাবাবুর জন্য চিঠি দিয়েছিলেন। সেসময় পশ্চিমবঙ্গের কমরেডদের সঙ্গে আমার বেশ ঘনিষ্টতা হয়। এরমধ্যে জ্যোতি বসুর সঙ্গে বেশি সখ্য গড়ে ওঠে। (সম্পূর্ণ…)

‘কুইজদাতা’ শওকত ওসমানের দুটি উপহার

রাজু আলাউদ্দিন | ২ জানুয়ারি ২০১৭ ৮:২২ অপরাহ্ন

Osmanসৃষ্টিশীলতা ও মননের আধুনিকতা তীক্ষ্ণ রসবোধ ও কৌতুকবোধের মাধ্যমে একটি পরিশীলিত রূপ লাভ করেছিল বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে শওকত ওসমানের মধ্যেই সর্বপ্রথম, আর এই প্রকাশের বাহন ছিল তার গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ। তার মনন-নির্ভর শ্লেষ ও বিদ্রুপের শানিত রূপ তাকে আলাদা করে দিয়েছিলো তার সমসাময়িক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যিক স্বভাব ও স্বরূপ থেকে, যদিও দুজনেরই সৃষ্টির প্রেক্ষাপট প্রধানত মুসলমান সমাজ ও জনগোষ্ঠী। জ্ঞান বিজ্ঞানের একটি পরিশ্রুত রূপ শওকত ওসমানের মধ্যে যেভাবে ফুটে উঠেছিল তার তুলনা পরবর্তী অন্য কোনো সৃষ্টিশীল বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে বিরল।

জননী, ক্রীতদাসের হাসি’র মাতা স্মরণীয় উপন্যাসের পাশাপাশি তার বহু গল্পে শিল্পী হিসেবে আধুনিক রুচির রূপকার যেমন হয়ে উঠেছিলেন, তেমনি তার প্রবন্ধেও আমরা দেখতে পাই উদার ও মুক্তবুদ্ধির এক লেখককে যিনি জাতীয়তা ও ধর্মীয়বোধের সংকীর্ণ সংস্কার থেকে পুরোপুরি মুক্ত। আর তার একমাত্র কবিতার বই নিজস্ব সংবাদাতা প্রেরিতও ছিল সেই সঘন কৌতুকরস থেকে উৎসারিত কাব্যময় আত্মভাষ্য। লেখক হিসেবে শওকত ওসমানের এসব গুণ আমাদের কাছে ছিল খুবই শ্রদ্ধার ও আকর্ষণের।

আমরা যেসময় লেখালেখি শুরু করেছি তখনই তিনি সর্বজনগ্রাহ্য ও নমস্য এক লেখক। শুধু লেখকই নন, শুনেছি তিনি তুখোড় অধ্যাপকও। কিন্তু এই তুখোড় অধ্যাপক যখন নিজেকে নিয়ে জীবদ্দশায় আত্মমৃত্যুর কাব্যবার্তা ঘোষণা করেন কৌতুকরসের মিষ্টতায়, তখন অনুমান করতে অসুবিধা হয় না ব্যক্তিমানুষটি আলাপচারিতায় কতটা উপভোগ্য হতে পারেন। (সম্পূর্ণ…)

২০১৬-এর ব্যক্তিগত পাঠ-পরিক্রমা

ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী | ১ জানুয়ারি ২০১৭ ৭:১১ অপরাহ্ন

প্রতি বছরই বেশ অনেক বই পড়া হলেও, একদম প্রথম পাতা থেকে শেষাবধি পড়া হয় খুব কমই। অনেক বই কেজো বই, শুধুমাত্র কাজের পাতাতেই তাদের পাঠ সীমাবদ্ধ থাকে। অনেক বই রেফারেন্স বই, শুধু কয়েকটি পাতার জন্যই কেনা হয়। কখন কাজে লাগে কেউ জানে না। এদের মধ্যে কোনো কোনোটি দারুণ স্বাদের। একদম মনপ্রাণ কেড়ে নেয়ার মত। গত বছর ২০১৬তেও এমনই পাঠ-পরিক্রমা থেকে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পাঠ-প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা যেতে পারে। যেহেতু আমি মূলত নন-ফিকশন পাঠক, কাজেই প্রবন্ধসাহিত্যেই মনোযোগ দিলাম।

border=0
‘এ বিউটিফুল কোয়েশ্চেন’, ফ্র্যাঙ্ক উইলচেক, ২০১৫।
অনেকদিন বাদে বিজ্ঞানের এতো ঢাউস একটা বই পড়ে শেষ করলাম। লেখক ফ্র্যাঙ্ক উইলচেক, নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী। বইটা পড়ে মনে হলো, সত্যিই নোবেল-জয়ীদের ধাতই আলাদা। কনসেপ্ট এতো সুন্দর এবং ততোধিক সুন্দর করে বোঝাতে পারেন, কিম্বা ধরা যাক নতুন একটি প্রপঞ্চকে কিম্বা পুরনো প্রপঞ্চকেই এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন, যে মাথা ঘুরে যায়। পদার্থবিজ্ঞান, কিছুটা গণিতেরও, এক অনবদ্য ভাষ্য রচিত হয়েছে এই বইটিতে। বইটিতে মূলত একটি প্রশ্ন করা হয়েছে – জগত কি সুন্দর আইডিয়া ধারণ করে কিনা, অথবা এই বিশ্বজগৎ একটি শিল্পকর্ম কিনা? তারপর পিথাগোরাস এবং প্লেটোর ধারণা থেকে সূত্র ধরে বাস্তবতার ব্যাখ্যা, গণিতের অর্থ, প্লেটোনিক সলিডের ওপর বিস্তারিত আলোচনা, প্রকৃতিতে প্লেটোনিক সলিডের প্রাপ্যতা, ব্যবহারিক প্রয়োগ, নিউটনের তিনটি আবিষ্কার – তাঁর অ্যানালিসিস ও সিন্থেসিস, রঙের ধারণার বিস্তার, গতিশীলতার সূত্রধরতা, বিদ্যুত-চুম্বকত্বের বিস্তার ও ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ (ইএম থিওরি), রঙের পারসেপশনে ইএম থিওরির প্রয়োগ, সিমেট্রির আইডিয়া, গাণিতিক তত্ত্বে সিমেট্রির প্রয়োগ এবং উচ্চতর কণাপদার্থবিজ্ঞানে সেই সিমেট্রির প্রভাব, কোয়ার্ক-গ্লুয়ন স্যুপের ব্যাখ্যায় কোয়ান্টাম ক্রোমোডায়নামিকস, কোয়ান্টাম তত্ত্বের বিস্তার, কণার ওয়েভ-ফাংশনের বিস্তারে সিমেট্রির প্রয়োগ, তার ব্যাখ্যা, বাক্সবন্দী ইলেকট্রন আর টানাতারের কম্পনের অদ্ভুত মিল, এমি নয়থারের অবদান, সুপারসিমেট্রির ধারণা ইত্যাদি নিয়ে এক চরম দক্ষযজ্ঞ বাধিয়ে দিয়েছেন ফ্র্যাঙ্ক।রজার পেনরোজের “দ্য এম্পেররস নিউ মাইন্ড” গ্রন্থটির পর তুলনীয় এনসাইক্লোপিডিক গভীরতায় প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নিয়ে বিশাল ক্যানভাসে লেখা হয়েছে বিরল। তাই ফিজিক্স এবং ন্যাচারাল সায়েন্সে যারাই আগ্রহী এই বইটি তাদের গভীর তৃষ্ণা মেটাবে। বইটিতে আছে ৫৩টি কালার প্লেট এবং আরও ৪০টি সাদাকালো ছবি, এক সমৃদ্ধ টেকনিকাল গ্লসারি যেটা বইয়ের মূল সরল ভাষ্যের গাণিতিক এবং বৈজ্ঞানিক পূর্ণতা দেয়। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা |

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com