নগ্নপদ ইলিয়াড ও আসুয়েলার বিপ্লব

রাজু আলাউদ্দিন | ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

Azuelaনিকারাগুয়ার রুবেন দারিও, কিংবা পেরুর সেসার বাইয়েহোর নামটি স্মরণে রেখেই আমরা প্রায়শই বলতে শুনি যে লাতিন আমেরিকায় চিলেই হচ্ছে কবিতার সেই দেশ যা সৃষ্টির বৈচিত্র ও গভীরতা দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তর পাঠকগোষ্ঠীকে অভিভূত করেছে। এমনটা বলার কারণও আমাদের অজানা নয়, কারণ চিলেতে প্রায় কাছাকাছি সময়ে বিসেন্তে উইদোব্রো, গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল, পাবলো নেরুদা, পাবলো দে রোকা ও নিকানোর পাররার মতো বিশ্বমানের কবির আর্বিভাব। অন্যদিকে, কথাসাহিত্যের জন্য আর্হেন্তিনাকেই পরানো হয় প্রশংসার অতুল্য মুকুট; কেননা এস্তেবান এচেবেররিয়া থেকে শুরু করে মাসেদোনিও ফের্নান্দেস, হোর্হে লুইস বোর্হেস, আদোল্ফো বিয়ই কাসারেস, দানিয়েল মোইয়ানো, হুলিও কোর্তাসার ও মানুয়েল পুুইগ-এর মতো লেখকরা কেবল লাতিন আমেরিকার প্রেক্ষাপটেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের প্রেক্ষাপটেই বিস্ময়কর উত্থান হিসেবে স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে আছেন। কিন্তু লাতিন আমেরিকার একেবারে উত্তরে অবস্থিত মেহিকো সম্পর্কে এমন কিছু কখনোই বলতে শুনা যায় না। অথচ মেহিকো, কী কবিতায়, কী প্রবন্ধে, কী কথাসাহিত্যে-বলতে গেলে সাহিত্যের এই তিনটি শাখায়ই রয়েছে তার অনন্য অর্জন। কবিতায়, সেই ঔপনিবেশিক যুগের বিস্ময়কর প্রতিভা সর হুয়ানা ইনেস্ দে লা ক্রুস থেকে শুরু করে আমাদো নের্বো, রামোন লোপেস বেলার্দে, হাবিয়ের বিইয়াউররুতিয়া, হোসে গরোস্তিসা কিংবা লাতিন আমেরিকার প্রথম ঔপন্যাসিক হোসে হোয়াকিন ফের্নান্দেস দে লিসার্দি, তিনিও মেহিকানো। প্রবন্ধে দার্শনিক ও ভাবুক হোসে বাসকন্সেলোস, এদমুন্দো ওগোরমান, আলফোনসো রেইয়েস, অক্তাবিও পাস। অর্থাৎ তিনটি ক্ষেত্রেই মেহিকোর রয়েছে অসামান্য অর্জন। আর কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রে আমরা যদি সময়ক্রমের ধারাবাহিকতায় দেখতে চাই তাহলে লক্ষ্য করবো লিসার্দি দিয়ে গোটা লাতিন আমেরিকার উপন্যাসের যে শুরু, তার পরে ধীরে ধীরে এসে যুক্ত হচ্ছেন বিস্ময়কর সব ঔপন্যাসিক, যেমন হুয়ান রুলফো, আগুস্তিন ইয়ানঞেস, হুয়ান গার্সিয়া পন্সে, হোসে এমিলিও পাচেকো, ফের্নান্দো দেল পাসো কিংবা কার্লোস ফুয়েন্তেস। কিন্তু এদের সবার আগে উচ্চারণ করতে হবে মারিয়ানো আসুয়েলার নাম, যিনি কেবল মেহিকোরই নয়, গোটা লাতিন আমেরিকার প্রেক্ষাপটেই প্রথম সত্যিকারের এক উল্লম্ফন ঘটিয়েছিলেন কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রে। (সম্পূর্ণ…)

অরুণাভ রাহারায়ের তিনটি কবিতা

অরুণাভ রাহারায় | ২৯ জানুয়ারি ২০১৭ ৯:০৮ পূর্বাহ্ন

বয়স

আমার বয়স থাকে দূরে
গাছেদের ডালপালা ঝোলে…

Afsan
কথা

কথাদের দূরে যেতে বলি
তারা যত উড়ে যায়
দূরে যায় পাহাড়ের পাখি।
পথ তবে বেঁকে গেছে, বেঁকেচুরে ভেঙে গেছে, কবে?

এখন কথার পিঠে, ইচ্ছে করে, দুটো-একটা কথা লিখে রাখি। (সম্পূর্ণ…)

কবিতার নুন ও গুণ

শান্তনু কায়সার | ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ ৬:৫৩ অপরাহ্ন

kamal chowdhuryজগতে নুনের মূল্য শোধ দিতে বহু দেনা বাকি
কবিতাংশ ৫ : রোদ বৃষ্টি অন্ত্যমিল

১৯৫৭-র ২৮ জানুয়ারি কামাল চৌধুরীর জন্ম। আর তাঁর কবিতাসমগ্র প্রকাশিত হয়েছে ২০০৯-এর ফেব্রুয়ারিতে। অর্ধশতকের যে জীবন তিনি যাপন করেছেন তার একটি কাব্যিক প্রকাশ তাঁর এই সংকলনগ্রন্থ। এতে সংকলিত হয়েছে মোট আটটি কাব্যগ্রন্থের প্রায় সব অথবা নির্বাচিত কবিতা। প্রসঙ্গ-কথা’য় কবি বলেছেন, ‘সংগ্রহের বিশালত্বের প্রশ্রয় পেয়ে আমার অনেক অপছন্দের কবিতাও ঢুকে গেছে এ সংকলনে।’ কবিতাসমগ্র’য় অন্তর্ভুক্ত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে মিছিলের সমান বয়সী, টানাপোড়েনের দিন, এই পথ এই কোলাহল, এসেছি নিজের ভোরে, এই মেঘ বিদ্যুত ভরা, ধূলি ও সাগর দৃশ্য, রোদ বৃষ্টি অন্ত্যমিল এবং হে মাটি পৃথিবীপুত্র। কবির জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ১৯৭৬ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত লেখা কবিতাগুলো এই সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ তিরিশ বছরের কাব্যচর্চার সাক্ষ্য এই সংকলন।
কিন্তু আমরা যারা তাকে কাব্যক্ষেত্রে আবির্ভূত হতে দেখেছি তাদের কাছে এখনো তিনি মিছিলের সমান বয়সীরই কবি। এ বছরই অর্থাৎ ১৯৮১-র ফেব্রুয়ারিতে দ্রাবিড় প্রকাশ করেছিল বেশ কিছু কবিতাগ্রন্থ। মুহম্মদ নুরুল হুদার আমরা তামাটে জাতি, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম, কামাল চৌধুরীর মিছিলের সমান বয়সী এবং আমার রাখালের আত্মচরিত। তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতায় বলেছেন ‘একটি বয়স থাকে, ভালোবাসার জন্য ভেতরে ভেতরে মানুষ বিপ্লবী হয়ে ওঠে’ রুদ্র সেই বয়সে প্রয়াত হয়ে মানুষকে ভালোবাসার বয়সে থেকে গেছেন।
রুদ্রর দ্রোহ এতোটাই জীবন্ত ছিল যে তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এর অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধেও তাঁর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। কামাল তাঁর এই সংকলনের দুটি কাব্যগন্থের দুটি কবিতায় রুদ্রকে স্মরণ করেছেন– (সম্পূর্ণ…)

কামাল চৌধুরী : সত্তরের মেধাবী কবি

ফরিদ আহমদ দুলাল | ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ ৫:৪৫ অপরাহ্ন

f2764352সত্তর দশকের দীর্ঘ কবি তালিকায় অসংখ্য বর্ণিল নাম থেকে মাত্র কজনের নাম বেছে নিতে চাইলেও একটি নাম বিবেচনায় থেকেই যায়; যাঁর সাথে সৌজন্যের অতিরিক্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক ততটা ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেনি। হয়ে ওঠেনি কারণ, একদিকে একজন অন্তর্গত স্বভাবের সাহিত্যকর্মী অন্যদিকে নির্লিপ্ত পরিমিত স্বভাব-সংহত একজন কবি। একদিকে একজন ব্যর্থ মানুষের উদ্বেগ-সংকুল প্রাত্যহিক জীবন, অন্যদিকে মেধাবী সৌভাগ্যের প্রবহমান সাফল্য। যাঁকে নিয়ে আলোচনা তিনি সত্তর দশকের অন্যতম মেধাবী কবি। সত্তর দশকের প্রিয় কবির তালিকা যতবার প্রণয়ন করতে চেয়েছি ততবার ঐ একটি নাম সামনে এগিয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে; করমর্দন করে বলেছে– ‘এখানে এই অসংখ্য সুদীপ্ত মানুষের ভিড়ে আমি কি তোমার নজরে আসিনি?’ আমি বিস্মিত হয়ে বারবারই ভেবেছি এই নামটি কেন সামনে এগিয়ে যায় বারবার! বিভিন্ন সংকলন ও আলোচনায় সত্তর দশকের উল্লেখযোগ্য কবি হিসেবে স্বীকৃত তাঁদের তালিকা কিছুতেই পঞ্চাশোর্ধ নয়। কোনো ঘাটাঘাটি ছাড়াই যদি সত্তর দশকের অন্যতম কবিদের একটা তালিকা কেবল স্মৃতি থেকে উচ্চারণ করতে চাই, তাহলে বলতে পারি আবিদ আজাদ, আবিদ আনোয়ার, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, রবীন্দ্র গোপ, নাসির আহমেদ, ময়ূখ চৌধুরী, তুষার দাশ, আবুল মোমেন, নিতাই রায়, বিমল গুহ, শামসুল ফয়েজ, আশরাফ মীর, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কামাল চৌধুরী, মাহমুদ কামাল, জরিনা আখতার, নাসরীন নঈম, মাহবুব হাসান, মুজিবুল হক কবীর, জাফরুল আহসান, ফারুক মাহমুদ, আবু করিম, আতাহার খান, শিহাব সরকার, আবু হাসান শাহরিয়ার, সোহরাব পাশা, সোহরাব হাসান, জাহিদ হায়দার ইত্যাদি নামের তালিকা। স্মৃতি ঘেটে আরো কিছু নাম নিশ্চয়ই উদ্ধার করা যাবে। এসব নামের পাশে অবশ্যই নিজের নামটিকেও বাদ দিতে চাই না। যদিও সে অর্থে আমি ততটা পরিচিত নই সবার কাছে। এই যে নিমিষে মনে করা নিজের দশকের নামের তালিকাটি, তাও তো একেবারে ছোট নয়। কিন্তু যদি আমাকে সত্তর দশক থেকে দশজন কবিকে বেছে নিতে বলা হয়, কিছুতেই আমি সেই বিশেষ নামটি বাদ দিতে পারি না। আমি লক্ষ করেছি একই বিষয়ে যখনই ষাট-সত্তর-আশির দশকের কবি বন্ধুদের সাথে মত বিনিময় করেছি, প্রত্যেকেই সেই বিশেষ নামটি অনিবার্য বলেই উল্লেখ করেছেন। এতোসব সঙ্গত কারণে ক্রমশ আমি তাঁর বিষয়ে মনোযোগী হয়েছি। অভিনিবেশন দিয়ে পড়তে চেষ্টা করেছি তাঁর কবিতার অন্তর্গত সৌন্দর্য। নির্বাচিত কবিতাসহ তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা আমার জানা মতে নয়টি। সত্তর দশকের কবিতার একটি সংকলন তিনি সম্পাদনাও করেছেন। তার সংকলনে তিনি আমাকে বিবেচনা করেননি, তবুও আমি কখনো তাঁর নাম বাতিল করতে পারি না। এ আমার ঔদার্য নয় বরং এ তাঁর অর্জন। তাঁর প্রকাশিত বইগুলো হচ্ছে– মিছিলের সমান বয়সী, টানাপোড়েনের দিন, এই পথ এই কোলাহল, এসেছি নিজের ভোরে, এই মেঘ বিদ্যুত ভরা, নির্বাচিত কবিতা, ধূলি ও সাগর দৃশ্য, রোদ বৃষ্টি অন্ত্যমিল এবং হে মাটি পৃথিবীপুত্র। কবিতার জন্য তিনি ইতোমধ্যে রুদ্র পদক এবং কবিতালাপ সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি তাঁর নাম আলাদা করে উচ্চারণ না করলেও যে কোনো সচেতন পাঠক বুঝে গেছেন সত্তর দশকের এই অনিবার্য কবির নাম কামাল চৌধুরী। (সম্পূর্ণ…)

কামাল চৌধুরীর কবিতা: লণ্ঠন জ্বালিয়ে রাখে কারা এই পথের ওপর

মণিকা চক্রবর্তী | ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ ৮:৫৭ পূর্বাহ্ন

kamal chowdhury
সমাপ্ত সর্পিল পথ দিগন্তের পর্বতশিখরে
তার পরে অপার নীলিমা
কী হবে উদ্দেশ্য খুঁজে উর্ধ্বশ্বাস নক্ষত্রনিকরে?
এখানেই পৃথিবীর সীমা।

[উপসংহার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]

কবি কামাল চৌধুরীর ভ্রমণ কাহিনি কবিতার বইটি হাতে নিয়ে রবীন্দ্রনাথের উপরোক্ত লাইনগুলো মনে পড়ল। বিচিত্র লক্ষ্যে, ভিন্ন ভিন্ন দিকে ও ভবিতব্যে ছুটে যাওয়া মানুষ খুঁজে ফেরে জীবনের মানে। কামাল চৌধুরীর ভ্রমণ কাহিনি সিরিজের কবিতাগুলি পড়তে পড়তে তার অন্তর্গত যাত্রা ও উপলব্ধির মাঝে আমিও পাঠক হিসেবে চমকে দাঁড়িয়ে পড়ি। কবিতার শব্দগুলো আমার বোধের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে যেন:

পড়শি রাতের শব্দ,কার নামে এই পাতাঝরা
বনপথে অভিভূত কারা আজ শব্দ অনুগামী
শীত না শোক না জন্ম―এই নিশি কার জন্য লেখা
লণ্ঠন জ্বালিয়ে রাখে কারা এই পথের ওপর?

[০১নম্বর কবিতা]
এক পাতাঝরা শীতের রাতে কবিতাটি রহস্যে আবৃত। সত্যিই কী শীত, না শোক, না জন্ম? কৌতূহল বেড়ে যায়। আবার পড়তে থাকি। আপাত সরল কবিতাটির মধ্যে দেখা পাই এক রহস্যনির্ভরতা। শীতের নির্জনতা আর শোকের বিষাদের মধ্যে টের পাই কোনো এক আকস্মিকের উপস্থিতি: ‘লন্ঠন জ্বালিয়ে রাখে কারা এই পথের ওপর?’ শীত-শোক-জন্ম যেন এক সমান্তরাল রেখা, তাতে মিশে যায় প্রকৃতির নিজস্ব নিয়ম। ‘বিস্ময় বালক লতাগুল্ম পার হয়ে হারাবে কি যাদুর কোটরে?’ বাক্যটি পড়ার পর আমি যেন সত্যি সত্যিই সেই বালকটিকে দেখতে পেলাম যে খুঁজে বেড়াচ্ছে তার জীবনকে। তীব্র পাতাঝরার কালে, তীব্র শীতের ভিতর যে খুঁজে বেড়াচ্ছে তার নিজকে। শীতে শেকড় ছিঁড়ে যাবার ভয় যত তীব্র, তার চেয়েও তীব্র হয়ে উঠছে এক অস্তিত্বের সংকট। ভয়, হতাশা, আশঙ্কা পেরিয়ে শব্দের পর্দায় ভেসে উঠেছে নিরন্তর খোঁজার সংগ্রাম। আইডেনটিটি হারিয়ে আমরা আইডেনটিটিকেই খুঁজি। এখানেও তাই, ‘মহিমার বীজ নিজের প্রশ্রয়ে তারা পুনর্বার জন্ম নেবে শীতে।’ (সম্পূর্ণ…)

রবিউল করিমের গল্প: মধুচক্র

রবিউল করিম | ২৭ জানুয়ারি ২০১৭ ৫:০৫ অপরাহ্ন

এই মধুচক্র কীভাবে, কোথায় শুরু হয়েছিল জানি না। কিছু দৃশ্য শুধু স্মৃতির কোঠরে লেপটে আছে। সেই লেপটে থাকা কুয়াশার পরতের তুলো একটু একটু করে সযতনে সরতে থাকলে আমি দেখি, শৈশবের মধু দৌড়াচ্ছে।
বাপ আমাকে আদর করে মধু পাগলা ডাকতেন। সেই নামের পেছনের ইতিহাসটা বড় গোলমেলে। কিন্তু আমি জানি, জন্মের পর আমার মুখে প্রথম মধুই তুলে দেয়া হয়েছিল। আর এ কথা আমাকে বলেছিল মা। মা তো মিথ্যে বলতে পারে না। যে শিশুটি পৃথিবীর প্রথম স্বাদ গ্রহণ করেছিল মধুর; সে যে ভাবিকালে মধু পাগলা হবে এতে আশ্চর্যের কী আছে?
modhu
মনে পড়ে, তখন ক্লাস টু কী থ্রিতে পড়ি। বাড়ি থেকে স্কুল প্রায় দু ক্রোশ দূরে। হেঁটেই যাই আসি। আমার সাথে যায় আমারই সহপাঠি গোল্লা, নারায়ণ, বাসেত, রমেশ, শুকবর। রমেশের বাড়ি আমাদের বাড়ির লাগোয়া। সে এসে ডাক দিলেই মা তড়িঘড়ি করে আমার চুলে তেল দিতে লাগতেন। আমি যতই বলি, হেছ তো, স্কুলত দেরি হয়্যা য্যাবিনি। ততই তিনি সরিষার তেল মাখানো আঙুল চুলের ভেতরে নিয়ে মালিশ করতে করতে ধমক দিয়ে বলতেন, থাম ছোড়া, চুলগুলার কি অবস্থা কর‌্যা রাখিছু! ইংক্যা করা স্কুলোত যায়। মাস্টার কি কবেনি? চুলেত ত্যাল দিলে মাথা ঠান্ডা থাকে। পড়াত তো আর মন নাই, খালি ছটফট। তারপর চিকন দাঁতের চিরুনি দিয়ে থুতনিটা শক্ত করে ধরে চুল আঁচড়িয়ে দিতেন। ততক্ষণে রমেশ বার কয়েক ডেকে বাইরে অস্থির। নিত্যদিন এইসব হ্যাপা সামলিয়ে যখন পড়ার বইগুলো বুকে চেপে ধরে দৌড় দিতাম; তখনো মা চেঁচিয়ে বলতেন, দেখিছু দেখিছু, এই ছোড়া পড়্যা যাবু তো। কিন্তু কোনোদিনই পড়ে যাওয়ার বিপত্তি না ঘটিয়ে দু বন্ধু ছুটে যেতাম স্কুলে। পথে সঙ্গি হতো ওরা চার জন। এই ছয়জন মিলে সেই দু ক্রোশ পথ পাড়ি দেয়া ছিল এক রোমাঞ্চকর ভ্রমণ। কখনো বাসেতদের শবরিগাছে ঢেলা দিয়ে শবরি খাওয়া, কখনো গাবলের গাছে চড়ে ঘুঘুর ডিম পেড়ে আনা, কত কী। হরিশপুরের শেষ মাথা থেকে আতাইকুলার রাধারমন প্রাইমেরি স্কুল পর্যন্ত পথে পথে ছড়িয়ে থাকত আমাদের দুষ্টামি। (সম্পূর্ণ…)

আমাদের বইমেলা ও কিছু প্রশ্ন

আনিসুর রহমান | ২৫ জানুয়ারি ২০১৭ ৫:৫৮ অপরাহ্ন

Shishu+Prohor-book+fair-05022016-17প্রতিবছর নিয়মিতভাবে একুশে গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত হবার বয়স তিন দশকের উপরে। প্রতিবছরই এই বইমেলা ঘিরে একই ধরণের গৎবাঁধা অনুষ্ঠানমালা। নেই তেমন কোন সংযোজন, নেই কোনো পরিমার্জন। শুধু আমরা সংখ্যায় বাড়িয়েছি স্টলের সংখ্যা, বইয়ের সংখ্যা, গায়ে গতরে মেলা বেড়ে বেড়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে ভালো। আর ভেতরের চিত্র প্রকাশকরা নিজ নিজ স্টল সাজিয়ে বসবেন-পাঠক আর ক্রেতারা আসবেন, বই কিনবেন জনপ্রিয় লেখকরা স্টলে বসে বিরামহীন অটোগ্রাফ দিয়ে যাবেন। আর অজনপ্রিয় লেখকরা চেয়ে চেয়ে দেখবেন।
আর নজরুল মঞ্চে রিলিফের ভিড়ের মতো জনস্রোত ঠেলে কেউ একটু নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করবেন। এইতো আমাদের বইমেলার মোটা দাগের চিত্র। আমি যত বছর ধরে ঢাকা শহরকে চিনি ঠিক একই সময় যাবৎ আমি আমাদের অমর একুশে বই মেলাকেও জানি। এই জানার দুই দশকের অধিককাল সময় ধরে কয়েকটি প্রশ্ন নানাভাবে ঘুরে ফিরে আসে। কিন্তু প্রশ্নগুলো নিয়ে খোলামেলা কোনো আলোচনা বা কার্যকর বিতর্ক আমি কোথাও লক্ষ করিনি। প্রশ্নগুলো যদি লিখি তাহলে মোটামুটি এমন দাঁড়ায়:
১। বই তেমন বিক্রি হয় না কেন? (প্রকাশকরা লেখকদেরকে এরকমই বলে থাকেন বলেই এই প্রশ্নটা এলো।)
২। বিক্রি না হলেও প্রকাশকরা বই বের করেন কেন? তারপর প্রকাশনা ব্যবসার টিকে থাকেন কিভাবে? (সম্পূর্ণ…)

তারিক সুজাতের তিনটি কবিতা

তারিক সুজাত | ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ ১২:২৯ অপরাহ্ন

ছিন্নডানার মানুষপাখি

১.
কয়েক শতাব্দী ধরে এখানে ছিলাম
ছিলাম মানুষ হয়ে মানুষের কাছাকাছি
ধর্ম এসে তোলেনি দেয়াল
ধূতি আর পায়জামা
সাদা পায়রার মতো
উড়তো আকাশে
এক তারে এক সুরে,
ভেজা কাপড়ের আলিঙ্গনে;
সাজানো উঠোন
ফেটে চৌচির হলো
ঘৃণার বারুদে।
১৯৪৭-
সেই কবে চালকবিহীন বাসে
উঠে পড়েছিলাম,
পেছনের সত্তর বছর কাঁদছে নীরবে
শেষ স্টপে
ক্রাচ হাতে দাঁড়িয়ে আছে
বোবা ইতিহাস! (সম্পূর্ণ…)

সাহস ও সৃষ্টির অদম্য লেখক হুমায়ুন আজাদ

মিলটন রহমান | ২১ জানুয়ারি ২০১৭ ১:০৬ অপরাহ্ন

humayun_azadহুমায়ুন আজাদ: বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময়। এই উপাধীটি আমরাই প্রথম দিয়েছিলাম। আমি এবং কাজল রশীদ শাহীন ২০০১ সালের শেষ দিকে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার করেছিলাম তাঁর। সে বছর ২৫ নভেম্বর দৈনিক আজকের কাগজের ‘তারকা কাগজ’-এ হুমায়ুন আজাদ-এর পুরো প্রচ্ছদবিস্তারি ছবি দিয়ে বেশ গুরুত্বের সাথেই ছাপা হয়েছিলো সেটি। তবে ছাপা হওয়ার আগে শিরোনাম নিয়ে কথা বলি হুমায়ুন আজাদ-এর সাথে। তিনি ‘হুমায়ুন আজাদ: বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময়’ এই শিরোনামটি পছন্দ করে বলেন, হুম, দিতে পারো উপাধীটি, আমার জন্য যথার্থ’। আমাদের নেয়া সাক্ষাৎকারটি তিনি ধর্মানুভূতির উপকথা ও অন্যান্য গ্রন্থে নির্বাচিত সাক্ষাৎকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

ধীমান এবং ঋষিতুল্য এই ব্যক্তিত্বের প্রতি আমার আগ্রহ সবসময় বেশিই ছিলো। এক সময় তাঁর খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগও হয়েছে। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে কেন তাঁকে ‘বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময়’ বলেছি। কারণ তিনি বাংলাসাহিত্যের অনেকগুলো ক্ষেত্র আলোকিত করেছেন। ভরিয়ে তুলেছেন মৌলিক কাজের জোছনায়। তিনি কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক, প্রাবন্ধিক, কিশোরসাহিত্যিক, অনুবাদক, গবেষক এবং একজন দক্ষ শিক্ষক। তার নিজের লেখক চরিত্রে যুক্ত ছিলো প্রথাবিরোধিতা। হুমায়ূন আজাদ রাষ্ট্র এবং সমাজের অনেক প্রথা ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন। তিনি কেন তা চাইতেন, সে ব্যাখাও তাঁর বিভিন্ন লেখা এবং সাক্ষাতকারে উদ্বৃত হয়েছে। একটি রাষ্ট্র তাঁর কাছে সর্বময় ক্ষমতা বা বিশ্বাসের জায়গা ছিলো না। বরং রাষ্ট্রের চেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন একজন কবি, বিজ্ঞানী কিংবা দার্শনিককে। তাঁর মতে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রথম শ্রেণির মানুষের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু কবিতা, দর্শন এবং বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের জন্য প্রথম শ্রেণির মানুষ প্রয়োজন হয়। চলুন দেখা যাক এর পেছনে তিনি কি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন, ‘মনে করা যাক যদি শেক্সপীয়র মন্ত্রী হতেন, রবীন্দ্রনাথ রাষ্ট্রপতি হতেন বা মনে করা যাক আইনস্টাইন বিজ্ঞানচর্চা ছেড়ে রাজনীতি করতেন, তাহলে কি সভ্যতার জন্য তা মঙ্গলজনক হতো? তা নয়। যিনি সৃষ্টিশীল হবেন, স্রষ্টা হবেন, বৈজ্ঞানিক দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ বা সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী হবেন, তাঁর প্রবণতাই ভিন্ন। তিনি সভ্যতা সৃষ্টি করেন। রাজনীতিবিদরা তা করে না( সাক্ষাৎকার-হুমায়ুন আজাদ:বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময়।’ (সম্পূর্ণ…)

অলভী সরকারের একগুচ্ছ কবিতা

অলভী সরকার | ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ ৬:৫০ অপরাহ্ন

আমি আর কোথাও থাকি না

মাঝে মাঝে কিছুক্ষণ,
কোথাও থাকি না আমি।

ফিরে এলে দেখি,
এক মিনিট,
এক ঘণ্টা,
সম্পূর্ণ একটি দিন
পার হয়ে গ্যাছে।

সিগনালে, সড়কবাতির নিচে
আটকা পড়ে শ্রমিকের গাড়ি।
রাতের শহর।

কয়েকটি পুরুষ মশা
গলে যাচ্ছে নখের খোঁচায়
রক্তহীন।

অতঃপর, সড়কবাতির নিচে
তালাবন্ধ খুচরো দোকান,
পোড়া সিগারেট, আধা-ভেজা
টি ব্যাগের স্তুপ।
অজস্র পিঁপড়ার লাশ। (সম্পূর্ণ…)

এই শীতে পাতাগুলি পাখি হয়ে যায়

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ ৮:৪৬ অপরাহ্ন

এই শীতে শব্দগুলি পাখি হয়ে যায়;
শূন্যের হৃদয় ছেড়ে খুঁড়ে খায়
অন্য এক শূন্যের হৃদয়:
এই শীতে পাতাগুলি পাখি হয়ে যায়;
উড়ে উড়ে এতোটা সদয় তুমি,
হায় তরু, এতোটা নির্দয়!

অনঙ্গ হৃদয় ছেড়ে ফিরে আসো,
শব্দ-নারী, অঙ্গের ভিতর;
যেহেতু পাথর নও, শব্দ-বধূ,
নও তুমি যেহেতু নিথর।

মানুষ শুশ্রুষা পেলে
উড়ে যায় পাখির ডানায়,
ভালোবাসা আলোভাষা,
শুধুমাত্র সদাচারী মানুষে মানায়। (সম্পূর্ণ…)

প্রদীপ করের পাঁচটি কবিতা

প্রদীপ কর | ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন


দরজা

আমার বাড়িতে অনেকগুলো ঘর।
যতগুলো দরজা আছে
জানলা আছে তারও চেয়ে বেশি।
আলোবাতাস আসে। এই ঘরে
যতগুলি দরজা আছে
ততগুলি
মানুষ তো নেই
ফলে
আমি একাই ভিতরে বাইরে আসা যাওয়া করি…
তাই, দরজাগুলি সকল সময় খোলা থাকে

আমি সমস্ত দরজাই সব সময় খুলে রাখতে চাই
তার জন্য
আজ না হোক, কাল বা পরশু বা তার পরদিন

সে, যদি অন্তরে প্রবেশ করতে চায়… (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com