সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য : যন্ত্রের পেটে ছোটগল্প

রেশমী নন্দী | ১৮ december ২০১৬ ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

storyস্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের পেট ভর্তি ছোটগল্প। বোতাম টিপে বের করে পড়ে নিলেই হলো। ফ্রান্সের ট্রেন অপারেটর SNCF স্টেশনে আপনার অপেক্ষা করার সময়টুকু নষ্ট না করে ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে পারবে সাহিত্যের ভুবনে। সম্পূর্ণ বিনা খরচে কেবল বোতাম টিপে যে কেউ একটা ছোটগল্প বের করে চট করে পড়ে নিতে পারবেন এখানে। ক্ল্যাসিক বা মডার্ণ এমনকি রূপকথার গল্পও মিলবে এই যন্ত্রের পেটে। মজার এই যন্ত্রে তিনটি বোতাম রয়েছে ১, ৩ কিংবা ৫ মিনিট সময় নির্দেশ করে। অর্থাৎ পাঠক কতটুকু সময় দিতে চান এর পিছনে, সেটা ঠিক করারও সুযোগ আছে। গতবছর গোনবেল ( Grenoble )-এ সফল শুরুর পর এ বছর অন্তত ৩৫টি ষ্টেশনে “এমন গল্প পেটে ঢোকানো” যন্ত্র বসানো হবে বলে জানিয়েছেন SNCF। এ ছোটগল্প মানুষকে পড়ানোর প্রকল্প পরিচালনা করছে “Short Edition”। ২০১৩ সালে ‘লেখকের জাতি’ হিসেবে ফরাসিদের খেতাব মিলেছিল এ তথ্যের ভিত্তিতে যে, সে দেশের ১৭ ভাগ জনগন লেখালেখি করে। অবশ্য বেশিরভাগই থেকে যায় অপ্রকাশিত। আর তাই এমন যন্ত্রের ব্যবস্থা সে দেশে পাঠকের পাশাপাশি নবীন লেখকদেরও ভরসার জায়গা হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে। এরই মধ্যে তাঁদের কাছে ৫ হাজারেরও বেশি অজ্ঞাতনামা লেখকের লেখা জমা পড়েছে। এমনকি স্মার্ট ফোনের যুগে কাগুজে পদ্ধতিও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মাত্র ছমাসে একটি মেশিন থেকেই অন্তত ১ লাখ গল্প পড়েছে ট্রেন যাত্রীরা। এরই মধ্যে চলচ্চিত্র পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কোপোলা ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন, সান ফ্রান্সিসকোতে তাঁর পানশালাতেও এমন একটা যন্ত্র বসাবেন। (সম্পূর্ণ…)

শাহাবুদ্দিন আহমেদ: আমি একজন শিল্পী হয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না

রাজু আলাউদ্দিন | ১৬ december ২০১৬ ১:৫৯ পূর্বাহ্ন

S. Aআন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শাহাবুদ্দিন আহমেদ কেবল বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় চিত্রশিল্পীই নন, তিনি ছিলেন একই সঙ্গে আমাদের অহংকার, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একজন, যার এক হাতে ছিল অস্ত্র আর অন্য হাতে তুলি। কিংবা তারই আদর্শ কাজী নজরুলের ভাষায় শাহাবুদ্দিনের ‘এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাশরী আর হাতে রণতুর্য। স্বাধীনতাযুদ্ধে প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ তার শিল্পীজীবনকে বদলে দিয়েছিলো চিরকালের জন্য, যে-বদল তার শৈল্পিক অভিব্যক্তিকেই কেবল বৈশিষ্টমন্ডিত করেনি, ছবির বিষয়বস্তুকেও দিয়েছে গনমুখিতা। বহু শহীদের আত্মত্যাগের ফলে যে-স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে তিনি তার অমরগাথা রচনা করেছেন ক্যানভাসে রং ও তুলির সুনিপুন টানে; রং এখানে রক্তের স্ফুলিঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে আছে ক্রোধ ও সাহসের বার্তা রূপে। শোক এখানে শৌর্যের বীরোপম অভিব্যক্তি নিয়ে আমাদেরকে একথাই জানিয়ে দিচ্ছে যে স্বাধীনচেতা মানুষ অদম্য, মহত্তম স্বপ্নের কোনো বিনাশ নেই, তা গতি ও পেশিময় ইশারায় আমাদেরকে উজ্জীবিত করে। তার রংয়ের প্রক্ষেপ ও এর বিন্যাস এমনভাবে করা হয় যা দেখলে মনে হবে এগুলো ঠিক ক্যানভাসে থাকতে চাইছে না, কারণ রংয়ের মধ্যে তিনি অসামান্য দক্ষতায় এমন এক চাঞ্চল্য সঞ্চার করেন যে তা ক্যানভাসের সীমাবদ্ধতাকে ভেদ করে বেরিয়ে পড়ার জন্য শোরগোল তুলছে। বিন্যাসের গতিময় অভিব্যক্তি এই শোরগোলকে উস্কানি দিচ্ছে ক্যানভাসের ছোট্ট পরিসর থেকে অবারিত প্রান্তরের দিকে ছুটে যাওয়ার জন্য যেখানে রয়েছে যুদ্ধ শৌর্য প্রকাশের জন্য, যেখানে রয়েছে স্বাধীনতার বীজ শাখাপ্রশাখায় বিকশিত হওয়ার লক্ষ্যে। ঠিক এইভাবে শিল্পী শাহাবুদ্দিন অদৃশ্য ও অমেয়কে রংয়ের মাধ্যমে ধ্বনিময় করে তোলেন। যুদ্ধকালীন গেলোবারুদের শব্দ ও গন্ধকে তিনি রংয়ে রূপান্তরিত করেছেন, কিংবা এর উল্টোটাও সত্যি এই জন্য যে যুদ্ধের পর তার ছবিতে রংকে তিনি শব্দ ও গন্ধে রূপান্তরিত করেছেন। রূপান্তরের এই মহত্তম শিল্পীকে বিজয় দিবসে জানাই আমাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

শিল্পী শাহাবুদ্দিনের দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল গত বছরের অক্টোবরের প্রথম দিকে, তার জন্মদিনের কয়েকদিন আগে।
কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের সাথে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শিল্পী শাহাবুদ্দিন স্বাধীনতাযুদ্ধে তার অভিজ্ঞতা ও চিত্রকলায় এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। এছাড়াও আছে বঙ্গবন্ধুর সাথে তার প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়ন। ভিডিওতে ধারণকৃত এই সাক্ষাৎকারের লিখিত রূপটি শিল্পীর পরামর্শে প্রমিত বাংলায় প্রকাশ করা হলো। সাক্ষাৎকারটির শ্রুতিলিখন করেছেন গল্পকার অলাত এহসান। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

রহমতের স্বাধীনতা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৫ december ২০১৬ ১:৪৫ অপরাহ্ন

moni.jpgতখনো ওঠেনি লাল সূর্য।
ডিমের লালির মতো টলটলে লাল।
তরমুজ-ফালির মতো তরতাজা লাল।

কুয়াশায় জমে আছে পানের বরজ।
শিশিরের ফোটা জমে আছে সেগুন পাতায়।
বানর-বানরী গায়ে গা লাগিয়ে গতরে গরম জমায়।
বনমোরগ ঘাড় বাঁকিয়ে বনমুরগীর দিকে তাকায়।
চূড়া ছেড়ে তরতর ছুটে চলে পাহাড়ি ঝর্নাধারা।
রাতজাগা পাখি হঠাৎ ডানা ঝাপটায়।

তরঙ্গিত মুরুংবালার আদলে গতর বাগিয়ে
পুবদিগন্ত আড়াল করে শুয়ে আছে
হাজার-এক রজনীর সাক্ষী লুসাই পাহাড়।
না, কোটি বছরেও বাঁকা হয়নি তার ঘাড়।

তবে ঈষৎ বাঁকা হয়ে গেছে রহমতের শরীর।
এখনো তিনকুড়ি হয়নি তার বয়স।
কিন্তু দুনিয়াটা যেন দেখছে হাজারকুড়ি বছর ধরে।
দেখতে দেখতে তার পেটানো শরীরেও নামছে ধস। (সম্পূর্ণ…)

ফতেবেওয়ার একসঙ্গে সাতটি সন্তান প্রসবের ঘটনা সম্পর্কে মন্ত্রণালয় অবগত নন

আফসান চৌধুরী | ১৪ december ২০১৬ ৫:৫২ অপরাহ্ন

ফতেবেওয়া নামক বিধবা মহিলা যিনি রামপুর মাজারের বাসিন্দা বলে কথিত তিনি যুদ্ধের পর পরই এক সঙ্গে সাতটি সন্তান প্রবস করেছে বলে গণমাধ্যমে যেসব তথ্য এসেছে সে সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কিছু জানে না। তাদের নথিতেও কোনো উল্লেখ নেই। তবে ওই এলাকায় পাক আর্মি যখন গিয়েছিল, তারা গণহত্যা ও নির্যাতন চালায়। কেউ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুবিধা পেতে হলে সবাইকে সনদ ও প্রমাণাদিসহ আবেদন করতে হবে।

১.ফতেবেওয়া
যতদিন সবার স্মরণে আছে তিনি এই দরগাতেই আছেন। প্রয়োজনে মানুষ তার কাছে যায় বিভিন্ন রকম সাহায্যের জন্য। পাকিস্তান আর্মি এলাকায় পৌঁছে কিছুদিন থাকার পর মেয়েদেরকে তাদের কাছে পাঠাতে বলে। গ্রামের দরিদ্র কুমার সম্প্রদায়ের ওপর এই চাপটা পড়ে বেশি। তারা দুই বোন মিলি আর কলিকে পাকিস্তান আর্মির হাতে তুলে দিতে রাজি হয়। শান্তি কমিটি তাদের বলে, এর বদলে অন্য কোনো মেয়েকে আর উঠিয়ে নেওয়া হবে না। হাফিজ রাজাকারের সঙ্গে ওরা দুই বোন চলে যায়। ফেরত আসার মাস খানেক পরে ওদের পেটে বাচ্চা আসে।

সম্প্রদায়ের মানুষের টিটকারী-গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে মিলি গাছে ঝুলে কষ্ট থেকে পালায়। এরপর ওর বাবা উপায় না দেখে হাফিজ রাজাকারকে দিয়ে কলিকে ফতেবেওয়ার কাছে পাঠায়। রাত্রে আহারের পর ফতেবেওয়া মেয়েটাকে নিয়ে শুতে যায়। তারপর মেয়েটির কোমড়ে দড়ি বাধে। দড়ির অন্য অংশটি বাধে নিজের পেটে। তারপর দু’জনে ঘুমিয়ে যায়। ভোরের দিকে পেটের বাচ্চাটা কলির পেট ছেড়ে দড়ি বেয়ে ফতেবেওয়ার পেটে আশ্রয় নেয়।

২. মাজার
মাজারের ছাঁদে আর দেয়ালে রাতে একদল জোনাক পোকা নামে। জোনাকির আলোয় সব কিছু উদ্ভাসিত হয়। খাদেম সাহেব ওদের জন্য জলের মধ্যে মিশ্রি মিশিয়ে রেখে দেন। যাতে জোনাক পোকারা আকাশে উড়ে যাবার আগে ওই পানি খেয়ে তৃষ্ণা মেটাতে পারে। (সম্পূর্ণ…)

‘সমুদ্রের ফেনা’: মুমূর্ষু জীবন থেকে উত্থিত অভিজ্ঞতা

আশরাফ জুয়েল | ১৩ december ২০১৬ ১২:০৫ অপরাহ্ন

images1“তরল শাদায়, পাল ছেঁড়া, ভাঙ্গা, নাবিকহীন নিমজ্জিত নৌকার মতো অথৈ বিনাশে যেন ডুবে যাচ্ছে সে, এমন মনে হলো আমিনার। ওপাশে, জ্যোৎস্নার ঠাণ্ডায় দেহ ভিজিয়ে তার ভাই তার ছোটবোন; তারা জানছে না আমিনা এ্যাখোন দুই ভাগ হয়ে যাচ্ছে- ” (সমুদ্রের ফেনা, আবুল হাসান)

এক বিচিত্রকর্মা লেখক আবুল হাসান, তার লেখক জীবনের বয়স কত তা নির্ণয় করার দায়িত্ব পাঠকের, কিন্তু শরীরী আবুল হাসান বেঁচে ছিলেন মাত্র আটাশ বছর। এই অল্প সময়েই অনেক পাঠকপ্রিয় কবিতার জন্ম দিয়ে বাংলা সাহিত্যাকাশে এক উচ্চ আসনে সমাসীন কবি আবুল হাসান। একজন লেখকের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা কি? পাঠককে চূড়ান্ত সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করানো, নির্মম বাস্তবতার ভেতর প্রবেশ করিয়ে দিয়ে বহমান ঘটনার সঙ্গে হাঁটতে বাধ্য করা। নির্দ্বিধায়, ভাবনার বাউল কবি আবুল হাসান- ছেনি, বাটালি, করাতের সাহায্যে, সুদক্ষ কারিগরের মতোই তাঁর কবিতার মাধ্যমে এই কাজটি করে দেখিয়েছেন । কিন্তু গল্পে? পাঠক কতটা পরিচিতি তাঁর গল্পের সাথে?
‘সমুদ্রের ফেনা’ গল্পটির ভেতরের গল্প কি? ছোট গল্পে কিসের পরিস্ফুটন ঘটে- চরিত্রের নাকি জীবনসত্যের? ছোট গল্পে চরিত্র কখনোই প্রাধান্য পেতে পারে না, বা পাওয়া উচিৎ নয়। সমুদ্রের ফেনা গল্পটিতে আবুল হাসান মানবমনের নিগূঢ় চৈতন্যকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন শব্দের কারুশিল্পের মাধ্যমে, ভাবনার বিশালত্বে। ‘সমুদ্রের ফেনা’ কখনও কোন পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিলো কিনা জানা নেই- তবে এটি গ্রন্থভুক্ত হয়েছে আবুল হাসান রচনা সমগ্র নামক গ্রন্থে, যেটি প্রকাশ করেছে বিদ্যা প্রকাশ। (সম্পূর্ণ…)

আমি আমার বাবার দিকে তাকিয়ে আছি

কিযী তাহনিন | ১২ december ২০১৬ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

Kizi-1বাইশ নাকি তেইশ? চব্বিশ তো নয়, একদমই নয়। না না, বাইশ, মনে পড়েছে। ১৯৭১, বাইশে জুলাই। মনে মনে উচ্চারণ করলো সে। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে সব কিছু ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। সে কিছু ভুলেনি। দিনক্ষণে একটু গোলমাল হচ্ছে খালি। তা সে এখন মারা যাবে বলে নয়, সবসময়ই হয়। নিজের মৃত্যুর দিন’টি সবাই কি জেনে যায়? যারা গাড়ি চাপা পরে? কিংবা ঘুমের মাঝে? বাহ্, সে ভাগ্যবান। সে জেনে গেছে, দিনটির কথা, সময়টা জানতে পারলে ভালো হতো। প্রায় চার ঘন্টা তো হয়ে এলো। অপেক্ষা শেষ হবার অপেক্ষা চলছে। সে তাকিয়ে আছে সামনে।

তখন ও তাকিয়ে ছিল সামনে, স্টিমারের সেলুনে বসে। স্টিমার থামে। সে বসে আছে তার পরিচিতজনদের সাথে। একই এলাকায় বাস, একসাথে ইউনিভার্সিটি’তে পড়ে। এমন সময়গুলোতে, পাশে বসে থাকা মানুষগুলোই পরিচিত মানুষ হয়ে ওঠে। বনরুটি কামড় দিয়েছিলো কি মাত্র? হ্যাঁ দিয়েছিলো এক কামড়। তারপরেই শব্দ, ভারী জুতোর মাটিতে আঘাতের শব্দ।

অকস্মাৎ ব্যাথা অনুভব করলো, উফফ, চুলে পেছন থেকে মুঠো করে টান দিয়ে ধরেছে কেউ। কয়েক মুহূর্ত। বোঝা হয়ে গিয়েছিল পেছনে কারা দাঁড়িয়ে। তাদের চেহারা না চিনলেও দেখতে কেমন হয় তা জানে। ওরা দেখতে সবাই একইরকম। বা আমরা ভেবে নেই যে তারা সবাই দেখতে একই রকম। কারণ তারা আমাদের মতন নয়, অন্যরকম। (সম্পূর্ণ…)

আমাদের বব ডিলান

আনিসুর রহমান | ১১ december ২০১৬ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

Dylanবব ডিলান মার্কিন মুল্লুকের একজন জনপ্রিয় গায়ক। যার খ্যাতি দুনিয়া জুড়ে। যিনি আমাদের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ১৯৭১ সালে সমর্থন জুগিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে কনসার্টে অংশ নিয়ে গান গেয়েছেন। এতটুকু আমি জানতাম। কিন্তু এতোটা তলিয়ে দেখিনি তাঁর কণ্ঠের গানগুলো কবিতা হিসেবে কেমন। কিংবা তিনি কি আদতে কবি? নাকি শুধুই গায়ক? এই প্রশ্নগুলোও মাথায় কোনোদিন আসেনি।
নোবেল পুরস্কার পাবার আগে তার গানও যে খুব বেশি শুনেছি তা নয়, এমনিতেই আমার জীবনটা নুন আনতে পানতা ফুরানোর মতো। আর্থিক টান তো থাকেই, তারপর সময়ের টানও কেমন যেন। আমাদের বাংলার এতো এতো গান, সেইসব গান শোনার সময় হয়ে ওঠে না। তারপর আবার আলাদা আয়োজন করে ইংরেজি গান শুনবো, তা সে বব ডিলানই হোক যেই হোক।
অন্যদিকে ইংরেজি ভাষা সাহিত্যের ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও ইংরেজির প্রতি কেন যেন একটােঔপনিবেশিক বিতৃষ্ণাও কাজ করছিল। বিশেষ করে ঢাকা শহরকেন্দ্রিক ধনী লোকদের নাক সিটকানো ভাব এবং ইংরেজিপ্রীতি দেখে। সে যাকগে, সে আমারই সীমাবদ্ধতা। তাই বলে বব ডিলানকেও উপক্ষো করব? জর্জ হ্যারিসন? (সম্পূর্ণ…)

শাপলা সপর্যিতার ৮টি কবিতা

শাপলা সপর্যিতা | ১০ december ২০১৬ ১:০৯ অপরাহ্ন

বিলাসী আঁধারে তার মুখ

mainorরাজেশ্বরীর পেছনে। গোপনে। জোছনা ছড়িয়ে দাঁড়ায়
এক অতলান্ত ছায়া – সে ফুল সে মৌমাছি কি মাধুরী কিংবা
অধরা মানুষ, আর তখনই আমার বিলাসী অন্ধকার
ক্রমপ্রসারিত হয়। আঁধারে মানুষ খুঁজি। আঁধারে জনপদ
রাজপথ কবি লেখক সংসারী অথবা সংসারবিরাগী খুঁজি
নিঃস্বহায় জোৎস্নাও খুঁজে চলি অবিরাম। নক্ষত্র থেকে
খুলে নেই এক একটি আলোর কণা। গড়ে তুলি নতুন।
আরও এক মানবী মুখোশ। আঁধার গর্ভে জন্মেছিল যে
প্রদোষে অসাঢ় অপরাহ্নে কেন সে জন্ম নেয় আবার?
গভীর নিশীথের মতো চোখ যার। গালে সোনাপাখি রোদেলা টোল।
অন্ধকারে ঢালে কেবলই অধরা করুণ কিরণ। আহা অধরা আমার-
তখন প্রহেলিকা অবলুপ্ত – বেহাগে বিরহ বাজে।
মানবী সরে সরে যায় দূরে। প্রেমিকের মাধুরীতে মুছে যায়
জলছবি শব্দ বৃথা বাক্য মিছে স্বপ্ন মরিচীকা ঘাত-প্রত্যাঘাত।
প্রতারণাবিহীন এক অদ্ভুত অন্ধকার – আমারে জড়িয়ে রাখে
নিবিড় নৈকট্যে অসীমে। দৃপ্ত পদভারে মুখর করে তোলে
গ্রাম লালমাই-এর ঘনচূড়া বর্ষার অবসান –
আহা কী দারুণ নিগুঢ় নৈঃশব্দ আমার
সামনে থেকে চলে যায় দূরে – আর ক্লান্তিরা শেষ হলে
পেছনে পড়ে থাকে এক বটচ্ছায়া। (সম্পূর্ণ…)

ভার্জিনিয়া উলফের ছোটগল্প: অভিশপ্ত বাড়ি

রেশমী নন্দী | ৮ december ২০১৬ ৬:০৫ অপরাহ্ন

এ্যাডেলাইন ভার্জিনিয়া উলফ, যাকে বিশ্ব চেনে ভার্জিনিয়া উলফ নামে, ঊনিশ শতকের অন্যতম নারীবাদী সাহিত্যিক। জন্ম ১৮৪২ সালে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়কালে তিনি ছিলেন লন্ডন লিটারেসি সোসাইটি-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ১৯২৯ সালে প্রকাশিত ভার্জিনিয়া উলফের “A room of one’s own” নারীবাদী আলোচনায় অসাধারণ এক সংযোজন। ১৯২১ সালে তাঁর ছোট গল্পের সংকলন ” Monday Or Tuesday” প্রকাশিত হয়। এ সংকলনেরই একটি গল্প “A haunted house” এর ভাবানুবাদ “অভিশপ্ত বাড়ি”। অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী। বি.স

Varginiaরাতের যে সময়টাতেই ঘুম ভাঙুক না কেন, দেখতে পাবো, কোন একটা দরজা বন্ধ হচ্ছে। অশরীরী এক যুগল যেন এ ঘর থেকে ও ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, হাতে হাত রেখে। এটা তুলছে, ওটা খুলছে-যেন কিছু একটা খুঁজছে।
“এখানেই রেখে গিয়েছিলাম” অন্যজন যোগ করে, “হুম, এখানেও”। নারী কন্ঠ ফিসফিস করে উঠে, “উপরেও আছে”। পুরুষ কন্ঠ যোগ করে, “বাগানেও”। “আস্তে, সবাই জেগে যাবে।” কিন্তু তোমরা আমায় জাগাওনি।
বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে কেউ একজন বললো,” ওই যে পর্দা টেনে দিয়ে ওরা খুঁজছে কিছু একটা।” লিখতে লিখতে কলম থামিয়ে কেউ হয়তো বললো, “ওরা কিছু খুঁজে পেয়েছে।” অথচ উঠে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকালেই দেখে, সারা বাড়ি খালি পড়ে আছে, দরজাটা হাট করে খোলা। কেবল শোনা যাচ্ছে বনকপোতের বকবকম আর কারখানা থেকে ভেসে আসা যন্ত্রের শব্দ।
“আমি কেন এখানে এসেছিলাম? কি খুঁজতে? আমার হাত তো খালিই ছিল।”
“হয়তো ওটা উপরে?” আপেলগুলো জমানো আছে, বাগানেও কোন বদলের ছাপ নেই, কেবল ঘাসের উপর একটা বই পড়ে আছে। (সম্পূর্ণ…)

আহারে, চলে গেলো মন খারাপের গাড়ি

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ৭ december ২০১৬ ৭:৪৪ অপরাহ্ন

ক.
আমি ভালোবেসে তাকে শাকিল না বলে, শালিক পাখি বলতাম। সে বলতো, ‘আপনি তো রবীন্দ্রনাথের প্রবাস-পাখি। দুলাল ভাই, দেশে ফিরে আসুন। আপনাকে আমাদের দরকার!’

বলতাম, কানাডায় না এলে কি খুনি নূরকে নিয়ে বই লিখতে পারতাম?

তখন জবাবে সে বলতো, তা ঠিক। আর আপনি জাতির পিতাকে নিয়ে একের পর এক যে কাজ করে যাচ্ছেন, আমরা আপনার কাছে কৃতজ্ঞ!
মাহবুবুল হক শাকিল, তোমার কাছেও আমরা কৃতজ্ঞ! তুমি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার রূপকার ভ্যাঙ্গুভারের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম এবং কবি শহীদ কাদরী মারা যাবার পর যে ভূমিকা নিয়েছ, তা কোনো দিন ভুলবার নয়।

Dulalরফিক ভাই চলে যাবার পর তোমার কাছে যে সহযোগিতা পেয়েছি তা আজ আবারও মনে পড়ছে। তুমি প্রধানমন্ত্রীর শোকবাণী, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করেছ। এবং তারচেয়েও বেশি শহীদ ভাইয়ের মৃত্যুর পর তুমি যে কত বার কাঁদতে কাঁদতে ফোন করে অস্থির করেছো। বলেছো- দুলাল ভাই, যে ভাবেই হোক শহীদ কাদরীকে দেশের মাটিতে ঘুমানোর ব্যবস্থা করেন। তুমি সারারাত জেগে ঢাকা-টরন্টো-নিউ ইয়র্ক ক্রমাগত ফোনের পর ফোন করে যাচ্ছিলে! এবং ৩৩ বছর বিদেশে থাকার একজন কবিকে দেশে নিয়ে যে সন্মান এবং মর্যাদা দিয়েছো, তা ভাবলে গর্বে বুক ভরে যায়। (সম্পূর্ণ…)

মণিকা চক্রবর্তীর গল্প: দেহোত্তর

মণিকা চক্রবর্তী | ৬ december ২০১৬ ২:০১ অপরাহ্ন

Image-1বাসটা চলতে চলতে হঠাৎ ব্রেক করে। গতি কমিয়ে দেবার পর বরকত টের পেল সে এতক্ষণ চলতি বাসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ঘুমাচ্ছিল। তার শরীর দিয়ে তখন দরদরিয়ে উপচে পড়ছে ঘাম। সামনের লোকটিকে সে যেমন করে জাপটে ধরে রেখেছিল ভেতরের দিকে চেপে, তেমনি পেছনের লোকটিও তাকে চেপে ধরাতে তার দমবন্ধভাব লাগছে। আর এই দমবন্ধভাবটি সে সবেমাত্র টের পেল বাসটি ব্রেক কষার পর। এ অবস্থায় এতক্ষণ ঘুমাচ্ছিল কী করে সে ভেবে দেখতে লাগল। বাইরের ঝাঁ ঝাঁ রাক্ষুসে রোদ যেন সবাইকে গিলে খাবে। খবরে বলেছিল আজকের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি। বৃষ্টি হবার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। এত গরমের মধ্যেও বাসের সিটে অগণিত মাথাগুলো ঢুলছে আর ক্লান্তিতে ঝিমুচ্ছে। ভেতরে ভেতরে সবাই বিধ্বস্ত আর গুমরাচ্ছে চাপা ক্রোধে। গরমের দায় কারও উপর ছাড়া যাচ্ছে না। সবার চোখমুখগুলোতে নির্মম রোদের মতোই একটা বিদ্বেষভাব প্রখর হয়ে আছে। তীব্র গরম এই বাসের ভিতর ছড়িয়ে দিয়েছে অদৃশ্য বিষাদ, মানুষগুলো কোনো কথাও বলছে না। শুধুমাত্র বাসের হেলপারটির ডাইনে-ডাইনে, প্লাস্টিক-প্লাস্টিক, বাঁয়ে লন―এসব চিৎকার ভেতরের গুমোট নীরবতাকে কিছুটা ছুঁয়ে যাচ্ছে। রাস্তার দিকে তাকিয়ে বরকতের মনে হল, রাস্তার কালো আলকাতরাগুলো যেন রোদের আগুনে গলছে। আর সাথে সাথে আরও টের পেল তার মাথাটা প্রচণ্ড ক্লান্তিতে পাথরের মতো ভারী । (সম্পূর্ণ…)

ফিদেল আমার বাবা

আনিসুর রহমান | ৫ december ২০১৬ ৯:১৮ অপরাহ্ন

Fidelপরার দিনে মরার ক্ষণে বসুন্ধরার কোলে কত বেড়াল বাঘের খেতাব পেলে
আসল বীর নামধাম না ফাঁটিয়ে হিমালয় বুকে আগলে নিলে! কত মহান
ফলকে ফলকে নিয়ন বাতির ঝলকে ঝলকে, জোর যার মুল্লুক তার করে
দখলে নিলো জমিনের মাঠ ঘাট, নগরের অলিগলি, চোখের পলকে পলকে!

আমি কার কথা বলছি এমন করে বুকে মুখে হিমালয় টেনে আনছি,
মানুষের জমিন ও জীবনকে দেখেন তিনি নিজের আয়ুর সমান করে,
আমি আমার আত্মার সাথে কথা বলে দেখেছি, সূর্যাস্তের দিকে,
অন্তরঙ্গ চোখে, তাকিয়ে থেকেছি, দিকে দিকে তারপর ঘুমের পথে
অগ্রসর হয়েছি, সূর্যোদয় পর্যন্ত ঘুমিয়ে থেকে রাত পার করেছি!
ঝড় তোলপাড় করা দিনে এবং রাতে, আমি আমার আত্মাকে
জিজ্ঞেস করে দেখেছি, এতো করে তাঁর কথা কেন মনে পড়ে?
কোন কাজে হৃদয়ে কিসের ব্যাথা বড় বেশি বাজে, এই সাঁঝে?

বাবার হাত ধরে পথ হাঁটার বয়সে, স্মৃতি মনে করে ভেবেছি, জগতে
কার ভুলে বারবার দানবের মুখে পড়েছি, তারপর নিজের অস্তিত্বের
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, শতাব্দী পেরিয়ে, আজকের ধরার এই দিনে,
দুই হাজার ষোল সনে ছাব্বিশে নভেম্বরে সৌরসত্য টের পেয়েছি! (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com