বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: ওবামা চিত্র ও সংকটে বিস্ময়ে “Surreal”

রেশমী নন্দী | ৩০ december ২০১৬ ৯:৪০ অপরাহ্ন

Obamaঅনেকের অনেক হিসেবনিকেশ উল্টাপাল্টা করে দিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়ে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওবামা প্রশাসনের বিদায়ের দিনও খুব কাছেই, ২১ জানুয়ারী ২০১৭। এরই মধ্যেই হয়তো তৈরি হয়ে গেছে তাঁর বিদায় ভাষণও। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কের শিল্পী রব প্রুইটের কাজও প্রায় শেষের দিকে। ২০০৯ সালে বারাক ওবামা ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তাঁর দিনযাপনের নানা মুহূর্ত এঁকেছেন মার্কিন এই পপ আর্টিস্ট। দুই মেয়াদে আট বছর শাসনামলে বারাক ওবামার দিনযাপনের মুহূর্তগুলো প্রায় ৩ হাজার লাল নীল রঙের আলোকাভরণে ধরে রাখছেন এই শিল্পী। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত এসব ছবির সংকলন একদিকে যেমন প্রেসিডেন্ট ওবামার আনন্দময় স্মরণ, অন্যদিকে অসাধারণ এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি ভালবাসার প্রকাশও। নানা পরিবেশে নানা ভঙ্গি ফুটে আছে এসব ছবিগুলোয়- কোথাও বক্তৃতা দিচ্ছেন, কোথাও কাজে ব্যস্ত তিনি, রয়েছে গলফ খেলার মুহূর্ত, সন্তানের সাথে সময় কাটানোর দৃশ্য, স্ত্রীর সাথে নাচের মুহূর্ত। এর মধ্যে অনেক ছবিই উপস্থাপিত হয়েছিল ডেট্রোয়টে “Museum of Contemporary Art”-এ। তবে প্রুইট বলছেন, কোন বিশেষ মুহূর্তকে মূর্ত করে তুলতে নয়, বরং সময় কিংবা সূত্র বিবেচনায় না এনে সামগ্রিকভাবে একজন মানুষের নানা অভিব্যক্তিই তুলে আনতে চেয়েছেন তিনি। “আমি চাই প্রত্যেকটি দিন এমন কিছু একটা ফুটিয়ে তুলুক যার ফলে ছবিগুলো দেখলেই এর মাধ্যমে আমরা যে জগতকে চিনি কিংবা চিনি না তা জানান দেবে।” (সম্পূর্ণ…)

মিনার মনসুরের ‘নির্বাচিত কবিতা’: বাংলা কবিতা তাকে স্বাগত জানাবে

শামস আরেফিন | ৩০ december ২০১৬ ৯:০১ অপরাহ্ন

border=0কবিতার জগতে তিনযুগের দীর্ঘ ভ্রমণের পর প্রকাশিত হলো কবি মিনার মনসুর এর নির্বাচিত কবিতা বইটি। তার চেয়েও স্বস্তিকর সংবাদটি হলো কবিতার এ দুঃসময়ে প্রকাশের ছয়মাসের মধ্যে বইটির প্রথম মুদ্রণ শেষ হয়ে গেছে। এ পাঠকপ্রিয়তাও এ সময়ের নিভৃতচারী একজন কবির জন্যে কম গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার নয়। প্রত্যেক কবিরই থাকে স্বকীয় কাব্যভাষা। এ কাব্যভাষাই কবিকে অকবি থেকে আলাদা করে। আর তার একটা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় যে-কোনো কবির নির্বাচিত কবিতা বা শ্রেষ্ঠ কবিতার সংকলনে। এখানে এক মলাটে পাঠক বুঝে নিতে পারেন একজন কবি কীভাবে নিজেকে ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে স্বকীয় কাব্যভাষা নির্মাণ করেন। সমাজ সংস্কৃতি, জীবনবোধ, আত্মবিশ্বাস ও কাব্যদর্শন–কাব্যভাষা বিনির্মাণে রাখে প্রধানতম ভূমিকা। তার পর কবিতার শরীর নির্মাণে রূপক, উপমা, অলংকার, চিত্রকল্প, শব্দ ও শব্দ-সংস্থান ইত্যাদির উপর নির্ভর করে দাঁড়ায় কাব্যভাষা। সেই স্বকীয়তা অর্জনের গুণেই যেমন ত্রিশের কবিদের মাঝে জীবনানন্দ দাশ উজ্জ্বলতম হয়ে আছেন, তেমনি স্বকীয়তার তীব্র দ্যুতি না থাকার কারণেই অবশিষ্ট চতুর্থ পাণ্ডব তুলনামূলকভাবে অনেকটা নিষ্প্রভ। মিনার মনসুর-এর কবিতা শুধু বন্ধু রুদ্রনির্ভর রাজপথ শাসন করে না, তাঁর কবিতা আবিদ আজাদের অতি কোমল সুরের মোহনায় বিমূর্ত চেতনার সমুদ্রে আমাদের ভাসিয়ে দেয়। তিনি এই দুই-এর মাঝামাঝি সমান্তরাল রাস্তা। অলংকার ব্যবহারে সার্বজনীন হয়েও, নিজস্ব ভাষা সৃষ্টি করে তিনি গড়ে তুলেছেন স্বকীয় সত্তা। তাই একবাক্যে বলতে হয় মিনার মনসুরের কবিতা না প্রেম না দ্রোহ। বরং প্রেম ও দ্রোহের সমন্বয়ে দেশীয় ঐতিহ্যনির্ভর শুধু মাত্র বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বশীল কবিতা, যার বাস্তব প্রতিবিম্ব পাই নির্বাচিত কবিতা গ্রন্থে। (সম্পূর্ণ…)

গার্সিয়া মার্কেসের প্রবন্ধ: এন্থনি কুইনের বোকামি

রাজু আলাউদ্দিন | ৩০ december ২০১৬ ১:১৯ পূর্বাহ্ন

Comboঅগ্রন্থিত অবস্থায় গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের প্রচুর লেখা এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। এটি সেগুলোরই একটি। লেখাটির এখনও কোনও ইংরেজি অনুবাদ হয়নি। বাংলা ভাষাতেও সম্ভবত এই প্রথম অনূদিত হল। অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন লেখাটি উদ্ধার করেছেন মেক্সিকো থেকে প্রকাশিত বিখ্যাত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘এল প্রোসেসো’র ১৯৮২ সালের ১৯ এপ্রিল সংখ্যাটি থেকে। স্প্যানিশ থেকে লেখাটির পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ এখানে হাজির করা হল। প্রবাদপ্রতিম উপন্যাস শতবর্ষের নিঃসঙ্গতার চলচ্চিত্রায়নের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল, মার্কেস এই লেখায় তারই বর্ণনা দিয়েছেন।

অভিনেতা এন্থনি কুইন স্পেনের এক পত্রিকায় জানালেন, “টেলিভিশনে ৫০ ঘন্টার এক সিরিয়ালের জন্য শতবর্ষের নিঃসঙ্গতা হতে পারে একটি চমৎকার জিনিস। কিন্তু গাসিয়া মার্কেস তা বিক্রি করতে চান না।” আরও বললেন, “আমি এক মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, রাজি হননি, কারণ গার্সিয়া মার্কেস কমিউনিস্ট এবং তিনি এক মিলিয়ন ডলার নিয়েছেন–এটা কাউকে জানতে দিতে চান না। কারণ নৈশভোজের শেষে তিনি এসে আমাকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে বললেন, “আচ্ছা বলুন তো, প্রকাশ্যে এই টাকা-পয়সা প্রস্তাব করার ব্যাপারটা আপনার মাথায় এল কী করে? পরেরবার আমাকে আপনি কোনও রকম সাক্ষী-সাবুদ ছাড়া টাকার প্রস্তাব করুন।” (সম্পূর্ণ…)

পাণিহাটি-সোদপুরের রোকেয়ার কবর, রোকেয়া দিবস ও অন্যান্য

পূরবী বসু | ২৮ december ২০১৬ ১১:৪৬ অপরাহ্ন

Rokeyaযতই কেন না আমরা শ্রদ্ধায় অবনত এই মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার প্রতি, তাঁর জীবন ও বহুবিধ কর্ম সম্পর্কে বহু ভুল তথ্য আজো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সর্বত্র যার সংশোধন একান্ত জরুরী। জরুরী তাঁর জীবনের এবং সংগ্রামের কিছু কিছু অজানা তথ্য জানার প্রচেষ্টা। আমরা যেন বিশেষ মনোযোগ দিয়ে আবার ফিরে দেখি তাঁকে। নবতর পর্যায়ে যাচাই করি নারীর স্বাবলম্বিতার জন্যে তাঁর ভাবনা, অবদান; তাঁর পারিপার্শ্বকতা; দেখি তাঁর একান্ত নিরুপায় হয়ে বৃহত্তর স্বার্থে কখনো কখনো বাহ্যিক আচার-আচরণে সমঝোতা করার প্রয়াস।
এই সব প্রচেষ্টার সঙ্গে আমাদের আরেকটু বেশি সতর্ক হতে হবে তাঁর সঠিক মূল্যায়ণে এবং তাঁর বিষয়ে নির্ভুল তথ্য পরিবেশনে। নিচের প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে গবেষণা নিবন্ধে আজো প্রচুর ভুল তথ্য সংযোজিত রয়েছে বেগম রোকেয়ার বিষয়ে। পরিহাসের মতো শোনালেও সত্য, যে প্রতিবেদক এইসব তথ্যগত ভুলের কথা লিখেছেন তাঁর প্রতিবেদনের শিরোনামেই রয়েছে মস্ত বড় এক ভুল। “রোকেয়ার জীবনী” লিখতে তিনি “রোকেয়ার আত্মজীবনী” লিখে ফেলেছেন যা পড়ে মনে হতেই পারে যে নিজের জীবনের তথ্য-ই বুঝি সঠিক দেননি রোকেয়া। (রংপুর, নিজস্ব প্রতিবেদক,পাঠ্যপুস্তকে ভুলে ভরা রোকেয়ার আত্মজীবনী jagonews24.com ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬)।
কিন্তু কার্যত অবরোধপ্রথা নিয়ে তাঁর রচনা এবং অতি গোপনে ও একান্ত নিভৃতে বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শিখতে গিয়ে তাঁর যে প্রবল বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁর বর্ণনা কিংবা নিজের প্রতিষ্ঠিত মেয়েদের বিদ্যালয় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল চালাতে গিয়ে যে বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত হতে হয়েছে তাঁকে সেসব কথা বিভিন্ন প্রবন্ধ ও গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করলেও যতদূর জানি, বিশদভাবে আত্মজীবনী লিখে যাননি রোকেয়া। ফলে এখানে নিশ্চয় বেগম রোকেয়ার স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলালের বরাদ দিয়ে জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক রোকেয়ার জীবনী লিখতে গিয়ে খ্যাতিমান লেখকদের ভুল তথ্য পরিবেশনার প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন। মানে, ভুলে ভরা “রোকেয়ার জীবনী”র প্রসঙ্গ এনেছেন। “রোকেয়ার আত্মজীবনী” নয়। আমাদের দেশের অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ও জনপ্রিয় লেখক/গবেষকগণ রোকেয়ার জীবনী লিখতে গিয়ে কতো ভুল তথ্য পরিবেশন করেছেন, এটাই ছিল বক্তব্য। এইসব গ্রন্থে রোকেয়ার বসতবাড়ির জমির পরিমান একশ গুণ হেরফেরে উল্লেখ করা থেকে শুরু করে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সন তারিখ সঠিকভাবে উদ্ধৃত হয়নি। সঠিক হয়নি কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানুষের নাম ও পারিবারিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে দেয়া তথ্য। রোকেয়ার ছোটবোন হোমায়রা খাতুনের স্বামী বলে নজরুল-গবেষক আমীর হোসেন চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হোমায়রার স্বামীর নাম তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী। আমীর হোসেন চৌধুরী হলেন হোমায়রা ও তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর পুত্র যিনি ১৯৬৪তে ঢাকায় হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা বাঁধলে দাঙ্গা প্রতিরোধ মিছিল ও আনুষঙ্গিক কর্মকান্ডে যোগ দিতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। আমীর হোসেন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁর জীবনীর ওপর বাংলা একডেমী থেকে একখানা গ্রন্থ প্রকাশিত হয় (আমিনুর রহমান সুলতান, দাঙ্গায় শহীদ আমির হোসেন চৌধুরী, বাংলা একাডেনি, জুন ২০১৩)। এক বছর আগে সেই বইখানি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে লেখক শামসুজ্জামান আমীন হোসেন চৌধুরীর আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন (শামসুজ্জামান, চৌষষ্টির নায়কের জীবনী, সাম্প্রতিক দেশকাল, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৫)। আমীর হোসেন চৌধুরী শৈশবে পিতাকে হারিয়ে মা হোমায়রা খাতুনসহ কলকাতায় চলে যান। আর এদিকে স্বামীর মৃত্যুর পর সৎ মেয়ে ও শ্বশুর বাড়ির অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের অসহযোগিতায় রোকেয়াও তাঁর শ্বশুরবাড়ি ভাগলপুরে নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত মেয়েদের স্কুল তুলে দিয়ে কলকাতায় চলে আসেন এবং সেখানে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্থাপনের কাজ শুরু করেন। কলকাতা আসার পর, অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে বেগম রোকেয়া, হোমায়রা খাতুন ও তাঁর পুত্র আমীর হোসেন চৌধুরী এক-ই বাড়িতে বাস করতেন। আমীর হোসেন চৌধুরী, যিনি সন্তান-বুভুক্ষু বেগম রোকেয়ার পুত্রবৎ ছিলেন, কলকাতা থেকেই বি এ পাশ করেন, কিন্তু দেশভাগের পর ঢাকায় চলে আসেন। আর সেখানেই দাঙ্গা প্রতি্রোধ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ( শফি আহমেদ ও আমার যৌথ সম্পাদনায় বাংলাদেশের খবরের কাগজে বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার পরবর্তি দাঙ্গার প্রতিফলন নিয়ে যে বিশাল আকারের বই এখনো গেল না আঁধার প্রকাশ করি ফেব্রুয়ারী ১৯৯৩তে, সেটা আমীর হোসেন চৌধুরীকে উৎসর্গ করেছিলাম আমরা, হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা থামাতে গিয়ে যিনি আত্মদান করেন।)। (সম্পূর্ণ…)

আমি জন্মগ্রহণ করিনি

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৭ december ২০১৬ ১২:৪৫ অপরাহ্ন

Hoqচিরজীবনে প্রবেশের পর প্রথমবারের মতো তাঁর জন্মদিন পালনের মুহূর্তে আমি যখন সৈয়দ শামসুল হকের কবিতাসমগ্র ১-এর পাতা উল্টাতে থাকি অনেকটা অন্যমনে, তখনি চোখ আটকে যায় বর্তমান রচনার শিরোনামটির প্রতি। এটি আসলে তাঁর রচিত জন্মদিন বিষয়ক অনেক কবিতার একটি। কবিতাটি তিনি লিখেছিলেন ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৯ তারিখে, বগুড়ায় বসে। অর্থাৎ তাঁর সেবারের জন্মদিনের ১৬ দিন পূর্বে। অন্যরকম অভিব্যক্তির এক প্রতিচিত্রী বা দ্বান্দ্বিক বা সাংঘর্ষিক ভাষ্য এটি। প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠার এই কবিতাটিতে অসম দৈর্ঘের ১৪৫টি পঙক্তি ও ৯টি আন্ত:সম্পর্কিত স্তবক আছে। আমি প্রথমবার দ্রুত চোখ বুলাতে গিয়েই আটকে যাই, এবং বুঝতে পারি, খুব সহজে পাঠোদ্ধার করার মতো রচনা এটি নয়। নিজের জন্ম-সংক্রান্ত কিছু অকপট স্বীকারোক্তির মাধ্যমে প্রান্তমুক্ত পদ্ধতিতে রচিত এই কাব্যবয়ানে তিনি তাঁর ব্যক্তিজন্মের প্রসঙ্গ টেনে স্বসমাজ ও পরিপার্শ্বকে এমন এক অন্তর্বয়িত আখ্যানে পরিণত করেছেন, যার দৃষ্টান্ত সমকালীন বাংলা কবিতায় আগে পেয়েছি মনে পড়ে না। প্রথম পঙক্তিতেই তিনি তিনবার উচ্চারণ করছেন শিরোনাম-বাক্যটি : “আমি জন্মগ্রহণ করিনি, আমি জন্মগ্রহণ করিনি, আমি জন্মগ্রহণ করিনি।” যেন কোনো পার্লামেন্টের মাননীয় মহা-সম্ভাষক একটি মীমাংসিত সিদ্ধান্তের সত্যোচ্চারণ করছেন নির্বিকার চিত্তে। (সম্পূর্ণ…)

এলিজি: সব্যসাচীর জন্য

ফারুক আলমগীর | ২৭ december ২০১৬ ১২:২৮ অপরাহ্ন

samsul-haque_90797.jpg

মধ্য পৌষের সন্ধ্যায় খোলা আকাশের নিচে
হয়েছিলো উৎসব তোমার জন্মদিনের
কবিতা পরিষদের কবিরা ছাড়াও ছিলো
অনেক শুভার্থী যারা শুনবে তোমার কথা
কোমল কঠিন প্রিয় বাংলাদেশের কালপঞ্জী
অশতি-বর্ষের যেন এক পদযাত্রার শুমারি। (সম্পূর্ণ…)

বচনগুলো ফের বৃষ্টি ফের শস্য

ঝর্না রহমান | ২৭ december ২০১৬ ১১:২২ পূর্বাহ্ন

Syed+Shamsul+Haq_26092016_0001জলের ঈশ্বরীগণ মুঠো ভরে এনেছিল বৃষ্টিবীজদানা
তোমার শিথান থেকে পইঠানে ব্যপ্ত হয় জাগর জমিন
ধূসর নেকাব খুলে ভুরু তুলে ঘাই মারে হাসিন জেনানা
তর্জনীতে এঁকে দাও দুই ঠোঁট ফাঁক করে চন্দনের চিন
প্রবীণ রাজত্ব থেকে বিনা শর্তে রাজকন্যা তুমি কর জয়
তোমার মহলগুলো যুবতী দেহের মতো, খিলান গম্বুজ
তোমাকে দারুণ বাঁধে, আষ্টেপৃষ্ঠে, কেড়ে নেয় তোমার হৃদয়
তশ্তরি সাজিয়ে আনে তীব্র লাল রক্তরসে হৃৎ-তরমুজ। (সম্পূর্ণ…)

গায়ক পাখি গফুর হালী: যেই যন্ত্র বাজাইলে গানের যন্ত্রণা হয়; ওই যন্ত্র বাদ দেন বাংলা গান থেকে

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২৬ december ২০১৬ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

পুরো নাম আবদুল গফুর হালী। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক, আধ্যাত্মিক ও মাইজভাণ্ডারি গানের কিংবদন্তি গীতিকার সুরকার ও শিল্পী। শেফালী ঘোষ, শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব, সন্দীপন, শিরিনসহ আরো বহু লোকগানের তারকা শিল্পীর উত্থান গফুর হালীর গান গেয়ে। দেশের একাডেমিগুলো, সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম তাঁর কাজকে পাত্তা না দিলেও দেশের বাইরে প্রচুর কাজ হয়েছে গফুর হালীর কাজ নিয়ে। জার্মানীর হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার গান নিয়ে গবেষণাকর্ম করছেন একদল লোকগবেষক। জার্মান ভাষায় তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে তথ্যচিত্র। ২০০৪ সালে হালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হান্স হার্ডার গফুর হালীর ৭৬টি গান জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে ‘ডর ফেরুখটে গফুর স্প্রিখট’ বা ‘পাগলা গফুর বলে’ শিরোনামে গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন।
hali-2
সোনাবন্ধু তুই আমারে করলিরে দিওয়ানা, পাঞ্জাবিঅলা, মনের বাগানে ফুটিল ফুল গো, তুঁই যাইবা সোনাদিয়া বন্ধু মাছ মারিবার লাই,‘অ শ্যাম রেঙ্গুম ন যাইও, বানুরে অ বানু— কিংবা মাইজভাণ্ডারী গান- দেখে যারে মাইজভাণ্ডারে হইতাছে নূরের খেলা, কতো খেলা জানরে মাওলা, মাইজভাণ্ডারে কি ধন আছে এবং মোহছেন আউলিয়ার গান— চল যাই জিয়ারতে মোহছেন আউলিয়ার দরবারে, আল্লাহর ফকির মরে যদি, ইত্যাদি শত শত কালজয়ী গানের রচিয়তা আবদুল গফুর হালী।

আবদুল গফুর হালীর জন্ম ১৯২৯ সালে পটিয়ার রশিদাবাদে। বাবা, আবদুস সোবহান, মা গুলতাজ খাতুন। লেখাপড়া করেছেন রশিদাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জোয়ারা বিশ্বম্ভর চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ে। রশিদাবাদ আরেক সাধকশিল্পী আস্কর আলী পণ্ডিতের গ্রাম। আস্কর আলীর গান শুনে বড় হয়েছেন গফুর। ছোটবেলায় তাঁর আধ্যাত্মিক ও মরমি গান গফুরের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। কারো কাছে সেই অর্থে গান না শিখলেও শিক্ষক বলে মানতেন চট্টগ্রামের প্রকৃতিকে, যা তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছে সৃষ্টিকর্মে, প্রেরণা পেয়েছেন আস্কর আলী পণ্ডিত ও রমেশ শীলের গান থেকে। আবদুল গফুর হালীর আঞ্চলিক গানের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। মাইজভান্ডারি গানও হাজারের বেশি হবে। ‘দুই কুলের সোলতান’, ‘দেখে যারে মাইজভান্ডারে’সহ অসংখ্য গান শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে। তাঁর গান আরও গেয়েছেন উমা খান, সঞ্জিত আচার্য, কান্তা নন্দী, শিল্পীরানী, আবদুল মান্নান রানা, সেলিম নিজামী,শিমুল শীল, কল্যাণী ঘোষ, কল্পনা লালা ও সন্ধ্যারানী দাশ।

হান্স হার্ডার মনে করেন, বাংলার লোকসঙ্গীতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে বিশেষভাবে অধিষ্ঠিত করেছেন গফুর হালী। এসব গান কালের সীমা অতিক্রম করে পৌঁছে গেছে বর্তমান প্রজন্মের কাছে এবং বেশ আদৃত হচ্ছে। আবদুল গফুর হালী প্রথম মোহসেন আউলিয়াকে নিয়ে গান রচনা করেন। চট্টগ্রামের ভাষায় প্রথম লোকনাটকের রচয়িতাও গফুর হালী। হার্ডার আবদুল গফুর হালী সম্পর্কে লেখেন, ‘আবদুল গফুর হালীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রি বা উপাধি না থাকলেও নিজের চেষ্টায় তিনি অসাধারণ জ্ঞানের অধিকারী হতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি নিজেকে শুধু বাংলা সাহিত্যের দিকে সরাসরি ধাবিত করেননি, সুর ও আধ্যাত্মবাদে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। প্রায় প্রতিদিনই তিনি মাইজভান্ডারি গান রচনা করেন’।

কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিনের সাথে গফুর হালীর এ আলাপটিই আমাদের জানামতে কিংবদন্তি শিল্পীর দেয়া শেষ সাক্ষাৎকার। ভিডিও থেকে সাব্বির জাদিদ উদ্ধারকৃত পুরো আলাপচারিতা এখানে পত্রস্থ হলো। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

জুয়েল আইচ: রাষ্ট্র কি কোন জীব নাকি যে তার ধর্ম থাকবে?

রাজু আলাউদ্দিন | ২৪ december ২০১৬ ৪:১৫ অপরাহ্ন

Jewel-2
ছবি: নয়ন কুমারের ক্যামেরায় জুয়েল অাইচ।

সবাই তাকে জাদুকর হিসেবে চেনেন, কিন্তু তিনি নিছক জাদুকর নন, বরং তার চেয়ে বেশি কিছু। তিনি জাদুশিল্পী। তিনি যদি শুধুই বক্তা হতে চাইতেন, সেখানেও তার জাদুকরী শক্তির বিচ্ছুরণ যে কাউকে অভিভূত করতো। তিনি যদি কেবল উচ্চাঙ্গ সংগীতের শিল্পী হিসেবে পরিচিত হতে চাইতেন, তবে সেই পরিচয়টিও তাকে শিখরে নিয়ে যেত। তিনি যদি কেবলই লেখক হতে চাইতেন, তাহলেও তিনি লেখালেখির জগতে সর্বোচ্চ জায়গাটিতেই অবস্থান করতেন। কিন্তু তিনি বিচ্ছিন্নভাবে এর কোনোটাই হতে চাননি, তিনি হয়েছেন এই সবকিছুর এক সমন্বিত রূপ যা তাকে জাদুশিল্পের জগতে অনন্য ও বিরল ব্যক্তিত্ব করে তুলেছে। তাঁর অারও একটি বড় পরিচয় তিনি মহান মুক্তিযোদ্ধাদের একজন। এই মানুষটিই আত্মত্যাগে অটল হয়ে কাঙ্ক্ষিত ক্রোধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন শক্রর মোকাবেলায়। নিশ্চিত মৃত্যুর থাবা ফসকে বেরিয়ে গেছেন কয়েকবার। যুদ্ধাকালীন রোমহর্ষক ও রোমাঞ্চকর বহু ঘটনার সাক্ষী তিনি। যুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধীদের মৃত্যুফাঁদ থেকে আজকের জননন্দিত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ কীভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন তার প্রথম সবিস্তার স্মৃতিচারণ করেছেন কবি-প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনকে দেয়া এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে। ভিডিওতে ধারনকৃত সাক্ষাৎকারটির শ্রুতিলিখন করেছেন সোহেল আহসান। ভিডিও ও আলোকচিত্র গ্রহণে ছিলেন নয়ন কুমার। বি. স. (সম্পূর্ণ…)

রুখসানা কাজলের গল্প: জ্যোৎস্নাধরা

রোকসানা কাজল | ২১ december ২০১৬ ৩:২৮ অপরাহ্ন

monish.jpgদুধজোস্নায় ভেসে যাচ্ছে চারদিক। খোলা বারান্দায় চকিতে শুয়েছিল গনেশ। কাঁঠাল গাছের পাতাগুলো তারার মত চকচক করছে। তার পাশে বারোমাসি আমড়াগাছ। আমকাঁঠালের পাতার বুননে বানানো জালে ধরা পড়ে জ্যোৎস্না হাসছে কলকলিয়ে। ঠিক এই সময়ে ভুতু কেন যেনবড় উঠোনের মাঝখানে এসে চাঁদের দিকে মুখ উঁচু করে লেজ নামিয়ে ডেকে উঠল, ঘুঘুঘুউউ ঘুউ ঘুউঘুউউউউউউউউউউউ—বিষ কামড় দিয়ে উঠল গণেশের শরীর! ভয় আতংকে কেমন কেমন করে উঠছে বুকের ভেতর। তড়াক করে উঠে বসে বিছানায়। ঠাকুমার কাছে শুনেছে বিপদ আপদের কথা নাকি পশুপাখিরা আগে ভাগে জেনে যায়। আর জানতে পারে বলে এরকম আর্তচিৎকার করে পাড়া মাতিয়ে কেঁদে কেঁদে উঠে। কোথায় কার কি হলো কে জানে! ধুকপুক করতে থাকে গনেশের বুকের ভেতর।
ভিজে জ্যোৎস্না চাঁদকে নিয়ে ঢুকে যাচ্ছে মেঘের কোলে। আবার ভেসে উঠছে মণিমুক্তোর মত আলো ছড়িয়ে। এই রকম আলো আঁধারে অনেকক্ষণ ধরে একটানা ডেকে ডেকে একসময় থেমে যায় ভুতু। তারপর গনেশের দিকে মুখ করে দুপা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ে । পায়ের ফাঁকে কাত করে রাখা ভুতুর মাথাটাকে অদ্ভুত অসহায় লাগে। সাড় শব্দহীন। কেবল একটা চোখ জ্বলজ্বল করছেভুতুর। শালা মাথা কাত করে রাখিছে ত রাখিচ্ছেই। একবারের জন্যিও লড়াচড়া নাই। এট্টু খানি মাথাও ওঠায় না ভুতুরবাচ্চা। বাঁচি আছি ত? আরো ভয় খায় গনেশ, মরি গেল নাহি! মারিচ্ছে ত আমাগের! পোষা কুকুরের আতকা মরণ গেরস্তোর জন্যে সুলক্ষণ নয় মোটেও। তার উপর কদিন ধরে যে বিপদ চলিচ্ছে সংসারে! তিন লাফে ভুতুর কাছে গিয়ে লেজ ধরে টান দেয় গনেশ। ভুতু সেই ভাবে শুয়েই ঝাঁকি দিয়ে লেজ টেনে নেয়। গনেশ যেন অচ্ছুত। একবার ফিরেও তাকায় না। (সম্পূর্ণ…)

ফারহানা রহমানের তিনটি কবিতা

ফারহানা রহমান | ২১ december ২০১৬ ১০:২০ পূর্বাহ্ন

mainor
হ্যালুসিনেশন

সম্মোহিত হয়ে আছি
পড়ে আছে একলা আকাশ
এখন হ্যালুসিনেশনে-
লাল লিটমাস
নীল লিটমাস
ছেঁড়া ছেঁড়া অবয়ব গোধূলির ঝাউবনে;
বাদল সন্ধ্যার দুরন্তপনা গিয়ে মিশে গেছে ফেনায়িত তরঙ্গে
যেমন রৌদ্রের নৈঃশব্দ্য জলরং এঁকে দেয় গুল্মবনের গায়ে
তৃষ্ণা জেগে আছে চোখে, নগ্ন সাদা মনে…

ঝড়ো রাত
টর্চের লাইট নিভে গেলে আলোতে আঁধার জমে যায়
খোসা ছাড়ায় সন্ধ্যেবাতি
নকশায় মিশে থাকে তারকাঘচিত রাত মরুভূমি অরণ্যের মতো লাগে
শূন্যপথে দীর্ণ হাহাকার থাকে
মেঘের ডানায় শঙ্খচিল শুয়ে থাকে
দুর্গচূড়ায় একা আসে ঝড়ো রাত ছলনায় ভুলে
ভালবাসা পেলে। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: নিঃসঙ্গতার একশ বছর (৩৯ পর্ব)

আনিসুজ্জামান | ২০ december ২০১৬ ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com