চাঁদে পাওয়া মানুষ হুমায়ূন আহমেদ

মাজহারুল ইসলাম | ১৩ নভেম্বর ২০১৬ ৬:২৫ অপরাহ্ন

ছোট ছোট ৫৭টি শব্দে লেখা কয়েক লাইনের চিঠি।

মাজহার,
ভাই, আরও দশ পৃষ্ঠা লিখতে হবে। এই দশ পৃষ্ঠা তাড়াহুড়া করলে উপন্যাসের ভয়ংকর ক্ষতি হবে। আগামীকাল সন্ধ্যার আগে শেষ দশ পৃষ্ঠা লেখা যাচ্ছে না।
তোমার পত্রিকা যদি পঁচিশ তারিখে বের করতেই হয় তাহলে আমার উপন্যাস যতটুক দেওয়া হয়েছে ততটুক ছেপে নিচে লিখে দাও–আগামী সংখ্যায় সমাপ্য।
আর কোনো বুদ্ধি তো বের করতে পারছি না।
হুমায়ূন আহমেদ

Huকিছুক্ষণ আগে ধানমণ্ডির বাসা থেকে ফিরে এসে ‘অন্যদিন’-এর কর্মী রতন এই চিঠি আমাকে দিয়েছে। আমাকে লেখা হুমায়ূন আহমেদের প্রথম চিঠি।
চিঠিটি পড়ে আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম। এদিকে বাজারে অন্য ঈদসংখ্যাগুলো সব চলে এসেছে। অন্যদিন ঈদসংখ্যার সব ফর্মা প্রেসে চলে গেছে। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের শেষ অংশের জন্য কয়েকটি ফর্মা আটকে আছে। কী করব বুঝতে পারছি না।
আমার চিন্তিত অবস্থার মধ্যেই হঠাৎ হুমায়ূন আহমেদের টেলিফোন–মাজহার শোনো, জীবনে বহু ঈদসংখ্যা প্রকাশ করার সুযোগ পাবে। কিন্তু এরকম জোছনা এক শ’ বছর পর আবার আসবে। এটা দেখার আর সুযোগ পাবে না। কাজেই দলবল নিয়ে নুহাশপল­ী চলে আসো। একসঙ্গে জোছনা দেখব এবং রাতে নুহাশপল্লীতে থাকবে। ভালো গান-বাজনার আয়োজন আছে। সঙ্গে সঙ্গে বললাম, স্যার, অবশ্যই আসব।
জোছনার প্রতি হুমায়ূন আহমেদের ভালো লাগা কী তীব্র ছিল, তা জেনেছি তাঁর লেখালেখি পড়ে, নাটক দেখে। ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’–প্রিয় এই রবীন্দ্রসঙ্গীতটি অনুভূতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল যেদিন এর অপূর্ব চিত্রায়ন দেখলাম তুমুল জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’-তে। তখনই জোছনার প্রতি একটা আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল আমার ভেতর। কিন্তু জোছনা উদযাপন করতে হয় কীভাবে সে সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। তাই হুমায়ূন আহমেদের আমন্ত্রণ লুফে নিলাম তাৎক্ষণিকভাবে। আরেকটি বিষয় কাজ করেছিল, চাঁদ আর পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমতে কমতে প্রতি এক শ’ বছরে একবার চাঁদ এতটা কাছে আসে পৃথিবীর। তাই এরকম প্রখর চাঁদের আলো প্রতি এক শ’ বছর পর পাওয়া যায়। কারও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার জন্য নিশ্চয়ই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আর এরকম একটি ঘটনায় এ মুহূর্তে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ পাওয়াটাও অনেক সৌভাগ্যের বিষয়। (সম্পূর্ণ…)

হুমায়ূননামা

কামরুল হাসান | ১৩ নভেম্বর ২০১৬ ১:১৯ পূর্বাহ্ন

Humayunইতিহাসের পাতায় যে-হুমায়ুন আমাদের প্রথম নাড়া দিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি বাবর পুত্র হুমায়ুন। একবার কঠিন অসুখে পতিত হলে ভারতবর্ষে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর সৃষ্টিকর্তার দরবারে প্রাণপ্রিয় পুত্রের জন্য আকুল প্রার্থনা জানিয়েছিলেন, যেন তার নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও পুত্রের জীবন রক্ষা পায়। ঘটেছিলোও তাই। হুমায়ুন ধীরে ধীরে আরোগ্যলাভ করেন আর বাবর শয্যাশায়ী হন। সেটাই ছিল বাবরের অন্তিম শয়ান। সম্রাটরা সাধারণত খুব একটা দয়ালু হন না, নিষ্ঠুর সব যুদ্ধে সংখ্যাতীত মানুষের রক্তভেজা প্রান্তরের ওপর দিয়ে বিজয়ের রথ চালিয়ে তারা সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। তাই সম্রাট-হৃদয় পাষাণে গড়া; কিন্তু সম্রাট যখন পিতা, তখন তিনি স্নেহার্দ্র। বাবরের প্রার্থনা ইতিহাসের পাতায় সন্তানের জন্য পিতার আত্মোৎসর্গের এক অনুপম দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

আরেক হুমায়ুন ভারতবর্ষের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি হুমায়ুন কবির। ছাত্রজীবনে অসামান্য মেধাবী মানুষটি শেরে বাংলার কৃষক-প্রজা পার্টি দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও পরবর্তী সময়ে জওহরলাল নেহেরু এবং লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মন্ত্রীসভায় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ব্রিটিশ পরবর্তী ভারতে শিক্ষানীতি ও শিক্ষা-কাঠামো নির্মাণে তাঁর সবিশেষ অবদান রয়েছে। কৃষক-শ্রমিকের কল্যাণকামী মানুষটি ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, ছিলেন বিধানসভা ও রাজ্যসভায় একাধিকবার নির্বাচিত সদস্য। এবং এক সময় মওলানা আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে তার সাথে আমাদের পরিচয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, কবি হিসেবে। শৈশবে পাঠ্যবইয়ের পাতায় তাঁর কবিতা আমরা পাঠ করেছি সাগ্রহে, পরিণত বয়সে তাঁর প্রবন্ধ আমাদের চেতনা ও উপলব্ধির জগৎকে সমৃদ্ধ করেছে। (সম্পূর্ণ…)

মিনার মনসুরের দুটি কবিতা

মিনার মনসুর | ১১ নভেম্বর ২০১৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ন


হিজড়ার তবু ভাঙাচোরা একখান মন আছে

আরেকটি দিন। যথারীতি ঢাকা দাঁড়িয়ে আছে একপায়ে। ট্রয়ের সুবিশাল ঘোড়া। তার পেটের ভেতর বেমক্কা ঝুলে আছেন জনৈক মিনার মনসুর। পিঠের পুরনো ব্যথা সঙ্গ দেয় তাকে। আমি উড়ে যাই।
সে আমার শার্টের আস্তিন ধরে ঝুলে থাকে আহ্লাদী মেঘের মতো। ক্রমে ঘন হয়ে আসে। গা ঘষে পাঁজরে। ঠোঁটে পতাকার লাল। জামার জানালা গলে বেরিয়ে আছে ব্রেসিয়ারের ফিতা। তাও লাল। অগত্যা জিগাই তারে:
কে গো তুমি? ভাব দেইখ্যা মনে লয় জোয়ান ছুকরি! মাগার শইলডা তো বেডা বেডা লাগে!
-মমতাজ।
-হালাই এমন আজব শহর মাথাডা খামাখা চক্কর খায় লাটিমের মতন। এলা দিলা তো আউলাঝাউলা কইর‌্যা সব। আরে বে…মমতাজ নামে আমার তো ইয়ার বি আছে। তুমি কেডা কও!
-হাঁচা কথা কই। আমি ছুকরি না ছোকরাও না। তয় তুমার উড়াল দেইখ্যা শরীলডা ক্যান জানি করে।
-তুমার মন নাই?
-আছে আছে। আমিও ফতুর হইছি তারে ভালোবাইস্যা…
-কারে, কারে ভালোবাসছস্ তুই? মাগী, ঢাহা নামের এই বেঢপ ঘোড়া কি তোরেও করাইছে জাদু?
-কী যে কও। হিজড়ার তবু ভাঙাচোরা একখান মন আছে। হেইডার তো কোনো ছোদবোধ নাই! (সম্পূর্ণ…)

চলে যাচ্ছে আপন মানুষ

আনন্দময়ী মজুমদার | ১০ নভেম্বর ২০১৬ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন

farzanaদুখের কথা বলব কী বল
এইখানে আজ সবই ভেজাল
নকল মানুষ নকল বাড়ি
বাড়ি চাইনে, হৃৎ-দুয়ারী
নকল বাসন, নকল সোনা
কৃতজ্ঞতা পয়সা-গোনা
নকল চুলো নকল থালা
প্রেমের ঘরেও সবাই কালা
লজ্জা ঢাকা যায় না এখন
লজ্জা এখন বেসাতি ধন
চলে যাচ্ছে আপন মানুষ
জীবন নিয়ে, জীবন ফানুস
চলে গেলে আসে না আর
আসে না আর বৃষ্টি ধারা
ছেড়ে গেলে ফেরে না আর
গৌর নিতাই, সোনার পারা (সম্পূর্ণ…)

নিরবতার দোভাষী সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

রাজু আলাউদ্দিন | ৮ নভেম্বর ২০১৬ ৮:২৩ অপরাহ্ন

Subrata-1বহুদিক থেকেই কবি ও অনুবাদক সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ আমাদের সমকালীন কবিতার জগতকে তার বহুপ্রজ ও বহুমুখী প্রতিভায় সমৃদ্ধ করে তুলেছেন। এই সমৃদ্ধি কাব্যবোধ, কলাকৌশল ও ছন্দের নিখুঁত প্রয়োগের কারণে। দেশি ও বিদেশি সংস্কৃতির নানা উপাদানে সমৃদ্ধ তার কবিতা সুপক্ক পরিণতির সাফল্যে আমাদেরকে শুরু থেকেই উৎকর্ণ করে রেখেছেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও কবিতার সংখ্যা প্রায় তিন শতাধিক। সংখ্যার এই বিপুলতাকে তিনি নিছক নিষ্প্রাণ ও নিরক্ত শব্দের কঙ্কালের মতো সাজিয়ে যাননি। প্রতিটি কবিতায় তিনি আমাদেরকে তার কারুবাসনার জ্যোর্তিময় অনুভবে উজ্জীবিত করে তোলেন। তার কাব্যবাগিচায় বহু বৃক্ষ, কিন্তু কোনটিই অনুরূপ নয়; তাদের সুরভিও আলাদা। তিন শতাধিক কবিতায় এই বৈচিত্র সিদ্ধ করা রীতিমত বিস্ময়কর। সুব্রত’র বিরামহীন সৃজনমুখী ও বৈচিত্রবিলাসী মন আমাদের কবিতাকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছে তা আশির দশকে তার সমসাময়িক আর কেউ করেছেন কিনা সন্দেহ। জানি, এ ধরনের চরমপন্থী আপ্তবাক্যে আস্থা রাখতে ভরসা পাবেন না অনেকেই যদি না উদ্বৃতি ও প্রমাণসহ বোমাল ধরিয়ে দেয়া যায় তার কাব্য প্রতিভার নমুনা।

নমুনার আগে তার কবিতা সম্পর্কে আরও কয়েকটি বিষয় উন্মোচন করা জরুরি। যেহেতু তা তার নিজেরই ভাষায় ‘কাব্যশরীর হয়েও, আমি যে রয়েছি জন্মবোবা’, ফলে অকথিত হলেও, কাব্যের বোবাভাষায় অনেক কিছুই পরোক্ষে উচ্চারিত হয়ে আছে শব্দের আচ্ছাদনে। (সম্পূর্ণ…)

জীবনগাঁথা

কাজী লাবণ্য | ৭ নভেম্বর ২০১৬ ৮:২৬ অপরাহ্ন

Afsanমুখে শত বলিরেখার জ্যামিতিক নকশা। ছানি পড়া চোখে শতায়ু ফ্রেমের গোল মলিন কাঁচের চশমা। দাঁতবিহীন গাল দুটি ভেতরদিকে তোবড়ানো। মাথায় দু/চারটি শনের মত চুল ফুরফুরে বাতাসে উড়ছে। বাড়ির সামনে অজস্র ঘটনার সাক্ষী প্রাচীন অশ্বত্থ বা পাকুড় গাছটির গোড়ায় বসে বৃদ্ধা পরীবিবি আকুল হয়ে কাঁদছে। চোখের পানি শুকিয়ে গ্যাছে, গলা দিয়ে আর কোন শব্দ বেরুচ্ছেনা তবু সে গুনগুন করে কেঁদেই চলেছে। আজ তিনদিন ধরেই সে কাঁদছে। বুড়ির একমাত্র সন্তান পাঁচ সন্তানের জননী এলিজা বা এলিজাবেথ তিনদিন আগে মারা গেছে, রেখে গেছে ছেলে বউ, মেয়ে জামাই, নাতী নাতনী আর বৃদ্ধা মা পরীবিবিকে। অশীতিপর বৃদ্ধা ধুসর শূন্য চোখে তাকিয়ে থাকে দূরে বহুদূরে… শূন্য দৃষ্টি ঘুরেফিরে স্থির হয় সেই সেইখানে। সে যেন এজনমের কথা নয়, অন্য এক জনমের কথা। সে যেন কত শত যুগ আগের কথা- এত কথা, এত ব্যথা, এত ছবি কেন আকুলিবিকুলি করছে,সব যেন আজ চোখের সামনে ভেসে উঠছে বায়োস্কোপের মত। (সম্পূর্ণ…)

পথপ্রদর্শিকা রোকেয়া

নন্দিতা বসু | ৬ নভেম্বর ২০১৬ ১০:১২ পূর্বাহ্ন

Rokeyaভাবতে অবাক লাগে যে বেগম রোকেয়া (১৮৮০-১৯৩২) আজ থেকে ১১৬ বছর আগে জন্মে কীভাবে এত কাজ করে গেলেন? পরাধীন ভারতবর্ষে বিশেষ করে মুসলমান সমাজে অবরোধ প্রথার জন্য মেয়েদের পক্ষে শিক্ষালাভ করা যখন প্রায় নিষিদ্ধ ছিল সেই অবরোধপ্রথা যে কী ভয়াবহ ছিল তা তাঁর মতিচূরঅবরোধবাসিনী’তে জানিয়েছেন, সব ঘটনাই তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে লেখা। অবরোধবাসিনী সকলেরই পড়া। তার এক একটি ঘটনা মনে করল গায়ে কাঁটা দেয়। আনুমানিক ১৯০৫ নাগাদ বেগম রোকেয়ার একজন মামীশাশুড়ি ভাগলপুর থেকে পাটনা যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল তাঁর একজন পরিচারিকা। কিউল জংশনে গাড়ি বদল করতে হবে। ট্রেনে ওঠার সময় মহিলাটি বোরখায় পা জড়িয়ে ট্রেন ও প্লাটফরমের মাঝখানে পড়ে যান। স্টেশনে অন্য স্ত্রীলোক বলতে শুধু ঐ পরিচারিকা, কুলিরা মহিলাকে ধরে তুলবার জন্য এগিয়ে এলে পরিচারিকাটি সরবে সাবধান করে দেয় তাদের: “খবরদার। কেউ বিবিসায়েবাকে ধরবে না”, সে একা অনেক চেষ্টা করেও মহিলাকে তুলতে পারল না। আধঘণ্টা অপেক্ষা করার পর ট্রেন ছেড়ে দিল। চলন্ত ট্রেন মহিলাটির দেহকে ছিন্নভিন্ন করে দিল। কাউকে কোনো সাহয্য করবার অনুমতি দেওয়া হলো না। মহিলাটির দেহ ষ্টেশনের একটা গুদামে এনে রাখা হলো। পরিচারিকাটি বিনিয়ে কাঁদছিল, আর মহিলাকে বাতাস করছিল। ১১ ঘন্টা পর মহিলাটি মারা যান। কী মর্মান্তিক ঘটনা। পর্দানশীলতা মরে গেলও লঙ্ঘন করা চলবে না। (সম্পূর্ণ…)

সবার উপরে মানুষ সত্য

মুহাম্মদ সামাদ | ৫ নভেম্বর ২০১৬ ১:৩৪ অপরাহ্ন

Brahmanbaria-(2)[হিন্দু জনগোষ্ঠীর ঘর-বাড়ি-মন্দির ভাঙার প্রতিবাদে]

এখানে মা-দূর্গা উবু হয়ে পড়ে আছে– দুই চোখে অশ্রু তার;
যেন সন্তানের ম্লানমুখে তাকাবে না মাতা আর!
কালীমা’র দুইচোখে অভিমান, নিভে গেছে ক্রোধের আগুন–
যেন শক্তির চার হাতে তাড়াবে না তষ্করের তাণ্ডব!
লক্ষীর আসনে বসে গেছে কদাকার পেঁচা–
যেন শস্যদানা গাভি কবুতর ফলিবে না গাঁয়ে
ঘর-বাড়ি মাথা তুলে দাঁড়াবে না নিজ নিজ পায়ে!
ছিন্নভিন্ন হয়ে স্বরসতী গেছে নিরুদ্দেশে
যেন বিদ্যার বিভায় আর জাগিবে না মানবিক বোধ!

এ যে একাত্তরের গ্রাম!
একাত্তরে, সেই বিসর্জনে–
জীবন দিলাম, সম্ভ্রম দিলাম,
পুত্র ও কন্যা দিলাম
ঘর-বাড়ি মন্দির দিলাম! (সম্পূর্ণ…)

ক্রিস্টোফার মার্লো শেক্সপিয়রের সহ-লেখক ছিলেন!

বিপাশা চক্রবর্তী | ৩ নভেম্বর ২০১৬ ৬:২২ অপরাহ্ন

Marloতর্কটা অনেক দিনের। এর বিস্তারও কম নয়। বহুলেখক-গবেষকের পর্যবেক্ষণ, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষনের ডালপালায় তর্কটি বিস্তার লাভ করেছে। তর্কের উৎসে প্রাণ সঞ্চার করেছে মূলত এই তথ্য যে ক্রিস্টোফার মার্লো ছিলেন শেক্সপিয়রের সমসাময়িক, তারচেয়েও বড় কথা তারা বন্ধু ছিলেন। দুজনই ছিলেন নাটকের অভিন্ন জগতের বাসিন্দা। কিন্তু অভিন্ন জগতের বাসিন্দাতো বেন জনসনও ছিলেন, কিন্তু শেক্সপিয়রের সাথে তাকে জড়িয়ে এই তর্কটা তৈরি হয়নি, হলো মার্লোকে নিয়েই। এর কারণও আছে। কারণগুলো ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই বহু গবেষকের আলোচনায় উঠে এসেছে। সম্প্রতি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস শীঘ্রই শেক্সপিয়রের নাটকগুলি নিয়ে একটি নতুন সমালোচনামূলক সংস্করণ প্রকাশ করতে যাচ্ছে। সেই সংস্করণটির নাম দা নিউ অক্সফোর্ড শেক্সপিয়র। এটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে ক্রিস্টোফার মার্লোকে শেক্সপিয়রের সহ-লেখক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান। তিনি ‘ষষ্ঠ হেনরি’ নাটকের তিনটি অংশেই শেক্সপিয়রের সহ-লেখক ছিলেন।

যুগ যুগ ধরেই সাহিত্য গবেষকরা শেক্সপিয়রের রচনায় মার্লোর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করে আসছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আবার ক্রিস্টোফার মার্লো ও শেক্সপিয়র একই ব্যাক্তি ছিলেন বলেও অবহিত করেছিলেন।
এই জন্য ধন্যবাদ জানাতে হয় সেই সমস্ত উদ্যোক্তাদের যারা বছরের পর বছর ধরে শেক্সপিয়রের শব্দভান্ডার, নৈতিক দর্শন ও কাব্যিক শৈলী নিয়ে গাণিতিক বিশ্লেষণ এবং সাহিত্যে ছাত্রবৃত্তি দিয়েছেন। অবশেষে এভাবেই একদল আন্তর্জাতিক গবেষণা-দল সকল রহস্যের সমাপ্তি টানলেন।
একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হচ্ছে এই যে, শেক্সপিয়র আদৌ মিশুক ছিলেন না। ১৯৮৬ সালে অক্সফোর্ড যখন জানালো শেক্সপিয়রের আটটি নাটকের উপাদানে অন্য লেখকদের অবদান ছিলো তখন অনেক মানুষই ক্ষিপ্ত হয়েছিল। ১৯৮৬ সালের পর গবেষণার জন্য নতুন নতুন বৃত্তি, কৌশল ও প্রয়োজনীয় সম্পদ ও আধুনিক প্রযুক্তি বিনিয়োগের ফলেই আজ পরিষ্কার হলো যে, তখন শেক্সপিরের নাটকে অন্য লেখকদের অবদানকে খাটো করা হয়েছিল।
সাহিত্য অনুরাগীদের জন্য শেক্সপিয়র ও মার্লোকে ঘিরে পান্ডিত্যপূর্ণ বিতর্কে নিয়ে অনেক অজানা কথা আজ প্রকাশিত হলো। কে এই ক্রিস্টোফার মার্লো?
ক্রিস্টোফার মার্লো ছিলেন শেক্সপিয়রের সমসাময়িক এক কবি ও নাট্যকার। তিনি এলিজাবেথীয় যুগের কবি ও নাট্যকার হিসেবে বেশ সমাদৃত ছিলেন। বছরের পর বছর ধরে চলমান অনেক প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় তার ও শেক্সপিয়রের মধ্যে যোগাযোগের প্রমাণ খুঁজে পাওয়া গেছে। এ দু’জনেই একে অপরকে চিনতেন ও জানতেন। তারা একই ক্ষেত্রে কাজও করেছেন। (সম্পূর্ণ…)

ফাদার দ্যতিয়েন : বাংলা গদ্যের শক্তিমান লেখক

শামসুজ্জামান খান | ২ নভেম্বর ২০১৬ ৩:৫৬ অপরাহ্ন

father-1
আলোকচিত্র: মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৪ এর উদ্বোধনী দিনের ছবি।
বেশ ক বছর আগে ঢাকা ঘুরে গিয়েছিলেন সাদা পাঞ্জাবি পাজামা পরা শ্মশ্রুমন্ডিত এক বিদেশি সাহেব। হ্যাঁ, একটু কৌতুকের সঙ্গে তিনি নিজেকে ‘সাহেব’ও বলতেন মাঝে মধ্যে। সাধারণ পোশাক-আশাক এবং চলনবলনে তাঁকে কিন্তু এক সৌম্যকান্ত বাঙালি বৃদ্ধের মতোই মনে হত আমাদের। আসলে তিনি একজন বিদেশি মিশনারি– নাম ফাদার দ্যতিয়েন। মা-বাবা নাম রেখেছিলেন পল দ্যতিয়েন। পল দ্যতিয়েন জন্মেছিলেন বেলজিয়ামের রশ্ফয় নামের একটি জায়গায় ১৯২৪-এর ৩০ ডিসেম্বর। বাবার নাম ফ্যানি এবং মা এলিজাবেথ।
বাংলাভাষী অঞ্চলে ফাদার দ্যতিয়েন বাংলার বিদ্ব্যৎ সমাজে এক পরিচিত নাম। তাঁর মাতৃভাষা ফরাসি হলেও বাংলা ভাষায় তাঁর ব্যুৎপত্তি রীতিমত ঈর্ষণীয়। উইলিয়াম কেরীর পুত্র ফেলিক্স কেরী বহু বছর আগে বলেছিলেন, বাংলা তার দ্বিতীয় মাতৃভাষা। একথাটি খুব জোরের সাথে বলতে পারতেন ফাদার দ্যতিয়েনও। ১৯৭১-এ পুস্তকাকারে প্রকাশিত তাঁর বাংলা রচনা ডায়েরির ছেঁড়া পাতা এবং ১৯৭৩-এ প্রকাশিত রোজনামচা তাঁকে বাংলা ভাষার এক শক্তিমান লেখক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসে বসে তাঁর সঙ্গে আমাদের কথা হয় ১৯৯০-এর জুলাই মাসের ২৬ তারিখে। কথা ছিলো, সকাল দশটায় আসবেন। সোয়া নয়টায় তিনি হাজির হলেন, হেসে বললেন, “বাঙালি সময় না-সাহেবি সময় তো নয়ই– ‘অদ্ভুত’ সময়ে এলাম। পঁয়তাল্লিশ মিনিট আগে এসে গেলাম।” ‘এসে গেলাম’ কথাটি আবার উচ্চারণ করে হাসলেন এবং কৌতুকমিশ্রিত স্বরে বললেন : ‘এসে গেলাম’ আপনারা বাঙালিরা বলেন, এটি আপনাদের নিজস্ব বলবার ধরন। ‘এসে গেলাম’ মানে: ‘এসে পৌঁছলাম’, ‘এসে আবার চলে গেলাম নয়।’ কোন বিদেশি এটা না জেনে অনুবাদ করলে কেমন হবে বলুন তো। (সম্পূর্ণ…)

হোলি গ্রেল

কুমার চক্রবর্তী | ১ নভেম্বর ২০১৬ ২:৪০ অপরাহ্ন

mainorআমি সংখ্যালঘু, কোয়ারান্টিন, মনে রেখো—
বিলোপন ছাড়া কিছুই নেই আমার,
দেখো শরীর আমার এক কলোসিয়াম:
ফাঁকা ফাঁকা আর আক্রমণীয়,
প্রত্ন যেখানে রচনা করেছে এক মর্মন্তুদ মুখবন্ধ;
কাসান্দ্রা আমাকে সাবধান করেছিল
বলেছিল: ওই দর্পণাশ্রিত মুখগুলো
তোমাকে একদিন বায়ুকোণে একা রেখে ঠিক ঠিক চলে যাবে
তুমি নির্জন হবে, হবে অন্তরিত।

সময়কে মোকাবিলা করতে গিয়ে আমি হারিয়েছি
আমার স্মৃতিগুলো
—যারা একদিন চিহ্নিত করেছিল তাদের স্বরসন্ধিকে।
বন্ধুকে বলেছি সব গোপন, ভাবিনি সেও একদিন শত্রু হতে পারে
বুঝিনি, ক্ষুর আর চাকু হলো লোহার পার্সোনা
আরও বুঝিনি, মানুষ হলো অব্যবস্থিতের প্রতীকপরিণতি,
উদ্বিগ্ন-সন্ত্রাসে যারপরনাই হয়ে পড়ে খেদোন্মত্ত। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা |

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com