শহীদ কাদরী: সে এক অদ্ভুত মানুষ যে শনাক্ত হতে চায় না

অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত | ৩১ অক্টোবর ২০১৬ ১১:০০ অপরাহ্ন

Shahidএই মুহূর্তে, এই দুঃসংবাদ, যদিও প্রত্যাশিত–তবু আমি ভীষণ ক্ষেপে আছি, এটা একেবারেই স্বতসিদ্ধ। যেহেতু প্রায় দেড় দশক দুই দশক ধরে এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম। এবং ভেবেছিলাম যে, একদিন এই চূড়ান্ত দুঃসংবাদ পাবো, এর জন্য তৈরিও ছিলাম। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, আসলে আমরা তৈরি থাকলেও, আমরা যারা নশ্বর মানুষ, তাদের পক্ষে এ রকম ঘটনা সহ্য করে নেওয়ার মতো কোনো রকম সামর্থ নেই।
যখনই এই খবর ফারুকের মধ্য দিয়ে পেলাম, ফারুক আমার ভাই স্বরূপ, আমি তখনই ফারুককে বললাম যে ফারুক, শক্তির বিয়োগ সংবাদ পেয়ে আমি একটা সনেট পাঠিয়েছিলাম, আজকে যদি তোমাকে একটা শোকগাথা পাঠাই, আমার মনে হলো আমি পারি, আমি শোকগাথা লিখতে পারবো, কিন্তু সেটা খুব আলঙ্কারিক হবে। এখন আমি যেটা বলতে চাই দু’চারটি কথা যে এই মুহূর্তে আমাদের শহীদ কাদরীর প্রতিভার মূল্যাঙ্কন করার সামর্থ আমার নেই। কিন্তু এইটুকু আমার মনে হয়, আমার ভীষণভাবে মনে হয়, গত কয়েক বছর ধরে যতদিন তাকে দেখিনি, সেই সময় অন্য একটা সান্নিধ্য গড়ে উঠেছিল, কি লিখছে কি না লিখছে। তো এখন ওর সবশেষ যেই বইটা যেটা প্রবাসে লেখা–আমার চুম্বনগুলি পৌঁছে দাও–সেটা আমার হাতে আসেনি। কে যেন টুইট করে জানিয়ে দিয়েছিল যে এই বইটা ২০০৯ সালে বেরিয়ে গেছে।
এবং আমি ভাবছিলাম যে, এলিয়ট এক জায়গায় যেমন বলেছিলেন যে, প্রত্যেক কবি, প্রত্যেক মানুষ থেকে বয়সে বিলম্বিত, অনেক বড়। প্রত্যেক কবির ক্ষেত্রে এই কথাটা বলা যায় যে, তাদের এই মৃত্যু আমাদের বিবেকের সংবিতের পক্ষে খুব প্রয়োজনীয় একটা ঘটনা।
মঁতেইগ যিনি পারসোনাল এসেস-এর প্রবক্তা ছিলেন তিনি বলেছিলেন, দার্শনিকতা করার মানে হচ্ছে, মৃত্যুকে কিভাবে আয়ত্ত করা যায় সেটা শিখে নেওয়া। এখানে একটা ঘরোয়া সেমিনারের মতো চলছিল।
বুঝতে পারলাম, নশ্বরতার একটা কবিতার মন্ত্র আছে যা কবিতাকে সঞ্চালিত করতে পারে।
আপাতত বলাই বাহুল্য যে, আমি এমন কোনো কথা বলব না যে-কথা কোনো বইয়ের, কোনো শোকলিপির উপক্রমনিকা হতে পারে। আমি সেটা বলবো না। (সম্পূর্ণ…)

লেখকের ডান হাত, বাম হাত

আনিসুর রহমান | ৩০ অক্টোবর ২০১৬ ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

handবুদ্ধদেব বসু তার কালের পুতুল প্রবন্ধগ্রন্থ যখন প্রকাশ করেন তখন সালটি ছিল ১৯৪৬। সেই সময়ে বাংলাদেশ এবং ভারতবর্ষ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শোষণ পীড়নে নাস্তানাবুদ। ব্রিটিশ সাহিত্য ইউরোপ জুড়ে তো বটে, দুনিয়ার অন্যান্য মহাদেশেও সুবিধাজনক অবস্থান দখল করেছে। সারা দুনিয়া লুটপাট করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অর্থনীতিও রমরমার চরম তুঙ্গে। এই সুবিধা ভোগে সাহিত্য ও সংস্কৃতির লোকজনদেরও পোয়াবারো। চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং আইনজীবীর মতো কেউ কেউ লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নিয়ে অর্থ উপার্জনের একটা উপায় হিসেবে বেছে নিতে পারতো। এরকম একজন লেখক ছিলেন উইলিয়াম সমারসেট মম। সমারসেট ডাক্তারি পেশা ছেড়েছুড়ে লেখালেখিকে টাকা উপার্জনের উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সেই সময় সমারসেট শুধু ব্রিটেনে নয় সারা ইউরোপে সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক এবং নাট্যকার ছিলেন। সেই সমারসেট প্রসঙ্গে লিখেছিলেন বুদ্ধদেব বসু তাঁর কালের পুতুল গ্রন্থের ‘লেখালেখির ইশকুল’ প্রবন্ধে। তাঁর এক বন্ধুকে উদ্বৃত করে বলেছেন সুখী জীবন হচ্ছে ধনী লোকের সুন্দরী স্ত্রী হওয়া, যার কোনো কিছুর অভাব নাই। রূপচর্চা করাই যার একমাত্র কাজ।
এবার ফিরে আসি অন্য প্রসঙ্গে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য আজ আর অবশিষ্ট নেই। চাপতে চাপতে এখন ক্ষীণতর থেকে ক্ষীণতম হয়ে এখন ইংল্যান্ড থেকে স্কটল্যান্ড ছেড়ে যায় যায় অবস্থা। (সম্পূর্ণ…)

শেক্সপিয়রের ক্লাউন

নাহিদ আহসান | ২৮ অক্টোবর ২০১৬ ৭:০৮ অপরাহ্ন

w-s.jpgক্লাউন একজন বিষণ্ণ মানুষ যার কাজ হচ্ছে মানুষকে হাসানো। অনেক ক্ষেত্রে আসলে হাসানো তার পেশা। এটা সহজ কাজ নয়। কিন্তু হাসতে সবাই ভালবাসলেও যারা হাসায় তাদেরকে মানুষ হালকাভাবে নেয়। পারিশ্রমিক কম। সম্মানও নেই। সার্কাসে, মঞ্চে মূলত তাদের আমরা দেখি। সাহিত্যে ও চলচ্চিত্রেও তারা জায়গা করে নিয়েছে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী চ্যাপলিনের কথা তো সবাই জানেন। তার প্রতিটি কৌতুকের পেছনে ছিল এক বেদনার্ত গল্প। যেমন ‘গোল্ড রাশ’-এ তার জুতো রান্না করা খাওয়া, ক্ষুধা পেটে তাকে একজনের মুরগী ভেবে তাড়া করা। দর্শকরা হাসলেও চ্যাপলিনের উদ্দেশ্যতো শুধু হাসানো ছিল না। নাটক বা সিনেমায় যাদেরকে এখন কমেডিয়ান বলা হয় তাদের মধ্যে ক্লাউনের প্রভাব রয়ে গেছে।
শেক্সপিয়রের ক্লাউন বা বা বোকা হাঁদারা দুরকম–একদল হচ্ছে গ্রাম্য অশিক্ষিত, অন্যরা হচ্ছে রাজসভার ক্লাউন। এরা একাধারে তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ধারণ করে এবং একইসাথে ভাঁড়ামো করে। উইট, হিউমার, পান–ভাষার হাজার কারিগরি ব্যবহার করে তারা কথা বলে। শুধু বক্তব্যই দার্শনিক নয়, বলার ভঙ্গি এতদিন পরেও যেন নতুন মনে হয়। ক্লাউনের যে ধরাবাঁধা মেকাপ ও পোশাক তাই যে শ্রেষ্ঠ তা কিন্তু নয়। কিন্তু কিভাবে যেন যুগ যুগ ধরে কিছুটা বৈচিত্র্য থাকলেও এটা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।
শেক্সপিয়রের ক্লাউন অবশ্য শুধু পোশাক দেখে নয়, তার কথাবার্তা শুনে সনাক্ত করতে হয়। যেমন: হ্যামলেটে গ্রামের অশিক্ষিত গোরখোদক যে কিনা হেয়ালিপূর্ণ ভাষায় কথা বলে, তাকে ক্লাউন হিসেবেই ধরা হয়। ওফেলিয়ার কবর খোঁড়ার সময়, হ্যামলেট তার কাছে গিয়ে জানতে চায়- এটা কি ‌একজন মহিলার কবর? উত্তর পান, ‘না’। হ্যামলেট আবারও জানতে চায়, তবে এটা কি একজন পুরুষেরর কবর?‌ সে উত্তর দেয়, “না”। তারপর বলে,“এটা এমন একজনের কবর যিনি এক সময় মহিলা ছিলেন।” (সম্পূর্ণ…)

রবার্ট শেকলির বিজ্ঞান কল্পকাহিনী: জীবনধারনের খরচ

রেশমী নন্দী | ২৭ অক্টোবর ২০১৬ ৭:০১ অপরাহ্ন

Robert S.মার্কিন কল্পবিজ্ঞান লেখক রবার্ট শেকলেই-এর জন্ম ১৯২৮ সালে। কল্পবিজ্ঞানের ২৭টি উপন্যাস ছাড়াও অসংখ্য ছোটগল্পের লেখক তিনি। জীবনের বিভ্রান্তিকর অস্তিত্বের অংশ হিসেবে প্রগাঢ় শূণ্যতাবোধের চর্চা তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কল্পবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ এই লেখককে সায়েন্স ফিকশন এন্ড ফ্যান্টাসি রাইটার অব আমেরিকার পক্ষ থেকে ২০০১ সালে দেয়া হয় “অথর এমিরেটাস” খেতাব। ৭৭ বছর বয়সে ২০০৫ সালে মারা যান তিনি। অনূদিত লেখাটি ১৯৫২ সালে আমেরিকার কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক ম্যাগাজিন “গ্যালাক্সি”তে প্রথম ছাপা হয়। ইংরেজি থেকে গল্পটি অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী। বি.স.

কেরিনের মনে হচ্ছিল, গত সপ্তাহে মিলারের মৃত্যুর শোকটা হয়তো দ্রুত কাটিয়ে উঠবেন তিনি। কিন্তু অস্পষ্ট, অবয়বহীন ভয়টা মনের মধ্যে থাবা গেড়ে বসে আছে আজও। ভয়াবহ বোকামী। মিলার মরলো তো কার কি।

কিন্তু, মোটাসোটা, হাসিখুশি মিলার আত্মহত্যা করলো কেন? ওর তো সবই ছিল- স্ত্রী, সন্তান, ভালো চাকরী, সময়োপযোগী ঝাঁ চকচকে জীবন। তবু, মিলার এমন কেন করলো?

“শুভ সকাল” খাওয়ার টেবিলে বসতেই স্ত্রী লীলার সম্ভাষণ শুনলেন কেরিন।

“শুভ সকাল, ডার্লিং। বিলি, শুভ সকাল”। উত্তরে ছেলে একটু শব্দ করলো মাত্র।

মানুষ সম্পর্কে কিছু বলা মুশকিল, ভাবতে ভাবতে ব্রেকফাস্টের জন্য ডায়াল করলেন কেরিন। মুহূর্তেই এভিগনন ইলেকট্রিক অটো-কুকের বানানো চমৎকার নাশতা হাজির হয় কেরিনের সামনে। (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদা’র কবিতা: একটি তুলনামূলক পাঠ-প্রয়াস

আশরাফ জুয়েল | ২৫ অক্টোবর ২০১৬ ৭:০৮ অপরাহ্ন

photo-290913-61
এক
কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। ষাটের দশকে যে কয়জন কাব্যকারুকৃত বাংলাদেশের তথা বাংলা সাহিত্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বৈচিত্র্য নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তাঁদের ভেতর মুহম্মদ নূরুল হুদা অন্যতম। কিন্তু উপরোক্ত কথাগুলোকে আমরা কি নির্দ্বিধায় মেনে নিতে সম্মত আছি? আমি অন্তত মেনে নিতে সম্মত নই। তাই ব্যক্তিগত পরিচয়কে অগ্রাহ্য করে এবং তাঁর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের প্রতি নির্মোহ থেকে তাঁর কবিতার একটা তুলনামূলক পাঠের নিরপেক্ষ প্রয়াস এই আলোচনা। যদিও স্বল্প পরিসরে এটা দুঃসাহসিকতার সামিল এবং অবশ্যই একটি দুরূহ-সাধ্য কাজ।

ইতালির রেনেসাঁ, আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রাম, ফরাসি বিপ্লব, রুশ বিপ্লব মানুষের চিন্তা-চেতনা-ভাব-প্রেম-মূল্যবোধে এক ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত করেছিল কিন্তু মাত্র একশ বছর বা তার কিছু সময়ের মধ্যেই এই পরিবর্তন বাঁক নিলো এক বীভৎস ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার দিকে। বুর্জোয়াতন্ত্রের যথেচ্ছাচারের বিকাশে আজ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য পরিণত হয়েছে আত্মপরতন্ত্রে। বিগত একশো বছরে পৃথিবী স্বাদ গ্রহণ করেছে দু- দুটি বিশ্বযুদ্ধের, যার ধারাবাহিকতায় সংযুক্ত হয়েছে ধর্মীয় উগ্রবাদের মত তারুণ্য-দীপ্ত মেধার জঘন্য অপচয়। আজ পৃথিবী হাঁটছে এক ঘোরতর স্রোতহীন নদীর দিকে। যুগে যুগে এ ধরনের নিমজ্জমান সময় থেকে বর্তমানকে আকর্ষণীয় আলোক-দৃশ্য-মঞ্চে উত্তোলন করার জন্য আবির্ভূত হন কবি সাহিত্যিকগণ। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলা সাহিত্যে আগমন ঘটে কবি মুহম্মদ নুরুল হুদার। কিন্তু কী এমন নবীনতা তাঁর প্রকাশরীতি বা উচ্চারণে? অথবা তিনি কবিতার ভাষা নির্মাণে কতটা পরিবর্তনকামী? প্রকৃতার্থে প্রত্যেক কবি নিজেই এক একজন স্রষ্টা। সে তাঁর সৃষ্টিকে যুগে যুগে টিকিয়ে রাখার জন্য সচেষ্ট থাকেন সর্বদা।

‘নগর বাহিরিরে ডোম্বি তোহারি কুড়িআ
ছোই ছোই যাই সো ব্রাক্ষ্ণ নাড়িআ ।। ধ্রু।।
(১০ সংখ্যক পদ। রাগ। দেশাখ, চর্যাপদ)
নগর বাহিরে, ওরে ডোমনী তোর কুঁড়ে
তোকে ছুঁইয়া ছুঁইয়া যায় সেই বিজ্ঞ বামুন।’
(অনুবাদ- সুকুমার সেন)

উপরোক্ত পঙক্তিগুলো চর্যাপদ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। অন্যদিকে নূরুল হুদা তাঁর শুক্লা শকুন্তলা কাব্যগ্রন্থের সর্বশেষ (৩২) কবিতায় বলেছেন-

‘শুক্লা এবার উঠি, কালিদাস, আপনি থাকুন
আপনার পাত্রপাত্রী অবশেষে সুখের দম্পতি
আমরা আরেক কালে, আমাদের নেই ভীমরতি…’
-(শুক্লা শকুন্তলা)

পৃথিবী সৃষ্টির পর প্রথম চেতন উচ্চারণটিই একটি কবিতা। উচ্চারণের ধারাবাহিকতায় যুগে যুগে বিভিন্ন নিরীক্ষার ভেতর দিয়ে এগিয়েছে ভাষা তথা কবিতা। বাংলা সাহিত্যের আদিতম নিদর্শন চর্যাপদ থেকে এই উদ্ধৃতি দেবার উদ্দেশ্য অন্য কিছু নয় বরং এখানে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে কবি নূরুল হুদা তাঁর নিজস্ব কাব্যভাষা নির্মাণে কতটা অগ্রসরকামী অথবা তিনি কতটা সচেষ্ট স্বাতন্ত্রধর্মী কাব্যধারার বিনির্মাণে। নিঃসন্দেহে কবি নূরুল হুদা আধুনিককালের আধুনিকতম কবি। কোথাও কোন সাযুজ্য না থাকলেও চর্যাপদ-এর পঙক্তিগুলোর সাথে যেন হুদার কবিতা ভাববিনিময় ঘটিয়েছে সংগোপনে, হয়তো অবচেতন মনেই, কিন্তু উৎকর্ষের জায়গাটি হল দেখার ভিন্নতা। কবি নূরুল হুদা আধুনিকতম চিন্তার বিচিত্র-মুখী প্রকাশের মধ্য দিয়ে নতুনত্বর দিকে পাঠককে আহ্বান করেন- পাঠককে উপেক্ষা করার সুযোগ না দিয়েই। (সম্পূর্ণ…)

ডেভিড হোয়াইটের কবিতা: অপরাহ্ণের নারী

আনন্দময়ী মজুমদার | ২৪ অক্টোবর ২০১৬ ১০:৪৯ অপরাহ্ন

Davidডেভিড হোয়াইট একজন ইংরেজ কবি। তাঁর মা আয়ারল্যান্ড এবং বাবা ইয়র্কশায়ারের মানুষ। জন্ম ২ নভেম্বর ১৯৫৫। তাঁর বক্তব্য, তাঁর সমস্ত লেখা যেন ‘বাস্তবতার সঙ্গে আলোচনা’। তাঁর অনেক ক’টি গদ্য ও কবিতার বই এর মধ্যে The Heart Aroused: Poetry and the Preservation of the Soul in Corporate America (১৯৯৪) যুক্তরাষ্ট্রের বেস্টসেলারের তালিকায় শীর্ষে ছিল।

তিনি নিজের প্রাকৃতিক প্রতিবেশের শৈশবকে ওয়ার্ডসওয়ার্থের সঙ্গে তুলনা করেছেন। হোয়াইটের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি সমুদ্র জীববিদ্যায়।

বিশের কোঠায় ডেভিড একজন প্রকৃতিবিদ হিসেবে গ্যালাপাগোস দ্বীপে থাকতেন, সেখানে হুড দ্বীপের কাছে তিনি খুব নিকটবর্তী সলিল সমাধি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তিনি নৃতত্ত্ব এবং ইতিহাসের গবেষক হিসেবে দুঃসাহসিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন, গেছেন আন্দেজ পর্বতে, আমাজন অরণ্যে, হিমালয়ে।

হোয়াইট ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে তাঁর লেখালেখি এবং বক্তা হিসেবে তার বৃত্তি শুরু করেন। ১৯৮৭ থেকে তিনি তাঁর কবিতা এবং দর্শনকে বিপুল জনসভায় নিয়ে যেতে থাকেন। এর মধ্যে ছিল আমেরিকা ও ব্রিটেনে নেতৃত্বের সাংগঠনিক ভূমিকার ওপর এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানে ও ব্যবসায় সৃজনশীলতার ব্যবহার সম্বন্ধে পরামর্শ এবং বক্তব্য উপস্থাপন করা। তিনি সেই সূত্রে বোয়িং, এটিএন্ডটি, নাসা, টয়োটা, দ্য রয়েল এয়ার ফোর্স এবং আর্থার এন্ডারসন একাউন্টেন্সি গ্রূপের সঙ্গে কাজ করেছেন।

হোয়াইট-এর সাতটি কবিতার এবং চারটি গদ্যের বই রয়েছে। তাঁর Pilgrim (২০১২) বইটি মানুষের পথিক হিসেবে নিজেকে দেখার, ও যাত্রা করার মানবিক প্রয়োজনীয়তার কথা আছে। The House of Belonging এ আছে ঘরের, গৃহের প্রয়োজনের কথা। Everything Is Waiting For You (২০০৩) বইটির কবিতা তাঁর মা’র মৃত্যুর শোক থেকে জন্ম নেওয়া ব’লে তিনি দাবী করেছেন। সাম্প্রতিক বই Consolations: The Solace, Nourishment and Underlying Meaning of Everyday Words| তিনি হাফিংটন পোস্ট বা অবজারভার-এর মতো অনেক খবরের কাগজের জন্য লিখেছেন। আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং ইতালিতে তিনি প্রায়শ কবিতা এবং সমবেত ভ্রমণের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। -ডেভিড হোয়াইট
আনন্দময়ী মজুমদারের তর্জমায় এখানে হোয়াইটের ‘মিড লাইফ উওম্যান’ কবিতাটি বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

আজাদুর রহমানের গুচ্ছকবিতা

আজাদুর রহমান | ২৪ অক্টোবর ২০১৬ ১:০২ অপরাহ্ন

farzanaজলের অরফানেজ

বহুদিন ফেরেনি ওরা
জলের অরফানেজ খুলে
রাজহাঁস,
পথিক গিয়েছে দূরে
পড়ে আছে পথের মন,
এবার তুই এলে
-এ নিস্তব্ধতা ভেসে যায়।
শামুকের আলজিবে
লবনের কিন্নর
দেয়ালের পর দেয়াল
বয়ে গেছে সেই রোলে।
এবার তুই এলে
-নিভে যায় শোকমিছিল।
আঙুল, ইশারা
অবহেলা এখন
ছায়ারা নেমেছে শরবতে
এবার তুই এলে
-খুলে যায় নিরালা মক্তব
কবে আসবি তুই? (সম্পূর্ণ…)

কবি শামসুর রাহমান স্মরণে কবিতা: হাসপাতালের বেডে কয়েকটা কমলালেবু

মাজহার সরকার | ২৩ অক্টোবর ২০১৬ ৭:৪৩ অপরাহ্ন

shamsur-rahman-101হাসপাতালের বেডে ওই লোকটা
নদীর মতন সরলরেখায় শুয়ে আছে
শিশুর আঙুলে দুরন্ত ফড়িঙের পাখা তার
সাদা এক জোড়া কাচের চোখ।
পাশে চিন্তিত মহিলা চুলে মেখে দেয় কালো চিরুনির স্নেহ
আঙুলের ফাঁক দিয়ে ঝড়ে পড়ে সোহাগ
মাছের হৃদয় হয় পুকুরের জলের সমান
পৃথিবীর মতো গোল, কিছুটা চ্যাপ্টা ও সামান্য রুগ্ন
কয়েকটা কমলালেবু টেবিলের কারুণ্য নিয়ে উজ্জ্বল
টেপ খাওয়া হাড়ির মতো কলকল হেসে উঠে।
কমলালেবু আসে কমলালেবু যায়
প্যাকেটের ভেতর স্থবির সুস্বাদু শরীরের
পতনে, কমলার রক্ত লাফিয়ে নামে আমাদের বিলম্বিত
সৌজন্যের শোকে, এখন কেমন আছেন ভাই? (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিকের কবিতা: যেহেতু সে ধুলো মাখে, ধুলোর চেয়েও অগণন

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২৩ অক্টোবর ২০১৬ ১:৩৯ অপরাহ্ন


কবিকে রেহাই দেবে কে?

মাগো, তবে কাদের বাড়ির খুদে
ভরে উঠল ভাঙাথালা
কান্নায়, চিৎকারে

মাগো, তবে কাদের ঘরের ত্যানা
আমাকে জড়িয়ে নিল
রক্তহিম সরোবরে

মাগো, তবে কাদের গ্যাঁজালো পান্তা—
পেটের ভিতরে ঢুঁড়ছে
বেদম হাত পা

মাগো, মা কাদের সোহাগে ঘেন্নায়
ভিড়মি খেতে খেতে যেন
ফুল ফুটছে তারা ডাকছে

শরীরের কন্দরে কন্দরে ক্ষত ফাটছে
যেন মসলা পিষে পিষে কেউ
মাগো, ধুয়ে ফেলছে পাটা।

(মাগো, মা; মোহাম্মদ রফিক)

Mohammad Rafique-3এইভাবে একজন কবি জাগিয়া উঠেন ভাঙনের মুখোমুখি। দেশকাল, গোত্রজাতপাতহীন এই দেশে যখন কবিরা চিৎকার করিয়া বলিতে থাকেন ‘আমাদের কোন দেশ নাই’ তখন মোহাম্মদ রফিক দেখাইয়া দেন, না, কবিতা আসমান হইতে নাজিল হয় না, অন্যভাষা বা দেশ হইতে ধার করিয়া বদলানো শব্দাবলীতে কিংবা আইডিয়াতে হইয়া ওঠে না, কবির কাব্যবোধ অবশেষে কিংবা সবশেষে পানি পায় নিজভূমেই— দেশজ পৈঠায়। (সম্পূর্ণ…)

আসমানী যানবাহন সম্পর্কিত মসজিদের বিজ্ঞপ্তি

আফসান চৌধুরী | ২২ অক্টোবর ২০১৬ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

মগবাজার বেগুনবাড়ী মসজিদের অন্যতম প্রধান আলেম জানাইতেছেন যে গভীর রাতে আকাশে চলাচলকারী যানবাহনের দিকে গুলি, ঢিল, পাথর নিক্ষেপ করা ঠিক না যেহেতু এদের মধ্যে কিছু কিছু রুহ বহনকারী যানবাহন থাকতে পারে। তিনি আরও জানান যে মগবাজার বেগুন বাড়ী খালের কাছে বেশ কিছু জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে যাতে নতুন একটি গোরস্থান নির্মান করা যায় মানুষের চাহিদা মেটানোর জন্য।

১. মগবাজার
গোটা এলাকা জুড়ে অস্ত্র উদ্ধার চালানোর কালে যাদের সন্দেহ হয় তাদের বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের প্রহার করা হয় এবং এতে অনেকেই স্বীকারোক্তি দেয় অস্ত্রের ব্যাপারে। অবশ্য যাদের কাছে কিছু পাওয়া যায়নি তাদের সাথে করমর্দন ও যৌথভাবে জিন্দাবাদ ধ্বনি দেওয়া হয়। যাদের মুখে বন্দুক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল তারা চোয়াল নাড়াতে না পারায় বিভিন্ন আওয়াজ ও অঙ্গভঙ্গি করে তাদের সমর্থন জানায় এই কার্যক্রমের প্রতি।

২. গভীর রাতে আকাশে
প্রহারের পর আর নিদ্রা যাওয়া কঠিন হাওয়ায় সে ছাদে যায় হাওয়া খেতে এবং দেখে তার মাতামহ হুইল চেয়ারটিতে পড়ে আছে। কয়েকজন সেই ভাঙা বাহনটি সরানোর চেষ্টা করছে। কাছে গেলে তারা জানায় যে যখন তার উপরে প্রহার চলছিল তখন তার নানা মারা যায় এবং তারা ওনাকে নিতে এসেছেন আসমানে। কিন্তু যেহেতু তিনি একজন দেহভারী মানুষ তাই তারা উড়তে গিয়ে চেয়ারটির সাথে কর্নিসের ধাক্কা লাগায়। তাই তারা হুইল চেয়ারটি এখানেই সারিয়ে নিচ্ছেন যাতে যদি এটি উপরে গিয়ে দরকার হলে ব্যবহার করা যায়। তার নানার মৃত্যুতে তার কষ্ট নয় স্বস্তি হলো যেহেতু তিনি অনেক দিন ধরে ভুগছিলেন কিন্তু মরছিলেন না। তার চেহারা বেশ মৃত মৃত বলে ঠাহর হলো তার। একসময় কাজ শেষ হলে তারা তার নানা উপবিষ্ঠ হুইল চেয়ারটিসহ বাড়ীর চারদিকে, যেটি তিনি একসময় নিজেই নির্মাণ করেছিলেন, কয়েক বার ঘুরপাক খেয়ে আকাশে মিলিয়ে যায়। মনে হলো প্রস্থানকালে মৃধু হেসে নানা তার দিকে হাত নেড়ে বিদায় জানালেন আকাশ থেকেই। (সম্পূর্ণ…)

জীবনানন্দ-র উত্তরসামরিকী

ওমর শামস | ২১ অক্টোবর ২০১৬ ৪:২৪ অপরাহ্ন

Jibanananda‘উত্তর সামরিকী’, জীবনানন্দ-র অসাধারণ গদ্য-কবিতা। কতো বড়ো কল্পনা-প্রতিভা থাকলে, কতো গভীর-নিবিড় ইতিহাসবোধ থাকলে,ধাবমান বর্তমানকে ধরে বুঝবার জন্য কতো প্রত্যুৎপন্নতা থাকলে, বর্তমানে আচ্ছন্ন হয়েও ভবিষ্যতকে কম্পাসে রাখতে কতো দূরদর্শিতা থাকলে, কবিতা-সাধনায় কতো ঐকান্তিক হলে, ‘বাদামের খোসার মতো বিশুষ্ক’ বিষয়কেও প্রকাশ করা যায় ধ্বনি অনুরণিত চিত্রকল্পে – মানে কবিতায়! শুধু প্রজ্ঞা বা স্থান-কাল-ইতিহাসই নয়, মানুষের জন্য কতোটা ভালোবাসা থাকলে এমন একটি কবিতা, ‘উত্তর সামরিকী’ লেখা যায়, আমারা বুঝে উঠতে চেষ্টা করবো। উদ্ধৃত করা যাক :

উত্তর সামরিকী

আকাশের থেকে আলো নিভে যায় ব’লে মনে হয়।
আবার একটি দিন আমাদের মৃগতৃষ্ণার মতো পৃথিবীতে
শেষ হয়ে গেল তবে– শহরের ট্রাম
উত্তেজিত হয়ে উঠে সহজেই ভবিতব্যতার
যাত্রীদের বুকে নিয়ে কোন এক নিরুদ্দেশ কুড়োতে চলেছে।
এই পায়দলদের ভিড়– ঐ দিকে টর্চের মশালে বার-বার
যে যার নিজের নামে সকলের চেয়ে আগে নিজের নিকটে
পরিচিত; ব্যাক্তির মতন নিঃসহায়;
জনতাকে অবিকল অমঙ্গল সমুদ্রের মতো মনে ক’রে
যে যার নিজের কাছে নিবারিত দ্বীপের মতন
হয়ে পড়ে অভিমানে– ক্ষমাহীন কঠিন আবেগে।

সে মুহূর্ত কেটে যায়: ভালোবাসা চায় না কি মানুষ নিজের
পৃথিবীর মানুষের? শহরে রাত্রির পথে হেঁটে যেতে যেতে
কোথাও ট্রাফিক থেকে উৎসারিত আবিল ফাঁস
নাগপাশ খুলে ফেলে কিছুক্ষণ থেমে থেমে এ-রকম কথা
মনে হয় অনেকেরি:
আত্মসমাহিতিকূট ঘুমায়ে গিয়াছে হৃদয়ের। (সম্পূর্ণ…)

ম্যানুয়েল ডি বারোসের কবিতা

মাজুল হাসান | ২১ অক্টোবর ২০১৬ ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

Manoel de Barrosব্রাজিলের কবি ম্যানুয়েল ডি বারোস। পুরো নাম ম্যানুয়েল ওয়েসেসলাও লেইতে ডি বারোস। বিশ্বসাহিত্যে সেই অর্থে বহুল পরিচিত ও পঠিত না হলেও ব্রাজিলিয়ানদের কাছে তিনি এক অলঙ্ঘনীয় কবিচরিত্র। জন্ম ১৯১৬’র ১৯ ডিসেম্বর কিউবায়। মৃত্যু ১৩ নভেম্বর ২০১৪, ব্রাজিলের কাম্পো গ্রান্ডে। প্রায় ৯৭ বছরের দীর্ঘ জীবনে তিনি লিখেছেন অজস্র কবিতা। লাভ করেছেন বহু পুরস্কার। ব্রাজিলের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার প্রেমিও জাবুতি বা টরটোয়েস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন দুই বার। সামগ্রিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৮ সালে পেয়েছেন ‘National prize of Literature of the Ministry of the Culture from Brazil’ পুরস্কার। ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্ততুল্য কবি কার্লোস দ্রুমন্ড ডি অ্যান্ড্রেড বারোস’কে বলেছিলেন কবিশ্রেষ্ঠ। পর্তুগিজ ভাষার এতো বড় একজন কবি, কিন্তু দুঃখজনক হলো তার সৃষ্টি দেশের গণ্ডি পেরুতে পারেনি। বারোসের কবিতার প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র ইংরেজী সংস্করণ Birds for a Demolition। কার্নেগি মিরান ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে বের হয় ২০১০ সালে। অনুবাদ করেন ইদ্রা নোভি, যিনি নিজেও একজন উদীয়মান মার্কিন কবি, ঔপন্যাসিক ও ফিকশন লেখক। মূলত তার অনুবাদের পর বারোসকে চেনে বিশ্ব। Birds for a Demolition–এর রিভিউয়ে এক লেখক আক্ষেপ করে বলেছিলেন- এটা দুঃখজনক যে এমন একজন শক্তিশালী কবির কবিতা এতোদিন ইংরেজিতে অনুবাদই হয়নি। পর্তুগিজের বাইরে বারোসের কবিতা প্রথম অনুবাদ হয় জার্মান ভাষায়, ১৯৯৬ সালে। এরপর ২০০৩-এ ফরাসি ও ২০০৫-এ স্প্যানিশ ভাষায় বের হয় বারোসের কবিতা সংকলন। বাংলায় মেনুয়্যাল ডি বারোসের কবিতার অনুবাদ এই প্রথম। ইড্রা নোভি’র ইংরেজি সংস্করণ থেকে বারোসের কবিতাগুলো ভাষান্তর করেছেন কবি মাজুল হাসান

প্রথম দিন

গতকাল বৃষ্টি ঝরেছিল ভবিষ্যতে
জল শুষে নিয়েছিল আমার বিহ্বলতা
ঘুমপোশাক
বাসনকোশন
একটা ছিপির মতো ভেসে গিয়েছিলাম বানের তোড়ে
ডাকটিকেটের মতো হালকা আমার ডোঙ্গানৌকা
জলের নেই কোনো সীমা-পরিসীমা
দেখা যাচ্ছে শুধু আকাশ আঙিনার আভাস
(শকুনি কি আমাকে দেখছে শ্যেন দৃষ্টিতে?)
পাতার সাথে সার বেধে আছি দাঁড়িয়ে
পামগাছের গোড়া থেকে কারান্ডা ফল খেয়ে যাচ্ছে মাছ (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com