সাইমন জে. অর্টিজ-এর কবিতা

মুহাম্মদ সামাদ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১২:১০ অপরাহ্ন

saimonসাইমন জে. অর্টিজ একাধারে কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক। অগ্রগামী আদিবাসী আমেরিকান এই কবির জন্ম ১৯৪১ সালের মে মাসে। তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা পঁচিশের অধিক। অনূদিত হয়েছেন ইতালীয়, স্প্যানিশ ও চীনা ভাষায়। দেশে-বিদেশে অনেক পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ইংরেজি সাহিত্যের প্রবীণ এই আমেরিকান অধ্যাপকের আগ্রহের ক্ষেত্র আদি আমেরিকানদের ভূমি-অধিকার, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, শিল্প-সাহিত্য ও সৃজনশীল লেখালেখি বিষয়ের নতুন ভাবনায় ও পাঠদানে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের অ্যাকোমা পুয়েবলো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সন্তান সাইমন জে. অর্টিজ মার্কিন যুক্তরাষ্টের আদিবাসীদের একজন প্রতিনিধিত্বকারী কবি ও সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে সর্বদা সক্রিয়। কবিতাগুলো অনুবাদ করেছেন মুহাম্মদ সামাদ।


টিকে থাকতে

To Insure Survival

তুমি সামনে বেরিয়ে আসো
ভোরবেলা পর্বতের গায়ে
পাথরের রঙ বদলায়
ধরিত্রীর সব রঙ
নীল থেকে লাল হয়ে যায়।

দাদি-মাকড়সা কথা বলে,
হাসি আর বেড়ে ওঠা
জামাকাপড় বুনন
জীবন সৃজনে
এক সুঁতোয় একত্রে বেঁধে
তাদের পরিয়ে দেয়া;
সবকিছু এই সব কিছু। (সম্পূর্ণ…)

পৃথিবীর ছায়া

দীপেন ভট্টাচার্য | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৬:৫৮ অপরাহ্ন

১.
সে অনেক দিন আগের কথা। বছর ত্রিশ তো হবেই। আমরা থাকতাম ময়মনসিংহ শহরের আমলাপাড়া এলাকায়, তখ্নও সেই শহরে কিছু বাংলো বাড়ি অবশিষ্ট ছিল, তাদের সামনে ছিল মাঠ, পেছনে বাগান, বড় আঙ্গিনা বা পুকুর। আমরা যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম সে বাড়িটা ছিল দোতলা, পুরনো জমিদার বাড়ি, সামনে প্রায় বিঘাখানেক ফাঁকা জমি। ঐ শহরে অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাটবাড়ির ধারণা তখনও আসেনি, কিন্তু আমাদের বাড়িতে তিনটে পরিবার ভাড়া থাকত। ওপরে একটি, নিচে দুটি। বাড়িওয়ালা এমনভাবে নিচের তলাটি ভাগ করে দিয়েছিলেন যাতে অন্য অংশটির ভাড়াটেদের দেখা না যায়। বাড়ির সামনে একদিকে একটা বড় আম গাছ, অন্যদিকে গাঁদা আর জবার ছোট বাগান। তারকানাথ রায় রোড থেকে শুরু করে ঘাসের মধ্যে দিয়ে পায়ে চলা পথটা একটা ছোট সিঁড়ির তিন চারটা ধাপ বেয়ে উঠে এসেছে নিচু বারান্দায়। সেই সিঁড়ির এক একপাশে তিনটে করে জমিদারি কায়দার স্তম্ভ, স্তম্ভের ওপরের চার কোনায় উদ্ভিদ ও ফুলের কারুকাজ। বারান্দাটা পেরিয়ে একটা বড় প্রশস্ত সিঁড়ি উঠে গিয়েছিল, সেটা একটা ল্যান্ডিং পৌঁছে পুরো ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে দোতলায়, তারপর আবার একেবারে তেতলার ছাদে। বাড়ির পেছনে একটা ছোট আঙিনা, লিচু, নিম, কাঁঠাল এরকম কিছু গাছ ছিল। গ্রীষ্মের সবচেয়ে তপ্ত দিনেও ঘন ছায়া ঘেরা থাকত সেই আঙিনা। বাইরের মাঠে খেলতাম ব্যাডমিনটন, ভেতরের আঙিনায় লুকোচুরি।

Dipen-2বারান্দায় উঠে ডানদিকে গেলে বাঁদিকে পড়বে আমাদের বাসা। আমার নাম অমল। আমি যে দুবছরের কথা বলছি তখন আমার বয়স নয়/দশ হবে। পড়তাম মৃত্যুঞ্জয় স্কুলে, ক্লাস ফ্লাইভ আর পরে সিক্সে। আর আমার বড় ভাই বিমলদাদা পড়ত আনন্দমোহন কলেজে। সে তখন লায়েক, বাসায়ই থাকত না বেশীরভাগ সময়। আর আমাদের সবচেয়ে যে বড়, সে হল কমলাদিদি, সে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ত, রোকেয়া হলে থাকত। এছাড়া বাসায় আমার মা ও বাবা। বাবা তখন জেলা আদালতে ওকালতি করতেন আর মা বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াতেন। দেশভাগ হলে আমাদের মাসী-পিসী কাকা-মামা গুষ্ঠিশুদ্ধ কলকাতা চলে গিয়েছিল। আমার মাতামহ ও পিতামহ রয়ে গিয়েছিলেন, নিজের দেশে নতুনভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে তাদের বেগ পেতে হয়েছিল। দেশের নানান টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে তাঁদের সন্তানরা যে যেমনভাবে পারে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিল। (সম্পূর্ণ…)

কবি শহীদ কাদরী: আড্ডার উজ্জ্বল পুরুষ ও কবিতার মুহূর্ত

ফারুক আলমগীর | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

border=0উনিশো বাষট্টির প্রারম্ভে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম পাঠ গ্রহণের দিনগুলো ছিলো মিছিলে মুখরিত, অতিশয় অগ্নিগর্ভ। আইয়ুবের দুঃসহ সামরিক শাসনের সঙ্গে যোগ হয়েছে শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্র-সমাজের তুমুল বিক্ষোভ। সেই এক অস্থির সময়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড স্তব্ধ হয়ে থাকেনি। তুমুল আন্দোলনের মুখে বছরের শেষে সরকার শিক্ষানীতি বাতিল করতে বাধ্য হয়। আন্দোলন স্তিমিত হয়ে কিছুটা শান্তি ফিরে এলে তেষট্টির প্রারম্ভ থেকে পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের শ্যাওলা-জমা দেয়ালগুলো নতুনতর স্পর্শে জেগে ওঠে। একদিকে সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে কবিতার বাণীতে আর আকর্ষণীয় ভাষায় বিস্ময়কর পোস্টারগুলো যেমন নবীনদের মধ্যে প্রেরণার সৃষ্টি করে, অন্যদিকে নতুন ও ব্যতিক্রমী ধরনের সাহিত্য সংকলন গোটা বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে নবতরঙ্গের যবনিকা উন্মোচন করে।

অগ্রজ কবি শহীদ কাদরীর সঙ্গে আমার এবং আমাদের ষাট দশকের নতুন ধারার ব্যতিক্রমী সাহিত্য আন্দোলনের সতীর্থদের কখন প্রথম সাক্ষাৎ ঘটেছিলো মনে নেই। দুর্বল-চিত্ত স্মৃতির কারণে তথাপি সমাচ্ছন্ন নয় এমন অনেক ঘটনা এখনো আমাকে তাড়িত করে। ‘বহুব্রীহি’, ‘প্রতিধ্বনি’, ‘স্বাক্ষর’, ‘সাম্প্রতিক’, ‘কালবেলা’ ও ‘কণ্ঠস্বর’-এর জয়যাত্রা এবং আলোচিত সমালোচিত কালের একটা সময় জুড়ে শহীদ কাদরীই ছিলেন আমাদের একজন অনন্য প্রাতিস্বিক ব্যক্তিত্ব। আমাদের সাহিত্য আন্দোলনের পালের গোদা (কবি রফিক আজাদের দেয়া অভিধা) অগ্রজ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সমবয়সী হলেও আমাদের সম্পর্ক ছিলো অন্যরকমের যা একটা স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যের দাবীদার। সায়ীদ ভাই-এর সঙ্গে আমাদের ভালোবাসা, কঠিন তাত্ত্বিক আলোচনা, কথোপকথনে হাসি-মশকরার মধ্যে একটা সিরিয়াসনেসের দেয়াল ছিলো; শহীদ কাদরী আর আমাদের মাঝে কোন দেয়াল ছিলো না। প্রাচীরবিহীন সম্পর্কে সমতল প্রত্যক্ষ করা যায় দিগন্তের কোল পর্যন্ত, শহীদ কাদরী আর আমাদের সম্পর্ক তাই দিগন্ত ছুঁয়েছিলো।

‘স্বাক্ষর’, ‘কণ্ঠস্বর’-এর কবিদের সঙ্গে শহীদ কাদরীর নিত্য উঠা-বাসা থাকলেও ‘স্বাক্ষর’-এ তাঁর কোন স্বাক্ষর ছিলো না অথচ ‘স্বাক্ষর’ ও ‘কণ্ঠস্বর’-এর করিবাই ছিলো তাঁর সবচাইতে কাছের মানুষ, যেমন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবদুল মান্নান সৈয়দ রফিক আজাদ, আসাদ চৌধুরী, সিকদার আমিনুল হক, শহীদুর রহমান, ইমরুল চৌধুরী, প্রশান্ত ঘোষাল, রণজিৎ পাল চৌধুরী– সকলেই তাঁর অনুজ ও প্রিয়ভাজন ছিলেন। তবে স্বাক্ষর গোষ্ঠি ও কণ্ঠস্বর-এর এতগুলো সৃজনশীল মানুষের সঙ্গে সখ্য ও ভালোবাসা থাকলেও কবি শহীদ কাদরী বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে, মধুর ক্যান্টিনে কোনদিন আড্ডা দেননি, যদিও তাঁকে কদাচিৎ শরীফ মিয়ার ক্যান্টিনে দেখা গিয়েছিলো। তাও আবার তাঁর পুরোনো ঢাকার আড্ডার একজন প্রিয় অনুজ মাহবুব আলম জিনুর সন্ধ্যানে এসেছিলেন বলে। এই মাহবুব আলম জিনু জগন্নাথ কলেজে একদা সেকদার আমিনুল হকের সতীর্থ ছিলো এবং জিনুর মাধ্যমেই বিশেষ করে আমার শহীদ কাদরীর সঙ্গে প্রগাঢ় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: সিরিয়াস সাহিত্যের গুরুত্ব, নতুন আয়রনম্যান ও এলবির প্রয়াণ

নাহিদ আহসান | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৯:১২ অপরাহ্ন


সিরিয়াস সাহিত্যের গুরুত্ব

Readerপাঠকের মনে সংবেদনশীলতা সৃষ্টিতে সাহিত্যই শ্রেষ্ঠ। কিন্তুু প্রশ্ন হলো কোন সাহিত্য। সাহিত্যের রয়েছে বহু শাখা যার একটা ধারা হচ্ছে সমকালে অজনপ্রিয় কিন্তু ধীরে ধীরে তা জনপ্রিয় হতে থাকে অর্থাৎ যাকে আমরা চিরায়ত সাহিত্য বলি। আর অন্য একটি ধারা হচ্ছে জনপ্রিয়। কিন্তুু সাহিত্যের জনপ্রিয় ধারা কোনগুলো–সেটা কি আপনি জানেন? সেটা থ্রিলার হতে পারে, রোমান্স হতে পারে কিংবা অ্যাডভেঞ্চারও হতে পারে, এমনকি উচ্চবিত্তের জীবন যাপন নিয়ে লেখা উপন্যাসও সাহিত্যের জনপ্রিয় ধারার মধ্যে পড়তে পারে। কিন্তু যা উন্নত সাহিত্য তা কিন্তু শুধু বিনোদনের যোগান দেবে না, মানুষকে চিন্তার খোরাক দেবে, হৃদয়ের গভীর গোপন তলদেশে আলোড়ন তুলবে, অন্যের অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করবে। সালমান রাশদী, হার্পার লি এবং টনি মরিসনের মত লেখকরা পাঠকদের অন্যের অনুভূতি বোঝার মত মন তৈরি করতে সাহায্য করেন। কিন্তু ডেনিয়েল স্টীল বা ক্লাইভ কাসলারের মত লেখকরা সেটা পারেন না। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তাই প্রমাণিত হয়েছে। প্রসঙ্গত ডেনিয়েল স্টীলের প্রিয় বিষয় উচ্চবিত্তদের জীবনের নানা সমস্যা। যারা টিভি সিরিজ ‘ডালাস’ দেখেছেন, তারা বুঝতে পারবেন বিষয়টি কী। এখনকার হিন্দি সিরিয়ালেও জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য এ বিষযটিকে উপজীব্য করা হয়। ভারতের শোভা দের লেখালেখির মূল পটভূমিও কিন্তু তাই। ক্লাইভ কাসলারের প্রিয় বিষয় থ্রিলার যার মূল কাজ শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার সৃষ্টি করা। থ্রিলার বা উচ্চবিত্তের জীবনযাত্রা –এইসব ঘরানার লেখা পাঠক পড়তে ভালবাসে। কিন্তু পাঠকের মননের মৌলিক উৎকর্ষে বা অন্যের মনস্তত্ব বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এদের কোন ভূমিকা নেই। সাহিত্যের লেখকরাই পাঠকদের মন ও মনন তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। হার্পার লি এবং টনি মরিসনের মত লেখকদের সাহিত্য পাঠ, পাঠককে বুঝতে সাহায্য করে অন্যের চিন্তা-ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি। (সম্পূর্ণ…)

এডওয়ার্ড অ্যালবি’র অভিজ্ঞানহীন নান্দনিক জীবনাবসান

আবদুস সেলিম | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৭:০৩ অপরাহ্ন

Albeeনাট্যকার এডওয়ার্ড অ্যালবি গতকাল (১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬) ৮৮ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। তিনি সর্বমোট সতেরটি নাটক, বেশকিছু প্রবন্ধমালা এবং তার নিজ নাটক দ্য জ্যু স্টোরির জন্য সঙ্গীত রূপরেখা রচনা করে গেছেন তার এই দীর্ঘ নান্দনিক জীবনযাত্রায়।
বিংশ শতাব্দীর একজন প্রথম সারির মার্কিন তথা বিশ্বের নাট্যকার হিসেবে এডওয়ার্ড অ্যালবিকে গণ্য করা হয় ইউজিন ও’নীল, আর্থার মিলার এবং টেনেসি উইলিয়ামস-এর সাথে। অ্যালবি একমাত্র নাট্যকার যিনি তিনবার পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
চরিত্রের সুক্ষ্ম চিত্রনের কারণে অ্যালবির ওপর চেখভ এবং টেনিসি উলিয়ামসের প্রভাবের বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না, যদিও অ্যালবি ‘ল্যাবেলিং’ বা গায়ে অভিজ্ঞান লাগানো পছন্দ করতেন না।
এডওয়ার্ড অ্যালবি-র জম্ম ১৯২৮ সালে। অ্যালবি গত শতাব্দির পঞ্চাশের দশক থেকে নাটক লেখা শুরু করেন। পরবর্তি কয়েক বছরে তাঁর রচিত বেশ ক’টি একাঙ্কিকা লক্ষনীয়ভাবে লোকগ্রাহ্য হয়ে ওঠে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৫৯-এ রচিত দ্য জু স্টোরি। কিন্তু অ্যালবির খ্যাতি মূলত ১৯৬২-তে তার প্রথম লেখা পূর্ণাঙ্গ নাটক হু’জ আফ্রেইড আভ ভার্জিনিয়া উল্ফ্-এর মাধ্যমে যেটি এলিজাবেথ টেইলর ও রিচার্ড বার্টন-এর অভিনয়ে ১৯৬৬ সালে চলচ্চিত্রায়িত হয়। (সম্পূর্ণ…)

তারিক সুজাতের কবিতাগুচ্ছ

তারিক সুজাত | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

এ কোন পৃথিবী

প্যারিসের আকাশ খুলে যায়
মিউনিখের গোধূলিতে
ইস্তামবুলের সকাল কিম্বা ঢাকার দুপুর
একই আলোয় স্নান সেরে নেয়!

আজ সারাদিন
কোথায়ও কোনো বিস্ফোরণ নেই
মৃত্যুর সংবাদও জানায়নি কোনো সংবাদ সংস্থা
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা ছিলো
ঝকঝকে তলোয়ারের মতো মেঘমুক্ত একটি দিন
রণক্ষেত্র থেকে তীর্থস্থান
সর্বত্রই শান্তির শীতল হাওয়া দেবে।
ধাবমান ট্রাক, ধারালো কুড়াল, জ্যাকেটবোমা শরীরে বেঁধে
কে তুমি অচেনা আত্মঘাতী
সিরিয়ার সরাইখানা আর আটলান্টার বারে
নিরুত্তর রাত্রির আড়ালে অন্ধ এক ক্রোধে
ওৎ পেতে আছো?
এ কোন পৃথিবী ঘনঘোর সেলফি জমানা
একই আকাশ শুধু খণ্ড খণ্ড ভূখণ্ডে ততোধিক
খণ্ডিত আদর্শ (সম্পূর্ণ…)

হয়তো বড়লোকরা ঈদ করছে

হাসান আজিজুল হক | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ৬:১১ পূর্বাহ্ন

ঈদ নিয়ে কথা বলা এক ঝক্কির ব্যাপার। আবার সবদিক বিবেচনা করে কথা বলাও মুশকিল। কিন্তু আমি জানি না, আমাদের যে ধর্ম, ইসলামের কথাই বলছি, তা কতটা প্রাণের মধ্যে মনের মধ্যে কতটা ধারণ করেছি আর কতটা যে প্রদর্শন করছি সেটা নিয়ে মাঝে মাঝে আমার সন্দেহ হয়। কারণ দেশে যেভাবে অপরাধপ্রবণতা আর অপরাধ বেড়েছে, কারণ ধর্মের নামে যে বিভৎস কাণ্ডকারখানা চলছে তাতে মনে হয় বর্তমান পৃথিবীর ওপর থেকে আমার আস্থা চলে গেল। বর্তমান পৃথিবীটা মানুষের পৃথিবী বলে আর মনে হয় না। বাংলাদেশ সম্পর্কে একই কথা মনে হয়, নানা ভাবে অপরাধ চাষ হচ্ছে। কেউ ধর্মের নামে করে কেউ ধর্ম বাদ দিয়ে করে, প্রতিনিয়ত অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। অসহ্য ব্যাপারগুলো হচ্ছে। এগুলো দমন করার জন্য নৈতিকভাবে যা করা দরকার তাহলো আমাদের দেশে যে সম্পদ আছে তার সুষম একটা বন্টন, সুষম একটা ব্যবস্থা। আমাদের রাজনীতিতে তা একেবারেই নেই। তাই এর বাইরে ঈদ বলতে আর কী হবে। হয়তো বড়লোকরা ঈদ করছে। বিরাট ব্যাপার হচ্ছে। আমরা তো জানি প্রোগ্রাম-টোগরাম কোনো কোনো অঞ্চলে প্রচলিত আছে। কী রকম মেজবান-টেজবান তারা করছে কোরবানীতে, ঈদে বারোটা-চব্বিশটা গরু জবাই করে। কিন্তু কী হয়েছে? তাদের ভেতর থেকে আমরা কেমন মানুষ পেয়েছি? ঈদে এলে বাল্যকালে যে আনন্দ অনুভব করতাম তাতে ফিরে যাই। তখন যেভাবে আঁতর মাখা হতো, আমাদের বাড়িতে কামাল আতাতুর্কের যে টুপি ছিল—গোল ও বড়, ঝালর দেয়া—তা মাথায় দিয়ে, পা-জামার সঙ্গে শার্ট বা জামা পড়ে গ্রামের বাইরে হাঁটতাম। তখন উৎসবের ভেতর সম্প্রীতির অনুভব ছিল।
তো এখন আনন্দ দেখি না কিন্তু। আমি কোনো কোনো বছর ঈদের ঠিক নামাজের পরই গাড়ি নিয়ে গ্রামের ভেতরে ঢুকে যাই। আশ্চর্য ব্যাপার, মনে হয় এমন নিরানন্দের ব্যাপার আর হয় না। কেউ কোথাও নেই, কেমন নিঝুম হয়ে রয়েছে। কোনো কোনো চায়ের দোকানে তিন-চারজন লোক টুপি মাথায় বসে রয়েছে। গল্প-গুজব করছে, কথা-বার্তা বলছে, এই পর্যন্তই।
দুই বছর আগে আমাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে দেখি লোকে লোকারণ্য। প্রচুর লোক। ভাবলাম এদের ঈদ উদযাপনটা তো ভাল। পরে বুঝলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে যে মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক আছে তারাই ঈদের জামা পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে গিয়েছে আরকি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আশেপাশে যে গ্রাম আছে, ওদিকে পদ্মা তীর পর্যন্ত, কোনো গ্রামে আমি উৎসবের ছোঁয়া পেলাম না। আমার দিক থেকেই এমন মনে হয়েছে কি না আমি জানি না। (সম্পূর্ণ…)

ঢাকার সেকালের ঈদ উৎসব

শামসুজ্জামান খান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:৫৭ অপরাহ্ন

ঢাকার সাবেককালের সমন্বিত সাংস্কৃতিক জীবনের কিছু নতুন দিক এখন ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। ঢাকার নওয়াবরা উর্দুভাষী হিসাবে বাঈজিনাচ, মহরমের মিছিল, ঈদোৎসব, কাওয়ালি বা জয়বারী গানবাজনার সঙ্গে যেমন জড়িত ছিলেন তেমনি হিন্দুদের দুর্গাপূজা, জন্মাষ্টমি, ঝুলনযাত্রা ইত্যাদিতেও যোগ দিতেন। নওয়াব পরিবারের ডায়েরিতে ঢাকার সমাজ ও সংস্কৃতি (সম্পাদনা- অনুপম হায়াৎ) গ্রন্থ থেকে জানা যাচ্ছে নওয়াবরা বাংলা নববর্ষ, নবান্ন, গায়ে হলুদ, মেয়েদের ঘুড়ি উৎসব, পৌষ সংক্রান্তি এমনকি ষষ্ঠী প্রভৃতি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান করতেন এবং এসব উৎসবেও অংশ নিতেন।
১৯১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি তারিখের খাজা মওদুদের ডায়েরিতে লেখা আছে : “আজ সোমবার। পৌষ-সংক্রান্তির দিন। নওয়াবজাদী আমেনা বানু আজ আহসান মঞ্জিলে ঘুড়ি ওড়ানো উৎসবের আয়োজন করেন। এতে তিনি শুধু মহিলাদের দাওয়াত দেন। মহিলাদের এই আনন্দ উৎসবে সারা দিন রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া ও নাচগানের এন্তেজাম করা হয়। পরের বছর নওয়াববাড়ির গোলতালার পারে পুরুষদের ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা বা ‘হারিফি’ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খাজা হুমায়ুন কাদের এতে অংশ নেন। এতে বিপুল দর্শক সমাগম ঘটে।”
ঈদোৎসবে নওয়াবরা নানা আমোদ-ফূর্তির ব্যবস্থা করতেন : যেমন কলকাতার ক্লাসিক থিয়েটারের নাটক ঢাকার নওয়াব বাড়িতে প্রদর্শন, জাদু ও সার্কাস দেখানো, বায়োস্কোপ দেখা বা কোনো খেলাধুলার আয়োজন। পাটুয়াটুলির ক্রাউন থিয়েটার, জগন্নাথ কলেজ, ন্যাশনাল মেডিকেল ইত্যাদির মঞ্চে বায়োস্কোপ দেখার তথ্য যেমন আমরা পাই তেমনি পিকচার হাউস, এম্পায়ার থিয়েটার ইত্যাদিতে সিনেমা উপভোগের রূপছায়াময় বিবরণ পাওয়া যায় নওয়াব পরিবারের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে। নওয়াবেরা ঈদের এমন সব বিনোদনে অংশগ্রহণের জন্য পরিবারের ছেলেমেয়েদেরও সুযোগ করে দিতেন ।
ঈদ নিয়ে নওয়াব বাড়িতে দু’একবার বিবাদ-বিসম্বাদও বেধে যায়। ১৯২০ সালের ২৫ আগস্টের খাজা শামসুল হকের ডায়েরিতে লেখা হয়েছে, ‘বকরা ঈদ নিয়ে নওয়াব বাড়ির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়। এক পক্ষে খাজা মোঃ আজম ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করেন যে, আজ বকরা ঈদ হবে। অপর পক্ষে নওয়াব হাবীবুল্লাহ ঢোল পিটিয়ে দেন যে, আগামীকাল ঈদ হবে। শেষ পর্যন্ত ওই বছর ঢাকায় দুই দিন বকরা ঈদ হয়। ১৯২২ সালের ঈদ-উল-আযহার ব্যাপারেও একই ঘটনা ঘটে।’ (সম্পূর্ণ…)

লিবিয়ার ঈদ, খাদ্যাভ্যাস ও আতিথেয়তা

আবদুস সেলিম | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:৩৭ অপরাহ্ন

আশির দশকে–যখন মুয়াম্মার গাদ্দাফির সুসময়–আমিসহ বেশকিছু বাংলাদেশি ইংরেজি শিক্ষক লিবিয়ায় শিক্ষকতা করতে গেছিলাম। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় সেই সময়ের বসবাসকে আমি একাধিক স্থানে ‘অসভ্যবাস’ সংজ্ঞায়িত করলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথার প্রতিধ্বনি করে বলতেই পারি ‘জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা।’ প্রায় চার বছরের একটানা সেই ‘অসভ্যবাসে’ আমার অভিজ্ঞতার অর্জন কম ছিলো না–অনেক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব ছিলো বলতেও দ্বিধা করব না।
লিবিয়া একটি বিশাল দেশ যার সাথে আরব মুসলমানদের সম্পর্ক সুনিবিড়। ইতিহাস বলে খ্রীস্টিয় ১৪৫ সালে সেপটিমাস্ সেভেরাস্ নামে এক রোমীয় সম্রাটের জন্ম হয়েছিল লেপটিস্ মাগনা নামে আফ্রিকার এক রোমীয় প্রদেশে যেটি বর্তমান লিবিয়ার অংশ যার নামকরণ হয়েছে বর্তমানে লেবদা বলে। এই সম্রাট ১৯৩ থেকে ২১১ পর্যন্ত রোমীয় সাম্রাজ্য শাসন করে। সেপটিমাস্ সেভেরাস্-এর তৈরী লেপটিস্ মাগ্না শহরের পূরাকীর্তি সংরক্ষিত আছে আজও যেখানে আমার যাবার সৌভাগ্য হয়েছিল।

এর অনেক পরে সপ্তম শতাব্দীতে মিশর থেকে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব লিবিয়ায়। লিবিয় মুসলমানরা বিশ্বাসে সুন্নি প্রশাখার তবে সেখানে সংখ্যা লঘু ক্রিস্টান ধর্মাবলম্বীও আছে। এক সময় বেশকিছু ইহুদি বসবাস করতো। মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনামলে অধিকাংশ ইহুদিই লিবিয়া ছেড়ে চলে যায় যদিও ত্রিপলি শহরে এখনও একটি বড় ইহুদি উপাসনালয় আছে। বলা হয় শেষ লিবিয় ইহুদির মৃত্যু হয় ২০০২ সালে।
লিবিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস বড়ই বিচিত্র। লিবিয়া বিভিন্ন সময়ে একাধিক বিদেশী শক্তি দ্বারা শাসিত হয়েছে-যেমন য়ূরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকা। প্রাচীন লিবিয়া, রোমীয় লিবিয়া, ইতালি শাসিত লিবিয়া এবং আধুনিক লিবিয়া-এই ছয় পর্যায়ে লিবিয় রাজনৈতিক ইতিহাস বিভক্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্র শক্তির আধিপত্যে–কারণ সেই সময় লিবিয়া ইতালির অধিনস্ত ছিল-লিবিয়ার শাসন ব্যবস্থায় ইংরেজ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। ১৯৪৪ সালে নির্বাসিত রাজা ইদ্রিস মুক্ত লিবিয়ার শাসনকর্তা হয় এবং ১৯৬৯-এ কর্ণেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতা দখল করে যার শাসন আমল সমাপ্ত হয় ২০১১-তে মার্কিন আগ্রাসনে। ফলে দেখা যায় রাজনৈতিকভাবে লিবিয়া যতই বৈচিত্রময় হোক না কেনো-লিবিয়া প্রধানত একটি সুন্নি মুসলিম দেশ যেখানে মানুষের জীবনযাত্রায় ইসলামি সংস্কৃতি ও চালচলনের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। আরবি ভাষাভাষি এই দেশটির সর্বমোট জনসংখ্যা আশির দশকে ছিলো মাত্র পঁচিশ লক্ষ যে সময়ে আমি লিবিয়ায় ছিলাম, যার মধ্যে কর্মরত আমার মতো বিদেশীও অন্তর্ভূক্ত, অথচ লিবিয়া ছিলো আফ্রিকার দশটি শীর্ষ স্থানীয় তেল উৎপাদক দেশের একটি। স্বাভাবিকভাবেই লিবিয়ার প্রতিটি মানুষই বিত্তবান। এমন একটি দেশে ঈদ উৎসব বা অন্যান্য উৎসব, খাদ্যভ্যাস এবং আতিথেয়তার সংস্কৃতি কেমন ছিলো স্বল্প পরিসরে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। (সম্পূর্ণ…)

চাইবাসা

কামরুল হাসান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১১:০৭ অপরাহ্ন

(কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে)

চাই গন্ধ, ধেনো মদ, দিশি নারী, অপ্রাকৃত গন্ধমের
দিকে ছুটে ছুটে নিজের বাড়িকে জানিয়ে গুডবাই,
চাই দৃপ্ত দায়হীন সঙ্গমের প্রকৃত লোভের কাছে
উদোম রমণী আর পরস্ত্রীকে আপনার ভাবা।

কালো শক্তি পাহাড়েরা খুলে রাখে শীতের পোষাক
মস্তপাখা হাতে বাতাস নিয়েছে ঢৌল ঢাউস-বাউস,
সাওতালী নিশিমুখ আর তেল চকচকে ঊরুর মান্দাস
এদের প্রভূত রীতি, গৃহিনীরা কবে যে সেসব শেখে?

প্রতি প্রাতে মাজা দাঁতে, টাইনটে অফিস অফিস
পুঁজির বাড়াতে তেজ দিনভর অর্থহীন আয়ুক্ষয়;
এদের দেখি অবিরত ঝর্ণা পোড়ে মুখে
কুলকুলি করে নেয় দু’একটা শালবৃক্ষ তুলে
দাঁত মেজে উত্তাল স্তনে ভারী কুলধ্বনিময়প্রীত!

রীতির বাইরে এসে খুব ভদ্র ঘরকে বলেছি একঘেয়ে
একটাই মানবজীবন ছকবাঁধা, দাঁতমাজা, পরাস্ত টাইনটে
তাই বুঝি চাইবাসা কেন ডাকে ঘরছাড়া আকুলবাউল
কেন ডাকে কবিদের ধেনো নারী, দিশি মদ, নিশি চাঁদ
মহুয়াস্বাদ খোলাবুক, পাহাড় অরণ্য আর অরণ্যরমণী! (সম্পূর্ণ…)

হৃদয়রক্ত দিয়ে লেখা কবিতা

ফয়সাল আহমেদ | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১০:০৮ অপরাহ্ন

border=0জীবনকে এতো ঘৃণা করি
আর এতো এতো ভালোবাসি
মৃত্যুকে এতো আহ্বান করি বারবার
গোপনে চাই তবু না আসুক কখনো
হায়, জীবন তবু ফুরিয়ে ফুরিয়ে যায়
আর মৃত্যু কেবলই ফিরে ফিরে আসে

(জীবন ও মৃত্যু, পৃষ্ঠা-৩১)
জীবন ও মৃত্যু সমন্ধে কবির এমন উপলব্ধি আমাদের নতুন করে ভাবায়। আমরা কত শতবার রেগে গিয়ে বলি আহারে মরণ হয় না কেন আমার! আশু এই মৃত্যু কামনা ব্যক্তি জীবনের চরম বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ। আবার পরক্ষণেই মনে মনে বলি মরণ, আশিস না কখনো, ও কথা আমার মন থেকে বলা নয়। চাইলেই কি তা হয়, মৃত্যু আসে, নিশ্চিতভাবেই আসে, ধুয়ে মুছে সব সাফ করে নিয়ে যায়। কবি সৈকত হাবিব তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ শহর যৌবন ও রাত্রির প্রকাশ দিয়েই জানান দিয়েছিলেন বাংলা কবিতার রাজ্যে তিনি টিকে থাকার জন্য এসেছেন এবং হয়েছেও তাই। পরবর্তীতে তার দ্বিতীয় কাব্য গ্রন্থ আমরা কেবলই চায়ের টেবিলে ঝড় দিয়ে তিনি তার প্রমাণ রাখলেন। দু’টি কাব্যগ্রন্থ্ই কবিতাপ্রেমী ও বোদ্ধা-পাঠকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। কবির পেশাগত ব্যস্ততার কারণেই হয়তো দীর্ঘ বিরতি দিয়ে প্রায় আট বছর পর লিখলেন তৃতীয় কাব্য গ্রন্থ রক্ত দিয়ে লেখো কবিতা(সম্পূর্ণ…)

Suraiya Akter Risha

Sanjida sumaiya

risha_edThe date was 24th August……
Breaking hour of Willis little Flower
As usual the street became thick of, navy blue and white
As usual a blooming flower Risha stepped out

Maybe she ate a plate of Fuchka with her friends,
Maybe she laughed her head off on a silly joke,
Maybe that was the last smile on her lips,
Maybe, who knows?

But one thing for sure is, she was being watched
Watched by dark eyes of evil
Watched by some blood –thirsty animal,

Risha, one of many young girls went up the foot-over bridge
Maybe she was in a group of other girls,
May be she was alone,
Maybe she saw the shiny-pointy tip of knife
Before she got stabbed
Again and again and again! (More…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com