কবি শহীদ কাদরীর প্রয়াণে অগ্রজ ও অনুজ কবিদের প্রতিক্রিয়া

অলাত এহ্সান | ৩১ আগস্ট ২০১৬ ১১:৪৪ অপরাহ্ন

Shahid-Kadree-singleপঞ্চাশের দশকের তিন দিকপাল কবির একজন শহীদ কাদরী। কবিতা কম্পাসে কাটা এখনো তার দিকে দিপ্যমান। স্বাধীনতার আগে থেকে তার যে তুমুল জনপ্রিয়তা তা এখনো অটুট। ১৪ বছর বয়সে বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিক ‘কবিতা’ পত্রিকা কবিতা প্রকাশ করার পর থেকে কবি হিসেবে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিতি। দুই বাংলাই তিনি সমান জনপ্রিয়।
৭৩ বছরের জীবনে প্রায় ৬ দশক তারা সাহিত্যের কাল। জনপ্রিয়তার মাঝেও কবিতার সংখ্যায় তিনি ছিলেন আশ্চর্য নির্ভার। খসড়া কবিতায় সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে সম্পন্ন কবিতা সীমিত থেকেছে তার কাব্যচর্চা। তাই মাত্র চারটি কবিতার বইয়ে ১২৬টি প্রকাশিত কবিতা তার। এই নিয়েই বাংলা কবিতায় স্থায়ী আসন, অমরতা। ষাটের দশকের ‘কণ্ঠস্বর’ ও ‘সমকাল’-এর সফলমিছিলে ঢুকেও স্বকীয়তায় উজ্জ্বল ছিলেন। নাগরিক চৈতন্য, তীর্যক দৃষ্টি, গভীর নির্জনতা, প্রগলভ একাকীত্ব, অমীমাংসিত নির্বাসন তার কবিতায় প্রতিফলিত।
১৯৭৯ সালে দেশ ছাড়া শহীদ কাদরী ৩৭ বছরের প্রবাসজীবনে কোলকাতা, জার্মানি, ইংল্যান্ড, আমেরিকার বোস্টন ও পরে নিউইয়র্কে থিতু হয়েছিলেন। মাঝখানে অবশ্য একবার ঢাকায় ছিলেন কয়েকমাস। তাছাড়া আর আসেননি আড্ডাপ্রাণ এই মানুষটি। এমনকি একুশে পদক নিতেও না। তবু প্রবাস থেকে তিনি লিখেন, ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’।
কবির শেষ ইচ্ছা, তাকে যেন মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শায়িত করা হয়।
এই কবির প্রয়াণে শোকস্তদ্ধ কবিতাপ্রেমি ও সংগ্রামীরা। তাকে নিয়ে কথা বলেছেন তার অগ্রজ, সমসাময়িক এবং অনুজ কবিগণ। তাদের কথা এখানে গ্রন্থণা করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহ্সান। (সম্পূর্ণ…)

শহীদ কাদরী দেশে ফেরে

আনিসুর রহমান | ৩১ আগস্ট ২০১৬ ৯:৪৮ অপরাহ্ন

Shahid-Kadree-singleপিতা চলে যাবার পরে এতিম হয়ে গেলে কে থাকে কাছে/দূরে?
উৎসব পার্বণে কার হাত ধরে দিনমান রাত আর ভোরের পরে
মেলা আর খেলা ফেলে অলিগলি পথ পেরিয়ে নগরে বন্দরে ঘুরে
দিকহারা শিশু বাড়ি যাবার পথ ফিরে পাই কি করে?

আমাদের ভিটে যায় মাটি যায়,ফেরারি আমি প্রাণে বেঁচে থাকি
খুনিরা মাতাল নৃত্য করে, রাত জেগে আমি অগ্রজের পত্র পড়ি
রাতের অন্ধকার ভেদ করে, ঘোর বিপদে পিতার নাম জপ করি | (সম্পূর্ণ…)

‘ব্ল্যাক আউটের পূর্ণিমায়’ খুঁজবো শহীদ কাদরীকে

সাজিদুল হক | ৩০ আগস্ট ২০১৬ ৭:১৯ অপরাহ্ন

Shahid-Kadree-single“সহসা সন্ত্রাস ছুঁলো। ঘর-ফেরা রঙিন সন্ধ্যার ভীড়ে যারা ছিলো তন্দ্রালস দিগ্বিদিক ছুটলো…।” শহুরে বৃষ্টির এই বর্ণনা শহীদ কাদরীর। তরুণ মনের উদভ্রান্ততা আর চারদিকের অসহনীয় পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে আমরাও দিগ্বিদিক হয়ে ফিরে যাই শহীদ কাদরীর কাছে, যিনি মাত্রই চলে গেলেন চিরচেনা এই জগৎ ছেড়ে।

নাগরিক অসহনীয় মনের ছুটে যাওয়া নিরন্তর। কবির মৃত্যু দুঃখ দিলেও বারবার মনে করিয়ে দেয় তার দুঃসাহসিক উচ্চারণগুলো। অল্প কিছু কবিতা দিয়ে যে পারেন পৌঁছে যেতে একটি ভাষার অন্যতম স্থানে, তিনিই শহীদ কাদরী।

একজন শহীদ কাদরীই পারেন জেনারেলদের রবীন্দ্রচর্চার হুকুম দেওয়ার জন্য সরাসরি রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রস্তাব দিতে। একজন শহীদ কাদরীই পারেন মন্ত্রীদের গিটার কিনে দেওয়ার অনুরোধ করতে। প্রচণ্ড অস্থিরতায় একজন মানুষ যখন শান্তি খুঁজতে যায় সমাজের তলায়, তখন কাদরীই পারেন ‘আলোকিত গণিকাবৃন্দ’কে স্তব করতে। তিনিই পারেন বলতে, “তোমাদের স্তব বৈ সকল মূল্যবোধ যেন ম্লান!”

রাষ্ট্র যখন হয়ে দাঁড়ায় প্রেমের শত্রু হয়ে, রাষ্ট্রনীতি যখন দাঁড়িয়ে যায় প্রেমিকের সামনে প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে তখন একজন কবিই পারেন রাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা আর প্রেমকে এক কাতারে দাঁড় করাতে। আর সেই কবিই শহীদ কাদরী। একজন কবিকে দিয়ে বঙ্গোপসাগরের সবগুলো রণতরী কমান্ড করাতে পারেন শহীদ কাদরী।

তাইতো কোন একসময় বন্ধু কবীর সুমনকে তিনি বলেছিলেন, “শুনুন সুমন, যখন পাকিস্তানের হানাদাররা আসে, তখন কিন্তু আমরা সবাই পালিয়ে গিয়েছি, আমরা বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি। আমি আমার কবিতার বইগুলো মাটিতে পুঁতে দিয়েছি। পাইলেতো মারবে। ট্যাংক আসছে, বুঝলেন সুমন, ট্যাংকটা চলে যাচ্ছে সেই মাটির ওপর দিয়ে, যেখানে আমার কবিতার বই পোঁতা। আমার কবিতার বইগুলোকে চাপা দিয়ে যাচ্ছে, আমি সমানে ভাবছি, এবার একবার বিস্ফোরণটা হোক। এবার মাইনের মতো ফাট। ফাটলো না। একবারের জন্য বিস্ফোরণ ঘটাতে পারলাম না। তাহলে কিসের কবিতা? তাহলে আর কিসের কবিতা?” (সম্পূর্ণ…)

মৃত্যুতে থামে না কোন কবির জীবন

আলফ্রেড খোকন | ৩০ আগস্ট ২০১৬ ১:১২ অপরাহ্ন

shahid-alfredপ্রথমে স্বেচ্ছানির্বাসনে বিদেশ-বিভূঁইয়ে, তারপর দেশে ফেরার তীব্র আকুতি থাকা সত্ত্বেও শারীরিক অসুস্থতার কারনে ফিরতে না পারার একবুক বেদনা নিয়ে সুদীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর প্রবাস জীবন পাড়ি দিয়েছেন তিনি! আশির দশকে বন্ধুদের প্রতি অভিমান করে (তাঁর ভাষায়) দেশ ছেড়েছিলেন। ২০১৪ সালে আমেরিকার জ্যামাইকায় কবির ফ্লাটে বসে কয়েক ঘন্টা আড্ডা হল। এই আড্ডাইটাই আমার সঙ্গে তার প্রথম ও শেষ দেখা। দুজনেরই জরুরী কাজ থাকা সত্ত্বেও কাজের কর্মসূচী কেড়ে নিতে পারল না আমাদের এই আড্ডার সময়। মাত্র ঘন্টা চারেক। তবু মনে হল চার ঘন্টা যেন চার মিনেটেই শেষ হয়ে হাওয়ার মত উড়ে গেল। আর মনে হল কত যুগের পরিচিত আমরা দুজন! বড় ভাই আর ছোট ভাই মিলেমিশে বসে আছি বাংলা কবিতার বাড়িতে।
শহীদ কাদরীর সঙ্গে আমার দেখা হওয়ার ঘটনাটা বলি। কাজের প্রশ্নে আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যে ব্যস্ততম ১৮ দিন কাটিয়ে নিউইয়র্কে ফিরলাম ১৮ সেপ্টেম্বর। ২৩ তারিখ ফিরব দেশে। সম্ভবত ওইদিনই অস্টরিয়ার একটি গেস্ট হাউসে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন বাংলা কাগজগুলির প্রায় সবকটিতেই আমার ছবিসহ আমেরিকা ভ্রমণের খবর ছাপে। আর ওই দিন হঠাৎ একটি ফোন পাই আমার মোবাইল ফোনে। নারী কণ্ঠ। এটা কি কবি আলফ্রেড খোকন। আমি বললাম হ্যাঁ। আপনি? অপরপ্রান্ত থেকে বললেন, ভাই আমি নীরা ভাবী, শহীদ কাদরীর স্ত্রী। লিপি আমাকে তোমার নম্বরটা দিল বলে তোমাকে পেলাম। শহীদ তোমার খবর পেয়েই বলে যাচ্ছে– ‘ছেলেটা কবে এসেছে, কোথায় থাকছে, কি করছে, কে জানে। আমি তো চলতে পারি না। পারলে ওকে গিয়ে নিজেই একবার নিয়ে আসতাম।’ শহীদের কাছে তোমার কথা এভাবে শোনার পর ভাবলাম তোমাকে একটা ফোন দিই। যদি তোমার সময় হয় এখানে আসার। শহীদ বলেছে তুমি আসলে ওর ভাল লাগত। আমি তৎক্ষনাৎ নীরা ভাবীকে কথা দিই। এটা তো আমার কাছে পরম পাওয়া হবে। আমি আসব। (সম্পূর্ণ…)

দূর থেকে দেখা শহীদ কাদরী

আবদুস সেলিম | ২৯ আগস্ট ২০১৬ ৭:৩৬ অপরাহ্ন

Shahid-Kadree-singleশহীদ কাদরীর সঙ্গে আমার কোনো ঘনিষ্ঠতা ছিলো না। বলতে কি উনি আমাকে চিনতেনও না। পরিচয় হয়েছিলো সম্ভবত গত শতাব্দীর ঊনসত্তুর বা সত্তুর সালে। তখন আবদুল মান্নান সৈয়দ এবং আমি যৌথ সম্পাদনায় ‘শিল্পকলা’ নামে একটি অনিয়মিত লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করতাম। আমাদের দু’জনেরই কর্মস্থল ছিলো জগন্নাথ কলেজ। পত্রিকা সম্পাদনার কর্মকান্ডে আমরা লেখা সংগ্রহের জন্যে কবি-সাহিত্যিক প্রাবন্ধিকদের সাথে সময় পেলেই সাক্ষাৎ করতাম। সাহিত্য জগতের মানুষদের সাথে আমার তেমন কোনো যোগাযোগ ছিলো না। কারণ আমি কোনো প্রথিতযশা সাহিত্যিক ছিলাম না। ঐ জগতের মানুষদের সাথে আমার একমাত্র যোগসূত্র ছিল মান্নান।
যতদূর মনে পড়ে মান্নান আমাকে শহীদ কাদরীর পুরানা পল্টনের কোনো বাসায় নিয়ে গেছিলেন। শহীদ কাদরী তার আগে পর্যন্ত আমার পাঠ্যতালিকার নাম এবং আলোচনার বিষয় হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। সেই বাসায় অস্পষ্ট ও আচ্ছন্ন স্মৃতিতে তাকে যতটুকু উদ্ধার করতে পারি তা হলো শারীরিক গড়নে তিনি তখনও একটু মেদাক্রান্তই ছিলেন এবং স্বভাবে প্রমোদাকীর্ণ। সহজেই তিনি সকলকে তার প্রতি আকর্ষিত করতে পারতেন এবং আমাকেও করেছিলেন। অল্প সময়েই আড্ডা জমেছিলো এবং কথা প্রসঙ্গে বললেন, ‘বুঝলেন মান্নান, ভাবছিলাম রবীন্দ্রনাথ হমু তাই লেখাপড়া করি নাই, দাড়ি রাখারও ইচ্ছা আছিলো। কিন্তু এখন বুঝতাছি রবীন্দ্রনাথ হওন এতো সোজা না।’ তিনি যে একথাগুলো হুবহু এভাবেই বলেছিলেন তা দিব্যিকেটে আমি বলতে পারব না কিন্তু আবছা স্মৃতি সর্বদাই এমন একটি সংলাপের কথা আমাকে মনে করিয়ে দেয়। (সম্পূর্ণ…)

শহীদ কাদরী: মৃত্যুর গন্ধ পাচ্ছি, স্বদেশ আমাকে ডাকছে

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ২৯ আগস্ট ২০১৬ ৩:০৩ অপরাহ্ন

‘না, শহীদ সেতো নেই; গোধূলিতে তাকে
কখনও বাসায় কেউ কোনদিন পায় নি, পাবে না।
…………………
সভয়ে দরোজা খুলি- এইভাবে দেখা পাই তার- মাঝরাতে;
জানি না কোথায় যায়, কি করে, কেমন করে দিনরাত কাটে
চাকুরিতে মন নেই, সর্বদাই রক্তনেত্র, শোকের পতাকা
মনে হয় ইচ্ছে করে উড়িয়েছে একরাশ চুলের বদলে !
না, না, তার কথা আর নয়, সেই
বেরিয়েছে সকাল বেলায় সে তো- শহীদ কাদরী বাড়ি নেই।’
(অগ্রজের উত্তর/ শহীদ কাদরী)

Shahid
ক] মাতৃভূমি ত্যাগ করা লেখকের আত্মহত্যার সামিল
চির বাউন্ডুলে জীবিত শহীদ কাদরী বাড়ি ফেরেননি। এখন ফিরবেন লাশ হয়ে। দশ বছর বয়সে অর্থাৎ কৈশোরে ১৯৫২ সালে জন্মভূমি কলকাতা ছেড়ে ঢাকা আসেন। ঢাকায় বেড়ে ওঠা যৌবনের দিনগুলো ফেলে ১৯৭৮ সালে বিদেশ পাড়ি জমান। জন্মভূমি আর মাতৃভূমির নীড় ছেড়ে হাজার হাজার মাইল দূরে উড়াল দিয়ে চলে গেলেন নিরুদ্দেশে। তারপর আর ঘরে ফিরেননি। হয়ত তাঁকে অনেকেই খুজঁছেন। পাচ্ছেন না। তাই তিনি লিখেছেন- ‘অগ্রজের উত্তর’ কবিতা। বড়ভাই বলছেন-‘না, শহীদ সেতো নেই; গোধূলিতে তাকে/ কখনও বাসায় কেউ কোনদিন পায় নি, পাবে না।/ … বেরিয়েছে সকাল বেলায় সে তো- শহীদ কাদরী বাড়ি নেই।’ (সম্পূর্ণ…)

শিকল-ছেঁড়ার কবি

কামরুল হাসান | ২৮ আগস্ট ২০১৬ ৬:১৯ অপরাহ্ন

Nazrulপ্রত্যেক বড় কবিরই একাধিক উপাধি থাকে, কিন্তু সবার উপরে থাকে একটি স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত উপাধি, যা তার প্রধান পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়, আপামর জনতা কবিকে ওই উপাধিতেই বেশি চেনে, তা হয়ে দাঁড়ায় কবির শনাক্তযোগ্য বিশেষণ। কবি কাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে এ উপাধিটি হচ্ছে ‘বিদ্রোহী কবি’। যদিও নজরুল প্রচুর প্রেমের কবিতা লিখেছেন, বিদ্রোহের কবিতার চেয়ে ঢের বেশি, তবু নজরুল মানেই ‘বিদ্রোহী’, নজরুল মানেই শোষিতের-পক্ষ-নেয়া কবি। রবীন্দ্রনাথ যে অত বড় কবি, সেই তিনিও এই একটি জায়গায় সমালোচনার তীর সহ্য করেছেন। পরাধীন ভারতে সাধারণ মানুষ কবিদের দেখতে চেয়েছে স্বাধীনতার পক্ষে বজ্রকণ্ঠ, যারা ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন, অমর-অজর কবিতা লিখে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করবেন। পরাধীন ভারতে মানুষ ছিলো শোষিত, লাঞ্চিত; নজরুল এই শোষিত, লাঞ্চিত মানুষের পক্ষেই কলম ধরেছেন। প্রথম মহাযুদ্ধোত্তর পৃথিবী সেসময় দেখেছে প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশের উদ্ভব, সাম্যের বাণী ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর দেশে দেশে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম সাম্যের দীক্ষায় দীক্ষিত ছিলেন, তাই তাঁর কলমে শোষিত মেহনতি ও সর্বহারা মানুষের জয়গান, শোষকের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশিত। (সম্পূর্ণ…)

দুরন্ত দুর্বার নজরুল

আনিসুর রহমান | ২৮ আগস্ট ২০১৬ ১২:৪৮ অপরাহ্ন

Nazrulআমাদের কবি কাজী নজরুল ইসলামের বেড়ে ওঠার সাথে আমার নিজের বড় হয়ে ওঠার সময়ের একটা জায়গায় দারুণ মিল। এই মিলের জায়গাটা ‘দারিদ্র্য’। দারিদ্র্য যেমন কাজী নজরুল ইসলামকে করেছে মহান, আমার দারিদ্র্য দিনে দিনে আমাকে করেছে বলীয়ান।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালীন সম্ভবত তৃতীয় শ্রেণীতেই বাংলা পাঠ্য বইয়ে ‘দুখু মিয়া’ নামে শিশুপাঠ্য উপযোগী করে নজরুলের জীবনের কষ্টের কথাগুলো খুব সংবেদনশীলতার সাথে লেখা হয়েছিল। দুখু মিয়া রুটির দোকানে কাজ করে পড়ালেখা করেছেন। তার দুঃখে দুখী মানুষেরা তার নাম দিয়েছিলেন দুখু মিয়া। দুখু মিয়ার গল্প পড়ার পরে তার দুঃখও আমাকে পেয়ে বসে। মনে মনে তার জন্যে সমব্যাথী হই। আর নিজের কষ্টের সাথে মিলিয়ে নিয়ে সাহস ফিরে পাই।
এত দুঃখের দুখু মিয়া যদি শত কষ্টের পরেও পড়াশোনা করে, কবি হয়, তাও আবার বিদ্রোহী কবি, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, দারুণ ব্যাপার নিশ্চিত। মনে মনে ভাবি আমিও কবিতা লিখবো এবং বিদ্রোহী কবি হবো। তখনও বুঝে উঠিনি কবি হওয়া মানে কি? মানে যাই হোক দুখু মিয়া পারলে আমিও পারব। (সম্পূর্ণ…)

ইট’স এ শি থিং : নারীর একান্ত কথার ঐকান্তিক প্রকাশ

কে এম রকিব | ২৭ আগস্ট ২০১৬ ১:১৩ অপরাহ্ন

SHE Thing 0 (1)ঢাকার উঁচু উঁচু ইমারত, জমকালো আলো আর গ্ল্যামারের নিচে আছে এক অন্ধকার বাস্তবতা যে-অন্ধকার বাস্তবতার মুখোমুখি নারীকে হতে হয় প্রতিনিয়ত। শুধু লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণেই পদে পদে নারীকে বৈষম্য ও ভায়োলেন্সের শিকার হতে হয়। এমনই বিষয় নিয়ে গত ১৯ ও ২০ আগস্ট গুলশান-১-এর স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে হয়ে গেল ‘বহ্নিশিখা-আনলার্ন জেন্ডার’র এক চমৎকার পরিবেশনা ‘ইট’স এ শি থিং’। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নানা বয়সী নারীর না বলা অনেক গল্প উঠে এসেছে এই আয়োজনে।

অনুষ্ঠানের নামকরণ থেকেই বেরিয়ে এসেছে এর দর্শন। ‘It’s a SHE thing’। যার অর্থ হতে পারে, ‘এটা সে কলাপ’। কিন্তু এই ‘সে’টা এখানে বিশেষ অর্থবহ। ইংরেজিতে SHE শব্দটি নারী শব্দের পরিবর্তে ব্যবহৃত সর্বনাম। কিন্তু কখনো কখনো এই ‘সে’ উচ্চারণের ভেতরে থাকে উপেক্ষা, অবদমন, অবমূল্যায়ন, অস্বীকার বা নাই করে দেয়ার প্রচেষ্টা। যে কারণে নারীর সব কিছুকে ‘এটা সে কলাপ’ বা ‘মেয়েলি বিষয়’ শব্দবর্গে মুড়ে দেয়া যায়। অনেক সময় তা অবাঞ্চিত, অনাহুত, নিষিদ্ধের মতো করে ছুড়ে ফেলা হয়। ‘It’s a SHE thing’ অনুষ্ঠানটি সেই বিষয়-আশয়কে সামনে নিয়ে আসে নান্দনিক ব্যঞ্জনা ও বলিষ্ঠতায়। যা ধরা পরে অনুষ্ঠানের উপশিরোনামে ‘A play about women and girls of Dhaka, Inspired by The Vagina Monologues’। এই উপশিরোনাম মনে করিয়ে দেয় নারী–যিনি বয়সে যুবতী–বিষয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের অবদমন। আধুনিক শহরে যা উবে যায়নি। আর তাই ইটের পাঁজর খুলে দেখার আয়োজন।
গত ১৯ ও ২০ আগস্ট দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই প্রদর্শনী, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত। (সম্পূর্ণ…)

রবার্ট ব্রাউনিং সম্পর্কে হোর্হে লুইস বোর্হেসের বক্তৃতা

আবদুস সেলিম | ২৫ আগস্ট ২০১৬ ৩:৪৯ অপরাহ্ন

Jorge Luis Borgesহোর্হে লুইস বোর্হেস ১৯৬৬ সালে বুয়েনোস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের উপর পঁচিশটি বক্তৃতা দেন। এগুলো বহু বছর পর স্প্যানিশে মার্তিন আরিয়াস এবং মার্তিন হাদিস-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ২০০০ সালে। আর ২০১৩ সালে এই বক্তৃতাগুলো ক্যাথেরিন সিলভার অনুবাদে ইংরেজিতে প্রকাশিত হয় প্রফেসর বোর্হেস নামক গ্রন্থে। এই গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত উনিশ নাম্বার বক্তৃতাটির বাংলায় তর্জমা করা হলো। তর্জমা করেছেন অধ্যাপক ও অনুবাদক আবদুস সেলিম।

ক্লাশ ১৯
রবার্ট ব্রাউনিং-এর কবিতা।
আলফন্সো রেইয়েস-এর সাথে আড্ডা।
দ্য রিং অ্যান্ড দ্য বুক।
বুধবার, নভেম্বর ৩০, ১৯৬৬

রবার্ট ব্রাউনিং-এর সাহিত্যকর্ম নিয়ে আমরা আজ আলোচনা করবো। মনে পড়ে একবার ব্রাউনিংকে তাঁর একটি কবিতার ব্যাখ্যা দেবার অনুরোধ করা হয়েছিলো। তিনি উত্তরে বলেছিলেন, কবিতাটা আমি অনেক আগে লিখেছি। যখন লিখেছিলাম তখন আমি এবং আমার ঈশ্বর জানতেন এর সঠিক ব্যাখ্যা। বর্তমানে শুধুমাত্র ঈশ্বরই জানেন এর মূল অর্থ। স্পষ্টতই তিনি প্রশ্নটির উত্তর এড়িয়ে গেছেন।
ব্রাউনিং এর কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু কবিতা নিয়ে আমি আলোচনা করেছি। প্রসঙ্গত একটি কবিতা আমি আপনাদের কাছে সুপারিশ করবো যদিও তার সঠিক ব্যাখ্যা আমি দিতে পারবো না, এমনকি ভাসাভাসা ব্যাখ্যা দেওয়াও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তার লেখা সম্ভবত সবচাইতে বিস্ময়কর কবিতা এটি। কবিতাটির শিরোনাম ‘চাইল্ড রোলান্ড টু দ্য ডার্ক টাউয়ার কেইম’। চাইল্ড শব্দটির অর্থ সাদামাটা শিশু নয়, এ শিশু প্রাচীনকালের অভিজাত শিশু অর্থে ব্যবহৃত আর তাই এর ইংরেজি বানানটি হয়েছে Childe অর্থাৎ চাইল্ড শব্দটির সাথে একটি e জুড়ে দেওয়া আছে শিশুটিকে অভিজাত বংশীয় বোঝাবার জন্য। এই পংক্তিটি শেক্সপিয়র থেকে নেয়া (কিং লিয়র, তৃতীয় অঙ্ক, চতুর্থ দৃশ্যে গ্লসটারের জেষ্ঠ্যপুত্র এডগার-এর উক্তি: Childe Roland to the dark tower came,/ His world was still ‘Fie, foh and fum,/ I smell the blood of a British man.)। এটি মূলত একটি হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন গাথার অংশ। ব্রাউনিং-এর সবচাইতে বিস্ময়কর কবিতা বোধ করি এটিই। মহান মার্কিন কবি কার্ল স্যান্ডবার্গ ‘মানিটোবা চাইল্ড রোলান্ড’ শিরোনামে একটি কবিতা রচনা করেছিলেন। কবিতার বিষয়বস্তু হলো: তিনি এক সময় একটি কবিতা মিনেসোটার এক খামারের একটি ছেলেকে পড়ে শুনিয়েছিলেন কিন্তু ছেলেটি এর বিষয়বস্ত কিছুই বুঝতে পারেনি– সম্ভবত যিনি কবিতাটি পড়ে শুনিয়েছিলেন তিনিও কিছু বোঝেননি– কিন্তু কবিতার অন্তর্গত অব্যাখ্যাত অস্পষ্ট রহস্যময়তা কিভাবে তাদের উভয়কেই আচ্ছন্ন করেছিলো সেটিই ছিল মূল। পুরো কাব্যশরীর আকীর্ন ছিল এক জাদুময় অনুপুঙ্খে। ঘটনাকাল মধ্যযুগ বলে প্রতীয়মান হয়। উল্লেখ্য ঐতিহাসিকভাবে মধ্যযুগ নয়। গ্রন্থে বর্ণিত মধ্যযুগীয় বিপথগামী নাইটদের গল্পগাথা মাত্র– যেমন দন কিহোতের বর্ণনায় মেলে। (সম্পূর্ণ…)

ফুকোর হাসি, একটি গ্রন্থের জন্ম এবং বোর্হেস

রাজু আলাউদ্দিন | ২৪ আগস্ট ২০১৬ ৭:১৪ অপরাহ্ন

Jorge-Luis-Borges-008ফরাসী দার্শনিক মিশেল ফুকো তাঁর বস্তুর বিন্যাস (Order of Things) গ্রন্থের বীজ কীভাবে পেলেন সে-সম্পর্কে তিনি বইটির ভূমিকায় হোর্হে লুইস বোর্হেসের একটি লেখার উল্লেখ করেছিলেন। লেখাটির নাম তিনি ভূমিকার কোথাও উল্লেখ করেননি, কিন্তু আমরা জানি বোর্হেসের এই লেখাটির নাম ‘জন উইলকিন্সের বিশ্লেষী ভাষা’। লেখাটি পড়তে গিয়ে প্রচণ্ড হাসিতে তাঁর–এমন কি আমাদেরও–পরিচিত সব ভাবুকতার, যে-ভাবুকতায় আমরা অভ্যস্ত এবং যা আমাদের দেশ-কালের লক্ষণ-চিহ্নে শোভিত, আর ‘ভিন্ন’ ও ‘অভিন্ন’-এর মধ্যেকার বর্ষীয়ান যে ভেদস্তম্ভটি যুগ যুগ ধরে সগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ছিলো, তা ভেঙে পড়ে। কী এমন রয়েছে বোর্হেসের ঐ লেখায় যা ফুকোর অনুভূতিতে তীব্র হাসির সঞ্চার করতে পারে, যে-হাসির তীব্রতায় খানখান হয়ে যাবে আমাদের এতকালের চিন্তা-জগতের প্রচলিত সব বিন্যাস? ফুকো জানাচ্ছেন যে বোর্হেসের লেখাটিতে এক চীনা বিশ্বকোষের (বোর্হেসের উদ্ভাবিত, এমনকি বোর্হেসের এই লেখাটিও প্রবন্ধের ছদ্মবেশে আসলে একটি গল্প) উল্লেখ রয়েছে যেখানে প্রাণীদের ভাগ করা হয়েছে এভাবে “(ক) সম্রাটের যারা মালিকানাধীন, (খ) যারা সুবাসিত, (গ) যাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, (ঘ) চোষণকারী শুকোর ছানা, (ঙ) মৎস্যকন্যা, (চ) কাল্পনিক, (ছ) পথকুকুর (জ) এই বিভাগে যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, (ঝ) পাগলের মতো যারা কাঁপুনি দেয়, (ঞ) যারা অগণ্য, (ট) উটের লোমের ব্রাশে যাদের আঁচড়ানো হয়েছে (ঠ) অন্যান্যরা (ড) এইমাত্র যারা কোনো ফুলদানি ভেঙ্গেছে (ঢ) দূর থেকে যাদের মাছি বলে ভ্রম হয়।” এই বর্গীকরণের মধ্যে অন্য এক ভাবনা-পদ্ধতির অদ্ভুত আনন্দের প্রকাশ আমাদেরকে সচকিত করে তোলে। যেমনটা করেছে এ কালের গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক মিশেল ফুকোকে। (সম্পূর্ণ…)

হোর্হে লুইস বোর্হেসের প্যারাবোল: রাজ প্রাসাদের রূপকথা

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ২৩ আগস্ট ২০১৬ ৯:৫৩ অপরাহ্ন

মূলত গল্পকার হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হলেও, হোর্হে লুইস বোর্হেস(১৮৯৯-১৯৮৬) ছিলেন একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, প্যারাবোল-রচয়িতা ও গল্পকার। ২৪ আগস্ট তার ১১৭তম জন্মদিন। বাংলাভাষার শীর্ষস্থানীয় অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের অনুবাদে বোর্হেসের অসামান্য একটি প্যারাবোল অনুবাদের মাধ্যমে আর্হেন্তিনার এই অসামান্য লেখককে বিডিনিউজটোয়েটিফোর ডটকম-এর আর্টস বিভাগের পক্ষ থেকে জানাই জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলী। বি. স.

al-hamraসেদিন পীতাঙ্গ সম্রাট কবিকে তাঁর প্রাসাদ দেখালেন। তাঁরা প্রাসাদের পশ্চিম প্রান্তের সারবদ্ধ প্রথম অলিন্দগুলি পার হয়ে এগিয়ে গেলেন; গিয়ে দাঁড়ালেন সেখানে যেখানে মুক্তমঞ্চের অসংখ্য সিঁড়ির মতো নেমে গেছে সেইসব অলিন্দচত্তর। গিয়ে মিশেছে স্বর্গপুরীতে বা নন্দনকাননে। সেখানে ধাতব মুকুর আর পেঁচানো জটাজালে বিস্তৃত জুনিপার ঝোপঝাড় এক গোলকধাঁধারই ইঙ্গিত দেয়। প্রথমে ওরা বেশ হাস্যলাস্যেই ওই ধাঁধায় হারিয়ে গেলেন যেন বা লুকোচুরি খেলা খেলতে খেলতে; কিন্তু পরে তাঁদের চিত্তে জমে শঙ্কা কারণ সোজাসিধে পথগুলো চলিষ্ণু অবস্থাতেই ক্রমে বেঁকে যাচ্ছিল (আসলে ওই পথগুলো ছিল এক একটা গোপন বৃত্ত)। রাত ঘনিয়ে এলে তাঁরা আকাশের গ্রহরাজি দেখেন, এবং লগ্ন হলে একটা কচ্ছপ বলি দেন। এরপর সেই আপাতঃ ঘোরলাগা অঞ্চল থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসেন, কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কাবোধ থেকে বেরোতে পারেন না। এবং শেষ পর্যন্তও এই বোধ তাঁদের সঙ্গে সেঁটেই থাকে। প্রশস্ত অলিন্দ-চত্ত্বর আর পাঠাগার তাঁরা পার হয়ে আসেন, পার হন জলঘড়িরাখা ষড়ভুজ কক্ষটিও। একদিন সকালবেলা এক উচ্চমিনার থেকে তাঁরা দেখেন এক প্রস্তর মানবকে, কিন্তু লোকটা মুহূর্তে কোথায় হাওয়া হয়ে যায় যে আর কখনো তাকে দেখাই গেল না। চন্দনকাঠের নৌকায় চড়ে তারা কত ঝিলিমিলি জলের নদী পেরিয়ে গেলেন–নাকি একটি নদীই তারা বার বার পার হলেন? রাজ শোভাযাত্রা পেরিয়ে যায় কত জনপদ আর লোকে করে সাষ্ঠাঙ্গে প্রণিপাত। কিন্তু একদিন তাঁরা এক দ্বীপে এসে তাঁবু গাড়ে, সেখানে একটি লোক রাজাকে প্রণিপাত করে না কারণ সে তো কখনো দেবদূত দেখেই নি। তখন আর কি, রাজজল্লাদকে তার কল্লা নিতে হলো। কালো চুলের মাথা আর কৃষ্ণাঙ্গ যুবানৃত্য আর জটিল আঁকিবুকির সোনালী মুখোশ নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে থাকে; বাস্তব আর স্বপ্নের ভেদরেখা যায় ঘুঁচে–নাকি বাস্তবই হয়ে দাঁড়ায় স্বপ্নের স্বরূপ? তখন মনেই হয় না যে পৃথিবীটা এক বাগিচা কি জলাধার কি স্থাপত্যশিল্প কি জমকালো সব সাকার বস্তুর সমাহার ছাড়া অন্য কিছু। প্রতি শতপদ ফারাকে এক একটি মিনার উঠে ফুঁড়ে গেছে নীল আকাশ; চর্মচক্ষে তাদের রঙ এক ও অভিন্ন, তবু প্রথম মিনার দেখতে হলুদ আর সারির শেষটি লাল। এই রঙের ক্রমবিস্তার খুবই নাজুক, ফিনফিনে আর মিনার সারিও খুব দীর্ঘ ও প্রলম্বিত। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com