মহাশ্বেতা: সন্ধ্যার সূর্য

একরাম আলি | ৩১ জুলাই ২০১৬ ৫:৫৯ অপরাহ্ন

mahaswetaমহাশ্বেতা দেবী আর নেই (১৯২৬-২০১৬)। জীবিত মহাশ্বেতার সান্নিধ্য পাওয়ার উপায়ও আর নেই। অবশ্য বেঁচে থাকতে তাঁর নৈকট্য যে তেমন পেয়েছি, বলা যাবে না। বছর বারো আগে পারিবারিক এক সংকটে ভুগছি (লজ্জার কথা যে, প্রায়ই এমন দুর্ভোগ আমার চলে), বন্ধু অম্লান দত্ত জানালেন, মহাশ্বেতাদির বাড়ি যেতে হবে। কেন? কোথায় সেটা? তাছাড়া, তিনি তো আমাকে চেনেনও না।
গলফ গ্রিনের ফ্ল্যাটটি বেশ ছোট। বইপত্র আরো সংকুচিত করেছে চারপাশকে। কিন্তু তিনি যখন একান্ত আপনজনের মতো খুঁটিয়ে জানতে চাইছিলেন আমার বিপদের কথা এবং কী ভাবে এই প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠা যায় তার উপায় খুঁজছিলেন, তখন তাঁর ছোট্ট ফ্ল্যাটটিকে মনে হচ্ছিল– দূর বঙ্গোপসাগরের উপকূল পর্যন্ত প্রসারিত। তার পর আর একবারই গিয়েছি সেখানে। সে-ও অম্লান দত্তেরই সঙ্গে। আর ফোনে কথা। সে-সব কথা নিতান্ত দরকারের। ছোট-ছোট।
আর ছিল তাঁর লেখা। গল্প, উপন্যাস। যা আজও রয়ে গেছে।
সেই সত্তরের দশকে ‘এক্ষণ’-এ তাঁর ‘স্তনদায়িনী’ ইত্যাদি গল্পগুলি যখন বেরোচ্ছিল, তখন তাঁর মধ্যবয়স। তখন থেকেই বাঙালি পাঠকসমাজে তাঁকে নিয়ে হইচইয়ের শুরু। বলতেই হবে, তার আগের পর্বের লেখাগুলো ছিল কিছুটা উপেক্ষিত যেন-বা। সে-সময় কোনো এক সমাগমে শঙ্খ ঘোষ (তাঁরই মুখে শোনা) সেইসব গল্পপাঠের মুগ্ধতার কথা বলায় মহাশ্বেতা দেবীর সোজাসাপটা উত্তর ছিল– আমি তো বরাবর এইরকমই লিখি। আপনারাই পড়েননি।
হ্যাঁ। তিনি ছিলেন স্পষ্টবক্তা। বরং বলা ভালো– ঠোঁটকাটা। তিনি ছিলেন সমাজকর্মী। পুরুলিয়ার অচ্ছুত শবরদের মা-বাবা যেমন, তেমনই মা বহু নকশাল-কর্মীর। এখন কেউ-কেউ তাঁকে বলছেন– হাজার চুরাশির মা।
মহাশ্বেতা দেবী নানা কারণে বিতর্কিতও। রাজনৈতিক মতপ্রকাশে বারবার শিরোনামে উঠে এসেছেন। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে তাঁর লেখকসত্তার উজ্জ্বল উত্তরীয়টি আমৃত্যু উড্ডীন থেকেছে। তুমুল কলকাতায় বসবাস করেও তিনি চেয়েছিলেন ‘অরণ্যের অধিকার’। খ্যাতিও পেয়েছিলেন। ভারতের সেরা সব পুরস্কারে সম্মানিত। পেয়েছেন ম্যাগসাইসাই। (সম্পূর্ণ…)

ভারতের দলিত কন্ঠের আপোষহীন ভাষ্যকার মহাশ্বেতা দেবীর প্রয়াণে

নন্দিতা বসু | ৩১ জুলাই ২০১৬ ২:১৫ পূর্বাহ্ন

Mahasweta1_0001মহাশ্বেতা দেবী চলে গেছেন। রেখে গেলেন তাঁর অজস্র কর্মসম্ভার, যার মধ্যে লেখা একটা বড় জায়গা অবশ্যই। কিন্তু লেখাতেই তিনি নিজেকে নিঃশেষ করেনি। কত অসংখ্য কাজ করেছেন নিরন্ন-ন্যাংটাদের জন্য, মেদিনীপুরের লোধা-শবরদের জন্য, পুরলিয়ার খেড়িয়াদের জন্য। বিহার-উত্তর প্রদেশের যে লাল লাখ শিশুশ্রমিক বস্ত্রশিল্পে, কার্পেট শিল্পে ভারতবর্ষের নানা জায়গায় লোপাট হয়ে যায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদের সঙ্গে মহাশ্বেতা যুক্ত হয়েছিলেন। ‘সারা ভারত বন্ধুয়া মুক্তি মোর্চা’র কর্মীরা তা বিশদভাবে জানেন। মহাশ্বেতা লোধা মেয়ে চুনী কোটাল যাকে নিজের সম্পাদিত পত্রিকা ‘বর্তিকা’তে লিখিয়েছেন যে-লোধারা কোনদিন কোমরে দড়ি ছাড়া মেদিনীপুর-পুরুলিয়া শহরে ঢুকতে পারেনি, সেই সমাজের মেয়ে চুনী কোটালকে উৎসাহ দিয়ে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডী পার করিয়েছিলেন। আমাদের অশেষ দুর্ভাগ্য যে জাতপাতের দাপটে চূনী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকতে পারলো না, নিজেকে শেষ করে দিল। (চূনীকে নিয়ে মহাশ্বেতা শিকার-পর্ব উপন্যাসটি লিখেছেন।)

বাংলার বিখ্যাত দলিত লেখক মনোরঞ্জন ব্যাপারী রিকশা চালাতেন। হয়ত গত শতকের সত্তরের দশকের শেষ দিকে বা আশির গোড়ায় মহাশ্বেতা যখন বিজয়গড়ের জ্যোতিষ রায় কলেজে পড়ান, কলেজ শেষে একদিন মনোরঞ্জন ব্যাপারীর রিকশায় ওঠেন তখন মনোরঞ্জন ব্যাপারী যিনি জীবনযুদ্ধে লড়তে লড়তে রিকশাচালকে পরিণত হয়েছিলেন ও নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা একটু একটু করে লেখার চেষ্টা করেছিলেন– তিনি মহাশ্বেতাকে ‘জিজীবিষা’ শব্দের অর্থ জিজ্ঞাসা করেন। রিকশা থেকে নেমে ভাড়া দিয়ে মহাশ্বেতা মনোরঞ্জনের হাতে একটা চিরকূট ধরিয়ে দেন, বলেন “কাগজে আমার নাম ঠিকানা লেখা আছে। সামনের রোববার আমার সঙ্গে দেখা করো”। চিরকূটে লেখিকার নাম দেখে মনোরঞ্জন লাফিয়ে ওঠেন কারণ একটু আগে তিনি অগ্নিগর্ভ বইটি পড়ছিলেন। এরপর থেকে মনোরঞ্জন ‘বর্তিকা’র নিয়মিত লেখক হয়ে যান। এই ঘটনাটি আমি মনোরঞ্জন ব্যাপারীর মুখে ২০০৪-এ হায়দ্রাবাদে একটি কনফারেন্সে শুনেছি। পরে তা ছাপাও হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

ধর্মের নান্দনিকতা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ

আবু ফরহাদ | ৩০ জুলাই ২০১৬ ১:১১ পূর্বাহ্ন

border=0ধর্ম নিয়ে কথা বলা এখন বেশ নাজুক। ধর্মের সংঙ্গে অনেকেই সাম্প্রদায়িকতা কিংবা সন্ত্রাসের মেলবন্ধন করে ফেলেছে। কিংবা কেউ এঁটে দিচ্ছে মৌলবাদীর তকমা। ধর্ম নিজেই অনেক মানুষের কাছে এখন অনেকটা দুর্বোধ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। আর ধর্ম যদি ইসলাম হয়, তাহলে তো কথাই নেই, সাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসী কিংবা মৌলবাদী – এর যে কোন একটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়া খুবই সহজ।
এমন প্রেক্ষাপটে ধর্মের নান্দনিকতা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ গ্রন্থটি ধর্ম সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ও চিন্তাশীল মানুষের অবশ্যপাঠ্য তালিকায় থাকা উচিত। এই গ্রন্থের গ্রন্থকার মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ, ইংরেজী সাহিত্যের কৃতবিদ্য অধ্যাপক।
নান্দনিকতা বিষয়টি শিল্প সাহিত্য সঙ্গীত ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। নান্দনিকতা ধর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয় কিভাবে? কিংবা নান্দনিকতাই বা কী। সৌন্দর্য্য ও নান্দনিকতার কী সম্পর্ক? এমন গুরুগম্ভীর বিষয় শিক্ষাজীবনের পাঠ্যতালিকায়ও খুব একটা থাকে না। সাহিত্য শিল্পের শিক্ষার্থীরা হয়তো এ বিষয়ে কিছু পড়ে থাকতে পারেন। এমনকি যারা ধর্মভীরু, ধর্মচর্চা করেন প্রতিদিনের জীবনাচরণে তাদের অনেকের কাছেও ধর্মের নান্দনিকতা বিষয়টি এখনো অজ্ঞাত।

ধর্ম সমসাময়িককালে কোন না কোনভাবে কিছু কঠোর অনুশাসন পরিপালনে পর্যবসিত হয়েছে। ধর্মের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য্য ও নান্দনিকতার বিষয়টি আমরা আমাদের চিন্তার মধ্যেই আনি না। অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ তাই তাঁর প্রবন্ধের শুরুতেই চেষ্টা করেছেন নান্দনিকতা সম্বন্ধে একটি মৌলিক ধারণা উপস্থাপন করতে । যদিও এই প্রবন্ধের স্তরে স্তরে নান্দনিকতার ধারণাকে তিনি আরও প্রগাঢ় ও স্পষ্ট করেছেন। “সুতরাং নান্দনিকতা হচ্ছে কোন বস্তুর সেই দিক, যাতে সৌন্দর্য্য ও আনন্দ প্রকাশ পায়। তবে শর্ত থাকে যে, এই সৌন্দর্য্য বা আনন্দের সঙ্গে কোন উপযোগিতা বা ইউটিলিটির সংস্রব থাকবে না।” কোন নারীকে সুন্দরী বললে সে বলাটা ততক্ষণ নান্দনিক নয় যতক্ষণ তাকে কামনা বাসনার পাত্র মনে করা হবে। অর্থাৎ যতক্ষণ ভোগের পাত্র হিসেবে বিবেচিত নয় ততক্ষণ সে অনুভূতিটি নান্দনিক।” (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: নতুন তথ্যে আত্মঘাতী তিন খ্যাতিমান

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৮ জুলাই ২০১৬ ১:২১ অপরাহ্ন

মানুষ আত্মহত্যা কেন করে? একজন মানুষের আত্মহত্যার পেছনে নানা কারন থাকতে পারে। পারিবারিক, সামাজিক, মনোস্তাত্ত্বিক ইত্যাদি নানা কারণ নিয়ে সেগুলো বিশ্লেষণ করা যায়। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশেষ প্রতিভার অনেক ব্যক্তিদের মাঝেও আত্মহত্যার প্রবণতা লক্ষ্যনীয়। যার ফলে দেখা যায় আত্মহননকারী ঐ প্রতিভাবান ব্যক্তিটি ঘিরে তৈরি হয় নানান জল্পনাকল্পনা, তৈরি হয় মিথ। মৃত্যুর বহুকাল পরেও ভক্ত, পাঠক, সমালোচকরা তাঁকে নিয়ে কথা বলেন, আলোচনা করেন। সব সমাজেই আত্মহত্যাকে ঘৃণার চোখে দেখা হয়েছে। এভাবে জীবনের কাছে পরাজয় কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না কখনোই। আত্মহননের মাধ্যমে জীবনের ইতি টানা কোন মানুষের মৃত্যুই গ্রহণযোগ্য নয়। আর মানুষটি যদি বিশেষ প্রতিভা, গুণ বা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হয়, তাহলে তাঁর আত্মহত্যা সমাজের জন্য আরো ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

এবারের সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতিতে থাকছেন তিন প্রতিভাবান ব্যক্তি যারা আত্মহত্যা করে তাঁর মূল্যবান জীবনের ইতি টেনেছিলেন, কিন্তু মৃত্যুর এত কাল পরে এই ২০১৬ সালেও তারা ফিরে আসছেন নতুন করে নতুনভাবে। যতটা না আত্মহত্যার জন্য তার চেয়ে বেশি তাদের সৃষ্টিশীল কর্মের জন্যই।

ভ্যান গগের কান

Vanভ্যান গগের কান। আরো স্পষ্ট করে বললে ভ্যান গগের বাম কান। সবাই জানে ভ্যান গগ তাঁর বাম কানটি কেটে ফেলেছিল। চরম এ ঘটনাটি ঘটার পর থেকে প্রায় ১২৮ বছর ধরে পন্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক চলছে, এই অঙ্গহানির তীব্রতা কতটুকু ছিল তা নিয়ে। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮৮৮ সালের ডিসেম্বরের ২৩ তারিখ ফ্রান্সের অরলেসে। তিনি কি কানের লতিটুকু কেটেছিলেন? নাকি পুরোটাই?
লেখক ও অপেশাদার ইতিহাসবিদ শ্রীমতি ব্রেনেত মারফি তার একটি নতুন বইয়ের জন্য যখন পোস্ট-ইমপ্রেশনিস্ট এই শিল্পীর জীবনের শেষ দিনগুলো নিয়ে গবেষণা করছিলেন তখনই আমেরিকান আর্কাইভে সংরক্ষিত একটি নথি আবিষ্কার করে বসেন যা কিনা ভ্যান গগের কান-বিতর্কের অবসান ঘটাতে পারে। নথিটি হল ডাক্তার ফেলিক্স রে’এর একটি লিখিত নোট। কান কাটার পর এই চিকিৎসক অরলেস হাসপাতালে ভ্যান গগের চিকিৎসা করেছিলেন। নোটটিতে কর্তন করা কানের একটি ছবিও এঁকেছিলেন ডাক্তার ফেলিক্স রে। এতে দেখা যাচ্ছে ভ্যান গগ প্রকৃতপক্ষে প্রায় সম্পূর্ণ কানটিই কেটে ফেলেছিলেন। কানের লতির কাছে যা একটু মাংস অবশিষ্ট ছিল,ক্ষত শুকাতে শুকাতে তাও প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়। (সম্পূর্ণ…)

তৌহিদুল ইসলামের সাতটি কবিতা

তৌহিদুল ইসলাম | ২৭ জুলাই ২০১৬ ৪:২৮ অপরাহ্ন

বৃষ্টিতে, ইতিহাসতলা

এখন কি বৃষ্টিতে ভিজার সময়?
জুবানো ছাতারা হাসে ইতিহাস তলা—
আমারে দিয়েছে ডাক গোলামের পোলা,
তবু আকাশ কেন সে এত হয়েছে মেঘেলা!

ছাতারা হেঁটে গেছে হাঁটু পানি কেটে
রিকশার ফনা তোলা উর্বশী হাত
তিনি কি মনসা, মাগো, ভিনদেশি রাতে
চাঁদ পারিবেন নাকি এ বাসনা ফেটে
ভেসে যেতে বঙ্গ সাগরে, তাঁর দাস ব্যবসাহে—
এইসব গোলামের পুত্রদিগেরে তিনি করিবেন পার
মালয় সাগর থেকে আরো দূর সুমাত্রা জাভার!
Touhid
অথবা ভূমধ্যসাগরে কি খালি আরবীরাই
ভেড়াবেন তরী? নাকি তারা সিরিয়ার?
গ্রিস কি ইতালির লুম্পেডুসায়
ইনিসের সাথে যদি হয়ে যাবে দেখা-
পিছনে যে পুড়িতেছে ট্রয়ের নগরী
হেলেন হেলেন তিনি পড়ে আছে কোথা? (সম্পূর্ণ…)

বাঙালির ভূমিকন্যা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৫ জুলাই ২০১৬ ১:০৯ অপরাহ্ন

Baby-Moudud-41একাত্তরের ২০শে জানুয়ারি।
কলাভবন থেকে বেরিয়েছে ছাত্রজনতার মিছিল।
প্রগতির মিছিল, প্রতিবাদের মিছিল, মুক্তির মিছিল।
এগিয়ে চলছে মেডিক্যালের দিকে।
আমরা যাবো
সিপাহি বিদ্রোহের স্মৃতিবাহী ভিক্টোরিয়া পার্ক।

বৃটিশ কাউন্সিলের সামনে আসতেই
শুনলাম তরুণী কণ্ঠ, ‘হুদা, শ্লোগান ধরো’।

মেয়েদের মিছিল দ্রুত আমাদের কাতারে এসে মিশেছে।
ঘাড় ফেরাতেই দেখি, শাদা শাড়ির এক শাদা তরুণী।
খাপখোলা তলোয়ারের মতো শাণিত আর তরঙ্গিনী।

মুক্তিকামী বাঙালি তরুণ-তরুণীর যুযুধান যাত্রা
ঢাকার রাজপথকে বানিয়েছে
গঙ্গা-পদ্মা-যমুনার মিলিত ধারা।
বেবীর কণ্ঠে শ্লোগানের স্বর,
‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’ :
আমাদের সম্মিলিত উত্তর,
‘তোমার আমার ঠিকানা’। (সম্পূর্ণ…)

আমি আমার নাম ভুলে গেছি

আনিসুর রহমান | ২৪ জুলাই ২০১৬ ৯:২৪ অপরাহ্ন

জলের মাছ কেন আসে রাতবিরাতে দরজায় কড়া নাড়ে ? কে কাশে?
গাছের পাখিরাও কেন আজ আসে আামার কাছে? কেচরমেচর ছেড়ে
কেন তারা করুণ সুরে, গাান ধরে গলা ছেড়ে? বানর হনুমান শেয়াল শকুন
হরিণ খরগোশ সকলে কেন বসে; আসন গেড়ে আমার পাশে? নানা কথা বলে
কেন তারা মাথা আর লেজ নাড়ে? বনের কে তবে আজ নির্ভয়ে গলা ছাড়ে?
কত কথা আকাশে বাতাসে উড়ে| সকলে কেন আজ তবে আমার কাছে ভিড়ে?
Anis

সকলে সমস্বরে এ কী কথা উচ্চারণ করে? কিসের ভয়, সকলের ঘরে ঘরে?
গাও গেরামের রমিজ, তমিজ, হরি গুপ্ত বড়ুয়া, গেরুয়া সকলের চোখে মুখে ভয়,
ভয়ে ভয়ে নানা কথা কয়, এসব দেখে শুনে আমার ইতিহাসের পাতা উল্টাতে ইচ্ছে করে;
১৭৫৭ আর ১৯৭১এর কথা মনে পড়ে, ঘোর বিপদেও বেঁচে গিয়েছিলাম, টিকে গিয়েছিলাম,
বড় মুখ করে সে গল্প বলে যাই সারাজীবন ধরে|! স্বাধীনতার এতো বছর পরে, কি করে
বিড়ালের ভয় উড়ে এসে জুড়ে বসে? আমার ঘরে কেন আজ ইঁদুরের উতপাত বাড়ে?
এরা কারা? কমিশন আর মুনাফার, লোভে কি সব প্রকল্প করে, আমাদের ঘর পুড়ে ;
বিবেকের মাথা খেয়ে রবার্ট ক্লাইভের জয়ন্তী করে, কার নাম নিয়ে, কার ঘরে আলো করে? (সম্পূর্ণ…)

অন্ধ হয়ে যাওয়ার রাতটি

অলাত এহ্সান | ২৩ জুলাই ২০১৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন

Alatঅন্ধ অনেক রকমই হয়। এর মধ্যে যাদের দৃষ্টি ক্ষমতাটুকু নেই তাদেরই কেবল সবাই দেখতে পায়। কিন্তু আমার এক জোড়া চোখ আছে। তা ঘুরিয়ে চারপাশের সবকিছু দেখি। দেখতে দেখতে আবার অনেককিছু বদলেও যায়। তারপরও আমি নিজেকে কেন অন্ধ বলছি, তা কারোর বোঝার কথা নয়। বুঝতে হলে আমাকে সেই রাতের ঘটনাটি বলতে হবে, যখন মেয়েটির শরীর থেকে অজস্র বিচ্ছু তৈরি হয়েছিল এবং একটি বিচ্ছু আমার দ্বিতীয় চোখটিও নষ্ট করে দিল। আমার সারাজীবনে সেটা একটা ঘটনা যার ছায়া আজও বয়ে বেড়াতে হয়। অন্ধত্ব তো এমনই, মানুষ একবার হয় আর বাকি জীবন হাতড়ে বেড়ায়।
সে রাতে বাসে উঠার পরই আমার মনে হয়েছিল—বাসটা আমাকে ঠিক জায়গায় নিয়ে যাবে তো? কেন যেন সেদিন সকাল থেকে আমার ভেতর প্রচণ্ড উৎকণ্ঠা হানা দিয়েছিল। যেন কিছু একটা হতে যাচ্ছে, কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না। আসলে প্রকৃতির সবকিছুই আগাম জানিয়ে আসে। মানুষ তার যতটুকু আলামত বুঝতে পারে, সেটাই তার অর্জন। এপাশ-ওপাশ কোনো রকম ভাবাভাবি ছাড়াই আমি তরতর করে বাসে দোতালায় উঠে গেলাম। যদিও কেউ দাঁড়িয়ে ছিল না, কিন্তু সব সিট প্রায় দখল হয়ে গেছে। যাত্রীরা বসে আছে এক-একটা কাঠের পুতুলের মতো—সোজা আর আড়ষ্টভাবে। অশেষ কৃপা যে মাঝখানে মাত্র একটা সিট ফাঁকা ছিল। তা খুঁজে পেতে আমাকে বিশেষ বেগ পেতে হলো না। সামনের সিটে মাথা ঠেকিয়ে বসে রইলাম ড্রাইভারের হাতে নিজেকে সপে—সে নিশ্চয়ই গন্তব্যে পৌঁছে দিবে। প্রচণ্ড ঝালে হাঁপানোর মতো দম ছাড়ছিলাম-নিচ্ছিলাম। পাশের যাত্রীকে মনে হলো নিকটতম সুদূরের বাসিন্দা। (সম্পূর্ণ…)

রহমান শেলীর দুটি কবিতা

রহমান শেলী | ২২ জুলাই ২০১৬ ১১:৪৩ অপরাহ্ন

মিসিং ট্রেন

Shely
তুমি বলো, তাই আজো হেঁটে যাই
সময়গুলো বেঁধে সময়গুলো ফেলে।
কতো সময় এলো, কতো সময় গেলো
কতো পাগল এলো, কতো পাগলের মেলা হলো জীবনের হাটে।

তুমিও বলেছিলে; আজো একা?
আছিস কেমনে বল্ প্রেম ছাড়া?
বলি আছি, বিকেলের পর বিকেল
সময় একটা মিসিং ট্রেন!

মিসিং ট্রেন ফেরত কি আসে আর
স্টেশনে?
তোমার সময়গুলো ভাসে
তোমার কথাগুলো ভাসে
তোমার অবহেলাগুলো…
তোমার ছোঁয়া ফেরত আসা খাম
নেড়ে যায় লুকানো এই মন। (সম্পূর্ণ…)

একটি অপ্রচলিত ধারার আখ্যান

হামীম কামরুল হক | ২০ জুলাই ২০১৬ ২:১৬ অপরাহ্ন

Sub_Coverউপন্যাস আর আগের মতো নেই। আধুনিক যেকোনো উপন্যাস পড়ামাত্র পাঠক এটি টের পান। হোসে সারামাগোর মতে, উপন্যাস আর সাহিত্যের একটি বর্গ/জঁর হয়ে নেই। উপন্যাস যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে তাতে এটি এখন একটি সাহিত্যিক পরিসর/লিটারারি স্পেস। অনেক নদী যেমন সমুদ্রে গিয়ে মেশে, উপন্যাস তেমন সাহিত্যের বিপুল বিষয় নিয়ে এক জায়গায় জড়ো করতে পারে। সারামাগোর কথার ভেতরে উপন্যাসকে ক্রিটিক্যালি দেখার ব্যাপারটি আছে। এনিয়ে বিস্তৃত আলাপ আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আমাদের এখানে সেই সুযোগ আপাতত নেই। আমরা বরং পাঠকের সাধারণ জায়গা থেকে উপন্যাসকে দেখবার চেষ্টা করছি। বলতে চাইছি যে, পাঠকের দিক থেকে দেখলে আমার মনে হয় উপন্যাস দু রকম। একটির ভেতরে পাঠক নিজেকে খুঁজে পান, অন্যটিতে পাঠক নিজেকে হারিয়ে ফেলেন। আরো অনেক রকমের আখ্যান আছে। কোথাও কাজ করে তিনি যে একটি উপন্যাস পড়ছেন সেটি লেখক তাকে বার বার মনে করিয়ে দেন। ব্রেখটের নাটকের এলিয়েনেশান থিওরির মতো। রুবাইয়াৎ আহমেদের উপন্যাস একজন সাব-এডিটরের কতিপয় ছোঁড়াখোঁড়া দিন-এ পাঠক নিজেকে হারিয়ে ফেলেন, সমকালীন বিশ্বপরিস্থিতির ভেতরে এক রকম ডুবেই যাবেন বলেই মনে হয়, কিন্তু এও বলতে পারি যে, এর ভেতর দিয়ে লেখক হয়তো একটি সাহিত্যিক পরিসরই তৈরি করতে চেয়েছেন। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সর্বশেষ উপন্যাস ‘দূর হ শয়তানের দল’

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৮ জুলাই ২০১৬ ৭:৩৬ অপরাহ্ন

Saddam's Novel-2বিশ্বব্যাপী তিনি পরিচিত ছিলেন একজন শাসক, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে। তার শাসনামলে মিথ্যা অভিযোগে তার দেশে আক্রমণ চালিয়েছিল পশ্চিমা দেশগুলো। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল, তাকে খুন করা হয়েছিল। কিন্তু খুন হওয়ার অনেক আগে থেকেই তার মধ্যে জন্ম হচ্ছিল অন্য অারেকটি সত্ত্বা, এক সাহিত্যিক সত্ত্বা। যদিও সবাই জানেন, তিনি জীবদ্দশায় সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন না কারোর কাছেই। এমন একজন মানুষের যে বইটির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে যাচ্ছি – সে বইটি জেতেনি কোন সাহিত্য পুরস্কার। এই বইটিকে বলা যায়, ‘স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া এক খন্ড কাগজের মন্ড।’–‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকা এভাবেই আখ্যায়িত করেছে বইটিকে।

মানুষটির নাম সাদ্দাম হোসেন। ইরাকের সাবেক ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট। বিস্মৃত এই রাষ্ট্রনায়কের সবচেয়ে অনালোকিত দিক আমরা প্রায় কিছুই জানি না। যদিও আরবীভাষী জগতে তিনি এই পরিচয়ে এখন বেশ পরিচিত এবং জনপ্রিয়। আর এই পরিচয় ও জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে পশ্চিমা প্রকাশনা সংস্থাগুলো এখন উৎসুক হয়ে উঠেছে তার বইগুলোর ইংরেজি অনুবাদে। তার সর্বশেষ বইটিই এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। যে বইটির কথা বলছি তা সাদ্দাম হোসেনের চতুর্থ ও সর্বশেষ উপন্যাস। সাদ্দাম হোসেন লিখেছিলেন আরবীতে ‘উরখাজ মিন’হাইয়া,মাল’উন”। যা ইংরেজীতে Begone, Demons অর্থাৎ “দূর হ শয়তানের দল” নামে সর্বাধিক পরিচিত। এছাড়াও উপন্যাসটি Get Out You Damned অথবা Get Out of Here, Curse You! শিরোনামেও অভিহিত করা যেতে পারে, বাংলা করলে যার তর্জমা দাঁড়ায় ‘দূর হ, নরকের কীট’ অথবা ‘যা এখান থেকে, অভিশাপ তোকে!” এসব নামেও ডাকা যেতে পারে। বইটি তিনি শেষ করেছিলেন ইউএস আর্মি দ্বারা তাঁর পতনের ঠিক একদিন আগের সন্ধ্যায়। স্বাধীন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সাদ্দাম হোসেনের জীবনের অন্তিম মুহূর্তে শেষ করেছিলেন পান্ডুলিপিটি। তখন ২০০৩ সাল। মার্চের বিশ তারিখে পতন ঘটে সাদ্দাম হোসেনের। তারপরের ঘটনা সবার জানা। পালিয়ে বেড়ান সাদ্দাম হোসেন পরের নয়টি মাস। নিজ জন্ম শহর তিরকিত-এর কাছে পিঠে কোথাও আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু ডিসেম্বরের তের তারিখ গ্রেফতার হন সেই ইউএস আর্মির কাছে। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী কাজের জন্য যারা তাঁকে ২০০৬ সালের ত্রিশ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করে। মৃত্যু হয় একজন সাদ্দাম হোসেনের কিন্তু তাঁর লেখা সর্বশেষ বইয়ের পান্ডুলিপিটি সঙ্গে নিয়ে জর্ডানে নির্বাসিত হন তাঁর কন্যা রেগাদ সাদ্দাম হোসেন। অতিসম্প্রতি এই বইটি প্রথমবারের মতো ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশের ঘোষণা দিল ব্রিটিশ প্রকাশনা সংস্থা হাস্পার্স। (সম্পূর্ণ…)

মুক্তিযোদ্ধা ও গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ১৭ জুলাই ২০১৬ ৩:১০ অপরাহ্ন

Babu“ডাকে পাখি খোল আঁখি
দেখ সোনালী আকাশ/ বহে ভোরের বাতাস”…
এই অসাধারণ গানের শিল্পীর নাম সবাই জানলেও সিংহ ভাগ মানুষ জানেন না রচয়িতার নাম, নজরুল ইসলাম বাবু। একটি স্নিগ্ধ, শান্ত, শীতল, কোমল, মিষ্টি সকালের আমেজে ভোরের গানের আড়ালে হারিয়ে গেছে গানের জনক। শুধু এই গানের ক্ষেত্রেই নয়; অধিকাংশ গানের ক্ষেত্রেই এই ঘটনা ঘটছে।
কবিদের যেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয় এবং মূল্যায়ন করা হয়, গীতিকবিদের ক্ষেত্রে তা হয়না। তাই আমাদের অনেকেই গান লেখায় উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। এখন গান লেখা সহজ এবং লিখে সন্মানীও মেলে। কিন্তু এক সময় রেডিও-টিভিতে গান লেখার জন্য তালিকাভুক্ত হওয়া ছিল বাঞ্চনীয়। তাই গীতিকার হতে হলে বাধ্যতামূলক পঁচিশটি গান জমা দিয়ে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদনের পর ‘ওয়ার্সি’ জুটতো। আর বেতারে এ বি সি গ্রেডের গীতিকারদের সন্মানি দেয়া হতো প্রতি গান যতবার বাজবে; তত বার এক, দুই, তিন টাকা করে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com