রাজু আলাউদ্দিনের একগুচ্ছ কবিতা

রাজু আলাউদ্দিন | ১৫ এপ্রিল ২০১৬ ১০:১১ অপরাহ্ন


অসংখ্য মৃত্যু নিয়ে আমার জন্ম হয়েছিল

অসংখ্য মৃত্যু নিয়ে আমার জন্ম হয়েছিল।
মৃত্যু ছিল আমার ঘনিষ্ঠ সহোদর।
আমার রক্তের স্রোত নিয়ে তারা ছুটে গেছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে।
তারা এতটাই কাছাকাছি ছিল, তারা এত বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল
মনে হতো প্রেমিকের মতো তারা পেছন থেকে কাঁধের বাদিক দিয়ে
আমার কপোলে চুমু খেতে চায়।
মৃত্যুগুলো প্রায় পোষ্য বেড়ালের মতো আমার কাঁথার নিচে শীত রাত্রে কাটিয়েছে পরম আরামে।
মৃত্যু ক্রমে, ধীরে ধীরে আমার প্রেমিকা হয়ে উঠেছিল এই ছোট্ট একাকী জীবনে,
অবসরে শুনাতো সে ঠাকুরের গান:
তুহুঁ মম শ্যাম সমান।
আমি বুঝতে পারিনি, মড়কের মতো অসংখ্য মৃত্যু আমার সাথে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল এই পৃথিবীতে।
এইসব মৃত্যুগুলো এত বেশি বলীয়ান ছিল, এইসব মৃত্যুগুলো দলে দলে এত বেশি বড় হয়ে গেছে; আমি ক্রমে হয়েছি একাকী।
এসব মৃত্যুর চাপে আমার জীবন ক্রমে ছোট হয়ে গেছে। (সম্পূর্ণ…)

বৈশাখের চেতনা ও আমাদের জাতীয়তা

মোস্তফা তারিকুল আহসান | ১৫ এপ্রিল ২০১৬ ৭:৫৬ অপরাহ্ন

baishak1.jpgবাঙালির জীবনে বৈশাখের চেতনার গভীরতা নিয়ে কেউ কেউ সন্দেহ করতে পারে; কীভাবে এই চেতনার জন্ম হলো,এর শেকড় কত গভীরে এই সব নিয়েও প্রশ্ন হতে পারে। তবে আমরা আজ যেভাবে মহা আনন্দ আর আগ্রহ-উদ্দীপনা নিয়ে পয়লা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ পালন করি তা তাতে এটি এখন আমাদের প্রাণের উৎসব। বাঙালির শাশ্বত উৎসবপ্রিয়তা, মিলন আর সবদিক দিয়ে রঙিন হয়ে ওঠার চিরায়ত যে জীবনধারা সেটাকে ধারণ করে বৈশাখ। কে প্রথম নববর্ষ পালন শুরু করেছিল, কে প্রথম বাংলা সন প্রবর্তন করেছিল সে সব সালতামামির ইতিহাস নিয়ে ঘাটাঘাটি ঐতিহাসিক বা গবেষকরা করুন; সাধারণ বাঙালির তা নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই। বাঙালির এমনিতে উৎসবের শেষ নেই। বারো মাসের তের পার্বনের দেশে বাঙালিরা সারাজীবন মিলেছে হৃদয়ের জোয়ারে। সেখানে কোথায় যেন একটু খুত ছিলো তা সার্বজনীন হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে। কারণ বেশিরভাগ উৎসবের সাথে যোগ আছে হিন্দুধর্মের নানা পুজো ও ব্রতের। বাঙালি মুসলমানরাও সেখানে যোগ দিয়েছে তবে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের পার্থক্য থাকার কারণে এই যোগের সামান্য সমস্যা হয়েছে তবে তা প্রকাশ্যে নয়। বাঙালি অসম্প্রদায়িক চেতনার বাহক হিসেবে সব উৎসবে পার্বণে যোগ দিয়েছে অস্বাভাবিকভাবে। বৈশাখ আমাদের সেই দ্বিধাহীন মহামিলনের আর আনন্দের উৎসব যা আমাদের ( বাংলাদেশে)জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। আজ রবীন্দ্রনাথের গানের মধ্য দিয়ে, মঙ্গলশোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষেরা অজস্র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নেচে গেয়ে রাঙিয়ে যে নববর্ষ উৎসব করে তার সমকক্ষ সমান উচ্চতার কোন অনুষ্ঠান আমাদের নেই। (সম্পূর্ণ…)

প্রণম্য পাণিণি ১৪২৩

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৪ এপ্রিল ২০১৬ ২:২১ পূর্বাহ্ন

02_boishakh_mongol-sovajatra_140415_0020.jpgশুরু নেই শেষ নেই। খণ্ড ও অখণ্ড নেই ॥
আছে শুধু অনন্ত দহন। আছে শুধু অনন্ত গহন ॥

বস্তুর গভীরে আছে অবস্তুর কণা।
গতির গভীরে আছে যতিলগ্ন ফণা ॥
জল বলে, আমি ঢেউ। নদী বায় দাঁড়।
জলেস্থলে নভোনীলে আমার পাহাড় ॥

কাল থেকে কালান্তরে এভাবেই হাঁটি।
আমার বাঙালি চুলে সিঁথি পরিপাটি ॥
বাহারি গামছাখানি বেঁধেছি মাথায়।
নগরে মুখোশ মুখে নববর্ষ যায় ॥ (সম্পূর্ণ…)

বাংলা নববর্ষ : আমাদের প্রাণের উৎসব

শামসুজ্জামান খান | ১৪ এপ্রিল ২০১৬ ১:৫৬ পূর্বাহ্ন

baishak.jpgবাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতীয় উৎসব। আমাদের আরও উৎসব আছে। তার কিছু ধর্মীয় উৎসব আর কতক ঋতু উৎসব। আবার একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের মাতৃভাষার উৎসব। সে উৎসব রাজনৈতিকও বটে। আমাদের তরুণেরা মাতৃভাষার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়ে এই উৎসবের সৃষ্টি করেছেন। বাংলা নববর্ষ উৎসব আর একুশে ফেব্রুয়ারি তাই বাংলাদেশের সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মহান উৎসব।

আজ আমরা আমাদের সব উৎসবের কথা বলবো না। শুধু নববর্ষ উৎসবের কথা বলবো। বাংলা নববর্ষ উৎসব কখন, কীভাবে শুরু হয়েছে তা ঠিক-ঠিক বলা কঠিন। ইতিহাসেও তেমনভাবে কিছু নেই। তবে প্রাচীনকাল থেকেই গ্রামীণ বাংলাদেশে ‘আমানি’ নামে একটি পারিবারিক উৎসব চালু ছিল। প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তির দিনগত রাতে অর্থাৎ পহেলা বৈশাখের আগের রাতে বাড়ির গৃহিনী একটি ঘটে পানি ঢেলে তাতে কচি একটি আমপাতার ডাল রেখে দিতেন। আর ঘটে কিছু আতপ চাল ছেড়ে দেয়া হতো। পহেলা বৈশাখের সকালে সেই আমপাতার ডালটি ঘটের পানিতে ডুবিয়ে সেই পানি বাড়ির সকলের শরীরে ছিটিয়ে দেয়া হতো। আর ঘটে ভেজানো চাল বাড়ির সবাইকে খেতে দেওয়া হতো। লোকবিশ্বাস ছিল- এতে সারাবছর সকলের মঙ্গল হবে। গৃহকর্তা এই ভেজা চাল খেয়ে ক্ষেতে হালচাষ করতে যেতেন। মনে করা হতো এতে ফসলের কোনো অমঙ্গল হবে না। এই বিষয়টি পরবর্তীকালে বাংলা নববর্ষের উৎসবের একটি অংশ হয়ে যায়। (সম্পূর্ণ…)

সংস্কৃতি ও ধর্ম: আরববিশ্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে

আবদুস সেলিম | ১৩ এপ্রিল ২০১৬ ১১:১১ অপরাহ্ন

02_boishakh_mongol-sovajatra_140415_0003.jpgবাইরের বিশ্বকে আমরা কিভাবে বিচার করি সেই শিক্ষাই দেয় সংস্কৃতি। ফলে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের যে অপরিহার্য উপাদান সহনশীলতা তারই উপলব্ধি মানবজাতি অর্জন করে সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে। বিশ্ব ইতিহাসে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের প্রতিযোগিতার ফলশ্রুতিতে যত হানাহানি এবং ঔপনিবেশিক শক্তি সৃষ্টি হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এই সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের ভেতর ধর্মও একটি অনুঘটকের কাজ করেছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য সংস্কৃতি একটি মানবগোষ্ঠীর অন্তর্গত শক্তি যার উপাদানগুলো হলো, মানুষের সাথে মানুষের ব্যবহার, তার খাদ্যাভ্যাস (রন্ধন প্রণালীসহ), ভাষা, বিনোদন ও অভ্যাস যা ঐ মানবগোষ্ঠীকে একটি সর্বজনীন একাত্মতার অনুভূতি এনে দেয় এবং এমনকি ঐ মানবগোষ্ঠীর পোশাক-পরিচ্ছদ ও পারস্পরিক ব্যবহারও এর অন্তর্ভুক্ত। ইংরেজিতে একে বলা হয় সভ্য ও সংস্কৃতিকবান হবার ইঙ্গিত বা ‘সেমিওটিক্স’। এর সাথে ধর্মীয় উৎসবও যুক্ত। ধর্ম ও সংস্কৃতির সহাবস্থান মানবজাতির জন্যই মঙ্গলজনক কারণ ধর্মের অনেক আচার অনুষ্ঠান যেমন কোনো একটি নির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখায় বসবাসকারী মানবগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করে, তেমনি সেই ভৌগলিক সীমার অভ্যন্তরের সকল ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করে থাকে। এটি অতি প্রয়োজনীয় কারণ কোনো মানবগোষ্ঠীই তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে টিকে থাকতে পারে না। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ১১ এপ্রিল ২০১৬ ৯:৩২ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

আনিসুর রহমানের দুটি কবিতা

আনিসুর রহমান | ১১ এপ্রিল ২০১৬ ৭:২০ অপরাহ্ন


নাজিমউদ্দিন ঢলে পড়ে সূত্রাপুরে

দিন যায়, প্রশ্ন দীর্ঘ হয়, ভাবি মা’র কাছ থেকে জানা যেতে পারে সকল উত্তর;
দিনে দিনে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে, হাত-পা অবশ হতে থাকে–শরীরে কাঁপুনি বাড়ে;
তার দৃষ্টি বাড়ে, গতি বাড়ে, আমি যত পেছনে, সে ততো আগে চলে হুড়মুড় করে;
ওর আর আমার জন্ম তো একই বছরে, একই প্রহরে; মা যে কতো বিপদ পাড়ি দিল!
আমাদের পেটে করে, আহা, সে কী সময় ছিলো–মা তো সেদিন বললো গর্ব করে–
সর্বাঙ্গে রোগের ছড়াছড়ি–করে শুধু আহাজারি–ভালো মতো চিকিৎসার নেই টাকা-কড়ি;
সে ভরসা আজ কেমনে যে করি? রক্তচোষা ডাক্তার, পুলিশের অসম্ভব বাড়াবাড়ি;
আজরাইল যেভাবে কাজ ভাগাভাগি করে–কত দুঃশ্চিন্তা মাথায় ভর করে– ভয় বাড়ে;
আমার প্রশ্নও বাড়ে; আমি যতই পেছনে পড়ি, সে ততো এগিয়ে যায় হড়হড় করে;
কান বন্ধ হয়, চোখ অন্ধ হয়–তার ছায়া বড়ো হয়–কিছুই শুনি না দেখি না তাহারে;
আমি কিছুই বুঝি না–হাওয়ায় মিশে যায়, দূরে ছায়া নড়েচড়ে, ধূলায় লুটিয়ে পড়ে।
দিনের আলোও দূরে অন্ধকারে ছায়া গিলে খায়– মোড়ে মোড়ে নগরের দরোজায়
খরচৈত্র দাবদাহ দিনে–ধুলোবালির এ পথ কেনো স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায়–
অদূরে দাঁড়িয়ে পথের উপরে মা-যে চিৎকার করে– হায়, আমার বুকের ধন
ছেলেটারে ছুরি মারে, গুলি করে– এ কথা কী করে মানে রে মায়ের মন?
দিন যায়, প্রশ্ন দীর্ঘ হয়– সহোদর নাজিমউদ্দিন ঢলে পড়ে সূত্রাপুরে…! (সম্পূর্ণ…)

গেছে যে দিন

আফসানা বেগম | ১০ এপ্রিল ২০১৬ ৮:৫৫ পূর্বাহ্ন

বাড়িটাকে ঠিক বাড়ি না, কোনোরকমে মাথা গোঁজার ঠাঁই বলা ভালো। গলির শেষ মাথায় দুটো বাড়ির ঘেঁসাঘেঁসি করা পাঁচিলের মিলে যাবার জায়গায় সরু একটা টিনের দরজা। ত্রিভুজের দুই বাহুর মতো দুটো পাঁচিল দুদিকে সরিয়ে দিয়ে দরজাটা ভেতরের দিকে খুলে যায়। দরজার পাশেই এক বর্গফুটের মধ্যে কয়েকটা আধা ইট দিয়ে ঘেরা একটা সুস্থ সবল লাউ গাছ, লকলক করে দরজার চৌকাঠ ছাড়িয়ে দুই ভাগ হয়ে দুটো পাঁচিলের উপরে এগিয়ে যাচ্ছে। লাউপাতার নীচে দিয়ে ঢুকলে সামনে ত্রিভুজাকৃতি ছোট্ট বারান্দা আর বারান্দার উপরের দরজা খুললে পাশাপাশি দুটো ঘর। ঘরগুলোর মেঝেতে কম আর দেয়ালে জিনিস বেশি। একটি ঘরে পুরোনো, জায়গায় জায়গায় বেতের রশি বের হওয়া দুটো বেতের চেয়ার আর অতি ব্যবহারে গর্ত গর্ত হয়ে যাওয়া কাঠের টেবিল। আরেক ঘরে চৌকি আর কাচ লাগানো কাঠের আলমারি, পাশে একটা রঙচটা ড্রেসিং টেবিল, তার আয়নায় মুখ দেখতে চাইলে মুখের কোনো কোনো জায়গা কল্পনা করে নিতে হবে। প্রতিবিম্ব সবখানে পারদের পরতে আটকাবে না, কোথাও কোথাও আলো বেরিয়ে গিয়ে পড়বে পেছনের জরাজীর্ণ দেয়ালে। কল্পনা ছাড়া উপায় নেই তখন। সাদা রং কোথাও কোথাও ঝরে পড়া আর কিছু জায়গায় প্লাস্টার খসে পড়া দেয়ালে ঝোলানো নানান আকৃতির ফটো ফ্রেম। দিনের বেলাতেও প্রায় অন্ধকার হয়ে থাকা ঘরদুটোতে দেয়ালে দেয়ালে সাফল্যের নানান কাহিনি বোনা ছবিগুলো নেহায়েত বেমানান। তবুও যখনতখন জুলেখা বেগম যে কোনো ছবির সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন, আধাআধি আলোছায়ায় তাকিয়ে থাকেন অতীতের কোনো মুহূর্তের দিকে। একটা ছবি তো আসলে কেবল ছবি নয়, একটা ছবি একটা গল্প, একটা ছবি একটা আস্ত সময়। জুলেখা বেগম সেই সময়ে চলে যান। চারদিকে হাসাহাসি, গান-বাজনা, মানুষের আনন্দ চিৎকার, সব শুনতে পান দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। অনেক সময় পুরোপুরি অন্ধকার না নামলে সরে যেতেও পারেন না ফ্রেমের সামনে থেকে। তারপর অন্ধকার নামে কল্পনায় বাজতে থাকা শব্দ বন্ধের সুইচের মতো। হাসি, আনন্দ, চিৎকার কানের পাশ থেকে সব বিদায় নেয়। বেশিরভাগই প্রয়োজন ছাড়া বাতি জ্বালেন না তিনি। আজকাল দুটো ফ্যান-বাতির বিল দেয়াও তার জন্য কঠিন। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: রোবট লিখবে হাইব্রিড উপন্যাস?

বিপাশা চক্রবর্তী | ৭ এপ্রিল ২০১৬ ৭:১৭ অপরাহ্ন

চলে গেলেন ইমরে কারতেজ, গণহত্যায় বেঁচে যাওয়া নোবেল বিজয়ী
imre.jpgইমরে কারতেজ হাঙ্গেরিয় ঔপন্যাসিক যার কথাসাহিত্যে চিত্রিত হয়েছে নাৎসি বাহিনীর মৃত্যুশিবিরে বন্দী হিসেবে কাটানো তার অসহনীয় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ অসুস্থতার পর গত ৩১ মার্চ হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে নিজ বাসভবনে ৮৬ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একজন ইহুদী হিসেবে নাৎসি দ্বারা তাড়িত হওয়া, পরবর্তীতে একজন লেখক হিসেবে দমনমূলক হাঙ্গেরিয় কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে বাস, সর্বোপরি বিংশ শতকের সবচেয়ে তীব্র যাতনার স্মৃতি পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষরূপে অথচ অতি সূক্ষ্মভাবে তাঁর গদ্যে বর্ণিত হয়েছে।
সুইডিশ নোবেল একাডেমীর মতে, তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও লেখনী ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বর ও নির্বিচার সময়কে ধারন করেছিল আর এজন্যই তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে ১৪ বছর বয়সে কারতেজ অন্যান্য হাঙ্গেরিয় ইহুদীদের সাথে আউসভিস বন্দীশিবিরে আটক ছিলেন। সেখান থেকে তাদেরকে বাচেনওয়াল্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। আউসভিস, বাচেনওয়াল্ড এবং জিতেজের বন্দিশিবিরের ঘটনাবলীকে কেন্দ্র করে তিনি রচনা করেন তাঁর আলোচিত উপন্যাস ফেটলেসনেস
ইতিহাসের তিক্ততাপূর্ণ অভিজ্ঞতালব্ধ জীবনযাত্রাকে কথাসাহিত্যের মাধ্যমে তুলে আনায় ২০০২ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয় করেন ।
ফেটলেসনেস ছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে, কাদ্দিস ফর এ চাইল্ড নট বর্ন, কাদ্দিস ফর এন আনবর্ন চাইল্ড, ফিয়াসকো, লিকুইডেশন, দ্য হলোকাস্ট এজ কালচার, ডিটেকটিভ স্টোরি ইত্যাদি। (সম্পূর্ণ…)

নির্মলেন্দু গুণের কবিতা : আমার গোপন প্রেম

নির্মলেন্দু গুণ | ৬ এপ্রিল ২০১৬ ৭:০৩ অপরাহ্ন

nirmalendu.jpgকবিতা সম্পর্কে কমেন্ট করলে কবিতার মিষ্টি ভাবটা নষ্ট হযে যায়। কবি যখন কমেন্ট করে তখন কবিতার স্বাধীন সত্তা নষ্ট হয়। আরোপিত ভাবনা এসে পড়ে। কবিতা সম্পর্কে অন্যদের স্বতঃস্ফূর্ত মতামতকে তা রুদ্ধ করে, কবির চিন্তা দ্বারা পাঠকের মতামত নিয়ন্ত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় কিংবা তার চিন্তাটা সীমিত হয়ে যায়। কবিতার সঙ্গে ব্যক্তির নাম জড়িত থাকলে, সেই ব্যক্তিত্বের প্রভাব তাতে পড়ে। এই কারণে নিজের কবিতা সম্পর্কে আমি মন্তব্যের পক্ষে না। বিদেশি কবিতা অনুবাদ করতে গেলে সেখানে মন্তব্য বা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দরকার, কারণ সেটা অন্য ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে আগত। সেই ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই বলে তখন মন্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কিন্তু নিজস্ব রচনার ক্ষেত্রে মনে হয় না তার দরকার আছে।

আমার গোপন প্রেম

যেসব নারীকে আমি গোপনে ভালোবেসেছি, তাদের সঙ্গে আমার কখনও বিচ্ছেদ ঘটেনি।
পক্ষান্তরে আমার প্রকাশিত প্রেমসমূহ
পূর্ণ হয়েছে বেদনায়, বিচ্ছেদে।

তাই মনে করি, প্রকাশিত প্রেমের তুলনায় অপ্রকাশিত গোপন প্রেমই ভালো।
যাকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করবে, তাকে আমি গোপনে ভালবাসবো।
যাকে ভালোবাসি তাকে কখনও তা জানতে দেবো না। (সম্পূর্ণ…)

প্রেমের কবি রফিক আজাদ

পুলক হাসান | ৫ এপ্রিল ২০১৬ ১১:২৬ পূর্বাহ্ন

rafiq.jpgকবি রফিক আজাদ (১৯৪১-২০১৬) কে নিয়ে লেখার মতো স্মৃতি সংগ্রহে নেই, কবিতাই আছে শুধু সামনে। যারা তাঁর পেশাগত ও কবি জীবনে পেয়েছেন মধুর সাহচর্য ও হৃদয়ে অমূল্য আসন তারা তাঁর কবিতার চেয়েও সেইসব স্মৃতি রোমন্থনেই হতে চাইবেন নির্ভার। গত ১২ মার্চ ২০১৬ তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে যান। তাঁর এ যাওয়াটা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রায় দু’মাস। এ সময়টায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কেটেছে শুধু স্বজনদের। শুভাকাঙক্ষীদের কে কতখানি এ সময়টায় তাঁর কাছে গিয়েছেন কিংবা খোঁজখবর নিয়েছেন সেসব নিয়ে হয়তো বলার অবকাশ নেই। তবে তাঁর নিরব প্রস্থানে শূণ্য হয়ে গেছে সন্তান ও প্রিয়তমা স্ত্রীর একান্ত পৃথিবী। তাদেরই বইতে হবে এ শোকের ভার। যদিও রফিক আজাদ নশ্বর এই জীবনের ওপারে চলে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে একরকম প্রস্তুতই ছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

কবি রফিক আজাদ: যেমন দেখেছি

মুহাম্মদ সামাদ | ৩ এপ্রিল ২০১৬ ৭:৫৩ অপরাহ্ন

kobi_rafiqazad-0911.jpgএক.
আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। কবি রফিক আজাদের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় বাংলা একাডেমিতে। তার চারতলার অফিস ঘরে। তার পাশের দুই ঘরে বসতেন কথাসাহিত্যিক রশীদ হায়দার ও সেলিনা হোসেন। কবি আসাদ চৌধুরী বসতেন তিন তলায়। আমি যতবার গেছি প্রায় ততবারই রশীদ ভাইকে পেয়েছি রফিক ভাইয়ের ঘরে। অনেক সময় রশীদ ভাই অফিসের ছোট-খাটো কাজও এই ঘরে বসেই সারতেন। দুজনের তুই-তুই সম্পর্ক, খিস্তি-খেউড় আর উচ্চস্বরে রফিক ভাইয়ের প্রাণখোলা হা হা হাসি সিগ্রেটের ধোঁয়ায় মিলে-মিশে জানালা দিয়ে হাওয়ায় উড়তে থাকতো। এই আড্ডায় ‘উত্তরাধিকার’-এর জন্যে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পাঠানো লেখা পাঠ করে রফিক ভাইয়ের মজার মন্তব্য ছিল খুব উপাদেয় ও উপভোগ্য। তখনকার তরুণ কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় এখানেই। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com