সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: দ্য জাঙ্গল বুক-এর চোখধাঁধানো নতুন অলংকরণ

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৯ এপ্রিল ২০১৬ ৫:৩৩ অপরাহ্ন

kipling_rudyard.jpg
রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর বিখ্যাত শিশুতোষ গল্প দ্য জাঙ্গল বুক আমাদের সকলেরই হৃদয় ও কল্পনা জুড়ে কম বেশি জায়গা করে আছে। সেই কবে ১৮৯৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় দ্য জাঙ্গল বুক। বনের ভেতর নেকড়ে পরিবারের কাছে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর গল্প আজও এই একবিংশ শতকের ব্যস্ত আধুনিক শহুরে মানুষদের মাতিয়ে রেখেছে। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মাত্র কিছুদিন আগে মুক্তি পাওয়া ওয়াল্ট ডিজনি প্রযোজিত চলচ্চিত্রটি যা নিয়ে এই মুহূর্তে মজে আছে গোটা পৃথিবী, ছেলে বুড়ো সবাই। তবে দ্য জাঙ্গল বুক’কে নিয়ে এটাই প্রথম চলচ্চিত্র নয়। এর আগে এই ওয়াল্ট ডিজনি পিকচারস বানিয়েছিল এনিমেটেড মিউজিক্যাল কমেডি ফ্লিম ‘দ্য জঙ্গল বুক’। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬-এর এপ্রিলে মুক্তি পায় আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর চলচ্চিত্রটি। শুধু কি তাই, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় এ পর্যন্ত দ্য জাঙ্গল বুক ও এর প্রধান চরিত্র মোগলিকে নিয়ে এখন পর্যন্ত তৈরি হয়েছে বহু কার্টুন ও এনিমেটেড শো, কমিকস, টিভি সিরিজ কত কিছু। এই শিশুতোষ গল্পটি কেবল সাহিত্যক্ষেত্রেই অনন্য নয় বরং একে উপজীব্য করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রকার ব্যবসায়িক মুনাফা লাভের কার্যক্রম। সম্ভবত মানুষের রক্তে সুপ্ত হয়ে থাকা আদিম বন্যতাই তাকে বার বার নিয়ে যায় জঙ্গলে বেড়ে ওঠা মোগলি ও তার পশুবান্ধব বালু, বাঘেরাদের কাছে। মানুষ যেন নিজেকে ফিরে পায় মোগলির মাধ্যমে। এমনকি শিল্পীর চোখেও বার বার কল্পিত ও অংকিত হয়েছে মোগলি ও দ্য জাঙ্গল বুক-এর অন্যান্য চরিত্র এবং ঘটনা। border=0আরও মজার ব্যাপার হলো দ্য জাঙ্গল বুক-এর প্রথম সংস্করণের অলংকরণ করেছিলেন রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর পিতা জন লকউড কিপলিং।

সম্প্রতি দশ জন শিল্পী ও আঁকিয়ে দ্য জাঙ্গল বুক থেকে তাদের প্রিয় দৃশ্য ও চরিত্রগুলিকে নতুনরূপে সৃষ্টি করার রঙিন চেষ্টা করেছেন। এক নজর দেখা যাক তাদের সেই বর্ণিল শিল্পকর্ম। (সম্পূর্ণ…)

পূরবী বসুর কবিতা: পদ্মস্নান

পূরবী বসু | ২৮ এপ্রিল ২০১৬ ১২:২৫ অপরাহ্ন

(ধর্ষনের মতো অপরাধের কোন বিচার বা শাস্তি হবে না বুঝতে পেরে ধর্ষনের শিকার মেয়েটির উদ্দেশে)
ওঠ ছেমরি,ওঠ এবারে, দূর করে দে ভয়,
মনে রাখিস্‌, এমনি করেই বেঁচে থাকতে হয়।

যা ছেমরি, পুকুর ঘাটে, গোসল সেরে আয়
ঘষে মেজে নাইবি যাতে নোংরা মুছে যায়।

কান্না কীসের? বলি মেয়ে, চোখে কেন জল?
এমন কী আর হয়নি আগে নিজের মুখেই বল্‌!

গেল বছর চৈত্র মাসের কালবৈশাখীতে,
জয়া গেল তুফান-ঝরা আম কুড়াইতে।

কোথায় আম! কোথায় জয়া! সন্ধ্যা নামে ঘাটে
বেহুঁস মেয়ে খুঁজে পেতে সারাটা রাত কাটে। (সম্পূর্ণ…)

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের গুচ্ছ কবিতা

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ২৭ এপ্রিল ২০১৬ ১০:৩১ অপরাহ্ন


ভাইফোঁটা

তোমার বিভিন্ন অঞ্চলে, তোমার পাতায় পৃষ্ঠায় চাপাতির চাকচাক রক্ত! তুমি রক্তমাখা গ্রন্থ। তুমি রক্ত দিয়ে পরেছো সিঁদুর, পরেছো রক্তের টিপ! তোমার নম্র-নরম হাতে রক্তে আঁকা মেহেদি, নখে রক্ত রঙের লাল নেলপালিশ। পায়ের পাতায় লতানো রক্তাক্ত আলতা!

সেই সম্পর্কের রক্ত স্পর্শ করে রক্ত দিয়েই দীপনের কপালে দিলে বিদায়ী ভাইফোঁটা!

ভ্রমণ

নায়াগ্রা যাবার পথে বিদেশি গ্রাম। টিম হর্টনস। খামারবাড়ি। কোথাও শর্ষে ক্ষেত দেখি না।
শীতল অরণ্যে আপেল গাছ, পাতার আড়ালে শুধু নারী আপেলের নিমন্ত্রণপত্র
ঘন কুয়াশার বদলে গাঢ় স্নো’র ছড়াছড়ি, শীতমাত্রা শৈলপ্রপাতে মাত্রাহীন মাইনাস।
সাপের শরীরের মতো সড়কের দু’পাশে চারপাশে নীলজল, জলপরীদের জলকেলি
মানব গন্ধে জুম-যুবতীরা ছায়া ফেলে মিলিয়ে গেলো স্নো-কুয়াশায়। এখনো কাঁপছে জল! (সম্পূর্ণ…)

বিনয় বর্মনের পাঁচটি প্রত্নতাত্ত্বিক কবিতা

বিনয় বর্মন | ২৭ এপ্রিল ২০১৬ ৫:৩৩ অপরাহ্ন


গোবেক্লি তেপে

হৃদয় আমার ঘুমিয়ে ছিলো মাটির গভীরে
বারো হাজার বছরের ঘুম
পৃথিবীর প্রথম মন্দিরে
অস্পষ্ট সৌরবৃত্ত
মধ্যগগনে জন্মবিন্দু
দুহাত ছড়িয়ে যিশু দাঁড়িয়ে আছেন বারোজন শিস্যসমেত
নাকি শিবপার্বতীর যুগলমূর্তি মাঝখানে
আদিম ইতিহাস ঘুরপাক খায় রাশিচক্রে
পাথরঘড়িতে সমাহিত স্বপ্ন
আমি আজ জেগে উঠেছি
গাঁইতির ঘায়ে তোমাদের প্রত্নতাত্ত্বিক উৎসবে
শিকারে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম
কেনো আমার ঘুম ভাঙালে বিংশনিষাদ?
তোমাদের ক্রুরতা আমাকে পীড়া দেয়
বুনো মোষ দুই শিঙে বিদ্ধ করে আমাকে
সাপ পেঁচিয়ে ধরে শরীর
গিরগিটি মাকড়শা পিল পিল করে ঢোকে নাকমুখ দিয়ে
হে সারস আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাও আকাশে
যেখানে থাকে আমার হৃদয়সখা।

gobekli-tepe.jpg
গোবেক্লি তেপে তুরস্কের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সুপ্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। প্রায় বারো হাজার বছর পূর্বে এখানে নির্মিত হয় প্রস্তরস্তম্ভ। স্থানে স্থানে বারোটি করে স্তম্ভ চক্রাকারে দাঁড় করানো; মাঝখানে আরো দুটি অপেক্ষাকৃত বৃহৎ স্তম্ভ। এটিকে বলা হচ্ছে পৃথিবীর সর্বপ্রাচীন মন্দির। ক্লাউস শ্মিট নামে একজন জার্মান প্রত্নত্তত্ববিদ ১৯৯৪ সালে এটির সন্ধান পান। (সম্পূর্ণ…)

টুঙ্গিপাড়া: মহানায়কের প্রতিকৃতি

আবু মো: দেলোয়ার হোসেন | ২৫ এপ্রিল ২০১৬ ১:২৭ অপরাহ্ন

tungipara.jpg“বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর অনেক দিন চলে গিয়েছিল, দেশের ভিতরে কোথায়ও প্রকাশ্যে কেউ তাঁর নাম শ্রদ্ধা ও ভালবাসার সঙ্গে উচ্চারণ করতে পারছিলাম না। এ ব্যাপারে সামরিক শাসকদের কোনো বিধি-নিষেধ আরোপিত না থাকলেও তাদের আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেওয়া অলিখিত বিধি-নিষেধ দেশের মানুষের মধ্যে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছিল।” কবিবর নির্মলেন্দু গুণের বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর আদর্শিক পরিবর্তনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলার সম্পূর্ণ কার্যক্রমই গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু একবার যখন শুরু হলো তখন ‘বুকের মধ্যে চেপে-বসা একটি পাথর অপসারিত হয়’। ‘বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু চর্চা’র হিসেবে বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর জীবনী থেকে শুরু করে তাঁকে নিয়ে লেখা গ্রন্থের সংখ্যা এক হাজারের ওপরে। বিভিন্ন আঙ্গিকে, বিভিন্ন ভাবে গল্প, উপন্যাস প্রবন্ধ, কবিতা, ছড়া, নাটক, কথিকা, চলচ্চিত্র, জীবনী, আত্মজীবনী, স্মৃতিচারণ, ইতিহাস গ্রন্থ, স্মারক গ্রন্থ প্রভৃতি প্রকাশিত হয়েছে এবং হচ্ছে। বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে ৩১ টি প্রবন্ধ, ৪ টি গল্প, ৩৫ টি কবিতা, ১ টি কথিকা, ১টি প্রচারপত্র, জীবন পরিচয়, ২৮ টি আলোকচিত্র (বঙ্গবন্ধু) এবং পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নির্মম ঘটনার বিবরণ রয়েছে ‘টুঙ্গিপাড়া’ গ্রন্থটিতে। বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থানকে প্রতীকী হিসেবে নামকরণের জন্য গ্রহণ করলেও মূলত এটি বঙ্গবন্ধু স্মারক গ্রন্থ। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: বিজ্ঞানসচেতন শেক্সপিয়র

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৩ এপ্রিল ২০১৬ ৮:৫৭ অপরাহ্ন

w-s.jpgউপলক্ষটি চার’শ বছরের। তা যতই ভক্ত, অনুরাগী থাকুক না কেন, কর্মগুণ না থাকলে কেউ চারশ বছর ধরে বাঁচে কী করে? অাভনের কবি থেকে যিনি হয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্য স্রষ্টা। বলাই বাহুল্য, ইংরেজী ভাষায় তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক। উইলিয়াম শেক্সপিয়র। তাঁর সৃষ্টিকর্মকে উপজীব্য করে আজও মেতে আছে মননশীল আধুনিক মানুষেরা। যাকে নিয়ে আবার নাক সিঁটকেছিল একদল অজ্ঞ শূন্যগর্ভ লোক। তাঁর কালজয়ী সব নাটকের ছায়া অবলম্বনে একদিকে যেমন তৈরি হয়েছে জনপ্রিয় সব চলচ্চিত্র তেমনি রচিত হয়েছে বহু গল্প উপন্যাস। অন্যদিকে এসবকিছু ব্যবহার করে জমজমাট ব্যবসা করে যাচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেছে তাঁর প্রতি মানুষের ভালবাসা আর মুগ্ধতা। তাঁর সৃষ্টিকর্মে অনুপ্রাণিত প্রভাবিত হয়েছেন আধুনিক যুগের শ্রেষ্ঠ সব শিল্পী ও সাহিত্যিকরা।

শেক্সপিয়রের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে তার সাহিত্যকৃতির নানা দিক নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। কিন্তু এত আলোচনার পরও এখনও তার অনালোকিত এমন সব দিক আছে যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ‘শেক্সপিয়র বার্ষিকীতে’ যে বিষয়টি পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে চাই তা–বলাই বাহুল্য যে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বইয়ের সূত্রে–এবং এ নিয়ে সম্ভবত খুব কম আলোচনাই হয়েছে। প্রাচ্যে তো বটেই এমনকি পাশ্চাত্যেও। পশ্চিমের দেশগুলোর মুষ্টিমেয় পণ্ডিতরা এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন। সেটা কী? “শেক্সপিয়র বিজ্ঞান জানতেন”! আমরা সাধারণত ‘শেক্সপিয়র’ আর ‘বিজ্ঞান’ এই দুটি দিককে কখনোই একসাথে ভাবি না। আর একটি ব্যাপার শেক্সপিয়রের সেই ভিক্টোরিয়ান যুগের বিজ্ঞান এখনকার বিজ্ঞানের মতো ছিল না। তবে এটা ঠিক শেক্সপিয়র বসবাস করেছিলেন এমন একটা অসাধারণ সময়ে যা ছিল বিজ্ঞানের বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হবার প্রথম পর্ব। যদিও এই মহান কবির জীবদ্দশায় জাদু আর নানা প্রকারের কুসংস্কার রাজত্ব করত। তবুও বলা যায় সেটা ছিল বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কারেরই যুগ। মহাবিশ্ব এবং মহাবিশ্বে মানুষের অবস্থান সম্পর্কে নতুন নতুন জ্ঞান মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করছিল তখন।
এই মুহূর্তে পৃথিবী উদযাপন করছে এই মহান নাট্যকারের ৪৫২তম জন্ম ও ৪০০তম মৃত্যুবার্ষিকী। আর এইসময়ে এসে আমরা জানতে পারছি জগতের প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা বিজ্ঞানের প্রতি শেক্সপিয়রের আগ্রহের কথা। (সম্পূর্ণ…)

পাওলো কোয়েলো’র মারিয়া: ভালোবাসায় আত্মার মুক্তি খোঁজা নারী

সেরীন ফেরদৌস | ২১ এপ্রিল ২০১৬ ১:২২ অপরাহ্ন

border=0মারিয়া কারো কথা কানে নিতে শেখেনি। খুব ছোটবেলা থেকে তার চরিত্রের এই বিশেষ দিকটি ফুটে ওঠে যে, সে অপ্রতিরোধ্য, নিজ হাতে জীবনকে ঘেঁটে-ছেনে ভালোবাসার স্বরূপ অনুসন্ধানেই নিয়োজিত থাকবে; ‘টারমিনেটর’ মুভির মতো সে ভেঙে শত টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়বে, আবার জোড়া লেগে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে। ওকে যেন কিছুতেই মাড়ানো যাবে না, ও যেন প্রতিজ্ঞা করেছে অভিজ্ঞতার প্রতিটি শাখা-প্রশাখা থেকে রস নিয়ে ও বারবার নিজেকে অতিক্রম করে যাবে। পুড়ে যাওয়া হৃদয়ের ভস্মের ভেতর দিয়ে বার বার জন্ম নেবে ভালোবাসার নতুন ফিনিক্স!

জীবনকে বুঝে উঠবার আগেই যে ভালোবাসার তীব্র আলোয় ঝলসে উঠেছিলো সে। বুঝে উঠবার আগেই তাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়ে যায় তা। ব্রাজিলের দূর শহরের ছোট্ট গ্রামের ভেতরের ততোধিক ছোট্ট পৃথিবীতে প্রথম যখন নিজেকে সে খুঁজে পেয়েছিলো এক বালকের চোখের তারায়, তখন তার বয়স মাত্র ১১ বছর। অচেনা সে বালকের নাম পর্যন্ত কোনোদিন সে জানতে পারেনি। প্রতিদিন তাকে দেখতো, রাস্তার অপর পাশে। চুপচাপ হেঁটে চলেছে মারিয়ার সমান্তরালে, সলাজ ভঙ্গীতে, কখনোই সাহস করে কিছু বলে উঠতে পারেনি। মারিয়া নিজেও ভেবে উঠতে পারেনি, তাকে কিছু বলা উচিত কি না। এভাবে মাসের পর মাস কেটে যেতে মারিয়া একপ্রকার অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলো, যদিও মারিয়া পরবর্তী জীবনে বহুবার নিজেকে ধিক্কার দিয়েছে বালিকা বয়সের ওই অভ্যস্ত হয়ে যাবার প্রক্রিয়াটি রপ্ত করার অপরাধে। পরবর্তী জীবনে মূল্য দিয়ে দিয়ে মারিয়া এই জ্ঞান অর্জন করেছে, ভালোবাসায় অভ্যস্ত হয়ে যাবার মানে ভালোবাসার মৃত্যু! (সম্পূর্ণ…)

সুকারি’র ধাতব আবেগ

মাজুল হাসান | ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ৬:৪৭ অপরাহ্ন

sukari-5.jpgপাবলো পিকাসো বলেছিলেন- Sculpture is the art of the intelligence. শুধু ভাস্কর্য নয় শিল্পের অন্য যে কোনো মাধ্যমের জন্য এ কথা সত্য। তবে ভাস্কর্য যেহেতু ত্রিমাত্রিক অবয়বে উপস্থিত হয় সেহেতু এর পেছনে থাকে আরও বুদ্ধিবৃত্তিক চারুকৌশল। সাথে যোগ হয় নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিগত কারিশমা। কবিতায় আমরা যেমন কবি-মানসের আলোকে মূর্তায়ন, অর্ধ কিংবা পূর্ণ বিমূর্ততার স্বাদ পাই, তেমনি পাই পেইন্টিং-এও। সেখানে রঙ ও রেখার টানে অনেক শিল্পমাহাত্ম আরোপের সুযোগ থাকে, করা হয়ে থাকে। কিন্তু কথাসাহিত্যে শেষ পর্যন্ত মূর্ততার দিকেই আস্থাশীল থাকতে হয় শিল্পীকে। ননফিকশনে বিষয়টি আরও প্রবল। সেখানে বিষয় ও বক্তব্যে আরও পরিশীলিত পরিচর্চার ছাপ থাকাটা জরুরি। অনেকে তাই প্রবন্ধ বা মননশীল লেখাকে স্কালচার বা ভাস্কর্যের সাথে তুলনা করে থাকেন। মাইকেলেঞ্জেলো অবশ্য ভালো পেইন্টিংকে ভাস্কর্যের সাথে তুলনা করেছিলেন। ভালো ছবির থরে থরে সাজানো দৃঢ় ও প্রকাশ্য সৌন্দর্যের কারণে‌ই হয়তো এই অভিধা। মোটা দাগে, Painting is so poetic, while sculpture is more logical and scientific and makes you worry about gravity।এই তফাত গড়ে দেয় দুই মাধ্যমের ব্যক্তিগত ক্যারেক্টারিস্টিকস তথা স্পেস। (সম্পূর্ণ…)

হোর্হে লুইস বোর্হেস: লেখক যখন চিত্রশিল্পী

জাকিয়া সুলতানা | ১৭ এপ্রিল ২০১৬ ৯:০৩ অপরাহ্ন

প্রবল সৃষ্টিশীলতা অনেক সময়ে একইসঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন রূপের মধ্যে আত্মপ্রকাশ করতে চাইতে পারে। যৌবনকালে রবীন্দ্রনাথ একবার(১৮৯৩) লঘুভাবে লিখেছিলেন, `muse’-দের মধ্যে কোনওটাকেই তিনি নিরাশ করতে চান না, সবকিছুরই চর্চা করতে ইচ্ছে করে, এমনকী ছবিরও। সে-ইচ্ছেকে অবশ্য বহুকাল পরে চরিতার্থ করে তুলেছিলেন। তিনি, এঁকে ফেলেছিলেন দু-হাজারেরও বেশি ছবি, ‘Volcanic irruption’ বলে যার বর্ণনা করেছিলেন অবনীন্দ্রনাথ।
তাহলে এইভাবে, কবিতা লেখার বাইরেও যেতে চান কবি, শিল্পরচনার বাইরেও যেতে চান শিল্পী। পৃথিবীজোড়া শিল্পসাহিত্যের ইতিহাসে এমন যাওয়া-আসার অনেক উদাহরণ পড়ে আছে আমাদের চোখের সামনে ।
( শঙ্খ ঘোষ, অল্পস্বল্প কথা, প্রকাশনী: পাঠক, কলকাতা, প্রকাশকাল: বইমেলা জানুয়ারি ২০১৬, পৃ ৪০)

borges-4.pngবিশ শতকের বিদেশি লেখকদের মধ্যে আমাদের মনে পড়বে কাফকার অসামান্য স্কেচগুলোর কথা, মনে পড়বে আরও অনেকের নামই। কিন্তু আর্হেন্তিনার হোর্হে লুইস বোর্হেস যিনি আমাদের কালের নেতৃস্থানীয় কথাসাহিত্যিক ও কবি হিসেবেই বেশি পরিচিতি, তিনিও যে আঁকার হাতছানির কবলে পরেছিলেন সেটা তার লেখক পরিচয়ের মতো অতটা ব্যাপক নয়। (সম্পূর্ণ…)

কামরুল হাসানের পাঁচটি কবিতা

কামরুল হাসান | ১৭ এপ্রিল ২০১৬ ৫:১২ অপরাহ্ন


প্রতিচ্ছবিময় প্রান্তরের প্লেটে

প্রতিচ্ছবিময় এক ট্রেন ভীরু পালাই দুর্দিনে
ঘুর্ণমান প্রান্তরের প্লেটে রিক্ত, সরু বরবটি
চামচে সরিয়ে নাও মেহগনি দৈত্যমান ভয়
ঈশ্বরের দীপ্রচোখ খুলে লাগাই কোটরে।

আগুয়ান যৌথপথ, যাত্রারীতি একই উত্তরে
তোমার পলায়নপর পায়ের ফর্সা ছাপ অতনু
পাহাড়ের তলপেটে নীবিবদ্ধ নদীদের আয়ু
অহর্ণিশ ছুটে যাও বায়ুমত্ত প্রবল দক্ষিণে।

পতাকার মত ওড়ে ধোয়া শান্তি বিদ্রোহের
এসো পাশে বসো, নম্রমাঠ হলুদ সাবেকী
এইমাত্র সবুজেরে পাল্টালো একঘেয়ে নীলে
গীতল আচ্ছন্ন ঘুমে দ্বিধাময়, প্রশান্ত পাতাটি।

কেশরে দোলাও সখী নধরাক্ষী সপ্তর্ষির ফুল
অতন্দ্র চক্করে নামো অভাবিত, অনিত্য বকুল। (সম্পূর্ণ…)

মনির ইউসুফের গুচ্ছ কবিতা

মনির ইউসুফ | ১৭ এপ্রিল ২০১৬ ২:২০ অপরাহ্ন


আমার মনের সৈকতে

painting1.jpgআমার মনের সৈকতে এত অবাধ্য ঢেউ বঙ্গোপসাগরীয় সভ্যতার জোয়ার নিয়ে আসে
পৃথিবীর সমস্ত সতেজ বাতাসে মাখামাখি করে পুরো শহর, তখন আমার মন
অতীতের জাহাজের দিকে ফিরে যায়;

যখন আমার পূর্বপুরুষ মাছের ঝাঁক তুলে নিত জাহাজে জাহাজে
দিগন্তের ভেতর দিয়ে তারা আবার ফিরে আসত কূলে
তীরে ফিরে আসার আনন্দে জেলেনীর সঙ্গে মিশত, তখন কি উজ্জ্বল তাদের মনের উল্লাস
কূলে ফেরার আনন্দ জীবন ও যৌবনে, আরা রাঙা বুকে শরীরে রোদেপোড়া চামড়ায়
কোচকানো উজ্জ্বল চোখে, আমাদের জেলেনীর বুকে তখন অনাগত স্বপ্ন দোল খেত

সেই সমুদ্র তীর এখন আধুনিক শহর, শতাব্দী কালব্যাপী ব্যাপ্ত থেকে ভাঙাগড়ায়
এক কথার মানুষ সরল জেলে ও জেলেনী এখন স্কুল মাষ্টার, উকিল, বড় ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ কেরানি
ঔপনিবেশিক হীনমন্যতার ভেতর বেড়ে ওঠা বিভিন্ন পদবীধারী আধুনিক মানুষে রূপান্তরিত (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক শিল্পসাহিত্য: পানামা পেপার্স-এ চিত্রকলাও

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৭ এপ্রিল ২০১৬ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন


একটি নিলাম যেভাব পাল্টে দিল শিল্পজগতের ইতিহাস

pablo.jpg বিলিওনিয়ার জো লুইস কিভাবে ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা পৃথিবী বিখ্যাত সব চিত্রকর্ম সস্তায় কিনে নিয়েছিলেন সম্প্রতি পানামা পেপার্সে তার একটি বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগ্রাহক দম্পতি ভিক্টোর গ্যান্জ ও শ্যালি গ্যান্জ-’এর ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল বহু বিশ্ববিখ্যাত শিল্পকর্ম। জহুরির চোখ দিয়ে তারা সেই শিল্পকর্ম বাছাই করতেন। এ ব্যাপারে তারা ছিলেন বিশেষজ্ঞ। কখনোই তাদের পছন্দ ব্যর্থ হয়নি। বলা যায়, পৃথিবীর ইতিহাসে এই দম্পতিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগত শিল্প সংগ্রাহক। এমনকি শিল্পসংগ্রহ নিয়ে এই দম্পতি আ লাইফ অফ কালেক্টটিং নামে একটি বিখ্যাত গ্রন্থও লিখেছিলেন। বিশেষ করে পাবলো পিকাসোর ভক্ত ছিলেন তারা। এবং পিকাসোর বিখ্যাত কিছু শিল্পকর্ম তাদের সংগ্রহশালায় ছিল। ১৯৯৭-এর জানুয়ারিতে ৮৫ বছর বয়সে শ্যালি গন্জ-এর মৃত্যুর পর থেকে একে একে নিলাম হতে থাকে তাদের সংগ্রহে থাকা শিল্পকর্মগুলো।

women-of-algiers.jpgসময়টা ১৯৯৭ সালের নভেম্বর মাস। ম্যানহাটনের নিলাম ঘর ক্রিস্টিজ সেলসরুমে গন্জ দম্পতির সংগ্রহে থাকা পাবলো পিকাসোর যুদ্ধপরবর্তী মাস্টারপিস বিশ্ববিখ্যাত শিল্পকর্ম ‘ওমেন অব আলজিয়ার্স’সহ অসংখ্য চিত্রের একটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিখ্যাত স্প্যানিশ কিউবিস্ট চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর ‘ওমেন অব আলজিয়ার্স( ভার্সন ও)’ ছিল ১৫টি অসাধারণ চিত্রকর্মের একটি সিরিজ। আর ‘ভার্সন ও’ হচ্ছে ঐ সিরিজের সর্বশেষ চিত্রকর্ম। আর এজন্যই ওটা ছিল একটু বেশী ব্যতিক্রম। নিলামে থাকা শিল্পকর্মগুলো মাত্র ৩২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। আর ১৮ বছর পর যার মূল্য হয় ১৭৯ মিলিয়ন ডলার। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com