সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: প্রত্যাখ্যাত রাউলিং ও পুনর্বাসনে লুইয এলিজাবেত ভিযে ল্য ব্রাঁ

বিপাশা চক্রবর্তী | ৩০ মার্চ ২০১৬ ৩:১৩ অপরাহ্ন


এই সময়ের সবচেয়ে সফল নারী লেখক

cacku.jpgহ্যারী পটার খ্যাত জে কে রাউলিং সম্প্রতি টুইটারে বেশ কিছু প্রত্যাখান পত্র প্রকাশ করেছেন। না কোন প্রেম প্রত্যাখান পত্র নয়, বরং বিভিন্ন প্রকাশকদের কাছে পাঠানো তার বইয়ের পান্ডুলিপির প্রত্যাখ্যান পত্র। হ্যাঁ, জে কে রাউলিং যিনি প্রথম নারী লেখক হিসেবে পৃথিবীর অন্যতম বিলিয়েনিয়ারদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, তিনি একসময় বিভিন্ন প্রকাশকদের কাছে তার বইয়ের পান্ডুলিপি পাঠিয়েছিলেন আর সেই পান্ডুলিপি বই আকারে প্রকাশে অনেক প্রকাশক অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন! তবে রাউলিং সেসমস্ত পান্ডুলিপিতে তার নিজের আসল নাম ব্যবহার করেন নি। ছদ্মনাম রবার্ট গিলব্রেথ ব্যবহার করেছেন।

রাউলিং এক ভক্তের অনুরোধে প্রকাশকদের কাছ থেকে পাওয়া সেই চিঠিগুলোর কপি তার টুইটার একাউন্টে প্রকাশ করেন। তার পরপরই ব্যাপারটা বেশ সাড়া ফেলে। ছদ্মনাম – রবার্ট গিলব্রেথ হিসেবে তার প্রথম গল্প ‘দ্য কাক্কুস কলিং’ প্রকাশের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল । শুধু তাই নয়, শিশু সাহিত্যে সাড়া জাগানো বিশ্বে ৪০০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রিত রাউলিংয়ের হ্যারী পটার বইটির ক্ষেত্রেও কয়েকবার প্রকাশক ছাপতে চায়নি। তবে এর জন্য তিনি নিরুৎসাহিত হননি বরং তাকে আরো ভাল করার শক্তি যুগিয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

আশরাফ জুয়েলের গুচ্ছ কবিতা

আশরাফ জুয়েল | ২৯ মার্চ ২০১৬ ৬:২৬ অপরাহ্ন


চোখ খোলো কবি

(উৎসর্গ: কবি রফিক আজাদ)
তোমার চারপাশে চিত্রশালা ফেরত অসংখ্য চড়ুই,
যাদের ঠোঁট-ভর্তি ঘাগরা-পরা কবিতার শব্দ।
শাদা রুমালের নিস্তব্ধ চিত্রকল্পে এতোটা নিশ্চুপ কেন তুমি?
তোমার কবিতার খাতা এবং বিপরীতের অস্থিরতা
কাব্যগ্রন্থ ছেড়ে এসে বসেছে তোমার শয্যাপাশে।
শীতের আকস্মিকতায় উড়ে যাচ্ছে পাণ্ডুলিপি।
বিশ্রামের খেয়াঘাটে আরেকটু থাকো;
তুমি কি জানো না নিরবতার ওপারে কুসংস্কার,
মিথের জ্বলজ্বলে গন্ধ!
চড়ুই পাখির প্রচ্ছদে আঁকা চূড়ান্ত উত্তেজনা
তোমার জন্য মহান ঔচিত্য হয়ে জীবিত থাক পরিত্যক্ত আয়ুষ্কালব্যাপী।
চোখ খোলো কবি; খোলা রাখো চোখ। (সম্পূর্ণ…)

সোনার মানুষের খোঁজ

জাকিয়া সুলতানা | ২৮ মার্চ ২০১৬ ১১:১২ অপরাহ্ন

lalon-1.jpgজাগতিক নিয়মে সকাল হয়। এরপর সুর্য পূব থেকে পশ্চিমে চলে যায়, গ্রীষ্মে রাস্তার পীচ গলে আঠালো হয়, কালবৈশাখী হয়; বর্ষায় মেঘলা আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামে, শরতে পেঁজা তুলো স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায়- কিছুই দেখা হয় না এ যান্ত্রিক শহরে। কিন্তু আপনি চান বা না চান, অসংখ্য মানুষ আপনি দেখেন। আমরা কখনো কি তাকিয়ে দেখার ফুরসত পাই এই মানুষের দিকে?
মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।
মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই মূল হারাবি।।

প্রকৃতি দেখার জন্য এই ঢাকা শহরের গণ্ডিটা পার হয়ে যেতে হয়। তবে মানুষ দেখার জন্য এই পৃথিবীর দু’একটা শ্বাপদসংকুল স্থান ছাড়া যেখানেই যাওয়া হোক না কেন যে কেউ চাইলেই এর বৈচিত্র্য অনুভব করতে পারবে। সাধারণ মানুষের বাইরে কিছু মানুষ দেখা হলো, কুষ্টিয়ায়। বলছিলাম মরমী সাধক লালন ফকির ও তাঁর অনুসারীদের কথা। মানুষকে চেনাই যাদের মূল লক্ষ্য ছিল। যখন মানুষেরা জাতপাত আর ছোঁয়াছুঁয়ি নিয়ে কোন্দল করছে তখন এই মানুষ উচ্চারণ করলেন অদ্ভুত এক কথা-
কেউ মালা কেউ তসবি গলে
তাইতে কি জাত ভিন্ন বলে
আসা কিংবা যাওয়ার কালে
জাতির চিহ্ন রয় কি রে।।

দোল পূর্ণিমার সময় ছেঁউড়িয়ায় সাঁইজির আখড়া বাড়ীতে বসেছে সাধূর হাট। তিনদিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসবে জমায়েত হয়েছে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার সাধুগুরু ও ভক্তকূল। সন্ধ্যার আগে আগেই গেলাম লালন একাডেমী। এসময় কুষ্টিয়া শহরে জ্যামে চলাফেরা করা দুষ্কর। লালনের ভক্ত, লালনপ্রেমী, সাংবাদিকদের ভিড়ে ধূলিময় হয়ে ওঠে শহর। তাই গন্তব্যস্থলের অনেক আগেই মিলপাড়ায় রিকশা ছেড়ে দিতে হলো। যেকোন তীর্থে নাকি পদব্রজই উত্তম, তাই আমিও কুষ্টিয়ার ধূলি পায়ে লাগিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। (সম্পূর্ণ…)

কালো মাটির কালো পুতুল

শঙ্খ ঘোষ | ২৫ মার্চ ২০১৬ ১০:১৩ অপরাহ্ন

বাংলাভাষার প্রধান লেখক শঙ্খ ঘোষ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাত্র পনের দিনের মাথায় লিখেছিলেন এই লেখাটি। বাংলাদেশের সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বাঙালি জাতির স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের তাৎপর্য ও অনিবার্যতাকে যে সংবেদনশীলতা ও গভীরতার সঙ্গে তিনি অবলোকন করেছেন তা রীতিমত অসামান্য। গুরুত্বপূর্ণ এই লেখাটি তখনই প্রকাশিত হয়েছিল হুমাযুন কবীর সম্পাদিত ‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকায়। অতিসম্প্রতি লেখাটি শঙ্খ ঘোষের অল্পস্বল্প কথা( জানুয়ারি ২০১৬) গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। লেখাটি প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় লেখকের অনুমতিসাপেক্ষে এখানে পুনঃপ্রকাশ করা হলো। বি.স.

26-march-2.jpg
জসীমউদ্দীন থেকে শুরু করে শামসুর রাহমান পর্যন্ত কবিরা এখন কোথায়, এই মুুহূর্তে? ইয়াহিয়ার সৈন্যেরা না কি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইত্তেফাকের অফিস, ধ্বংস করেছে তার সাংবাদিক কর্মীদের। তাহলে আল মাহমুদ? কোথায় এখন তিনি? বোমায় বিধ্বস্ত রংপুর। কায়সুল হক? ঢাকার জসীমউদ্দীন রোডেও কি ঢুকেছিল ইয়াহিয়ার ট্যাঙ্ক? বাংলা দেশের মুক্তিযুদ্ধ আজ পনেরো দিনের পুরোনো হলো, এর মধ্যে আমরা জেনেছি কীভাবে সামরিক অত্যাচার প্রথমেই ছুটে যাচ্ছে যে -কোনো বুদ্ধিজীবীর দিকে। ইয়াহিয়ার দল ঠিকই বুঝতে পারে যে এইখান থেকেই জেগে উঠেছে অবিশ্বাস্য এই মুক্তিবাসনার প্রথম আগুন। তাই কেবলই আজ জানতে ইচ্ছে করে বাংলা দেশের কবিরা এখন কে কোথায় আছে। তাঁরা কি সময়মতো পশ্চাৎপটে সরে এসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন করছেন কোনো? গ্রাম-গ্রামান্তরকে উদ্বোধিত করবার জন্য লিখছেন কোনো নতুন ধরনের কবিতা? প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর আগে স্পেনের গৃহযুদ্ধে যেমন লিখেছিলেন রাফায়েল আলবের্তি আর তাঁর বন্ধুরা? আলবের্তির মতো এঁরাও কি এখন দেখতে পাচ্ছেন বা দেখতে চাইছেন সারি সারি গ্রামীণ যোদ্ধাদের স্তুপাকার মুখ, যে-মুখে অনেক জানার চিহ্ন নেই, যে-মুখে আছে কেবল বেঁচে থাকবার জন্যই মরবার প্রতিজ্ঞা? (সম্পূর্ণ…)

কী পাইনি, তার হিসাব মেলাতে

গোলাম মুরশিদ | ২৫ মার্চ ২০১৬ ৮:৩১ অপরাহ্ন

54-kendriokhelagharashor-nationalflagrally-25032016-10.jpgসামাজিক উন্নতির যতো সূচক আছে, তার সবই নির্দেশ করে ২৬শে মার্চ আমাদের জন্যে এসেছিলো কী অকৃপণ অবদান নিয়ে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার অর্জন কতো ইতিবাচক। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ একটা বড়ো রকমের হোঁচট খেয়েছিলো। অর্থনীতিতে তার ছাপ পড়েছিলো। প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় তার আঘাতটা লেগেছিলো আরও তীব্রভাবে। দুর্ভিক্ষের সময় মানুষ অন্যের বমিও খেয়েছিলো–শোনা যায়। বাংলাদেশ ছিলো তখন পৃথিবীর সবচয়ে দরিদ্র চার-পাঁচটি দেশের মধ্যে একটি। কিন্তু এক দশকের মধ্যে মানুষ সেই প্রচণ্ড অভিজ্ঞতার কথা ভুলে গিয়েছিলো।

তারপর গত তিন দশকের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। কেবল গড়ে ওঠেনি, এমন বিস্তীর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এ অঞ্চলে আগে কখনো দেখা যায়নি। ব্যবসা-বাণিজ্য এখন কালবাজারি-নির্ভর নয়, সে এখন আপন মহিমায় প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ এখন আমদানির চেয়ে রপ্তানি করে অনেক বেশি। ৭২-৭৩ সালে শিল্প বলতে বোঝাতো জিঞ্জিরার নকল-কারখানা। এখন বহু ক্ষেত্রে দেশ শিল্পের জন্যে স্বনির্ভর। বাংলাদেশ পোশাক শিল্পে এখন বিশ্বের একটা প্রধান রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশে কেবল পোশাক নয়, জাহাজ পর্যন্ত তৈরি হয়। (সম্পূর্ণ…)

পঁচিশে মার্চের স্মৃতি: ঢাকার বাইরে

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস | ২৫ মার্চ ২০১৬ ৭:৫১ অপরাহ্ন

26-march.jpgএকাত্তরের মার্চ পুরো মাসটাই ছিল টালমাটাল। রাজনীতির বিশাল, বিস্তৃত জাল এক একবার ফুলে উঠছিল, দুলে উঠছিল, আর সমগ্র দেশ তাতে প্রচন্ডভাবে আন্দোলিত হচ্ছিল। তিন তারিখে জাতীয় সংসদ বসার কথা। ইয়াহিয়া খানের বেতার ঘোষণায় যখন তা বাতিল হল, তখন থেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে এলো জনতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলগুলোই এতদিন দুলছিল সমান তালে। সেদিন রাতে ছাত্র জনতা বস্তির মানুষ সবাই নেমে পড়লো রাস্তায়। এরপর সাতই মার্চের বক্তৃতা। দশ লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে এদের কারো মাথায় লালপট্টি বহুজনের হাতে লাঠি–তো এদের সরব উপস্থিতিতে শেখ মুজিব শোনালেন এক শ্বাসরুদ্ধকর, নাড়া দেওয়া স্বতঃস্ফূর্ত বক্তৃতা–তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা। মনে পড়ে মহসিন হল থেকে আমরা ক’বন্ধু– নূরুল হুদা, সাযযাদ কাদির, মাহবুব সাদিক বের করেছিলাম চারপৃষ্ঠার কবিতা পত্রিকা। তাতে স্বাধীনতার ম্লোগান দেওয়া সব কবিতা আর ছড়া। সেটাই চার আনার বিনিময়ে মাঠের লোকেদের মাঝে বিতরণ করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল তখন–ইয়াহিয়ার ঘোষণার পর সবই আপনা আপনি বন্ধ হয়ে গেছে। আলোচনার ফাঁদে পা দিলেন শেখ সাহেব। আলোচনার কোনো গতি না দেখে বন্ধুদের অনেকেই হল ছেড়ে দেশের বাড়ি চলে গেল। ষোল মার্চে আমিও গেলাম পৈতৃক নিবাস বগুড়া শহরে। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য:ভাষারাজ্যের তীর্থযাত্রী ঝুম্পা লাহিড়ী ও টেন্টাকলের মার্গারেট এটউড

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৩ মার্চ ২০১৬ ৮:৩৬ অপরাহ্ন

combo.jpg

ইটালিয়ান ঝুম্পা লাহিড়ী

“যখন আপনি প্রেমে পড়বেন, তখন চিরকাল বেঁচে থাকতে চাইবেন। আপনি আবেগ উত্তেজনার শেষ বিন্দুটুকু অনুভব করতে চাইবেন। ইতালিয়ান ভাষায় পড়তে গিয়ে আমার এমনই অনুভব হচ্ছিল। আমি মরতে চাই না, কেননা আমার মৃত্যুর অর্থ হবে ভাষা আবিস্কারের অবসান। কারণ প্রতিদিনই নতুন নতুন শব্দ শেখার আছে। এভাবেই সত্যিকারের ভালবাসা চিরন্তন হয়”।

ঝুম্পা লাহিড়ী তাঁর জমকালো স্মৃতিকথা ইন আদার ওয়ার্ডস সম্পর্কে এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’কে দেয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে। বইটি তিনি লিখেছেন ইটালিয়ান ভাষায়।
ঝুম্পার বাবা মায়ের ভাষা ছিল বাংলা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রথম ইংল্যান্ডে যান সপরিবারে , এখানেই লন্ডন শহরে জন্ম হয় নিলাঞ্জনা সুদেষ্ণা’র। হ্যাঁ, ঝুম্পা লাহিড়ীর ওটাই ছিল জন্ম নাম, কিন্তু পরিচিতি পেলেন ডাকনামে। কেননা ঐ নামটার উচ্চারণ সহজ ছিল না ইংরেজি ভাষাভাষীদের কাছে। তারপর বাবা মায়ের সাথে আমেরিকায় অভিবাসন ও বেড়ে ওঠা। তবে কোলকাতায় নিয়মিত আসা যাওয়া লেগেই থাকত ঝুম্পার। কারণ বাবা মা সবসময় চাইতেন তাদের সন্তান নিজের সংস্কৃতিকে জানুক। তাই ছোটবেলা থেকেই বাংলা ও ইংরেজি এই দুই ভাষার সান্নিধ্যেই বড় হয়েছেন এই ভারতীয়-মার্কিন লেখক। যদিও তিনি খুব ভালভাবে বাংলা লিখতে পড়তে পারেন না, তবুও ছোটবেলায় মাকে দেখেছেন বাংলায় কবিতা লিখতে। যখন বয়স ৩২ তখন ইংরেজি ভাষায় লেখা প্রথম বই ইন্টারপ্রেটার অফ মালাদিস-এর জন্য পেলেন পুলিটজার পুরস্কার। এরপরের বইটি দ্য নেমসেক নিউইয়র্ক টাইমস বেস্ট সেলার, এমনকি একই নামে একটি চলচ্চিত্রও তৈরি হয়েছিল। ইংরেজিতে লেখা সর্বশেষ দ্য লো ল্যান্ড বইটিও দারুন জনপ্রিয়তা পেয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

আই হেট দ্য ইন্টারনেট

জাকিয়া সুলতানা | ২২ মার্চ ২০১৬ ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

i-hate-the-internet.jpgআমেরিকান অ্যাকশন ফিল্ম “মাচেতে(২০১০)”-এ একটি দৃশ্য রয়েছে যেখানে, নায়ক ড্যানি ট্রেজো তার এক প্রতিপক্ষের পেট চিড়ে নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলে এবং সেটাকে দড়ি হিসেবে ব্যবহার করে উঁচু দালান থেকে লাফিয়ে পড়ে। অ্যাকশনধর্মী সিনেমাগুলোতে এ ধরনের দৃশ্যের অবতারণা নতুন বটে!

জ্যারেট কোবেকের নতুন উপন্যাস আই হেট দ্য ইন্টারনেট-এ লেখক তথাকথিত ইনফর্মেশন হাইওয়েতে আমেরিকান চেতনার অন্ত্রে ছুঁড়ি চালানোর মতোই কৌশল ব্যবহার করেছেন। তবে জনাব কোবেক এই উপন্যাসে উল্লাসে নাকি অবসাদে একাজ করেছেন তা ভেবেই পাঠক কিছুটা বিমুঢ় হয়ে যাবে।

তবে ‘আমি অন্তর্জাল ঘৃণা করি’ বা আই হেট দ্য ইন্টারনেট–এরকম দুর্বল শিরোনাম দেখে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। আপনার সেলফিগুলো আকর্ষণীয় না হয়ে কেবলই কেন গোমড়ামুখো হচ্ছে, তা মোটেই এই বইয়ের বিষয়বস্তু নয় বরং এটা একটা রগরগে রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাগাড়ম্বরতা, নতুন বৈশ্বিক সময়ে নৈতিকতা এবং ক্ষমতার বিশুদ্ধ গলাবাজি যা পাঠকের তাজা মনে টগবগে ফুটন্ত আভাস হিসেবে দেখা দেয়। (সম্পূর্ণ…)

নির্মলেন্দু গুণের সাক্ষাৎকার: ভালোবাসা, অর্থ, পুরস্কার আদায় করতে হয়

রাজু আলাউদ্দিন | ২০ মার্চ ২০১৬ ৯:৪৪ অপরাহ্ন

goon.jpg
ছবি:রুবাইয়াৎ সিমিন
ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার নয় দিনের মাথায় কবি নির্মলেন্দু গুণকেও স্বাধীনতা পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। এই মুহূর্তে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে তার এই পুরস্কার প্রাপ্তির পক্ষে বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি খোলামেলা ও অকপট অনুভূতির কথা জানান। তাদের অডিও আলাপচারিতার শ্রুতিলিপি এখানে প্রকাশ করা হলো। বি. স.

রাজু আলাউদ্দিন: গুণদা, আপনাকে পুরস্কার পাওয়ার জন্য অভিনন্দন এবং আলিঙ্গন।
নির্মলেন্দু গুণ: তোমাকেও আলিঙ্গন হে মার্কেস।
রাজু: সর্বনাশ! আমাকে কেন গুণদা, তাও মার্কেস বলে!
গুণ: তুমি তো আমাদের লাতিন আমেরিকান।
রাজু: আমি খুব খুশি হয়েছি শেষ পর্যন্তু আপনি ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমে পুরস্কারটি পেলেন বলে।
গুণ: আমি চাইলাম বলেই তো এই পুরস্কারটার মূল্য বাড়লো, তাই না?
রাজু:অবশ্যই, অবশ্যই।
গুণ: এর আগে তো কেউ চায় নাই। সরকার দিত। আমি চেয়ে পদকের মূল্যটা বাড়িয়ে দিলাম। এটা প্রার্থিত পদক, নোবেল পুরস্কারের মতোই প্রার্থিত পদক। আমি চাই এটা সসম্মানে সচল থাকুক। আমাকে বাদ দিয়ে এটা সসম্মানে সচল থাকতে পারে না, ইন আদার ওয়ার্ড, তাই না?
রাজু:তা তো বটেই। পুরস্কার যখন কোনো প্রকৃত লেখককে দেওয়া হয় তখন পুরস্কারের মর্যাদা বাড়ে।
গুণ: আমি এটার মূল্যমান বাড়িয়ে দিলাম। এখন আমার সঙ্গে যারা অনায়াসে প্রাপ্ত হয়েছেন, সংগ্রাম না করেই পুরস্কারটা পেয়েছেন, তাদেরকে এখন আমার চেয়ে যোগ্য বলে ভাবা হবে। (সম্পূর্ণ…)

উমবের্তো ইকোর প্রবন্ধ: ‘‘আমি তোরে ভালবাসি পাগলের মতো’’

হোসেন মোফাজ্জল | ১৮ মার্চ ২০১৬ ৯:২৮ অপরাহ্ন

উমবের্তো ইকোর বেস্ট সেলিং উপন্যাস দ্য নেইম অফ দ্য রোজকে প্রায়শ উল্লেখ করা হয় পোস্টমর্ডান লিটেরেচার হিসেবে যা অতিক্রম করেছে জনপ্রিয় এবং সিরিয়াস সাহিত্যের সীমানাকে, উঁচু এবং নিচুর কালচারকে, এবং অন্য ঘরানা (ডিটেকটিভ নোভেল) নিয়ে তৈরী করেছেন প্যারোডি, আধুনিক যুগের নিশ্চয়তা তল্লাসে বড় ধরনের অভিব্যক্তি। তাঁর উপন্যাসের পরিশিষ্টে, ইকো উত্তরাধুনিকতা নিয়ে নিজস্ব ভাবনা পেশ করেছেন যেখানে পাওয়া যাবে এক ধরনের উৎকর্ষতা, এবং এক ধরনের প্যারোডি, আমাদের নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো থেকে।
লেখাটি উমবের্তো ইকোর বই পোস্টক্রিপ্ট টু দ্য নেইম অফ দ্য রোজ এর অংশবিশেষ নিয়ে প্রকাশিত দ্য ফনটানা পোস্টমর্ডানিজম রিডার বই থেকে অনূদিত যার শিরোনাম ছিল: সে বলে আত্মসচেতনভাবে ‘‘আমি তোরে ভালবাসি পাগলের মতো’’। লেখাটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন হোসেন মোফাজ্জল। বি.স.

দুর্ভাগ্যক্রমে, ‘পোস্টমর্ডান’ বুলিটা হচ্ছে সকল কাজের কাজি (বোয়া তো ফে)। আমার এমন একটা ধারণা জন্মেছে এই শব্দটার ব্যবহারকারীরা যে কোন বিষয়ে আজকাল এটাকে কাজে লাগাতে পছন্দ করেন। তাছাড়া, এটাকে আগের তুলনায় বেশী বেশী ব্যবহারের চেষ্টা চলছে বলে মনে হয়: প্রথমত এটাকে আপাতদৃষ্টিতে ব্যবহার করা হয়েছিল নির্দিষ্ট কিছু লেখক এবং শিল্পীর বেলায় যারা সক্রিয় ছিলেন গেল বিশ বছর, তারপরে আস্তে আস্তে এটা পৌঁছে গেল শতাব্দির গোড়ার দিকে, তারপর গেল আরও আরও পেছনে। এবং এই পেছনে চলার রীতি চলছে তো চলছেই; শিঘ্রই হোমারকে পোস্টমর্ডান ক্যাটাগরিতে অর্ন্তভুক্ত করা হবে।
প্রকৃতপক্ষে, আমি বিশ্বাস করি উত্তরাধুনিকতা এমন কোন প্রবণতা না যা কালানুক্রমে সংজ্ঞায়িত করা যাবে, বরং বলা চলে এটা একটা আদর্শ রীতি প্রণালী বা আরো ভাল করে বললে এটা একটা কুনস্টোয়েন, কাজ করার একটা উপায়। আমরা বলতে পারি প্রতিটি কালেই ছিল তার নিজস্ব উত্তরাধুনিকতা, স্রেফ যেমনটি থাকে প্রতিটি কালের নিজস্ব ম্যানারিজম (এবং, আসলে, আমি অবাক হব উত্তরাধুনিকতা যদি মেটাহিস্টোরিক্যাল ক্যাটাগরিতে ম্যানারিজমের আধুনিক নাম না হয়ে থাকে)। আমি বিশ্বাস করি যে প্রতিটি কালেই একটা সংকট মুহূর্ত আসে যাকে নিৎসে বর্ণনা করেছেন তাঁর থটস আউট অফ সিজন বইতে, যেখানে তিনি লিখেছিলেন ইতিহাস চর্চা কিভাবে আমাদের বারোটা বাজিয়েছে। অতীত আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, লুন্ঠিত করেছে, ব্ল্যাকমেইল করেছে। ঐতিহাসিক ভ্যান-গার্ড (কিন্তু এখানে আমি ভ্যান-গার্ডকেও মেটাহিস্টোরিক্যাল ক্যাটাগোরি হিসেবে বিবেচনা করেছি) চেষ্টা করেছে অতীতের সাথে গাঁটছড়া বাঁধতে। ‘‘ডাউন উইথ মুনলাইট’’ ছিল ফিউচারিস্টদের একটা শ্লোগান– প্রতিটি ভ্যান-গার্ডের কাছে যা ছিল একটা টিপিক্যাল প্ল্যাটফর্ম; আপনাকে শুধুমাত্র যা করতে হবে তা হলো ‘মুনলাইট’-এর বদলে যে কোন চলনসই একটা বিশেষ্য বসিয়ে দিলেই হবে। ভ্যান-গার্ড ধ্বংস করেছে, অতীতকে বিকৃত করেছে: লে দুমুওয়াজেল দাভিন্য়্যূ পেইন্টিংটা হচ্ছে টিপিক্যল একটা ভ্যান-গার্ডিও কর্ম। (সম্পূর্ণ…)

ফরিদ আহমদ দুলালের বহুবর্ণিল নাইওরগাথা

বিনয় বর্মন | ১৭ মার্চ ২০১৬ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

border=0ফরিদ আহমদ দুলালের নাইওর এক অনিন্দ্যসুন্দর কাব্যগ্রন্থ। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এই গ্রন্থটিতে চুয়াত্তরটি কবিতা অন্তর্ভুক্ত। কবিতাগুলোর কোনো বিষয়ভিত্তিক শিরোনাম নেই; এগুলো সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত। সনেট ফর্মে লেখা কবিতাগুলোর চৌদ্দ লাইন, ইতালীয় ঐতিহ্যানুসারে, যথাক্রমে আট ও ছয়ের অক্টেভ ও সেস্টেটে বিভক্ত। কবিতার চরণগুলো কাপলেট হিসেবে AA BB CC DD EE FF GG রাইমিং প্যাটার্ন রক্ষা করেছে। প্রধানত অক্ষরবৃত্তে রচিত কবিতাগুলো ধীরলয়ের আবহে পাঠককে বিমোহিত করে। আমরা তন্ময় হয়ে শুনি ফরিদ আহমদ দুলালের বহুবর্ণিল নাইওরগাথা এবং সাক্ষী হই এক অসাধারণ কাব্যউচ্চারণের, যার মধ্যে মিশ্রিত এপিকবিন্যাসের আলোছায়া, পোয়েটিক মনোগ্রাফের নিবিড় নান্দনিকতা। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: যাদুবাস্তবতার শাহেনশাহ মার্কেসের মানসিক গ্রন্থাগার

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৫ মার্চ ২০১৬ ৮:৩৩ অপরাহ্ন


গার্সিয়া মার্কেসের মানসিক গ্রন্থাগার

marquez-1.jpgসম্ভবত প্রতিটি মানুষের মস্তিষ্কের একটি অংশে তাঁর প্রিয় বইগুলোর নাম সংরক্ষিত থাকে। অনেকটা অনলাইন পোর্টালের মতই বইগুলোর নাম লেখক ঘটনা সংলাপ চরিত্র বই পঠনের ফলে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি সংরক্ষিত থাকে মানুষের মনোজগতে। আর এই অদৃশ্য অংশকে আমরা বলতে পারি মানসিক গ্রন্থাগার যার ভূমিকা সেই মানুষটির জীবনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রিয় বইগুলি একজন মানুষের জীবনের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা কাঠামোর মূল ভিত্তি। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধের সহায়ক অবিচ্ছেদ্য শক্তি। আর সেই মানুষটি যদি হন বিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন কথাসাহিত্যিক, তাহলে পাঠকমাত্রই আকুল হবেন তাঁর প্রিয় বইগুলোর নাম জানবার জন্য। বলছি গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের কথা। নিঃসঙ্গতার একশ বছর উপন্যাসের জন্য যিনি আমাদের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত। অসাধারণ রচনাশৈলী ও গদ্যভঙ্গির জন্য কেবল দক্ষিণ আমেরিকা আর স্প্যানিশ ভাষাভাষীদের কাছেই নয়, বরং সমগ্র পৃথিবীতে তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন।

২০১৪ সালে ১৭ এপ্রিল দূরারোগ্য লিম্ফেটিক ক্যান্সারে মারা যাবার আগে যিনি আমাদের বলে গিয়েছেন লিভিং টু টেল দ্য টেইল এর মতো এক উজ্জ্বলতার গল্প যেখানে তিনি জানিয়েছেন, “জীবন তো কেবল বেঁচে থাকা নয়। জীবন হচ্ছে সেটাই যা আপনি মনে রাখছেন । জীবনের ঘটে যাওয়া সেইসব স্মৃতি যা আপনি স্মরণ করেন, বর্ণনা করেন, আর যেভাবে যে প্রক্রিয়ায় করেন সেটাই আসলে কারো জীবন”। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com