সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য:চিরকালের শত শ্রেষ্ঠ ননফিকশন

বিপাশা চক্রবর্তী | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

nonfiction.jpgরাজনীতি, শিল্প, ইতিহাস, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও ক্রীড়া, যুদ্ধ,স্মৃতিকথা ও জীবনী, মনোজগত,সংস্কৃতি,দর্শন,সমাজ ও পরিবেশ–এমনসব প্রকৃত বা বাস্তব তথ্যভিত্তিক রচনাবলী হচ্ছে নন-ফিকশন সাহিত্য। বিশ্ব-সাহিত্যের সুবিশাল রত্নভাণ্ডার থেকে গুরুত্বপূর্ণ একশটি নন-ফিকশন গ্রন্থের তালিকা বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো। এগুলো এযাবৎ কালের মানব সভ্যতার ইতিহাসে কেবল অনন্য নজিরই স্থাপন করেনি, বরং এসব গ্রন্থের কারণে ইতিহাস রচিত হয়েছে নতুনভাবে। এসব অমূল্য গ্রন্থ পাল্টে দিয়েছে প্রকৃতিকে দেখার ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, বৃদ্ধি করেছে জানার পরিধি। নতুন করে রূপায়িত করেছে আমাদের ভাবনার জগত। এই সব মহান গ্রন্থের কিছু আপনি হয়তো পাঠ করেছেন,আর কিছু হয়তো আপনার পাঠের অপেক্ষায়।
পাঠকদের সুবিধার্থে, বিষয়ভিত্তিক মিল অনুযায়ী গ্রন্থের নাম, লেখক, তারিখ উল্লেখসহ আলাদা আলাদা বিভাগে উপস্থাপন করা হলো । (সম্পূর্ণ…)

মানুষের জাদুবিশ্বাস ও ধর্মাচারের সোনালি বৃক্ষশাখা

আবদুস সেলিম | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন

golden-bough.jpgযদিও স্কটল্যান্ডীয় নৃতাত্ত্বিক স্যার জেমস জর্জ ফ্রেজার রচিত দ্য গোল্ডেন বাউ-এর নামকরণের পেছনে ওক গাছে জন্মানো ঐ নামেরই এক পরগাছার প্রতি মানবজাতির বিপুল জাদুকরী আকর্ষণের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে, তবুও আমি মনে করি উনবিংশ শতাব্দির শেষ দশকে রচিত এই গ্রন্থ বহুমাত্রিক মানসিক অভিঘাত সৃষ্টিতে শুধুমাত্র পাশ্চাত্যে নয়, প্রাচ্যেও বিরাট অবদান রেখেছে। এর অন্যতম কারণ গ্রন্থটিতে সমগ্র মানবজাতির ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার সাযুজ্য খুঁজে পেতে ফ্রেজার তুলে এনেছেন ফলন-কৃত্যানুষ্ঠান, দেবতার উদ্দেশ্যে মানব উৎসর্গ, মরণশীল রাজ-দেবতা (রাজর্ষি) ইত্যাদির মত নৃতাত্ত্বিক বিষয়গুলো যার সাথে বিশ্বের সকল মানবগোষ্ঠীর এক ‘কালেকটিভ আনকনসাস’ সম্পর্ক বিদ্যমান ঠিক যে কারণে বক্ষ্যমান আলোচনার শিরোনাম দিয়েছি ‘মানুষের জাদুবিশ্বাস ও ধর্মাচারের সোনালি বৃক্ষশাখা’ জাদুতে বিশ্বাস সময়ে সুসংহত ধর্মে উত্তরিত হয় এবং চূড়ান্তভাবে বিশ্বাসে রূপান্তরিত হয় বিজ্ঞানের শক্তিতে – মানব ইতিহাসের এটাই বিশ্বাসযোগ্য তিনটি স্তর। (সম্পূর্ণ…)

মৃত্তিকা গুণের পাঁচটি কবিতা

মৃত্তিকা গুণ | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৭:২৮ অপরাহ্ন

নাম

যদি তোমার নাম না লিখি আর, কি হবে?

লক্ষ, কোটি শব্দের ভীড়ে হারিয়ে যায়
তোমার ভালোবাসার ডাক।
ঘন হয়ে ওঠা অজানা আবেগের
মেঘগুলো যদি ভেসে যায়?
ভেসে ভেসে জমা হয় পাহাড় চূড়ায়
তারপর ঝড়ে বৃষ্টি হয়ে ঝরে।
তবু আমি তাতে না ভেজাই হাত

তবে কি হবে!

উৎকন্ঠিত রাত না জেগে
যদি সারাদিন ঘুমাই আবেশে।
ভোরের সূর্যের মত অবহেলা করে
একপাশে রাখি তোমাকে।
বিরামহীন বিশ্রামে কাটাই প্রহর?
যদি না-ই দেই জমাট প্রতীক্ষার
কোন সদুত্তর তবে? (সম্পূর্ণ…)

ফিরে দেখা: কবি কায়সুল হক ও আমাদের কায়সুল ভাই

মঞ্জু সরকার | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১:৫৪ অপরাহ্ন

kaisul-haq.jpgপঞ্চাশ উত্তীর্ণ বয়সে প্রকাশিত হয় কবি কায়সুল হকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ শব্দের সাঁকো । এই একটি মাত্র তথ্য থেকেও তাঁর ব্যতিক্রমী কবি স্বভাব ও চারিত্র্য-বৈশিষ্ট্য আন্দাজ করা যায় অনেকখানি। নিজের কবিখ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা বাড়ানোর তোয়াক্কা না করেই, সারা জীবন সাহিত্যের জন্য ছিলেন আত্মনিবেদিত। পাকিস্তান আমলে রংপুর জেলাশহরে বাস করেও উন্নতমানের সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। উভয় বাংলার বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকরা লিখেছেন তাঁর সম্পাদিত পত্র-পত্রিকায়। সেই সুবাদে শামসুর রাহমান, জীবনানন্দ দাশ, অন্নদাশঙ্কর রায়, বুদ্ধদেব বসু, নরেশ গুহ, শিবরাম চক্রবতীর মতো অনেক বিখ্যাত কবি-লেখকের সঙ্গে গড়ে উঠেছিল নিয়মিত পত্র-যোগোযোগ। স্বাধীনতার অব্যাবহিত পরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু কবি শামসুর রাহমান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্যোগে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় সপরিবার স্থায়ীভাবে থাকার জন্য যোগ দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের চাকরিতে। সংস্থাটির দ্বিতীয় প্রধান কর্তাব্যক্তি হিসেবে মাসিক ‘বই’ পত্রিকা সম্পাদান করেছেন, বহু কবি লেখকের গ্রন্থের প্রকাশ ও প্রসারে সহযোগিতা করেছেন, সাহিত্যের আড্ডা-আলোচনায় উৎসাহিত করেছেন প্রিয় লেখক-কবি বন্ধুদের, কিন্তু আপন কাব্যপ্রতিভার প্রচার ও গ্রন্থ প্রকাশের ব্যাপারে ছিলেন উদাসীন। শব্দের সাঁকোর পর আরো একটি কাব্যগ্রন্থসহ রবীন্দ্রনাথের নিরুপম বাগান, স্বদেশ সংস্কৃতি রবীন্দ্রনাথ, আলোর দিকে যাত্রা ও অনিন্দ্য চৈতন্য শিরোনামে কয়েকটি গদ্যগ্রন্থ বেরিয়েছে মাত্র। কবিতায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০১ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। মৃত্যুর কয়েকমাস আগে, ২০১৫-এর ডিসেম্বরে বাংলা একাডেমির মাধ্যমে পেয়েছেন সাদাত আকন্দ সাহিত্য পুরষ্কার। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথের জমিদারগিরি: রবীন্দ্রজীবনের তথ্য ও সত্য

মুহিত হাসান | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৬:১২ অপরাহ্ন

jamidargiri.jpgরবীন্দ্রনাথ বিষয়ে বছরে বছরে বাংলা ভাষায় মোট কয়টি বই প্রকাশিত হয়, সেই হিসাব পাওয়া দুষ্কর। তবে সেসবের মধ্যে মানসম্পন্ন কিংবা ভিন্নতাবাহী বইয়ের সংখ্যা নেহাতই কম― এমন ধারণা কষ্টকল্পিত নয়। তাই রবীন্দ্র-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যতিক্রমী বই পাঠান্তে একইসঙ্গে সমৃদ্ধ ও শাণিত হই। তৃপ্তির সঙ্গে তেমনই একটি বই পড়া গেল সম্প্রতি, কুলদা রায় ও এম আর জালালের লেখা রবীন্দ্রনাথের জমিদারগিরি। নামটি সাদামাটা, কিন্তু বইয়ের ভেতরের মালমশলা মোটেও সেরকম নয়―বরং এই বইয়ের উদ্দেশ্য রবীন্দ্রনাথের জীবনপ্রবাহের নানান ঘটনাকে তথ্য ও সত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে পাঠকের সামনে স্বচ্ছরূপে তুলে ধরা। এজন্য লেখকদ্বয় গুজব ও রটনার মায়াবী পর্দাকে নিপুণ হাতে সরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন। (সম্পূর্ণ…)

শামীম আহমেদের তিনটি কবিতা

শামীম আহমেদ | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১০:৩১ অপরাহ্ন

অমাবস্যায় পোড়া গন্ধ

sm.jpgঅনুভূতিগুলো শূন্য হয়েছে। বিবেকও বিশ্রামে আছে বহুকাল।
শরীরে শরীরে বাসা বাঁধে লাল শ্যাওলার দল;
পোড়া গন্ধ আসে অমাবস্যায় ডুবে থাকা সব পাহাড়ের বুকে।
শেকড় গেড়েছে আজ গুল্মগুচ্ছ – সূর্যাস্তের পর, দেহে মনে গহীনে।
আমাকে মেরে ফেল। আমি ছিলাম ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর শিল্পকলায়,
ছিলাম পাথরে পাথরে, খাঁজ কাটা মূর্তিতে।
অনুভূতিগুলো শূন্য হয়েছে তাই, শুধু লাল লাল শ্যাওলায় বাসা বাঁধে শিল্পের বেড়াজাল।
অস্তিত্বের মৃত্যু হয় অমাবস্যায়, ডুবে থাকা স্বপনে। (সম্পূর্ণ…)

গ্রন্থমেলা ২০১৬: নতুন মুখ নতুন বই

অলাত এহ্সান | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১০:২৯ অপরাহ্ন

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন বইয়ের কাঁচা সৌরভে উদ্বেল। বাংলা একাডেমির ষাট বছর পদার্পনের এই বছরে বইমেলার পরিসর বেড়েছে আগের চেয়ে। ফাগুনের এই মেলা ঘিরে বইপ্রেমি মানুষের সমাগম। নতুন ও পুরাতন বইয়ের উৎসব। বইমেলা প্রতিবছর হাজার হাজার নতুন বই নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে নতুন লেখকদেরও পরিচয় করিয়ে দেয় এই মেলা। এবারও মেলায় প্রথম বই বের করেছেন এমন লেখক কম নন। এদের অধিকাংশই তরুণ। বিষয় ভাবনা ও সাহিত্য সাধনায় কেউ কেউ যথেষ্ট পরিপক্ক। তার কারণ দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও একাগ্রতা। এবারের নতুন কেতন উড়িয়ে প্রথম বই প্রকাশ করেছেন এমন বই ও সাহিত্যিক নিয়ে লিখছেন অলাত এহ্সান।

গুলতেকিন খান : আজও, কেউ হাঁটে অবিরাম
border=0এবারের বই মেলায় গুলতেকিন খানের প্রথম বই প্রকাশ একটি বড় খবর। বাংলা গল্প-উপন্যাসের পাঠকদের কাছে তিনি অপরিচিত নন। বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে স্বনামধন্য লেখক প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁয়ের নাতনী তিনি। তাকেও ছাপিয়ে তার আরেক পরিচয় তিনি প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমদের সাবেক স্ত্রী। কিন্তু তিনি নিজেও যে একজন সাহিত্যিক তা অনেকেরই জানা ছিল না। স্কুলবেলা থেকে ছড়া চর্চা ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশ তা প্রকাশ করলেও কবিতায় তার সৃষ্টিশীল হাতের পরিচয় ঘটেছে এই প্রথম। তাম্রলিপি থেকে প্রকাশ হয়েছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ আজও, কেউ হাঁটে অবিরাম। প্রথম বইয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বই প্রকাশের অনুভূতি খুবই ভাল।’ তিনি স্মরণ করেন, ‘সেই কিশোরী বয়স থেকেই ছড়া লিখতাম। ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণিতে থাকাকালেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ প্রায় মুখস্থ হয়ে যায়। আসলে দাদার উৎসাহেই আরো পড়া হত। পত্রিকায় ছড়া প্রকাশ হওয়ার পর দাদাকে দেখালে আমার মাথায় হাত রেখে আর্শিবাদ করেন। তাঁর অনুপ্রেরণায়ই এগিয়ে যেতে থাকি। কিন্তু বিয়ের পর আর কবিতা চর্চা হয়ে ওঠেনি। কেউ আমাকে উৎসাহ দেয় নি। বিয়ের আগে দাদা ছিলেন, কিন্তু বিয়ের পরে কেউ না। দেখা যেত আমার সন্তানের বাবা রাত জেগে লিখছেন, আর আমি একা একা পড়ছি। তারপর প্রবাসে থাকায় তাতেও ছেদ পড়ে। বিদেশ থেকে ফিরে এসে স্কুল শিক্ষকতায় যোগ দেয়ার পর সহকর্মীদের মধ্যে আমার কবিতা লেখার সংক্রমণ ছড়াতে থাকে। শ্রদ্ধেয় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যার উৎসাহ দেন লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তখন ফেসবুকে কবিতা লিখতাম। তারা ভীষণ উৎসাহ দিতেন। উৎসাহ দেন বই করার জন্য। কন্যা-পুত্ররা ধরে এবার বই মেলাতেই বই করার জন্য। মূলত ফেসবুকে লেখা সেই কবিতাগুলোর থেকে যাচাই বছাই করে এবার বই করলাম। বই প্রকাশ করে খুব ভাল লাগছে। এখন প্রিয় মানুষরা পড়তে পারবে। দাদাকে বইটা উৎসর্গ করতে পেরে ভাল লাগছে। তিনিই ছিলেন আমার সকল প্রেরণার উৎস। এখন পাঠকদের কাছ থেকে কেমন সারা পাই, তার ওপর নির্ভর করবে আমার আগামীতে বই করার ইচ্ছা। তবে লেখালিখি তো চলবেই।’ (সম্পূর্ণ…)

নারী দীপাবলী: তুমি হবে সে সবের জ্যোতি

বিপাশা চক্রবর্তী | ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৮:৩৫ অপরাহ্ন

border=0নারী কি পুরুষের চেয়ে বুদ্ধি আর কর্ম ক্ষমতায় কম? পুরুষের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই কি নারী মুক্তির পথ! নারীর ওপর সনাতন আধিপত্য বজায় রেখেই কি পুরুষ পেতে পারে জীবনের শ্রেষ্ঠ আনন্দ!
ভিভ ল্য দিফেরঁস! অর্থাৎ ‘বেঁচে থাক নারী-পুরুষের বিভেদ’–এই বলে এক সময় শোর তুলেছিলেন নারী মহিমার পূজারী ফরাসিরা। বলা ভাল, ফরাসি পুরুষরা। দেখা যায়, জগৎ জুড়ে পুরুষরা দুটো কাজই করেন- নারীর পূজা আর নারী নিপীড়ন। যেটা করে উঠতে পারেন না সেটা হল নিজের পাশাপাশি নারীকে সমমর্যাদায় স্থাপন। অভিযোগ হয়তো পুরুষেরও থাকতে পারে। সভ্যতার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে মাতৃতান্ত্রিক সমাজে পুরুষ হয়তো যথাযথ মর্যাদা পায়নি। তারপরেও অধিক শারীরিক বলের অধিকারী পুরুষের দাপটেই ছেয়ে আছে, নারী-পুরুষের যৌথ মানব সভ্যতার ইতিহাস। নারী-পুরুষের শারীরিক, মানসিক, জৈবিক ভূমিকায় পার্থক্য স্পষ্ট। প্রাকৃতিক কারণে কেউ নারী কেউ পুরুষ হয়ে জন্মায়। বয়োসন্ধি বা একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর শারীরিক মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে হরমোনের প্রভাব এবং অবশ্যই বংশবিস্তারের প্রবণতা থেকে তারা একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে, কাছে আসে, ভালবাসে, মিলিত হয়, সন্তান জন্ম দেয়। এটাই জগতের নারী পুরুষের পরিপূরক শাশ্বত রুপ। অথচ এই রূপ কালে কালে তার প্রাধান্য হারিয়েছে। নারীর থেকে পুরুষ, পুরুষ থেকে নারী দূরে সরে গেছে ক্রমশঃ। নারী-পুরুষের গভীর অনুরাগের সম্পর্কে কোথায় যেন ঢুকে গেছে রাজনীতি। নারী স্বাধীনতার প্রবক্তা কেট মিলেটের ভাষায় ‘সেক্সুয়াল পলিটিক্স’। পৌরুষময় সমাজে ঘরে বাইরে নারীর সম-অধিকার, সম্মান, মর্যাদা ইত্যাদি–এসব নিয়ে ভেবেছেন ও এখনও ভেবে চলেছেন বহু নারীনেত্রী ও অতিউৎসাহী নারীবাদী লেখক। তাদের কাজগুলো কখনও ছিল যৌক্তিক ও ন্যায্য। তেমনি অনেকের কাজ ও কথায় ভ্রান্ত উদ্ভট সব দাবী ও ধারণাও রয়েছে। এমনকি কিছু কিছু নারীবাদী নারীকে স্পর্শকাতর, সংবেদনশীল, লাজুক, নরম, দুর্বল করেই উপস্থাপন করে নিজের কথাগুলো বলতে পছন্দ করেন। আর এসবই হয়ে উঠেছে কারো কারো কাছে বিখ্যাত হবার হাতিয়ার। বেশিরভাগ নারীবাদী লেখায়, আন্দোলনে ও উচ্চারণে নারীর যৌন বিষয় ও ঘরে-বাইরে সমঅধিকার যতটা আসে ততটা আসে না নারীপুরুষের বিবর্তমান সম্পর্ক ও ইতিহাস, জৈবিক ভূমিকা, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, নতুন-পুরোনো সমস্যার সমাধান ও ভবিষ্যতের ভাবনা। (সম্পূর্ণ…)

‘যখন ক্রীতদাস স্মৃতি ’৭১’: দহন ও দ্রোহের অনন্যোপায় প্রকাশ

অলাত এহ্সান | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১১:১৯ অপরাহ্ন

border=0বইটি পড়ে মনে হয়, লেখক নাজিম মাহমুদ এটি মোটেই লিখতে চান নি। কিন্তু সেই সময়ের অবস্থা এমনই ছিল যে, এটা লিখতে বাধ্য হয়েছেন। অনন্যোপায় হয়ে লিখেছেন। প্রচণ্ড অনীহা ও সন্দিগ্ধতার ভেতর দিয়ে লিখেছেন। একজন মানুষের দহন ও দ্রোহের গভীর থেকেই কেবল এই ধরনের স্মৃতি লেখা যায়। আমরা যতটা সহজভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময়কে ফ্রেম বন্ধী করি, ব্যাপারটা ঠিক ততটা সহজ কিছু ছিল না। এর এক-একটি মুহূর্ত এক-একটা বছর কিংবা যুগের যন্ত্রণা নিয়ে হাজির হয়েছে কারো জীবনে। হানাদারদের কবল থেকে বাঁচতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছেড়ে একটু দূরের মীরগঞ্জে আশ্রয় নিয়েছেন লেখকের পরিবার, সেখানেও হানাদারদের উপস্থিতি। তখন বাঁচার তাগিদে গর্তে নেমেছিলেন সপরিবারে। হায়, সেটা বাঁচার জন্য ক্ষণিক আশ্রয় হলেও, ওটা মানুষের মল-মূত্রের ওই ভাগাড়ে এক মুহূর্ত একবছরের চেয়েও দীর্ঘ মনে হবে।

তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময়প্রবাহে অজস্র গলি, রন্ধ্র, চোরাস্রোত, চোরাবালির ফাঁদ আর মহাকালের গহ্বরের মতো অতিকায় ক্ষত ছিল। সেই ক্ষতগুলো, ফাঁকগুলো খুঁজে বের করা দরকার। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে একটা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর কিভাবে অজস্র চোরাবালির ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে, তার ওপর দিয়ে কিভাবে শ্বাপদরা দাপিয়ে বেড়ায় নাজিম মাহমুদ আমাদের সেই দিকে নজর এনেছেন। এটা কেবল কোনো ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের আত্মকথা নয়, এটা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভেতরের শক্তিকে চিহ্নিত করে, মানুষের যন্ত্রণার অবয়ব তুলে ধরে। (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ নাসেরের চলে যাওয়া

সনৎকুমার সাহা | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৯:০৬ অপরাহ্ন

naser.jpgএ যেন বিনা মেঘে বজ্রাঘাত। সকালের কুয়াশা কেটে রোদ ফুটতে শুরু করেছে। গতানুগতিক নানা বিষয় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মনে জাগছে। আবার একই রকমভাবে মিলিয়ে যাচ্ছে। তেমন কোনো বাড়তি উদ্বেগ নেই। যা আছে, তা বেঁচে থাকার খেসারত। এমন সময় ফোন বেজে উঠলো। এটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। মাঝে-সাঝে বাজে। কোনো কিছু না ভেবেই ফোন ধরি। আর তখনই উল্টো দিক থেকে দুঃসংবাদ আছড়ে পড়ে। এক পরিচিত জন জানালেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ নাসের আর নেই। মাত্র কিছুক্ষণ আগে তাঁর পরিসংখ্যান বিভাগে নিজের ঘরটিতেই আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। তড়িঘড়ি করে এ্যাম্বুলেন্স ডেকে মেডিক্যাল-কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথে সব শেষ। চিকিৎসায় সান্তনার চেষ্টাটুকুরও তর সইলো না। সেদিন বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি। তখন বেলা প্রায় এগারোটা।

আকস্মিক এই খবর পেয়ে আমি একরকম হতবাক। কী করবো, কিছুই ভেবে পাই না। নাসের বয়সে আমার চেয়ে কত ছোট, যাঁর দিকে আমরা তাকিয়ে থাকি ছেলেমেয়েদের সামনে চলার পথ দেখাবে বলে― সে-ই এমন কথা নেই, বার্তা নেই, কাউকে কোনো প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে দুম করে চলে গেল! নাজনিনের মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। নাসেরের স্ত্রী। একই রকম সাধাসিধে। সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রী ছিল। ডক্টরেট। তবু কোনো জাঁক নেই। তাঁর সামনে গিয়ে কী করে দাঁড়াবো? সত্যি সত্যি ‘নত হয় মন’। তাঁদের এক মেয়ে, নমি, সেও তো ঢাকায়। কুয়েটে পড়তো, এখন একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা। বড় দিশেহারা লাগে। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য:চিরকালের শত শ্রেষ্ঠ

বিপাশা চক্রবর্তী | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৯:৪২ পূর্বাহ্ন

book-2.jpgসব দেশের সব ভাষা থেকে পৃথিবীর সেরা বইগুলো বাছাই করেছে নরওয়েজিয়ান বুক ক্লাবস। এই বাছাই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে পৃথিবীর ৫৪টি দেশের ১০০ জন স্বনামধন্য লেখক।
চলুন, আমাদের ভাষার মাসে এক নজরে দেখে নেয়া যাক, পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় লেখা ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া সেই সব গল্প উপন্যাস কাব্যগ্রন্থের এই তালিকায় যা সাহিত্যিক মুল্য বিবেচনায় আজও অনন্য হয়ে আছে। মনে করা হয়, পৃথিবীর এ যাবতকালের সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী ও ফলপ্রসূ গ্রন্থ এগুলো। (সম্পূর্ণ…)

গুলতেকিন খানের সাক্ষাৎকার: কবিতার প্রতি আমার বিশেষ অাগ্রহ ছিল

রাজু আলাউদ্দিন | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১১:২৩ অপরাহ্ন

gk.jpgবাংলা গল্প-উপন্যাসের পাঠকদের অনেকেই তাকে চেনেন। ছড়া লেখার অভ্যাস থাকলেও কবিতায় তার সৃষ্টিশীল হাতের পরিচয় ঘটেছে এই প্রথম। বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে সুনাম কুড়ানো লেখক প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁয়ের নাতনী পরিচয় ছাপিয়ে পাঠক তাকে চিনতো প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমদের সাবেক স্ত্রী হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের সাবেক এই শিক্ষার্থীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আজও, কেউ হাঁটে অবিরাম প্রকাশের অনুভূতিসহ আরও অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের সাথে। বি. স.

রাজু আলাউদ্দিন: প্রথমেই আপনাকে অভিনন্দন আপনার প্রথম প্রকাশিত কবিতার বইয়ের জন্য। আমার ভাল লাগছে যে আপনি লেখক-পরিবার ভুক্ত হলেন, অর্থাৎ লেখকদের একজন হলেন। যদিও আপনি লেখালেখির পরিমন্ডলের মধ্যেই ছিলেন। তো কেমন লাগছে, আপনার প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি যদি একটু বলেন।
গুলতেকিন খান: আসলে আমি লেখালেখি অনেক ছোটবেলা থেকেই করছি। সব সময়ই করে আসছি। আমার দাদা প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ, ওখান থেকেই আমার লেখালেখির হাতেখড়ি হয়েছে। আমি লেখালেখির মধ্যেই আছি। এবার বই আকারে প্রকাশিত হলো। তাছাড়া আমি লেখালেখিই করে এসেছি। বই আকারে দেখতে তো ভাল লাগেই।
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি বলছিলেন যে আপনার লেখালেখি অনেক ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু প্রকাশ হলো, বা গ্রন্থাকারে প্রকাশ হলো অনেক দেরিতে। প্রকাশের ব্যাপারে এত সময় নিলেন কী ভেবে? একটু বলবেন কি?
গুলতেকিন খান: আমার লেখা প্রকাশিত হতো দৈনিক পত্রিকায়। দৈনিক বাংলা, পূর্বদেশ, ইত্তেফাকে প্রকাশিত হতো। তারপর নানা কারণে আমার লেখা কিছুদিন বন্ধ ছিল। আমি পড়াশুনা করেছি। মাঝখানে মাঝখানে টুকটাক লিখেছি। হঠাৎ মনে হলো হোয়াই নট। ভাবলাম একটা বই প্রকাশ করি। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com