গ্রন্থমেলা ২০১৬ : নির্বাচিত বই

অলাত এহ্সান | ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১১:৩৩ অপরাহ্ন

13_bookfair_29022016_08.jpgফাল্গুনে শুরু হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলা। শেষ হয় বসন্তের যৌবনে পা রেখে। গত কয়েক বছরে মেলার পরিধি বেড়েছে। বেড়েছে মেলাকেন্দ্রিক বই প্রকাশের উৎসাহ। মাত্র একমাসে প্রতিবছর প্রায় চার হাজার বই প্রকাশ হচ্ছে। এর বিরাট অংশই তরুণ লেখকদের বই। বিপুল সংখ্যক বই প্রকাশের কারণে তার মান কতটুকু বজায় রাখা সম্ভব হয়, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। মেলা উপলক্ষেএ পর্যন্ত প্রকাশিত বইগুলোর একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা বইয়ের নাম, লেখক, প্রকাশক ও গায়ের মূল্য উল্লেখসহ আলাদা আলাদা বিভাগে উপস্থাপন করা হলো। তালিকাটি প্রস্তুত করেছেন গল্পলেখক অলাত এহসান। (সম্পূর্ণ…)

Life of superhero ‘Mujib’ goes graphic

Tonmoy Ahmed | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৬:৫৮ অপরাহ্ন

mgn-write-up.pngMost of our superheroes wander around the world of imagination and fiction. With most of them, when you peel off the colorful costume, mask and cape, what you find underneath is that the hero hardly resembles the realm of reality, and soon you get disillusioned of him. But few make the exception.

Think about our biggest superhero – Bangabandhu – the architect of our independence. The way a boy with an ordinary upbringing ended up being the father of a nation was portrayed artistically in ‘Mujib’ – an autobiography based graphic novel, which is the first of its kind ever made in the graphic arena in the country.

Launched this February, the second episode of the series brings forth a young Mujib with a firm and grim look and depicts the turn of momentous events having appeared during his school and college life. It is a story of perseverance, doggedness and unwavering stance for humanity.

Let’s see an example, which like many others illustrates how a young Mujib tied up with his political mentor Huseyn Shaheed Suhrawardy. As a ripple effect of the Second World War, an epidemic of famine broke out in our land. A death spree charged across the land. Hysteric cries of hunger pervaded the streets and homes day and night. Due to starvation, people were dying every now and then. Corpses lay sprawled on the streets only to be fed upon by vultures. Newborns were found crying on the lifeless laps of mothers. Hunger forced man and dog to vie for leftovers thrown away into dustbins. (সম্পূর্ণ…)

উম্বের্তো একো: ডাইনী পোড়ানোটা শুরুই হয়েছিল রেঁনেসার সময় থেকে

হোসেন মোফাজ্জল | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১২:৪৩ অপরাহ্ন

eco-1.jpg
উম্বের্তো একো, ইতালীয় সেমিয়াটিসান এবং বিশ্বজুড়ে সফল উপ্যনাসিক, এবং একজন অতৃপ্ত পুস্তকপ্রমিক বা বিবলিওফাইল। তিনি সংগ্রহ করেছেন ৫০,০০০ বেশী বই, এবং বিশেষ করে মনগড়া, অকাল্ট, এমন কী বোগাস বিষয়ের দিকে তার প্রশয়টা ছিল বেশী। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার আন্তর্জাতিক আর্ট বিভাগে প্রকাশিত স্টিফেন হেম্যান (২৭ নভেম্বর ২০১৩) এর লেখাটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন হোসেন মোফাজ্জল।

‘‘আমি আগ্রহী ফেইক, ঝুটা বিষয়ের প্রতি, ” একটা ইন্টারভিয়ুতে তিনি বলেন। ‘‘আমার কাছে গ্যালিলিও নেই, তবে আমার কাছে টলেমি আছে, কারণ তিনি ছিলেন ভুল।”
তার লাইব্রেরী ঘাটাঘাটি করে, মিস্টার একো বের করলেন ‘‘দ্য বুক অফ লিজেন্ডারি ল্যান্ডস্” (রিৎসলি এক্স লিবরিস, ৪৫ ডলার), আটলান্টিস, এল ডোরাডো, ক্যামেলট–এসব পৌরাণিক জায়গাগুলোর উপর একটা সচিত্র সার্ভে– ইতিহাসে যা প্রকৃত ছাপ ফেলেছে। (সম্পূর্ণ…)

মাহবুবুল হক শাকিলের প্রেম ও অপ্রেমের নান্দনিক পৃথিবী

নওশাদ জামিল | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

border=0প্রেমের কবিতা রচনা, অনেকেই মনে করেন, কাজটা খুব সহজ নয়। কেননা আবেগের আতিশয্যে এ ধারার কবিতা কখনো কখনো তরল হয়ে যেতে পারে, যায়ও। মাহবুবুল হক শাকিলের কবিতা পড়তে পড়তে মনে হয়–প্রেমের কবিতা লেখাটা তাঁর কাছে তেমন কঠিন নয়। শ্রাবণের বর্ষণে কিংবা ঝর ঝর বাদল সন্ধ্যায় ঘোরলাগা সুরে গেয়ে ওঠে তাঁর প্রেমিকমন। কবি ভর করেন অদ্ভুত এক শকটে–মাঠঘাট, সুবজ বনানী, তেপান্তর, রাজপথ ছাড়িয়ে তা ছুটে চলে প্রেমানুভূতির ঠিকানায়–গূঢ় ও গভীর একটা প্রেমতীর্থে। যাত্রাপথে তাঁর নিজস্ব দর্পনে ভেসে ওঠে ব্রহ্মপুত্রপাড়ের রাশি রাশি স্মৃতিসম্ভার, জেগে ওঠে ফেলে আসা শৈশব, দূরন্ত কৈশোর, যৌবনের টানাপোড়েন অথবা রত্নখচিত প্রেমের স্বরলিপি।

প্রেমকে কাব্যকলায় নান্দনিক রূপ দেয়ার এক স্বভাবগুণ তাঁর কবিমানসে প্রোথিত, আর ওই সত্তার প্রাণোচ্ছ্বল উৎসারণে মাহবুবুল হক শাকিলের কবিতাগুলো হয়ে উঠেছে নান্দনিক মর্মরিত ও শিল্পমণ্ডিত। (সম্পূর্ণ…)

উম্বের্তো একোর সাক্ষাৎকার: আমরাই একমাত্র জানি যে আমাদের মরতেই হবে

রেশমী নন্দী | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৮:১৫ অপরাহ্ন

umberto.jpg“আসলে দার্শনিক, সপ্তাহান্তে কেবল উপন্যাস লিখি” নিজের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করতেন ইতালীয় লেখক, দার্শনিক, চিহ্নবিজ্ঞানী উমবের্তো একো। ৪৩টিভাষায়অনুদিত তাঁর ” দি নেম অব দি রোজ” বইটির জন্য জগৎবিখ্যাত হলেও সবমিলিয়ে ৬টি উপন্যাস ছাড়াও লিখেছেন অসংখ্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ, চিহ্নবিজ্ঞানের উপর গবেষনাগ্রন্থ। ইতালির বালোনে বিশ্ববিদ্যালয়ে চিহ্নবিজ্ঞানের এমিরাটাস অধ্যাপক এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববিদ্যার উচ্চতর বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্তছিলেন একো। ২০১৬ সালের ২০ফেব্রুয়ারী ক্যান্সার আক্রান্ত এই শিক্ষাবিদ ইতালির মিলানে নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯৬ সালের ১২ডিসেম্বর তাঁর এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন থিয়েডোর বেলে। সাক্ষাৎকারটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন রেশমী নন্দী। বি. সি. (সম্পূর্ণ…)

একো-কে নিয়ে এক চিলতে

আলম খোরশেদ | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৬:১৭ অপরাহ্ন

umberto-eco.jpgনয়ের দশকের মাঝামাঝি নাগাদ দ্বাদশ কাহিনি নামে সমকালীন বিশ্বের ছোটগল্পের একটি তরজমা সঙ্কলনের কাজ হাতে নিয়েছিলাম। এই সঙ্কলনে অন্তর্ভুক্তির প্রধান পূর্বশর্ত ছিল অর্ন্তভুক্ত লেখকদের অবশ্যই জীবিত এবং সাহিত্যচর্চায় সক্রিয় থাকতে হবে। এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার গল্পকার ও গল্প নির্বাচন হয়ে গেল সহজেই। গোল বাঁধল ইউরোপে, বিশেষ করে ইতালিতে এসে। গুন্টার গ্রাস, মিলান কুন্ডেরা, সালমান রুশদির গল্প বাছার পর চেয়েছিলাম ইতালি থেকে তাঁদেরই মতো কোন ডাকসাঁইটে লেখককেই নির্বাচন করতে। তখন ইগনাসিয়ো সিলোন, ইতালো কালভিনো, প্রিমো লেভি কেউই বেঁচে নেই। মোরাভিয়া ও নাতালিয়া গীনসবার্গও গত হয়েছেন কিছুদিন হল। সবেধন নীলমনি বেঁচে আছেন উমবের্তো একো। অতঃপর তাই তাঁকে নেয়ার কথাই ভাবা গেল। একো The Name of the RoseFoucault’s Pendulum – এর মতো আকারে ও প্রকারে ভারি কিছু উপন্যাস লিখে ইতোমধ্যে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন। এছাড়া ভাষাতত্ত্বে, বিশেষ করে Semiotics বা চিহ্নবিদ্যার পণ্ডিত হিসেবেও তাঁর নামডাক রয়েছে, বিশেষত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে। আশা ছিলো সেই একোর একখানা গল্প হয়তো যোগাড় করতে পারব। কিন্তু এ-লাইব্রেরী, সে-লাইব্রেরী তন্ন তন্ন করে খুঁজেও নিরাশ হতে হল শেষ পর্যন্ত। তবে শাপে বর হিসাবে এই অনুসন্ধানের সূত্র ধরেই হাতে এসে পড়েছিলো তাঁর অভিনব একটি গ্রন্থ্, যা পড়ে তাঁর গল্প না পাবার বেদনা ভুলে যেতে পেরেছিলাম বেমালুম। (সম্পূর্ণ…)

গ্রন্থাগারের জন্য ভালোবাসা

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১:১২ অপরাহ্ন

library.jpg১৯৭১, মিশিগানের ট্রয় শহরের গ্রন্থাগারিক মার্গারেট হার্ট স্থানীয় শিশুদের জন্য নতুন স্থাপিত গ্রন্থাগারের উপকারিতা ও গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু লেখার জন্য সমাজের বিশিষ্টজনদের অনুরোধ করেন। এ জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শিল্পী, লেখক, রাজনীতিবিদদের, এমনকি ধর্মজাযকদেরও অনুরোধ করেন। এর প্রতিউত্তরে ডঃ সিউস, পোপ পল ষষ্ঠ, নিল আর্মষ্ট্রং, কিংসলে আমিস ও আইজ্যাক আসিমভ-এর চিঠিসহ ৯৭টি লেখা আসে।
৪৫ বছর পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষ্যে ইংল্যান্ডের আর্ট কাউন্সিল সেই চিঠিগুলির বরাদ দিয়ে আরেকবার ট্রয় গণগ্রন্থাগারের জন্য লেখা আহবান করা হয়। আর এতে বেশ সাড়া পড়ে। আর্ট কাউন্সিলের পরিচালক ব্রায়ান এ্যশলে বলেন, “গ্রন্থাগারের জন্য স্মৃতি সংরক্ষণে বিভিন্ন লেখক ও ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে যে সাড়া আমরা পেয়েছি তা অভূতপূর্ব। তখনকার সময় থেকে তা সংখ্যায় বা রূপে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু গ্রন্থাগারের জন্য এ ধারণা ও এর গুরুত্ব একই থাকবে। (সম্পূর্ণ…)

কারা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়

সোহেল হাসান গালিব | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৭:১৮ অপরাহ্ন

বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীকে এখন আর একটি ‘সমগ্র’ রূপে বিবেচনার সুযোগ নেই। মুখ্যত দুই বাংলায়–বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলায়–ভাষা দুই ভাগে, দুইটি ধারায় বিকাশের এক বিশেষ পর্যায়ে এসে উপস্থিত। এ দুটি ধারাকে চিহ্নিত করতে কেবল শব্দ ও বাক্যের সংগঠন বিচার করলেই চলবে না। শব্দ যে প্রতীক ধারণ করে, যে ইমেজের প্রতিফলন ঘটায়, যে ইতিহাসকে তুলে আনে, তার তাৎপর্যও খেয়াল করতে হবে।

প্রমথ চৌধুরী বলে গিয়েছেন, ‘বাংলা ভাষার অস্তিত্ব প্রকৃতিবাদ অভিধানের ভিতর নয়, বাঙালির মুখে।’ অর্থাৎ ভাষার প্রাণ-উৎস মরা মানুষের জাবেদাখাতা নয়, জ্যান্ত মানুষের মুখের জবান।

হিন্দি ভাষা নয় কেবল, প্রকৃত প্রস্তাবে ভারতের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য বহন করতে গিয়ে প্রাদেশিক ‘বাংলা’র একটা চেহারা দাঁড়িয়েছে পশ্চিম বাংলায়। পক্ষান্তরে, ‘উর্দু’–ভাবান্তরে ‘পাকিস্তানি ইসলাম’–মোকাবেলা করেই গড়ে উঠেছে স্বাধীন রাষ্ট্রের বাংলা ভাষা। ফলে খুব সহজেই দুইটি বাংলার দুই ভিন্ন উৎসারণ চিনে নেয়া সম্ভব। পশ্চিমের বাংলা ক্রমশ ঘোমটা পরছে অপরের আধিপত্য কবুল করে। স্বাধীন বাংলা জেগে উঠছে অন্যের আধিপত্য খারিজ করার মধ্য দিয়ে।

কিন্তু এই উৎসারণ, এই প্রবণতা এক বিশেষ কালপর্বের জন্য সত্য, ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে সদাই এমন ঘটেছে তা বলা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের ‘বাংলা’ প্রধানত তার আদলটা তৈরি করেছে বর্জনের সংস্কৃতি উদযাপন করতে করতে। ১৮৩৮ সালে ‘পারসীক অভিধান’ নামে যে সংকলনটি করেন জয়গোপাল তর্ক্কালঙ্কার, তার উদ্দেশ্য ছিল বাংলা ভাষায় যে সব বিদেশি (ফারসি) শব্দ ব্যবহৃত হয় তা চিহ্নিত করা। যাতে এসব শব্দ পরিহার করে শুদ্ধ বাংলা চর্চায় লেখকরা সচেতন হয়ে ওঠেন। এ অবস্থা জারি ছিল দীর্ঘদিন। প্রায় একশো বছর পর কাজী আবদুল ওদুদ নতুন একটি অভিধান সংকলনে এগিয়ে আসেন। তাঁর অভিধানের নাম ‘ব্যবহারিক শব্দকোষ’। অভিধানের ভূমিকায় তিনি লিখছেন : ‘বাংলা ভাষা তার বিচিত্রমূল সাধারণ ও অ-সাধারণ শব্দ ও শব্দ-সংশ্লেষ নিয়ে বর্তমানে যে বিশিষ্ট রূপ ধারণ করছে, ক্ষেত্রবিশেষে করতে যাচ্ছে, সে-সবের সঙ্গে প্রধানত শিক্ষার্থীদের যথাসম্ভব অন্তরঙ্গ পরিচয় ঘটানো ‘ব্যবহারিক শব্দকোষে’র উদ্দেশ্য।…
বাংলার মুসলমান-সমাজে প্রচলিত অথচ বাংলা অভিধানে সাধারণত অচলিত শব্দগুলোও সংকলন করতে চেষ্টা করা হয়েছে। মুসলমান-সমাজের চিত্র বাংলা সাহিত্যে ব্যাপকভাবে অঙ্কিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সবের প্রয়োজনীয়তা সহজেই বৃদ্ধি পাবে।’ (সম্পূর্ণ…)

হানযালা হানের তিনটি কবিতা

হানযালা হান | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১:১৯ অপরাহ্ন


ছায়া

বিড়ালছানা ভোরের রোদে খেলছে নিজের ছায়া নিয়ে। বেলা বাড়ে ছায়া ছোট হয়; ভীত চোখ বিড়ালছানার। দুপুরে ছায়াটি ঢুকে যায় ছানার মধ্যে। ছায়া দেখার জন্য বিড়ালের সেকি লাফালাফি! একটি বাচ্চা প্রসব করে সে।

সূর্য পশ্চিমে হেলে গেলে ছায়াটি আবার বড় হয়। বিড়ালের ভেতর থেকে বেরিয়ে সে ধীরে ধীরে দূরে চলে যায়। ছায়ার এই বেড়ে ওঠা সর্বশক্তি দিয়ে থামাতে চায় বিড়াল। কিন্তু ছায়াটি তার সঙ্গে শত্র“তা করে। সূর্যাস্ত হলে ছায়া হারিয়ে যায়।

সময়বীজ

সময় এক সুগন্ধি বারুদ; একটা হলুদ বাগান ভুল করে ঢুকে পড়ে তারাদের ছায়াপথে; চাঁদ ওঠার আগে কপালে গালে চিবুকে আলতা মেখে মেহেদি গাছের তলায় দাঁড়িয়ে বিয়ের গীত গায় কনে, জোয়ার আসার আগে নদীর তীরে কাস্তে হাতে পানি কাটার কেচ্ছা বলে বর;

জগৎ পিষে চলে অবিরাম সময়বীজ; হাজার চিন্তার মধ্যে এক দলছুট পুরুষ মৌমাছির মনে পড়ে রানির কথা; আহা, ধবধবে সাদা এক ঘোড়া কেশর উড়িয়ে ছুটে চলে গভীর বনের দিকে;

স্থির আর অস্থির– পাটা আর শিল, এই দুই বিভ্রমের মধ্যে জীবন এক সুগন্ধি ফুল। (সম্পূর্ণ…)

আলতাফ হোসেনের তিনটি কবিতা

আলতাফ হোসেন | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন


লালুখেত

এই জায়গাটার নাম ধরো লালুখেত। ঠিক নাম কী যে তা ভুলেছি।
আর লালুখেত একটা ছিল বটে কোথায় যে শৈশবে আমার।
লালুখেতে চারতলায় থাকি। আর কোনো জায়গা চিনব আরো বড় হলে।
এটা কোনো রোগ, কোনো কথাই যে বিশ্বাস হয় না? ক্বচিত বেরোই
দুপুরটা পরিচিত লাগে, তবে লোকগুলো এ তল্লাটে তক্কে তক্কে থাকে
মারবে, না কাছে এসে জড়িয়ে ধরবে? ভীত ও হর্ষোৎফুল থাকি
ভাবব না। ভাবলেই, আমি । আমি-আমি করে নাকি বলতে নেই। তবে
আমি যে কে, আমি যে কী, রবীন্দ্রনাথের গান বলতে পারবেন। (সম্পূর্ণ…)

প্রবাসে ঘুমহীন রাত

দিলরুবা আহমেদ | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

ঝড়ো হওয়া বৃষ্টি অনেকটা থেমে এসেছে। এরই মুখে ছুটতে ছুটতে ওলিদ ঘরে ঢুকলো।
: লন্ড্রি থেকে কাপড় এনেছো?
কাজরী মাথা দোলালো, এনেছে সে।
: ড্রয়ারে দিতে পেরেছিলে?
এবার কাজরী ইংরেজি ‘এল’ স্টাইলে মাথা নাড়ালো।
ওলিদ রেইনকোর্ট খুলতে খুলতে হাসলো, বললো,
: মানেটা কি ? ঢুকিয়েই বের করে নিয়েছো?
জুতো খুলছে সে।
দরজা দিয়ে ঢুকতেই জুতা খোলার কাজটা করতে হয়। পুরো এ্যাপার্টমেন্টটাই কার্পেটে মোড়ানো। তাই করতে ওলিদ এবার হাতের একগাদা কাগজপত্র কাজরীর দিকে এগিয়ে দিল। লাইব্রেরি থেকে ফিরেছে, হাতে প্রচুর বই। যদিও বই রাখবার জন্য কোন বুক সেলফ এখনও নেই। ড্রইং রুমটা একেবারেই ফাঁকা। মাসখানিকও হয়নি এই এ্যাপার্টমেন্টে উঠেছে। দুই বেড়, ড্রইং, ডাইনিং নিয়ে ছোট এ্যাপার্টমেন্ট।
তবে এ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সটা অনেক বড়। প্রায় তিনশটা এ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। নাম উইনগ্রেন এ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স।
ট্রেক্সাসের আরভিং-এ যেসব বাঙালি প্রথম তাবু করেন তাদের অধিকাংশই বোধহয় এখানে প্রথম আসেন বসবাসের জন্য। দেশীয় একটা আমেজ আছে পুরো কমপ্লেক্স জুড়ে। উপমহাদেশীয় আবেদন বলা যায়।
: কী? লন্ড্রি রুম কি বন্ধ করে দিয়েছিল। রাতের আটটায় তো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা।
লাইব্রেরীতে যাওয়ার আগেই ওলিদ কাজরীকে দেখিয়ে দিয়েছিল লন্ড্রি রুমের মেশিনগুলোর অপারেশন কি ভাবে করতে হবে। কাপড় ধোয়ার জন্য দিতে হবে ১ ডলার। চারটা কোয়াটার মেশিনে পর পর বসিয়ে সুইচ চালু করে দিলেই হবে। শুকানোর জন্য ড্রয়ারে ফেলতে হবে ৭৫ সেন্টস। তারপর অটোমেটিক বাদবাকী কাজকর্ম হয়ে যাবে।
: আটটা বিশে বন্ধ হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

ইতিহাসের দলিল ‘প্রসাদ: বাঙলাদেশ সংখ্যা’

শান্তা মারিয়া | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ৩:৫৭ অপরাহ্ন

proshad-book-cover-update.jpg‘ববিতা সম্বন্ধে সঠিক করে কিছু জানা না থাকলেও এটুকু আমরা জেনেছি যে ববিতা ওখানকার প্রখ্যাত অভিনেত্রীদের অন্যতম। অনেক অনেক বাঙলা ও উর্দু ছবিতে অভিনয় করেছেন উনি-’
শুধু ববিতা নন, রয়েছেন কবরী, আজিম, সুজাতা, সুভাষ দত্ত, দিলীপ সোমসহ অনেক তারকার পরিচিতিমূলক লেখা ও সাক্ষাৎকার, কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ আলোকচিত্র। আমাদের বিজয়ের অব্যবহিত পরে, ১৯৭২ সালে (বাংলা ১৩৭৮) মাঘ মাসে প্রকাশিত হয়েছিল সিনে ম্যাগাজিন ‘প্রসাদ, বাঙলাদেশ সংখ্যা’। ৪৩ বছর পর সেই দুর্লভ সংখ্যাটি পাঠকের কাছে পৌঁছে দিল বিপিএল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীদের সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল অকুণ্ঠ। টালিগঞ্জও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামী চলচ্চিত্রসমাজের পাশে তারা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সহযোগিতার হাত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এই সম্পর্ক অমলিন ছিল। সে সময় কলকাতার বহু অভিনয় শিল্পী বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশের চিত্রতারকারাও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ওপার বাংলায়। ১৯৭২ সালে যে ববিতা ছিলেন কলকাতায় প্রায় অপরিচিত, তিনি পরে অভিনয় করেছেন সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেতের’ মতো অমর ছবিতে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com