কামরুল হাসানের বিশটি চতুর্পদী

কামরুল হাসান | ৩০ জানুয়ারি ২০১৬ ৮:২০ পূর্বাহ্ন

চতুর্পদী

ছাদে এসে দেখি ঈশ্বর ও আমি মুখোমুখি আজ
অনন্তযোজন শূন্যতায় শূন্য শুধু, কিছু আর নেই
সকল গুরুর তন্ত্র, সাধকের সাঁকো, ভেঙে পড়ে যেই
ঈশ্বর অবলীলায় পড়ে নেন অতিব্যক্তিগত তাজ।

২.
কবির কবিতা থেকে আজ কত অনুতাপ ঝরে পড়ে
কেননা সন্ধ্যায় দিবসের অনুশোচনা রক্তলাল রঙে
সূর্য জানিয়ে যায় দীপ্রতায় গ্রহটির মাথার উপরে
মরণের অন্ধকার আসে নেচে কত বিভঙ্গে, ঢঙে।

৩.
কবিতা ব্যর্থ ভারি অসামান্য রাত্রির রূপটি ফোটাতে
কবিতা চাইছে খুব, হে ফুল, ঐ শুভ্র বক্ষে লুটাতে
কবিতা ঘুমের দেশে স্বপ্ন জড়ো করে বার্তা রচিতে
কবিতা উড়িয়ে নেয়, হে পরী তোমাকে, লুপ্ত অতীতে! (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: নতুন এলিয়ট, ব্যাংকসির প্রতিবাদ ও তাতিয়ানার রসনা

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৭ জানুয়ারি ২০১৬ ৭:১১ অপরাহ্ন


এলিয়টের অগ্রন্থিত কবিতায় নতুন ভাবনা

eliot.jpg(১৮৮৮-১৯৬৫) কবি , নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যসমালোচক ও সম্পাদক। বিংশ শতকের অন্যতম শক্তিমান কবি। শুধু তাই নয়, আধুনিক যুগে কবিতায় এলিয়টের প্রভাব প্রবাদপ্রতিম। ১৯৪৮ সালে সাহিত্যে নোবেলপ্রাপ্ত এ কবির গ্রন্থিত ও অগ্রন্থিত কবিতা নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি কবিতা সংকলন। ‘ দ্য পোয়েমস অফ টি এস এলিয়ট: কালেক্টেড এন্ড আনকালেক্টেড পোয়েমস’ শিরোনামে দুই খন্ডের সংকলনটি সম্প্রতি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের ফেবার এন্ড ফেবার প্রকাশনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি প্রেস। এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত ‘স্প্লিন’ এবং’ ইন রেস্পেক্ট অফ ফিলিংস’ নামে দুটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য নিউইয়র্ক রিভিউ অফ বুক’-এর চলতি সংখ্যায় । এলিয়টের কবিতা অগ্রন্থিত থেকে যাবে , এট আশ্চর্যজনকই বটে। তবে সত্যিটা হলো তাই ছিল অনেকদিন পর্যন্ত। এলিয়টের সেক্রেটারি ও ২য় স্ত্রী ভেলেরির মৃত্যুর বছর তিনেক পর তাঁর পুরোনো নোটবুকে পাতার ভাঁজে পাওয়া যায় এলিয়েটের অপ্রকাশিত তিনটি কবিতা। এর মধ্যে দুটি হছে ‘স্প্লিন’ এবং’ ইন রেস্পেক্ট অফ ফিলিংস’ । এ কবিতা দুটিতে এলিয়টের গৃহপালিত প্রাণী বেড়ালের প্রতি ভালবাসা ও অনুভূতির কথা প্রকাশ পেয়েছে। তবে তৃতীয় যে কবিতাটি এলিয়ট-সমালোচকদের নজর কেড়েছে তা হচ্ছে ভেলেরিকে উদ্দেশ্য করে লেখা কিছু পংক্তি। কবিতাটির শিরোনাম হচ্ছে ‘ আই লাভ টল গার্ল’। হ্যাঁ , এখানে দীর্ঘাঙ্গী রমণীদের প্রতি কবির আকর্ষণ বর্ণিত হয়েছে। প্রথম বিয়েতে এলিয়ট সুখী ছিলেন না। ১৯৫৭ সালে সেক্রেটারি ভেলেরীকে যখন বিয়ে করেন তখন এই জুটির বয়সের ফারাক ছিল প্রায় চল্লিশ বছর। ভেলেরীর উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি। তাই অনেকেই এখন, বয়েসের এত পার্থক্য থাকা সত্বেও দীর্ঘকায়া এই নারীকে বিয়ে করবার কারণ খুঁজবার প্রয়াশ চালাচ্ছেন ঐ কবিতাটির মধ্য দিয়ে। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২৫ জানুয়ারি ২০১৬ ১:৩৬ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

নতুন পিরামিড

রেজাউদ্দিন স্টালিন | ২৩ জানুয়ারি ২০১৬ ৮:৫১ অপরাহ্ন

ফিলিস্তিনের আকাশে চাঁদ ওঠে
হেলমেট মাথায়

বর্ম বুকে ওঠে সূর্য
তারারা নিঃশব্দে কাঁপে ভয়ার্ত শিশির
ধোঁয়াভারানত মেঘ চরে বেড়ায়
উঠোনে-উঠোনে
রক্তের নদী মরে পড়ে থাকে বিছানায়
মাথার উপর কাকেরা চেঁচায়
চিলের চিৎকারে ছিঁড়ে যায় দিগন্ত
বোমারু ঈগল আগুনের ডিম দেয় শূন্যে (সম্পূর্ণ…)

পথে, প্রদেশে (পর্ব-৭)

মাসুদ খান | ২১ জানুয়ারি ২০১৬ ৭:৩৪ অপরাহ্ন

(পূর্ব-প্রকাশিতের পর)

ফ্ল্যাশব্যাক: হকসেদ ও যমদূতগণ

এই যে হকসেদ, এ হকসেদ যে-সে হকসেদ না। একে বাগে আনা, বিপাকে ফেলা যার-তার কাজ না। এমনকি মরণদূতদের পর্যন্ত তাড়িয়ে দিয়েছে সে মিষ্টি-মিষ্টি কথা ব’লে, চাপা ছেড়ে। একবার হকসেদের শক্ত অসুখ। যমে-জীবে-টানাটানি দশা। জান কবজ করতে আজরাইল এসে দাঁড়িয়ে আছে দুয়ারে।

হকসেদ নির্বিকার। একসময় আস্তে আস্তে উঠে গিয়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে আজরাইলকে। মোলায়েম স্বরে থেমে-থেমে বলতে থাকে, “আদাব আজরাইল সাহেব, কী সৌভাগ্য আমার! আসুন আসুন, অনুগ্রহ করে আসন গ্রহণ করুন। আপনি ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত, দীর্ঘ পরিভ্রমণে পথশ্রম হয়েছে প্রচুর। একটু বিশ্রাম নিন, মুখমণ্ডলে শীতল জল ছিটিয়ে একটু আচমন করুন, দেখবেন প্রশান্তি বোধ করছেন। তারপর প্রসাদ খান। জানিই তো, জাতকস্য হি ধ্রুবো মৃত্যু।”

এটুকু ব’লে জলভরা পিতলের কমণ্ডুলু আর সকালে নন্দলাল পুরোহিতের বউ তাকে দেখতে এসে কাসার থালাভর্তি যে নাড়ু আর সন্দেশ এনেছিল, খুব তাজিমের সাথে সেগুলি এগিয়ে ধরে হকসেদ, আজরাইলের দিকে।

তারপর বলতে থাকে, “মহামহিম, অনুমতি দিলে একটা কথা বলতে চাই– আসলে আমি কিঞ্চিৎ বিস্মিত হয়েছি, প্রাণ নেবার জন্য আপনি এসেছেন দেখে। আমি তো ভাই মুসলমান নই। আমি তো ঠিক আপনার অধিক্ষেত্রের মধ্যেই পড়ি না। বিলক্ষণ না। পড়ি কি? ক্ষমা করবেন, দোষ নেবেন না, জলখাবার গ্রহণশেষে আপনি বরং চলে যান। আপনার অনেক কাজ…।”

হকসেদকে সনাতন ধর্মগোষ্ঠীর কোনো শিরোমণি ভেবে ফিরে চলে যায় আজরাইল। (সম্পূর্ণ…)

নদীর দেশের চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবির

তারেক আহমেদ | ২০ জানুয়ারি ২০১৬ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

alamgir.jpgমাত্র ৪৯ বছর বয়সে চলে গিয়েছিলেন আলমগীর কবির। এবয়সে অনেকের নতুন যাত্রা শুরু হয় –এমন নজিরও আছে সৃস্টিশীল দুনিয়ায়। মুক্তিযুদ্ধ যেন তার জীবনকে দুভাগ করে ফেলেছিল। যেমন করেছিল তার প্রজন্মের আরো অনেককে। ‘৭১ সনে ত্রিশ বছরের টগবগে চেহারার যুবক আলমগীর কবির কলকাতায় গিয়ে হাজির হলেন। ইচ্ছে ছিল, রনাঙ্গনের যুদ্ধেই যোগ দেবেন–হলো না। অবধারিতভাবে, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে জায়গা হলো তার। ইংরেজি সংবাদ পাঠক হিসেবে যোগ দিয়ে আহমেদ চৌধুরী ছদ্মনামে খবর পাঠ শুরু করলেন। জহির রায়হানের ষ্টপ জেনোসাইড ছবিতে কবিরের ইংরেজি ধারাভাষ্য যারা শুনেছেন, তাদের সকলেরই হয়তো আলমগীর কবিরের ইংরেজি লেখা আর অননুকরনীয় ভঙ্গির বাচনভঙ্গীটি স্মরণে থাকবার কথা।

সুযোগ পেয়ে গেলেন শীঘ্রই। বন্ধু জহির রায়হান তার প্রামান্যচিত্র নির্মানকালে কবিরকে টেনে নিলেন। যাদের হাত দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই নির্মিত হলো –বাঙ্গালীর মুক্তিসংগ্রামের চারটি অনবদ্য দলিল :ষ্টপ জেনোসাইড, লিবারেশন ফাইটার্স, স্টেট ইজ বর্ন আর ইনোসেন্ট মিলিয়ন্স। (সম্পূর্ণ…)

ইরাজ আহমেদের কবিতা

ইরাজ আহমেদ | ১৯ জানুয়ারি ২০১৬ ৬:১৫ অপরাহ্ন


জাতিস্মর

আমার কোন অভিমান নেই চন্দ্রমুখী।
একদিন একটা নিমগাছের খুব অভিমান ছিল।
পাখিদের ছিল,
কাঠ পেন্সিলের ছিল।
স্কুল ব্যাগে সঙ্গোপনে গুঁজে দেয়া চিঠির অভিমান ছিল;
মাত্র কয়েক লাইনে
জাদুমন্ত্র ছিল চন্দ্রমুখী।
দেখ,
পঞ্চাশ বছর আলোর গতির চেয়েও দ্রুতগামী।
বদলে গেছে ব্রিটিশ কাউন্সিলের গেট,
আইসক্রিমের গাড়ি,
রুমালের ব্যবহার।
বদলে গেছে
সুতো কাটা কোন ঘুড়ির কাছে গচ্ছিত একটা জীবন।

আমার আর কোন অভিমান নেই চন্দ্রমুখী।
শুধু একটা নিমগাছের খুব অভিমান ছিল। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: নতুন বছরে নারীরাই রবে শীর্ষে

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৭ জানুয়ারি ২০১৬ ৮:১৮ পূর্বাহ্ন

সাহিত্য ও সংস্কৃতি এমনই এক বুদ্ধিবৃত্তিক স্থান যেখানে সাদা–কালো, নর-নারী বৈষম্য চলে না। প্রয়োজন হয় না কোন কোটা-ব্যবস্থারও। যে যার মেধা মনন জ্ঞান দিয়ে জায়গা করে নেয় এখানে। অনেকে হয়তো বলবেন, শিল্পী সাহিত্যিকরাও তো সমাজ থেকেই উঠে আসে। সমাজের মনস্তত্ব সে বাদ দিবে কী করে? তবে একজন সত্যিকারের শিল্পীর উচিত এসব চিন্তায় নিজেকে আটকে না রেখে কাজ করে যাওয়া। অর্থাৎ লিঙ্গ, বর্ণ, পুরষ্কার, ধনী-গরীব ইত্যাদি সব বৈষম্যের বাইরে থেকে নিজের সৃষ্টিকর্মের সাধনা করে যাওয়া। আমরা দেখছি, এমনকি লেখনীর জগতও পুরুষ-প্রধান করে রাখার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি, কারণ–আগেই বলেছি–একমাত্র শিক্ষার জগত ও বুদ্ধিজীবী মহলেই মেধা আর মননের কাছে সকল বৈষম্যের প্রাচীর ভেঙে পড়ে। আজ বিশ্বসাহিত্যের অতি সাম্প্রতিককালে ভিন্নভাবে আলোচনায় আসা দুজন ব্যতিক্রমী নারীকে উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে যাদের সৃষ্টিকর্মের কাছে আসলেই ভেঙ্গে পড়েছে সকল বৈষম্যের প্রাচীর।

লুদমিলা পেত্রুসেভস্কায়া: রূপকথার নতুন বয়ান

border=0জীবন্ত কিংবদন্তী লুদমিলা পেত্রুসেভস্কায়া । মস্কোতে জন্ম নেয়া ৭৮ বছর বয়সী এই সাহিত্যিক বর্তমান জীবিত রুশ লেখকদের মধ্যে অন্যতম। গত কয়েকদশক ধরে পূর্ব ইউরোপের সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী প্রশংসিত। ১৯৮০ সাল থেকে তার লেখা গল্প উপন্যাস পৃথিবীর ২৪টিরও বেশী ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। একই সাথে গভীর মনস্তত্ব ও উত্তর আধুনিকতার ছোঁয়া পাওয়া যায় তাঁর লেখনীতে। সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অন্ধকারাচ্ছন্ন , ভীতিকর, রহস্যময়, রোমহর্ষক, অসম্ভব সব কল্পনাকে অনেকটা রূপকথার মতোই তুলে ধরেন তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে। সম্ভবত এ কারণেই লুদমিলাকে আন্তভ চেখভের সাথে তুলনা করা হয়। (সম্পূর্ণ…)

কত দিবা?

নির্মলেন্দু গুণ | ১৬ জানুয়ারি ২০১৬ ১০:৩৯ অপরাহ্ন

পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে বঙ্গবন্ধু রসিকতা করে বলতেন :
কত নিছ?
কত দিবা?
কবে যাবা?
সেই পাকিস্তান আমাদের পাওনা না মিটিয়েই বাংলাদেশ ছেড়ে গেছে। ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি।
৪৫ বছর পর, এখন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় প্রশ্নটি খুবই জনপ্রিয় হয়েছে- কত দিবা? কত দিবা? কত দিবা কও?
এই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারলে আর কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়না। আপনার সরকারি চাকরি পাক্কা।
আমাকে এই প্রশ্নটা করা যায় না বলে আমার সোপারিশে গত দশ বছরে সরকারি চাকরি আমার একটাও হয়নি। (সম্পূর্ণ…)

শিল্প হল মূলে অভেদ পারদের বল

রুবাইয়াৎ আহমেদ | ১৬ জানুয়ারি ২০১৬ ১:২৬ অপরাহ্ন

sad_1.jpgএক.
যিনি কোনো শাস্ত্রে জ্ঞান লাভ করে তদরূপ আচরণ করেন ও আচরণ শেখান তাঁকেই ‘আচার্য’ বলে। এই আচরণের মধ্যে শিক্ষাদানই প্রধান অর্থাৎ শিক্ষাগুরু। এ হচ্ছে আভিধানিক অর্থ। আমরা স্মরণ করতে পারি যে, সেলিম আল দীন শিল্প-সাহিত্য ও নাট্য সম্পর্কিত বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট গণ্ডিবহির্ভূত চেনা-অচেনা, স্বল্প পরিচিত অনেকের মধ্যেই ছড়িয়ে দিতেন অধিকৃত বিদ্যা। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে সবাই তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করতেন। পরিণত বয়সের শুরু থেকে দেহান্তরিত হওয়ার সময় পর্যন্ত তাঁর এই ধারা অব্যাহত ছিল। তাঁর কাছ থেকে গ্রহণ করা শিক্ষার কথা কেউ স্বীকার করেন, কেউ করেন না। আমরা তখন বহতা নদীর কথা ভাবি। ভাবি যে, নদীতে গোসল করতে নামে সৎ, অসৎ প্রভৃতি নানা চরিত্রের মানুষ। প্রত্যেকেই তাদের প্রয়োজন মেটায়। নদী কিন্তু ফেরায় না কাউকেই। অথচ এই উদার আচরণে নদীর চরিত্র নষ্ট হয় না। আমাদের মনে পড়ে যে, তিনি সফলভাবেই আচার্যের আভিধানিক অর্থকে উৎরে গেছেন। ফলে আমরা তাঁকে মান্য করি, বলি আচার্য সেলিম আল দীন। কিন্তু তার এই হয়ে ওঠা একদিনে সম্ভবপর হয়নি। দীর্ঘদিনের নিরন্তর চর্চা ও হয়ে ওটার অমোঘ যাত্রা তাঁকে আজকের এই অবস্থানে সমাসীন করেছে। কিন্তু বাংলা সাহিত্য ও শিল্পচর্চায় সেলিম আল দীনের স্বাতন্ত্র্য কোথায়? কী তাঁর অবদান? এ বিষয়গুলো বুঝতে হলে তাঁর শিল্পবিশ্ব সম্পর্কে খানিক আভাস দেওয়া প্রয়োজন। তবেই হয়তো বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা লক্ষ করবো, আয়ুষ্কালের সীমাবদ্ধতার পরও তিনি যা দিয়ে গেছেন এক মানবের সমর্থ্য বিবেচনায় বিস্ময়কর। (সম্পূর্ণ…)

খুঁজে ফিরি অসমাপ্ত পথরেখা, ব্যর্থতার বিন্দুগুলি

সোহেল হাসান গালিব | ১৫ জানুয়ারি ২০১৬ ৫:১৫ অপরাহ্ন

selim-1.jpgবাংলাদেশে, শিক্ষিত বাঙালির কাছে নাটক আর সেলিম আল দীন কথা দুটো প্রায় সমার্থক। কারণ সহজেই অনুমেয়। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে নাটক নিয়ে যে-সব কর্মতৎপরতা তিনি চালিয়েছেন, বাংলা ভাষার আর কোনো লেখক, গবেষক, নির্দেশক, চিন্তক এককভাবে কেউ তা করেন নি। একদিকে নাটকের নানা তত্ত্ব উদ্ভাবন, অন্যদিকে তার মৌলিক রচনায় সে-সবেরই সফল প্রয়োগ। পাশাপাশি পাঠ, চর্চা ও গবেষণার প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠা করেছেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্বতন্ত্র একটি বিভাগ হিশেবে এর যাত্রা, অন্তত বাংলাদেশে, তারই হাত ধরে।

যদিও সেলিম আল দীন বাংলাভাষীদের কাছে নাট্যকার হিশেবেই পরিচিত, তবু লেখক নিজে তার রচনাকে নাটকমাত্র বিবেচনা করেন না। মূলত তিনি আখ্যান নির্মাণ করেন। আর তার সমস্ত রচনাই বারবার পাঠযোগ্য, পাঠযোগ্য কাব্যগুণেই। সাহিত্যকে গদ্যপদ্যের বিভাজিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কখনো বিচার করেন নি তিনি। কাব্য, সঙ্গীত, আখ্যান ও নৃত্য–প্রাক-ইউরোপীয় বাংলাসাহিত্যের সমস্ত প্রবণতাকে অঙ্গীকার করে নিয়েই এক অখণ্ড শিল্পভুবনের দিকে তার যাত্রা। বহুকে তিনি একসূত্রে অর্থাৎ এক অদ্বয়-সম্বন্ধে গেঁথে তোলেন। এর নাম দিয়েছেন তিনি ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’। খণ্ড খণ্ড পরিচয়ের মধ্যে জগৎ ও জীবনের যে অখণ্ড রূপাভাস, তার রচনায় সেই রূপেরই উন্মোচন। (সম্পূর্ণ…)

চাকা: জীবন-মৃত্যুর গোধূলিসন্ধির নৃত্য

মাদল হাসান | ১৫ জানুয়ারি ২০১৬ ৪:৫৫ অপরাহ্ন

selim.jpgদু’জনেই যতিচিহ্ন নিয়ে ভেবেছিলেন–সতীনাথ ভাদুড়ী এবং সেলিম আল দীন। কিন্তু দু’ জনের ভাবনা দু’ধরনের। প্রথমজন ভেবেছিলেন আবেগের ভিন্ন ভিন্ন দশা অনুযায়ী আরোধিক যতিচিহ্ন থাকা উচিত। অন্যজন ভেবেছেন–পাঠক পরিস্থিতি অনুযায়ী যতিচিহ্ন আরোপ করবে কথায়। তাই ‘চাকা’ কথানাট্য যতিচিহ্ন ‘স্টারচিহ্ন’, ‘একদাঁড়ি’ ও ‘দুই দাঁড়ি’-তে সীমাবদ্ধ। যতিচিহ্নের ক্ষেত্রে বিদ্যাসাগরীয় পরজীবিতাকে সেলিম আল দীন ঔপনিবেশিকতার কুফল বলেই মানতেন। আর একই কারণে তিনি ইউরোপীয় উপন্যাসের ঢালাও আঙ্গিকও মানতে পারেন নাই। তাই বার বার ফিরে গেছেন মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য-পালাগান-পুথিসাহিত্যর দরবারে। তবে কি ‘চাকা’ নভেল নয়? উপন্যাস নয়? এর উত্তর ‘গ্রন্থমুখ’ অংশে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকই দিয়ে ফেলেছেন–`নাট্যকার এক নতুন সাহিত্য-মাধ্যম আবিষ্কার করে ফেলেন–কথানাট্–যা নাটক, কবিতা, নাচ, গীত, উপন্যাস, উপকথা ও কথকতার সমাহার।’ ‘কথাপুচ্ছ’ অংশে সেলিম আল দীনের আত্মস্বীকৃতবচনে পাই–‘বলতে বলতে নাটক, সেজন্যই কথানাট্য। একে কথকতাও বলা যায়। কিন্তু কথকতা অভিনয়রীতির নাম, নাট্যরীতির নাম নয়।’ ‘আমি কথার শাসনে নাটক করেছি, তাই এর নাম দিয়েছি কথানাট্য।’
‘নইলে একজন গায়েন আমার হাতের লেখায় সত্তর বাহাত্তর পৃষ্ঠার নাটক গাইবেন–এ ধারণা ইউরোপীয় ধাঁচের নাটক থেকে পাবার কথা নয়।…’ (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com