মৃত্যু এক শিল্প

কুমার চক্রবর্তী | ৩১ december ২০১৫ ৪:০৯ অপরাহ্ন

silvia.jpg১৯৪৮ সালে, যখন তিনি সবে কৈশোর-উত্তীর্ণ, একটি কবিতায় লিখেছিলেন:

জিজ্ঞেস করো তুমি আমাকে কেন আমি
লেখায় ব্যয় করছি আমার জীবন?
আমি কি তাতে পাই বিনোদন?
নাকি তা মূল্যবান কিছু?
সর্বোপরি, কবিতা লিখে কি টাকাকড়ি কিছু মেলে?
তা না হলে, কী আর কারণ আছে?…
আমি লিখি শুধু এ কারণে যে
আমার ভেতরে রয়েছে প্রস্বর
যা কখনও চুপ হয় না।

মূলত সারাটি জীবন তিনি অন্বেষণ করেছেন সেই স্বরকে, যার পরিসমাপ্তি হয়েছে তাঁর আত্মহত্যায়। সিলভিয়া প্লাথ (১৯৩২-১৯৬৩) পিতা অটো এমিল প্লাথ, মাতা অরেলিয়া শোবার প্লাথ, স্বামী বিখ্যাত কবি টেড হিউস, নিজেকে ভাবতেন “লেডি ল্যাজারাস”, একাধিকবার সচেষ্ট ছিলেন আত্মহত্যায়। “লেডি ল্যাজারাস” কবিতায় তিনি বলেছেন যে প্রতি দশ বছরে কমপক্ষে একবার আত্মহত্যায় তিনি আগ্রহী হয়ে উঠতেন, এবং দেখা যায়, তাঁর প্রথম ব্যর্থ আত্মহত্যার চেষ্টার ঠিক দশ বছর পর ১৯৬৩ অব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি আত্মহত্যায় সফল হন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে লেখা কবিতা “প্রান্ত”-এ তিনি লেখেন যে মৃত্যু একজন নারীকে পূর্ণতা দেয়; তাঁর প্রত্যেকটি স্তন এক মৃতশিশু। আত্মহত্যার আগে দুই শিশুসন্তান নিয়ে তিনি ছিলেন ভাবিত, নিকোলাসের জন্মের পর ডেভনের দিনগুলো হয়ে উঠেছিল ভয়ংকর। স্বামী টেড হিউসকে নিয়ে তিনি ছিলেন অসন্তুষ্ট। কানাডীয় কবি ডেভিড উইভিলের পত্নী আসিয়া উইভিলের সাথে টেড হিউসের সম্পর্ক হওয়ায় সিলভিয়া প্লাথ মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ সময়ের লেখা কবিতাগুলোতে উঠে এসেছিল দাম্পত্য সমস্যা যাকে প্লাথ মনে করতেন এক ফাঁদ, যেখানে নারী ভুক্তভোগী। যে দাম্পত্যজীবন শুরু হয়েছিল আনন্দ আর প্রত্যাশায়, তা পরিণত হলো বিষাদ আর বঞ্চনায়। তিনি তাড়িত হয়ে পড়লেন মৃত্যুর ছায়ায়। জুনের প্রথমদিকে প্লাথ যখন টেড হিউসের একটি ফোনকল শুনলেন, তিনি পুড়িয়ে ফেললেন তাঁর নতুন অস্পূর্ণ উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি, যাতে তিনি তাঁদের রোম্যান্টিক প্রেমকে উদযাপন করতে চাচ্ছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা সম্পর্কে অক্তাবিও পাস

রাজু আলাউদ্দিন | ৩০ december ২০১৫ ১:৪২ পূর্বাহ্ন

tagore-painting-1.jpgএর আগে ২০১৩ সালে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে(অক্তাবিও পাসের রবীন্দ্রনাথ) বলেছিলাম অক্তাবিও পাস কেবল রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা নিয়ে প্রবন্ধই লেখেননি, বিভিন্ন উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য দিক সম্পর্কে তাঁর অভিমতও জানিয়েছেন; কখনো কখনো ভিন্ন কোনো প্রসঙ্গে রচিত প্রবন্ধে, কখনো বা আলাপচারিতায়। ইন লাইট অব ইন্ডিয়া গ্রন্থে রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ এসেছিল গান্ধীর ব্যক্তিত্বের সাথে তুলনা করতে গিয়ে। সেখানে তিনি সংক্ষেপে কিন্তু বিচক্ষণ তুলনায় রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিত্বের উচ্চতর মহিমাকে আমাদের যুক্তিবোধ ও হৃদয়বত্তার দুই প্রান্তে সমান মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন। এই তুলনা থেকে মনে হতে পারে যে গান্ধীর চেয়ে রবীন্দ্রনাথের প্রতি বুঝিবা তার বিশেষ প্রীতি রয়েছে। সেই তুল্যমূল্যের বিচার ও বিশ্লেষণ ভিন্ন এক প্রবন্ধের বিষয় হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে আমরা কেবল রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলার প্রতি পাসের পক্ষপাতের দিকে মনোযোগ দিতে চাই।

রবীন্দ্রনাথের প্রতি তাঁর প্রধান আকর্ষণ সাহিত্যের চেয়ে বরং চিত্রকলার জন্যেই বেশি। তবে তার অর্থ এই নয় যে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক গুরুত্ব তার কাছে মোটেই ছিল না। রবীন্দ্র-কাব্যে কখনো কখনো অতিকথন ও বিগত-রুচির উদ্বোধনে পাস বিমুখ বোধ করলেও, রবীন্দ্রনাথের সৃজনশীলতা ও ভাবুকতার সবর্জনীনতাকে কেবল কাব্যমূল্যেই নয়, দূরদর্শিতার কারণেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন তিনি। (সম্পূর্ণ…)

দুটি লাল পাখি থেকে সব্যসাচী

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৬ december ২০১৫ ৯:৫৬ পূর্বাহ্ন

syed-hoq.jpgআট সন্তানের মধ্যে প্রথম, পিতা সদৃশবিধানসম্মত চিকিৎসক, মাতা সনাতন বাংলার এক পল্লীজননী। শৈশবে গ্রামের স্কুলে পাঠগ্রহণকালে রবীন্দ্রনাথের ‘আমাদের ছোট নদী’ পড়েই পদ মেলানোর নেশায় মেতে ওঠেন। তারপর এগারো-বারো বছর বয়সে বাড়ির রান্নাঘরের পাশে সজনে গাছে একটি লাল টুকটুকে পাখি দেখে দুলাইনের একটি পদ মেলালেন মুক্তক সাধুগদ্যবয়ানে, ‘আমার ঘরে জানালার পাশে গাছ রহিয়াছে / তাহার উপরে দুটি লাল পাখি বসিয়া আছে’। পড়েই বোঝা যায়, এই বর্ণনায় একটি ব্যতিক্রমী চিত্রকল্প আছে যেখানে ‘লাল’ শব্দটির ব্যবহার নিরীক্ষাপ্রবণ। ফলে এই বয়ানপঙক্তির স্রষ্টা যে কালে কালে বাংলা ভাষায় একজন আপন মুদ্রাধারী সাহিত্যস্রষ্টা হবেন এটি এমনটি আঁচ করা যায়। এই নিরীক্ষামানুষ আর কেউ নন, আমাদের কালের বহুমাত্রিক শীর্ষসাহিত্যস্রষ্টা সৈয়দ শামসুল হক। সাতাশে ডিসেম্বর ঊনাশি পেরিয়ে তিনি আশিতে পা দিচ্ছেন।
আমরা তাঁকে বলি সব্যসাচী। (সম্পূর্ণ…)

মার্জিনে মন্তব্য: বই হয়ে-ওঠার বহির্বাস্তব ইতিহাস

আহমাদ মাযহার | ২৬ december ২০১৫ ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

samsul-haque_90797.jpgউনিশশো উনআশি কি আশি সাল। সৈয়দ শামসুল হক দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরেছেন। নানা পত্র-পত্রিকায় তাঁর বর্ণাঢ্য উপস্থিতি। তরুণদের কাছে তিনি তখন দূর আকাশের ধ্রুবতারা। ব্যক্তিত্বে একধরনের চৌকস উজ্জ্বলতা। পাশ্চাত্যের কায়দাকানুন তিনি অর্জন করেছেন সেখানে কিছুকাল জীবন যাপন করে। এদিকে আমাদের তরুণ লেখকেরা অধিকাংশই তখন পাশ্চাত্য ভাবধারায় বিমুগ্ধ! সেখানে সৈয়দ শামসুল হক পাশ্চাত্য আধুনিকতার মূর্তিমান ধারক। লেখক হবার যাত্রাপথে এমন মানুষই তো তারুণ্যের অনুসরণীয়। তিনি একই সঙ্গে কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার। যা-ই লেখেন তা-ই সোনা! লেখক হিসেবে যেমন অগ্রগণ্য তেমনই বহুপ্রজ! অথচ তরুণ লেখক মহলে তখন এমন মন্ত্রের উচ্চকিত উচ্চারণ যে, বেশি লেখা লেখকের অননুকূল। সৈয়দ শামসুল হক এমন উচ্চারণকর্তাদের কাছেও ব্যতিক্রম বিবেচিত। সুতরাং যে পত্রিকাতেই তাঁর লেখার প্রকাশ অবধারিতভাবে সেটার খোঁজ চলে আমাদের। এমনি পরিস্থিতিতে শাহাদত চৌধুরী সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’র ধারাবাহিক ‘মার্জিনে মন্তব্য’ নামে একটি কলাম। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: আরবমুখী ফরাসী লেখক ও মার্গারেটের গ্রাফিক-উপন্যাস

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৫ december ২০১৫ ৯:০২ পূর্বাহ্ন


আরবমুখী ফরাসী লেখকগণ

জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসী আক্রমণ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করার সাথে সাথে শিল্পসাহিত্য ও মানুষের সৃষ্টিশীলতাকেও তা প্রভাবিত করেছে। উদাহরণ খুঁজতে আমাদের খুব বেশি ইতিহাস না ঘাটলেও চলে। কেবল ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সাহিত্যের রূপরেখা পর্যবেক্ষণ করলেই সহজে বোধগম্য হয়। আমরা দেখতে পাই, গত নভেম্বরে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর ফ্রান্সের মুসলিম ও অমুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মার্চ আট্যাকের পরবর্তী উত্তেজনার আগুনকে আরো বেশি উস্কে দেয় গত মাসের ঐ হামলা । জনমনে এই উত্তেজনা তৈরির আগে, ফরাসী সাহিত্যে ইসলামী বিকাশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ফরাসি জাতীয় সাংস্কৃতিক কল্পনায় মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার প্রভাব ছিল প্রবল।

সবাই জানেন, সুরুচি ও ভিন্ন সংস্কৃতিতে ঔৎসুক্যের জন্য ফরাসি জাতটার খ্যাতি বহুদিন থেকেই ভুবনব্যাপী। আরববিশ্বের প্রতি তাদের আজকের এই মনোযোগও মোটেই নতুন কিছু নয়। যদি পেছন ফিরে একটু তাকানোর ফুরসৎ পান তাহলে নিশ্চয়ই আপনার মনে পরবে যে ফ্রান্সই ছিল গোটা ইউরোপের প্রথম দেশ যেটি প্রাচ্যের প্রতি প্রথম কৌতূহল প্রকাশ করেছিল। পাঠকদের হয়তো মনে পরবে ১৭০৭ থেকে ১৭১৭ সালের মধ্যে ফরাসী অনুবাদক জাঁ অন্তোনিয় গালার কথা যিনি ছিলেন বিশ্বসাহিত্যের চিরায়ত গ্রন্থ সহস্র এক আরব্য রজনীর প্রথম ইউরোপীয় অনুবাদক আর সেটি তিনি অনুবাদ করেছিলেন এই ফরাসী ভাষায়। পরে এই ভাষা থেকে ইউরোপের অন্যান্য ভাষায় তা দ্রুত অনূদিত হতে থাকে। কোলরিজ, ডি-কুয়েন্সী, স্তাঁদাল, টেনিসন, অ্যাডগার অ্যালান পো, নিউম্যান— প্রথম সারির এইসব লেখকরা সবাই গালার হাত ধরেই ‘সহস্র এক আরব্য রজনী’ পরিভ্রমণ করেছেন। সুতরাং প্রাচ্য বা আরববিশ্ব নিয়ে তাদের নেক নতুন কিছু নয়, বরং তারাই এ বিষয়ে দীর্ঘতম ঐতিহ্যের দাবীদার।

border=0ফ্রান্সের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শীর্ষ সাহিত্য পুরষ্কার ‘গঁকুর পুরষ্কার’। গত অক্টোবরে এই পুরস্কারের জন্য যে চারটি বই নির্বাচিত হয় তার মধ্যে তিনটিই ছিল আরববিশ্ব নিয়ে। পঞ্চম উপন্যাসটি ছিল আলজেরীয় উপন্যাসিক বৌয়ালেম স্যালসাল রচিত ২০৮৪ । বইটি ইসলামী খেলাফত নিয়ে একটি বেস্ট সেলার বই। ‘গঁকুর পুরষ্কার’-এর জন্য নির্বাচিত বইগুলি বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য পুরস্কারও লাভ করে। একটি দেশ কিভাবে সংগ্রাম করে ও ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবে তার সমস্যাপূর্ণ ইতিহাস ধারন করে এই বিষয়গুলিই হোল নির্বাচিত বইগুলোর আকর্ষণ। তাছাড়া ফ্রান্স কিভাবে অতীতের স্মৃতি ও ভবিষ্যতের ভয়ের মধ্যে সীমারেখা টানছে তারই বিবরণ ফুটে উঠেছে উপন্যাসগুলিতে । (সম্পূর্ণ…)

সিমিন হোসেন রিমি’র আলোকচিত্রে ‘প্রকৃতি’ দর্শন

অলাত এহ্সান | ২৪ december ২০১৫ ৬:৫৪ অপরাহ্ন

02_9.jpgশিল্প-সাহিত্যের অপার বিস্ময়ের জায়গা হচ্ছে মানুষ ও প্রকৃতি। এই দুইয়ের মধ্যে ডুব দিয়েই শিল্পী-সাহিত্যিক তুলে আনে মূল্যবান মনিমুক্তা। রাজধানীর গ্যালারি টুয়েন্টি ওয়ান-এ চলছে সিমিন হোসেন রিমি একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। শিরোনাম ‘প্রকৃতি’। প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত ১১৪ টি আলোকচিত্রে প্রকৃতির নিত্যদিনের সৌন্দর্যের অন্বেষণ করেছেন চিত্রী।

সিমিন হোসেন রিমি ইতোমধ্যে লেখক ও সমাজকর্মী হিসেবে খ্যাত। বিশেষত মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের ডাইরি, চিঠিপত্র সম্পাদনা, গবেষণা ও তাঁকে নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখার মাধ্যমে আমাদেরকে অনেক অজানা সত্য ও সময়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন তিনি। তবে আলোচিত্রী হিসেবে এবারই প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের মতোই তার আলোকচিত্রের হাতেখড়ি পরিবার থেকেই। এখানেও চিন্তার উন্মীলন তার ঘটেছে দেখায়। তার ছবির দিকে তাকালেই তা পরিস্কার বুঝা যায়।

তার আলোকচিত্রের বিষয়বস্তু হঠাৎ চমকে দেয়া কিছু না। নিত্যদিনের নিত্য সভা। আকাশ, সাগর, মেঘ, প্রকৃতি, ফুল, পাখি, সূর্যাস্ত ইত্যাদি। এই নিত্যবস্তু প্রতিনিয়ত রূপ বদলায়। একই আকাশের দিকে তাকিয়ে যেমন ক্ষণিক পরপরই নতুন রূপ দেখা যায়, সাগরের পাড়ে দাঁড়িয়েও প্রতিটি ঢেউকে নতুন করে দেখা যায়, তেমনি প্রতিদিনের সূর্যাস্তকেও। প্রদর্শনীর ছবিগুলোর মধ্যে আকাশ, সূর্যাস্ত ও সাগর পাড়ের দৃশ্যই বেশি। এই ছবিগুলো আর সার্বজনীনও। পৃথিবীর যে কোনো দেশে যে কোনো সময়ে এই দৃশ্যগুলো উপভোগ করা যায়। এর মাঝেই খুঁজে পাওয়া যাবে মানুষের নিয়ত দুঃখ-কষ্ট, ভাবনা ও উদাসীনতা। (সম্পূর্ণ…)

হে অগ্নি, শ্মশান-চণ্ডাল

সুধীর দত্ত | ২২ december ২০১৫ ৮:২১ অপরাহ্ন

vumendra2.jpg২০ ডিসেম্বর ২০১৫, রবিবার ভোর রাতে বহুতর অভিমান নিয়ে চলে গেলেন কবি ভূমেন্দ্র গুহ, আমাদের ভূমেনদা, ক্রোধে ও করুণায় ভয়ঙ্কর জীবন্ত যে-মানুষটি ভরিয়ে রেখেছিলেন আমাকে গত দু’বছর। প্রায় দেড় দশকের দূরত্ব যা তাঁর আকস্মিক ক্রোধ রচনা করেছিল আমাদের মধ্যে, ‘কবি সম্মেলন’-এ ভূমেন্দ্র গুহ’র উপর শ্রী শঙ্খ ঘোষের লেখা যার ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছিল ডাক্তার ভূমেন্দ্রের মানবিক ঔদার্য্য ও উদাসীনতা, মুছে দিয়ে আমাকে প্রণত করেছিল তাঁর কাছে। আক্ষরিকভাবেই পা ছুঁয়ে তাঁকে প্রণাম করেছিলাম সে-দিন। মানুষটি ভালবাসায় আর্দ্র হয়ে গেছিলেন। তাঁর চোখে জল এসে গেছিল। আমার বাড়ি থেকে তাঁর বাড়ি মিনিট পাঁচেকের হাঁটা-পথ। সেই সুবাদে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাতাম তাঁর সঙ্গে। তাঁর জ্ঞানের বিস্তার ও গভীরতা আমাকে আবিষ্ট করত। ঋদ্ধ হতাম। কবিতার ভুবন ছাড়িয়ে আমরা চলে যেতাম বেদ-বেদান্তে, সাঙ্খ্যে ও পাতঞ্জল যোগে। কখনও-বা গীতা ও ভাগবতে। তাঁর মনে হয়েছিল জীবনানন্দকে বুঝতে চাই ভারতীয় ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার। আক্ষেপ করতেন — না চর্চা, না চর্যা আছে তাঁর। আমি বলতাম, যে মানুষকে এমন করে ভালোবাসতে পারে, বিনিময়ে প্রত্যাশা করে না কিছু, সে-ই তো আসল আধ্যাত্মিক মানুষ। এটাই তো চর্যা। যতটুকু জানতাম, বুঝতাম, বলতাম তাঁকে। মন দিয়ে শুনতেন সব কিছু। এখানেই ছিল আমাদের সখ্য ও আত্মীয়তা। ভারতীয় মনিষীদের সম্বন্ধে তাঁর ছিল প্রগাঢ় শ্রদ্ধা। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার বিরোধ হ’ত যখন তিনি প্রান্তিকতাকে ভাবতেন সবকিছুর গজকাঠি। রাম ঠাকুরের ওপর একটি জীবনী-গ্রন্থ দিয়েছিলাম তাঁকে। তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন ঠাকুরের প্রান্তিকতায়। একই কারণে তিনি মুগ্ধ ছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতিও। শ্রীঅরবিন্দকে পছন্দ করতেন না কারণ তাঁর মতে তিনি প্রান্তিক ছিলেন না। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর মত পরিবর্তন করেছিলেন এবং পড়তে শুরু করেছিলেন শ্রীঅরবিন্দকে। সামান্য হলেও এখানে আমার একটা ভূমিকা ছিল। তাঁর সঙ্গে বিরোধ বাধতো যখন জীবনানন্দকে বড় করতে গিয়ে তিনি রবীন্দ্রনাথকে ছোট করতেন। এখানে তিনি ছিলেন আপোষহীন। প্রসঙ্গক্রমে, টেনে আনতেন কাঙাল হরিচরণকে– ঠাকুর পরিবার যাকে হেনস্থার একশেষ করেছিল। (সম্পূর্ণ…)

ভূমেন্দ্র গুহর অপ্রকাশিত একগুচ্ছ কবিতা

ভূমেন্দ্র গুহ | ২১ december ২০১৫ ৮:৪৯ অপরাহ্ন

vumendra.jpgসদ্যপ্রয়াত ভূমেন্দ্র গুহ ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন জীবনানন্দ দাশের পাণ্ডুলিপির পাঠোদ্ধারকারী হিসেবে। সন্দেহ নেই যে এই পরিচিতি তার যোগ্যতার গুণেই অর্জন করেছিলেন। কিন্তু ভূমেন্দ্র গুহকে কেবল এই পরিচয়ে সীমিত করে দেখলে আমরা তার অন্য বহুবিধ যোগ্যতার প্রতি অবহেলার অভিযোগে অপরাধী হয়ে থাকবো। তিনি ছিলেন ‘ময়ুখ’ সাহিত্য পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক যেটি জীবনানন্দ বিষয়ে বিশেষ সংখ্যা বের করে এই কবির অলোকসামান্য প্রতিভা সম্পর্কে আমাদেরকে সচেতন করে তুলেছিলেন। কিন্তু এই দুই পরিচয় সহোদরের মতো যে-জরায়ু থেকে নির্গত হয়েছে তার জনপ্রিয় নাম কবিতা। তিনি ছিলেন মূলত কবি। কিন্তু অন্যসব পরিচয় তার কবি-পরিচয়টিকে আচ্ছাদিত করে রেখেছিল আমৃত্যু, মূলত প্রচারবিমুখতার কারণে, কবি-পরিচয়ের ইঁদুর-দৌড়ে কখনোই অংশগ্রহণ না করার কারণেও। ফলে জীবদ্দশায়ই তার বিপুল পরিমাণ কবিতা থেকে গেছে অপ্রকাশিত অবস্থায়। অতিসম্প্রতি, মাত্রই মৃত্যুর কয়েকদিন আগে বেরিয়েছিল তার কবিতা সমগ্র দুই খন্ডে কবি রাহুল পুরকায়স্থ’র সম্পাদনায়। রাহুলের সৌজন্যেই আমাদের হাতে এসেছে–এ পর্যন্ত পত্রিকায় অপ্রকাশিত–ভূমেন্দ্র গুহর এই কবিতাগুলো। বি.স. (সম্পূর্ণ…)

শেখ মুজিবকে নিয়ে একাত্তরে বার্তাসংস্থার তিনটি সংবাদ

আন্দালিব রাশদী | ২০ december ২০১৫ ৮:০২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অল্প কিছুদিন আগে আগে জার্মান পত্রিকা ডার স্পিগেল এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স পাকিস্তানে কারাবন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিচারকার্য বিষয়ক তিনটি সংবাদ প্রকাশিত করে। পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী, বিরোধীদল এবং বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ এই বিচারকার্য এবং রায়ে কিভাবে সাড়া দিয়েছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে এই প্রতিবেদনগুলোতে। কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক আন্দালিব রাশদীর অনুবাদে পাঠকদের জন্য তা এখানে উপস্থাপিত হলো। বি.স.

‘তাঁর অবশ্যই মৃত্যদন্ড হবে’ –ডার স্পিগেল

der-spigel.jpg

বন, ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি, ৩০ আগস্ট ১৯৭১। পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবর রহমানের নিয়তি পশ্চিম-পাকিস্তানি সামরিক ট্রাইবুনাল গোপনে নির্ধারণ করে দিচ্ছে। বিচারক শফি এরই মধ্যে তা জেনে গেছেন: ‘অবশ্যই তাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হবে।’

‘মহিষের যেমন সিং, বাঘের যেমন থাবা, মৌমাছির যেমন হুল, মিথ্যে তেমনি বাঙালির’ বাংলার ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস অষ্টাদশ শতকে এই রায় দিয়েছিলেন।

[ডার স্পিগেলের প্রতিবেদক এই উদ্ধৃতিটি সম্ভবত তার স্মৃতি থেকে নিয়েছেন, এটি অসম্পূর্ণ, কথাটি ওয়ারেন হেস্টিংস-এর নয়, থোমাস বেবিংটন ম্যাকলের; ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার গভর্নর ও পরে ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন। ম্যাকলে (১৮০০-১৮৫৯) ১৮৩৪ থেকে ১৮৩৮ পর্যন্ত ভারতে ছিলেন, বোর্ড অব কন্ট্রোলের সেক্রেটারি হিসেবে।]

বাংলার নতুন শাসক পশ্চিম পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মিলিটারিরা তাদের পূর্বসুরী ব্রিটিশদের বর্ণগত পূর্বধারণা নিয়ে শাসন করেছে। ওয়ারেন হেস্টিংস এর ২০০ বছর পর বাঙ্গালির ‘মিথ্যে’র বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালু করেছে। (সম্পূর্ণ…)

শওকত আলীর সাক্ষাৎকার: সাঁওতালরা আমাদের জাতির একটা অংশ

শ্যামল চন্দ্র নাথ | ১৮ december ২০১৫ ২:৪১ অপরাহ্ন

shawkat-ali.jpgআমাদের কথাসাহিত্যের অগ্রগণ্য লেখক শওকত আলী। তাঁর লেখায় বিচিত্র সৃষ্টি ও ভাবনার বিস্তার। পাঠক তার লেখায় মুগ্ধ হয়ে আছেন দীর্ঘকাল ধরে। সমালোচকদের দৃষ্টিতে প্রদোষে প্রাকৃতজন বাংলা সাহিত্যের এক অসামান্য সংযোজন। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি নিজের জন্য একটি স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। এই গুণী কথাসাহিত্যিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শ্যামল চন্দ্র নাথ।

শ্যামল চন্দ্র নাথ : আপনার জন্মের দু’বছর পর আপনার বোনের জন্ম হয়। এবং আপনার বাবা বাড়ির পাশে ইজারার কাছে কুচুবনে থাকতেন। আপনার দাদী আপনাকে বাঁচিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে যদি কিছু বলতেন।
শওকত আলী: না না, আমার না। তখন আমার বোনটা মারা গিয়েছিল। আমার বোনটা মারা গিয়েছিল ডায়রিয়ায়। আমার বোনকে খুব আদর করতো আমার বাবা। জন্মের এক বছর পরে মারা গেল। তো আম্মা কাউকে কিছু বলেন নাই, বাবার ধারণা ছিল, ছেলেটাই তার মেয়ের মৃত্যুর কারণ, ও জন্ম হওয়ার পরে ও মারা গেল। মা সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে এসেছিল। ব্যাপারটা আমাদের ফ্যামিলির মধ্যেও সবাই জানেন না আরকি। তো আমি তখন ছোট ছিলাম। মা’র কাছাকাছি আমি থাকতাম। আমার শৈশবের স্মৃতির মধ্যে সেসব আটকে আছে। এবং আমার সেই বোনের নাম ছিল রাবেয়া। (সম্পূর্ণ…)

বুলেট, তোমার নিজের কোনো ভিন্নমত নেই

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৭ december ২০১৫ ৫:৫০ অপরাহ্ন

বুলেট, তোমার নিজের কোনো ভিন্নমত নেই
হুকুমের হাতে তুমি নিরপেক্ষ নৃত্যপর
হুকুমের হাতে তুমি নিজে পর নিজেই অপর
হুকুমের হাতে তুমি প্রশ্নহীন ওজরবিহীন
হুকুমের হাতে তুমি বারংবার শুধু নাচবেই
বুলেট, তোমার নিজের কোনো ভিন্নমত নেই

ট্রিগারের আজ্ঞাবহ,
বশংবদ বারুদজীবীর –
হুকুমের খাস দাস,
নিত্য ভৃত্য বিভিন্ন বিধির –
বুলেট, তোমার নিজের কোনো ভিন্নমত নেই (সম্পূর্ণ…)

মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য নিয়ে নবীন প্রবীণ লেখকদের অভিমত

অলাত এহ্সান | ১৬ december ২০১৫ ১০:১৯ অপরাহ্ন

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এখনো কি উল্লেখ করার মতো শিল্পমানোত্তীর্ণ মহাকাব্যিক সাহিত্য রচিত হয়েছে? প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চ এলেই পত্রিকাগুলো মুক্তিযুদ্ধের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। সেখানে গল্প-প্রবন্ধ-কবিতা থাকলেও তার শিল্পমান নিয়ে নবীন প্রবীণ লেখকরা প্রকাশ করেছেন তাদের সংশয় ও আশাবাদ। অলাত এহ্সানের গ্রন্থনায় প্রকাশ করা হলো তাদের সেই অভিমতসমূহ। বি.স.

………………………………………………

আহমদ রফিক: মেধাবি ঔপন্যাসিক বোধহয় নাই

ahmad-rafiq.jpg

………………………………………………
আজকের দিনে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ এলেই ভাষা আন্দোলনকে সামনে আনা হয় তার প্রথম ধাপ হিসেবে। ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আহমদ রফিক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে ইতিহাসের সেই বিবেচনাকে পুষ্ট করেছেন। কবিতা, প্রবন্ধ ও গবেষণার মাধ্যমে ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক জাতির এসব দিক নিয়েই আলোচনা করেছেন। তার কাছে, ’৭১ সালের সশস্ত্র যুদ্ধকে মুক্তিযুদ্ধ না বলে, একে ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ বলাই ভাল।’
এই স্বাধীনতাযুদ্ধ নিয়ে অনেক উপন্যাস ছোটগল্প লেখা হয়েছে, তবে কবিতাই সবচেয়ে বেশি। ‘মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য’ বলতে বাংলাদেশের সাহিত্যের একটা ট্রেন্ড দাঁড়িয়েছে, আহমদ রফিকের কবিতায় এই প্রসঙ্গ প্রবলভাবে এসেছে। তবে লিও তলস্তয়ের বিখ্যাত ‘ওয়ার এন্ড পিস’ উপন্যাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এপিকধর্মী বা মহাকাব্যিক ভাব প্রকাশে, সেই রকম কোয়ালিটি আছে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সেই ধরনের কালজয়ি উপন্যাস এখনো রচিত হয়নি।’ মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতি ও বাস্তবতা ধরা কঠিন না হলেও, ‘মুক্তিযুদ্ধের নানামাত্রিক দিক নিয়ে বড় উপন্যাস লিখবেন, সেই ধরনের মেধাবি উপন্যাসিক বোধহয় নাই।’ একাডেমিক বা সাহিত্যিক–উভয় দিক দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের গবেষণার দিকটাও কম। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com