ধর্মাশ্রয়ী কোপ

রাজু আলাউদ্দিন | ২৯ নভেম্বর ২০১৫ ২:৫৮ অপরাহ্ন

রক্ত প্রবাহ আরও দূর কোনো রক্তকে ডেকে আনে;
চাপাতি, ছুরি ও আগ্নেয়াস্ত্র ঘাতকের অভিধানে
পাশাপাশি শুয়ে স্বপ্ন দেখছে তোমাকে এবং আমাকে।
কূট-রাজনীতি দুষবে এ ওকে; মামলা তদন্তও
বছরের পর বছর গড়াবে–এ কথা অন্তত
নিশ্চিত। তাই কিভাবে এড়াবে এ ধার্য্য বেদনাকে?

রাষ্ট্রনায়ক, নেতা আর যত বিদ্বান-ক্রীতদাস
ধর্মের আঁচে ছড়িয়ে দিচ্ছে রক্তিম উল্লাস।
আজ তুমি যাকে লাভ ভাবো, কাল সেটাই কি নয় বিষ?
মনে পড়ে কোন্ অজুহাতে গড়ে উঠেছিল আইসিস? (সম্পূর্ণ…)

আট তরুণের সময়-দর্শনের সংযোগ প্রদর্শনী

অলাত এহ্সান | ২৮ নভেম্বর ২০১৫ ১২:৫৮ অপরাহ্ন

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে সঙ্গে নিয়ে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ‘অনলি কানেক্ট’ শিরোনামে এক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী আটজনই স্বকীয়তার মধ্যদিয়ে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরেছেন তাদের ভাবনাকে। তারা যেমন ভেবেছেন, তেমনি দর্শকদেরও ভাবাচ্ছেন। চিত্রকলার বিভিন্ন মাধ্যমেই তারা এই কাজ করেছেন। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে আলোকচিত্র, পেইন্টিং, ভিডিওগ্রাফি, ইন্সটলেশন, পার্ফমেন্স আর্ট, টেক্সটাইল ইন্সটলেশন।
শিল্প এগিয়ে যাওয়ার প্রধান যে উপায়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রত্যেকে তাদের কর্মে দুর্বীনিতভাবেই তা করছেন। শিল্প যাচ্ছে মানুষের কাছে আর মানুষের জীবন উঠে আসছে শিল্পকর্মে। এখানেই এই প্রদর্শনীর গুরুত্ব। প্রতিটি শিল্পকর্মে বর্তমান সময়ের যে প্রধান প্রবণতা—বৈচিত্র্য, বিক্ষোভ, অসহনীয় লঘুতা—তুলে ধরেছে। বোঝা যায়, প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া প্রত্যেক শিল্পী কেবল শিল্পের সাধনায়ই নয়, ভাবনায়ও ঋদ্ধ। প্রদর্শনীতে একটু খেয়াল করলে যেকারোরই চোখে পড়ে উপস্থাপিত বিষয় ও মাধ্যমের বৈচিত্র্য।

আবির সোম নিয়ে এসেছেন ডিজিটাল কোলাজ, ড্রয়িং ও ছাপচিত্র; আলি আসগার’র মাধ্যম ছাপচিত্র ও পার্ফর্মেন্স; দেবাশিস চক্রবর্তী’র আলোকচিত্র; মো. আতা ইসলাম খান’র কোলাজ, মেহেরুন আখতার’র টেক্সাইল ইন্সটলেশন, পলাশ ভট্টাচার্য’র ভিডিও ডকুমেন্ট, রফিকুল শুভ’র ভিডিও ও ফটোগ্রাফি এবং রাজীব দত্ত’র ডিজিটাল কোলাজ।
ইতোমধ্যে প্রত্যেক শিল্পীরই যৌথ প্রদর্শনীর সংখ্যা দুইয়ের ঘর ছাড়িয়েছে। অর্ধশত, শতও পূরণ করেছে কেউ কেউ। গত ২২ নভেম্বর গ্যালারির দোতলার বারান্দায় বসেছিল শিল্পীদের সঙ্গে দর্শনার্থী, সংবাদকর্মী, লেখক, শিল্প সমালোকদের উন্মুক্ত আড্ডা। সেখানে তারা শিল্পকর্ম নিয়ে তাদের ভাবনা প্রকাশের পাশাপাশি উপস্থিতদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেন। (সম্পূর্ণ…)

দুই চোর কিংবা দুই প্রেমিক

দিলওয়ার হাসান | ২৬ নভেম্বর ২০১৫ ৯:১৩ পূর্বাহ্ন

ছিঁচকে চোরদের নিয়ে লিখতে আমার ভাল লাগে, কারণ ওদেরকে আমার খুব খারাপ মনে হয় না। ওরা বড়জোর দু চার হাজার টাকার জিনিস চুরি করে আর তা দিয়ে খিদের অন্ন কিংবা জীবনের জন্যে নেহায়েত প্রয়োজনীয় জিনিস কেনে। ধরা যাক একজন ছিচকে চোর আপনার বাড়ি থেকে হাজার খানেক টাকার জিনিস চুরি করে বাজারে বিক্রি করে দিল। ওই টাকায় সে নিজে দু চারদিন খেল অথবা খাওয়াল পরিবারের লোকজনদের, কিংবা ওই টাকায় নিজের জন্যে কিনল একটা জামা বা লুঙ্গি, বউয়ের জন্যে একটা শাড়ি বা মেয়ের জন্য একটা ফ্রক। এর বেশি কিছু তো আর নয়।
আমি এক ছিচকে চোরকে চিনতাম, যে চুরি করে প্রথমে সিনেমা হলে ঢুকে একটা ছবি দেখত তারপর রেস্তোরাঁয় বসে ভরপেট খেত নিজের পছন্দ মতো, টাকা বাচলে অন্য কিছু করত। এ রকম একজন মানুষকে মহান বলতেও বাধে না আমার, যদি সমাজের বড়-বড় চোরদের সাথে এদের তুলনা করি। অথচ দেখুন এরকম একজন চোর ধরা পড়লে প্রথমে আমরা তাকে আচ্ছা করে পিটুনি লাগাই, নাক-মুখ ফাটিয়ে দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করি। কখনো-কখনো পেটাতে-পেটাতে মেরেও ফেলি। এইসব মৃত্যুর কোনো বিচার আচার হয় না। কিন্তু যারা বিরাট চোর– শেয়ারবাজারের মতো জায়গা থেকে কোটি-কোটি টাকা সরিয়ে ফেলে, ব্যাংক থেকে গায়েব করে মিলিয়ন-মিলিয়ন টাকা, তাদের ব্যাপারে আমাদের কোনো বিধান থাকে না। আমরা কেউ তাদের কেশের অগ্রভাগও স্পর্শ করতে পারি না। (সম্পূর্ণ…)

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি

বিপাশা চক্রবর্তী | ২৪ নভেম্বর ২০১৫ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন


স্বাধীনতা পেল শেলীর যে কবিতাটি

shelley-009.jpgশেলী-ভক্ত পাঠক, সমালোচক ও বিশ্লেষকদের জন্য চমকপ্রদ খবর রয়েছে। অবশেষে অনেকদিন পর শেলীর একটি কবিতা প্রকাশিত হবার স্বাধীনতা পেল। গত নয় বছর ধরে তাঁর ‘স্টেট অব থিংস’-এর উপর ছন্দোবদ্ধ রচনাটি ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল। এটি আদৌ সহজলভ্য ছিল না। এই কবিতার প্রেক্ষাপট হল ১৮১১ সাল। শেলীর তখন মাত্র ১৮ বছর বয়স। অক্সফোর্ডে পড়াশুনা করতেন। ঐসময় নেদারল্যান্ডে ফরাসীদের বিপক্ষে বৃটেনের যুদ্ধের বিভীষীকার উপর একজন আইরিশ সাংবাদিক পিটার ফিনার্টি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন। এর ফলে সরকার ঐ সাংবাদিককে ১৮ মাসের কারাদন্ড দেয়। তখন তার মুক্তির জন্য চলে আন্দোলন। ঠিক ঐ সময়ের ঘটনাবলী নিয়ে শেলী ১৭২ লাইনের ‘ছন্দোবদ্ধ রচনা- ‘স্টেট অব থিংস’ লেখেন। রচনাতে তিনি ফিনার্টির জন্য তহবিল সংগ্রহকারী বারডের জন্য প্রশংসা বর্ণনা করেছেন। রচনাটি ১৮১১ সালের ২ মার্চ থেকে ২০০৬-এর জুলাই পর্যন্ত লাপাত্তা ছিল। কবিতাটি যিনি এতদিন সংরক্ষণ করেছেন পেশায় তিনি একজন অধ্যাপক। ২০০৬ সালে তিনি এটি জনসম্মুখে প্রকাশের অনুমতি দেন। (সম্পূর্ণ…)

ঢাকা লিট ফেস্ট ’১৫: দেশ বিদেশের মিলন

অলাত এহ্সান | ২২ নভেম্বর ২০১৫ ৬:০৫ অপরাহ্ন

harold-varmas-0.JPG
মঞ্চে নোবেলজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী হ্যারল্ড ভার্মাস
যুক্তরাজ্যের অঙ্গরাজ্য ওয়েলস-এর রাজধানী ব্রেকনকসায়ার, সংক্ষেপে ব্রকেনসায়ারের বিপনী শহর হে-অন-ওয়ে। সংক্ষেপে হে নামে পরিচিত এই শহরকে অনেকে বইয়ের শহর বলেও চেনেন। তাই বইয়ের প্রাচুর্যে লেখকের সমাবেশ ঘটে অহরহন। ১৯৮৮ সালের মে-জুন মাসে এই হে-অন-ওয়ে শহরেই শুরু হয় ‘হে ফ্যাস্টিভ্যাল’। উদ্দেশ্য, দেশের তরুণ লেখক ও প্রকাশককে উৎসাহ দেয়া। কিন্তু এই ২৮ বছরের দীর্ঘ পরিক্রমায় ‘হে ফ্যাস্টিভ্যাল’ এখন আর হে-অন-ওয়ে শহরের ছোট্ট পরিসরে আবদ্ধ নেই। তাদের উৎসবে যেমন যুক্ত হয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ-এর মতো আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম, তেমনি বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশেই তরুণ সাহিত্যিক ও প্রকাশকরা এই উৎসবের সামিয়ানা টাঙ্গিয়েছেন। যে কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহর, যেমন–কেনিয়ার নাইরোবি, মালদ্বীপ, লেবালনের বৈরুত, উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট, কলম্বিয়ার কার্তাহেনা, ভারতের ক্যারালা ও কলকাতা, গ্রানাডা-আন্দালুসিয়া, আলহামরা, সেগোভিআ, ওয়েলসের ব্রিজেন-এ এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সুতরাং হে ফ্যাস্টিভ্যাল এখন আর কোনো নির্দিষ্ট দেশ-শহরে সীমাবদ্ধ নেই। তবে যেকোনো শহরেই হোক, এটা ওই দেশের ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচয়িতাদেরই উৎসাহ বেশি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এটা শুধু মাত্র দেশ-বিদেশের লেখক-পাঠক সম্মিলন নয়। এর সঙ্গে আয়োজক দেশ ও শহরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশি লেখকদের নিকট নিজেদের সংস্কৃতিও তুলে ধরার সুযোগ থাকে। আবার ওই দেশের সাহিত্যও ইংরেজি অনুবাদ হয়ে পাঠকের বিশ্ব দরবারেও উপস্থিত হওয়ার প্রক্রিয়া তরান্বিত হয়। ঢাকায় পঞ্চমবারের মতো এই উৎসব অনুষ্ঠিত হল গত ১৯-২১ নভেম্বর। ৩ দিনব্যাপী এই উৎসবে বিদেশি লেখক-সাহিত্যিকদের সঙ্গে প্রবীন তরুণ লেখক-পাঠকদেরও মিলন ঘটে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। (সম্পূর্ণ…)

স্মরণে উৎপলকুমার বসু

রাহুল পুরকায়স্থ | ২১ নভেম্বর ২০১৫ ৫:২৫ অপরাহ্ন

utpal_.jpeg
হাঁসগতি,ক্ষিপ্রতেজ,ক্ষণভঙ্গি,সমুদ্রমনীষা
শরীরে নতুন ছন্দ, ওই ওই ছো-নৃত্যের মুখ
পূবে ও উত্তরে দ্বার,পশ্চিম দক্ষিণও খোলা
যে গৃহে আহ্বান আসে সেই গৃহে জাত কবিয়াল
কী নিপুণ ব্যক্তিগত ভেঙেছ দেয়াল! (সম্পূর্ণ…)

‘উত্তরঙ’-এর উচ্চারণ: দেশপ্রেমের কবিতা ও গান

লুৎফুল হোসেন | ২০ নভেম্বর ২০১৫ ৭:১১ অপরাহ্ন

dsc_3580.JPGনিত্য ঘটমান উৎসবময় ঢাকার মঞ্চ চাঞ্চল্যের বিপরীতে মৌন মেরু উত্তরে মননশীলতার আলো ছড়াবার প্রত্যয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ নবগঠিত শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি সংগঠন ‘উত্তরঙ’। ১৩ নভেম্বর শুক্রবার আয়োজন করে এক কবিতা সন্ধ্যার। “দেশপ্রেম ও দ্রোহের উচ্চারণ” অনুষ্ঠানটি শুরু হয় মাহবুবা কামাল বিনুর কন্ঠে মঙ্গলবারতা ও দেশপ্রেমের রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে। দর্শক মাতিয়ে আরো গেয়েছেন সালাউদ্দীন ববি। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ আবৃত্তি করেন শামস আলদীন । শামসুর রাহমানের ‘আসাদের শার্ট’-এর উচ্চকিত আবৃত্তি শোনান কাকলী আহমেদ ।

সন্ধ্যা মাতিয়ে নিজ কবিতা পাঠ করেন উপস্থিত কবিরা। কবি আবিদ আনোয়ার, রাজু আলাউদ্দিন, ইরাজ আহমেদ, শোয়াইব জিবরান, পিয়াস মজিদ, অনন্ত সূজন। দর্শক শ্রোতাকে কথার নদী আর আবেগ সমুদ্রে ভাসিয়ে আরো পাঠ করেন মঈন চৌধুরী, ফরিদ কবির, লুৎফুল হোসেন, কামরুল হাসান, রহিমা আফরোজ মুন্নী, লীনা ফেরদৌস।

অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থানে সংহতি জানানো হয় নিহত প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত ও চিকিৎসাধীন কবি ও প্রকাশক তারেক রহিম এবং আহমেদুর রশীদ টুটুলের কবিতা পাঠ করে। (সম্পূর্ণ…)

ফরাসি সন্ধ্যে, কাল্পনিক ওয়াইন আর আলিঙ্গন

আইরিন সুলতানা | ১৯ নভেম্বর ২০১৫ ৫:৫৮ অপরাহ্ন

হয়তো ছেলেটির নাম জিম ছিল;
মেয়েটির নাম ডেলা।
কী করে এমন কাকতাল হলো কে জানে!
আলোকচিত্রী যেন আঁটঘাট বেঁধে ফ্রেমে এঁটেছেন দু’জনকে,
যেন ’গিফট অব দ্য মেজাই’ পুনঃমুদ্রিত হবে আসছে ক্রিসমাস ইভে।
নতুন প্রচ্ছদে ছেলেটি-মেয়েটি
হুবহু পুরনো আলিঙ্গনে।
অবশ্য… অন্য কোন নামও হতে পারে।
ছেলেটিকে বলি মঁশিয়ে,
মেয়েটিকে মাদাম।
গল্পটা ওদেরই ছিল নিশ্চিত।
নাটুকে শোনাবে..
তাতেই বা কী এমন? (সম্পূর্ণ…)

মারুফ কবিরের একগুচ্ছ কবিতা

মারুফ কবির | ১৮ নভেম্বর ২০১৫ ৯:৩৮ পূর্বাহ্ন


কয়েকটা দিন আগে

আমি কয়েকটা দিন আগে মারা যেতে চাই,
সবাই আরও কিছু দিন বাঁচতে চায় তাঁর আয়ুর চাইতে;
আমি কিছুটা আগেই চলে যেতে চাই।
আর সবার মতো আমি স্বপ্ন দেখতে চাই না সমৃদ্ধির আর সুখের বিকট,
নির্জন দুপুরে আমার সময় কাটে দ্রুততায় প্রস্থানের এ অপূর্ব পৃথিবী থেকে;
কারো মৃত্যু কামনায় নয়, আমার নিজের এক অপরূপ মৃত্যুর প্রত্যাশায়।
ইমন কল্যাণে আমার মৃত্যুর সুর বাজে-
ভৈরবী, মালকোষে কিংবা মধুবন্তি রাগে আমার উষ্ণ মৃত্যুর প্রত্যাশা জাগে;
দুঃখ নিয়ে নয়, অপার সুখে আমি প্রত্যাশা করি অস্তমান সূর্যের রঙে আমার তিরোধানের,
জ্যোৎস্নার আলোয় আমায় ঝরা পাতা আবিষ্কার করবে বিবাগী বাতাসে;
পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের পারে বালুর ঝিকিমিকিতে, কালিগঙ্গায় শীতার্ত কুয়াশা ঘেরা চরে।
বেউথা ঘাটে সন্ধ্যায় মাঝির হারিকেন জ্বালানো আলোতে-
হিমালয়ের পর্বতমালার ভাজে ভাজে আমার নিঃশ্বাস রয়ে যাবে।
হেমন্তের আগমনে আমি সঙ্গোপনে ফিরে আসবো ধান কাটা মাঠে কুয়াশার রতিতে;
পলাশের ডালে, অদ্ভুত সবুজ পাতায় কিংবা কৃষ্ণচূড়ায় আমায় খুঁজে পাবে।
যদিও থাকবো না আমি এ ধরণীতে-
কয়েকটা দিন আগে আমার মারা যাবার ইচ্ছের অবসান চাই।
আমি কিছুটা আগে চলে যেতে চাই;
অপার উষ্ণতায়, বড় দীর্ঘ প্রতিক্ষায়, বারে বারে মৃত্যু দূরে সরে যায়। (সম্পূর্ণ…)

দুর্ঘটনার পর

একরাম আলি | ১৬ নভেম্বর ২০১৫ ৯:৫৬ অপরাহ্ন

সারা রাত যদি ঘুম না আসে, চোখ জ্বালা–জ্বালা করে৷ তখন বিষাদ–কালো চোখদুটো জুড়িয়ে নেওয়ার জন্যে রাত নিজে–নিজেই অনেক ভেতরের দিকে চলে যায় আর আকাশে–বাতাসে ছড়িয়ে এলিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে৷
একটু পরেই কচি সোনারঙা সূর্য পুব আকাশে ছটফট করে উঠবে৷ আকাশের কোন নরম জায়গাটা যে আজ পছন্দ, কোথা থেকে শুরু করবে, বুঝতে একটু সময় নেবে৷ তারপর স্থির হয়ে বসবে৷
বসবার কি ফুরসত আছে? ওদিকে, ওই জলট্যাঙ্কের ওপাশে একতলার সবাই ঘুমে কাদা৷ ওদের পুঁচকে বাচ্চাটা ততক্ষণে উঠে গড়িয়ে খাট থেকে নামে আর ভোরে খুলে–রাখা দরজা পেরিয়ে বারান্দায় চলে আসে৷ বাইরে রাস্তা৷ ফুটপাথে তেঁতুলগাছে শালিকের দল৷ ছোট্ট চড়ুইয়ের ফুড়ুৎ৷ সে ঘোরে৷ রেলিঙে মুখ ঠেকায়৷ তুলতুলে হাত বের করে কচি গলায় ডাকে— আকুম! আকুম! খা, খা৷
পাখি, কুকুর, কাঠবেড়ালি— সবাই আকুম৷
তাকে চোখে–চোখে রাখতে হয়৷ এই রেলিং বেয়ে উঠছে, এই রেলিঙের বাইরে পা গলিয়ে শরীর এগিয়ে দিচ্ছে, এই মাথা বের করার চেষ্টা করছে৷
প্রতিটি বিপজ্জনক মুহূর্তে ছটফটে রোদ এসে বাচ্চাটিকে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়৷ আর প্রতিবারই আকাশ হেসে ওঠে৷ যেন সে দর্শক৷ সমর্থকও৷ তার রক্ষণভাগ নিখুঁত খেলছে৷ (সম্পূর্ণ…)

মোহাম্মদ রফিকের তিনটি কবিতা

মোহাম্মদ রফিক | ১৫ নভেম্বর ২০১৫ ৭:৩০ অপরাহ্ন


ইতিহাস

ইতিহাস নিরেট দুঃস্বপ্ন। এক-একটি মৃত্যুর সমান। আমি জেগে উঠি, ক্ষণে ক্ষণে ক্ষণান্তরে;

জানি, মৃত্যু নয় জীবনের মান,
দেখি, ঝুরঝুর ঝরে পড়ে কবরের ইটসুরকি;

অনন্ত মৃত্যুর অন্তরাল ভেঙে
আমি পাখা মেলি। সাক্ষী ইতিহাস।
কবে উবে গেছে ডাইনির পাহাড়,
সূর্যরশ্মি ছড়িয়ে পড়েছে গোরস্তানে।

দূই ভাই ঢুকল এসে প্রস্তর মারিয়ে
হাবিল, কাবিল। এরপর..

ভাইয়ের দুহাত উপচে ভাইয়ের উতল রক্তস্রোত;
ভোর হলো। মানুষের কন্ঠস্বরে জেগে উঠি। (সম্পূর্ণ…)

সত্তুরে কবি মতিন বৈরাগী

গোলাম কিবরিয়া পিনু | ১৫ নভেম্বর ২০১৫ ৭:২১ অপরাহ্ন

matin.jpgকবি মতিন বৈরাগীর জন্ম ১৬ নভেম্বর ১৯৪৬। এবছরের ১৬ নভেম্বর তাঁর ৭০তম জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনের সময় পড়ছিলাম তাঁরই কবিতা সমগ্র গ্রন্থটি। এই গ্রন্থে ১০টি কাব্যগ্রন্থের কবিতা আছে, অনেক কবিতা একসঙ্গে পড়ে একজন কবির পরিচয় ভালোভাবে পাওয়া যায় একজন পাঠক হিসেবে। এই গ্রন্থটি বের হয় ২০০৮ সালে, তারপর আরও দু’টি কাব্যগ্রন্থ বের হয়েছে তাঁর। কবিতাগ্রন্থগুলো হলো: বিষণ্ন প্রহরে দ্বিধাহীন (১৯৭৭), কাছের মানুষ পাশের বাড়ি (১৯৮০), খরায় পীড়িত স্বদেশ (১৯৮৬), আশা অনন্ত হে (১৯৯২), বেদনার বনভূমি (১৯৯৪), অন্তিমের আনন্দ ধ্বনি (১৯৯৮), অন্ধকারে চন্দ্রালোকে (২০০০), দূর অরণ্যের ডাক শুনেছি (২০০৫), স্বপ্ন এবং স্বাধীনতার গল্প (২০০৭) এবং অন্য রকম অনেক কিছু (২০০৮)। এই ৮টি কাব্যগ্রন্থ নিয়ে তাঁর ‘কবিতা সমগ্র’ গ্রন্থটি । এর পরবর্তী সময়ে আরও দু’টি কাব্যগ্রন্থ বের হয়েছে, খণ্ডে খণ্ডে ভেঙে গেছি (২০১২) এবং দুঃখ জোয়ারের স্রোতে (২০১৪)। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com