শারদুল সজলের চারটি কবিতা

শারদুল সজল | ৩১ অক্টোবর ২০১৫ ৬:১২ অপরাহ্ন

আসছে শীতে

কপালের ভূমি ভেঙে, সেঁচ দিয়ে
যতই চারাধান বুনি
জন্মে না
খরা তাপ ঝড়ে সারা বছরই
গ্রীষ্মমাস

আমার কপাল নাকি একটুকরো কালো পর্বত!
মাটি জলে অনুর্বর–ঈশ্বর গড়েছে–
সুদানের মরুমাটিতেও আতাফল ফলেছে

তাই–আসছে শীতে, খরা তাপ ঝড় উড়িয়ে
কপাল নিঙড়ে,সেঁচ দিয়ে–
নতুন চারাধান বুনবো

প্রস্তুুত থেকো –ডাকবো
sardulsajal.jpg (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২৮ অক্টোবর ২০১৫ ৮:৫৩ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

সার্ক সুফি ফেস্টিভাল: প্রাচীন প্রাসাদে কুহকী কাব্য

ঝর্না রহমান | ২৭ অক্টোবর ২০১৫ ৭:৫৫ অপরাহ্ন

15-the-bangladesh-team-with-thakurani-jyotika-sing.JPG২০১৫ সনের ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর তারিখে ভারতের জয়পুরের অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ‘সার্ক সুফি ফেস্টিভাল’। এটি মূলত ৫০তম সার্ক সাহিত্য উৎসব। এ উৎসবে যোগ দিতে ‘পিংক সিটি’সহ অজস্র ঐতিহাসিক কীর্তিশোভিত শহর জয়পুরের প্রাচীন রাজপুত প্রাসাদ ‘ডিগ্গি প্যালেস’-এ সমবেত হয়েছিলেন সার্কভুক্ত আটটি দেশের জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিবর্গ। এঁরা প্রায় সবাই-ই ছিলেন নিজ নিজ দেশের স্বনামধন্য কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, বিদগ্ধ পণ্ডিত ও ধীমান ব্যক্তিত্ব। এঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সুফিবাদ, সুফিসাহিত্য, মরমী সাহিত্য ও ভক্তিরসাশ্রিত লোকসাহিত্যে বিশিষ্ট প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব। অক্টোবরের এই তিনটি দিন এ সমস্ত আলোকিত ব্যক্তিত্বের সুফিবাদকেন্দ্রিক সৃজনশীল ও মননশীল উপস্থাপনা, আলাপ-আলোচনা, পারস্পরিক চিন্তাচেতনা ও ভাববিনিময় এবং অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখরিত ছিলো।

‘সার্ক সাহিত্য উৎসব’ সার্ক-এর এপেক্স বডি ‘ফাউন্ডেশন অব সার্ক রাইটার্স অ্যান্ড লিটারেচার’ ( FOSWAL ) আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। ১৯৮৬ সনে এ ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু আর প্রথম সার্ক সাহিত্য সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় ২০০০ সনের এপ্রিল মাসে।
সার্কভুক্ত দেশসমূহ– বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান-এর লেখক-কবি-সাহিত্যিকদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম এই উৎসব। (সম্পূর্ণ…)

ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের প্রকাশনা শিল্পের মর্যাদা অর্জন

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ২৫ অক্টোবর ২০১৫ ৬:২৬ অপরাহ্ন

ass.jpgইউরোপে হেমন্তে গাছের পাতায় যখন তামা রং ধরে, প্রকৃতি জানান দেয় পাতাঝরা আর আসন্ন বিষণ্ন শীতের কথা; ঠিক তখনই আয়োজন হয় ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা। যে দেশে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনী বই পুড়িয়ে দিয়েছিলো, সেখানেই এখন বিশ্বের বৃহত্তম বইমেলা! সেই মেলায় যাবার জন্য সেবাস্তিয়ান উইলহেম আমাকে ৬৫তম আন্তর্জাতিক ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ২০০৪ সালের মেলায় অংশ নিয়ে এক বিশাল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ইতোপূর্বে টোকিও আন্তর্জাতিক বইমেলা, হংকং আন্তর্জাতিক বইমেলা, কলকাতার বইমেলা দেখেছি। তবে এ কথা না বল্লেই নয়, আমাদের একুশের বইমেলাও গর্ব করার মতো বিষয়! প্রথমতঃ এই মেলার সাথে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য মেশানো, দ্বিতীয়তঃ মাসব্যাপী দীর্ঘ বইমেলা বিশ্বে আরো কোথাও নেই!

আমি মেলার দু’দিন আগে চলে যাই দুবাই। তারপর দুবাই থেকে আমার সাথে সঙ্গী হলেন অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলাম। আর মেলায় গিয়ে পেলাম অঙ্কুর প্রকাশনীর মেজবাহকে। আগে এভাবে আমাদের প্রকাশকেরা ব্যাক্তিগত উদ্যোগে বা মেলার আমন্ত্রণে অংশ নিতেন। এবার ব্যতিক্রম ঘটলো, আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলেন- সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও কবি কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী কবি মাহবুবুল হক শাকিল। সেই সাথে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক। সমিতির সভাপতি ওসমান গনি যাবার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি যেতে পারেননি অসুস্থতার জন্য। অথচ গনি ভাই এবং প্রিয়ভাজন মাজহার বারবার মেলায় যাবার জন্য বলেছেন। অফিসের ছুটি সংক্রান্ত জটিলতার জন্য তা আর হলো না। (সম্পূর্ণ…)

শামসুর রাহমান: সমুদয় সম্পদের সম্রাট

কামরুল হাসান | ২৪ অক্টোবর ২০১৫ ১১:৪৮ অপরাহ্ন

samsur.jpgছবি: নাসির আলী মামুন
২৩শে অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন। ১৯২৯ সালে তিনি পুরোনো ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট তিনি আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। যে মৃত্যুকে তিনি ভয় পেতেন সেই মৃত্যু তাকে কালো ডানায় মুড়ে এই রৌদ্রকরোজ্জ্বল পৃথিবী থেকে নিয়ে গেছে অনন্তদূরে– তাঁর প্রিয় লেখার টেবিল থেকে সহস্র আলোকবর্ষ দূরে– যে লেখার টেবিলে বসে তিনি তাঁর জাতির হৃদস্পন্দনকে ধরে রেখেছিলেন বহুকাল। একজন সৌন্দর্যপিপাসু, শুদ্ধবাদী হয়েও তিনি তাঁর জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্তপ্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর একেকটি কবিতা আমাদের মুক্তিসংগ্রামের মহান দলিল। নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের গানের পরে যে সকল কবিতা মুক্তিসংগ্রামে আমাদের সবচেয়ে বেশি উদ্দীপ্ত করেছে সে সকল কবিতার ভেতর শামসুর রাহমানের কবিতাই সবচেয়ে শাণিত, সবচেয়ে প্রখর, সবচেয়ে জ্বলজ্বলে।

স্কুল মাধ্যমিক পরীক্ষার পর তিনি কবিতা রচনায় হাত দিয়েছিলেন, কিন্তু এরপর আর ফিরে তাকাননি, নিরন্তর লিখে গেছেন এবং কবিতাই লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা ভাষায় এত কবিতা আর কেউ লেখেননি। কবিতার এক শক্তিশালী ফল্গুধারা তাঁর ভেতর সততই প্রবহমান ছিল। ‘ইচ্ছে’ কবিতায় তিনি ইচ্ছে িপ্রকাশ করেছিলেন জীবনের শেষ মুহূর্তটি পর্যন্ত লিখতে ‘যদি বেঁচে যাই একমাস কাল/ লিখবো।/ যদি বেঁচে যাই একদিন আরো/ লিখবো।’ এবং আক্ষরিক অর্থেই জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি লিখে গেছেন। প্রথমদিকে যা ছিল ঘনিষ্ঠ কবি বন্ধুদের সাথে একধরণের প্রতিযোগিতা, পরে তা-ই হয়ে ওঠে তাঁর ধ্যান-জ্ঞান, জীবনরীতি; তিনি ছাড়িয়ে যান তাঁর সমস্ত বিখ্যাত বন্ধুদের। জীবদ্দশাতেই এত বা এর চেয়ে বেশি বিখ্যাত হয়েছিলেন কেবল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নজরুল ইসলাম। বিখ্যাত হতে গেলে প্রতিভার সাথে সৌভাগ্যের যে হিরন্ময় হাওয়া জুড়ন লাগে, তা এই কবির চেয়ে বেশি আর কারও ভাগ্যপালে লাগেনি। তিনি ছিলেন পরিশীলিত প্রতিভা ও যুগসন্ধিক্ষণের অপরিমেয় সৌভাগ্যের এক আশ্চর্য যুগলবন্দি। যুগের হৃৎস্পন্দনকে তিনি শিল্পের অনন্য সুষমায় ধরে রেখেছেন। (সম্পূর্ণ…)

কবিতার দেশ, প্রেম আর মোহাম্মদ রফিক

শুভাশিস সিনহা | ২৩ অক্টোবর ২০১৫ ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

mohammad-rofiq.jpg
ছবি: নাসির আলী মামুন
Painting is poetry that is seen rather than felt, and poetry is painting that is felt rather than seen.
–Leonardo da Vinci

অর্থাৎ কবিতা আর চিত্রকলার সম্পর্ক অনেকটা বরের ঘরের মাসী আর কনের ঘরের পিসী–এরকম।

চিত্রকলা বা সোজা কথায় আঁকা ছবির মধ্যেও কবিতা থাকে, কিন্তু সেটা অনুভবের চাইতে বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে কবিতার ভেতর থাকে সেই ছবি, যা দেখার চাইতে বেশি অনুভব করা যায়।

কথা এল অনুভবের। ওয়ার্ডওয়ার্থ বলেছিলেন, কবিতা শক্তিশালী অনুভূতির স্বতঃস্ফুর্ত বহিঃপ্রকাশ। এই অনুভরের কথাই ঘুরে ফিরে কবিতায় চলে আসে। এই অনুভূতিকে কেন্দ্রে রেখেই কবিতাকে আমরা বিচার বিবেচনা করি।
আজ গোটা দুনিয়ার নানান আর্থরাজনৈতিক সংঘাতের চাপে শিল্পের নানান আঙ্গিক যখন নিজেকে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে একটা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে নিজের রূপ বা চেহারাকে দেখার জন্য নানান তৎপরতায় লিপ্ত, তখন কবিতাও সেই পরিবর্তিত সৃজনপরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে নানান যাদু বা ম্যাজিক, ডিকশনাল চেঞ্জেস বা বয়ানগত রূপবদলের মধ্য দিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই অবস্থায় কবির জন্য একটা মহা মোকাবেলার ব্যাপারই, সে কবিতার অন্তরের স্পন্দনকে একটা মিথিক্যাল সত্যতার জায়গা থেকে এখনো উপলব্ধি করা, যেখানে কবিতা এতসবকে ছাপিয়ে মানুষের অব্যক্ত হৃৎকথামালার গুঞ্জরণ বলে প্রতিভাত হয়।

কবিতার সেই অনুভবের গভীর বিশুদ্ধতার স্পর্শ মনে পড়ছে কবি মোহাম্মদ রফিকের কথা যিনি আজ পদার্পণ করলেন তিয়াত্তর বছর বয়সে। (সম্পূর্ণ…)

কেন শুদ্ধতম ?

ওমর শামস | ২২ অক্টোবর ২০১৫ ১:১১ অপরাহ্ন

jibon.jpg

১. ‘শুদ্ধতম’ কাকে বলে?

আমরা কি বুঝি? ‘শুদ্ধতম’ কবি, চিত্রী, সঙ্গীতশিল্পী – খুব মুশকিল তাকে সংজ্ঞায় চিহ্নিত করা। অন্নদাশঙ্কর জীবনানন্দকে কেন ‘শুদ্ধতম’ আখ্যা দিয়েছিলেন, আমার জানা নেই। একটা আন্দাজ করা যেতে পারে – যে শিল্পী আদ্যোপান্ত, সর্বক্ষণ, নিদ্রায়-জাগরণে শিল্পের আরাধনাতেই নিমগ্ন থাকেন তাঁকে অথবা যিনি জাগ্রত সত্তার থেকে নয়, অবচেতন থেকেই শিল্পকে গ্রহণ এবং নির্মাণ করেন -তিনিই শুদ্ধ এবং এক স্তরে গিয়ে কেউ শুদ্ধতম। এইরকম ঘোরে যাঁরা থাকেন তাঁরা শুদ্ধতার কাছে যেতে চাইছেন অথবা শুদ্ধতায় ডুবে আছেন। এই অর্থে ইউরিপিদিস, রুমী, দান্তে, লিওনার্দো, সেক্সপীয়র, নিউটন, গাউস, রীমান, রেমব্রাঁ, রামানুজন – এঁরা সবাই শুদ্ধতম। তবে, ‘শুদ্ধতা’-র বদলে যদি আরেকটু পার্থিব শব্দ, ‘মৌলিকতা’, বসাই, তবে প্রশ্নটি রূপান্তরিত হয়ে দাঁড়ায় – কেন মৌলিক ? এই প্রশ্নের যৌক্তিক ও সংগতিপূর্ণ উত্তর দেয়া সম্ভব। শিরোনাম যাই থাকুক, আমি এই প্রশ্নের – জীবনানন্দ কেন মৌলিক, না, ‘জীবনানন্দ কেন বাংলা কবিতায় মৌলিক’ – উত্তর দেবার চেষ্টা করবো। (সম্পূর্ণ…)

জীবন ও মৃত্যুর সঙ্গম: অর্ধনারীশ্বর অথবা তৃতীয় প্রকৃতি

বিপাশা চক্রবর্তী | ২১ অক্টোবর ২০১৫ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

border=0গ্রীক পুরাণে কথিত আছে, কেরিয়াতে কোনো এক ছোট নদীতে বাস করত অতি সুন্দরী এক জলপরী । নাম সালমেসিস। সে প্রেমে পড়ে যায় হারমিস ও আফ্রোদিতির পুত্র, রুপবান যুবক হারমাফ্রোডিটাসের। প্রণয়কাতর সালমেসিস দেবতাদের কাছে প্রার্থনা শুরু করল । তার এই নিবিড় প্রেমকে চিরন্তন করতে করুণা ভিক্ষা করল । দেবতারা যেন হারমাফ্রোডিটাসের সঙ্গে তাকে চিরকালের জন্য মিলিত করে দেন । দেবতারা তার প্রার্থনা শুনলো – তারা তাদের দু’জনকে জুড়ে দিলো একই শরীরে। তারপর থেকে এই প্রাণীটি হয়ে গেল উভলিঙ্গ।

এদিকে উপনিষদ বলছে, সৃষ্টিকর্তার মনেও নাকি শান্তি ছিল না। সেই পুরাণ পুরুষ ভীষণ একা বোধ করছিলেন। কোন সুখ, আনন্দ ছিল না তাঁর । স বৈ নৈব রেমে, যস্মাদ একাকী ন রমেতে। আনন্দের জন্য শেষমেশ নিজেকে দু’ভাগে ভাগ করে ফেললেন নিজেকে- নারী-পুরুষ, অর্থাৎ জায়া-পতি। পরবর্তী শাস্ত্রকারদের মনে উপনিষদের এই বিমূর্ত কল্পনা নিশ্চয়ই এমনভাবে ক্রিয়া করেছিল যার জন্য তারা নির্দেশ দিয়েছিলেন, একটি পুরুষ বা একটি নারী আলাদাভাবে কখনোই সম্পূর্ণ নয়। একটি পুরুষ বা একটি নারী মানুষরূপে অর্ধেক মাত্র। এই কারণেই কি পুরাণ-পুরুষ নিজেকে দ্বিধা ছিন্ন করছিলো? ছিন্ন দুই ভাগের মধ্যে পরস্পরের মিলিত হবার, সম্পূর্ণ হবার টান ছিল কি? (সম্পূর্ণ…)

এ্যানিমল ফার্ম-এর নতুন বাংলা অনুবাদ প্রসঙ্গে

মনির ইউসুফ | ২০ অক্টোবর ২০১৫ ২:২৮ অপরাহ্ন

border=0বিশ্বসাহিত্যের সমঝদার পাঠক মাত্রই জানেন জর্জ অরওয়েল নামের ইংরেজ কথাসাহিত্যিক ১৯৪৫ খৃস্টাব্দে পশুখামার নামে এক ব্যতিক্রমধর্মী উপন্যাস লিখে হৈ-চৈ ফেলে দেন। সেই থেকে সাহিত্য জগতে এ্যানিমল ফার্ম বা পশুখামার নামটি ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। উপন্যাসটি বাঙালি পাঠক-পাঠিকারা অনেকেই অনুবাদের মাধ্যমে আগেও পড়েছেন। জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক আনিস হকের অনুবাদে অরওয়েল নতুনভাবে পরিচিতি হয়ে উঠছেন বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝে। বিপিএল বইটি প্রকাশ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। (সম্পূর্ণ…)

একরাম আলির ছয়টি কবিতা

একরাম আলি | ১৯ অক্টোবর ২০১৫ ৬:৪১ অপরাহ্ন


ঝড় এগিয়ে আসছে
তার ছড়ানো ডানা
হাড়ে মাংসে পালকে অবিরাম ঝাপটায়
গাছের পাতায় পাতায় পুরে দেয় নিজের গর্জন

ঝড় এলেই সব কিছু ভুলে
প্রেতগতিতে তুমি বেরিয়ে যাও
সারা শরীরে ধুলো আর গুমরে-ওঠা শব্দ আর গতি

কার মৃত্যুর ওপর হেঁটে যাচ্ছ তুমি
কার জন্ম কামনা করছ?


চোখ ঝড়ের চেয়ে ক্ষিপ্র
চোখ দেখছে আকাশ থেকে পাতাল
পুরুষ, রমণী, নিভে-যাওয়া আলো

তোমার রুগ্ন পায়রা আর ওড়ে না তেমন
তার চোখের চারপাশে সাদা গুটি
যখন ঝুঁকে খেতে দাও
বাহুল্য মনে হয় তোমার ঢিলে ব্রা
সে দেখতেও পায় না

আকাশ কত রঙ বদলাল
রান্নাঘরে কত রকমের থালাবাটি
বদলে বদলে গেল
আজও বেড়ালরা ঘুরছে পায়ে পায়ে
তাদের খিদেয় সারা বাড়ি থমথমে
রোঁয়া উড়ছে (সম্পূর্ণ…)

অকথিত বোর্হেস: একটি তারার তিমির

রাজু আলাউদ্দিন | ১৭ অক্টোবর ২০১৫ ৮:৫০ অপরাহ্ন

উৎসর্গ: ইমতিয়ার শামীম

border=0বোর্হেসের বন্ধু এবং অনুবাদক নরম্যান টমাস ডি জিওভান্নি সেই সৌভাগ্যবান অনুবাদকদের একজন যিনি সরাসরি মূল লেখকের সহায়তায় ১০টির মতো বই অনুবাদ করেছিলেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২–পাঁচ বছরব্যাপী তাঁদের এই যৌথকর্মের ফল ছিলো বোর্হেস-পাঠকদের জন্য অবিস্মরণীয়। নরম্যানের অনুবাদগুলোর মাধ্যমে পৃথিবীর নানা প্রান্তে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য বোর্হেস-অনুরাগী আর বোর্হেসের সাহিত্যকর্ম হয়ে উঠেছে আলোচনা ও তর্কবিতর্কের বিষয়। কিন্তু নরম্যান ঐ অনুবাদকর্মের পর বহু বছর পর্যন্ত বোর্হেসের নতুন কোনো অনুবাদতো করেনইনি, এমন কি বোর্হেস সম্পর্কে ছিলেন পুরোপুরি নিশ্চুপ। কিন্তু নিশ্চুপ থাকলেও বোর্হেস সম্পর্কে নিস্ক্রিয় ছিলেন না। সেটা বোঝা গেল যখন ২০০৩ সালে স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়নধর্মী The lesson of the master: on Borges and his Work গ্রন্থটি বের হলো। এই বইয়ে একটি মাত্র স্মৃতিচারণধর্মী যে লেখা রয়েছে সেটা ছিল আসলে ২০১৪ সালে প্রকাশিত তার George & Elsa: Jorge Luis Borges and his wife, the untold story নামক আইসবার্গের সামান্য চূড়া মাত্র। প্রায় ৪৫ বছরের গভীর তলদেশে অদৃশ্য অবস্থায় থাকা গোটা আইসবার্গটি নরম্যান আমাদের সামনে তুলে ধরলেন তাঁর এই নতুন বইটিতে। কিন্তু নরম্যান কেন এই বই লিখতে গেলেন আর কীই-বা আছে এই বইয়ে যা অন্য কারোর বইয়ে পাওয়া যাবে না? এই বইয়ের শেষ অধ্যায়ে (Looking back) লেখক নিজেই জানাচ্ছেন যে “বোর্হেস এবং তার সাহিত্যকর্ম নিয়ে পাঠাগার-পরিমাণ অসংখ্য বই লেখা হয়েছে” (A library of books has been written about Borges and his literary work.) বোর্হেসের জীবন, সাহিত্যকর্মসহ নানান বিষয় নিয়ে গবেষণা, সমালোচনা হয়েছে বিপুল পরিমাণে। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানান জনের নেয়া অসংখ্য সাক্ষাৎকার। কিন্তু এসব গ্রন্থের একটির সঙ্গে অন্যটির চরিত্রগত বা দৃষ্টিভঙ্গীর সাযুজ্য রয়েছে অনেকটাই। কিন্তু বোর্হেস-বিষয়ক নরম্যানের বই দুটি বিপুল গ্রন্থের ভিড়ে সুউচ্চ মিনারের মতো দাঁড়িয়ে আছে মূলত পর্যবেক্ষণ, কখনো কখনো গ্রন্থিমোচন, আর প্রায়শই অন্যদের নজর-এড়িয়ে-যাওয়া, অথচ গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্যের উন্মোচনে। তার প্রথম বইটির সূত্রে এ বিষয়গুলোই পাঠকদের কাছে প্রধান হয়ে ওঠে। কিন্তু দ্বিতীয়টি, যেহেতু এতে বোর্হেসের জীবনকাহিনীই উপজীব্য, তাই এখানে এসে ভীড় করেছে বোর্হেসের জীবনের সেই সব ঘটনাপুঞ্জ যা আগে অন্য কারোর লেখা জীবনীগ্রন্থে আসেনি। কেন অন্য জীবনী-লেখকরা এসব অজানা ঘটনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন? কারণ তারা নরম্যানের মতো কাজের সূত্রে বোর্হেসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েননি। ফলে এই গ্রন্থ কেবল হারিয়ে যাওয়া বোর্হেসকেই উদ্ধার করেনি, একই সাথে এটি ভবিষ্যতে হয়ে উঠবে সেই আকরগ্রন্থ যার সাহায্যে বোর্হেসের পূর্ণাঙ্গ জীবনী লেখা সম্ভব হবে। (সম্পূর্ণ…)

মাজুল হাসানের গুচ্ছ কবিতা

মাজুল হাসান | ১৬ অক্টোবর ২০১৫ ১:৩৪ অপরাহ্ন


সৎভাই

বাবা চাইতেন আমি যাতে সাহস নিয়ে ওর দিকে চোখ তুলে তাকাই
এক টেবিলে বসেও শান্ত থাকি। একসাথে কফি খাই।
বাবা ছিলেন চিরসবুজ। আমিই তার গোপন শ্বাসরোমের খবর রাখিনি
জানি- একদিন বাবার কথাই সত্যি হবে
একদিন বন্দুক তাক করা পোস্টারের কোলাহোল থেকে
জুতো বাধার ভান থেকে, সড়ক ডিভাইডারের সবুজ আড়াল ছিড়ে
আমি আর সেই লোকটা এসে দাঁড়াব লাল কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে

আয়ু! আরে সৎভাই যে! চলো এবার একটা লম্বা ম্যারাথন হয়ে যাক…
mazul.jpg

ফ্যাকাশে পোর্ট্রেট

লোকটি একা ও ছায়াহীন; অতঃপর বিপ্লবী গন্ধগোকূল
ডোরাকাটা পাজামা পরে ড্রইংরুমে টিভি দেখছেন- তিনি নন
মাহামান্য টিকটিকি। এলইডি জ্বেলে ছুটে আসছে সাঁজোয়া ট্যাংক
ডুবন্ত সূর্যের পেটের ভেতর থেকে ভেসে আসছে সৈন্যের হাসি
অদূরে কূপ থেকে উঠে আসছে রক্ত; ওরা বলল- জীবাষ্ম জ্বালানী
রাতে লোকটি নভোমণ্ডলের দিকে ছুড়ে দেয় জ্যোতির্ময় আক্রোশ
লোকটি পান করে গেলাসভর্তি একাকীত্ব, নিস্তব্ধ অরুদ্ধতি

দূরে, বহু দূরে ক্রমশঃ স্পষ্ট হচ্ছে প্রত্নযুদ্ধের ফ্যাকাশে পোট্রেট… (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com