মাইকেল ম্যাকক্লুরের কাব্য: এক বিজ্ঞানীর দৃষ্টি

জাকিয়া সুলতানা | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৮:৩৫ অপরাহ্ন

crick.jpgফ্রান্সিস ক্রিক (জুন ৮, ১৯১৬- জুলাই ২৮, ২০০৪) ছিলেন পরমাণু জীববিজ্ঞানী। তিনি, জেমস ডি ওয়াটসন এবং মরিস উইলকিন্স মিলে ডিঅক্সিনিউক্লিয়িক (ডিএনএ) এসিডের পারমানবিক গঠন এবং ডিএনএ কিভাবে জীবন গঠনের মৌলিক তথ্য বংশপরম্পরায় পৌঁছে যায়, এই তাৎপর্য আবিষ্কারের জন্য ১৯৬২ সালে শারীরতত্ত্ব শাখায় নোবেল পুরষ্কার পান। বায়োলজি ও জেনেটিক্সে ডারউইনের বিবর্তনবাদ থিওরির পরে এটি একটি বিশাল ঘটনা। এক অর্থে ডারউইন প্রকৃতিকে দেখে-শুনে-বুঝে যা সিদ্ধান্ত করেছিলেন, ক্রিক-ওয়াটসন-উইলকিন্স-এর আবিষ্কার তার পারমাণবিক ভিত্তি প্রদান করেছে এবং সঙ্গে-সঙ্গে জীবনের গঠন ও বিকাশের নতুন পথ খুলে দিয়েছে। ডঃ ফ্রান্সিস হ্যারি ক্রিক মূলত একজন পদার্থবিদ ছিলেন। পরে তিনি জীববিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট হন। আনন্দের ব্যাপার, তাঁর কাব্যের প্রতিও আগ্রহ ছিল এবং তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। জেনেটিক্স নয়, ক্রিকের কবিতা-বোধই এখানে প্রসঙ্গ।
১৯৭৫ সালে মার্জিন সিম্পজিয়ামে ফ্রান্সিস ক্রিক রচিত “ মাইকেল ম্যাক্ল্যুরের কাব্যঃ এক বিজ্ঞানীর দৃষ্টি” প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়। মাইকেল ম্যাকক্ল্যুর ৫০-৬০ দশকের মার্কিন বিট জেনারেশনের কবি – অ্যালেন গিন্সবার্গ, জ্যাক কেরুয়াক, গ্যারি স্নাইডার, লরেন্স ফারলিংহেট্টি – এদের সমসাময়িক। তিনি ষাটের দশকের যুদ্ধবিরোধী, প্রকৃতিপন্থী, কাউন্টার-কালচারের একজন হোতা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি “The Beat Surface” নামের এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, “ বিজ্ঞানের সীমানা পেরিয়ে কাব্য এবং কাব্যের সীমানা পেরিয়ে বিজ্ঞানে প্রবেশ করাই বিট মুভমেন্টের একটা অংশ”। তিনি আরও বলেছেন- “ক্রিকের মত আমিও বিশ্বাস করি, দেহ ও চৈতন্য একই বিষয় এবং আমি বিজ্ঞান ও কাব্যের মধ্যে কোন ফারাক দেখি না”। পরবর্তীতে মাইকেল ম্যাকক্ল্যুর “Double Moire” নামে একটি কবিতা ক্রিককে উৎসর্গ করেন। ১৯৭৫ সালে Margins Symposium-এ প্রকাশিত ক্রিক-এর এই প্রবন্ধটি অনুবাদ করেছেন জাকিয়া সুলতানা। (সম্পূর্ণ…)

কিউবার লেখক লিওনার্দো পাদুরা: গোটা দুনিয়া থেকেই সমাজতন্ত্র উধাও হয়ে গেল

যুবায়ের মাহবুব | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১১:৫৭ অপরাহ্ন

padura-1.jpgকিউবান সাহিত্যিক লিওনার্দো পাদুরা ফুয়েন্তেস ১৯৫৫ সালে রাজধানী হাভানায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বিখ্যাত সৃষ্টি ডিটেকটিভ মারিও কোন্দে, আজ অব্দি আটটি উপন্যাস লিখেছেন এই চরিত্রকে কেন্দ্র করে। বহু ভাষায় অনুদিত হয়েছেন, জিতেছেন অসংখ্য পুরস্কার। রুশ বিপ্লবের নেতা লিওন ট্রটস্কি এবং তার আততায়ীকে নিয়ে সম্প্রতি লিখেছেন ঐতিহাসিক উপন্যাস “যে মানুষটি কুকুর ভালোবাসতো”। ২০১২ সালে কিউবার জাতীয় সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন, এবং এই বছর (২০১৫ সালে) জিতেছেন হিস্পানিক বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য পুরষ্কার “প্রেমিও আস্তুরিয়াস”। আলেহো কার্পেন্তিয়ের এবং গিয়ের্মো কাব্রেরা ইনফান্তে’র যোগ্য উত্তরসুরী পাদুরা আধুনিক কিউবার শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে স্বীকৃত। গুরুত্বপূর্ণ এই লেখকের সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন অনুবাদক যুবায়ের মাহবুব। (সম্পূর্ণ…)

মানব তুমি মহীরুহ তুমি

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ২:১২ অপরাহ্ন

অনেক দিন আগে, ১৮৫৮ সাল। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে জন্ম নেয়া পৃথিবীর প্রথম বায়োফিজিস্ট, জগদীশ চন্দ্র বসু। তিনিই প্রথম প্রকৃতির এক নতুন সত্য জানিয়েছিলেন পৃথিবীকে। সেটা কী? উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে। আছে সংবেদনশীলতা। তাঁর পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব পদ্ধতিতে এবং দেশীয় উপাদানে তৈরি যন্ত্রপাতি দিয়ে তিনি একটি বৈদ্যুতিক সংবেনশীল যন্ত্রের মডেল তৈরি করেন যা অনেকটা কম্পিউটারের সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটের মত। সে যন্ত্রই সর্বপ্রথম উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও সংবেদনশীলতা মাপার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। জগদীশ চন্দ্র বসুর আগে কেউ ধারণা করতে পারেনি উদ্ভিদের যে প্রাণ আছে। তিনিই প্রথম গবেষণা করেছিলেন উদ্ভিদের শারীরবৃত্তিয় প্রক্রিয়া নিয়ে। এই অসাধারণ মেধার মানুষটির মৃত্যু ঘটে ১৯৩৭ সালে ২৩ নভেম্বর। তারপর কেটে গেছে বহু সময়। তারই দেখানো পথ ধরে সারা পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে উদ্ভিদ সম্পর্কিত নানা গবেষণায়। গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে সম্পূর্ণ নতুন এক শাখা: প্লান্ট বায়ো সায়েন্স। বাইরের দেশগুলোতে এই শাখায় রাত দিন গবেষণা করে যাচ্ছেন শত শত মাইক্রো বায়োলজিস্ট, উদ্ভিদ বিজ্ঞানী। তারই ধারাবাহিকতায় এই ২০১৫ সালে এসে আমরা জানতে পারছি নানা চমকপ্রদ সব তথ্য।

আপনি অবাক হবেন এটা ভেবে যে, আপনার পায়ের তলার ঘাসেরা কি অনুভব করছে? আপনি যখন বাগানে গোলাপ, বেলী, হাসনাহেনাদের গন্ধে মাতোয়ারা , আপনি কি জানেন, ওরাও তখন আপনার ঘ্রাণও পেতে পারে? কখনো ভেবেছেন, আপনার বাড়ির পাশে বেড়ে ওঠা মেহগনি, দেবদারুদের চোখে এই পৃথিবী কেমন দেখায়? রোদ, জল আর বাতাসের স্বাদ ওদের কেমন লাগে? (সম্পূর্ণ…)

মাকে রেহানে জাবারি

শামস আল মমীন | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১১:২৭ অপরাহ্ন

irani-woman.jpg২২ অক্টোবর, ২০১৪। ভোরে ফাঁসি হয় রেহানে জাবারির। বয়স হয়েছিল তাঁর ২৬ বছর। ধর্ষণ এড়াতে আততায়ীর বুকে ছুরি বসানোর অপরাধে তাকে প্রাণদন্ড দেয় ইরানের সুপ্রীম কোর্ট। এই ফাঁসির আদেশের বিরোধিতা করে বিশ্বের অনেক মানবাধিকার সংগঠন। মেয়ের বদলে তাকেই ফাঁসি দেওয়া হোক বলে মিনতি জানায় রেহানের মা । তাতে সাড়া মেলেনি। মৃত্যুর আগে মাকে শেষ চিঠি লেখে গিয়েছেন রেহানে। তাঁর এই মর্মস্পর্শী চিঠি পড়ে এই কবিতা লেখা।
(সম্পূর্ণ…)

মিছিল খন্দকারের গুচ্ছকবিতা

মিছিল খন্দকার | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৭:৩৮ অপরাহ্ন

painting.jpg

কাঙ্খিত কণ্ঠস্বর

………………..

বাতাসের দিন এলো
বই থেকে উড়ে যেতে চাইছে পড়া, না পড়া পৃষ্ঠারা।

ট্রেন মিস করার পর প্লাটফর্মে বিমর্ষ আলস্য নিয়ে
বসে থাকা যাত্রীর মতো এই মেঘলা দুপুর-
তাকে সুর না দেওয়া একটা বোবা লিরিক মনে হয়।
বিকেলের দিকে সে গান হয়ে উঠবে কি?

তাহলে বিকেল নাগাদ আসবে কেউ?
এ ঘর পাবে পাখালীর কাকলীমুখর বাগানের মর্যাদা?

এসব প্রশ্ন পেরিয়ে সন্ধ্যায় হাত থেকে ফসকে পড়ে কাপ
তার চুরমার শব্দকে পরিচিত কণ্ঠস্বর মনে হয়।

ইচ্ছা করে, সন্ধ্যা জুড়ে ভাঙি সহস্র চায়ের কাপ
কাঙ্খিত কণ্ঠস্বর নিয়ে তারা বাজুক,
বাজতে থাকুক!
(সম্পূর্ণ…)

আহমদ রফিক: সৎ বন্ধু থাকা মানুষের খুব পরম ভাগ্যের ব্যাপার

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১:১১ অপরাহ্ন

images.jpgতিনি মূলত কবি,তবে কবিপরিচয় ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে তাঁর অনেকগুলো পরিচয়। সমাজ-গবেষক, নামকরা প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ভাষাসংগ্রামী। রবীন্দ্র গবেষক হিসেবে তিনি খ্যাতিমান দুই বাংলাতেই। কলকাতার ‘টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ থেকে পেয়েছেন ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি এবং স্বদেশে রবীন্দ্র পুরস্কার। সাহিত্যকর্মে সামগ্রিক অবদানের জন্য পেয়েছেন সৃজনশীলতায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘একুশে পদক’। ব্যক্তিগত জীবন,রাজনৈতিক চিন্তা ও দর্শন,বুদ্ধিজীবীতার স্বরূপ, বর্তমান সময়ের সাহিত্যের ভুবন, বহুমাত্রিক বিষয়াদী নিয়ে তাঁর মুখোমুখি হয়েছিলেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন। (সম্পূর্ণ…)

বাঙালির ইবসেন

আনিসুর রহমান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১০:০১ অপরাহ্ন

henrik-ibsen.jpg

বাঙালির ইবসেন

নরওয়ের নাট্যকার ও কবি হেনরিক ইবসেন (১৮২৮-১৯০৬)। যাকে উত্তর মেরু অঞ্চলীয় দেশটির রবীন্দ্রনাথ (১৮৬১-১৯৪১) মনে করা যায়। রবীন্দ্রনাথকে বাংলা সাহিত্যের ঠিকানা মনে করা হয়। তেমনিভাবে ইবসেনও নরওয়েজীয় সাহিত্যের ঠিকানা। আমরা বাংলা ভাষাভাষী পাঠকরা নরওয়ের ইবসেনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি থেকে শুরু করে পত্রপত্রিকা ও নাটকের জগতে যতটা পঠনপাঠন, চর্চা, অনুবাদ, আলোচনা করে থাকি; সে তুলনায় প্রায় অর্ধকোটি জনসংখ্যার নরওয়ে নামক দেশটিতে বাঙালি প্রতিভা রবীন্দ্রনাথকে জানার ও তাঁর থেকে নেবার দৃষ্টান্ত খুব একটা নেই। সেটা ওদের ব্যাপার; এ নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথার কারণ নেই। ইবসেন থেকে আমরা নিই এবং শিখি সেটা আমাদের প্রয়োজনেই। এটা যেমন সত্য, তেমনই ইবসেনকে রপ্তানি করার নওয়ের সরকারের তোড়জোড়কেও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আর এই রপ্তানিটা হয়ে থাকে নরওয়ের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা নোরাড-এর অর্থায়নে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর নানা দেশে ইবসেনচর্চা প্রসারিত হয়েছে, বিশেষ করে ইবসেন-নাট্যকর্মের অনুবাদ ও প্রযোজনার ক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে। যদিও সেইসব খুব একটা লাগসই হয়নি। তবে এখানে বলে রাখা ভালো যে নরওয়ের সরকার ইবসেন রপ্তানির উগ্যোগ না নিলেও আন্তর্জাতিক নাট্যজগতে এমনকি খোদ বাংলাদেশেও ইবসেন-এর মর্যাদার কোনো হেরফের হতো না। নরওয়ের তেলের খনি আবিস্কারের পূর্বেই আধুনিক নাটকের পথিকৃত হিসেবে ইবসেন স্বীকৃতি পেয়ে গেছেন। সারা দুনিয়া জুড়েই শেক্সপিয়রের পরেই নাটক মঞ্চায়নের সংখ্যা বিচারে ইবসেনের অবস্থান। নাট্যকার হিসেবে ইবসেনের প্রাসঙ্গিকতা এবং আবশ্যিকতা অনিবার্য। বাংলা ভাষাভাষী জগতে নাটকের বাইরে সিনেমা জগতেও ইবসেনের ধ্রুপদি অবস্থান। কিংবদন্তী চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় তাঁর গণশত্রু নাটক নিয়ে গণশত্রু নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। ইবসেন সৃষ্টিকর্মের সাথে রবীন্দ্রনাথেরও পরিচয় ঘটেছিল। ইবসেনের মৃত্যুর শত বৎসরের অধিক সময় পার হয়ে গেছে। নরওয়ের ইবসেন নরওয়ের চৌহদ্দী অতিক্রম করে নানা দেশের, নানা ভাষার ইবসেন হয়ে গেছেন। এইভাবে ইবসেন আজ বাঙালিরও। (সম্পূর্ণ…)

‘জয় বাংলা’র শিল্পী শাহাবুদ্দিন

মইনুদ্দীন খালেদ | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১১:৪৬ অপরাহ্ন

dsc00159.JPGশাহাবুদ্দিনের সব ছবিরই বিষয় মানুষ। বিশেষ মানুষ এবং নির্বিশেষ মানুষ। বিশেষ মানুষেরা ইতিহাসের বিখ্যাত নায়ক। নির্বিশেষ বা অচেনা মানুষেরাও বীরের মর্যাদা দাবি করে। কারণ, তারা সব সময়ই গতিশীল ও তেজোদীপ্ত। তার ছবিতে প্রকৃত অর্থে কোনো মৃতদেহ নেই, কিন্তু মৃত্যু আছে। এই মৃত্যু বীরের মৃত্যু; এতে ট্রাজেডির করুণ সমাপ্তির আবহ আছে। এই মৃত্যুতে মূলত চরিত্রের মৃতুঞ্জয়ী মাত্রাটা প্রসারিত হয়ে আছে। এই মৃত্যুর মহিমা শাহাবুদ্দিন চিত্রায়িত করেছেন ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূলুণ্ঠিত বিশাল দেহ এঁকে এবং একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুকেও চিত্রায়িত করে। বঙ্গবন্ধু ছাড়া শিল্পী এঁকেছেন গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, মাদার তেরেসা, সুফিয়া কামাল প্রমুখ সংগ্রাম ও কল্যাণপথের মহাজনদের। অপরদিকে বার বারই তিনি বিভিন্ন গতিতে ধাবমান মানুষ চিত্রিত করেছেন। (সম্পূর্ণ…)

আমার শিক্ষক প্রফেসর এ কে নাজমুল করিম

অনুপম সেন | ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৭:৫৫ অপরাহ্ন

nazmul_karim.jpg১৯৫৯ সালে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হই। আমি বাংলা পড়তে চেয়েছিলাম। তৎকালীন বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রধান ড. আবদুল হাই আমাকে সংস্কৃত পড়ার জন্য বলেন। আমি সংস্কৃত পড়তে চাইনি। আমাকে সমাজতত্ত্ব পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন আমার দৃষ্টিতে আরেকজন মহাপ্রাণ লোক অধ্যক্ষ আবদুস সোবহান খান চৌধুরী, যার হাতে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ গড়ে উঠেছিল। তিনি ইন্ডিয়ান সিনিয়র এডুকেশন সার্ভিসের লোক ছিলেন। এই সার্ভিসে স্থান পাওয়া লোকের সংখ্যা সেসময় খুবই কম ছিল। তিনিও প্রকৃত অর্থে একজন অসাধারণ পন্ডিত লোক ছিলেন। দেখতে যেমন ছিলেন অসাধারণ সৌম্যকান্তি তেমনি মানুষ হিসেবেও তুলনাহীন মানবিক। তিনি আমাকে বলেছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতত্ত্ব নতুন বিভাগ। খুলেছে ইউনেস্কো। শিক্ষকরা বেশির ভাগই বিদেশী পন্ডিত। এই বিভাগে পড়লে তুমি অনেক কিছু জানতে পারবে। তাঁর কথায় অনুপ্রাণিত হয়েই আমি সমাজতত্ত্ব পড়ি। আমি যখন ভর্তি হই তখন বিভাগীয় প্রধান ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ ফরাসি নৃতত্ত্ববিদ পিআরই বেসাইনেট। আমরা তাকে নয় মাস পেয়েছিলাম। তিনি দেশে ফিরে যাওয়ার পর বিভাগীয় প্রধান হন এ কে নাজমুল করিম স্যার। যদিও বিভাগে অনেক বিদেশী শিক্ষক ছিলেন।
স্যারের উৎসাহে ও অনুপ্রেরণায় বিভাগে অনেক অনুষ্ঠান হত- ডিবেট, বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, কবিতা পাঠ, নাটক ইত্যাদি। এসব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার ফলে আমাকে তিনি চেনেন। আমি তাঁর কাছে যাওয়ার সৌভাগ্য ও সুযোগ পাই। বিভিন্ন বিষয়ে উৎসাহ থাকায় আমি ধীরে ধীরে তাঁর স্নেহ পেতে শুরু করি। অবশ্য আমার বন্ধু ও অন্যান্য সহপাঠীরাও তাঁর স্নেহধন্য। সেসময়ে আমরা একটি ক্লাসে ত্রিশ জনের বেশি ছাত্র ছিলাম না। তাই শিক্ষকরা প্রায় সবাইকে চিনতেন। তাঁর স্নেহধন্য হওয়ার ফলে পরবর্তীকালে আমি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ও পড়ার সুযোগ পাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমি তাঁর সহকর্মী যতটুকু না ছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি ছিলাম উৎসুক ছাত্র। ফলে তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি, জেনেছি। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৭:৪৪ অপরাহ্ন

combo.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

ইমদাদুল হক মিলনের সাক্ষাৎকার: বাংলাদেশের প্রথম জনপ্রিয় লেখক আমি

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

milon.jpgজনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের জন্ম ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫ সালে, বৃহত্তর ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে। পৈতৃক ভিটে লৌহজং থানার পয়শা গ্রামে। ঢাকার গেণ্ডারিয়া হাইস্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পাশ করা মিলন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে সম্মানসহ স্নাতক অর্জন করেছেন অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যায়ন করে। দুই বাংলার পাঠকদের কাছে সমাদৃত এ লেখকের প্রথম লেখা গল্প ‘বন্ধু’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। প্রথম উপন্যাস যাবজ্জীবন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। প্রথম গল্পগ্রন্থ ভালোবাসার গল্প ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত হবার পর থেকেই বিপুলভাবে আলোচিত, পঠিত, সংবর্ধিত তিনি। ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন কথাসাহিত্যে। ২০১১ সালে মহাকাব্যিক নূরজাহান উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন আই পি এম সুরমা চৌধুরী স্মৃতি আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার। ২৩ আগস্ট ২০১৫ সন্ধ্যায় লেখকের ষাটতম জন্মদিন সামনে রেখে তাঁর সাথে কথা বলেছেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন। (সম্পূর্ণ…)

একগুচ্ছ সমুদ্র

মিলটন রহমান | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১০:০০ অপরাহ্ন


আইল অব ওয়াইট

পা আর মাথায় আয়েশি ভাজ নিয়ে
পাথরখন্ডে লুকিয়েছ প্রাগৈতিহাসিক ডায়নোসরের হাড়
শীলাস্তর ভেদ করে মাঝে মাঝে উঁকি দেয় বৃক্ষ-ফুল
কোথাও বিন্যস্ত হরিৎ এলানো চুল
আদিম ঘাসেরা জিউসের বাসনা তেজে
তুষারখন্ডের মত চোয়াল থেকে ঝুলে পড়া
সোনালী রোদের রঙে উথলে উঠছে জল
তুমি বড় মায়াবী হে আইল অব ওয়াইট
সহস্র পথচারী আটকে রাখো তাদের অজান্তে
যারা তোমার সঙ্গম শেষে ফিরে গেছে
কেবল তারাই জানে কত পালক ফেলে গেছে
তোমার ব্যসনব্যঞ্জনায়।

গ্রীবা থেকে নিতম্ব অবধি কেবলই বাঁক নেয়া মায়া
পাঁজরকন্দর থেকে নিয়ত ফুঁসে উঠছে মাতাল জোয়ার
কত কত রমনীরা নিজেকে আত্মাহুতির দিকে ঠেলে দেয়
তুমি শীতলচুমু এঁকে দিলে রতিবিদ্যায়
মার্গীয় উচ্চতায় নিজেকে উত্তীর্ণ করে,
আমি ঈর্ষায় চোখ বুজে তোমাকে দেখে নিই
হাত রাখি তোমার জলজ ঠোঁটে
যে ঠোঁটে এঁকেছো সহস্র রমণীর শিহরণ
সেই ঠোঁট আমি পান করি
পান করি সহস্র রমণীয় হাসি, শীতলমায়া, উষ্ণ চিবুক। (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com