বাংলা ভাষায় নতুন শব্দনির্মাতা কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা

মোস্তফা তোফায়েল | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৬:১৪ অপরাহ্ন

huda.jpgবাংলা ভাষা ব্যবহারের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ। মানস মানচিত্রে “যতদূর বাংলাভাষা ততদূর এই বাংলাদেশ”- অতলস্পর্শী ও পরিধিপ্রসারী এমন একটি সাংস্কৃতিকনিবেশী বক্তব্যের বলিষ্ঠ ভাষ্যকার কবি মুহম্মদ হুদার কবিতা ও প্রবন্ধের জমি চাষ করে কয়েকটি সোনার টুকরো শব্দের সন্ধান পেয়েছি। এই শব্দগুলোর আভিধানিক অন্তর্ভুক্তি হওয়া অতি জরুরি মনে করে আমি একটি তালিকা পেশ করছি। দেশেবিদেশে যে বা যাঁরা বাংলা-বাংলা, বাংলা-ইংরেজি, বাংলা-ফরাসি, বাংলা-হিন্দি কিংবা অনুরূপ যেকোনো অভিধান প্রণয়ন করবেন, তাঁর বা তাঁদের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে নবতর বাংলা শব্দের এই তালিকাটি। নবতর শব্দের খোঁজে তো অভিধানপ্রণেতাদের ঘুরে বেড়াতে হয় পাড়ায় পাড়ায় এবং পত্রপত্রিকার পাতায় পাতায়। আশা করি, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বিরচিত গদ্যপদ্য রচনাভাণ্ডার থেকে আহরিত, সংগৃহিত এই শব্দগুলো অভিধানপ্রণেতাদের নতুন বাংলা শব্দপিপাসায় জলসিঞ্চনে সক্ষম হবে। শব্দগুলো নিম্নরূপ : (সম্পূর্ণ…)

মুহম্মদ নূরুল হুদার সমুদ্রবন্দনা

ফরিদ আহমদ দুলাল | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১:১৫ পূর্বাহ্ন

photo-290913-61.jpgবাংলা কবিতার প্রাগ্রসর মেধার কবিকণ্ঠ মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতায় প্রবেশ করলে দেখবো সমুদ্রের প্রতি পক্ষপাত; বিশেষ করে একজন পাঠক, যিনি তাঁর আদ্যপান্ত খোঁজ রাখেন, দেখবেন জাতিসত্তার কবি অভিধায় খ্যাত মুহম্মদ নূরুল হুদার কাব্যবৈশিষ্ট্য কেবল নয়, তাঁর গদ্যেও সমুদ্র এসেছে বারবার। কেন তাঁর লেখায় সমুদ্রের উপস্থিতি, সে উত্তর আমরা জানি; কবি হুদা সমুদ্রনগর কক্সবাজারের ভূমিপুত্র, সমুদ্রের সাথেই তাঁর বেড়ে ওঠা, সমুদ্রের তীরে তাঁর শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি, সমুদ্রের তীর জুড়ে তাঁর পূর্বপুরুষের ঠিকানা; সমুদ্রের সাথে তাঁর নাড়ির টান। সমুদ্রের কাছে তাঁর বারবার তাই ফিরে আসা। কিন্তু এতসব সত্য জানার পরও আমরা খুঁজে দেখতে চাই দরিয়াসন্তান মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতায় দরিয়া (সমুদ্র) অন্য কোন্ ব্যঞ্জনায় আবিষ্কৃত হয়েছে। তাঁর কবিতা পড়ে আমরা সন্ধান করে নিতে চাইবো আলোকমানুষ মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতাভুবনে সমুদ্রের কতটা প্রভাব। বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতায় নিত্য ক্রিয়াশীল কবি-কাব্যকোবিদ হুদার সৃষ্টিসত্তা নানা নিরীক্ষায় উজ্জ্বল, কাব্য-প্রকরণ আর শুদ্ধতার আশ্রয়ে থেকেও তিনি নিয়ত নবায়নপ্রবণ। সুদীর্ঘ কাব্যঅভিযাত্রায় নন্দনলোকের আনন্দধারায় নিত্যস্নাত কবির স্বোপার্জিত কাব্যভাষা এবং স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত কাব্যমুদ্রা তাঁকে দিয়েছে সমকালীন বাংলা কবিতার অন্যতম শীর্ষ কণ্ঠস্বর হবার সম্মান; দিয়েছে বিশ্বকবিতার তাৎপর্যপূর্ণ কারুকৃতের সম্মানও। (সম্পূর্ণ…)

কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা: কবিতায় ভাষাচিন্তা

আসাদুল্লাহ্ | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

nurul.gifজাতিসত্তার কবি বিশেষণে খ্যাত মুহম্মদ নূরুল হুদা। আদতে তিনি বহুমাত্রিক লেখক। হ্যাঁ, তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি। কেবল কবিকৃতি নয়; তার রয়েছে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত উপন্যাস। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রবন্ধ লেখক। তিনি সমালোচক। এখন অধ্যাপনা ও সাংবাদিকতা পেশায় নিযুক্ত। সব মিলিয়ে মনোযোগী পাঠকমাত্রই মুহম্মদ নূরুল হুদার লেখনির বহুমাত্রিকতা কবুল করে থাকবেন। আমার উপলদ্ধি আরেকটু এগিয়ে। আমি বোধ করি- মুহম্মদ নূরুল হুদা যেমন বাংলা কাব্য সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। তেমনি তার বিচিত্র গদ্যের নিরিখে তিনি একজন মণীষী লেখক। কবুল করছি-তার মণীষা ঠাহর করতে না পারলে আমার মূল্যায়ন- তিনি একজন মণীষী লেখক-এর সাথে সবাই একমত হতে পারবেন না। তার মণীষার মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে বড় কাজ এবং সময়সাপেক্ষ। আমি আপাততঃ মাতৃভাষার বিষয়ে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার সিরিয়াস থট বা গভীর ভাবনাকে কী করে তার কতিপয় কবিতায় তুলে এনেছেন – তদ্বিষয়ে খানিকটা আলোকপাত করবার চেষ্টা করছি। (সম্পূর্ণ…)

জাতিসত্তার মানবিক প্রকাশ কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা

হামিদ রায়হান | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৯:৫০ অপরাহ্ন

border=0১.
কবি-সমালোচক বুদ্ধদেব বসু সুধীন্দ্রনাথ দত্ত’র ‘অর্কেস্ট্রা’ কাব্যগ্রন্থের আলোচনার সূত্রপাতেই একটি কথা লিখেছিলেন, যা বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য ও উল্লেখযোগ্য। তিনি লিখেছিলেন: কবিদের মধ্যে দুটো জাত আছে: যারা ঝোঁকের মাথায় লেখেন আর যারা ভেবে-চিন্তে লেখেন। … সুধীন্দ্রনাথকে প্রথম দলে না ফেলে দ্বিতীয় দলে ফেলবো।
[কালের পুতুল]
কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা সম্পর্কে আমরা এমন কথার একটা সমান্তরাল প্রতিধ্বনি তাঁর কবিতা পাঠ করলে উপলব্ধি করতে পারি। তাঁর কবিতায় আছে দীপ্তির মনন, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম যুক্তির কল্পনাময় প্রতীক ও প্রতিমার রহস্যময় ভাষণ এবং বহুমাত্রিক দ্যোতনার বিস্তৃত অন্বেষণ। আর এ অন্বেষণ একজন কবিকে একটি যৌগ মিথষ্ক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নিয়ে যায় একটি প্রোজ্জ্বল রৌদ্রময় পৃথিবীর দিকে, যে পৃথিবীর স্বপ্নের পেছনে যার অগ্রণী ভূমিকা, যেখানে কেবল হিরন্ময় যাপনের ইশারা। (সম্পূর্ণ…)

স্বর্গসড়ক

বিনয় বর্মন | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

কোথা যাও পাখি উড়ে উড়ে
মেঘমন্দ্র নীড়ে প্রলয়প্রাচীরে
ওখানে থাকে হুরপরী
অন্ধ লালসার অগ্নিদাহ
আতঙ্ক অঙ্কিত বুকে
উপাসনা মণ্ডল অভিকর্ষহীন
প্রভু কভু কভু করুণা করেন
জ্ঞানের তবু সীমা আছে
অজ্ঞতা অনন্তবিস্তারী
ঘৃণারক্তিম তৃণাকাশ
তিক্ততা লোলজিভে
নীল হ্রদে রক্তপদ্ম (সম্পূর্ণ…)

শুভ মধু পূর্ণিমার তাৎপর্য ও বুদ্ধের শিক্ষা

ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৯:৩১ পূর্বাহ্ন

buddha.jpgশুভ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধদের নিকট অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যমণ্ডিত দিন । পুণ্যময় এ দিনটিকে শ্রদ্ধা এবং ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করে থাকেন । মধু পূর্ণিমাকে ঘিরে রয়েছে বুদ্ধের জীবনের ঐতিহাসিক ঘঠনাপ্রবাহ । বিশেষ করে এদিনটি ত্যাগ ও ঐক্যের মহিমায় সমুজ্জল । বৌদ্ধরা কেন মধু পূর্ণিমাকে অতি শ্রদ্ধার সাথে পালন করে থাকেন? এর তাৎপর্য ব্যাখা করতে গেলে দুটো দিক পরিলক্ষিত হয়। একটি হচেছ সেবা ও ত্যাগের , অন্যটি হচেছ সৌর্হাদ্য, সম্প্রীতি ও সংহতির । ত্যাগের মহিমা হলো পারিলেয্য বনের বানর কর্তৃক ভগবান বুদ্ধকে মধু দান ও হস্তিরাজ কর্তৃক সেবা প্রদান । আর সৌর্হাদ্য ও সংহতি হলো কৌশম্বীর ঘোষিতারামে বিবদমান ভিক্ষু সংঘের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা । (সম্পূর্ণ…)

ঈদ: ধর্মীয় ও জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসব

শামসুজ্জামান খান | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৯:৪৬ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে ঈদোৎসবের সাম্প্রতিক বিপুল বিস্তার ও গভীরতা আমাদের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের একটি নতুন চিত্রকে সামনে এনেছে। মূল্যবোধের অবক্ষয়, ঘুষ-দুর্নীতির বিস্তার, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, সন্ত্রাসের সঙ্গে রাজনীতির সখ্য, অশান্তি ও আবিলতার সৃষ্টি করেছে, তার ভেতর দিয়েও সমাজ এগোচ্ছে, পরিবর্তিত হচ্ছে নিরন্তর এবং এই পরিবর্তনের ধারার উৎস খুঁজতে হলে আমাদের ষোড়শ-সপ্তদশ শতকের বাংলার সামাজিক ইতিহাসের গ্রামীণ এবং সদ্য গড়ে ওঠা খুবই সীমিত আকারের নগরজীবনকে অবলোকন করতে হবে। তাতে হয়তো একটা সমন্বিত লোকজীবন (synthesized) খুঁজে পাওয়া যাবে, কিছু বিরোধাত্মক উপাদান সত্ত্বেও। ময়মনসিংহ গীতিকা বিষয়ে অথরিটি চেক পণ্ডিত দুশান জবাভিতেলের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মার্কিন ইতিহাসবিদ রিচার্ড ইটন (Richard Eaton) যে মন্তব্য করেছেন তার সারবত্তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ময়মনসিংহ গীতিকার-গবেষক দুশান (তার বিখ্যাত গ্রন্থ Folk Ballads from Mymensing and the problems of their Authenticity 1963) ময়মনসিংহ গীতিকা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন : আধুনিক-পূর্বকালের (Pre-modern) ময়মনসিংহের গীতিকাগুলো : Neither the Products of Hindu or Muslim culture but of a single Bengali Folk culture-এই সূত্র ধরে ঐতিহাসিক ইটন সাহেব আধুনিক-পূর্ব বাংলাদেশের লোকধর্মকেও শাস্ত্রীয় ধর্মের তুল্যমূল্য বিবেচনা করেছেন। সেভাবে দেখলে পূর্ব-বাংলার গ্রামাঞ্চলের প্রচলিত ইসলামও ছিল লৌকিক ইসলাম- যাতে স্থানীয় আচার-সংস্কার বিশ্বাসের ছোপ লেগেছিল বেশ ভালোভাবেই। এই সমন্বয়ধর্মিতার নানা উপাদান (various syncritistic elements) বাংলার ইসলামকে বিশিষ্ট করেছিল।
ঈদোৎসব শাস্ত্রীয় ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তবে দ্বাদশ শতকের বাংলায় ইসলাম এলেও চার-পাঁচশত বছর ধরে শাস্ত্রীয় ইসলামের অনুপুঙ্খ অনুসরণ যে হয়েছিল তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। সেকালের বাংলায় ঈদোৎসবেও তেমন কোনো ঘটা লক্ষ করা যায় না। এর কারণ হয়তো দুটি : এক. গ্রাম-বাংলার মুসলমানরা ছিল দরিদ্র এবং দুই. মুসলমানের মধ্যে স্বতন্ত্র কমিউনিটির বোধ তখনো তেমন প্রবল হয়নি। ফলে ধর্মীয় উৎসবকে একটা সামাজিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর অবস্থাও তখনো সৃষ্টি হয়নি। আর এটা তো জানা কথাই যে সংহত সামাজিক ভিত্তি ছাড়া কোনো উৎসবই প্রতিষ্ঠা লাভ করে না। বৃহৎ বাংলায় ঈদোৎসব তাই সপ্তদশ, অষ্টাদশ এমনকি ঊনবিংশ শতকেও তেমন দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। (সম্পূর্ণ…)

এ আমার ভাগ্যলিপি

মোহাম্মদ রফিক | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৯:১৫ অপরাহ্ন

যুগ-যুগ মৃত্যুর আস্বাদে আচ্ছাদিত হয়ে
বেঁচে আছি, মাটির সহস্র আস্তরণ বুকে চেপে,
এ আমার ভাগ্যলিপি, আমার স্বদেশ, বাংলাদেশ
একটি-বা বদ্বীপ, জন্মেছিল সাগরের উন্মাদ খেয়ালে
একদিন, অচিরেই সাগরের অসীম অতলে,
নিমজ্জিত হতে-হতে সতের কোটি মানুষের
মধ্যে, আমি একজন, খুঁজে ফিরবো আমার নিয়তি
ভূত-ভবিষ্যত, নাকে মুখে জল, উপলে-পলিতে
অজস্র ঠোক্কর খেতে খেতে, হয়ে যাবো জলের বুদ্বুদ,
মাছ নয়, মানুষ, বাঙালি, বাংলাদেশ, ঠাঁই-
ঠিকানা, নিবাস, পৃথিবীর অতি তুচ্ছ মানব-সন্তান, (সম্পূর্ণ…)

সুখটান

মণীশ রায় | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৯:১০ অপরাহ্ন

লোকটিকে কি আমি চিনি ?
রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে কোনো নর-নারীর সঙ্গে চোখাচোখি হলেই স্বাভাবিক এই প্রশ্নটি চলে আসে মগজে।
আরো একবার তাকাই। স্মৃতির খাতা হাতড়াই ; যখন ফেরত উত্তর আসে ‘না’. তখন চোখ তুলে নিই সেই মানুষটির উপর থেকে। ফিরেও আর তাকাবার ইচ্ছে করে না ফের।
প্রতিদিন এভাবেই তো আমাকে পথ চলতে হয়। একটা অফিসব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে পথ চলি আর চালসে চোখ মেলে বিশাল জনরাশির ভেতর পরিচিত মানুষের মুখ খুঁজে বেড়াই।
ছাপোষা মানুষ আমি। একটা প্রাইভেট অফিসে যার নটা-পাঁচটা করে জীবন কাটে, চলার পথে তার আর কজন পরিচিত জন মিলবে এ শহরে?
কিছু মানুষের মুখাবয়ব চোখ-সওয়া ; আমার মতো ওদেরও ছুটাছুটির জীবন। একই এলাকায় থাকি ; দেখলেই বুঝতে পারি লোকটির বাসা আমার আশেপাশে। কোনো কথা নেই ; সেকেন্ডের জন্য দৃষ্টি আর্দ্র হলেও পরক্ষণে নির্বিকার হয়ে পড়ি। যাকে চিনি না তার সঙ্গে কিসের অত চোখাচোখি?
ফের ছুটতে শুরু করি। কখনো বাসে, কখনো রিক্সা বা টেম্পোয় করে অফিস থেকে ফিরি কিংবা ছুটে যাই অফিসের দিকে। এরই ভেতর আমার চোখ আমার হয়ে কাজ করতে থাকে। বাসে পা রেখে চারপাশে চোখ মেলে দেখি যদি কোন পরিচিত জন মেলে; যার পাশে বসছি তাকেও ক সেকেন্ডে দেখে নিই ,পরিচিত নয়তো ?
বাস থেকে নেমেও তা-ই করি। রিক্সার সীটে পাছা রেখে শুরু করে দিই দৃষ্টির কসরত। ডান-বাঁ -পূর্ব-পশ্চিম করতে করতে কেবল পরিচিত মানুষটিরই খোঁজ করি। এ কিসের তৃষ্ণা তা বুঝি না।
আমার নিজের বাড়ি যে গ্রামে সেখানে পরস্পরের ভেতর চেনা-জানা সম্পর্ক। গুরুজনকে দেখে যদি কেউ সালাম না দেয় তো জুমার নামাজের পর মসজিদে এই নিয়ে কথা ওঠে। ওমুকের পোলাটা বেআদব হয়ে গেছে বলে মুরুব্বীরা মুখ কালা করেন।
সেই গন্ডগ্রামের ছেলে আমি। ঢাকায় সামান্য চাকুরি নিয়ে এসে হেলাফেলায় দীর্ঘ একুশ বছর ফেলে দিয়েছি এই রাজধানী শহরে।
একুশ বছরের যুবক এখন বিয়াল্লিশ বছরের নতজানু প্রৌঢ়। তবু এই তুষ্ণা আমার যায় না। মানুষের মুখের গড়নে এমন কি বিশেষত্ব যে আমাকে প্রতিনিয়ত টানে। কেন যে ভেতর থেকে দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে , আহা! আমার গ্রামের মানুষের মত আমি যদি এই শহরের সবাইকে চিনতে পারতাম! (সম্পূর্ণ…)

বুমধাত্রী কার্মেন বাল্সেল্সের মহাপ্রয়াণ

রাজু আলাউদ্দিন | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১:১৫ অপরাহ্ন

carmen-mario.jpgবুম সাহিত্যের অন্যতম হোতা, গাবো-ভার্গাস ইয়োসা-নেরুদা সহ মোট ছয়জন নোবেল বিজয়ী হিস্পানিক লেখকের এজেন্ট কার্মেন বাল্সেল্স ওরফে “মামা গ্রান্দে” ৮৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে শোকবাণী রেখেছেন বাল্সেল্স-এর অন্যতম প্রিয় বন্ধু ও ক্লায়েন্ট নোবেলবিজয়ী লেখক মারিও ভার্গাস ইয়োসা। স্পেনের উপন্যাসিক হুয়ান মার্সে-ও লিখেছেন অল্প কথায়।
মারিও বার্গাস যোসা তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন: সংবাদটা আমার কাছে বজ্রপাতের মতো, তিনদিন আগেও তার সাথে কাজ করছিলাম, একসঙ্গে নৈশাহারে যোগ দিয়েছিলাম। তিনি ছিলেন সবসময় প্রাণবন্ত, মাথাভর্তি নানান পরিকল্পনা, ছিলেন বাস্তববাদী। মনে হতো তিনি বুঝি চিরকাল বেঁচে থাকবেন। কিন্তু তার শরীর আসলেই ভেঙে পড়েছিল। … কার্মেন আমাদের ভাষার লেখক ও প্রকাশকদের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তন এনে স্প্যানিশ সাংস্কৃতিক জীবনে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তার কারণেই স্প্যানিশ ভাষার লেখকরা মর্যাদাপূর্ণ চুক্তি ও সম্মানজনক স্বত্বাধিকার দেখতে শুরু করেছিলাম। অন্যদিকে, তিনি স্পানঞা ও লাতিন আমেরিকার প্রকাশকদেরকে ক্ষুদ্র গণ্ডী থেকে বের করে আধুনিক ও উচ্চাশী করে তুলেছিলেন নানাভাবে। (সম্পূর্ণ…)

টমাস ট্রান্সট্রয়মারের কবিতা

| ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ১:৫৬ অপরাহ্ন

trans.jpgকবি টমাস ট্রান্সট্রয়মারের জন্ম স্টকহোমে ১৯৩১ সালের ১৫ এপ্রিল আর প্রয়াণ এ বছরের ২৬ মার্চ। ছাত্রজীবন থেকেই সুইডেনের সাহিত্য সাময়িকীগুলোতে ট্রান্সট্রয়মারের কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯৫৪ সালে ১৭টি কবিতা (17 Dikter) শিরোনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে সুইডিশ ভাষার একজন শক্তিমান কবি হিসেবে আবির্ভূত হন। লেখালেখির শুরুর সময়ে তিনি সুইডেনের আধুনিকতাবাদী কবিদের বাগাড়ম্বরপূর্ণ ভাষার বিপরীতে সহজ ভাষা ও সরল রচনাশৈলী ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন যা ছিল তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মানানসই। ফলে তাঁর কবিতা হয়ে ওঠে অতীতের সুইডিশ কবিতা থেকে ভিন্নতর। ট্রান্সট্রয়মারের কবিতার বড় অংশ জুড়ে স্থান পায় প্রকৃতি ও সঙ্গীত। সমগ্র লেখালেখিতে ট্রান্সট্রয়মার বোধের অতিপ্রাকৃত গভীরতা, প্রজ্ঞা আর পৃথিবীকে উপলব্ধি করায় আচ্ছন্ন ছিলেন। বিশ্বের ৭০টিরও অধিক ভাষায় অনূদিত হয় তাঁর কবিতা। তিনি দেশে-বিদেশে বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১১ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। উত্তর ইউরোপের জীবন ও প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে কবি টমাস ট্রান্সট্রয়মারের কবিতা রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার সঙ্গে তুলনীয়। অনুবাদও তেমনি দুরূহ। তাই, অনুবাদগুলো মূল সুইডিশ থেকে করা হলেও রবিন ফালটনের ইংরেজি ভাষান্তরের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়া হয়েছে। অনুবাদের অনুমতি প্রদানের জন্যে ট্রান্সট্রয়মারের সহধর্মিনী মনিকা ট্রান্সট্রয়মার এবং বর্তমান অনুবাদকর্মটির ক্ষেত্র তৈরি করে দেবার জন্যে উপসালা সাহিত্য কেন্দ্র এবং সুইডিশ আর্টস কাউন্সিল-এর কাছে অনুবাদকদ্বয় কৃতজ্ঞ। (সম্পূর্ণ…)

অনিল বাগচীর একদিন: মোনোক্রোম সময়ে বর্ণিল বেদনার গাথা

মাহমুদুল হোসেন | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ৯:৩৮ অপরাহ্ন

anil-bagchi.jpgঅনিল বাগচীর একদিন একটি লিরিক্যাল দৃশ্যমান প্রবাহ যা আবেগের উঁচু তার ছুঁয়ে চলে। যখন শুনি ছবির চরিত্রের মুখে যে, “প্রকৃতির মাঝে এমন কিছু সৌন্দর্য লুকানো থাকে যা শুধু হৃদয়ে ধারণ করতে হয়, অন্য কোনোভাবেই ধরে রাখা যায় না”, তখনই যেন এই ছবির ভবিতব্য নির্ধারিত হয়ে যায়। জ্যোৎসনা রাতে স্থির জলের সৌন্দর্য, বর্ষার মেদুরতা অথবা ভীষণ সবুজের অবারিত ল্যান্ডস্কেপ—মুক্তিযুদ্ধের দুষ্কালের দিবানিশিতে প্রেরিত করেছিল আমাদের অথবা পিপাসিত করেছিল সেই মোনোক্রোম, ডেজোলেট সময়ে ওই সৌন্দর্যকে পুনরাবিষ্কারের। এই ছবি, তার গল্প ও ইমেজ, সেই সুন্দরের প্রতি এক আবেগ থরথর নিবেদন।

মোরশেদুল ইসলামকে অনেকদিন আগে জাতীয় চলচ্চিত্রবিষয়ক এক লেখায় বাংলাদেশের জন ফোর্ড বলে আখ্যায়িত করা গিয়েছিল। এদেশের মানুষ, তাদের জীবন, সংগ্রাম, আনন্দ-বেদনাকে তিনদশক ধরে তিনি এক ঘোর লাগা চোখে আমাদের দেখিয়ে চলেছেন তার সিনেমায়। সেখানে যুক্তির চেয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে আবেগ, বুদ্ধির মাপ হেরে গেছে ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে। তার এই নতুন ছবি নিয়ে তিনি নিজেই বলছেন, একটি সহজ, সরল গল্প তিনি বলতে চেয়েছেন, কোনো কায়দা বা মারপ্যাঁচ দেখানো তার উদ্দেশ্য ছিল না। আর এই সহজ, সরল গল্পটি লিখেছেন হুমায়ূন আহমেদ—যার চরিত্ররা জীবনের নিস্তরঙ্গ পুকুরে ঢিল ছুঁড়ে যে কাঁপন তোলে তারা সঞ্চারিত হয় জন থেকে জনে; ক্রমান্বয়ে জনমনে। সেই মেজাজেই এগিয়েছে চলচ্চিত্র অনিল বাগচীর একদিন। কিন্তু যেমনটি বলেছেন মোরশেদ ঠিক ততখানি সরল একরৈখিক ভঙ্গিতে এগোয় নি সিনেমার গল্প। সময়ের ভাঙচুর আছে, জীবন ও স্বপ্নের মধ্যে যাতায়াত আছে, বর্ণ ও বর্ণহীনতার বৈপরীত্য আছে, বলা না বলার লুকোচুরি আছে। আর আশ্চর্য যে, এ এমন এক গল্প যা সরল কিন্তু ধ্রুপদী ন্যারেটিভের ধার ধারে না সে। গল্পের, এখানে সিনেমার, শুরুতেই অনিল বাগচীর এই একটি দিন কীভাবে শেষ হবে, তা আমরা, দর্শকেরা যেন জানি। ক্লাইমেক্স আমাদের উজ্জীবিত, আতঙ্কিত, হতাশ করে না—একটি বিষন্ন, বেদনাহত নিয়তি নির্দিষ্ট সময়ের যাপন এই চলচ্চিত্র; একই সাথে প্রিয় স্বদেশের প্রকৃতির উদযাপন এবং কিছু ঐশ্বর্যময় পংক্তিমালার উপভোগ। চলচ্চিত্র হিসেবে বেশ কিছু ঋণাত্বক বৈশিষ্ট্য নিয়েও এভাবেই অনিল বাগচীর একদিন একটি নতুন সিনেমা, একটি উল্লেখযোগ্য যোগ আমাদের চলচ্চিত্রের সীমিত ভাণ্ডারে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com