ভরদুপুরে শঙ্খ ঘোষের সাথে: “কোরান শরীফে উটের উল্লেখ আছে, একাধিকবারই আছে।”

রাজু আলাউদ্দিন | ২৯ এপ্রিল ২০১৫ ১০:২৬ অপরাহ্ন

s-ghosh.jpg২৭ মার্চ রাতে পৌঁছেছিলাম কলকাতায়, প্রায় ষোল/সতের বছর পর। তবে সেবার ছিলাম একা, আর এবার দারাপুত্রপরিবারসহ। মূল লক্ষ অবশ্য দিল্লী যাওয়া, নিতান্তই ব্যক্তিগত কাজে। কিন্তু দিল্লী যাব অথচ কলকাতা হয়ে যাব না তা কী করে হয়। আর কলকাতায় গিয়ে প্রিয় লেখক শঙ্খ ঘোষের সঙ্গে দেখা করবো না, তা-ই বা কী করে ভাবি!।

২৭ তারিখ রাতেই কবি বন্ধু রাহুল পুরকায়স্থকে বললাম, শঙ্খ দার সঙ্গে দেখা করতে চাই, তোমার কাছে তাঁর ফোন নাম্বার আছে? “আছে,” কিন্তু পরক্ষণেই দ্বিধার মরচেধরা কণ্ঠে সে জানালো, “কিন্তু পাবেন কিনা জানি না। তবু দিচ্ছি।”
ওর দ্বিধার কারণ বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম, “তোমরা কি পাওনা কখনো?” আমি তার কণ্ঠ থেকে মরচে সরাবার চেষ্টা করলাম।

“পাই, তবে বহু চেষ্টার পর। আমি অবশ্য এখনকার কথা বলছি। উনি এখন নিজের বাসায় নেই, শুনেছি মেয়ের বাসায় আছেন। নিজের বাসায় থাকলে উনি ধরেন।” রাহুল ধীরে ধীরে গোয়েন্দা গল্পের মতো রহস্যের জট খুলতে লাগলো। “যদি আপনার ভাগ্য ভালো থাকে তাহলে পাবেন। বুঝলাম রহস্যের জট খুললেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের উপর গিয়েই আমার আকাঙক্ষার ভার ন্যাস্ত হচ্ছে। (সম্পূর্ণ…)

নেপাল ২০১৫

মাহফুজ পারভেজ | ২৮ এপ্রিল ২০১৫ ৮:৫৭ অপরাহ্ন

nepal.jpgহাত বাড়ালেই মুঠো ভরে আসে স্মৃতির ধূসর ধুলোমাখা
এলোচুল রমণীর শীতমগ্ন দিনযাপনের খেলা;
অনঙ্গ রহস্যে, সম্পর্কের শূন্যতায় আমাদের প্রত্নকৌতুক
চৌচির নেপালে;
জলের অন্তস্থ জলে
বাতাসের শরীরিক বিন্যাসে, বিস্তারে
যোগসূত্রের স্বর্ণাভ অদেখা সুতোটি কাঠমাণ্ডুর আকাশে স্তম্ভিত;
স্বরচিত কৈশোরবিনাশী কুসুমের ঘ্রাণ মুছে যায় মৃতের আতরে। (সম্পূর্ণ…)

সমস্বর-এর শুভ উদ্বোধন

| ২৮ এপ্রিল ২০১৫ ৮:৫১ অপরাহ্ন

pic-2.jpgযাত্রা শুরু করল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সমস্বর’। রাজধানীর পরিবাগে সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংগঠনটির শুভ উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। রবীন্দ্রনাথের ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’– গানের সঙ্গে সঙ্গে পাঁচটি মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে আয়োজনের শুভ সূচনা করেন তিনি। এ সময় সেলিনা হোসেন বলেন, ‘দেশের এই ক্রান্তিকালে তরুণ প্রজন্মের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। চলমান আঁধারের মধ্যে সংগঠনটি আলোকবর্তিকা হিসেবে এগিয়ে যাবে–এমনটাই প্রত্যাশা রইল আজকের দিনে।’ (সম্পূর্ণ…)

স্পেনের গৃহযুদ্ধের পঁচাত্তর বছর এবং লোরকার অস্থি

অংকুর সাহা | ২৭ এপ্রিল ২০১৫ ১২:৩১ অপরাহ্ন

…বুঝতে পারলাম আমাকে খুন করা হয়েছে।
কাকে, কবরখানা ও গির্জের ভেতর
ওরা খুঁজে বেড়াল, ওরা খুলে দেখল
কাঠের পিপে আর সিন্দুক,
সোনার দাঁত খুলে নেওয়ার জন্য ওরা
তিন তিনটে কংকাল চুরি করল
তবু ওরা আমায় খুঁজে পেল না।
ওরা আমায় খুঁজে পেল না?
না, ওরা আমায় খুঁজে পেল না।”

-ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা (১৮৯৮-১১৩৬) [বাংলা অনুবাদ: পুষ্কর দাশগুপ্ত]

১. স্পেনের গৃহযুদ্ধ

স্পেনের গৃহযুদ্ধ সে দেশের ইতিহাসে একটি রক্তক্ষয়ী অধ্যায়। ঘটনাটি ঘটেছিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ঠিক আগে এবং চলেছিল প্রায় তিন বছর– ১৭ জুলাই ১৯৩৬ থেকে ১ এপ্রিল ১৯৩৯।
যুদ্ধের শেষে চালু হয় স্পেনের ইতিহাসের এক কলংকিত অধ্যায়– ফ্যাসিবাদী জেনারেল ফ্রানসিস্কো ফ্রাংকোর (১৮১২-১৯৭৫) সাড়ে তিন দশকের একনায়কতান্ত্রিক অপশাসন।
উনবিশংশ শতকের প্রথম থেকেই স্পেনে রাজতন্ত্রের কড়া শাসন– ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপের সক্রিয় সমর্থনে। ঈশ্বর, দেশ ও রাজা–সে দেশের শাসন ব্যবস্থার তিনটি স্তম্ভ। অভিজাত, জোতদার এবং ধর্মপ্রচারকদের কবলে দেশের সব কৃষিজমি। আর লক্ষ লক্ষ সাধারণ পরিবার তাদের ভূমিদাস চাষি। মাঝেমধ্যে বিদ্রোহ ঘটে এবং কঠোর হাতে দমন করা হয় তাদের–রক্তাক্ত ও নির্মম। ১৮৭৩ সালে গঠিত হয়েছিল বিদ্রোহী সরকার, কিন্তু তার পতন ঘটে অল্পদিনের মধ্যে। ১৮৮৭ সালে স্পেনের সিংহাসনে বসেন সম্রাট ত্রয়োদশ আলফোন্সো–তিনি রাজত্ব করেন ১৯৩০ সাল অব্দি। কিন্তু ১৯২৩ সাল নাগাদ প্রকৃত শাসনক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয় সামরিক একনায়ক মিশেল প্রিমো দি রিডেরার হাতে। (সম্পূর্ণ…)

আবু ইসহাকের অগ্রন্থিত আত্মজৈবনিক রচনা

রাজু আলাউদ্দিন | ২৬ এপ্রিল ২০১৫ ১:০১ পূর্বাহ্ন

_ishak-pic.jpgঅতি সম্প্রতি দিল্লী সফর করতে গিয়ে দৈবের বশে বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের আদিপর্বের প্রধান লেখকদের একজন কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাকের অগ্রন্থিত এই লেখাটি নজরে আসে। হাফিংটন পোস্ট (ভারত)-এর বার্তা সম্পাদক ইন্দ্রানি বসু, তার বাবা লেখক অধ্যাপক দিলীপ কুমার বসু এবং লেখিকা ও শিক্ষিকা নন্দিতা বসুর ব্যক্তিগত পাঠাগার দেখার সুযোগ করে না দিলে এই আবিষ্কার আদৌ সম্ভব হতো কিনা সন্দেহ। তাদের উদার আতিথেয়তার সুযোগ নিয়ে ফাঁকে ফাঁকে চোখ বুলিয়ে নিয়েছিলাম লোভনীয় পাঠাগারের ঘুমিয়ে পড়া বইগুলোর দিকে। নিতান্ত কৌতূহলবশত–পুরোনো বইয়ের প্রতি যা আমার সদাজাগ্রত–শ্রীশৌরীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং শ্রীপরেশ সাহার সম্পাদনায় কথাশিল্পী শীর্ষক ঘুমের অভিশাপে নিথর রাজকুমারীর গায়ে সোনারকাঠি ও রূপোরকাঠিসদৃশ প্রেমপ্রবণ আমার আঙুলের স্পর্শ মাত্র সে চোখ মেলে তাকালো। আমিও চোখ রাখলাম বইটির বারান্দায় (সূচীপত্রে)। দেখলাম সেখানে বসে অাছেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান লেখকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের লেখক আবুল ফজল, আবু ইসহাক, মহীউদ্দীন চৌধুরী, মবিন উদদিন আহমদ এবং শামসুদদীন আবুল কালাম। এই গ্রন্থের জন্য লিখিত আত্মজৈবনিক এই লেখাগুলো এখনও পর্যন্ত তাদের কোনো গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা যায় না। আমরা এই পর্বে লেখক আবু ইসহাকের লেখাটি প্রকাশ করছি। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২৪ এপ্রিল ২০১৫ ১:৪৬ পূর্বাহ্ন

garcia_marquez.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

প্রতিটি স্বপ্ন ছিল উদ্বেগের, ভয়াবহতার

রাহুল পুরকায়স্থ | ২২ এপ্রিল ২০১৫ ৮:২৬ অপরাহ্ন

pia-1.jpgতিনি পেলেন; না পেলেই-বা কী যেত-আসত তাঁর, তাঁর কবিতার! কেন না তথাকথিত খ্যাতি, যশ তাঁর কবিতাকে, লেখালেখিকে অনেকদিন আগেই ছেড়ে গেছে, যেমন যায়; যশহীন কবিতারা দিগন্ত রাঙায়, আর ওই দিগন্তের দিকে চারপাশে চোখ বোলাতে বোলাতে খাটো পায়জামা-ফতুয়ায় হেঁটে উৎপালকুমার বসু। কবি উৎপল কুমার বসুর নাম এতদিনে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার প্রাপকের তালিকায় উঠে এল, উঠে এল!

মূক তুমি তাকিয়ে রয়েছ ঠাণ্ডা ভাতের থালার দিকে।/কী দেখছ, তুমি জানো আর জানে আধ-হাতা ডাল/ নূনের সঙ্গে ভিজে মাখামাখি, চালে হলুদ কাঁকর।/ধানের পোড়াটে খোজা, তুমি জানো যথার্থই জানো।/এদের ভিতর কোন সাংবিধানিক দূতীপনা খেলে যাচ্ছে–।/মেলা ছক, গূঢ় আঙুল বাঁকানো এক তুখোড় ছক্কাদান। /লাল গুটি এগিয়ে চলেছে তার মরুভূমি দিয়ে
লাল ঝোল গড়িয়ে পড়ছে ঐ মাছটুকু ঘিরে। /গ্রামের আগের মুহুর্তে ঠিক যে-ঘার মতন/নিজের বিশ্বাসে কাঁপছে–ভাত, ঝোল, নূনের আঙুল।/যে বিশ্বাসে কাঁপে নীল গুটিগুলি লাল খেলা ঘরে।

১৯৮২ তে প্রকাশিত লোচনদাস কারিগড় কাব্যগ্রন্থের এই কবিতাটির নাম সুই লুডো-খেলা।
গত ৩০/৩২ বছর তো হবেই। আমি নিয়মিত লক্ষ করে চলেছি উৎপলকুমার বসুকে। উৎপলকুমার বসুর লেখালেখিকে। আমাদের চারপাশে, আমাদিগের চারিপাশে পড়ার মতো বাংলা সাহিত্য প্রতিদিন কতই না রচিত হয়ে চলেছে। কিন্তু লক্ষ করার মতো? (সম্পূর্ণ…)

বুলান্দ জাভীরের সাতটি কবিতা

বুলান্দ জাভীর | ২১ এপ্রিল ২০১৫ ১১:০৪ অপরাহ্ন


আততায়ী পারফিউম

দৃষ্টিনন্দন ক্রিস্টাল বাহনে পর্যটন করা ফরাসি এজেন্টের
তরল পুষ্পের ঘ্রাণমুগ্ধ হয়ে
তুমি যখন তাকে তোমার সঙ্গী কর।
তুমি তার আপাত নিরীহ তরল রূপের প্রেক্ষাপটে
বিলম্বিত হন্তারকের ভূমিকা ধরতে পার না।
ফলে তুমিও এই আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ হয়ে যাও।

তুমি জান না
পারফিউমের একটি বিনাশী ভূমিকা আছে।
পারফিউমের-এর একটি বিলম্বিত হন্তারকের ভূমিকা আছে।
ঘ্রাণইন্দ্রিয়ের যোগসাজসে
মস্তিষ্ককোষের বন্ধ দরোজা-জানালাগুলো
খুলে ফেলে একের পর এক অবলীলায়।
তারপর আস্তে আস্তে তার বিষক্রিয়া
রক্তের শিরা উপশিরা ধরে
সমগ্র দেহের রোমকূপে ছড়িযে যায়। (সম্পূর্ণ…)

বিষাক্ত গল্প

মনি হায়দার | ২০ এপ্রিল ২০১৫ ৭:৩১ অপরাহ্ন

হাসান জামালের সঙ্গে পরিচয় বছর তিনেক আগে, একুশের বই মেলায়।
কে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল, মনে নেই। হাসান জামাল গল্প উপন্যাস কবিতা লেখেন। প্রথম বছর পরিচয়ের দিনে তিনি জানান, প্রায় বছর বিশেক পর আবার লেখার জগতে এলাম।
মানে? আমি বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করি। এতদিন, বছর লেখেননি কেন?
নানা কারণে হয়ে ওঠেনি।
আমার কাছে বিস্ময় লাগে, একজন মানুষ যখন লেখেন, লিখতে শুরু করেন, তিনি লেখা ছাড়া থাকেন কী করে? হতে পারে, মানুষ বলেই হয়ত সম্ভব। মানুষ পারে না এমন কাজ জগতে আছে? এক সময়ের বেতারে জনপ্রিয় সংবাদ পাঠক ইমরুল চৌধুরী কবিতা লিখতেন। মাঝে অনেক বছর লেখেননি। কয়েক বছর আগে আবার লিখতে শুরু করেছিলেন। কী চমৎকার কবিতা লিখতেন ইমরুল চৌধুরী। একটা পত্রিকাও বের করেছিলেন কবিতাবিষয়ক। যতদূর মনে পড়ছে–সময়ের স্রোত ছিল পত্রিকাটির নাম। পুরনো ঢাকার ইতিহাসখ্যাত বিউটি বোর্ডিং নিয়ে একটা কমিটি গঠন করেছিলেন। একাত্তরের পাকিস্তানি জল্লাদের হাতে শহীদ প্রহল্লাদের স্মৃতিবিধৌত স্থনটিকে দখলদারদের হাত ধেকে বাঁচাতে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। এখন আর দেখতে পাই না ইমরুল চৌধুরীর কবিতা। তিনি কি আবার নিজেকে লেখার জগত থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন? হয়ত। নইলে পত্রপত্রিকায় লেখা দেখতাম। এ হয়। অনেক লেখকের হয়। জীবন কি আর ব্যাকরণ মেনে চলে? জীবন নিজেই তো একটা নিজস্ব ব্যাকরণ। (সম্পূর্ণ…)

গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার: দারিদ্র্যের চরম অবস্থায় ভাষা হারিয়ে যায়। ছবি সেই ভাষাকে উদ্ধার করে।

বিনয় বর্মন | ১৯ এপ্রিল ২০১৫ ৯:০৩ অপরাহ্ন

grass-1.jpgগুন্টার গ্রাসের এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয় প্যারিস রিভিউতে ১৯৯১ সালের গ্রীষ্ম সংখ্যায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন এলিজাবেথ গ্যাফনি। গুন্টার গ্রাসের প্রয়াণ উপলক্ষ্যে লেখালেখি বিষয়ে তার আলাপচারিতার অংশবিশেষ কবি ও অনুবাদক বিনয় বর্মনের অনুবাদে উপস্থাপন করা হলো। বি.স.

আপনি কিভাবে লেখক হলেন?

আমার মনে হয় এটা আমার সামাজিকভাবে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারটি থাকতো একটা ছোট দুই রুমের ফ্লাটে। লিভিং রুমের এক কোণে ছিল আমার বইপত্র। খুব অল্প বয়সেই আমি লিখতে, পড়তে ও আঁকতে শিখেছিলাম। বড় হয়ে আমি পড়ার জায়গা বিস্তৃত করেছি। অন্তত চারটি ভিন্ন জায়গায় আমার বইপত্র রাখা, যাতে যখন যেখানে খুশি বসে পড়তে ও লিখতে পারি। ছেলেবেলার সেই গাদাগাদি পরিবেশটি আমাকে ভীত করে তোলে। (সম্পূর্ণ…)

কবি ও ঔপন্যাসিক গ্যুন্টার গ্রাসের প্রয়াণে

মনির ইউসুফ | ১৯ এপ্রিল ২০১৫ ৪:৩০ অপরাহ্ন

gunter-grass.jpg‘কবি সেই সুদীর্ঘ অতীত ও বর্তমান সত্তা, একই সঙ্গে জটিল ও সরল, যেন দাঁড়িয়ে আছেন স্বপ্ন ও বাস্তবতার, দিন ও রাত্রির সীমানা ছুঁয়ে; এবং তাঁরই ভেতর দিয়ে উঠে আসছে সমস্ত প্রকার উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি; এবং যেন তিনি হঠাৎ অর্ন্তগত বিস্ফোরণ খুঁজছেন এবং গ্রহণ করছেন সমস্ত ধ্বংস ও বিপর্যয়ের শক্তি ও উন্মেষের মুক্তিমন্ত্র।’ (এমে সেজায়ার)

কট্টর ইউরোপিয় একদেশদর্শী এনলাাইটেন্টমেন্টের বিপক্ষে কথা বলার শেষ সাহসী কবি ও কথাসাহিত্যিক গ্যুন্টার গ্রাস চলে গেলেন পৃথিবীর বাইরে, অন্যলোকে। সাহিত্যে বিংশ শতাব্দীর শেষ নোবেল বিজয়ী গ্রাস মহাজীবনে প্রবেশ করলেন সোমবার ১৩ এপ্রিল ২০১৫। জার্মান লেখকদের মধ্যে গ্যেটে যেমন অনেক মানুষের প্রিয় কবি ও লেখক, তেমনিভাবে গ্যেটে-পরবর্তী শতাব্দীর জার্মান কবি কথাসাহিত্যিক চিত্রকরদের মধ্যে গ্যুন্টার গ্রাসও মানুষের বাস্তব আকাঙ্ক্ষার সাহিত্যিক নায়ক। বাংলাদেশে গ্যুন্টার গ্রাসকে ব্যাপক ও বিপুলভাবে পরিপ্লাবিত হতে দেখি গুন্টার গ্রাসের ঢাকা আবিষ্কার নামক একটি বড় মলাটের গ্রন্থে। ফেব্রুয়ারি ২০০১ ‘আগামি প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত ‘নাসির আলী মামুন’ সম্পাদিত গ্রন্থটিতে লেখক গ্রাসকে পেয়ে শিল্পের শুভ্রতায় চমকিত হই। পুরো গ্রন্থের পৃষ্ঠায়-পৃষ্ঠায় গ্রাসের বাংলাদেশ ভ্রমণের ছবি এমন আকর্ষণ ও মোহময় করে রাখে, দেখলেই আবিষ্ট হয়ে পড়বে যে কোনো সৃষ্টিশীল মানুষ। মনের ভেতর তৈরি হবে একটি নতুন জগত। (সম্পূর্ণ…)

জমিলার বিয়ে

মো. আনোয়ার হোসেন | ১৮ এপ্রিল ২০১৫ ৭:৪৪ অপরাহ্ন

পঞ্চমীর চাঁদ তখনও ডুবে যায়নি। তার আলোয় প্রথম যা নজরে পড়ল তা একটি থ্রি নট থ্রি রাইফেলের নল। শীতের ঠান্ডা এখন স্বস্থিদায়ী। তারপরও নদীর খোলা হাওয়ায় একটু শীত অনুভব করি আমরা। যে নৌকাটিতে আমরা উঠেছি, তা ঠিক সাম্পান নয়। যদিও নাফ নদিতে প্রায় সব নৌকাই ছই তোলা সাম্পান। এ নৌকাটি ছিপ নৌকার মতো। লম্বা ও খোলা। তার দুপাশে দুজন করে চারজন যুবক বৈঠা নিয়ে বসেছিল। নৌকার পাটাতনে বিছানো ছিল রাইফেলটি। মোক্তারের নির্দেশে ওই যুবকেরা আমাদের ব্যাকপ্যাকগুলো এমনভাবে গুছিয়ে রাখছিল যাতে নৌকার ভারসাম্য ঠিক থাকে। আমরা পনেরজন যুৎ হয়ে বসেছি। নৌকা চলতে শুরু করেছে। সঁপাসপ বৈঠা পড়ছে। নাফ নদীর নোনা পানি কেটে নৌকা চলছে তিরবেগে।
জামার সাইড পকেটে হাত ঢোকাল মোক্তার। তারপর বের করা হাত যখন মেলে ধরল, তখন চাঁদের আলোয় পাঁচটি বুলেট চকচক করে উঠল। আমরা চলেছি অজানা গন্তব্যে। মোক্তার আমাদের গাইড। সুঠাম চার যুবকের আটটি হাতের ছন্দময় আন্দোলনে নৌকা এগিয়ে চলেছে। সাম্পানের গতি মন্থর। আমাদের এপারে যেমন আছে ইপিআর ঠিক তেমনি ওপারে বর্মি সীমান্তরক্ষী নাসাকা বাহিনী। দ্রুতগতির গানবোট আছে তাদের। ওদের দৃষ্টি এড়িয়ে ওপারে পৌঁছাতে হবে। এই নিশিরাতে লম্বা ছিপ নৌকা বেছে নেওয়ার কারণটি বোঝা গেল। খোলা রাইফেল ও তাজা বুলেট কেন দেখাল মোক্তার? তা কি এ কথা বোঝাতে যে আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অস্ত্র আছে আমাদের সঙ্গে। নাকি আমাদের মনে ভয় সঞ্চার করা তার উদ্দেশ্য? (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com