আসহাব উদ্দীন আহমদের জীবনস্মৃতি: উন্মেষপর্ব

সলিমুল্লাহ খান | ৩১ december ২০১৪ ৬:৩৬ অপরাহ্ন

border=0অনেক ছোটবেলা হইতেই আসহাব উদ্দীন আহমদের নাম শুনিতেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমার–এ জীবনে তাঁহার সহিত কোনদিন দেখা হইল না। তিনি এন্তেকাল করিয়াছেন ১৯৯৪ সালে। দেখিতে দেখিতে আজ বিশ বছর হইয়া গেল। বাঁচিয়া থাকিলে এ বছর তাঁহার বয়স একশত বছর হইত। কিন্তু যতদূর জানি–এই দেশ–বিশেষ এই দেশের ধুরন্ধর সমাজ তাঁহাকে তাঁহার প্রাপ্য কদর বুঝাইয়া দেয় নাই। পরিবারের বাহিরে কোথাও কেহ তাঁহার শতবর্ষ পালন করে নাই।


আসহাব উদ্দীন আহমদ জীবনের প্রথম ভাগে পেশা হিশাবে শিক্ষকতার ব্রত গ্রহণ করিয়াছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি কুমিল্লায় শিক্ষক হিশাবে কর্মরত ছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর শাসক-শোষক শ্রেণীর কাণ্ডকারখানা দেখিয়া দিনের পর দিন তাঁহার মনে অসন্তোষ জমিয়া উঠিতেছিল। শিক্ষকতার সংকীর্ণ জীবন তাঁহার লাগিতেছিল বিস্বাদ। তাঁহার ভাষায়, ‘[শোষিত] জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যারা বৃহত্তর সংগ্রামে নিয়োজিত ছিলেন তাঁদের পেছনের কাতারে গিয়ে দাঁড়ানোর এক অদম্য আকাঙ্ক্ষা আমাকে পেয়ে বসেছিল। ভাষা আন্দোলন আমাকে ধাক্কা মেরে শিক্ষাঙ্গন থেকে রাজনীতির অঙ্গনে পার করিয়ে দেয়।’ (আহমদ ২০০৪: ৩১) তাহার পর প্রায় তিরিশ বছর তিনি একাধারে পেশাদার রাজনীতিবিদের, অন্যধারে লেখকের জীবন যাপন করিয়াছেন। তাহার মধ্যে পনের বছর আবার আত্মগোপনের রাজনীতি। শেষ জীবনে তিনি প্রচলিত রাজনীতির উপর বীতশ্রদ্ধ হইয়াছিলেন। শেষ জীবনের প্রায় পনের বছর তিনি ছিলেন শুদ্ধ একান্ত লেখক। (সম্পূর্ণ…)

নারী, তোমার চোখেই সজ্জিত হয়ে আছে এই বিশ্ব: বিসেন্তে উইদোব্রোর কবিতা

তাপস গায়েন | ৩০ december ২০১৪ ১০:১৩ অপরাহ্ন

border=0কবি এবং কবিতা পরিচিতি

“আমাকে দিয়েই সমসাময়িক কবিতার শুরু,” এই ভাষ্যে চিলির আত্মপ্রত্যয়ী কবি বিসেন্তে উইদোব্রো (১৮৯৩-১৯৪৮), যিনি প্রতিকবিতার (এণ্টি পোয়েট্রির) প্রাণপ্রতিষ্ঠা করে তার জনক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন চিলির আর এক স্বঘোষিত প্রতিকবি (এণ্টি পোয়েট) নিকানোর পাররা থেকে; এবং কবিতায় “ক্রিয়েশনইজম” তত্ত্বের প্রবর্তক হয়ে কবি উইদোব্রো লিখে যাবেন, “কবিতার বড় বিপদ হোল তার কাব্যিকতা ।” এবং তাঁর এপিটাফে উৎকীর্ণ হবে, “এইখানে শুয়ে আছে কবি বিসেন্তে উইদোব্রো/ উন্মোচন করো এই কবর/ তুমি দেখবে সমুদ্র এই সমাধি গভীরে ।”

অালোনসো দে আরসিলা’র ‘লা আরাউকানা’র প্রকাশের তিনশ বছর পরে প্রশান্ত মহাসাগরবিধৌত আন্দেস পর্বতমালার এই দীর্ঘ ক্ষীণভূমি, যে দেশটিকে আমরা চিলি নামে জেনেছি, কবি বিসেন্তে উইদোব্রো ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর “জলের দর্পণ” এবং ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর “আলতাযর” কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে সেই দেশটিকে স্বাধীনতা-উত্তর লাতিন-আমেরিকার কবিতাবিশ্বে অগ্রণী করে তুলবেন । [১] (সম্পূর্ণ…)

ভূমিপুত্র জয়নুল

শামীম সিদ্দিকী | ২৯ december ২০১৪ ২:৪৫ অপরাহ্ন

jaynul-abedin.gifকেন এমন থমকে দাঁড়াই
কোন চিত্রলেখার সামনেই
কেন এতো কান্না ডুকরে আসে
আলিঙ্গনে ডাক দেয় আত্মীয়তা
দরদ-মমতা-দুঃখ আত্মপরিচয় (সম্পূর্ণ…)

সিলেটের আদিকথা

আবুল মাল আবদুল মুহিত | ২৮ december ২০১৪ ৫:৫৬ অপরাহ্ন

মোগল সুবা বাংলায় বৃটিশ শাসনের সূচনা হয় ১৭৫৭ সালে যখন পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতা-সূর্য অস্তমিত হয়। ফার্সীই কিন্তু বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজত্বকালের প্রথম আশি বছর ছিল এদেশের রাজভাষা। ১৮৩৭ সালে ইংরাজী হলো বৃটিশ-ভারতের রাষ্ট্রভাষা এবং ১৮৪৪ সালে নির্দেশ হলো যে, সরকারি কর্মকর্তাকে অবশ্যিই ইংরাজী জানতে হবে। সেই সময় মুসলমান এলিট গোষ্ঠি ফার্সী এবং ঊর্দুর প্রবক্তা হয়ে গেলেন। হিন্দু সম্প্রদায় কিন্তু সহজেই এই পরিবর্তন মেনে নিলেন এবং এতে সূচনা হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের পশ্চাৎপদতা এবং সম্ভবতঃ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ যার পূর্ণ সুযোগ নেয় বৃটিশ সামাজ্যবাদ। প্রথম পরিবর্তনের হাওয়া প্রবর্তন করলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮৬১ সালের প্রথম মুসলমান স্নাতক হুগলীর খান বাহাদুর দেলোয়ার হোসেন আহমদ। বাংলার ভূখণ্ডে ক্রমে ক্রমে এই প্রগতিবাদী গোষ্ঠি ভারি হতে থাকলো। কুষ্টিয়ার মীর মোশাররফ হোসেন, ঢাকার কবি কায়কোবাদ, যশোরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ, সিলেটের ইতিহাসবিদ মোহাম্মদ আহমদ, চব্বিশ পরগনার শেখ আবদুর রহিম, বরিশালের মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন, রাজশাহীর মির্জা মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, টাঙ্গাইলের নওশের আলী খান ইউসুফজাই, সিরাজগঞ্জের ইসলাম হোসেন সিরাজী, ধানবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী, সিলেটের শিক্ষাবিদ স্কুল পরিদর্শক আবদুল করিম, ফেনীর খান বাহাদুর আবদুল আজিজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবাব সৈয়দ শামসুল হুদা, খুলনার খান বাহাদুর এমদাদুল হক, লাকসামের নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী, রংপুরের বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ মুসলিম সমাজে পুনর্জাগরণের সূচনা করেন। (সম্পূর্ণ…)

জাফর ইকবাল, জিয়া হায়দার রহমান ও মৃত্যু সমাচার

সাগুফতা শারমীন তানিয়া | ২৫ december ২০১৪ ১০:৫৬ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ মৃত আর বাংলাদেশ মৃতদের দেশ এই দুইয়ের ভিতরে সামান্য কিন্তু দুর্লঙ্ঘ্য ফারাক আছে। বাংলাদেশকে মৃত বলা একটি ঢালাও প্রতিবেদন, আর বাংলাদেশ মৃতদের দেশ এই বলার ভিতরে সত্যদর্শীর অভিমান। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে বিতর্ক করার সময় ডক্টর মুহম্মদ জাফর ইকবালের জীবন এবং কথার উদ্ধৃতি দিয়ে আমরা আশাব্যঞ্জকভাবে ইতিবাচকভাবে বিতর্ক শেষ করতাম, ওঁর নাম ওঁর ভূমিকা ওঁর দেশে ফিরে আসা এইসবই বাংলাদেশের জন্যে একটি গৌরবের চিহ্ন বলে আমরা বিশ্বাস করতাম, এখনো করি। কিন্তু এবারে তাঁর একটি লেখা পড়ে এবং লেখাটির পিছনের ‘আর্মচেয়ার ফিলসফি’ দেখে আমার মনে হয়েছে আমি কিছু বলতে চাই।

আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশের যে কোনো অবিচার-অনাচার নিয়ে কথা বলতে গেলেই যাঁরা হৈহৈ করে ওঠেন, যেকোনো অন্যায়ের জাতীয়ভাবে প্রতিবাদ করতে গেলেই যাঁরা ‘দেশের সুনাম গেল’ বলে বিবৃতি দেন, বিদেশের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ডোবানো গেল– এইসব বলেন তাঁদের বলবার ভঙ্গির সাথে মুহম্মদ জাফর ইকবালের এই লেখাটির আশ্চর্য্য মিল। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২৪ december ২০১৪ ১:০৪ অপরাহ্ন

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

জুননু রাইনের তিনটি কবিতা

জুননু রাইন | ২৩ december ২০১৪ ৫:০৭ অপরাহ্ন

কেন বলব না ‘ভালো আছি’ !

আব্বা, কেন বলব না ‘ভালো আছি’
আমি সেই সময়ের প্রতিবেশি
যেখানে জীবনই অভিঘাত
যেখানে ছুটে চলাই সংঘাত
যেখানে বেঁচে থাকাই প্রতিবাদ।

আমি’ত হেঁটে-চলে মানুষের মত বাঁচি
আব্বা, কেন বলব না ‘ভালো আছি!’ (সম্পূর্ণ…)

নরওয়ে সুইডেনে বাঙালি তরুণের কার্টুন প্রদর্শনী

আনিসুর রহমান | ২২ december ২০১৪ ৬:৪১ অপরাহ্ন

arifur-rahman-1.gifনরওয়ের বাকস্বাধীনতার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দুইশ বছর উদযাপনের অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে কার্টুন প্রদর্শনী । প্রদর্শনী প্রসঙ্গে আলোকপাত করার আগে বলে নেয়া দরকার যে এই আরিফুর রহমান, আমরা যদি ভুলে গিয়ে না থাকি, ২০০৭-২০০৮ সালে সামরিক নিয়ন্ত্রিত তত্ত্ববধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশের প্রথম সারির একটি পত্রিকার সাপ্তাহিক রম্য সাময়িকীতে একটা কার্টুন প্রকাশকে কেন্দ্র করে পত্রিকাটি মৌলবাদীদের রোষানলে পড়ে। পত্রিকার সমপাদক বায়তুল মোকাররমের তৎকালীন খতীব মৌলানা ওবায়দুল হকের কাছে তওবা পড়ে সেই রোষানল থেকে রেহাই পান। আর খোদ কার্টুনিস্ট অল্প বয়সী তরুণ আরিফুর রহমানকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আরিফ দীর্ঘ কয়েক মাস কারাবন্দি জীবন কাটান। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আরিফুর আন্তর্জাতিক কোন কর্মসূচির আওতায় একটি বৃত্তি নিয়ে নরওয়ে পাড়ি জমান। এবার প্রদর্শনী প্রসঙ্গে আসা যাক। (সম্পূর্ণ…)

অরুণাভ সরকারের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার: পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা তারা অন্যের লেখা ছেপে দিয়েছেন নিজের নামে

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ২০ december ২০১৪ ১১:২৬ অপরাহ্ন

arunav-sarker.gifকবি অরুণাভ সরকারের জন্ম টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে,১৯৪১ সালের ২৯ মে। সব মিলিয়ে তাঁর কবিতাগ্রন্থের সংখ্যা মাত্র তিন। নগরে বাউল (১৯৭৬), কেউ কিছু জানে না (১৯৮০), নারীরা ফেরে না (২০০৬) শিরোনামের কবিতাগ্রন্থগুলো হয়েছে সমাদৃত, আদর পেয়েছে অগ্রজ অনুজ কবিদের। শিশুসাহিত্যে ছিলেন সাবলীল। খোকনের অভিযান, ইলশেগুঁড়ি, ভালুকার মৌমাছি, ভালুকার দুই বন্ধু, গল্প থেকে গল্প এমন শিরোনামে লিখেছেন শিশুতোষ গ্রন্থ। সব মিলে অরুণাভ সরকারের বই এক ডজন। পেয়েছেন বাংলা একাডেমির কবিতা পুরস্কার, টাঙ্গাইল সাহিত্য সংঘ পুরস্কারসহ নানা পদক। ষাট দশকের অন্যতম শক্তিশালী এ কবি পেশাগতভাবে সাংবাদিকতায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি নিউ নেশন, দৈনিক জনপদ, দৈনিক যুগান্তর, ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ, ডেইলি মর্ণিং সান, ডেইলি ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। প্রচারবিমুখ, স্বল্পপ্রজ এই কবির ছন্দদক্ষতা ও বাকপ্রতিমা নির্মাণের অনন্যতা তাকে সুপরিচিত করেছে পাঠক মহলে।

ষাটের দশকের অন্যতম কবি অরুণাভ সরকারের কবিতা প্রথম পড়েছি আমি ২০১০ এ। আমীরুল ভাইয়ের মিরপুরের বাসায়। আমার পড়া তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম নারীরা ফেরে না (২০০৬)। আদতে এটি তাঁর নির্বাচিত কবিতার একটি সংকলন।

২০১১ সালের মে মাসে, তখন আমি ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন এ যোগদান করেছি। ফোন করে একদিন যাই কবির বাসায়। বড় একটা ইন্টারভিউ করি। যা হয়, ৬৮ মিনিট রেকর্ড করা ফুটেজ, আড়াই মিনিটের ‘কবি ভালো নেই’ মার্কা একটা স্টোরি প্রচারের পর, পরের সপ্তাহে পড়ে গেল ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের আর্কাইভ থেকে। আমার মোবাইলে ভাগ্যিস রেকর্ড করেছিলাম। রাতে শুনলাম অরুণাভ দা নাই। কান্নায় ধরে এলো গলা। (সম্পূর্ণ…)

কবি অরুণাভ সরকার: নগর বাউলের প্রস্থান

তপন বাগচী | ১৯ december ২০১৪ ৩:২৬ অপরাহ্ন

arunabha.gifঅরুণাভ সরকারকে চিনি ঢাকায় আসার পর থেকেই, সেই মধ্য আশিতেই। প্রেসক্লাবে কিংবা কবিতার আসরে দেখা হতো। তেমন ঘনিষ্ঠতা হয়নি বয়সের কারণেই। তাঁর ‘খোকনের অভিযান’ পড়ে এত মুগ্ধ হয়েছিলাম যে তাঁকে খুঁজতে বেরুলাম। অবশেষে শিশু একাডেমিতে গল্পকার বিপ্রদাশ বড়ুয়ার ঘরে পেয়ে গেলাম একদিন। সেখানে তুমুল আড্ডা। তাঁকে ছোটদের জন্য আরো লিখতে অনুরোধ করলাম। কিন্তু তিনি বরাবরই কম লিখতেন।

নিজের চরিত্রের সঙ্গে মিশ-খাওয়া কবিতার বইয়ের নাম নগর বাউল। এরপর কেউ কিছু জানে না আর নারীরা ফেরে না—সাকুল্যে এই তিনটি কবিতার বই তার। পত্রপত্রিকায় ছড়ানো ছিটানো রয়েছে অজস্র কবিতা। কিন্তু কবিতার তিনটি বই দিয়েই তিনি কবিখ্যাতি ধরে রাখতে পেরেছেন। কবিতাগ্রন্থের সংখ্যাবিচারে শহীদ কাদরী, হেলাল হাফিজ, আবুল হাসানের মতোই অবস্থা তাঁর। ছোটদের জন্য লিখেছেন বেশি কিছু গ্রন্থ। সাংবাদিকতা নিয়েও তাঁর দুটি বই আছে। একটি বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট থেকে, একটি বাংলা একাডেমি থেকে। পেশায় ছিলেন পুরোদস্তুর সাংবাদিক। ইংরেজি পত্রিকাতেই কেটেছে গোটা সাংবাদিক জীবন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়-পাঠ পেরোনোর সুযোগ না পেলেও ইংরেজি ভাষাটা ভালো জানতেন। একই সঙ্গে বাংলাটাও জানতেন। এব্যাপারে ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে তাঁর অবস্থানকে তুলনা করা যায়। একই হাতে বাংলা ও ইংরেজি শুদ্ধ করে জানার মানুষ আমাদের সমোজে খুব বেশি কি আছে? (সম্পূর্ণ…)

হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কবিতা

হাবীবুল্লাহ সিরাজী | ১৭ december ২০১৪ ৯:৩৩ অপরাহ্ন

কিছুই ঘটে না

বানান শেখার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে শব্দ
পাতার পতন আটকাবে ব’লে গতি বদলিয়েছে বাতাস
বাঁশি শুনাবে ব’লে রাইফেলের কার্তুজ ফেলে দিয়েছে সৈনিক
মঞ্চে ওঠার জন্য গোয়ালের খুঁটিতে শিং ভেঙেছে গরু
টুপিতে ঢুকবে ব’লে নাপিতের হাতে মাথা পেতেছে শুক্রবার

কিছুই ঘটে না

পদ্যের মতো একটি পুকুর হানা দিলো নীলিমা
রোদের মতো একটি ফুটবল খেয়ে ফেললো মাঠ
অরণ্যের মতো একটি আনন্দ জয় করলো এভারেস্ট
সাহসের মতো একটি বৃত্ত চেখে দেখলো পনির
জ্যৈষ্ঠের মতো একটি জায়নামাজ পাতা হ’লো পশ্চিমে (সম্পূর্ণ…)

গর্জে উঠুক আরেকবার

হামীম কামরুল হক | ১৬ december ২০১৪ ৪:৩১ অপরাহ্ন

hasan.jpgএকাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হতে পারতো একটা বোধিদ্রুম বা বোধের বৃক্ষ, যারা শেকড় থেকে, কাণ্ড থেকে, শাখা-প্রশাখা থেকে, পাতা, ফুল, ফল– সবকিছু থেকে আমরা নিতে পারতাম আমাদের আগামীদিনের পথ চলার রসদ। যেকোনো রকমের অন্ধকার সময়ে একাত্তরের চেতনার টর্চলাইট আমাদের সঙ্গী হতে পারতো। কি ব্যক্তিগত কি রাষ্ট্রীয় সমস্ত সংকটে আমরা সতেজ থাকতে পারতাম একাত্তরের কল্যাণে। কিন্তু সেই বোধ একটু একটু করে যেন ক্ষয়ে গেছে, সেই আলোকবর্তিকা দিনে দিনে অনুজ্জ্বল হয়েছে। এবং সেটা ঘটেছে ভেতরে ভেতরে, বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। কারণ চোখের সামনে মুুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক উদ্যোগ-আয়োজন চলছে। কথার ফুলঝুরিরও কোনো অভাব নেই। বড়বড় শোভাযাত্রা নিয়ে স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া– সবই চলছে, সবই ঠিক আছে, কিন্তু নেই কেবল একাত্তরের চেতনা। একটি উদার মানবিক শোষণমুক্ত দেশ গড়ার সত্যিকারে অঙ্গীকার একাত্তরের পর পর বাড়ির পেছনের অগভীর ডোবায় সেই যে ডুবিয়ে দেওয়া হলো আর সেটি তুলে আনার ইচ্ছা হয়নি। ইচ্ছা হয়নি, কারণ পরিবর্তিত পরিস্থিতি এমন করে আমাদের বোধকে নির্মাণ করেছে, তাতে আর সেখানে ফিরে যাওয়ার দরকার পড়েনি। তারপরও একাত্তর নিয়ে কিছু কথা, কিছু গান ফিরে ফিরে আসে। কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধ, কেমন ছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা, তারা কী চেয়েছিলেন, কী পেলেন– সেই প্রশ্নগুলি বার বার নানান সময়ে হানা দিয়েই যায়। বর্তমানে দাঁড়িয়ে চল্লিশ বছরের আগের মানুষটা, যিনি কিনা একজন মুক্তিযোদ্ধা– তার সেই সময় এবং বর্তমান অবস্থান– আমাদের কিছু প্রশ্নে জবাব হয়তো দিতে পারে। তার উত্তর আমাদের মধ্যে যারা এখনো ‘‘একটি উদার মানবিক শোষণমুক্ত দেশে গড়ার’’ কথা ভাবেন তাদের আকুল করতেই পারে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com