গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২৯ নভেম্বর ২০১৪ ৬:৩৬ অপরাহ্ন

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

ভিতরে বাহিরে কত পথ

মৃণাল বসুচৌধুরী | ২৭ নভেম্বর ২০১৪ ৮:২৭ অপরাহ্ন

border=0রবীন্দ্রপ্রভাব থেকে সরে এসে তিরিশের কবিরা যে স্বতন্ত্রভাষা ও উচ্চারণভঙ্গির কথা ভেবেছিলেন, চল্লিশের কবিদের হাত ছুঁয়ে সেই চেতনাপ্রবাহ পঞ্চাশের কবিদের মধ্যে আরও তীব্র ও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। সামাজিক অবক্ষয়, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, মূল্যবোধহীন মুখোশপরা মানুষের ভিড় বঙ্গভঙ্গের মানসিক যন্ত্রণা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এসবের মধ্যে পঞ্চাশের কবিরা শুরু করেন ‘স্বাধীন ভ্রমণ’। ‘প্রেম’ শব্দটিতে হঠাৎই শরীরের গন্ধ এসে গেল– একজন নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, শুধু আর মনের মণিকোঠায় লুকিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে লালন করা নয়, প্রেম ও শরীর দুটোই অনিবার্যতায় ভয়ংকরভাবে জায়গা করে নিল কবিতায়। কবিতার বিষয়বস্তু, শব্দ নির্বাচন প্রকাশভঙ্গি নিয়ে কোনোরকম ছুঁৎমার্গে বিশ্বাস ছিল না এই কবিদের। যৌনাচারই হোক আর শাশ্বত ভালোবাসার কথাই হোক, কবিতার ধর্ম ও শিল্পরূপের উপর কোনো অশ্রদ্ধা না দেখিয়ে, সরাসরিভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন পঞ্চাশের কবিরা। (সম্পূর্ণ…)

পিঁপড়াবিদ্যা: গতানুগতিক নির্মাণশৈলীর দুর্বল চলচ্চিত্র

নাদির জুনাইদ | ২৫ নভেম্বর ২০১৪ ৯:৪৬ অপরাহ্ন

border=0মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নতুন ছবি পিঁপড়াবিদ্যা কি একটি বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র? মূলধারার গতানুগতিকতা-সর্বস্ব চলচ্চিত্র থেকে ভিন্ন ধরনের ছবিকে অল্টারনেটিভ, অফবিট, বা ইনডিপেনডেন্ট চলচ্চিত্র যে নামেই আখ্যায়িত করা হোক না কেন, কোন চলচ্চিত্রকে কেবল তখনই বিকল্প ধারার ছবি হিসেবে বর্ণনা করা যায় যখন সেই ছবি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নির্মিত মূলধারার চলচ্চিত্রের রীতিনীতি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে নির্মিত হয়। যেহেতু ব্যবসাসফল হওয়াই থাকে বাণিজ্যিক ছবির প্রধান লক্ষ্য তাই বহু দর্শককে আকৃষ্ট করার জন্য বিনোদনমূলক, চাকচিক্যময় এবং চটকদার উপাদান এই ধরনের ছবিতে নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হয়। ফলে বাণিজ্যিক ছবি হয়ে ওঠে ফর্মুলা-নির্ভর আর গতানুগতিক। প্রথাবিরোধী এবং উদ্ভাবনী নির্মাণপদ্ধতি এই ধরনের ছবিতে গুরুত্ব পায় না। সমাজের বিভিন্ন জটিল ও গুরুতর সমস্যার মূল কারণ এবং এই সমস্যাসমূহের জন্য কারা দায়ী তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে ছবিকে চিন্তাশীল করে তোলার পরিবর্তে দর্শককে বিনোদন যোগানোর চেষ্টাই বেশি করা হয় বিনোদননির্ভর বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে। (সম্পূর্ণ…)

প্রথমার প্রতারণা ও অনুবাদকের জালিয়াতি

রাজু আলাউদ্দিন | ২৪ নভেম্বর ২০১৪ ১০:২৭ অপরাহ্ন

বছর পাঁচেক আগে আর্টস বিডিনিউজ ডটকম-এর সূত্রে অনুবাদের ক্ষেত্রে এক অদ্ভুত জালিয়াতির তথ্য জেনে চমকে উঠেছিলাম। চমকে ওঠার কারণটা ব্যাখ্যা করার আগে পটভূমিটা জানা দরকার। জুলফিকার নিউটন নামের এক তরুণ তুর্কী বিশ্বসাহিত্যের সুউচ্চ পর্বতগুলো ডিঙিয়ে যাচ্ছিলেন অনুবাদের মাধ্যমে। মুসা ইব্রাহীমের বিজয়ের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও নিউটনের বিজয়গাথা নিয়ে কারোরই কোনো সন্দেহ তৈরি হয়নি কখনো। যিনি বা যারা সন্দেহ করতে পারতেন তারা ছিলেন নিশ্চুপ, কারণ অনুবাদের সম্রাট কবীর চৌধুরীর প্রত্যয়ণপুষ্ট এই অনুবাদক ততদিনে সাম্রাজ্য বিস্তার করে দানবীয় রূপ ধারণ করেছেন। কিন্তু রেজাউল করিম সুমনের সন্দেহ আর সমান্তরাল পাঠ এই দানবকে অবশেষে রূপান্তরিত করে এমন এক তস্করে যিনি বিদেশি সাহিত্য অন্য ভাষা থেকে নয়, বরং অন্যদের মারফত ইতিমধ্যে বাংলায় রূপান্তরিত বিদেশি সাহিত্য কিছুটা বদলে আর সিংহভাগ অপরিবর্তিত রূপে নিজের নামে চালিয়ে দিতেন। জালিয়াতির এই নমুনার কথা জানা ছিল না কারুরই।

উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের সনদ জালিয়াতির মতোই সম্প্রতি অনুবাদের ক্ষেত্রে শুরু হয়েছে অভিনব এক প্রতারণা। নিউটনের জালিয়াতি প্রমাণ করা যতটা সহজ, নতুন এই প্রতারণাকে প্রমাণ করা কিছুটা কঠিন। কঠিন এই কারণে যে আগেরটির চেয়ে এটি পদ্ধতি হিসেবে ভিন্ন এবং ভাষিক বাধার কারণে ‘নিরাপদ’। কিন্তু লোকোৎসারিত বচন যার সঙ্গী, যেমনটা স্পানঞলভাষী মানুষেরা বলে থাকেন La curiosidad mata el gato (মার্জার-নিধন কৌতূহল), তখন কোনো বাধাই আর অটুট থাকে না। (সম্পূর্ণ…)

নজরুল কি সর্বযুগের কবি?

মীজান রহমান | ২৩ নভেম্বর ২০১৪ ১০:১৬ অপরাহ্ন

kazi-nazrul.jpgবাংলাদেশে আজকাল রবিঠাকুর আর কবি নজরুল ইসলামের জন্মদিন একসাথে পালন করবার একটা রেওয়াজ তৈরি হয়ে গেছে। ফলে রবীন্দ্র-নজরুল শব্দদুটি যেন যুগলবন্দী হয়ে পরস্পরের সাথে মিশে গেছে। ঠিক যমজ না হলেও সহোদর তো বটেই। এটা অবশ্য সত্য যে দুজনেরই জন্ম একই মাসে—তবে ৩৮ বছরের ব্যবধানে। মজার ব্যাপার যে তাঁদের মৃত্যুও ঠিক একই মাসে—তা’ও ৩৫ বছরের ব্যবধানে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের ভুললে চলবে না যে পৃথিবীর কোথাও বোধ হয় এমন নজির নেই যেখানে দুজন বড় কবির জয়ন্তী একই দিনে পালন করা হয়েছে। আমাদের দেশেও হত কিনা সন্দেহ যদি না এদুটি নামের সাথে দুটি ভিন্ন সম্প্রদায়ের ছাপ থাকত। এতে করে দুজন অসাধারণ ব্যক্তিকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে সমান উচ্চতাবিশিষ্ট মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটা প্রচ্ছন্ন প্রয়াস প্রায় অপ্রচ্ছন্নভাবেই প্রতীয়মান, অন্তত আমার চোখে। রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল ইসলামের বন্ধনীবদ্ধ জয়ন্তী পালনের পক্ষপাতী আর যে’ই হোন, আমি নই। (সম্পূর্ণ…)

মনির ইউসুফ-এর তিনটি কবিতা

মনির ইউসুফ | ২৩ নভেম্বর ২০১৪ ১:০৬ পূর্বাহ্ন

ঘুঘুর বিলাপ

সারাটা দুপুর ঘুঘুুুটি বিলাপ করে ঘুঘুটির জন্য
অলস দুপুরে গাছের পাতা ঝিম মেরে গেলে
ঘুঘুটির বিলাপে পুরো পাড়া সচকিত হয়ে যায়
ঘুঘুটির ক্রন্দনধ্বনি থামে না কোনো মতে–

এ এক প্রাচীন নেপ্রোপোলিয়া,
আমার বুকে সে ক্রন্দনধ্বনি আমার ঘুঘুনিও বোঝেনি
এ যেন প্রাচীন ঘুঘুর বিলাপের আধুনিক প্রতিধ্বনি
বস্তু অবস্তু মুগ্ধতা, প্রেম ও ভালোবাসার মানবিক সংবেদ

ঘুঘুটি বিলাপ করে–
সমস্ত নির্মাণ ও সৌন্দর্য্যের হন্তারক হচ্ছে মানুষ মানুষ
সমস্ত বিনির্মাণ ও সৌন্দর্য্যের হন্তারকও হচ্ছে মানুষ
ঘুঘুটি রক্ত গলায় উঠে না আসা পর্যন্ত বিলাপ করতেই থাকে (সম্পূর্ণ…)

নতুন পিরামিড

রেজাউদ্দিন স্টালিন | ২১ নভেম্বর ২০১৪ ৬:০৩ অপরাহ্ন

ফিলিস্তিনের আকাশে চাঁদ ওঠে
হেলমেট মাথায়

বর্ম বুকে ওঠে সূর্য
তারারা নি:শব্দে কাঁপে ভয়ার্ত শিশির
ধোঁয়াভারানত মেঘ চরে বেড়ায়
উঠোনে-উঠোনে
রক্তের নদী মরে পড়ে থাকে বিছানায়
মাথার উপর কাকেরা চেঁচায়
চিলের চিৎকারে ছিঁড়ে যায় দিগন্ত
বোমারু ঈগল আগুনের ডিম দেয় শূন্যে (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ১৯ নভেম্বর ২০১৪ ৮:৫৫ অপরাহ্ন

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.
(সম্পূর্ণ…)

প্রাণজি বসাক-এর কবিতা

প্রাণজি বসাক | ১৮ নভেম্বর ২০১৪ ১০:২৫ অপরাহ্ন

স্বপ্নবাগান

আমবাগানে মঞ্জরী আসেনি এখনও
না আসুক রকমফের ফল এসেছে
কাঁচালালসার মতই কাঁচা ফজলি
বাগানভর্তি বস্তাভর্তি
র-গ্রেনেড

যার জন্ম আর মহিমায়
বাঙালি জাতিসত্ত্বাবোধে
চড়িয়ে পড়ছে একটি
বিরাট নির্জলা শুল্ক মরুভূমি (সম্পূর্ণ…)

আমার শিক্ষক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী

মোস্তফা তোফায়েল | ১৬ নভেম্বর ২০১৪ ১১:৪১ অপরাহ্ন

siddiki.jpgআমার শিক্ষক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী। ১১ নভেম্বর ২০১৪ তারিখ রাত পৌনে বারোটায় তাঁর অবিনশ্বর আত্মা নশ্বর দেহ ফেলে রেখে স্বর্গাশ্রয়ী হয়েছে।
প্রফেসর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় বিশ বছর ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর অধ্যাপনা পেশার অধিকাংশ সময় কেটেছে সেখানে। আমি ১৯৭৪-এর শুরুতে যখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ ইংরেজি প্রথম বর্ষে ভর্তি হই, তিনি তখন সেখান থেকে বিদায় পথের পথিক। মনে পড়ে , আমি মাত্র একটি ক্লাশে তাঁকে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলাম। তিনি শেক্সপিয়রের সনেট সম্পর্কে কথা বলছিলেন। ওই সময়ে তিনি শেক্সপিয়রের সনেটসমগ্র অনুবাদের কাজ করছিলেন, শুনেছিলাম। এর আগে তিনি জন মিল্টনের অ্যারিওপ্যাজিটিকা অনুবাদ করেছিলেন। তাঁরই সম্পাদিত দীপঙ্কর পত্রিকায় আমি তাঁর টেম্পেস্ট অনুবাদ পড়েছি। তাঁর ক্লাশ-বক্তৃতায় তিনি ছিলেন অসামান্য প্রভাবশালী। সরলতা ও স্নিগ্ধতায় সিক্ত ব্যক্তিত্বে তিনি ছাত্রদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতেন। রবীন্দ্রসাহিত্যেও তাঁর ছিল অগাধ পাণ্ডিত্য। শুধু ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রছাত্রীই নয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি হল ও অন্যান্য ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত সাহিত্য-সংস্কৃতির অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে বহুমুখী বিদ্যা ও বহুধাবিস্তৃত সাহিত্য আলোচনায় তিনি বাংলা সাহিত্যের ছাত্র-শিক্ষকসহ অপরাপর বিষয়ের ছাত্র-শিক্ষকদেরও সমীহ আদায় করার মত ঋদ্ধ ও সিদ্ধ ছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

কাশীনাথের কবিতার ছায়াতলে

পুলক হাসান | ১৫ নভেম্বর ২০১৪ ১১:১০ অপরাহ্ন

border=0কবিতা যদি মানুষের অন্তর্গত জীবনের প্রতিচ্ছবি, তবে তা বাস্তবের প্রতিফলনে আরও সরাসরি, আরও জীবন্ত। কবি কাশীনাথ রায়ের কবিতা সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের। আর চোখের সামনে খুলে দেয় বিপন্ন এক বিশ্বের মনোদরজা; আর্তপীড়িত সেই বিপন্ন বাস্তবতা তাঁর কবিতায় অনুতাপজারিত এক মানবিক আর্তস্বর।
যতটুকু সুর দিলে সাধারণ কথারাও হয়ে ওঠে হৃদয়ের গান এবং সরাসরি মর্মে গিয়ে পৌঁছে, তারই নমুনা যেন খুঁজে পাওয়া যায় কাশীনাথের কবিতায়। সহজ, অলঙ্কারহীন কিন্তু লক্ষ্যভেদী এক ইঙ্গিত দিয়ে যায় নমিত উচ্চারণে, মৃদুভাষণে। বলার ভঙ্গি সেখানে যতই সহজ হোক, স্বগত সংলাপীয় চরণে চরণে যতই আকার নিক কবিতাশরীর তার মধ্যেই দেখি আত্মপোলব্ধির নানা বাঁকাচোরা দিকদিগন্ত। সেই দিগ্বলয়ের স্বপ্নচ্যুত বাস্তবতার ও থইহারা জীবনের দাগ রেখে যায় আমাদের সামনে। আমরা তখন দেখি স্বদেশ, মা-মাটি ও মানুষের বিপন্নতায় কতটা কাতর এই কবি। চেনা পৃথিবীর বদলে যাওয়া দৃশ্য এবং স্বপ্নের অপমৃত্যু দেখে তাঁর মধ্যে তৈরি হয় এক বিস্বাদ ও পিপাসার পথরেখা:
হাত বাড়ালেই তরতাজা ঘৃণা ঘিনঘিনে অবিশ্বাস কামড়ে ধরে হাতের আঙুল [ওম চাই/ জীবনানন্দ, দেখুন, পৃ. ৭]
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে অনাগত পিতৃভূমির উদ্দেশে যখন গাইতে যাব পুনর্জন্মের গান… দুহাত মাথায় চেপে আমি দেখলাম আমার কুড়িয়ে তোলা স্বদেশের বুক পেঁচিয়ে পরম উল্লাসে দুলছে বিষধর ব্যাধি: [হযরত নূহের নৌকা/ জীবনানন্দ, দেখুন, পৃ. ১০] (সম্পূর্ণ…)

মতিন বৈরাগীর কাব্যযাত্রা

ফরিদ আহমদ দুলাল | ১৫ নভেম্বর ২০১৪ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

border=0ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন-‘কবি মতিন বৈরাগী নিজের গুণের ও দানের জন্যেই বাংলাদেশের কবিতাঙ্গনে সুখ্যাত ও সুপ্রতিষ্ঠিত। কাজেই তিনি তাঁর নতুন কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা মুহূর্তে কারুর মতের, মন্তব্যের কিংবা তদ্বীরের তোয়াক্কা রাখেন না। তবে আমি যে মলাট-মন্তব্য লিখছি, সে-কেবল কবি ও কবিতা সম্বন্ধে আমার মুগ্ধতার অভিব্যক্তি দানের জন্যেই। এ কবি গণমানবের দাসত্ব-শোষণ-বঞ্চনাজাত বেদনার কথা বলে, বলে পৃথিবীর হালচাল বদলানোর কথা, বাতলায় মুক্তির পন্থা, দিশা দেয় বিপ্লবের ও বিদ্রোহের, সন্ধান করে সাহসী সংগ্রমী বীরের, আশা ও আশ্বাস দেয় মুক্তির; আনন্দের ও সুন্দরের। কবি মতিন বৈরাগী ও তাঁর কাব্য সংবেদনশীল মানববাদী মাত্রেরই প্রিয়। আমি এবং অগণ্য অনেকে তাই বৈরাগীর ও তাঁর কাব্যের শংসায় মুখর।’ (মতিন বৈরাগীর চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ ‘আশা অনন্ত হে’-এর ফ্ল্যাপে মলাট-মন্তব্য)। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com