এক-একটি লাশ

মোহাম্মদ রফিক | ৩০ এপ্রিল ২০১৩ ৯:১৩ অপরাহ্ন

(সাভার বিপর্যয়ে নিহতদের স্মরণে)

বোধহীনতার বোধ নিয়ে
লিখতে বসি, মধ্যরাত,
ঘামসিক্ত কম্পমান হাত;
ওরা কারো পিতা কারো কন্যা কারো মাতা
সন্তান-সন্ততি আত্মজন
শুয়ে আছে পাশাপাশি
অশালীন দুর্গন্ধে মথিত (সম্পূর্ণ…)

চোখ তুই দেখে নে

মতিন বৈরাগী | ২৯ এপ্রিল ২০১৩ ১:৩৪ পূর্বাহ্ন

চোখ তুই দেখে নে আজ, ভালো করে দেখ আলো ফেলে ফেলে
মানুষের ললাট লিপি পড়তে পারবি! পারবি না কেনো ? মাউসটা ঘুরা
ক্লিক কর দেখ জীবন আর মৃত্যু কতো কাছাকাছি দুই সহোদর
শুয়ে আছে তাল তাল কংক্রিট লেপে। (সম্পূর্ণ…)

তিনভুবনের অন্ধ

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৮ এপ্রিল ২০১৩ ৮:০৬ অপরাহ্ন

ফাটল ছিল ফাটল আছে ফাটল থেকে যায়
দেয়াল ছেড়ে শরীর ছেড়ে ফাটল বেঁকে যায়
মনের ভিতর সেই ফাটলটা বাড়ে ভুবন জুড়ে
মেঘের ভিতর বজ্র যেমন শাসায় আকাশ ঘুরে (সম্পূর্ণ…)

বেহেস্তের অশ্রু

ওমর শামস | ২৮ এপ্রিল ২০১৩ ৬:৪৭ অপরাহ্ন

(এরিক ক্ল্যাপটন-এর কাছে কৃতজ্ঞতা)
দোমড়ানো লোহা, থ্যাঁতানো থাম্‌বা
ফেলে যদি আসি, বেহেস্তে!
চিন্‌বি কি তুই –
তিস্তাপারের আক্‌লিমা?
আমি যদি আসি, বেহেস্তে! (সম্পূর্ণ…)

যে কান্না কংক্রিট ভেদ করে যায়

তুষার গায়েন | ২৮ এপ্রিল ২০১৩ ৬:৪৪ অপরাহ্ন

সহস্র সেলাইকলে নিবিড় আঙুলগুলো অবিরাম সুতো ভরে দেয় সুঁইয়ের শূন্যতায়, ফ্যাশন-উজ্জ্বল নিশ্চেতন করা নিপুণ সেলাই নিয়ে ভাসে পোষাকপ্রবাহ মুনাফার উড্ডীন রেখায়—পাষাণপুরীর গায়ে ফাটল দেখার ভয় কাটিয়ে উঠতে চায় আগুয়ান দুপুরের ক্ষুধা, একদিন কাজের কামাই যদি তিন দিনে শোধ দিতে হয়—বুকের ভেতর ভয়, হায়াৎ মউত রয় আল্লাহর হাতে—বাকীটা মালিক আর তার পোষা কুকুরেরা জানে… ডোবার উপরে ভাসে যেই ঘর তিনতলা গাঁথুনির ’পর কী যে কুদরত দশতলা ওঠে আরো দমাদ্দম বেহেশতে যাবার মোকাম—সহস্র সেলাইকলে আঙুলের নিবিড় মগ্নতা প্রার্থনার মত একটানা শব্দ করে বয়ে যায় বড় … (সম্পূর্ণ…)

প্রেতরূপকথা

পিয়াস মজিদ | ২৮ এপ্রিল ২০১৩ ৬:৩৯ অপরাহ্ন

এই নিকষ রাত্রিতে
আমাকে পার হতে হবে
বহু তারার তোরণ।
ভুল করে যেখানে
ফেলে এসেছি
নিসর্গের পাসওয়ার্ডগুলো;
ভ্রূণের ভেতরমহলে
রাত্রির রাগমালায়
সময়কে দেখা যায়
দ্বিধাবিভক্ত রায় দিতে
জীবন আর মৃত্যু তাই (সম্পূর্ণ…)

আমার হারিয়ে যাওয়া বোন

তাপস গায়েন | ২৮ এপ্রিল ২০১৩ ২:৩২ অপরাহ্ন

দৃষ্টিকে শ্রুতি এবং শ্রুতিকে বাক্‌ করে
ছুটে চলছে মহাকাল !
শ্রুতিহীন, বোধহীন আমি দাঁড়িয়ে রয়েছি
উন্মাদ হাওয়ার এই বাংলায় ।
পদ্মা, কালীগঙ্গার তীরে তীরে সতী-নির্মানের জন্য
এই বাংলায় একদিন জেগেছিল শ্মশান,
সেখানে এখনও ঝড়োহাওয়া, কালোবৈশাখী
এখনও তার উন্মাদিনী কাল । (সম্পূর্ণ…)

সহজ কল্পনা

ওমর শামস | ২৫ এপ্রিল ২০১৩ ২:০৯ অপরাহ্ন

এই যে দেখেছিস দাগ, দরোজার বাইরে –
দুঃখ পারবি-নে তুই ঢুকতে , বাইরে যা –
নরকে যা, পাতালে যা, নষ্ট নক্ষত্রের অন্ধ বিবরে যা! (সম্পূর্ণ…)

আমিনুল ইসলাম-এর গুচ্ছকবিতা

আমিনুল ইসলাম | ২৪ এপ্রিল ২০১৩ ১০:৩১ অপরাহ্ন

কী নাম দেবো জানি না

ব্যর্থতার ঘামে জবুথবু
রৌদ্রে শুকাই মন
হে সূর্য, তাপ কমিও না
আমাকে পুড়তে দাও। (সম্পূর্ণ…)

বাংলাদেশে কপিরাইট আইন : সংজ্ঞা ও সমীক্ষা

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ২৩ এপ্রিল ২০১৩ ৪:২০ অপরাহ্ন

আজ ২৩ এপ্রিল ২০১৩ আন্তর্জাতিক গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস। এই উপলক্ষে আমরা বাংলাদেশ কপিরাইট আইন ও বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে এই রচনাটি প্রকাশ করলাম । – বি.স.

সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা
কপিরাইট কি?

কপিরাইট মূলত দুটি শব্দের সম্মিলন। কপি এবং রাইট।
কপি অর্থ নকল বা প্রতিলিপি বা অনুলিপি বা অনুকৃতি বা অনুকরণ বা অনুসৃতি ইত্যাদি। আর রাইট হচ্ছে অধিকার বা স্বত্ব বা সত্য বা ন্যায় ইত্যাদি। সহজ ভাষায় বলতে পারি, কপিরাইট হচ্ছে নকল করার অধিকার বা নকলাধিকার। (সম্পূর্ণ…)

বাবার কলম কোথায়?

শাকুর মজিদ | ২৩ এপ্রিল ২০১৩ ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

সত্তরের দশকের শেষ দিকে আমি টেলিভিশনের দর্শক হই। সে সময়ের সাদা কালো টেলিভিশনে সাপ্তাহিক নাটকগুলো ছিলো আমাদের একমাত্র দেখার বিষয়। এ সময় থেকে শুরু করে নব্বইয়ের দশকের শেষ পর্যন্ত যতদিন বাংলাদেশ টেলিভিশন ক্ষমতাশীন সরকারের মদদ পোষণে নাটক সরবরাহ না করে, আমি মুগ্ধ হয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের নাটক দেখতাম আর মনে মনে প্রার্থনা করতাম, এ সপ্তাহের নাটকটি যেনো আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় নির্মিত হয়। আমার স্মৃতিতে বিটিভি থেকে প্রচারিত দূরবীন দিয়ে দেখুন, বাবার কলম কোথায়, সার্কাস দেখুন, সুখের উপমা, নীল নকশার সন্ধানে-র মতো কিছু নাটক দেখেছি। এই নাটকগুলো দেখে এক সময় টেলিভিশনে নাটক লেখবো এমন ইচ্ছা আমার ভেতর জাগে। কিন্তু যে লোকটা এই নাটকগুলোর জনক, তাঁর সঙ্গে আমার প্রথমবারের মতো আলাপ হলো গত ২৬ মার্চ ২০১৩। (সম্পূর্ণ…)

কবি জয়ন্ত মহাপাত্রের ‘রূঢ় স্বপ্ন এবং ইতিহাসের ক্ষত’

তাপস গায়েন | ২১ এপ্রিল ২০১৩ ৬:০৫ অপরাহ্ন

উড়িষ্যার কবি জয়ন্ত মহাপাত্রকে (খ্রি ১৯২৮- ) নিয়ে আমি প্রথম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করি তাঁর নয়টি কবিতার অনুবাদ এবং তাঁর কবিতা নিয়ে আমার এক নাতিদীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে। ‘কবি জয়ন্ত মহাপাত্র : একটি উত্তর-ঔপনিবেশিক পাঠ’ লেখাটি ‘অগ্রবীজ’ সাহিত্য পত্রিকার উন্মেষ সংখ্যায় আলোর মুখ দেখেছিল, ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে। সেই আলোচনা আমি শুরু করেছিলাম কবি জয়ন্ত মহাপাত্রের কোনো একটি কবিতার একটি পঙক্তি, ‘আমের কুঁড়ির গন্ধে ভোরের বাতাস রক্তের ঐতিহ্যে অস্থির’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে এবং কবিকে সনাক্ত করেছিলাম এইভাবে, ‘রক্তের ঐতিহ্যে যে অস্থিরতা, যে অপচয় এবং রাতভর ইঁদুরের যে দৌড়, সেই বিপন্ন চৈতন্যের রূপকার কবি জয়ন্ত মহাপাত্র।’ মহাপাত্রের কবিতায় মানুষ কোনো ক্রিয়াশীল সত্তা নয়, বরং ইতিহাসের যাঁতাকলে সে প্রতিবাদহীন, নিশ্চুপ। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com