উত্তরাধুনিক অ্যাশবেরি ও তার কবিতা

বিনয় বর্মন | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ১২:৩৭ অপরাহ্ন

জন অ্যাশবেরি (John Ashbery) বর্ষীয়ান মার্কিন কবি। জন্ম ১৯২৭ সালের ২৮ জুলাই নিউ ইয়র্কের রচেস্টারে। এখনো লিখে চলেছেন। ষাটের দশকে প্রতিষ্ঠিত নিউ ইয়র্ক শিল্পঘরানার অন্যতম প্রধান কবি। শিক্ষকতা করেছেন ব্রুকলিন কলেজে, কবিতা পড়িয়েছেন। বার্ড কলেজে ভাষা ও সাহিত্যের চার্লস পি. স্টিভেনসন জুনিয়র প্রফেসর হিসেবে কাজ করেছেন ১৯৮০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত। ২০০১-২০০৩ সময়কালে নিউ ইয়র্ক স্টেটের পোয়েট লরিয়েট। দ্য অ্যাকাডেমি অব আমেরিকান পোয়েটসের চ্যান্সেলরের দায়িত্বও পালন করেছেন। সাহিত্য জার্নাল ‘কনজাংশন্স’-এর এডিটরিয়্যাল বোর্ডের সদস্য। বহু নামিদামি পুরস্কারে ভূষিত অ্যাশবেরি বর্তমানে বসবাস করছেন নিউ ইয়র্কে।
অ্যাশবেরি কুড়িটিরও অধিক কবিতার বই লিখেছেন। asbery-m2.gif (সম্পূর্ণ…)

টি. এস. এলিয়টের The Lovesong of J. Alfred Prufrock-এর অনুবাদ

খোন্দকার আশরাফ হোসেন | ২৫ নভেম্বর ২০১২ ১০:৩৭ অপরাহ্ন

ইংরেজি কবিতায় আধুনিকবাদের জনক টি. এস. এলিয়ট (T. S. Eliot)। যে-কবিতাটি তাঁকে প্রথম বিশ্বখ্যাতি এনে দেয় তাঁর নাম ‘The Lovesong of J. Alfred Prufrock’. আমেরিকায়-জন্ম-নেয়া এলিয়ট প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি-ফেরতা হয়ে ইংল্যান্ডে আসেন। লন্ডনে তখন মোটামুটি আসর জাঁকিয়ে বসেছেন আরেক প্রখ্যাত মার্কিনি কবি, এলিয়টের চেয়ে বয়সে বড়, এজরা পাউন্ড। পাউন্ড তরুণ এলিয়টকে সাগরেদির তালিম দেন এবং তাঁকে কবি-মহলে পরিচিত করার স্বারোপিত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। সালটা ১৯১৫। এলিয়টের পকেট হাতড়িয়ে এলিয়টের সদ্য-লেখা এই কবিতাটি পান পাউন্ড, এবং আমেরিকার শিকাগো শহর থেকে প্রকাশিত হ্যারিয়েট মনরো সম্পাদিত Poetry ম্যাগাজিনে পাঠিয়ে দেন। কবিতাটি প্রকাশিত হলে এলিয়টের নাম আটলান্টিকের দুই পারেই ব্যাপক পরিচিতি পায়। এ কবিতার নায়ক আলফ্রেড প্রুফ্রক নামের এক মধ্যবয়স্ক, টিঙটিঙে চেহারার টেকো মানুষ, যে শহরের বিত্তবান এলাকার নৈশক্লাব এবং শিল্পগ্যালারিগুলোতে ঘোরাঘুরি করে, সুন্দরী রমণীদের সান্নিধ্যলাভের আশায়, কিন্তু কাঙ্খিত রমণীর কাছে প্রেমনিবেদনের সাহস পায় না। দ্বিধাদীর্ণ তাঁর মন, যেন কমিক হ্যমলেট, নিজের মধ্যে বিভক্ত। (সম্পূর্ণ…)

গুচ্ছ কবিতা

ঠাকুরদাস চট্টোপাধ্যায় | ২৫ নভেম্বর ২০১২ ৩:৫৯ অপরাহ্ন

বাবার নাম আকাশ, মায়ের নামও তাই

বন্ধু
প্রতিদিনের কথা তার সঙ্গে
কথা সুখ দু:খের
কথা ভালোবাসার
কথায় কথায় নীল আরো নীল হয়
জ্বলে ওঠে নক্ষত্র
শুরু হয নি:শব্দ সংগীত
সে সঙ্গ দেয় একইভাবে
সে আমার পূর্বপুরুষদের ঘর
সে আমার ভবিষ্যৎ
আমার বর্তমান

তাকে দেখে বাবার কথা মনে পড়ে
মায়ের কথা মনে পড়ে
নীরব আশ্রয়ে
সে-ই খুঁজে দেয় পরম বন্ধু
ভাল্লুকের গল্পে
যে ভাল্লুককে ভ্রুক্ষেপই করছে না। (সম্পূর্ণ…)

হ্রস্ব ও দীর্ঘ কবিতা গুচ্ছ

ওমর শামস | ২৪ নভেম্বর ২০১২ ৯:০৫ অপরাহ্ন

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(জ্যোতির্ময় দত্ত-র অনুসরণে )

sunil.jpg
শক্তি চট্টোপাধ্যায়, মাতাল দীপক ফেলে বাংলোয় ছুটে গিয়ে দিয়েছেন খিল;
পুলিশে ও আদালতে হাংরিকে দেখে,- পালিয়েছে কবিচক্রঃ নুভোগার্ড, বিপ্লবী, সাহসী মিছিল।
মীনাক্ষী দত্ত, সে পরিত্যাক্তা – কে তাকে দপ্তরে নেবে? কাউকে ফ্যালেনি যে কথাকার মহারাজ!
কার্পণ্য! কেন ভগবান? কেন এই ক্লিষ্ট দেশে দাওনি এন্তার আরও সুনীলের দিল্‌।

কোরবানির হাড়

ছিন্নমূল বলে : “বল্‌তি পারি নে হাড় কুন্‌খানে যায়?
খুলনার আসগর হাড় কিনে বস্তায়, পৃথিবী পাঠায়।“
গফুরের গরু সে কি জানে, মেরুদন্ড-হাড়-শিং এমন কি খুর –
বাংলার কৃশ শিশু, আকলিমা-নূরবানু-ফ্যালানিরে, মাস-লোহূ সশরীরে পুষ্টি যোগায় । (সম্পূর্ণ…)

হে ফেস্টিভাল ও তার ঘোস্ট হোস্ট

আহমাদ মাযহার | ২৪ নভেম্বর ২০১২ ৮:২৭ অপরাহ্ন

গত ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ২০১২ ঢাকার বাংলা একাডেমীতে আয়োজিত হয়ে গেল ‘হে ফেস্টিভাল’। আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সংস্কৃতির উৎসব এটি। ‘হে ফেস্টিভাল’-এর ‘অফিশিয়াল’ ওয়েবসাইট থেকে জানা গেল বাংলাদেশে ঢাকার ইংরেজি দৈনিক দি ডেইলি স্টার এই আয়োজনের ‘টাইটেল স্পন্সর’, যাত্রিক নামে একটি প্রতিষ্ঠান ‘প্রজেক্ট পার্টনার’, বেঙ্গল লাইটস নামের একটি ইংরেজি পত্রিকা ‘কী স্পন্সর’, সবচেয়ে প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ‘অ্যাসোসিয়েট স্পন্সর’, বৃটিশ কাউন্সিল ‘গ্লোবাল পার্টনার’ এবং বাংলা একাডেমী ‘হোস্ট’। আজকালকার বাণিজ্যিকতার যুগে ‘টাইটেল স্পন্সর’, ‘প্রজেক্ট পার্টনার’, ‘গ্লোবাল পার্টনার’, ‘কী স্পন্সর’, ‘অ্যাসোসিয়েট স্পন্সর’ এবং ‘হোস্ট’ এই কথাগুলোর আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় এই রকম আয়োজনে কার কী প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ভূমিকা। উৎসবের স্লোগান imagine the world, বাংলায় লেখা আছে ‘কল্পনায় জগত’ (‘কল্পনা’ শব্দের বানান ‘ক’-এর পরে ‘ল’-এর নিচে হস চিহ্ন দেয়া আছে। ইউনিকোডে ক-এর নিচে হস চিহ্ন দেয়া গেল না)। জগৎ বানানটি ভুল, লেখা আছে ‘জগত’। ইংরেজি প্রতিবর্ণিকরণে লেখা আছে nobo digonter kolpona। অন্যান্য কয়েকটি ভাষায়ও এই কথাগুলো লেখা হয়েছে। তার মধ্যে আরবিও আছে। অর্থাৎ এর মধ্য দিয়ে এই উৎসব যে স্বভাবে আন্তর্জাতিক তার পরিচয় রাখা হলো। (সম্পূর্ণ…)

অকৃতি অধমের হাতে পাঁচটি নীলপদ্ম

শাকুর মজিদ | ২১ নভেম্বর ২০১২ ৯:৪৩ অপরাহ্ন

বিয়ানীবাজার থেকে একটা সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হয়, নাম বিয়ানীবাজার বার্তা। সবচেয়ে কম স্টাফ নিয়ে বের হওয়া কোনো সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রতিযোগিতা থাকলে এ পত্রিকাটি পুরস্কার পেতো। এই পত্রিকার রিপোর্টার, ফটোগ্রাফার, এডিটর, কম্পোজার, মেকআপম্যান, বিজ্ঞাপন ম্যানেজার, সার্কুলেশন ম্যানেজার, বিলিবন্টনকারী – এ সব দায়িত্ব পালন করে একজন। নাম ছাদেক আহমদ আজাদ। প্রায়ই সে কিছু কিছু উদ্ভট কাজের প্রস্তাব নিয়ে আসে আমার কাছে। আমি কোনোটা হা করি, কোনোটা না, কোনোটা কোনো কিছু না বলে বিদায় করে দেই।

২০০৯ সালের ১ অক্টোবর আমাদের পঞ্চপর্যটকের দল ইস্তাম্বুল ও মিশর সফরে যাবে, সেদিনই কম্পিউটার বন্ধ করার আগে একটা ই-মেইল পাই ছাদেক আজাদের। তার ইচ্ছা, এ বছর আমার ৪৫তম জন্মদিন উপলক্ষে সে ৪৫ জন লেখকের লেখা নিয়ে একটা স্যুভেনির বের করবে। আমার অনুমতি চায়। আমি ইংরেজী ‘ওয়াই’ হরফটি লিখে রিপ্লাই দিলাম এবং সেদিনই ভোর রাতে ইস্তাম্বুলের পথে রওয়ানা দিয়ে দিলাম।

কয়েকদিন পর মেইল খুলে দেখি- ছাদেক আজাদ এর মধ্যে কয়েকটা লেখা জোগাড় করে ফেলেছে, সেগুলো আমাকে ফর্ওয়ার্ড করা। সে নতুন সমস্যায় জর্জরিত, ঢাকার নামি দামি লেখক, যারা আমাকে চেনে, তাদের কারো সাথেই তার কোনো যোগাযোগ নাই। এদের লেখা কী করে পাবে? (সম্পূর্ণ…)

নিখোঁজ

গাজী তানজিয়া | ২০ নভেম্বর ২০১২ ১০:৩১ অপরাহ্ন

চারপাশে ছায় ছায়া অন্ধকার। স্পষ্ট করে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। সে শুয়ে আছে চিৎ হয়ে, মাথার ওপর ধূসর প্রাণহীন আচ্ছাদন, ঠিক আকাশ নয়। এটা কি স্বপ্ন, না কি সত্যি? কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। শরীরটা কেমন হালকা আর বোধহীন মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন শূন্যে ভাসমান। শূন্যে ভাসমান শরীরকে ঠিক নিজের ইচ্ছেমতো নাড়ানো চাড়ানো যায় না। তারপরও বেশ কসরত করে সে সেই শরীরটাকে ধীরে ধীরে টেনে তোলে। বসবার পর পা দুটো টান টান করে মেলে দিয়ে চারপাশে তাকিয়ে দেখল, কোথাও কোনো পথ নেই। চারদিকে পানি আর পানি। সে পানি পরিষ্কার নয় আবার ঘোলাও নয়। সে হাত বাড়িয়ে সেই পানি ছোঁয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু অদ¢ুত পানি! মেঘের মতো, ছোঁয়া যায় না। এরকম একটা জায়গায় সে কীভাবে এলো? কিছুই মনে করতে পারছে না। স্মৃতি কেবলই ধাক্কা খাচ্ছে। তার শরীরটা সামান্য দুলছে এটা বুঝতে পারছে সে। আশে পাশে মনে হচ্ছে আরো অনেক মানুষ তারই মতো। তারা কেউ কোনো কথা বলছে না। কিন্তু সে কাউকে দেখতে না পেলেও তাদের কথা না শুনলেও তাদের অস্তিত্ব অনুভব করছে। তারা সবাই অধীর আগ্রহে কিসের যেন প্রতীক্ষায় সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। সেখান থেকেই একটা সুড়ঙ্গ মতো পথ নীচ থেকে ওপরের দিকে উঠে গেছে। সামান্য আলো ভেসে আসছে সেদিক থেকে। সেই অস্পষ্ট আলোর রেখার দিকে তাকিয়ে আছে সেও। এভাবে কতটা সময় পেরিয়ে গেছে বোঝা গেল না। হঠাৎ দেখা গেল একজন দূত বড় একটা খাতা হাতে এসে দাঁড়িয়েছেন ওই টানেলের মাথায়। তাঁকে বেশ ব্যাস্ত মনে হচ্ছে। দ্রুতহাতে কিছুক্ষণ খাতার পাতাগুলো উল্টে পাল্টে দেখলেন। তারপর একের পর এক করে নাম ধরে ডাকতে শুরু করলেন। তাঁর ডাক শুনে প্রতীক্ষারতরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো একজন একজন করে এগিয়ে যাচ্ছে সেদিকে। (সম্পূর্ণ…)

বাংলা ক্রিয়াপদ: কাল্ট, অকাল্ট, প্রতিক্রিয়া পার হয়ে

চয়ন খায়রুল হাবিব | ২০ নভেম্বর ২০১২ ১০:১৫ অপরাহ্ন

দৃশ্য ১ঃ আট শতকের বাংলা, ধর্মপালের শাসনামল!ধলেশ্বরী তিরের বিক্রমপুরে বেড়ে ওঠা তরুণ চন্দ্রনাথের নাম হবে শ্রীজ্ঞ্বান অতীষ দীপঙ্কর!তিব্বতে থেরোবাদি প্রবর্তনা প্রচারের কয়েক বছর আগে চন্দ্রনাথ ধর্মপালের আমন্ত্রণে বিহারের বিক্রমশীলাতে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে। এসময় থেকেই বাঙালি সিদ্ধা শর্বরিপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরিপা’র চর্যাগীতির নাড়িস্পন্দন শোনা যাচ্ছে বাংলা, বিহার,উড়িষ্যার বিহারগুলোতে: ”সসুরা নিদ গেল বহুড়ী জাগঅ।
কানেট চোরে নিল কা গই [ন] মাগঅ॥”কুক্কুরিপাদাম

দৃশ্য ২ঃ ৯ থেকে ১২ শতকের মাঝামাঝি। পশ্চিম বাংলার বারাসাতের এক প্রাচীন গ্রামে খ্যাতিমান জ্যোতিষ শাস্ত্রবিদ বরাহ মিহিরের ছেলের বৌ কিম্বদন্তিতুল্য কবি ক্ষনা ঘরকন্নার অবসরে শ্বশুরকে শোনাচ্ছে চাষাবাদ নিয়ে পুর্ভাভাসমূলক প্রবচন, যা পরে তার জিব ওপড়ানোর কারণ হয়ে উঠবে:
‘আষাঢ়ে কাড়ান নামকে,
শ্রাবণে কাড়ান ধানকে,
ভাদরে কাড়ান শিষকে,
আশ্বিনে কাড়ান কিসকে।’ (সম্পূর্ণ…)

‘হে উৎসব’ কেন বাংলা একাডেমীতে?

রবীন আহসান | ১৯ নভেম্বর ২০১২ ৩:০০ অপরাহ্ন

আমরা কয়েকজন মিলে এবারের ‘হে উৎসব’-এর বিরোধিতা করেছি। বিরোধের কারণ অন্য ভাষার উৎসব বাংলা একাডেমীতে হচ্ছে এর জন্য নয়। বাংলা একাডেমী চত্বরে অন্য ভাষার বই বিক্রি হবে। অন্য ভাষার লেখক আসবেন। তাদের নিয়ে আলোচনা হবে অন্য ভাষার বই অনূদিত হবে। বাংলা বা অন্য ভাষায় অনূদিত হয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে–এর বিপক্ষে দাঁড়ানোর মানুষ আমরা নই। তবে এই আয়োজন বাংলা একাডেমীকে করতে হবে। এর জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান কেন? ব্রিটিশ ইংরেজদের হে উৎসব নয়, আমরা চাই আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব হোক বাংলা একাডেমীতে। আমি ব্যক্তিগতভাবে শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক হিসেবে বিশ্বের সেরা ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় জার্মান সরকারের আমন্ত্রণে ২০০৭-২০০৮ ও ২০০৯ সালে পরপর তিনবার অংশ নিয়েছি। বিশ্বসাহিত্য বইয়ের বাজার অনেক খ্যাতিমান লেখক সাহিত্যিকের বক্তব্য শোনার অভিজ্ঞতা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে জার্মান লেখক গুন্টার গ্রাসের সঙ্গে বেশ কিছু সময় কাটিয়েছি। তুর্কি কথাশিল্পী ওরহান পামুক সম্পর্কে জানা শোনা ছিল আমার। তাঁর ইস্তাবুল উপন্যাস আমার পড়া থাকায় তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করি। প্রায় ৪০ মিনিট ওরহান পামুক তার উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ হওয়া, নোবেল পুরস্কার পাওয়া বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায়। ইস্তাম্বুল উপন্যাসটি ওরহান পামুক তার মাতৃভাষায় লেখেন। এই উপন্যাসের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার জন্য ইংরেজি অনুবাদককে ৮০% কৃতিত্ব দিয়ে ওরহান পামুক কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন। আন্তর্জাতিক আসর মানে ইংরেজি ভাষার হই হই রব নয়, পৃথিবীর অনেক ভাষা যদি প্রতিনিধিত্ব করে তখনই কেবল তাকে আন্তর্জাতিক বলা যাবে। (সম্পূর্ণ…)

হে উৎসব : একটি আয়োজন ও জানা-অজানা প্রশ্ন

খন্দকার সোহেল | ১৯ নভেম্বর ২০১২ ১:২৮ অপরাহ্ন

সম্প্রতি শেষ হলো হে উৎসব। এতে অংশগ্রহণ করেছিলেন সাহিত্যে আমাদের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল হে উৎসবে যাবার। ব্রিটিশ কাউন্সিলের কড়া নিরাপত্তা বেস্টনীর ভেতরে ভাব-গম্ভীর পরিবেশের বদলে মধ্যবিত্ত বাঙালির চিরচেনা বাংলা একাডেমির সবুজ চত্বরে আয়োজন করা হয়েছিল এই উৎসব। ভাগ্য সহায় ছিল, একাডেমিতে প্রবেশের উপর তেমন কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। বাংলা একাডেমীর পুরো চত্বরটিকেই উৎসব চত্বর বানানো হয়েছিল। একাডেমীর বর্ধমান হাউস, বিক্রয়কেন্দ্র, নতুন ভবন, প্রশাসনিক ভবনের ইট-পাথরের বিল্ডিংগুলোর মাঝে সবুজ চত্বর জুড়ে ছড়ানো-ছিটানো বাঁশ-বেত-খড় দিয়ে বানানো ছোট ছোট ছাউনিঘর। ঘরগুলোতে লাগানো কয়েকটি ব্যানার দেখার চেষ্টা করলাম। প্রথমা, অমনি বুকস, ডেইলী স্টার, কাজি এন্ড কাজি টি, ইউপিএল, যাত্রিক…। দু-একজনকে টিপ্পনী দিতেও শোনা গেল: বাহ্ বাহ্, ঠিক যেন চত্বর জুড়ে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট কতিপয় ব্রিটিশ উপনিবেশ! (সম্পূর্ণ…)

সূর্য সেন, হে কাণ্ড ও বাঙালির বিবেক

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৬ নভেম্বর ২০১২ ৪:২৩ অপরাহ্ন

গত বছর ২০১১ সালে যখন ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রাঙ্গণে হে ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়, তখন আমরা কেউ এর বিরোধিতা করিনি। বস্তুত এবারেও এই ফেস্টিভ্যাল আয়োজনে আমাদের বিরোধিতার কোনো কারণ ছিল না, যদি এটি ব্রিটিশ কাউন্সিল বা অনুরূপ কোনো ভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হতো। আমাদের বিরোধিতার মূল কারণ এই নব্য-উপনিবেশবাদী, ভাষিক বৈষম্যমূলক ও সম্প্রসারণবাদী অনুষ্ঠানটি স্বাধীন সার্বভৌম জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতীক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমীতে আয়োজিত হচ্ছে। এর ফলে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাহী আমাদের প্রিয় জাতিরাষ্ট্রের এই অদ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটির স্বকীয়তা, ভাবমূর্তি, অনন্যতা ও পবিত্রতা পদদলিত হচ্ছে । গত ৫৭-বছর ধরে বাংলা একাডেমী নানামাত্রিক হুমকি ও বিপর্যয়ের মধ্যেও এই স্বকীয়তা অক্ষুন্ন রেখেছে। আর আজ স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সরকার ক্ষমতাসীন থাকাকালে কী কারণে তা পদদলিত হচ্ছে, সেটি আমাদের বোধের অতীত। (সম্পূর্ণ…)

গুচ্ছ কবিতা

মেঘনাদ ঘোষাল | ১১ নভেম্বর ২০১২ ১০:১০ অপরাহ্ন

কবিতা কখন
ম ম মধু খেয়ে
কবিতায় চাক বাঁধছে নাগরিক মৌমাছিরা
সদাগরী অহংকারে ফ্রয়েডিক জপ স্তব
গমগম সভাকক্ষ
বিয়োগের ব্যথা নিয়ে নকশা তুলছে
অন্ত্যমিলে
হিলস্টিকে কেঁপে ওঠে লাস্যময় একাডেমি
শৃঙ্গারের ফণা তুলে
হিস্ হিস্ শব্দ আসে কানে
ভাব-কবি দুধে ভাতে বিভাবে বেশ আছে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com