মুহম্মদ নূরুল হুদা-র নতুন অধ্যায়

ফরিদ আহমদ দুলাল | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ৮:৫১ অপরাহ্ন

nurul-huda-f111.jpgষাটের প্রথম সারির কবিদের অন্যতম কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার সাহিত্য চর্চার প্রকৃতি বহুধা-বিস্তৃত। তাঁর সম্পর্কে গদ্য লেখায় তাই কিছুটা হলেও বিস্তৃতির দাবী রাখে। তাঁর গদ্যের দিকে যদি দৃষ্টি নিবদ্ধ করি, দেখবো তাঁর গদ্য বহু ধারায় প্রবাহিত। অবলীলায় লিখেছেন যে কোনো অনুষঙ্গকে সামনে নিয়ে। সামান্য ক’টি ছোটগল্প লিখেছেন, জন্মজাতি(১৯৮৪) ও মৈন পাহাড় (১৯৯৫) শিরোনামের দুটি উপন্যাসও লিখেছেন; যে উপন্যাস দুটিতে তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ইতিহাস- ঐতিহ্য- কিংবদন্তী- লোকাচারকে আশ্রয় করে সমকালে দাঁড়িয়ে চিরকালীনতার প্রান্তে পৌঁছে গেছেন সহসাই। উপন্যাস দু’টি সরাসরি তাঁর আত্মজীবনী না হলেও বহুলাংশেই তাঁর নিজের এবং আপনজনদের জীবনঘনিষ্ঠ। কেবল উপন্যাস দু’টি নয়, তাঁর রচনায় বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের লোকজীবনের নানান আচর-অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতির নিবিড় চিত্র ঘনিষ্ঠ কলমের আঁচড়ে উচ্চারিত হয়েছে। ১৯৮১-তে প্রকাশিত তাঁর পঞ্চম কাব্য আমরা তামাটে জাতি কবিকে ‘জাতিসত্তার কবি’ অভিধায় পরিচিত করে তুললেও একই বিষয়ের কবিতা কবির পূর্বে প্রকাশিত কাব্যেও লক্ষ করা গেছে। কিন্তু এ কাব্যের ‘রোদ্দুরে নেয়েছি আর বৃষ্টিতে বেড়েছি/ সহস্র শতাব্দী দিয়ে নিজেকে গড়েছি/ আমরা তামাটে জাতি, আমরা এসেছি।’ (সম্পূর্ণ…)

অপরূপের সন্ধানে

ফারহানা মান্নান | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ ৬:২৭ অপরাহ্ন

শিল্পের গোড়াপত্তন এখন-তখনকার কথা নয়, সেই কবেকার কথা। গুহার দেয়ালে আদিমানবদের শিল্পপ্রতিভার বিকাশ ঘটেছিল। মাধ্যম নয়, রঙ নয়, টেক্সচার নয়, কেবলমাত্র বিষয়ের প্রাধান্য যেখানে – ঠিক এমনই নির্মলভাবে শিল্পের চর্চা করি আমরা ক’জনই-বা? মানুষের ভেতরে জন্মসূত্রেই কম-বেশি মাত্রায় শিল্প থাকে একটা সুপ্ত কুঁড়ির মতন। যথোপযুক্ত পরিবেশ, একাগ্রতা, চর্চার ফলে সুপ্ত কুঁড়ি পরিপূর্ণতা পায়। তবে একই আদলে এক গণ্ডির লোককে শিল্পী তৈরি করবার চেষ্টায় সকলের ভেতর হতে একই মানের শিল্পরস নিঃসৃত হবে না। কল্পনাশূন্য মানসিকতা নিয়ে একজন মানুষ কখনোই প্রকৃত শিল্পী হয়ে উঠতে পারে না। তবে মনের ভেতরের শিল্পবোধ যা সুপ্ত কুঁড়ির আদলে থাকে, তা প্রস্ফুটিত না হলেও নিঃশেষ হয়ে যায় না। কালের স্রোতে তা কখনওবা বাড়ে, আবার কখনও শুকিয়ে যায়। কাজেই শিল্পচেতনা এবং শিল্পের চর্চা কেবলমাত্র শিল্পবোদ্ধাদের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়। এই শিল্পকেও কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট পরিসীমার ভেতর আটকে রাখা যায় না। বলা যায় না – এই নাও এই ৫০০ গজের ভেতরেই রয়েছে শিল্প। সুসজ্জিত রিকশা, নানান ঢঙের, রঙের পোশাক, গৃহসজ্জা, সৌন্দর্যচর্চা, রকমারি রান্না – কোথায় নেই শিল্প? শিল্প তাই সর্বস্তরে বিস্তৃত। শিল্পের কোনো সীমারেখা না থাকলেও কোনটা কোন পর্যায়ের শিল্প, সেটা কিন্তু রীতিমতো ভাববার বিষয়। (সম্পূর্ণ…)

গুচ্ছ কবিতা

রফিক উল ইসলাম | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১২ ১১:৫১ অপরাহ্ন

মা চলে গেলে
মা চলে গেলে খেতে ডাকার থাকে না কেউ। এই শুন্যকথা জান্নাতবাসীর কানে কানে পৌঁছেছে!

শিশিরে ভেজা কবরখানা মাড়িয়ে নিচে নামতেই দেখলুম ছেলেটিকে। সমগ্র হাহাকারের ভেতর কেমন যেন বাকরুদ্ধ সে। মরা মাছের মতন তার চোখদুটি বন্দরপারের চিমনির ধোঁয়ায় অসম্ভব কিছু খুঁজছে। যেন ধোঁয়া নয়, কুণ্ডলীপাকানো রূপকথাগুলি হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী ছেড়ে। কিছুতেই ফিরবে না আর। এই অদ্ভুত আলোয়, সূক্ষ্ম রেখাচিত্র ছাড়া কিছুই জেগে থাকবে না আর!

দূর প্রবাসে পড়ে আছে শিশুপুত্রটি তার – যাকে খেতে ডাকার থাকল না কেউ। শুধু এই সঞ্চয়ে, জান্নাতের দরজার দিকে হেঁটে যাচ্ছে এক স্বেচ্ছাচারী মা। তার পায়ের নিচে তীক্ষ্ম রেশমসূতোর পথ। পাতাল ফুঁড়ে উঠে আসছে আগুন। জিব্রাইল, তুমি কি স্তব্ধতা কুড়োবে আজ! (সম্পূর্ণ…)

পরীরানীর সন্ধ্যা

কুলদা রায় | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

বাড়িটির নাম চিলেকোঠা। চারিদিকে বাগান। মাঝখানে ছোটো বাংলো ধরনের টিনের ঘর। কোনো চিলেকোঠা নেই এই ঘরটিতে। মধ্য পাড়ার প্রবীণ মোক্তার অসিতবরণ সরকার মফস্বলের ইতিহাস নামে ইতিহাস একটি রচনায় লিখেছেন—এই এলাকায় গ্রেগরী চিলম্যান নামে এক ইংরেজ এসেছিলেন ১৮০৩ সালে। শুরু করেছিলেন নীলচাষ। এই নীলচাষের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে একটি মাঠের নাম আজও জারী আছে। নাম–নীলার মাঠ। এই নীলার মাঠে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে ঘোড়-দৌঁড় হয়। অসিতবরণ বাবু আরও লিখেছেন—এই চিলম্যান সাহেব মধুমতী নদীর তীরে পাঁচ বিঘা জমির উপরে এই বাড়িটি তৈরি করেন। তিনি একাই থাকতেন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। চিলম্যানের নাম-অনুসারে এই বাড়িটির নাম চিলেকোঠা। প্রবন্ধটি ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে প্রকাশিত সাহিত্য সংকলন কোরক-এ ছাপা হয়েছিল।

এই চিলেকোঠা বাড়িটিতে হুজুর স্যার থাকতেন। তাঁর পুরো নাম সৈয়দ সালামতউল্লাহ। বাড়ি দিরাই, শালনা। জেলা সুনামগঞ্জ। এইটুকু তথ্যই মডেল স্কুলের রেজিস্ট্রারে লেখা আছে। তিনি কবে দখিন দেশের এই মফস্বল শহরে এসেছিলেন তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। স্কুলের কেরানি আসমত আলী বললেন—স্কুলটি ১৯৭২ সালে সরকারী হয়। এর আগের কাগজ পত্র নাই। পাক মিলিটারীরা পুড়িয়ে দিয়েছে। তবে লোকে বলে, তাকে কখনও এ শহরটি ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে দেখা যায়নি। ফলে শালনা দিরাই বা সুনামগঞ্জ যে তাঁর বাড়ি সে ব্যাপারটিও নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। (সম্পূর্ণ…)

চেসোয়াভ মিউশ ও তাঁর কবিতা প্রসঙ্গে

মতিন বৈরাগী | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ ১০:০৪ অপরাহ্ন

’’জীবন সংগ্রামে মানুষের আত্মরক্ষার জন্য দুটি সৃজনশীল হাতিয়ার হচ্ছে জ্ঞান আর কল্পনা। প্রাকৃতিক অবস্থা এবং মানব সমাজের বিভিন্ন পর্যায়কে বীক্ষণ ও পর্যালোচনা করার দক্ষতা, যার সাহায্যে সম্ভব হচ্ছে জ্ঞান বা চিন্তনের বিকাশ। কল্পনা যদিও একধরনের চিন্তন মানব মনের সচেতন প্রক্রিয়া, কিন্তু এ ক্ষেত্রে চিন্তার প্রকাশ ইমেজে। বলা যেতে পারে কল্পনা এমন এক শক্তি যার সাহায্যে মানুষ প্রাকৃতিক বিষয়বস্তুতে মানবিক গুণ.অনুভূতি ও বৈশিষ্ট আরোপ করে থাকে।’’ সংগত কারণেই সৌন্দর্য সৃষ্টির নিয়মানুযায়ী শিল্প-সাহিত্য-কবিতায় যুগ ও সমাজ পরিবর্তনের ছাপ তাৎক্ষণিক নয়। ’মানুষের সামাজিক সত্তাই তার চৈতন্যের নির্ধারক’। স্বাভাবিক ভাবে শিল্প-সাহিত্যিকরা যা কিছু নির্মাণ করেন তার মধ্য দিয়ে সামাজিক অবস্থানের চেতনাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মিউসের কবিতায় আমরা এই সত্য মোটামুটি ভাবে লক্ষ করতে পারি ।milosza.jpeg (সম্পূর্ণ…)

মান্নান সৈয়দ সম্পর্কে তার সহধর্মিনী সায়রা সৈয়দ: “যে পরিমাণ পরিশ্রম তিনি করেছেন সাহিত্যচর্চায় তার অনুপাতে তিনি কিছুই পান নি”

প্রমা সঞ্চিতা অত্রি | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১২ ১২:১০ পূর্বাহ্ন

sayra-p1.gif

গত পাঁচই সেপ্টেম্বর ছিলো বহুমুখী ও অতিপ্রজ লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। তার সাহিত্যকর্মের বাইরে ব্যক্তি মানুষটির জীবন ও সংসার যাপন সম্পর্কে আমরা তেমন কিছু জানি না। এ বিষয়ে জানতে গত ৮ সেপ্টেম্বর বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম-এর পক্ষ থেকে আমরা মুখোমুখি হয়েছিলাম লেখকের স্ত্রী সায়রা সৈয়দের। বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম-এর পাঠক পাঠিকার জন্য সায়রা সৈয়দ এই প্রথম আবদুল মান্নান সৈয়দের পারিবারিক ও ব্যক্তি জীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন। বি.স.

বিডিনিউজ: আপনার পুরো নামটা একটু বলবেন?

সায়রা সৈয়দ: আমার ভাল নাম সায়রা সৈয়দ। শুধুই সায়রা সৈয়দ।

বিডিনিউজ: মান্নান ভাইয়ের সাথে আপনার প্রথম পরিচয়টা কিভাবে হয়েছিল?

সায়রা সৈয়দ: প্রথম পরিচয়টা হল ওই যে ঢাকা মিলিটারি কলেজ আছে না? ওইখানে আমার এক ভাই পড়তো। ওইখানে একদিন একটা কনফারেন্স মত ছিল। সেখানে আমার ভাই আমাকে যেতে বলেছিল। আমাকে একা না, সাথে আমার বোন আর আমার এক ভাই ছিল। আমরা সবাই একসঙ্গে গিয়েছিলাম। যাওয়ার পরে ওইখানেই তাকে প্রথম দেখেছিলাম। ওনার কিছু বন্ধুবান্ধব এসেছিলেন সাথে। ওইসময় দেখা করতে গিয়ে উনিও আমাকে দেখছে আমিও উনাকে দেখছি। তারপরে, দেখার পরে আমি তো আর উনাকে চিনি নাই যে উনি সেই মানুষ। যদিও উনি ছিলেন আমার চাচাতো ভাই। কিন্তু উনাদের সাথে অতটা ক্লোজ আমরা ছিলাম না। (সম্পূর্ণ…)

শহীদুল জহিরের গল্পে জাদুআবহ ও কয়েনেজসমূহ

মাজুল হাসান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১২ ৪:২৩ অপরাহ্ন

অনেক ভেবে, শহীদুল জহিরের গল্পবয়ান-কৌশলকে আমার কাছে মনে হয়েছে বানরের তেলপিচ্ছিল বাঁশ বেয়ে ওপরে উঠার মতো। আসলে, জহির গল্পকে এগিয়ে নেন কতগুলো ঘাত-এ। ধাক্কায় ধাক্কায়। বানর যেমন তিন মিটার উঠে আবার এক মিটার নেমে যায়, সে রকম জহির এক ধাক্কায় কিছু দূর এগিয়ে একটু পিছিয়ে পড়েন অথবা আরেকটু উপর থেকে শুরু করেন। অর্থাৎ একটি ঘাত শেষ হবার পর ধারাবাহিকতার ক্রমটাকে ভেঙে দেয়া। ফলে এক ধরনের বিভ্রম তৈরি হয়। তৈরি হয় ঘোর। ঘোর মানেই কালহীন পরিভ্রমণ–তালগোল পাকিয়ে যায় বর্তমান-অতীত-ভবিষ্যৎ। তার ‘ধুলোর দিনে ফেরা’ গল্পে এই টেকনিক পরিষ্কার বোঝা যায়। সেই সাথে ভাষার একটি ঘোর তৈরির চেষ্টা সবসময় জহিরের গল্পে থাকে, যেখানে দেখা যায় অনিশ্চিয়ত্মক ডায়ালোগের ফুলঝুরি।

জহিরের গল্প-যাত্রাকে মোটা দাগে ২ ভাগে ভাগ করা চলে। প্রথম বই ‘পারাপার’-এর রিয়েলেস্টিক ধারার গল্প আর তার পরের জাদুবাস্তবতার আখ্যান। পারাপারে জহির অনেক বেশি ট্র্যাডিশনাল, যেখানে গল্প একটি বক্তব্য বা অদেখা বিষয়কে সামনে তুলে আনার চেষ্টা করেছেন তিনি। (সম্পূর্ণ…)

মান্নান সৈয়দ: আমি যার কাননের পাখি

রাজু আলাউদ্দিন | ৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ ৬:৫০ অপরাহ্ন

মাদকাসক্ত মানুষের যে আকর্ষণ থাকে মাদকের প্রতি, মান্নান ভাইয়ের প্রতি আমার আকর্ষণ ছিলো সে রকম। এই আকর্ষণের কারণ তাঁর গল্প, কবিতা আর প্রবন্ধ। অমোঘ ছিলো সেই আকর্ষণ।

আমার লেখালেখির সূচনায় তিনি তখনই প্রতিষ্ঠিত লেখক, কিন্তু লেখক-স্বভাবে তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠানভেদী এক দুর্মর সত্তা। বড় কাগজে লিখতেন আবার ছোট ছোট কাগজেও লিখতেন তিনি। আমরা সেসব লেখার উপর হুমড়ি খেয়ে পরতাম। তিনি ছিলেন আমাদের মতো বহু তরুণ লেখকের আকাঙ্খার এমন এক মানচিত্র যেখানে প্রবেশের জন্য দরকার ছিলো পাঠক হিসেবে কল্পনাপ্রবণতা ও তীব্র সংবেদনশীলতা। এই দুটো গুণ ছাড়পত্র হিসেবে কাজ করতো তার রাজ্যে প্রবেশের জন্য।

আমরা অনেকেই এই প্রবেশাধিকার পেয়েছিলাম; কিন্তু আমাদেরই মধ্যে কেবল কেউ কেউ প্রবেশ করেছিলাম তার রাজ্যে, তার প্রাসাদে এবং সবশেষে তার সুরক্ষিত গোপন জগতে যা অদৃশ্য কিন্তু কুসংস্কারের মতোই শক্তিশালী ও বিদ্যমান: হৃদয়। তার এই জায়গাটিতে আমি প্রবেশাধিকার পেয়েছিলাম পরিচয়ের অল্প কিছুদিন পরপরই, আটের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে। (সম্পূর্ণ…)

মান্নান সৈয়দের গুরুত্ব

শামসুজ্জামান খান | ৭ সেপ্টেম্বর ২০১২ ৩:৫১ অপরাহ্ন

আবদুল মান্নান সৈয়দ আমার আর্দশগত বন্ধু ছিলো– এটা আমি বলব না। রাজনৈতিক চিন্তাধারায় তার সঙ্গে আমার অনেক দূরত্ব ছিল এবং সেই দূরত্ব বলতে গেলে মৌলিক। তবে আমি মান্নান সৈয়দকে দেথেছি একটা ভিন্নরকম প্রেক্ষাপটে। আমার মনে হয়েছে, তার রচনার দিকে যদি আমরা তাকাই তাহলে আমরা দেখব একটা ক্রমপরিবর্তিত রূপান্তর। লক্ষ্য করেছি তার মধ্যে চিন্তার একটা দ্রুত ও মৌলিক পরিবর্তন ঘটছিল। যে জায়গাটায় তিনি বিশ্বাস করতেন না সেই জায়গা থেকে তাকে আমরা একটু ভিন্ন অবস্থানে পরবর্তীকালে দেখেছি। যেমন লোকজ বিষয় নিয়ে তার কোনো আগ্রহ ছিল না প্রথমদিকে কিন্তু পরবতীকালে আমরা দেথেছি যে লালন ফকির নিয়ে তিনি যে একটি ছোট প্রবন্ধ লিখলেন তার গুরুত্ব কিন্তু অসামান্য। তিনি কেমন করে সে জায়গাটা থেকে সরে আসছিলেন এবং লালন যে একজন অসাধারণ বাণীসাধকও শুধুমাত্র একজন দার্শনিক নন, কেবলই একজন অসাধারণ লোক কবি নন, সঙ্গীতের একজন অসাধারণ স্রষ্টাও–এই বোধ তার মধ্যে জাগ্রত হয়েছিল।
mannan-m.gif (সম্পূর্ণ…)

আবদুল মান্নান সৈয়দ : একটি অন্তরঙ্গ পাঠ

ফারহানা মিলি | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ ২:৫০ অপরাহ্ন

একজন নিমগ্ন কবি। অসাধারণ ছোটগল্পকার। অগ্রবর্তী প্রবন্ধকার। কাব্যনাট্য, গদ্যনাট্য, উপন্যাসের বিচিত্র জগতেও তাঁর বিচরণ অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে। এমন একজন বহুচারী লেখকের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা একটু কঠিনই বটে। কারণ এমন লেখকের সৃষ্টিভাণ্ডার থাকে বিপুল, সৃষ্টির বিচিত্র কোণে তিনি আলো ফেলেন। আবদুল মান্নান সৈয়দকে নিয়ে এ অনায়াসে কথা বলা যায়।

ষাটের দশক থেকে আধুনিকবাদী কবিতা চর্চার জোয়ার শুরু হয়েছিল। তখন থেকেই আমাদের কাব্যজগতের অন্যতম শীর্ষস্থানটি দখল করেছিলেন আবদুল মান্নান সৈয়দ। বাংলা সাহিত্যের একজন অগ্রগণ্য কবি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। পাশাপাশি প্রবন্ধ রচনায়, বিশেষত বাংলা সাহিত্যের কয়েকজন দিকপালের সাহিত্যকর্মের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ একটি স্থান পেয়েছেন। লিখেছেন প্রচুর ছোটগল্প, নাটক, উপন্যাস, সমালোচনা-সাহিত্য। ছিলেন একাধিক সাহিত্য-কাগজের সম্পাদক। অনেক বইও সম্পাদনা করেছেন তিনি।
book.gif (সম্পূর্ণ…)

আবদুল মান্নান সৈয়দ : বহুমাত্রিক এক লেখক

ফখরুজ্জামান চৌধুরী | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ ১২:৩৮ অপরাহ্ন

সময় কতো দ্রুত বয়ে যায়। সময়ের প্রহারে। অনেক কিছুর সাথে মুছে যায় অনেক স্মৃতি। স্মৃতি বিস্মৃত হওয়া মানসিক বৈশিষ্ট্য আর আমরা তো নাকি বিস্মরণ-প্রিয় মানুষ।

কিন্তু তারপরও ভাস্বর হয়ে থাকে কিছু স্মৃতি। অম্লান রয়ে যায় কোনো কোনো মানুষের ছবি। এমনি অম্লান স্মৃতি হয়ে মনে ঠাঁই করে আছেন আবদুল মান্নান সৈয়দ যার মৃত্যু এখনো মনে হয় অলীক।

দু’বছর আগে তাঁর মৃত্যু সংবাদ যখন বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো শুনি, স্তব্ধ হয়ে বসেছিলাম অনেকক্ষণ, মনে পড়ে। অবিশ্বাস্য ছিলো সেই দু:সহ সংবাদ। পরস্পরে শুনছিলাম ইদানিং মান্নানের শরীরটা ভালো যাচ্ছিলো না। হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে ডাক্তার-হাসপাতাল করেছেন কিছুদিন। গ্রিন রোডের বাসায় তার শুভানুধ্যায়ীদের কেউ কেউ তাকে দেখতেও গেছেন। উত্তরার বাসায় বসে বহির্বিমুখ আমি মান্নানের অসুস্থতার খবর শুনি আর ভাবি বয়সে আমার ছোটো মান্নান সাময়িক এই শারীরিক বৈকল্য অচিরেই কাটিয়ে উঠবেন। প্রাণবন্ত এই মানুষটি শুধু তার সৃজন কর্মের কারণেই ব্যক্তিগত ব্যবহারের কারণেও অনেকের কাছে এক আকর্ষণীয় মানুষ। কী তুমুল আড্ডায়, কী ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে মান্নান বরণীয় এক নাম। কবে তার সঙ্গে প্রথম পরিচয় আজ আর মনে নেই। ধীরে ধীরে সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে ক্রমশ:। যদিও যাকে বলে প্রতিনিয়ত দেখাদেখি তেমনটা ছিলো না সেই সম্পর্ক। মান্নান আমার নামের শেষে ভাই সম্বোধনে ডাকতেন, আমি তাকে শুধুই মান্নান।
a-m-syed.jpg (সম্পূর্ণ…)

আবদুল মান্নান সৈয়দের নাট্যকাজ

পিয়াস মজিদ | ৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ ৯:৪০ অপরাহ্ন

আরো অনেক সাহিত্যিক পরিচয়ের পাশাপাশি আবদুল মান্নান সৈয়দ একজন নাট্যকারও। ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমী প্রকাশিত নাট্যগুচ্ছ ছাড়াও ২০০৯-এ বেরিয়েছে তার সমুদয় নাট্যধর্মী লেখার সংকলন নাট্যসমগ্র। মোটামুটি ছয় ধরনের নাট্যিক রচনা এ সংকলনে সূচিবদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে আছে প্রহসন, কাব্যনাট্য, একাঙ্ক, শ্রুতিনাট্য, পূর্ণাঙ্গ নাটক, অনুবাদ নাটক।
আবদুল মান্নান সৈয়দ এ সংকলনের ‘প্রবেশক’ অংশে তার নাট্যিক প্রয়াসের যে বর্ণনা দিয়েছেন তার উল্লেখ প্রাসঙ্গিক:
“লিখেছি গদ্যনাটক ও কাব্যনাটক, পূর্ণাঙ্গ নাটক ও একাঙ্ক, শ্রুতিনাট্য লিখেছি, নাটকের অনুবাদ করেছি, ছোটগল্পের নাট্যরূপ দিয়েছি। ষাটের দশকে, আমার সেই প্রথম উত্থানের দিনগুলোতে সাহিত্যের সব রাস্তায় ঘোড়া ছুটিয়েছিলাম। ছোটগল্পের সঙ্গে তার সহোদরপ্রতিম একাঙ্ক নাটক রচনার প্রবল প্রবণতা ছিল আমার। একাঙ্ক নাটক আর ব্যক্তিগত প্রবন্ধ এই দুটি সাহিত্য মাধ্যম কখন অজ্ঞাতসারে আমার হাত থেকে খসে গেছে। তবু কাব্যনাট্যের জন্য আমার ভেতরে একটি দীর্ঘশ্বাস রয়ে গেছে আজো।”

শুধু কাব্যনাট্য নয়, এ নাট্য সংকলনভুক্ত মান্নান সৈয়দের প্রহসন, একাঙ্ক শ্রুতিনাট্য, পূর্ণাঙ্গ নাটক ইত্যাদি পাঠ শেষে আমাদের দীর্ঘশ্বাস তৈরি হয় যে কেন তিনি সাহিত্যের এ মাধ্যমটিতে অক্রিয় হয়ে গেলেন? নাট্যসমগ্র-এ গ্রথিত হয়েছে ‘প্রচণ্ড প্রহসন’ নামে একটি প্রহসন। ছয়টি কাব্যনাট্য ‘বিশ্বাসের তরু’, ‘জ্যোৎস্না-রৌদ্রের চিকিৎসা’, ‘ঈশ্বরপ্রাপ্তির ছোট্ট গাঁথা’, ‘চাকা’, ‘কবি ও অন্যেরা’, ‘আটতলার ওপরে’। পাঁচটি একাঙ্ক ‘সংসার’, ‘যুক্তিহীন যুগ’, ‘সুখ-অসুখ’, ‘খেলা’, ‘এসো অসম্ভব, এসো’। একটি শ্রুতিনাট্য ‘মৃত্যু একটি দরোজা’। পূর্ণাঙ্গ নাটক ‘না ফেরেশতা না শয়তান’। স্পেনিশ কবি ও নাট্যকার ফেদেরিকো গারসিয়া লোরকার নাটকের মান্নান সৈয়দকৃত ভাষান্তর-রূপ ‘স্বর্গোদ্যান’ও এখানে অন্তর্ভুক্তি পেয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com