রবীন্দ্র ভাবনার অন্য কিছু দিক

মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক | ৫ আগস্ট ২০১২ ১০:৪৬ অপরাহ্ন

যৌবনের প্রারম্ভে রবীন্দ্রনাথ পাশ্চাত্য জগত সম্পর্কে অত্যন্ত উঁচু ধারণা পোষণ করতেন। ঔপনিবেশিক জমানার আর্থ সামাজিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতীয় রাজা, মহারাজা, জমিদার, আমলা, অমাত্যরা ব্রিটিশদের প্রতি নিঃশর্তভাবে অনুগত ছিল। তাদের অস্তিত্ব¡ নির্ভর করতো রাজানুগত্যের উপর। শাসন কাঠামোর সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকার কারণে পাশ্চাত্য সমাজের শিল্পায়ন, জ্ঞান, বিজ্ঞানসহ তথাকথিত অগ্রগতির নানা বিষয় পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষভাবে এ শ্রেণীর উপর প্রভাব ফেলেছিল। যে কারণে পরাধীনতার শেকল পরেও সমাজের এই অগ্রসর শ্রেণীটি ব্রিটিশ এবং পশ্চিমাদের প্রশংসায় থাকতো পঞ্চমুখ। রবি ঠাকুরও যৌবনের প্রারম্ভে এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। পাশ্চাত্যের পাদদেশেই তিনি জীবনের স্বরূপ সন্ধানে ব্যাপৃত ছিলেন। প্রাচ্যের অচলায়তনের তুলনায় পশ্চিমের বেগবান সমাজ তাঁর কাছে অনেক আকর্ষণীয় বলে প্রতীয়মান হয়েছিল। তিনি ১৮৭৮ সনের সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ইতালি, প্যারিস হয়ে বিলেত গিয়েছিলেন। সে সুবাদে যাত্রা বিরতির কারণে তাঁর প্যারিস দর্শন হয়েছিল। প্রথম দর্শনেই তারুণ্যে উচ্ছ্বল কবি ওই শহরের প্রেমে পড়ে যান। (সম্পূর্ণ…)

কবিতাগুচ্ছ

অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় | ৫ আগস্ট ২০১২ ১০:৩০ অপরাহ্ন

তৃষ্ণা

আমার সকল নিমে বসে আছি সর্বনাশের আশায়

খুব দূরে দাড়িয়েছো একা
যদি পথ এসে তুলে নেয়…
অন্তিম চিকুর হেনে তুমি কী তাকাবে ফিরে
এই যে শ্রাবণ মায়া, মালতী লতার ঝংকার
বেজে ওঠে গান বরাবর আলো অভিসারে
তিমিরের স্তপ হয়ে আছে যে আড়াল
তুমি কী ফেরাবে তাকে সুহানা সফরে
মেঘ-বর্ষাতি গায়ে বৃষ্টির পথমিছিলে
বুঁদ বুঁদ জল অবিরল…
তৃষ্ণার বুকজুড়ে চোখের তারায়।

সাক্ষর

অন্ধকারের মাঝে আমায় ধরেছ দুই হাতে

আর সাড়া দেব বলে আমি পেরিয়ে যাচ্ছি
ঈশ্বরাম উপকথাগুলো, সামান্তরাল আকাশ
বিশ্বমান গবেষণালিপি, শূন্যতার পরিভাষা,
এত যে আধার খেলা আলোর অতীত নিরাকার
রূপ তার শ্যামসম নৈশবাহার, যেন রচিত
শ্রাবণ-মেঘ কপট বিরহে ঘনিয়ে আন্ধার
জন্মান্ধ রিপু সন্ধানে আঁধারের পদাবলী
রাধিকার পথ অভিসার, ঝড় বাদলের রাতে
বিপদের প্রান্তসীমায় অবাক লণ্ঠন হাতে
তুমি মুদ্রিত সাক্ষর, রোশনাইয়ে ভরে দাও ঘর
অন্তরে বাহিরে, ভয়তরাসের বাঁকে অতলান্ত খাদে। (সম্পূর্ণ…)

গুচ্ছ কবিতা

চন্দ্রিমা দত্ত | ৫ আগস্ট ২০১২ ১০:০০ অপরাহ্ন

রামধনু বিষয়ক

[১]
আত্মনির্বাসন প্রিয় দণ্ডে আমি মাথা পেতে রই,
নিষিদ্ধ এ অবকাশে নিজের সাথেই ফের মিলিত হই।

[২]
কে যে বন্ধু, চেনা বড় দায়
করুণার, দয়ার ভাণ্ডার হৃদয় সবার;
কেউ কেউ দলছুট, যেন ছাতা,
বজ্র-বিদ্যুৎ আটকায়।

[৩]
করুণা নয়, দাক্ষিণ্যও বাতুলতা।
আমার যা আছে, হে কারবারী
আছে অধিকই, আমি জানি।
চাও যদি, কিছুটা দিতেও পারি। (সম্পূর্ণ…)

গুচ্ছকবিতা

প্রাণজি বসাক | ৪ আগস্ট ২০১২ ৬:০৫ অপরাহ্ন

ভাসানে

সমস্ত বৈভবের পর একটু বিরাম
বেশ কয়েকদিন পর আজ পাতা আসবে
যেখানে থেকে যাত্রা শুরু হবার কথা
সেখানে ঢাক বাড়ছে
রোদ খেলছে তবু আলো নেই

রাত্তির কথা জানে না সারি সারি পিপীলিকা
জানে না শহর অথবা গ্রামের কথাও
গোষ্ঠীবদ্ধতা নিয়ে মন খারাপ নেই
বানের জলে চাঙ্গার ভাসলেও দুঃখ নেই

কঠিন পরিশ্রমের গেরোস্থালি চিনির দানার মতই
সলুউবল্ – তবুও জলের প্রেমে ভাগাভাগি হয়
অবোধ শরীর অনিবার্য গলে যাওয়া নির্মম ভাসানে (সম্পূর্ণ…)

পশ্চিমের কবিতা

হাবীবুল্লাহ সিরাজী | ৩ আগস্ট ২০১২ ৭:২১ অপরাহ্ন

শ্যুটিং

নাচে একা, একাও না

চেরির বোঁটায় উল্টো ঘুমে
উসকে দিচ্ছে ঠোঁটের স্মৃতি
ঊন স্রোতে উতল জঙ্ঘা
তল্লাশি নেয় শ্লেষা-ঘামের, ভেজেও না

ফিফটি ফিফটি লাইভ লাইনে
মোমের ম্লেশা, নেশাও না
মধ্যমা ছল গভীর যতো
গরম পেয়ে চাবির ডগা
জিভ ছুঁয়ে যায় গলেও না

যা-ই ওড়ে, আলো মেরে সরেও না
ডোরা বোলতা হুল ফুটিয়ে নড়েও না
লাল রুমালে চোখ বাঁধা ষাঁড়
বর্শা-বিষে টলেও না
একা নাচে, নাচেও না

চলছে শ্যুটিং, চলেও না … (সম্পূর্ণ…)

সৃজনীসত্তা পেরিয়ে চলছে সময়নদীঃ

ম্যান্ডেলস্ট্যামের ‘শিলায় লিখিত গীতিকবিতা’র একটি সম্ভাব্য পাঠ

তাপস গায়েন | ৩ আগস্ট ২০১২ ১২:২৯ অপরাহ্ন


পূর্বকথাঃ

কবিতার যে কোনো পাঠক একটি কবিতাকে সেই কবিতার অস্তিত্বেই বুঝে নিতে চান । কিন্তু পরমাত্মাকেও যখন মহাবিশ্বের অপরাপর অস্তিত্বের সম্পর্কে আমাদেরকে বুঝে নিতে হয়, তখন কোনো একটি কবিতাকে শুধুমাত্র সেই কবিতার অস্তিত্বে কবিতাটির পাঠোদ্ধার এবং রসাস্বাদন সম্ভবপর নাও হয়ে উঠতে পারে, যদি বিভিন্ন কারণে কবিতাটি জটিল হয়ে থাকে । এই প্রেক্ষিতে সেই কবির প্রায় সকল কবিতা এবং কবি যে ভাষার কবি এবং পৃথিবীর যে জ্ঞানপ্রবাহে তিনি অবগাহন করেছেন সেই ধারাবাহিকতার একটি নূন্যতম পাঠ নেয়া কখনো কখনো জরুরি হয়ে পড়ে । (ইয়োশেপ = যোশেপ = ওসিপ ) ম্যান্ডেলস্ট্যাম (খ্রি ১৮৯১-১৯৩৮)-এর osip.jpg‘শিলায় লিখিত গীতিকবিতা’ (খ্রি ১৯২৩) এরূপ একটি অনুধ্যান । ওমরি রনেন-এর সুবিখ্যাত, ‘এ্যান এপ্রোচ টু ম্যান্ডেলস্ট্যাম’ বইয়ের মাধ্যমে তিনি পাঠককে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছেন এক দীর্ঘ পথ পরিক্রমায়, যেখানে আলোচ্য কবিতার পরম্পরা খুঁজতে তিনি আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন রুশ, প্রাচীন গ্রেকো-রোমান, এবং আধুনিক ইউরোপীয় সাহিত্যের প্রধান কবিদের সেইসব কবিতার সাথে যা ম্যান্ডেলস্ট্যামের এই কবিতাকে হয়তো প্রভাবিত করেছে, কিন্তু আমার এই আলোচনায় প্রায়শই অনুল্লেখিত থেকে যাবে তাঁদের (ভার্জিল, দান্তে, পের্ত্রাক, হাইনে, হোল্ডারলিন, ভার্লেন, পুশকিন, ক্লেবনিকভ, গুমিলেভ, এনানেস্কি, সেভেৎইয়েভা, পাস্তারনাক, ব্লক, আখমাতোভাসহ প্রমুখের) কাজ । এই কবিতাকে বুঝতে তিনি যুডো-ক্রিশ্চিয়ান সংস্কৃতির পৌরাণিক আখ্যান এবং আসমানি কিতাবের অনেক আয়াতের বাণী বন্দনায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন পাঠক সমাজকে । অধ্যাপক-সমালোচক ওমরি রনেনের দীর্ঘ সাধনার সুবিখ্যাত বই [১] এবং এম এল গ্যাস্পারভের অসামান্য প্রবন্ধ [২] পাঠের আলোকে আমি আলোচ্য কবিতার [৩] অনুবাদসহ একটি ছোট্ট পাঠ এখানে তুলে ধরতে চেষ্টা করছি, যা সম্ভাব্য বহুবিধ পাঠের একটি পাঠমাত্র । (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা |

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com