এই উদ্‌ভ্রান্তি মানবের, এই স্বপ্ন ফড়িঙের

তাপস গায়েন | ৩১ আগস্ট ২০১২ ৮:৪৬ অপরাহ্ন

‘আকাশ চলিয়া গেছে কোথায় আকাশে….।’ সেই কারণে ‘এ(ই) আকাশ নয় আজিকার….।’ এইসব পাখি যাহারা আজ ধলেশ্বরীর চরে ডানা ভাসাইয়াছে ক্রমেই অনুমানে আসিবে, ‘পাখিগুলো কিছুতেই আজিকার নয় যেন….।’ তবু আকাশ জাগিয়া ওঠে ; দহের বাতাসে রাতভর নক্ষত্রের গুঞ্জন কানে আসিয়া বাজে, যদিও দুপুরের বাতাসে, মেঘের আচ্ছাদনে সেইখানে ‘বাদলের কোলাহল’ ছিল । রাতের গভীরে ‘ভিজে পেঁচা শান্ত স্নিগ্ধ চোখ মেলে (আছে) কদমের বনে….।’ আর ‘নদীটির জল …. বিশালাক্ষী মন্দিরের ধূসর কপাটে আঘাত করিয়া যা(য়) ভয়ে ভয়ে….।’ প্রকৃতি-গভীরে যখন ‘পাট …. পচে অবিরল’ তখন রাতের সান্নিধ্যে লক্ষীপেঁচার বিস্মিত চোখ দেখিয়া আমরা এই আকাশকে ‘….শ্রাবণের বিস্মিত আকাশ’ বলিয়া শরীরের অনুভবে আনিব এবং একইসাথে জানিয়া লইব– ‘এ(ই) নদীও ধলেশ্বরী নয় যেন….।’ এই নদী ধানসিড়ি কিংবা ধলেশ্বরী যাহাই হউক, আমরা অনুভবে মানি, ‘….এই নদী নক্ষত্রের তলে সেদিনো দেখিবে স্বপ্ন….।’ এই স্বপ্ন যাহা আজিকার হইয়াও বর্তমানকে অতিক্রম করিয়া সময়ের মধ্যে পরিব্যাপ্ত এবং যাহা কোনো একদিন বিদ্যমান ছিল কিংবা যাহা সেইদিনে হইয়া উঠিবে, তাহাকে বাতাসের মতো ব্যাপ্ত ভাবিয়া আমাদের অনুভবে উহাকে একইসাথে ক্ষণকালীন এবং সর্ব্বকালীন ধরিয়া লইব। সময়ের ভিতরে প্রকৃতি ব্যাপ্ত না কী প্রকৃতির মধ্যে সময়ের জন্ম হয়– এই দ্বন্দ্বের সমন্বয় সাধন না করিয়া এই স্বপ্ন এবং স্বপ্নযাত্রার মধ্যে নিহিত সৌন্দর্যবোধে যাহারা অনুপ্রাণিত, আপ্লুত, মুগ্ধ এবং আমরা যাহারা এই অনুভবের আত্মীয়তায় আস্তিক হইয়া উঠিয়াছি, তাহারা মধ্যরাত অতিক্রম করিয়া আমাদের প্রিয় কবির উদ্‌ভ্রান্তির, তাঁহার স্বপ্নযাত্রার সঙ্গী হইয়া উঠিব । (সম্পূর্ণ…)

গুচ্ছ কবিতা

শামীম আজাদ | ৩০ আগস্ট ২০১২ ১০:১৮ অপরাহ্ন

কু তূ হ ল

প্রভাত পাশ ফিরে শু‘লে
সুরক্রিয়া শুরু হয়ে যায়
শূন্যতা সমাচার স্বাদ হতে থাকে
ভাবনা ভালুক ভোঁ ভোঁ করে ঘুরে
বোল ফোটে গাছে, বুঝি
সরস্বতী থিতু হয়েছেন
আমার দরোজায় ।

ও আমার ভালুকসোনা
কাকে ভালোবাসো?
ঐ চলিষ্ণু সোঁদাগন্ধ চাঁদ
না সেই সুদীর্ঘ সূতানলী রাত
অথবা স্বপ্নশব্দের এই সুরক্রিয়া প্রাত
কে তোমারে তানসেন করে
করেগো দীপক! (সম্পূর্ণ…)

কবিতাগুচ্ছ

রশীদ মামুনুর | ২৯ আগস্ট ২০১২ ৮:০১ অপরাহ্ন

মহানাগরিক

হাঁটতে হাঁটতে মফস্বলের রোদ;
মাখতে মাখতে পেঁচার পাখার মায়া,
দিনমজুরের ভেতরে মরছে বোধ;
আকাশ ছাড়ানো অট্টালিকার ছায়া,
ঢেকে দেয় সব; এখানে সকাল ঢাকা,
কীটস্যকীট পিলপিল পায়ে চলি;
খেলনা মানুষ; খেলনা গাড়ির চাকা,
দম দেয়া জোর রোবটের ন্যায় বুলি।

এখানে সকল বন্ধু’র পথ বাঁকা;
সম্পর্কের শেয়ার বাজার ফেল,
পতনের তলে বেদম জোরসে হাঁকা;
বিজ্ঞাপনের ‘নিদ্রা-কুসুম’ তেল।

জেগে জেগে দ্যাখ ঘুমোচ্ছি দিনরাত;
তন্দ্রার ঘোরে ক্রেডিট কার্ডের সুখ,
বিলবোর্ডের ‘সেক্সি ফিগার’ কাত;
চকলেট প্রেম তারকায় উন্মুখ। (সম্পূর্ণ…)

নজরুলের কৈশোরকাল

জিয়া হাশান | ২৮ আগস্ট ২০১২ ১১:১৮ অপরাহ্ন

প্রাইমারি স্কুলের পাঠ্যবইয়ে নজরুল-জীবনীর প্রথম পাঠ। তাতে ‘দুখু মিয়া’ ছিল শির উঁচু করা। তাঁর শিশুকালের দুঃখময় কালটুকুই মুখ্য। তারপর তাঁর সাহিত্যের সঙ্গে টুকরো টুকরোভাবে বাকী জীবনীর একটা রেখাপথ জানা হয়েছে। তবে তাঁর কৈশোর, সবচেয়ে অনিশ্চিত, অসহায় কাল নিয়ে কোন লেখা কখনো চোখে পড়েনি।
keo-vole-na-keo-vole.jpg
কয়েকদিন আগে শাহবাগে দেখি একটা বই, কেউ ভোলে না কেউ ভোলে। লেখক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়। নজরুলের গানের মুকুট পরা দেখে বইটি হাতে নেই। দু‘পাতা উল্টে বুঝি, বইটিতে লেখকের জবানীতে নজরুলের কৈশোর থেকে যৌবনে উত্তীর্ণের দিনগুলো উৎকীর্ণ। (সম্পূর্ণ…)

ভাঙ্গা লিরিকের শিথিল সনেট: বিজন সঙ্কেত

চয়ন খায়রুল হাবিব | ২৫ আগস্ট ২০১২ ৯:১২ অপরাহ্ন

রেঙ্গুন সনেটগুচ্ছ প্রকাশের পর একটা প্রশ্ন অনেকে করেছিল:এগুলোকে সনেট বলছেন কেন?

সনেট নিয়ে নিজস্ব ভাঙ্গাগড়ার খেলাটার প্রস্তুতি অন্যদের ধরিয়ে দেবার আগে, বাংলাভাষার বিবর্তনের আলোকে কবিতা প্রচলে সনেটের আভিধানিক অর্থ কোথায়, কিভাবে থমকেছে তা এ-ভাষার কয়েকজন মানি কবির সনেট থেকেই বুঝবার চেষ্টা করেছি।
মাইকেল থেকে শুরু করে বিনয় মজুমদার অব্দি অনেকেই অনেক, অনেক সনেট লিখলেও সনেটের বিশ্বায়িত বেশুমার কম্বিনেশনের তুলনায় বাংলা ভাষাতে সমকালীন সমস্ত সনেটই হয়ে উঠেছে নোট মুখস্থ পাশের পড়ার মত! এই মুখস্থ পাশের পড়া প্রকরণের দিকে আঙ্গুল উচিয়েছিলেন বাংলা ভাষার প্রথম সনেটিয়া মাইকেল মধুসূদন, তার নিচের সনেট’টায়:

মিত্রাক্ষর

বড়ই নিষ্ঠুর আমি ভাবি তারে মনে,
লো ভাষা, পীড়িতে তোমা গড়িল যে আগে
মিত্রাক্ষররূপ বেড়ি ! কত ব্যথা লাগে
পর’ যবে এ নিগড় কোমল চরণে–
স্মরিলে হৃদয় মোর জ্বলি উঠে রাগে
ছিল না কি ভাবধন, কহ, লো ললনে,
মনের ভাণ্ডারে তার, যে মিথ্যা সোহাগে
ভুলাতে তোমারে দিল এ তুচ্ছ ভূষণে ?
কি কাজ রঞ্জনে রাঙি কমলের দলে ?
নিজরূপে শশিকলা উজ্জ্বল আকাশে !
কি কাজ পবিত্রি’ মন্ত্রে জাহ্নবীর জলে ?
কি কাজ সুগন্ধ ঢালি পারিজাত-বাসে ?
প্রকৃত কবিতা রূপী কবিতার বলে,–
চীন-নারী-সম পদ কেন লৌহ ফাঁসে ? (সম্পূর্ণ…)

সাতটি রুবাই

ওমর শামস | ২৪ আগস্ট ২০১২ ৯:০৪ অপরাহ্ন


১ নজরুল ইসলাম

nazrul.jpg

নজরুল ইসলামের স্বকণ্ঠে তাঁরই গযল শুনার জন্য নিচে ক্লিক করুন:

এতো বড়ো কলজে – তবু দুখু মিয়া – দারিদ্র্য কি দ্যায় সম্মান?
দুঃখই পেলে। তোমার প্রাতিস্বিক মৌলিক দান,
তা কি বোঝে জনতারা।–নিরঙ্কুশ উদারতা, দ্রোহ , গান , কাব্য ,সাম্য ,ভ্রাতৃবোধ ?
তোমাকে বিক্রি করে পণ্য-তেজারক, হায়! তোমার অমর্ত্য গানে বলিউডী তান ।

১.নজরুল ইসলাম বেঁচে থাকতে যে গান বেঁধেছিলেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে আঙ্গুরবালা, ইন্দুবালা, শচীনদেব বর্মন , জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামী যে ভাবে গেয়েছিলেন, আজকাল সে ভাবে গাওয়ার মতো গুণী গাইয়ের বড়ো অভাব। ফলে একালে সুরগুলো অপভ্রংশে স্খলিত। (সম্পূর্ণ…)

গুচ্ছকবিতা

ফরিদ আহমদ দুলাল | ১৮ আগস্ট ২০১২ ৮:৪০ অপরাহ্ন

১. বেদের মেয়ে

আমাদের যৌথ স্বপ্ন থেকে একবর্ণও রাখিনি আলাদা করে,
পূর্ণ একটি দিনের আত্মহননের গল্প পড়ে
সাজিয়ে রেখেছি কল্পলোকের ব্যর্থতা শূন্যতার ঘরে;
চৈত্রের কঠোর রোদ সারাদিন পোড়ে
স্বপ্ন হারিয়ে স্বপ্নের খোঁজে স্বপ্নবাজ ঘুড়ি
আকাশের নীল ছুঁয়ে ওড়ে।

মহুয়া সুন্দরী নাচে প্রজাপতি মন
সাথে নাচে সরীসৃপ বিষধর সাপের নাচন,
নাচের মুদ্রার সাথে নাচে প্রেমিক নদেরচাঁদ
পশ্মি আলোয়ান জড়োয়া ও জমি দিয়ে কেনে প্রণয় বিষাদ
ক্ষিরু নদী ডাকে সবুজের বাঁকে বাঁকে বিষকাঁটালির ফাঁদ।

বেদের বহরে মহুয়ার পাণিপ্রার্থী মানিকেরা ঘোরে
মহুয়াকে নিয়ে বেদের বহর পালায় বসতি ফেলে দূরে বহু দূরে
স্বপ্নের বসতি ভেঙ্গে যাযাবর জীবনের কাছে পুনর্বার যায় ফিরে;

প্রেমের বিপক্ষে প্রতিরোধ খাড়া জীবনের মোড়ে মোড়ে
প্রেমিক নদেরচাঁদ ফেলে রাজ্যপাট মহুয়ারে খুঁজে মরে। (সম্পূর্ণ…)

প্লাতনিয় সক্রাতেসের সহিত কবিতা বিষয়ে সামান্য তর্ক

জাহেদ সরওয়ার | ১৭ আগস্ট ২০১২ ৭:৩১ অপরাহ্ন

“টাকার থলি হাতিয়ে নিয়ে পালাল চোর/ দড়ি একটা গেল ফেলে মনের ভুলে/থলির মালিক হারিয়ে টাকা মনের দুখে/ সেই দড়িতেই ফাঁস লাগিয়ে পড়ল ঝুলে।” (গলায় দড়ি)

সাম্প্রতিক কবিতার আবেদন ও প্রবণতা বাদ দিয়ে যদি আমরা এই কবিতাটা পড়ি তাহলে ছোট এই কবিতাটা, কিন্তু জীবন্ত। যেন অনুভূতির সর্বোচ্চ কাশ। টাকার থলি নিয়ে চোর পালিয়ে যাওয়ার পর যে ফাঁকটা তৈরি হয়েছে তাকে মালিকের জন্য গলার ফাঁস বলে বয়ান করা হয়েছে কবিতাটায়। সত্যিকার অর্থে হয়তো চোর দড়ি ফেলে যায়নি। টাকা চুরি যাওয়ার পর পরিস্থিতিটা যা নাই তাকে ধারণ করেই তৈরি হয়েছে। কারণ টাকার থলিটা হয়তো একজনের মুলধন, হয়তো একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তার পণ্য বিক্রি করে বাজার থেকে ফিরেছেন, হয়তো তিনি কারো অসুখের জন্য টাকাটা জমিয়ে রেখেছেন। থলির মালিকের মনের দুঃখ থেকেই তা অনুমান করা যায়। এখানে একধরণের বিষাদ তৈরি হয়েছে। এ থেকে দুটি মানুষের চরিত্র ও তাদের কর্ম সম্পর্কেও আমরা ধারণা লাভ করতে পারি। আবার শিশুদের পাঠ্য বইয়ে এই কবিতাটা ছাপা হলে এ নিয়ে নানান রকম নীতি গল্পও তৈরি করা যায়। যেমন চুরিবিদ্যা খারাপ কেননা তা মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। সুতরাং চুরি করা যাবে না। আবার বলা যাবে টাকা হারানো খুব দু:খের কিন্তু তাতে যেন টাকা হারালেই আমাদের পরিণতি অই লোকের মত না হয়। যেন আমরা এমন দু:খ না পাই যাতে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়তে হয়। কারণ জীবন অনেক বড় হয়তো নিজেদের চেষ্টায় আমরা আবার টাকার মালিক বনে যেতে পারি। কিংবা এই কবিতাটা :

“আকাশে তাকিয়ে তুমি/ দেখো তারা হাজার হাজার;/ আমি যদি আকাশ হতাম/ হাজার হাজার চোখে তাকাতাম/ তোমার দিকেই শুধু।” (আকাশ) (সম্পূর্ণ…)

গুচ্ছ কবিতা

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ১৫ আগস্ট ২০১২ ৪:৩১ অপরাহ্ন

পাথরের নৃত্য

ক্যারাবিয়ান নৃত্যে ডাউন টাউন টাল-মাতাল মহুয়া বাগান।
নিমন্ত্রণহীন অতিথি সূর্য এসে শুয়ে ছিলো বে-ব্লু’র বারান্দায়
নগ্নতায় নান্দনিক কৃষ্ণ মূর্তি পেয়েছে পৃথিবীর পরশ-প্রাণ।
কালো গোলাপের সাথে নাচ্ছে সিএন টাওয়ার, সিবিসি, সবকিছু
তপ্ত দুপুরে বিয়ারের ফেনায় ভাসে কচুরিপানা আর কাঁচুলি
বিবাহ-আনন্দে শরণার্থী বাতাস তার মাদুলিতে হাততালি দেয়
আঁছুয়া পাথরের আকর্ষণে জ্বলন্ত যুবক ছুঁড়ে মারে সিগারেট।

লাফার্স পার্ক এবং মনমরা ঝাউগাছ

লেকের লাফার্স পার্কে আজ গ্রামের হাট-বাজার। ভীড়ে যানজট
পাহাড়ের উপর বসে আছে মুসা ইব্রাহিম। সেন্ট মার্টিনের দৃশ্য ভেবে
কয়েকজন বাঙালি বন্ধু তরমুজ কেটে মেলাতে থাকে লাল-সবুজ
মাছ ধরা নিষেধ, পাখি শিকার মানা এবং জরিমানা পাঁচশ ডলার।
কোথাও তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই। ফয়সলের গাড়ি ঘুরছে, দেখছ…
টরন্টোর ট্রাফিক হুইপারের আটকিয়ে দিচ্ছে- হলুদ পতাকা।
মেয়েটি জলের সাথে কথা না বলেই চলে গেলো, মনমরা ঝাউগাছ। (সম্পূর্ণ…)

কবিতাগুচ্ছ

উত্তম দাশ | ১৪ আগস্ট ২০১২ ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

বিদ্যাসুন্দর

খবরের কাগজ অর্থ তা হলে
কালীঘাট ব্রিজে শীত-গ্রীষ্মে
সারাদিনমান দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েমানুষ,
টিভির বাংলা চ্যানেলগুলো আরেকটু রঙিন
ভদ্রপাড়ার শৌখিন ফ্ল্যাটের
জীবনমুখী ব্যবসা, ভারতীয় রাজনীতি
সোনাগাছির বাবুদের
ঘর পাল্টে পাল্টে কচি মাংসে
মুখ পালটানো- সনাতন
আমি তাহলে কার ঠাঁই যাব?
সেই চর্যাপদের সময় থেকে
যে পাহাড়তলিতে বাস করছি
তার চারদিকে সবুজ, বর্ষায় নতুন করে
ঢল নামে, আকাশে আকাশে বাজে
বিশুদ্ধ টোড়ি, আহারে মানব জন্মের
এত পুরস্কার, ভুসুকো সেই যে মাংসের
কথা বলেছিল, সেই মাংসের নেশাই
এ সভ্যতাকে শেষ করেছে – সনাতন
আমি আর শহরে যাব না। (সম্পূর্ণ…)

র‌্যাডক্লিফের সুতো

মণীশ রায় | ১২ আগস্ট ২০১২ ১১:৪৮ অপরাহ্ন

শান্তিরঞ্জন যখন তার ছোটোভাই কমলরঞ্জনকে মোবাইলে ধরার জন্যে পাগলের মতো বোতাম টিপছে তখন ওর মা চৌকির উপর চিত হয়ে শোয়া, প্রায় জ্ঞান-শূন্য অবস্থা, হঠাৎ হঠাৎ চোখ খুলে চারপাশে তাকাচ্ছে আর প্রবাসী বড় ছেলের নাম ধরে গায়েবী স্বরে কঁকিয়ে উঠছে,‘ শান্তি, কইরে বাপ? অহনতরি আওনের সময় অইল না তর?’
এসময় মায়ের রক্তাক্ত চোখ দুটো ঘুরপাক খেতে থাকে ঘরের চারপাশে। যেন বড় ছেলেকে নিরন্তর খুঁজে চলেছে মা দময়ন্তী।
এরই মধ্যে বার কয় মুখে গঙ্গাজল পড়েছে । থুতনি বেয়ে সেই জল গড়াচ্ছে এখন। হুশ জ্ঞান কিছু নেই। ডাক্তার গতরাতেই আশা ছেড়ে দিয়ে মন শক্ত রাখার পরামর্শ দিয়ে গেছেন।
তবু অস্পষ্ট স্বরে বড় ছেলে শান্তি রঞ্জনের নাম জপে যাচ্ছে দময়ন্তী ।
সবাই ভাবছে বড় ছেলে শান্তিরঞ্জনকে এক ঝলক দেখার জন্যেই বুঝি বুড়ির দমটুকু আটকে আছে। ছেলেটাকে দেখতে পেলেই বুড়ি শান্তিতে চোখ বুঁজবে । (সম্পূর্ণ…)

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন ও রবীন্দ্রনাথ

| ৭ আগস্ট ২০১২ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ নিয়ে আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথের কী ভূমিকা ছিলো তা এখনও আমাদের অনেকের কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার নয়, ফলে এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে প্রচুর। বিরাজমান বিতর্ক বিমোচনে তরুণ দুই লেখক-গবেষক কুলদা রায় এবং এম এম আর জালাল খুটিনাটি তথ্য এবং অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণসহ এ বিষয়ে নতুন করে আলো ফেলেছেন গুরুত্বপূর্ণ এই দীর্ঘ লেখাটিতে।
tagore-1.jpg
১৭৬৫ সালের পর থেকেই বাংলার সঙ্গে বিহার ও উড়িষ্যা একত্রে ছিল। সে সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বাংলা দখল করে বসেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলার মানুষের কাছ থেকে অর্থসম্পদ লুটপাট করা। যে কোনোভাবেই হোক না কেন খাজনা আদায়ই তাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল। তারা একাজে স্থানীয় জমিদারদের ব্যবহার করে। সে সময়ে বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সূচনা হয়। খাবারের অভাবে এক তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়। এক তৃতীয়াংশ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বাংলা ছেড়ে পালিয়ে যায়। মাটি কামড়ে পড়ে থাকা অবশিষ্ট মানুষ নির্মম শোষণের শিকার হয়। ফলে সে সময় কিছু কিছু প্রজাবিদ্রোহও দেখা দিয়েছিল। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com