পিটার্সবুর্গঃ যা আমার চোখের জলের মতো পরিচিত

ওসিপ ম্যান্ডেলস্ট্যামের কবিতা এবং তাঁর কবিতার একটি নাতিদীর্ঘ পাঠ

তাপস গায়েন | ৩০ মে ২০১২ ২:২৭ অপরাহ্ন

সমকালে উপেক্ষিত কিন্তু উত্তরকালে রুশ ভাষার প্রধান কবি হিসেবে গন্য ওসিপ ম্যান্ডেলস্ট্যাম বাংলা ভাষায় আজ্ও খুব একটা অনুদিত হননি। যদিও অনেকেই তাকে নামে চেনেন। গুরুত্বপূর্ণ এই কবির একগুচ্ছ কবিতা টীকা ও ভাষ্যসহ অনুবাদ করেছেন কবি ও অনুবাদক তাপস গায়েন

osip.jpg‘পিটার্সবুর্গে অসম্ভব কিছু একটা ঘটবে, এমন ভাবনা আমাকে সর্বক্ষণ আলোড়িত করেছে ।’ [ম্যান্ডেলস্ট্যাম, সময়ের কোলাহল (১৯২৫)]

‘এ সত্যি এক ভয়ংকর চিন্তা যে আমাদের জীবন প্লটহীন এবং নায়কবিহীন এক গল্প- যার নির্মাণ হয়েছে কাচ আর নৈরাশ্য দিয়ে ; যার উদ্ভব সার্বক্ষণিক বিচ্যুতির জরাক্রান্ত বুদ্বুদ থেকে ; যার উৎস নিহিত আছে পিটার্সবুর্গ-ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রলাপের ভিতরে ।’ [ম্যান্ডেলস্ট্যাম, দি ইজিপশিয়ান স্ট্যাম্প (১৯২৮)] (সম্পূর্ণ…)

কার্লোস ফুয়েন্তেসের প্রবন্ধ:

মৃত্যু

আবদুস সেলিম | ২৪ মে ২০১২ ১০:০৫ অপরাহ্ন

মৃত্যুর সঙ্গে মানুষকে যদি পদচারণা করতেই হয় তবে জীবনের উপযোগী সময় কোনটি? ফ্রয়েড বাণী দিয়েছেন সকল প্রাণীই একসময় প্রাণহীন ছিল। জীবনের অবসান অর্থ মৃত্যু। মৃত্যু এক অসীম ক্ষমতাসম্পন্ন সম্রাজ্ঞী যিনি একাধারে আমাদের পূর্বসূরী এবং উত্তরসূরী। মৃত্যু কি আমাদের অস্তিত্বের আগেই আমাদের চিহ্নিত করে রেখেছিলো? আমরা গত হলেও কি সে আমাদের স্মরণে রাখবে? অন্যভাবে বলতে গেলে, আমাদের অতীতে যে শূন্যতা ছিল সেই একই শূন্যতা কি আমাদের স্থান দখল করে নেবে এবং প্রকৃতির অন্তর্গত এক সচেতন সত্তায় পরিণত করবে– নিজের শূন্যতায় নয় বরং আমাদের জীবনযাত্রার ফলশ্রুতি হিসেবে? বীরশ্রেষ্ঠ, উচ্চণ্ড বিত্তবান এবং সুন্দরতমকে মৃত্যু আলিঙ্গন করে। কিন্তু একথাও সমান সত্য মৃত্যু সবচেয়ে হীনমান, দরিদ্র এবং কদর্য ব্যক্তির জন্যও অনিবার্য– শুধু এ কারণে নয় যে মৃত্যুই পরম সত্য, এ কারণেও নয় যে মৃত্যু মানুষের সচেতনতার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি। (সম্পূর্ণ…)

কার্লোস ফুয়েন্তেসের মৃত্যু:

সমাহিত দর্পন?

রাজু আলাউদ্দিন | ২৪ মে ২০১২ ৯:৫০ পূর্বাহ্ন

fuentes-2.jpg
কার্লোস ফুয়েন্তেস। (ছবি:রাজু আলাউদ্দিন)

মাকড়সা সম্পর্কে যারা খোঁজ খবর রাখেন তারা জানেন যে এক ধরনের মাকড়সা আছে যাদেরকে ইংরেজিতে বল ট্র্যাপডোর স্পাইডার, এরা খাবারের জন্য দূর-দূরান্তে ঘুরে বেড়ায় না। নিজের ঘরের কাছেই শিকারের জন্য ওৎ পেতে বসে থাকে। শিকার বা খাবারটা কাছে এলেই ওর উপর ঝাপিয়ে পরে সে। আমি অনেকটা এই ধরনের মাকড়সার মতো। ১১ বছর মেহিকোর উত্তর সীমান্ত এলাকা তিহুয়ানাতে থাকলেও সেখান থেকে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার প্লেনের দূরত্বে মেহিকো সিটিতে গিয়ে আমার প্রিয় লেখকদেরকে চাক্ষুষ করার ইচ্ছে হলেও যা্ওয়া হয়নি কখনো। বলা ভালো আলস্য আমার ইচ্ছাকে জয়ী হতে দেয়নি কখনো। অবশ্য জয়ী হলেও যে দেখার সুযোগ পেতাম তারও কোন নিশ্চয়তা ছিলো না। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার এই যে প্রকৃতির মধ্যেও বোধ হয় সবরকম বৈশিষ্ট্যের প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখার এবং পুরস্কৃত করার একটি গোপন বিধান সক্রিয় আছে। হয়তো সেই কারণেই আমি এই পুরষ্কারটি পেয়েছিলাম ২০০৮ সালের ২৪ এপ্রিলের এক বিকেলে। (সম্পূর্ণ…)

ফুয়েন্তেসের মৃত্যু ও তাঁকে ঘিরে একটি সুখস্মৃতি

আলম খোরশেদ | ২১ মে ২০১২ ৩:৪৫ অপরাহ্ন

লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল ও শক্তিমান কথাসাহিত্যিক কার্লোস ফুয়েন্তেসের অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে শোকানুভূতির পাশাপাশি তাঁকে ঘিরে একটি সুখস্মৃতিও জাগ্রত হলো মনে। পাঠকের সঙ্গে সেই স্মৃতিটুকু ভাগ করে নেওয়ার জন্যই এই ছোট্ট লেখাটুকুর অবতারণা।

১৯৯৫ সালের কথা। আমি তখন ন্যুয়র্কবাসী। ন্যুয়র্ক-এর প্রাণকেন্দ্র ম্যানহাটনে 92nd St. Y নামে চমৎকার একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে। সংবৎসর সেখানে বসে শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীতের আসর। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসেন ডাকসাঁইটে সব শিল্পী, সাহিত্যিক, গায়ক, নর্তক, বিপ্লবী, বক্তা। তাঁরা কেউ কবিতা পড়েন, কেউ অভিনয় করে দেখান, কেউবা আলোচনা করেন গুরুগম্ভীর সব বিষয় নিয়ে। ন্যুয়র্কের সংস্কৃতি-অনুরাগী নাগরিকেরা তখন হুমড়ি খেয়ে পড়েন সেই সব রথী-মহারথীদের চোখে দেখতে, তাঁদের কথা শুনতে, তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে। প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে এসব অনুষ্ঠানের নিয়মিত দর্শক আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন, যে-কেবল তারকাদেরকে চোখে দেখেই তৃপ্ত হয় না তাঁদের দুর্লভ ভঙ্গিগুলোও বন্দী করে নেয় তার অনুসন্ধানী ক্যামেরার ফ্রেমে। (সম্পূর্ণ…)

কার্লোস ফুয়েন্তেসের বিদায়

সামিন সাবাবা | ২০ মে ২০১২ ২:৪৫ অপরাহ্ন

গত ১৫ মে চলে গেলেন লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের বুম আন্দোলনের প্রধান পুরুষ কার্লোস ফুয়েন্তেস। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৩ বছর।

ফুয়েন্তেস ছিলেন স্প্যানিশভাষী জগতে অত্যন্ত প্রশংশিত লেখকদের একজন। গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, মারিও ভার্গাস যোসা, হুলিয়ো কোর্তাসারের মত তিনিও ছিলেন একজন ক্যাটালিষ্ট। ১৯৬০ এবং ৭০- এর দশকে তারা লাতিন আমেরিকান সাহিত্যে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন, যার নাম “এল বুম”। লিখেছেন নাটক, ছোট গল্প, রাজনৈতিক প্রবন্ধ এবং উপন্যাস যে গুলোর বেশিভাগই জটিল প্রেমের দিনপঞ্জি । (সম্পূর্ণ…)

রবি ঠাকুর প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়ার জবাবে

আফসান চৌধুরী | ২০ মে ২০১২ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন

কিছু দিন আগে লিখিত রবি ঠাকুর ও বাঙালি মুসলমান সমাজের ভাবনা ও জড়িত প্রসঙ্গ নিয়ে আমার লেখার ওপর পাঠকদের প্রতিক্রিয়ায় আমি আনন্দিত। আপনাদের আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ। যেসব প্রসঙ্গ উঠে এসেছে সে সম্পর্কে আমার কিছু বক্তব্য আছে।

কেউ কেউ লিখেছেন যে রবি ঠাকুরের ব্যাপারে আমার এলার্জি আছে। তাকে ছোট করতে চেয়েছি ইত্যাদি। আমার বক্তব্যের কোথাও আমি তা করিনি, আমার লেখার সেটা উদ্দেশ্য ছিল না।

রবীন্দ্রনাথ বাঙালি সমাজের প্রধান সাহিত্যিক। তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে কিন্তু তার অবস্থানকে খাটো করার চেষ্টার কোনো মানে হয় না। (সম্পূর্ণ…)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেবত্ব ও বাঙালির মনোজমিনের রহস্যময়তা

আফসান চৌধুরী | ৮ মে ২০১২ ১০:২০ অপরাহ্ন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তার বন্দনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্ম বা তার ঐতিহাসিক অবদান নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক কোনো কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে না। বরং একতরফাভাবে সবাই তার মাহাত্ম্য বর্ণনায় ব্যস্ত।

রবীন্দ্রনাথকে কেন এভাবে দেখা হচ্ছে এটা একটা প্রশ্ন বটে। তবে এর উত্তর পেতে আমাদের হয়তো তার দুশোতম জন্মবার্ষিকী পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এতে অবাক হওয়ারও কিছু নেই। বাংলাদেশ ও ভারত, দু’জায়গাতেই বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কাছে রবীন্দ্রনাথের অবস্থান ঈশ্বরের পরেই। (সম্পূর্ণ…)

এফ এল মিনিজেরোডের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎকার

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান | ৮ মে ২০১২ ৯:৪৬ অপরাহ্ন

রবীন্দ্রজীবনী, রবীন্দ্রনাথবিষয়ক ইংরেজি বা বাংলা গবেষণাগ্রন্থে মিনিজেরোড-সম্পর্কিত কোনো তথ্য মেলে না। ইন্টারনেট ঘেঁটেও তাঁর কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। খুব সম্ভবত মার্কিন কোনো পত্রিকায় সাংবাদিকতা করতেন। রবীন্দ্রনাথের এই সাক্ষাৎকারটি তিনি নিয়েছিলেন ১৯১৬ সালে। নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ‘ল্যাক অব আইডিয়ালস: ইস্টার্ন পোয়েট অন সিভিলাইজেশন’ শিরোনামে এটি মুদ্রিত হয়েছিল। ১৯২৬ সালের ২ ডিসেম্বর এটি পুনর্মুদ্রিত হয় নিউজিল্যান্ডের দ্য উইকলি প্রেস পত্রিকায়। সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন–
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

নিউইয়র্ক টাইমস-এ এফ এল মিনিজেরোড লিখেছেন, ১৯১৩ সালে সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কারজয়ী এবং বাংলায়, শান্তিনিকেতনে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের স্থাপয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রশ্নটি বারবার ধীরে ধীরে উত্থাপন করেন, ‘খ্রিষ্টীয় সভ্যতা সম্পর্কে এশিয়ার কী ধারণা?’ (সম্পূর্ণ…)

ওমর শামসের দুটি কবিতা

ওমর শামস | ৩ মে ২০১২ ১০:১৯ অপরাহ্ন

mrittu.jpg

কবি, মৃত্যুর আগে

তিনটি পংক্তি লিখে বৃদ্ধ কবি–ক্লান্ত–ফেলবে যেই শেষ নিঃশ্বাস,
থরোথরো জানালা, কম্পিত প্রদীপের শিখা, তামস আকাশে কালো অশনির ত্রাস।
হাড়ের কব্জি রেখে কাঁধের উপরে, কে ধরলো সুদীপ্র কলমের শীষ–
বিস্ময়! রুবাইয়ের শেষ পংক্তি আজ্রাইল লিখে দিলো এসে: শিল্প জয়ী, যেহেতু বিশ্বাস।

jainul-pic.jpg

জয়নুল আবেদীনের মোনাজাত

মন্বন্তরের মৃত এঁকে, আমি সত্যি বেদাদ? গুনাগার হয়েছি কি প্রভু?
তাদের হাড়ের মধ্যে রুহূ ডাকা সাধ্যাতীত, বান্দা তা দিতে পারে কভু?
তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী? সে কথা মুর্খ্যও কোনদিন ভাবে!
দেশের স্বজন ওরা, হায়াত তোমার হাতে– মমতায় এঁকে গেছি দু:খগুলো শুধু!

জয়নুল আবেদীন ব্যক্তিগতভাবে দু:খ প্রকাশ করেছিলেন যে,
পঞ্চাশের দশকে তার বাড়ীতে চিত্র পড়তো কেননা
তিনি প্রতিকৃতিকার।

free counters

তোমারে দেখছিলাম আমি

শামসেত তাবরেজী | ২ মে ২০১২ ৬:৪০ অপরাহ্ন

তোমারে দেখছিলাম আমি ফতুল্লাবাজারে, জলডুমুরের দেশে, গৌড়-পূর্ণিমায়, দশবিশ ক্রোশ খালি-পায়ে সুতানলি রাস্তা হেঁটে-হেঁটে, খালিয়াজুরির মাঠে ঘাড়ত্যাড়া চাঁদের আসরে, সদ্য বণিক-বনা টেরি-কাটা বদমাইশগুলার গলা পৌঁছে নাই যেই-তক্, আরও দূরে স্বরবৃত্ত চালে ব’য়ে যাওয়া উড়াল নদীর পাড়ে
তোমারে দেখছিলাম আমি, দেখছিলাম তোমারে, রক্তবিজল-মাখা তিরের আগায় মনুষ্য নিমির্ত
স্বপ্ন নিয়ে ছুটে যাচ্ছ কাল থেকে মহাকালে মধুপুরে, অশেষ বাঙলায়! (সম্পূর্ণ…)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com