ডিটোনেটরঃ জুলেখা ইচ্ছা করলেই পারে

চয়ন খায়রুল হাবিব | ২৩ এপ্রিল ২০১২ ১০:২৬ অপরাহ্ন

কে? সারা গায়ে বারুদ মেখে পালঙ্কের চাদর পাল্টালো ভরা পূর্ণিমায়

চন্দননগরের মহারাজা আর রংপুরের মহারানি দানপাশায় হাত বদলালো বেশ কয়েকটা বাগানবাড়ির রঙমহল

ভায়োলিনের পিচ্ছল ভায়োলেন্সে চিবুক রাখা সীমান্তবর্তী-স্নিগ্ধ-জুলেখায় কখনো কাতরাচ্ছিল আমাদিউসের ৩ নং বাসন্তি কনসার্টে;
গীতশাস্ত্রের মামলাটা তো বাবা নিতান্ত ক বর্গ চ বর্গ এন্তার স্বর আর ব্যঞ্জনের বসন্ত ভৈরবি মালকোশ
কিন্তু হরেক রকমের ফন্ট দ্যাখো দেহঘড়ি দেহছন্দ ছাড়ায়ে পাড়ি দিচ্ছে
আগন্তুক সব বিশ্বকোষ স্বরগ্রামে; যেখানে আধোঘুম আধোফোটা অর্গাসম অ অ আ আ নার্ভাস-নোমেন্সল্যান্ডের অনোমেটাপাই (সম্পূর্ণ…)

রওশন আরা মুক্তার তিনটি কবিতা

রওশন আরা মুক্তা | ১৭ এপ্রিল ২০১২ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন

চাঁদ-চকোরা
চাঁদের হেঁয়ালিতে চাঁদের রহস্যে পেয়েছি যে রতন, চাঁদ জানে
সাক্ষী হয়েছে সে দু’জোড়া কাঁপা কাঁপা চোখের মিলনের, চাঁদ জানে
এভাবে তুমি আমি আপন হতে পারি, আসতে পারি কাছে, চাঁদ জানে
আমার মত আজ নদিয়া ভেসে যায়, আজকে ভিজে যায় পুড়ে যায়
নদিয়া, চাঁদ জানে! চমকে ওঠে প্রাণ ঝলসে যায় এই তির তির
হৃদয় ঝিরি ঝিরি বাতাসে; তুমি জানো জ্যোৎস্না জানে— মাখে তারে কেউ
শরীরে, মাখে তারে— চাঁদের গায়ে— মাখে হৃদয়ে, মাখে যারে সেই চাঁদ
খানিক পরে তুমি স্নিগ্ধ জাদু মাখা জোছনা বর্ষণ অবিরাম। (সম্পূর্ণ…)

গুন্টার গ্রাসের কবিতা: যে কথা না বললেই নয়

সলিমুল্লাহ খান | ১১ এপ্রিল ২০১২ ১০:০৩ অপরাহ্ন

গুন্টার গ্রাসের এই কবিতা নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে জার্মানি ও ইসরায়েলে। কবিতাটি ‘ইসরায়েল রাষ্ট্র ও তার জনগণের প্রতি বিদ্বেষের আগুন উসকে দেওয়ার চেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে নোবেলজয়ী এই সাহিত্যিককে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। স্বদেশ জার্মানিতেও তুমুল সমালোচিত হয়েছেন গ্রাস। পরমাণু শক্তি অর্জন নিয়ে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর চলমান বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ কবিতা নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে ইসরায়েল-জার্মানি-ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে সারা দুনিয়াতেই। জার্মানির স্যুডডয়চে সাইটুং পত্রিকা গত পাঁচই এপ্রিল গ্রাসের কবিতাটি প্রকাশ করে। ‘ Was gesagt werden muss’ শিরোনামে জার্মান ভাষায় লেখা কবিতাটি ইতোমধ্যেই ইংরেজিসহ বেশ কয়েকটি ভাষায় অনুদিত হয়েছে।
grass-p.jpg
সলিমুল্লাহ খান কবিতাটি মূল ভাষা থেকে বাংলায় তর্জমা করেছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকদের আগ্রহ বিবেচনায় তা প্রকাশ করা হল। বি.স.। (সম্পূর্ণ…)

পথে, প্রদেশে

মাসুদ খান | ৭ এপ্রিল ২০১২ ১১:১৫ অপরাহ্ন

(৩য় পর্ব)

১ম ও ২য় পর্বের লিংক: http://arts.bdnews24.com/?p=1537
http://arts.bdnews24.com/?p=4310

কত যে রহস্যজড়ানো, কুহকজাগানো ঘটনায় ভরা মহাস্থানগড়ের এই ছোট্ট অঞ্চলটুকু! প্রিয় পাঠকপাঠিকা ভাইবোনবন্ধুগণ, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে পড়বে এর আগে হকসেদে নামে একজনের কথা বলেছিলাম অল্প একটু। এই যে হকসেদ খোজা (খাজা নয়, খোজা, হকসেদ খোজা), অদ্ভুত এক রহস্যমানব। ভাঙাচোরা পোড়া-পোড়া মেছতাপড়া চেহারা, কাইস্টা পাটের দড়ির মতো দীর্ঘ পাকানো শরীর, তার ওপর সে খোঁড়া, আবার খোজাও, পেশায় ছিচকে চোর, খুচরা লুচ্চামি-লাম্পট্যে ওস্তাদ, কিন্তু মহাজ্ঞানী, মহাপণ্ডিত। ‘খোজা’ ছাড়াও আরও অভিধা আছে তার। কেউ কেউ তাকে বলে ল্যাংড়া হকসেদ আবার কেউ বলে হকসেদ পণ্ডিত। দুনিয়ার সব বাঘা-বাঘা পণ্ডিতদের সঙ্গে যোগাযোগ তার। নোম চমস্কির কাছ থেকে চিঠি আসে তার কাছে। এই কিছুদিন আগে জাক দেরিদা চিঠি দিয়েছে ফরাসি ভাষায়। অনেক জ্ঞান হকসেদ পণ্ডিতের, ভাষাও জানে অনেকগুলি। ইতিহাস, পুরাণ, ধর্ম, দর্শন, রাজনীতি, রামায়ণ, মহাভারত, বেদ-উপনিষদ…, জেনবাদ থেকে সঞ্জননী ব্যাকরণ, শ্রেণিসংগ্রাম থেকে ক্ষমতাকাঠামো, ভার্ব-বেইজ্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে কসমোলজি, ভাষার ডিপ-স্ট্রাকচার ডিবেট থেকে মহা-মন্দার ডেরিভেটিভ থিয়োরি, কালাজাদু থেকে কমোডিটি ফেটিসিজম, স্ট্রিং থিয়োরি থেকে সেক্স অ্যান্ড ক্রাইম ইন্ডাস্ট্রি, আসমান-জমিন, আন্ডারগ্রাউন্ড-ওভারগ্রাউন্ড…কমবেশি সবকিছুরই হালনাগাদ খবরাখবর আছে তার কাছে। (সম্পূর্ণ…)

স্বাধীনতা দিবসের কবিতা

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ | ৩ এপ্রিল ২০১২ ৭:৪৮ অপরাহ্ন


তুমি আমাকে ফেলে গেলে এক ধূলিযুদ্ধের মুখোমুখি
আর আমি নিরুত্তর তাকিয়ে দেখছি কোনো অপস্রিয়মান
খোয়াবভোলা নয়নের আন্ধার কেটে-কেটে নেমে আসছে
বাঁকা চাঁদ আমার গলায় আর আক্ষেপে তড়কায়
খিঁচে চলেছে মেয়েটা যেন সেই গলাকাটা মুরগিটা
যাকে আমি একবারই দেখেছিলাম সকালের কালে কিংবা
তুমিই বলেছিলে আমায় দেখতে আর স্রেফ সে-বলাতেই
গড়গড় প’ড়ে ফেললাম উত্তর দিগন্তে আলোকলতার নাচ
তবু জানি ও একসময় মিইয়ে পড়বে একেবারেই থেমে
যাবার আগে আরও এক আরও দুই আরও আড়াইবার
কিংবা আরও তিনবারই না-হয় কিন্তু যে-অঙ্কের বাঁধা-
ধরা ফল মিলবে শুধু ও থেমে গেলেই সে-হিসাবে কেন
থাকবে তুমি কাদামাখা হাত আমি বাড়িয়ে যে ছিলাম সাদা
দোলনচাঁপার পানে তারই প্রায়শ্চিত্ত এই তীব্র অপস্মার


তুমি আমাকে ছেড়ে গেলে পাখি তুমি আমার খাঁচায়
আরও-একটা খাঁচা দেখেছ সোনার নয় লোহার নয় খালি
মিথ্যার চৌদ্দশিঁকের যাকে বাঁকানোর মতো পাকানো মাসল
আমার বাড়ন্ত থাকাটাকে তুমি জেনেছ অপমান তোমার
আত্মার তোমার ভালবাসার তোমার অস্তিত্বের তুমি তাই
ফুড়ুৎ উড়ে গেলে ওগো পাখি এক-আকাশ না-থাকার দিকে
মজবুরি কী রঙিন এক লব্জ যেন কচুরিপানার বেগুনি
পুষ্পিত শিশ্ন আহা বিষ এত সুপেয় স্রেফ অর্ধেক জিহ্বাগ্রে
তোমাকে আমি চেয়েছিলাম চাখাতে আমার চোখ থেকে পাখি
অথচ হয়তো অর্কিড তাই পাতালে শিকড় নামল না
আমি তো জানতাম আমরা যাবতীয় নিষ্পাদনার ঊর্ধ্বে
জন্ম ও মৃত্যু ঘৃণা ও প্রেম জিঘাংসা ও জিঘাংসা সবই
বাইরেরই যারা আমাদের ঘিরে শিয়ালের মতো হল্লা করে
আর নাচে যেন বনফায়ার কিন্তু আমরা আলেয়ার আলো


আমি পুড়ে বসিয়ে দিয়েছিলাম আমার নাম তোমার বুকে
আমি এসেছিলাম তোমাতে হয়েছিলাম নিঃশর্ত নিলীন
যেরকম ম্যারাথন-শেষে কোনো লবেজান এবং বিজয়ী
শুক্রাণু লোপাট হ’য়ে যায় কোনো জন্মান্ধ ডিম্বাণুতে
কিন্তু আমার কুকুরটা আমার চিরসখা ভাগ্যবিড়ম্বনা
ছাড়পত্র পেল না সে আমার থেকেও ভারি কীনা তাকে
দারোয়ান ক’রে রাখলে আমাদের সিংহদ্বারের বাইরে তুমি
এ সেই দারোয়ান যার নিজেরও ভিতরে ঢোকার ইজাজত
নাই যাকে নিজেরও থেকে রক্ষা ক’রে যেতে লাগে নিজের
আমানত কিন্তু আমি আমার কুকুর-ছাড়া আমি নাকি
আমার যতটা তোমার শিরায় আমি ঝাঁঝালো পেথিডিন
পুশ করেছি ওগো চাঁদ ওগো দ্যাখো সেই আমিটাই
তোমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমার আকাশের বাইরে
পিছনে দীর্ঘাতিদীর্ঘ কেতু এক ছাইয়ের অথবা পাথরের


মেয়েটা চিতা আমি মড়ি আমি পুড়ি তার দাউ দাউ তড়কায়
সতী পালাও পালাও সতী পালাও পালাও ঝ’ড়ো পাখসাটে
যে-তুমি বৌ ছিলে আমার কোনো পূর্বজন্মে যে-তুমি
ছিলে সই আলো সই তুমি তো অ্যাত্তটুকুন চাঁদবুড়ি
কটকট ক’রে কটাক্ষ করো আধাইঞ্চি মরিচের আঙুলে
করো শাসন ত্রাসন তোমাকে আমি কোন্ জিঘাংসায় ঢোকাই
এই আউশভিৎসে আমি একলাই না-হয় নেচে যাই
মেয়েটার ডান্স ম্যাকাবার আমি একলাই না-হয় পুড়ি
মেয়েটার ফিনিক্সায়ন আমি একলাই না-হয় তলাই
মেয়েটার নষ্ট নটিলাস আমি একলাই না-হয় ঠেকি গিয়ে
হত্যাবাত্যাধ্বস্ত কোনো কামরাঙ্গির চরে সাদা লাশ
মেয়েটার সাদা আহা সাদা আর সাদা আর সাদা-সাদা কাশ
পালাও সখী আমার পরজন্ম অবধি পালাও পালাও বাঁকা-চাঁদ
সেখানে পাবে আমাকে মেয়েটাকেও তোমার হুকুমের দাস


গয়না নাও নামটা আর কেউ কোথাও শুনবে না চাঁদ
যেদিন আমি ভেসেছিলাম তুমি ছিলে তার বাদামে আঁকা
কিন্তু আমি নিশ্চিত নই গয়না নায়ে বাদাম উড়ত কীনা
এত দূরেই চ’লে এলেম আজ আমরা আমাদেরকেই আর
দেখতে নারি আমরা কোণ্ঠে আমরা কারা কী এই দশৎ-এ-লুৎ
এ-স্থলে আর কিছু তো নাই পেয়ারা নাশপাতি পিয়ালগোটা
ভেন্নাফুল দুপুরছাদ ভাতশালিক গোপন কলপাড়
গইনারি আর নিমের ডালে গোধূলিরঙ অনন্ত স্টার ট্রেক
আমরা যাব যেখানে কোনো যায় নি নেয়ে সাহস করি’
বলতে-বলতে কাছি খুলল ওরে মাঝি মানবজন্মতরির
ছোকানুরেও করুণা ক’রে ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই রে নায়ে রুপার
মুইচানির ভাঙ্গনির বাঁক ছাড়াই চতুর্দিক্ ফাঁকা
গয়না এসে লাগল শেষে ঘুমের দেশে একলা বাঁকা-চাঁদ
এ-ভিনদেশের লাল আকাশে আমার মেয়ের নাম গয়না

(২৬-০৩-২০১২ – ৩০-০৩-২০১২)


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com