বারান্দার টবে তামাক চাষ

শামীমা বিনতে রহমান | ৭ নভেম্বর ২০১১ ৯:৩২ পূর্বাহ্ন

অ.

এই ৯ তলার ওপরের ফ্ল্যাটের সামনে আর কোনো উঁচু বিল্ডিং না থাকায় পুরো জায়গাটাই ফাঁকা। অ্যাপার্টমেন্টের সামনের খোলা ছাদে, যেখানে আরেকটি ফ্ল্যাট থাকার কথা ছিল, সেই খোলা ছাদটায় রুপালি আলো লুটোপুটি খাচ্ছে। ভরাট চাঁদের দিকে যতবার চোখ মেলে ধরি ততবারই মনে হয় বৃষ্টির ফোঁটা, ফোঁটা-ফোঁটা বৃষ্টি এসে পড়ছে চোখের পাপড়িতে। সমুদ্রের বিশাল বিশাল ঢেউ আর ঢেউয়ের বিশাল জিব্বায় ব্যাপক ছুরির ফলা ঝলকাচ্ছে, চাঁদের আলোয় দুর্বার হয়ে ঝাপটে পড়ছে বিচে। বাম দিকে মাথা ঘুরিয়ে ইনানের এস্রাজ বাজানো শুনতে শুনতে এমন সব দৃশ্য মুভিং ইমেজ তৈরি করে যাচ্ছে। ইনান চাইলেও চোখ ঘুরিয়ে আমাকে দেখতে পারবে না, তারে তার ঘষার কোনো ফাঁকেও। আমরা পাশাপাশি বসে আছি অনেকক্ষণ। শব্দহীন। প্রায় ১৫ দিন পর আমাদের দেখা হলো।

সকাল বেলাতেই ওর বাসায় গেছিলাম। যথারীতি খোলা দরজা। আমাকে দেখে এক পলকের বিস্ময় নেই তার চোখে। একটুখানি সরাসরি তাকিয়ে, কোনো ইমপ্রেশনই তৈরি করে না এমনভাবে, আবার চোখ ঘুরিয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকলো। সারাদিনে আমরা কথা বলছি খুবই কম। এমনকি যে কারণে ১৫ দিনের লম্বা গ্যাপ, তার ধারে কাছেও না। কারণ আমরা দুজনই পরিষ্কার–ইটস অ্যান আনডিফাইন্ড বন্ডেজ। কিন্তু এই বসে থাকাটা একটা অসাধারণ মুহূর্তের মতো। আমরা শরীরের মধ্যকার যোগাযোগ টের পাচ্ছি এবং আমরা যোগাযোগহীনভাবে বসে আছি পাশাপাশি।

চোখের সামনে একটা বিশাল উঠান এসে মেলে বসালো নিজেকে। সরাবন বিবি আর ইয়াসিন গাজী–দুজন দাঁড়িয়ে আছেন মুখোমুখি। দুজনেরই মাথা নিচু। ইয়াসিন গাজী বয়সে বছর ছয় সাতেক ছোট হলেও চাচি সরাবনের চেয়ে তাকেই বেশি বুড়া মনে হয়। ১০ মাস শহরে ছেলে মেয়েদের বাসা-বাড়িতে থেকে হাঁফিয়ে উঠেছিলেন ৮৬ বছর বয়সী সরাবন। খোলা জায়গা নাই, হাঁটাহাটি করা যায় না, শরীরে মেদ জমছে প্রচুর–এরকম নানা অজুহাত নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। ফিরেই মহা আনন্দ। ইয়াসিন গাজীর চোখেও অনেক আনন্দ। শুধু অনেকদিন পর প্রিয় চাচিকে দেখবার আনন্দ এমন নয়, যেন নিজের মানুষটিকে দেখতে পারা গেল। প্রায় ১০ ইঞ্চির মতো উচ্চতার গ্যাপে বাঁকানো শরীরের দুই বুড়া-বুড়ির মধ্যে সরাবনই প্রথম চোখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, ধান ক্যামন হইছে?
(সম্পূর্ণ…)

সিডনির পথে পথে (৮)

আবু সুফিয়ান | ৪ নভেম্বর ২০১১ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

12.jpg
লা পেরোজের বীচ সংলগ্ন সিঁড়িতে লেখক ও আফসানা

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩ | সিডনির পথে পথে ৪ | সিডনির পথে পথে ৫ | সিডনির পথে পথে ৬ | সিডনির পথে পথে ৭

(গত সংখ্যার পর)

সিডনিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য জায়গায় গেছি। যেমন প্যারাম্যাটটা (PARRAMATTA), সিডনি অলিম্পিক পার্ক, ব্যাংকস টাউন, ব্লাক টাউন, রকডেল, ক্যাম্বল টাউন, সার্কুলার কী–ই, লিভারপুর, ওয়াটসন বে ইত্যাদি। রাইড (Ryde) এলাকাতে যাওয়া হয়নি। অথচ রাইড হচ্ছে সেন্ট্রাল সিডনির সাথে সবচেয়ে নিকটতম এবং জমজমাট এলাকা। আজ সেখানে যাবো।

আফসুরা থাকে ওয়েষ্ট রাইড । ওর বর পারভেজের সাথে আগে দেখা হয়নি। হাজবেন্ড ওয়াইফ দুজন মিন্টো’তে এলো আমাদের নিয়ে যেতে। মেহমান আগমন উপলক্ষে চাচি খাওয়া দাওয়ার বিরাট আয়োজন করেছেন। আমরা আস্ট্রেলিয়া আসার ঠিক আগে উনার হাত পুড়ে গেছে। পুড়ে যাওয়ার মাত্রা হচ্ছে তিন ডিগ্রী। অর্থাৎ বড় ধরনের ইনজুরি। এসব দেশে বাসা বাড়িতে বাংলাদেশের মতো ছুটা বুয়া বা বাধা বুয়ার ব্যবস্থা নেই। সুতরাং সব কাজ নিজেদেরই করতে হয়।

সন্ধ্যায় নির্ধারিত অতিথির বাইরে আরো কিছু মেহমান চলে এলো। টিটো ভাই, তাঁর স্ত্রী ও বাচ্চাকে নিয়ে এসেছেন। উনারা ঢাকাতে এক সময় চাচিদের বাসায় ভাড়া ছিলেন। টিটো ভাইয়ের স্ত্রী, ভাবী চ্যাপা শুটকির ভর্তাসহ মজার কিছু বাঙালি খাবার তৈরি করে সাথে এনেছেন।

তরুণী তন্দ্রা, কাকুর বন্ধুর মেয়ে। সিডনিতে পড়াশোনা করতে এসেছে। সে এলো তার হবু বর সাইফ ভাইকে নিয়ে। সেও খাবার নিয়ে এসেছে–চিংড়ি মাছের কারি।

সিডনিতে বাঙালি পরিবারগুলো কারো বাসায় গেলে এরকম বিশেষ আইটেম রান্না করে নিয়ে যায়। এটা এখানকার এক ধরনের রেওয়াজ। ভালো রেওয়াজ।

রাতের খাবারের প্রধান আইটেম ল্যাম্ব বিরিয়ানী। চাচির রান্না হয়েছে অসাধারণ। খুবই মজা। আনন্দ নিয়ে সবাই বিরিয়ানী খেলাম।

আফসু-পারভেজ বিশেষ ধরনের মিষ্টান্ন নিয়ে এসেছে। লেবানিজ সুইট।, নাম বাকলাভা। বিভিন্ন ফ্লেভারে তৈরি। সুস্বাদু। জীবনে এই জিনিস প্রথম খাচ্ছি।

আমার খাদ্য উপভোগ দেখে আফসু একের পর এক ভিন্ন ভিন্ন ফ্লেভার তুলছে। বলে–এটা খাও। আরেকটা খাও। এই লাস্ট …. এটা এক কামড় খাও…!

ছোট বোনের আব্দার রক্ষা করছি। বাকলাভা মিষ্টি, অতিরিক্ত ফ্যাট। এর শরীর ডুবো তেলে (সম্ভবত ঘি-তে) ভাজা হয়। আমার এসব খাওয়া নিষিদ্ধ না হলেও সীমিত খাওয়ার নির্দেশনা আছে।

সাবৃনা ঘটনা দেখে বিরক্ত গলায় বললো, যত ইচ্ছা খাও। কোনো অসুবিধা নাই। কোলেস্টেরল আরো বাড়াও। প্রেশার হাই হোক। তারপর এক সাথে সব খাবার-দাবার বন্ধ করে দিও।

বলে সেও একটা ভিন্ন ফ্লেভারের মিষ্টি মুখে দিলো, মজা তো!
(সম্পূর্ণ…)

আর্টস ই-বুক

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কলিকাতা কল্পলতা’

| ১ নভেম্বর ২০১১ ২:২৭ পূর্বাহ্ন

কলিকাতা কল্পলতা

প্রথম প্রকাশ: অজানা

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়

(১৮২৭ ১৮৮৭)


এক রহস্যজনক জনশ্রুতি এই যে, ইংরাজেরা যখন প্রথমতঃ এইস্থানে বাণিজ্যালয় স্থাপনার্থ আগমন করিলেন তখন গঙ্গাতীরে দণ্ডায়মান কোন লোককে অঙ্গুলী প্রসারণ পূর্ব্বক স্থানের নাম জিজ্ঞাসা করাতে সে ব্যক্তি সেইদিকে শায়িত এক ছিন্নবৃক্ষ দেখিয়া মনে করিল সাহেবরা কবে ঐ বৃক্ষছেদন হইয়াছে, তাহাই জিজ্ঞাসা করিতেছেন। অতএব সে উত্তরচ্ছলে কহিল—“কালকাটা”। সেই হইতে ইংরাজেরা ইহার নাম “ক্যালকাটা” রাখিলেন।–কলিকাতা কল্পলতা


cover-web.jpg

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদি নিবাস বর্তমান হুগলি জেলার বাকুলিয়া। তাঁর পিতার নাম রাম নারায়ণ। মায়ের নাম জানা যায় না।

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলি মহসিন কলেজে কিছুদিন পড়াশোনা করেন। ইংরেজি, সংস্কৃত এবং প্রাচীন ওড়িয়া কাব্য ও সাহিত্যে তাঁর জ্ঞান ছিল। কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় তিনি সাহিত্য রচনা শুরু করেন। ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত এডুকেশন গেজেট পত্রিকার সহ সম্পাদক ছিলেন তিনি। সেই সময়ের এডুকেশন গেজেটে তাঁর গদ্য এবং পদ্য দুই রকম রচনাই প্রকাশিত হতো।

১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ৬ মাস অধ্যাপনা করবার পর আয়কর অ্যাসেসর এবং ডেপুটি কালেক্টর হন। তারপর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চাকরি শুরু করেন। ১১ এপ্রিল ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে অবসর নেন।

তিনি মূলত স্বদেশপ্রেমিক কবিরূপে বিখ্যাত। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’, ‘কর্মদেবী’ এবং ‘শূরসুন্দরী’। টডের ‘অ্যানাল্‌স্‌ অব রাজস্থান’ থেকে কাহিনীর অংশ নিয়ে তিনি ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’ রচনা করেন। অনুবাদ সাহিত্যে আছে সংস্কৃত থেকে ঋতুসংহার এবং কুমারসম্ভব (১৮৭২), নীতিকুসুমাঞ্জলি (১৮৭২), হোমারের মহাকাব্যের অনুবাদ ‘ভেক-মুষিকের যুদ্ধ’ | ১৮৮২ সালে তিনি মুকুন্দরামের কবিকঙ্কন চণ্ডি সম্পাদনা করে প্রকাশিত করেন | ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে রচিত ‘কাঞ্চী কাবেরী’ কাব্যগ্রন্থ প্রাচীন ওড়িয়া কাব্যের অনুসরণে লিখিত। তিনি ‘উৎকল দর্পণ’ নামে সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এছাড়া তিনি রস সাগর, বার্তাবহ, এডুকেশন গেজেট ইত্যাদি পত্রিকার সম্পাদনা করেন | ওড়িশার পুরাতত্ত্ব ও ওড়িয়া ভাষা সম্বন্ধে বহু নিবন্ধ লিখেছিলেন তিনি।

স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে

কে বাঁচিতে চায়?

দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে

কে পরিবে পায়…

উপরের লাইন ক’টি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’-এর অংশ। ভারতবর্ষে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনে এই লাইনগুলো উদ্দীপনামূলক ভূমিকা রেখেছে।
(সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা |

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com