রশীদ করীমের দুটি সাক্ষাৎকার

| ৩০ নভেম্বর ২০১১ ২:১১ অপরাহ্ন

ভূমিকা: ব্রাত্য রাইসু
প্রথম বার যখন রশীদ করীমের সাক্ষাৎকার আমরা নিতে গেলাম–আমি আর সাজ্জাদ ভাই–তখন রশীদ ভাই অনেক ঝলোমলো, প্রাণবন্ত, আত্মবিশ্বাসে ভরিপুর লেখক। তিনি তাঁর প্রাণের বন্ধু শামসুর রাহমানরে বাসায় আইনা বসাইয়া রাখছেন যাতে আমরা দুই নাম্বারি করতে না পারি। রাহমান ভাইয়ের সামনেই সাক্ষাৎকার নিতে হবে। আমরা বললাম, ঠিক আছে। তো যদিও ঠিক করা ছিল রশীদ করীমের সাক্ষাৎকারই আমরা নিব কিন্তু দেখা গেল শামসুর রাহমানও অল্প অল্প ঢুকতেছেন। শামসুর রাহমানের কবিতা ব্যাপারে আমার একটা হার্শ মন্তব্যরে বিষয় কইরা সাক্ষাৎকার প্রকাশের সপ্তাহ খানেক পরে ভোরের কাগজে একটা কলামও লিখছিলেন রশীদ ভাই, প্রতিপাদ্য ছিল তরুণদের বেয়াদবি। এ ঘটনার কিছুদিন পরে সাহিত্যিক-বড়ভাই ও আশির দশকের কবি ফরিদ কবিরের বিয়ের অনুষ্ঠানে শামসুর রাহমানের লগে দেখা হইলে তিনি হাঁটা না থামাইয়াই আমারে বলেন “ল্যাং মারার সুযোগটা ছাড়তে পারলেন না?” আমি বুঝতে পারতেছিলাম না যে কেন আমার এতে লজ্জা পাইতে হবে কিন্তু রাহমান ভাইয়ের জিজ্ঞাসায় তেমন আহ্বান থাকায় আমি সাহিত্যিক ভঙ্গি সহকারে নিরব থাইকা যাই। রাহমান ভাইয়ের সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা আবদুস সামাদ আজাদ। তিনি আমারে হাত চাপড়াইয়া ঈষৎ স্নেহ কইরা দিলেন। পরে রাহমান ভাইয়ের ইন্টারভিউ আমি আর রাজু আলাউদ্দিন নিছিলাম বাংলাবাজার পত্রিকার জন্য। রশীদ করীমের বাসায় সৃষ্ট অসন্তোষ বোধকরি কারুর মাথায়ই আর ছিল না।

দ্বিতীয় ইন্টারভিউটা ২ বছর পরে আমি একলাই নেই। তখন রশীদ ভাই পক্ষাঘাতে ধরাশায়ী। কথা বলতে কষ্ট হয়, হাঁটাচলায় সমস্যা। তো তিনি ঠিক করছেন রেকর্ডারে ইন্টারভিউ দিবেন না। কারণ কী না কী বইলা ফেলেন। তো উনি বলছেন ও উত্তর শুইনা শুইনা আমি লিখছি। এর পরও আমি কয়েকবার রশীদ ভাইয়ের বাসায় গেছি। তিনি লিখতে বা ইন্টারভিউ দিতে একদমই অরাজি থাকতেন। ৬ নম্বরে গণস্বাস্থ্যের হাসপাতালে আমি সম্প্রতি গেছিলাম এক (নারী) বন্ধুর সঙ্গে তার (নারী) বন্ধুর অসুস্থতা দেখতে। তখন উল্টা দিকে রশীদ ভাইয়ের বাড়ি দেখলাম উপরের দিকে উঠতেছে। নির্মীয়মান বাড়ির কাছেই কোনো একটা বাড়িতে তিনি থাকতেন। আমি ভাবতেছিলাম, যাক রশীদ ভাই এখনো বাঁইচা আছেন। ফোন করতে হবে। কিন্তু পরের দিনই তিনি মারা গেলেন। তার যত্নে গড়া সাহিত্য আমাদের সাহিত্য সমাজে দীর্ঘস্থায়ী হউক।

rk_222.jpg

১. সাক্ষাৎকার ১৯৯২

অংশগ্রহণ: শামসুর রাহমান
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: সাজ্জাদ শরিফব্রাত্য রাইসু

সাজ্জাদ শরিফ: উপন্যাস লিখতে গিয়ে ল্যাংগুয়েজের প্রবলেম ফিল করেন কখনো? এক্সপ্রেশনের দিক দিয়ে?

রশীদ করীম: আমি যখন লিখতে বসি তখন আমার মনের মধ্যে কতকগুলো সবকিছু-ছাপিয়ে-ওঠা অভিজ্ঞতা এবং চরিত্র কাজ করতে থাকে। সেই অভিজ্ঞতা ও চরিত্র তাদের নিজেদের ভাষা খুঁজে নেয়।

ব্রাত্য রাইসু: প্রসন্ন পাষাণ আপনার দ্বিতীয় উপন্যাসটি লিখেছেন এক প্রৌঢ়া মহিলার জবানীতে।

রশীদ করীম: এখানে উপন্যাসের নায়কের সঙ্গে সেই নায়িকা যিনি আত্মকাহিনী বলছেন, তাদের বিচ্ছেদ ঘটে গেছে অনেক আগে। কারণ মহিলার বিয়ে হয়েছে আরেকজন পুরুষের সঙ্গে। সেই বিবাহিতা মহিলা সংসারে সুখী হয়েছেন বলে কল্পনা করছেন এবং বস্তুত তিনি বঞ্চনার অনুভূতিতে সচেতনভাবে পীড়িত হচ্ছেন না। বহু মেয়ের জীবনেই এরকম ঘটনা ঘটে এবং তারা মোটের ওপর স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করে। কিন্তু এই নায়িকাটি আর দশজন মেয়ের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন ছিলেন। তাঁর বিবাহোত্তর জীবন সম্পর্কে একজন মহিলা কী মনে করছেন, তা একজন মহিলাই সবচাইতে ভালো বুঝতে পারবেন। সে কারণেই সম্পূর্ণরূপে একটি মেয়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।

ব্রাত্য রাইসু: সাধারণ লোকের কাহিনীতে উপনাসের নায়িকা যখন আরেকজনের সঙ্গে চলে যায়, তখন আপনি তাঁর নাম বদলে দিয়েছেন।

রশীদ করীম: কারণটা তো পরিষ্কার দেয়া আছে ওখানে; প্রথমত, ওরা দুজন মহিলা নন—একজনই।

ব্রাত্য রাইসু: কিন্তু পাঠক মনে করবে…

রশীদ করীম: পাঠক মনে করুক। এখানে দুটো কারণ রয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছে বোধহয়—বিয়ে হলো না প্রথম স্বামীর—তার মায়ের নাম আর তার স্ত্রীর নাম এক ছিল—ফাতেমা না আসেমা। সে যখন স্ত্রীকে আদর করছে তখন হঠাৎ তার মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। তখন সে অপরাধী বোধ করে। সেই সংকট থেকে উদ্ধারলাভের জন্য সে তার স্ত্রীর নতুন নাম রাখল। তার দ্বিতীয় স্বামী কিন্তু আসল নামটাই ব্যবহার করছে। কারণ তার সেরকম কোনো সমস্যা ছিল না। উপন্যাস শুরু হয়েছে তার দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে জীবনযাত্রা নিয়ে। উপন্যাসের একেবারে শেষ পর্যায়ে জানা গেল যে আসেমা ও ফাতেমা একই ব্যক্তি। (সম্পূর্ণ…)

আর্টস বৈঠক

মনের মানুষ (কিস্তি ১)

| ২৯ নভেম্বর ২০১১ ১১:৫৬ অপরাহ্ন

goutamghose1.jpg
গৌতম ঘোষ (জন্ম. ২৪ জুলাই ১৯৫০)

১৫০ মিনিট দৈর্ঘ্যের সিনেমা ‘মনের মানুষ‘ মুক্তি পায় ২০১০ সালের ০৩ ডিসেম্বর। পরিচালক গৌতম ঘোষ। প্রযোজনা করেছেন গৌতম কুণ্ডু এবং হাবিবুর রহমান খান। বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মনের মানুষ উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি নির্মিত। উপন্যাস মনের মানুষ প্রকাশিত হয় ১৪১৫ বঙ্গাব্দে দেশ পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় (আগ্রহীরা পড়তে পারেন: মনের মানুষ)।
subpage3.jpg

মুক্তির পরে মনের মানুষ দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পায়। মুগ্ধ দর্শকের বিপরীতে বহু দর্শক ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সাম্প্রতিক বাংলাদেশে লালন নিয়ে ভাবেন, লেখেন, করেন–এমন অনেকেই মনের মানুষ-এ পরিবেশিত লালনকে গ্রহণ করতে পারেননি, মনের মানুষ-এ লালন ও তাঁর দর্শন খণ্ডিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।

এই কনটেক্সটে ২০১১ সালের ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আর্টস বৈঠক ডাকা হয় bdnews24.com-এর তখনকার ধানমণ্ডি অফিসের সভাকক্ষে। বৈঠক সঞ্চালন করেছেন ব্রাত্য রাইসু। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—

ফরহাদ মজহার (কবি, লেখক ও গীতিকার)
সলিমুল্লাহ খান (শিক্ষক, লেখক ও অনুবাদক)
গৌতম দাস (লেখক, প্রবাসী)
মানস চৌধুরী (শিক্ষক, লেখক)
রাজু আলাউদ্দিন (কবি, সাংবাদিক)
জাকির হোসেন রাজু (চলচ্চিত্র সমালোচক ও নির্মাতা)
ফাহমিদুল হক (শিক্ষক ও লেখক)
অরূপ রাহী (গায়ক, সংস্কৃতি-রাজনীতি চিন্তুক)
মোহাম্মদ আজম (শিক্ষক ও লেখক)
সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী (শিক্ষক)
মুসতাইন জহির (লেখক)
এস এম রেজাউল করিম (লেখক)


আর্টস বৈঠক: মনের মানুষ (কিস্তি-০১)
ভিডিও ধারণ: প্রমা সঞ্চিতা অত্রি

বি.দ্র. অডিও/ভিডিও ডাউনলোড করার জন্য নিচের ঠিকানা থেকে মজলিা ফায়ারফক্স অ্যাড-অন ইনস্টল করে নিন।

ফায়ারফক্স অ্যাড-অন: অডিও/ভিডিও ডাউনলোড অ্যাড-অন
অ্যাড-অন লিংক-এ ডাউনলোড করার নির্দেশনা দেওয়া আছে।–বি.স.

—————-

আর্টস বৈঠক: মনের মানুষ

ব্রাত্য রাইসু: কীভাবে শুরু করা যায়? এক হইতে পারে যে, যাঁরা দেখছেন ‘মনের মানুষ’ ছবিটি—তাঁরা প্রত্যেকে দুই-এক মিনিট কইরা বললেন, যাঁর যা নোট করা দরকার করলেন, তারপরে কেউ একজন আলোচনা শুরু করলেন। তারপরে আগাইতে থাকলো। মানে, গোল টেবিলের মতো না কইরা আমরা এইভাবে করতে পারি কিনা?

ফরহাদ মজহার: কোনো অসুবিধা নাই।

ফাহমিদুল হক: আপনার, অর্গানাইজার হিসাবে আপনার কোনো বক্তব্য প্রথমে শুনে নেওয়া উচিত।

ফরহাদ মজহার: আপনি কেন এটা করতে চাইছেন?
dsc00904_resize.jpg
ব্রাত্য রাইসু: ও আচ্ছা। যেটা হলো যে, মনের মানুষ—খুবই জনপ্রিয় হইছে সিনেমাটা। আমি দেখলাম যে, ওইদিন আমরা গিয়েছিলাম একটা অনুষ্ঠানে। সিএনজি থেকে নামছি আমি আর রেজাউল করিম। আমার সঙ্গে উনি আর্টসে কাজ করেন। তো নামার পরে আমাকে ডাকলেন সিএনজিঅলা, ভাই, একটু শুনেন। আমি বললাম, কী ব্যাপার? বলেন যে, ওনারে মনের মানুষের লোকটার মতো লাগতেছে। বললাম কী, কোন লোক? বলে যে, নামটা মনে নাই। আমি বললাম, লালন? বলে, হ্যাঁ, হ্যাঁ, লালন, লালন। তো এই যে জিনিসটা, মানে সবার কাছে জিনিসটা পৌঁছাইছে। এর গুরুত্ব অনেক। এখন একইসঙ্গে মনের মানুষ ছবি নিয়ে ফেসবুকে দেখলাম কিছু আলোচনা এবং আমাদের বন্ধু-বান্ধবদের কাছে এটার ব্যাপারে শুনলাম অনেকগুলো আপত্তির কথা। ফলে এই দুটো জিনিসকে একসঙ্গে বোঝার জন্য আমরা এই আয়োজনটা করেছি যে, মনের মানুষের মধ্যে লালনকে যেভাবে উপস্থাপন করছেন তাতে দোষ-গুণ কী আছে, না আছে—সেই আর কি। (সম্পূর্ণ…)

রশীদ করীম, সাপ্তাহিক প্রতিশ্রুতি ও তাঁর সময়

আহমাদ মাযহার | ২৯ নভেম্বর ২০১১ ৫:২০ অপরাহ্ন


rashid-karim-pic.jpg…….
শিল্পী অশোক কর্মকারের আঁকা সাহিত্য প্রকাশ প্রকাশিত প্রবন্ধ সমগ্র বইয়ের প্রচ্ছদে রশীদ করীম
……
রশীদ করীমের লেখা পড়তে শুরু করেছিলাম সেই ১৯৭৮ সালে, ঈদসংখ্যা বিচিত্রায়। তখন আমি সবে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীতে লক্ষ্মীবাজারের শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ভর্তি হয়েছি। দেখলাম কলেজের লাইব্রেরিতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সৃজনশীল বইয়ের সংগ্রহও প্রচুর। ততদিনে বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলাম বলে ক্যাটালগে একেকটা বইয়ের নাম দেখে আকুল হয়ে উঠছিলাম সেগুলো পড়বার জন্য। সম্প্রতি-প্রবাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আতাহারুল ইসলামের সঙ্গে তখন খানিকটা সখ্য গড়ে উঠেছিল আমার এক কাকার সঙ্গে তাঁর সহপাঠিত্বের সূত্রে। কাকার সহপাঠী বলে তাঁকেও কাকা ডাকতাম। যতদূর মনে পড়ে তখনও তাঁর ছাত্রজীবন শেষ হয় নি।

কী বই পড়া উচিত সে পরামর্শের জন্য তাঁর কাছে যেতাম মাঝে মাঝে। অনেকের সঙ্গে রশীদ করীমের নামও বলেছিলেন তিনি। তালিকা দেখে যে-কয়টি বই চেয়েছিলাম তার মধ্যে রশীদ করীমের উপন্যাস প্রসন্ন পাষাণ (১৯৬৩) ছিল। মনে আছে যে বেশ ভালো লেগেছিল সেটি। এতে বোধ হয় দুটি কবিতা ছিল। একটি লেখকের অনুরোধে কবি শামসুর রাহমান লিখে দিয়েছিলেন, অন্যটি ছিল রশীদ করীমের নিজের লেখা। পড়ে কতদূর বুঝেছিলাম মনে নেই, কিন্তু ভালো যে লেগেছিল তা মনে আছে।

অন্য বইগুলোও খুঁজতে লাগলাম তাঁর। প্রথম উপন্যাস উত্তম পুরুষ (১৯৬১)-এর পরে লেখা হয়েছিল প্রসন্ন পাষাণ। কিন্তু উত্তম পুরুষ আমি পেয়েছিলাম পরে। দুটি উপন্যাসের পটভূমিই কলকাতা শহর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও মন্বন্তর দুটি উপন্যাসেরই উপজীব্য। উত্তম পুরুষ পড়ে বাঙালি মুসলমান নাগরিক অভিজাত মধ্যবিত্ত সমাজের মনস্তত্ত্ব বুঝতে পেরেছিলাম খানিকটা। এই দুটি বই পড়া হয়ে গেলে আমি রীতিমতো তাঁর অনুরাগী হয়ে পড়ি। কাছাকাছি সময়ের ঈদসংখ্যাগুলোতে রশীদ করীমের উপন্যাসগুলো পেলেই পড়ে ফেলছিলাম। মনে পড়ে প্রেম একটি লাল গোলাপ (১৯৭৮), সাধারণ লোকের কাহিনী (১৯৮২), একালের রূপকথা (১৯৮০) আমি পড়ে ফেললাম বই হয়ে প্রকাশের আগেই! তাঁর উপন্যাস আমার যত গ্লানি (১৯৭৩) বেশ বিখ্যাত হয়েছিল। উপন্যাসটির প্রথম লাইনটিই চমকে দিয়েছিল আমাকে। ‘আমি লোকটা আসলে একটা খচ্চর’–এ-রকম একটা লাইন দিয়ে উপন্যাসের শুরু হতে পারে! (সম্পূর্ণ…)

রশীদ করীম-এর প্রবন্ধ

সাহিত্যে সেন্টিমেন্টালিজম

| ২৮ নভেম্বর ২০১১ ৩:৫৬ অপরাহ্ন


লেখক যখন পাঠক, কিংবা অপর একজন লেখকের অভিমত প্রার্থী হন, তখন অভিমতের আনুকূল্যই প্রত্যাশা করেন—বিরূপ-মত নয়। অর্থাৎ উক্তি বলতে তাঁরা সদুক্তিই বোঝেন, কটূক্তির অবকাশ অস্বীকার করেন। তাই যখন সমালোচক লেখককে বাধিত করতে পারেন না, তখন লেখক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। লেখকের এই উষ্মা যদি বা স্বাভাবিক হয়, কিন্তু কদাপি শোভন বা সঙ্গত নয়।

কোন কোন লেখক সমালোচনা শুনে এতই বিচলিত হয়ে পড়েন যে, তৎক্ষণাৎ তাঁর শব্দযন্ত্র বিভিন্ন আর বিচিত্র সঙ্কীর্তন শুরু করে দেয়। সমালোচকের মস্তক উদ্দেশ করে ইষ্টক হয়তো নিক্ষিপ্ত হয় না, কিন্তু যেসব সপ্রেম আশীর্বচন ঝরে পড়ে, বলা বাহুল্য, তা শিরোধার্য করবার মতো বস্তু নয়।
—————————————————————–

আবুল হোসেন ও সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী একই বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলেই কি না জানি না, তাঁদের মধ্যে একটি ব্যাপারে আশ্চর্য মিল দেখা যায়। উভয়েই সেন্টিমেন্টালিজমের রেলগাড়িতে চড়ে যাত্রা শুরু করলেন, কিন্তু একটু পর প্রথম স্টেশনেই, রেলগাড়ির কামরা থেকে পা বাড়িয়ে, সাহিত্য বিচারের প্লাটফর্মের উপর নেমে এলেন।

—————————————————————–
ভরসার কথা কেবল এই যে বাক্যবাণে অস্থি বিধ্বস্ত বা চূর্ণ হয় না, বিশেষ করে, যে বাক্যের মর্মে যুক্তি নেই তা কখনই লক্ষ্যভেদ করতে পারে না। হাঁসের গায়ের পানির মতোই তা ঝেড়ে ফেলা সম্ভব।

কোন সাহিত্য সৃষ্টিকে সকলেই একই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখবেন, এমন কোন কথা নেই। দৃষ্টিভঙ্গি বিভিন্ন এমন কি বিপরীত হলেও, দুটির একটি ঠিক এবং অপরটি ঠিক নয়, যুক্তিশাস্ত্রের এ বিধান সাহিত্য বিচারের ক্ষেত্রে গ্রাহ্য নয়। বস্তুত দুটি ভঙ্গিই সমান সত্য বা সমান অসত্য হতে পারে। কারণ সাহিত্য অতি বর্ণাঢ্য ও বহু ব্যঞ্জনাময় এক বস্তু।
—————————————————————–


কোমলতা, অন্তর্মুখিতা আর চিন্ময়তা যদি বাংলা সহিত্যের বৈশিষ্ট্য হয়; তাহলে সেই দিক দিয়ে ইংরাজি সাহিত্যও বাংলার দোসর। এবং অন্তত আমার মতে সে কারণে ইংরাজি বা বাংলা কোন সাহিত্যই দুষ্ট হয়নি, বরঞ্চ সমৃদ্ধ হয়েছে।

—————————————————————–
আবুল হোসেন ও সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী একই বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলেই কি না জানি না, তাঁদের মধ্যে একটি ব্যাপারে আশ্চর্য মিল দেখা যায়। উভয়েই সেন্টিমেন্টালিজমের রেলগাড়িতে চড়ে যাত্রা শুরু করলেন, কিন্তু একটু পর প্রথম স্টেশনেই, রেলগাড়ির কামরা থেকে পা বাড়িয়ে, সাহিত্য বিচারের প্লাটফর্মের উপর নেমে এলেন। সেন্টিমেন্টালিজম সম্বন্ধে এঁদের ধারণাও আমার কাছে শাস্ত্রসম্মত মনে হয় নি। তাই সেন্টিমেন্টালিজম-এর দৃষ্টান্ত হিসেবে তাঁরা যে সব উদ্ধৃতি উপস্থিত করেছেন সাহিত্য হিসাবে সেগুলোর উৎকর্ষে ইতর বিশেষ আছে বটে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো অন্তত সেন্টিমেন্টালিজম-এর নজির নয়। (সম্পূর্ণ…)

ক্ষমা করবেন রশীদ করীম

হামিদ কায়সার | ২৮ নভেম্বর ২০১১ ১২:৩০ অপরাহ্ন

rk224.jpg
রশীদ করীম (১৪.৮.১৯২৫- ২৫.১১.২০১১)

ভোর পৌনে চারটার দিকে মোবাইলের কলের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। অমনি বুকের ভেতরটা চমকে ওঠলো আমার। এত রাতে তো শুধু শুধু কল আসার কথা নয়। তাছাড়া ঠিক এমন সময়েই কি আরো একটু পরে আরেক কথাশিল্পী মাহমুদুল হকের চলে যাওয়ার সংবাদটাও শুনেছিলাম এভাবেই মোবাইলের কল থেকে। সেবার খবরটা জানিয়েছিলেন মফিদুল হক ভাই। এবার ফোনটা ধরতেই ওপাশে শুনতে পেলাম নারীকণ্ঠ, ‘আপনি হামিদ কায়সার বলছেন?’ ‘হা’ বলতেই জানালেন, ‘আমি নাবিলা মোরশেদ। রশীদ করীমের মেয়ে!’ তখনই বুঝে গেছি ব্যাপারটা। তবু বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। ভাবছিলাম তিনি অন্য কথা বলবেন, অন্তত বলবেন যে, রশীদ করীমের অবস্থা খারাপ, আপনি বাসায় চলে আসুন, উনি আপনাকে দেখতে চাচ্ছেন। না, উনি এধরনের কিছুই বললেন না, সেই চরম সত্য কথাটাই জানিয়ে দিলেন, ‘বাবা নেই।’ ‘কখন গেলেন?’ ‘এইতো কিছুক্ষণ আগে। ইব্রাহিম কার্ডিয়াক সেন্টারে। আমরা এখন সেখানেই আছি।’ নিজের অজান্তেই বলে ফেললাম, ‘আসছি আমি।’

rk223.jpg
রশীদ করীম, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, শামসুজ্জামান খান, ভূঁইয়া ইকবাল ও আনিসুজ্জামান; ১৯৯১, শাহজাদপুর।

শোয়া থেকে লাফিয়ে উঠলাম। কীভাবে যাবো জানি না। শুধু মনের মধ্যে তীব্র ডাক, যেতে হবে ওখানে। প্রস্তুতি নিতে নিতে হঠাৎ মনে পড়লো ফেসবুক-এর কথা। ওখানেই তো জানিয়ে দেয়া যায় খবরটা। কম্পিউটার অন করার জন্য লাইট জ্বালালাম, এড়ানো গেল না শব্দও। অসময়ে ঘুম ভাঙায় আমার বারো বছরের ছেলে অনির্বাণ বলে উঠল, ‘বাবা। আমার ঘুমে ডিস্টার্ব করছো কেন? জানো না, কাল আমার পরীক্ষা।’ আমি ওকে বোঝাবার চেষ্টা করলাম, ‘বাবা। রশীদ করীম যে মারা গেছেন।’ ওর আর গলার শব্দ পেলাম না। বোধহয় ঘুমানোর চেষ্টা করছে। আমি স্ট্যাটাসে জানালাম খবরটা। চেটিং লিস্টে যাদেরকে পেলাম, চটজলদি তাদেরকেও মেসেজ দেওয়া গেল। ওসব করতে করতেই আবারও শুনলাম ছেলের গলা, ‘বাবা, তুমি কি চাও আমার পরীক্ষাটা খারাপ হোক!’

একটু অভিমানই হলো ওর ওপর। খানিকটা রাগও করে ফেললাম। তারপর সাটাসাট কম্পিউটার, লাইট অফ করে দরোজা খুলে বেরিয়ে এলাম রাস্তায়। নির্জন, ফাঁকা রাস্তা। একটা রিক্সা কিংবা দুটা সিএনজি তো দূরের কথা, রাস্তায় একটা কুকুর পর্যন্ত নেই। গুলশান নিকেতন থেকে প্রায় আধা মাইল হেঁটে আসার পর অবশেষে নাবিস্কোর কাছে রিক্সা মিললো।

ইব্রাহিম কার্ডিয়াক সেন্টারের চারতলায় ভেতরের একটি রুমে প্রাণহীন রশীদ করীম। আর বাইরের করিডোরে উনার প্রিয়তমা জীবনসঙ্গিনী সেলিমা মোরশেদ, মেয়ে নাবিলা মোরশেদ, ভাগ্নে অধ্যাপক এস এম হারুনসহ আরো চার পাঁচজন আত্মীয়স্বজন শুভাকাঙ্ক্ষী বসে আছেন, অনেকটাই হতবিহ্বল। এদের মধ্যে সাহিত্য অঙ্গনের কোনো মানুষ নেই, শিল্পাঙ্গনেরও কেউ নেই। (সম্পূর্ণ…)

উপন্যাস ‘এভরিম্যান’ নিয়ে ফিলিপ রথ

ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা | ২৬ নভেম্বর ২০১১ ১১:২৮ অপরাহ্ন

everyman200×305.jpg২০১১ সালের ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার জয়ী ফিলিপ রথের উপন্যাস ‘এভরিম্যান’ লেখা হয়েছে ৭১ বছর বয়স্ক বহু ডিভোর্সি, বিজ্ঞাপনী সংস্থার এক সফল কর্মীকে নিয়ে। ধর্ম আর দর্শনের যে কোন সাহায্য এড়িয়ে এই বৃদ্ধ শরীরের ক্ষয় মেনে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন। এক সমালোচক ‘এভরিম্যান’কে “হৃদয়বিদারক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে একটি গতিময় নিষ্ঠুর উপন্যাস” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। ২০০৬ সালে ‘এভরিম্যান’ নিয়ে ফিলিপ রথ কাহিনী-সংক্ষেপ ধরনে একটি আলোচনা প্রকাশ করেন। ইংরেজিতে প্রকাশিত সেই আলোচনা অনুবাদ করেছেন ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা–বি.স.

—————————-
পুরনো সিমেট্রিতে তাঁর কবরের পাশে জড়ো হয়েছিল সাবেক সহকর্মীরা। তাঁরা একসাথে কাজ করতো নিউইয়র্কের এক বিজ্ঞাপনী সংস্থায়। তাঁর কাজের একাগ্রতা, দক্ষতা আর মৌলিকত্বের কথা স্মরণ করছিলো জড়ো হওয়া সহকর্মীরা। তাঁর কন্যা ন্যান্সিকে তাঁরা এমন একজন মানুষের সাথে একসাথে কাজ করবার আনন্দের কথা বলছিলেন। আরো কিছু মানুষ স্টারফিশ বিচের জার্সি উপকূলের বৃদ্ধনিবাস গ্রাম থেকে গাড়ি চালিয়ে এসেছিল। অবসরপ্রাপ্তদের এই আবাসিক আশ্রমে তিনি ২০০১ এর থ্যাংকসগিভিং থেকে বসবাস করছিলেন। মাত্র কিছুদিন হলো তিনি এই বৃদ্ধাশ্রমের বয়স্ক মানুষজনকে আঁকাআঁকি শেখানোর কাজ শুরু করেছিলেন। আর ছিল তাঁর দুই ছেলে, মধ্যবয়স্ক র্যা ন্ডি আর লোনি। তাঁর প্রথম অস্থির দাম্পত্য জীবনের দুই ছেলে। দুটোই বড় বেশি তাঁদের মায়েরই সন্তান। আর সেই কারণে তারা তাঁকে যতোটুকু চেনে তাতে যতোটা না প্রশংসা আছে, তার চেয়ে ঢের বেশি আছে অপ্রীতিকর ঘটনা। আজ কেবল কর্তব্যের খাতিরে এই দুই সন্তান অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত হয়েছে। তার চেয়ে বেশি কিছু নয়। গত রাতেই তাঁর বড় ভাই হাউই আর শ্যালিকা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বিমানে উড়ে এসেছেন। উপস্থিত মানুষজনের মধ্যে তাঁরাও ছিলেন।

ফিলিপ রথ এবং বারাক ওবামা
………
ফিলিপ রথ এবং বারাক ওবামা
………

আর আছেন তাঁর তিন সাবেক স্ত্রীর মধ্যে মধ্যম জন, দ্বিতীয় সাবেক স্ত্রী, ফোবে–যিনি ন্যান্সির মা। লম্বা আর ভীষণ কৃশ শরীর আর সাদা চুলের ফোবে’র ডান হাত খোঁড়ার মতো একপাশে ঝুলে আছে। ন্যান্সি যখন কিছু বলবার জন্য তাঁর মাকে অনুরোধ করলো, ফোবে একটু লজ্জার সাথে মাথাটা নাড়ালেন। মৃদু নরম স্বরে সংক্ষেপে তাঁর বক্তব্য পেশ করবার জন্য এগিয়ে গেলেন, “এটা বিশ্বাস করা কঠিন। আমি কেবল সাগরের তীরে তাঁর সাঁতরে বেড়ানোর দৃশ্য মনে করতে পারি…এটাই। আমি কেবল সাগরে তাঁর সাঁতরানোর দৃশ্য চোখে দেখতে পাই”। এরপর ন্যান্সি। (সম্পূর্ণ…)

নীল-নীল তুলির আঁচড়

আইসল্যাণ্ডের চার আধুনিক কবির কবিতা

| ১৮ নভেম্বর ২০১১ ৮:৩৫ অপরাহ্ন

ভাষ্য: অংকুর সাহা; অনুবাদ: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

4-poets.jpg আইসল্যান্ডের মানুষেরা প্রবল কবিতাপ্রেমী—শত দুর্যোগেও তাঁরা কবিতার সঙ্গ ছাড়েন না। সেখানে কবিতার রাজত্ব রাজদরবারে, গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-উপকূলে, ক্ষেতে-খামারে, স্কুলে-কলেজে, সংবাদপত্রে, পত্র-পত্রিকায় ও মানুষের মনে। জাতীয় মর্যাদাহানি, নৈতিক অধঃপতন, শাসকের অত্যাচার-অনাচার, ডেনমার্কের সম্রাটের ঔপনিবেশিক শাসন, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, দুর্ভিক্ষ, অনাহার, মহামারী, মড়ক, প্লেগ—সব হাসিমুখে মেনে নেন সেই দেশের কৃষক, শ্রমিক, মেষপালক ও জেলেরা—সুললিত ছন্দের কবিতা আবৃত্তি করতে করতে। গত দু-তিন বছরে পশ্চিমি ধনতান্ত্রিক দেশগুলির অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে আইসল্যান্ডে চলেছে চরমতম অর্থনৈতিক সংকট; দেশটি প্রায় দেউলিয়া—বড় বড় তিনটি ব্যাংক ভূপাতিত; কিন্তু থামেনি কবিতার চর্চা। পুরোদমে চলেছে কবিতা পড়া, কবিতা লেখা, কবিতাপত্র ও কবিতাগ্রন্থের প্রকাশ।

১৮০০ থেকে ১৯৫০ সাল—এই দেড়শ বছর আইসল্যাণ্ডের কবিতার ‘রোমান্টিক যুগ’—সেই সময় প্রাচীন মহাকাব্য থেকে আধুনিক গীতিকবিতায় উত্তরণ ঘটে আইসল্যান্ডের এবং ইউরোপের রোমান্টিক কবিদের সমূহ প্রভাব এসে পড়ে। শুধু তাই নয়, উন্মেষ ঘটে দেশটির জাতীয়তাবাদের এবং সেইসঙ্গে স্বাধীনতা-আন্দোলনের। ১৯৪৪ সালে দেশটি স্বাধীন হয় এবং স্ভেইন বিয়র্নসন (১৮৮১-১৯৫২) তার প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কবিতার জগতেও রোমান্টিক যুগ শেষ হয়ে আধুনিক যুগের সূচনা সেই সময়ে। একদিকে এলিয়ট, অডেন ও রিলকের প্রভাবে নব আনন্দে মেতে উঠলেন তরুণ কবিরা। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠিত কবিরাও আইসল্যাণ্ডের প্রাচীন কাব্যরীতি পুরোপুরি ত্যাগ করে প্রাণ সঁপে দিলেন মুক্ত ছন্দের নতুন শৈলীর কবিতায়। সেখানে প্রতিফলিত হলো মানুষের মুখের ভাষা এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিচ্ছবি—কোনো বিষয়ই আর ব্রাত্য রইল না কবিতার জগতে।

(সম্পূর্ণ…)

উপন্যাস (কিস্তি ৪)

শতকিয়া

সাগুফতা শারমীন তানিয়া | ১৭ নভেম্বর ২০১১ ৮:৪৮ পূর্বাহ্ন


লিংক: শতকিয়া কিস্তি ১

চতুর্থ পর্ব

দেখা গেল, বলির ভাগ্য আমি করিয়া আসি নাই। মুর্শিদাবাদে ফিরিয়া গিয়া আমাদের পিতা এক গুটিবসন্ত আক্রান্ত সহকর্মীর সেবা করিয়াছিলেন, নিজে যেই টীকা দিয়াছিলেন–তাহা ক্ষীণশক্তি

অলংকরণ: সাগুফতা শারমীন তানিয়া

হইয়া থাকিবে, তাঁহার গায়ে লাল স্ফোটক দেখা দিল। একপক্ষকাল অত্যন্ত রোগভোগের কষ্ট করিয়া তিনি মৃত্যুবরণ করিলেন। মৃত্যুর খবর লইয়া তার আসিল, আমাদের সংসারের সন্তোষ-প্রীতিপ্রফুল্লতার দীপখানি এক ফুঁয়ে নিভিয়া গেল। বাবার মাহিনা এমন কিছু দোহারা ছিল না, কিন্তু মুর্শিদাবাদ শহর হইতে বাড়ি আসিলে তাঁহার ট্রাংক হইতে মায়ের জন্য এসেন্সের শিশি এবং হিমানীর কৌটা বাহির হইত, বাহির হইত লক্ষীবিলাস তৈল, আমাদের পড়িয়া শুনাইবার জন্য ইংরেজী ও উর্দ্দু পুস্তক। সবুজ তোষাপাটের নধর শীর্ষ আর হলুদ সরিষার আকাশ অধিকার করিয়া নেওয়া সুমিষ্ট গন্ধ মিলিয়া দক্ষিণ মুশুরির যে অন্নপূর্ণা মূর্তি–বাবা তাহাতে বুঁদ হইয়া কয়েকদিন নিস্তরঙ্গ জীবন কাটাইতেন, শহরের শান বাঁধানো ভুঁই তাঁহার প্রাণের শাঁসজল শুষিয়া ফেলিত, সেই ক’টি দিন তিনি যেন শ্যামলিমা মাখিয়া নূতন জীবন ফিরিয়া পাইতেন। যুবাপুরুষেরা জলের ধারে মাচা বাঁধিয়া মাছ মারিত, তিনি সেখানে বসিয়া পাড়ের দিকে চাহিয়া মুড়ি চিবাইয়া সময় কাটাইতেন, মা ভাজনাখোলায় ক্ষেতের চালের টাটকা মুড়ি ভাজিয়া দিতেন। বেলা চড়িলে নদীতে নাইয়া আদুরগায়ে বাড়ি আসিয়া ভাত-তরকারি খাইতেন। আমার নানী তাঁহার মায়ের শৈশবের সই ছিলেন, মায়ের মৃত্যুর পর আমার নানীই তাঁহার প্রতিপালন করিয়াছেন–বাবা থাকিবার সেই দিনগুলিতে নানী আমাদের টানাটানির সংসারেই কিছু সুখাদ্য তৈয়ার করিতেন। হিন্দুর মেয়েরা সূর্যোদয়ের আগে ভাদরখ্যাপায় স্নান করিয়া আসিয়া মাঘমণ্ডলের ব্রত করিত। সফেদা-কাঠকয়লা-সুরকি ইত্যাদি দিয়া আলপনা দিত আর ছেলেপুলেরা ভিড় করিয়া উঠানের বাহিরে দাঁড়াইয়া দেখিত। তাহাদের সহিত মিলিয়া আমরাও দূরে দাঁড়াইয়া দেখিতাম। বাড়ি আসিতেই বাপের উত্তম-মধ্যম জুটিত। (সম্পূর্ণ…)

জন হেনরি ম্যাকের কবিতা

নৈরাজ্য

সেলিম রেজা নিউটন | ১৬ নভেম্বর ২০১১ ৮:৪২ পূর্বাহ্ন

বাংলা অনুবাদকের ভূমিকা

জন হেনরি ম্যাকে (৬ই ফেব্রুয়ারি ১৮৬৪—১৬ই মে ১৯৩৩) ছিলেন জার্মান ব্যক্তিতান্ত্রিক নৈরাজ্যবাদী, চিন্তক এবং লেখক। বেশ কিছু গ্রন্থের প্রণেতা। জন্ম স্কটল্যাণ্ডে, বেড়ে উঠেছেন জার্মানিতে। শুরুতে তিনি স্বীকৃতি পেয়েছিলেন গীতিকবি হিসেবে, কিন্তু রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে ওঠেন তাঁর আধা-ফিকশন জাতীয় রচনা নৈরাজ্যবাদীগণ (দ্য অ্যানার্কিস্টস) প্রকাশের পর। জার্মান এবং ইংরেজি ভাষায় এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯১ সালে। পরে আরো আটটি ভাষায় এটি অনূদিত হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বন্ধু বেঞ্জামিন টাকারের সম্পাদনা করা পত্রিকা লিবার্টি-তে জন ম্যাকের রচনা প্রকাশিত হতো। তাঁর অপর একটি গ্রন্থ স্বাধীনতা-সন্ধানী (দ্য সার্চার ফর ফ্রিডম) ছাপা হয় ১৯২১ সালে। বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর উপন্যাসিকা লিখেছিলেন, ছদ্মনামে প্রকাশও করেছিলেন। বিষয়বস্তু সমকামিতা হওয়ায় সেগুলো অশ্লীল বলে নিষিদ্ধ হয়েছিল। প্রকাশকের বিপুল জরিমানাও হয়েছিল, কিন্তু প্রকাশক কিছুতেই তাঁর নাম ফাঁস করেন নি। জন ম্যাকে সুপরিজ্ঞাত সমকামী ছিলেন।

makey-2.jpg…….
জন হেনরি ম্যাকে
…….
আজ খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবাধ্য, নৈরাজ্যবাদী তরুণদের ‘ওয়াল স্ট্রিট দখল করো’ আন্দোলনের এই ঐতিহাসিক কালে জন ম্যাকের নৈরাজ্য-কবিতার কথা মনে পড়ল। অনুবাদের চারটা ভাষ্য পড়ে ছিল আমার হার্ডডিস্কের অতল গহীনে। ঝাড়ামোছা করে চূড়ান্তটা দাঁড় করালাম। কবির পরিচিতি লিখলাম ইন্টারনেট ঘেঁটে।

২০০৭ সালে বেচারা গুগল হাজার মাথা কুটেও জন হেনরি ম্যাকে সম্পর্কে একখানা বাক্যও উদ্ধার করতে পেরেছিল না। হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। রীতিমতো সন্দেহ-সংশয় দানা বেঁধে উঠেছিল—কোন ভাগাড় থেকে যে এমা গোল্ডম্যান এই কবিতা তুলে এনেছেন কে জানে? (বলশেভিক-বাইবেলের প্রতি আজন্মলালিত ঈমান অটুট থাকা সত্ত্বেও লেনিন-রচিত স্বর্গ-পতনের দাগা খেয়ে যাঁর মোহ টুটেছে, তিনি বুঝবেন আমার সংশয়। লেনিনবাদের পরিবর্তে নৈরাজ্যবাদ! আবার আরেকটা অন্ধ মতবাদ!! পাগল!!! কভি নেহি। এই ছিল আমার সংশয়ের সারসত্তা। এই সংশয়ের কারণেই আমি বছর দশকের নিবিড় বোঝাপড়া না করে জনসমক্ষে নৈরাজ্যবাদের নাম নিই নি।) আর আজ—গুগলকে বলতেই একদম গড় গড় করে একগাদা পাতা বের করে দিল জন ম্যাকে সম্পর্কে। তার মানে অনলাইনে নৈরাজ্যের চর্চা আমার মতো বিষাদপ্রবণ অকম্মার জন্য বসে নেই। ধাঁই ধাঁই করে তা বিকশিত হয়ে চলেছে। স্বাধীনতা-সহযোগিতা-সৃজনশীলতার এই নৈরাজ্যিক জ্ঞানের বিকাশই আজকে মার্কিন মুলুকে ‘ওয়াল স্ট্রিট দখল করো’র মতো একটা দুর্দান্ত আন্দোলনের জমি তৈরি করে দিয়েছে। বাংলাদেশে অক্ষরশিক্ষিত লোকজনের মধ্যে যাঁদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার স্পৃহা এবং সমষ্টিগত সমাজতন্ত্রের সাধ আছে তাঁদেরকে আজ হোক কাল হোক এই কাজটাই শুরু করতে হবে দৈনিক উপাসনার মতো একাগ্রতা নিয়ে। (সম্পূর্ণ…)

আর্টস ই-বুক

শ্রীগিরিগোবর্দ্ধনের ‘একেই বলে বাঙ্গালি সাহেব’

| ১৫ নভেম্বর ২০১১ ১০:৪৬ অপরাহ্ন

একেই বলে বাঙ্গালি সাহেব

প্রথম প্রকাশ: ১৯৩৩

শ্রীগিরিগোবর্দ্ধন

(জন্ম-মৃত্যু: অজানা)


আমি পাঁচালিদল-ভুক্ত ব্যক্তি নহি যে, অন্যের সহিত বাগবিতণ্ডায় প্রবৃত্ত হইব। অনেকেই এই পুস্তকের নাম পাঠ করিয়া মনে করিতে পারেন যে, ইহা ইহার সদৃশ অপর এক প্রহসনের উত্তর স্বরূপ। আমি তাঁহাদিগকে নিশ্চয় কহিতেছি যে, কোন প্রকার জনরঞ্জনকারী পুস্তক পাঠে ইহা লিখিত হয় নাই। আমি সে পুস্তক কি প্রকার এবং তাহার বিষয় কি, অদ্যপি অবগত নহি। এ প্রহসনের উদ্দেশ্য কেবল দেশের হিত-সাধন।

cover-ebbs.jpg

বিশ শতকে ৩০ দশকের বাংলা প্রহসন ‘একেই বলে বাঙ্গালি সাহেব’ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। এটির লেখকের নাম শ্রীগিরিগোবর্দ্ধন। এই নামের কোন লেখক ও তাঁর বৃত্তান্ত অজানা। হতে পারে এটি অন্য কোন লেখকের ছদ্মনাম। বর্তমান আর্টস সংস্করণটি তৈরি করা হয়েছে ১৯৩৩ সালের একটি সংস্করণের ভিত্তিতে। পূর্ববর্তী প্রকাশ না পাওয়ায় এটিকেই প্রথম প্রকাশ ধরা হয়েছে।

‘একেই বলে বাঙ্গালি সাহেব’ সম্পর্কে বিশেষ জানা না গেলেও ১৮৮০ সালে ‘একেই কি বলে বাঙ্গালি সাহেব’ নামে প্রকাশিত আরেকটি প্রহসন পাওয়া যায়। দুই প্রহসনের মধ্যে কোন সম্পর্ক আছে কিনা—তা আর এখন বোঝার উপায় নেই। ১৮৮০ সালে প্রকাশিত প্রহসনটির লেখক হলেন বিদ্যাশূন্য ভট্টাচার্য। এটি ছদ্মনাম কিনা বোঝা শক্ত। ছদ্মনাম বিষয়ে বলবার কারণ সে যুগে ছদ্মনাম ব্যবহারের বেশ প্রচলন ছিলো। যেমন, ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য’ নামে বিদ্যাসাগর ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা লিখেছিলেন দুটি বই—‘অতি অল্প হইল’ এবং ‘আবার অতি অল্প হইল’।

‘একেই বলে বাঙ্গালি সাহেব’-এর শুরুতে লেখক একটি ভূমিকা দিয়েছেন। ভূমিকায় সম্ভবতঃ আগে প্রকাশিত প্রহসনের সাথে এর সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন লেখক। সেখানে আগের প্রহসন সম্পর্কে একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায়–বিদ্যাশূন্য ভট্টাচার্য পাঁচালি দলের লেখক ছিলেন। ভূমিকাটি এখানে দেয়া হলো।
(সম্পূর্ণ…)

আমার বিশ্ববিদ্যালয়

মীর ওয়ালীউজ্জামান | ১১ নভেম্বর ২০১১ ৬:৫১ অপরাহ্ন


১৯৬৬ সাল। উচ্চ মাধ্যমিকের ফল বেরিয়েছে। পরীক্ষা মোটেই সুবিধের হয়নি। কাজেই ফল জানবার উৎসাহ তেমন নেই। ছোট ভাই রবু খবর দিল, দ্বিতীয় বিভাগে উতরে গেছি। কুটিমামার তীর্যক মন্তব্য–হয়ে গেল বু’ তোমার স্কলার ছেলের লেখাপড়া! মুসলমান ঘরে বিদ্যেবত্তার পশার তো এমন-ই হয়ে এসেছে এতকাল! আমি মায়ের কাছে বসে মুড়ি নারকেল চিবোতে চিবোতে টিপ্পুনি কাটি–সে আর বলতে। বছর দশেক আগে এই কুটিমামাই তো হতোদ্যম হয়ে লেখাপড়ার ইস্তফা দিয়ে বাটা জুতোর কোম্পানিতে কাজ জুটিয়ে নিয়েছিলেন। তারই গুণধর ভাগ্নে-রত্নটির কপালে এবার কী আছে আল্লা মালুম! মা পাখার ডাটি দিয়ে একঘা’ কষাতে এলে আমি দৌঁড়ে ঘর পেরিয়ে বারান্দার ধার ঘেঁষে দাঁড় করানো এশিয়া বাইকে উঠে শাঁ শাঁ করে লন পার হয়ে স্বামীবাগের সুড়কি বাঁধানো পথে পড়ি। ঢাকা-ডেমরা সড়ক আড়াআড়ি পেরিয়ে রোজ গার্ডেনের পাশ দিয়ে সাইকেল চালিয়ে ১নং রামকৃষ্ণ মিশন রোডের দেশবন্ধু মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে পৌঁছে যাই।
student_leader_tufael_ahmed_in_dhaka_university_during_1969_mass_uprising.jpg
………
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন তোফায়েল আহমেদ, ১৯৬৯
………
ওখানে তখন রীতিমত দু’তিন টেবিল ঘিরে আড্ডা জমেছে। বড়দের টেবিলের মধ্যমণি মানিক ভাই ইপসু’র মস্কোপন্থিদের নিয়ে নিচুস্বরে সিরিয়াস কোন আন্দোলনের ছক কষছেন! সালাম জানিয়ে গোপীবাগের মনি-চুনিদের টেবিলে গিয়ে বসি। ওরা দু’জনেই প্রথম বিভাগে পাশ করেছে জানি। আমার স্কুলের বন্ধু আল-আমিন বিরস বদনে শুকনো হাসল। জিওগ্রাফিতে তো তোমার ভাল নম্বর উঠতো, খামখেয়ালিপনার বশে পরীক্ষাটা দিলে না! ফোর্থ সাবজেক্ট হোক, নম্বর ভাল হলে চান্স নিতে পারতে। আরেকজন ফাজাল আমেদ হবার জন্য, নাকি? আমি নাক সিঁটকোই। চুনি সহানুভূতির সুরে উপদেশ দেয়, মানিক ভাইকে আজ থেকে ধরে পড়। একটা হিল্লে হয়ে যাবে। মানিক ভাইয়ের কানে বার্তা পৌঁছে গেছে। উনি জরুরি আলাপ থামিয়ে এদিকে তাকালেন, হাত নেড়ে জানালেন, আরে শোন্, তোদের সায়েন্সের কিছু আমি করতে পারব না। সকালে উঠে ইকবাল হলে গিয়ে ডাকসু’র ভিপি তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে দেখা করবে। নাছোড়বান্দা হয়ে ঝুলে পড়বে, হিল্লে হয়ে যাবে। (সম্পূর্ণ…)

মানুহে মানুহর বাবে…

গানের পাখি ভূপেন হাজারিকা

বাবু রহমান | ৮ নভেম্বর ২০১১ ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

bhp_8.jpg…….
ভূপেন হাজারিকা (৮/৯/১৯২৬ – ৫/১১/২০১১)
……..
অসমিয়া, হিন্দি ও বাংলা ভাষার এক গানের পাখি ছিলেন ড. ভূপেন হাজারিকা। মুম্বই কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় চারমাস রোগে (কিডনী বৈকল্য ও বার্ধক্যজনিত সমস্যা) ভোগার পর মারা যান তিনি। অবিভক্ত ভারতে যখন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে তখন অরুণাচল ও অসমের সীমান্তবর্তী অঞ্চল সাদিয়া শহরে ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানকার শিবসাগর স্কুলে ঠাকুর্দা বংশীধর হাজারিকার ছেলে বাবা নীলকান্ত হাজারিকা শিক্ষক ছিলেন। মা শান্তিপ্রিয়া দেবী সুগৃহিনী ছিলেন। বাবার সরকারী চাকুরী হওয়ায় দু‘বছর অসমের ধুবড়ী, দুবছর গুয়াহাটি এবং চার বছর তেজপুরে ভূপেন বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেন। সেখান থেকে ১৯৪১-এ ম্যাট্রিক পাশ করে পরে গুয়াহাটি কটন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। তিনি কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৪ সালে বিএ এবং ১৯৪৬ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ করেন। তারপর ১৯৫২ সালে নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচ.ডি. ডিগ্রি নেন তিনি। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল “প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষায় শ্রবণ-দর্শন পদ্ধতি ব্যবহার করে ভারতের মৌলিক শিক্ষাপদ্ধতি প্রস্তুতি-সংক্রান্ত প্রস্তাব”।

‘মানুহে মানুহর বাবে’–বাংলায় ‘মানুষ মানুষের জন্যে’–১৯৬৪ সালে প্রথমে এই গান রেকর্ড করেন ভূপেন। উপরে অসমিয়া মূল ভাষায়, নিচে বাংলা সংস্করণ। ইউটিউব থেকে।

তেজপুরে পড়ার সময় বিপ্লবী বিষ্ণু রাভা (১৯০৯-১৯৬৯) আর অসম শিল্প তারকা জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালার (১৯০৩-১৯৫১) সান্নিধ্য ও প্রভাব ভূপেনের জীবনে পড়ে।

bhp_7.jpg……
স্ত্রী প্রিয়ম্বদা প্যাটেলের সঙ্গে ভূপেন হাজারিকা
…….
স্থানীয় গীত-রীতি ওজা-পালি (চর্যাপদের সমসাসয়িক), দুর্গাবরী গীত (একজন গীত ব্যক্তিত্ব), বরগীত, কামরূপী ও গোয়ালপাড়ার লোকগীত, কাহিনীগীত (মালিতা), জিকির, চা মজদুরের গান, বিহুগীত, হুঁচরি ইত্যাদি লোক ও গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহে ভূপেন লালিত। আনন্দীরাম দাস (১৯০৯-১৯৬৯) নামে আর একজন গীতিকার রচিত বনগীত-এরও অসম রাজ্যে প্রভাব পড়ে। পার্বতী প্রসাদ বড়ুয়া ও কমলানন্দ ভট্টাচার্য নামে আর দুজন সঙ্গীতকার গীতিকার অসমের সঙ্গীত আলোকিত করেছিলেন। সেই সাগরে ভূপেনের অবগাহন।

সেই সময় অর্থাৎ ১৯৩৭ ভূপেনের রচনা–কু

কুসুম্বরের পুত্র শ্রী শঙ্কর গুরু ধরেছিল নামেরে তান
নামের শুরুতে আনন্দে নেচেছিল পবিত্র বরদোয়া খান
মোর গুরু ঐ বরদোয়া খান।

(সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com